Friday, June 5, 2026







ধূসর শ্রাবণ পর্ব-২৮+২৯

#ধূসর শ্রাবণ
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💚
#পর্ব-২৮+২৯
________________

সক্কাল সক্কাল শুভ্রের চেঁচানো শুনে থমকে গেল বর্ষা। সঙ্গে সঙ্গে রান্নাঘর ছেঁড়ে পাঁচ দশ কিছু না ভেবেই এক প্রকার রান্নাঘর ভেঙেচুরে দৌড় দিলো সে। তাঁর এমন কাজে আশেপাশের লোকজন সবাই হতভম্ব হয়ে গেছে যদিও রান্নাঘরে তাদের বাড়ির কাজের লোক ছাড়া আর কেউ ছিল না। সিঁড়ি বেয়ে হতভম্ব হয়ে উপরে উঠে চলে গেল বর্ষা তাঁর আর শুভ্রের রুমের কাছে। তারপর দরজা খুলে হতভম্ব গলায় বললো সে,

‘ কি হয়েছে কি হয়েছে?’

বর্ষা এতটাই জোরে এসে দরজা খুললো যে শুভ্র নিজেও ঘাবড়ে গেল। কিন্তু নিজের সেই ঘাবড়ানোকে পুরোপুরি সাইডে রেখে রাগী কন্ঠ নিয়ে বললো,

‘ এটা কি বানিয়েছো তুমি?’

শুভ্রের কথা শুনে বেশ স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েে এসে বললো বর্ষা,

‘ কেন কফি?’

‘ এটা কফি,

‘ কেন আপনি চা ভেবেছিলেন?’

‘ 😒

শুভ্রের চাহনী দেখে বলে উঠল বর্ষা,

‘ আরে না বললে বুঝবো কিভাবে?’

‘ খেয়ে দেখো।’

বর্ষাও তাই করলো। কফির কাপটা হাতে নিয়ে চুমুক দিলো সে। একটুখানি কফি খেতেই চোখ মুখ কুঁচকে বলে উঠল,

‘ এ মা এটা কি ছিঃ ছিঃ এটা তো করলার চেয়েও তিতা।’

‘ তিতা না। এইটা তোমার স্পেশাল কফি,

উওরে দাঁত কেলানি হাসি দিয়ে বললো বর্ষা,

‘ সরি জামাই খুশির ঠেলায় কফিতে চিনি দিতেই ভুলে গেছি।’

‘ 😒😒😒

শুভ্রের চাহনী দেখে বর্ষা শুভ্রের দু’গাল টেনে বললো,

‘ আমার গুলুমুলু জামাইটা রাগ করে না আমি এক্ষুনি আপনার জন্য নতুন করে চিনি দিয়ে কফি বানিয়ে আনছি।’

বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেল বর্ষা। আর শুভ্র জাস্ট হাবলার মতো তাকিয়ে রইলো বর্ষার যাওয়ার পানে। যেন যা হলো সব তাঁর মাথার উপর দিয়ে গেল। শুভ্র গালে হাত দিয়েই বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো তারপর চলে গেল সে ওয়াশরুমের দিকে।’

পাক্কা আধ ঘন্টা বসে শুভ্রের জন্য আবার কফি বানিয়ে নিয়ে এসেছে বর্ষা। এইবার ভুল করেনি সে খুব সুন্দর মতোই কফিতে চিনি দিয়ে স্পেশাল কফি বানিয়েছে শুভ্রের জন্য। বর্ষা রুমের ভিতরে ঢুকেই বললো,

‘ জামাই আপনার ক…

আর কিছু বলা আগে শুভ্রকে রুমে না দেখে হতাশ হলো বর্ষা পরক্ষণেই ওয়াশরুম থেকে পানির শব্দ পেতেই বুঝলো সে শুভ্র ওয়াশরুমে আছে। আনমনেই বললো,

‘ ওহ আপনি ওয়াশরুমে গেছেন।’

ভেবেই কফির কাঁপটা টেবিলের উপর রাখলো বর্ষা। তারপর এলেমেলোভাবে থাকা বিছানাটা গুছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো সে।’

এরই মাঝে ওয়াশরুমের দরজা খুলে ব্লাক ট্রাউজার আর সাদা টিশার্ট পড়ে চুল মুছতে মুছতে বাহিরে বেরিয়ে আসলো শুভ্র। শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েছে এটা বুঝতে পেরে পিছন ঘুরে তাকালো বর্ষা। তারপর বললো,

‘ আপনি এসেছেন এই আপনার কফি?’

প্রতি উওরে কিছু বলে না শুভ্র একটু একটু করে এগিয়ে যায় বর্ষার দিকে। শুভ্রের কান্ডে শুরুতে কিছু না বুঝলেও পরক্ষণেই নিজের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শুভ্রকে নিজের দিকে আসতে দেখে বলে উঠল বর্ষা,

‘ আপনার কি কিছু লাগবে শুভ্র?’

উওরে মাথা নাড়িয়ে বললো শুভ্র,

‘ হুম।’

‘ কি লাগবে বলুন আমি এনে দিচ্ছি?’

বলেই সাইডে সরে যায় বর্ষা। বর্ষার কান্ডে হাসলো শুভ্র বললো,

‘ তোমায় ভয় পেলে তো বেশ লাগে।’

শুঁকনো ঢোক গিললো বর্ষা। তারপর বললো,

‘ ভয় কই আমি তো ভয় পাচ্ছি না।’

আবারো হাসলো শুভ্র। বসে পড়লো সে বিছানায়। কফির কাপে হাত দিলো আবার। বললো,

‘ এবার স্পেশাল বানিয়েছো তো?’

‘ চিনি দিয়েছি এতটুকু জানি।’

হেঁসে ফেললো শুভ্র। এই বোকারানির বোকা বোকা কথা বার্তা সবই বেশ লাগছে শুভ্রের। শুভ্র কফির কাপে চুমুক দিলো। শুভ্র চুমুক দিতেই বলে উঠল বর্ষা,

‘ এইবার সব ঠিক আছে তো।’

জবাব দেয় না শুভ্র। শুধু কড়া দৃষ্টিতে তাকায় বর্ষার দিকে। যা দেখে বর্ষা বলে উঠল,

‘ এবারও ভালো হয় নি, কিন্তু এবার তো আমি মনে করে চিনি দিয়েছিলাম।’

উওরে হুট করেই হেঁসে ফেলে শুভ্র। বলে,

‘ খুব ভালো হয়েছে।’

সঙ্গে সঙ্গে খুশি হয়ে যায় বর্ষা। যাক অবশেষে কফিটা ভালো লেগেছে শুভ্রের। বর্ষা খুশি মনে বললো,

‘ সত্যি,

‘ হুম।’

এরই মাঝে বর্ষার ডাক পড়লো নিচ থেকে। শুভ্রের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,

‘ আপনি বসুন আমি এক্ষুনি আসছি।’

উওরে শুভ্রও খুশি হয়ে বলে,

‘ ঠিক আছে।’

_______

লাইব্রেরির চার নাম্বার টেবিলের জানালার পাশে বসে ছিল হিয়া। আচমকাই খাতা,কলম, ডাইরি, বই সবকিছু সাইডে ছুড়ে দিয়ে বললো সে,

‘ আর ভালো লাগছে না, বিরক্তকর সবকিছু।’

আজ দু’দিন হলো নির্মলের সাথে কথা বলা বন্ধ হিয়ার। সেই যে বাড়িতে গিয়েছিল নির্মল তারপর আর খোঁজ নেই তাঁর। হিয়া বুঝে না হুট করে কোথায় গেল নির্মল। হসপিটালেও গিয়েছিল হিয়া,কিন্তু খোঁজ পায় নি। মনটা ব্যাকুলতার শীর্ষে আছে একদম। যবে থেকে নির্মলের ওপর দূর্বল হয়ে পড়েছে হিয়া তবে থেকেই একদিন দেখা না হলেই ব্যাকুল হয়ে পড়ে হিয়া। যেমন এখন হচ্ছে, আর ব্যাকুল বলেই কোনো কিছু ভালো লাগছে না তাঁর। হিয়া ফোনটা হাতে নিলো কল করলো নির্মলের নাম্বারে কিন্তু প্রত্যেকবারের মতো এবারও এক ভদ্রমহিলা ফোন বন্ধ বলছে। হিয়া বুঝে না এইভাবে হুট করে কোথায় লাপাত্তা হয়ে গেল নির্মল?’

‘নির্মলের চিন্তায় কোনোকিছুতেই যেন মন বসছে না হিয়ার।’

_____

রাত ১১টার কাঁটায় ছুঁই ছুঁই। রুমে মধ্যে পায়চারি করছে শুভ্র। সাথে অপেক্ষা করছে সে বর্ষার আসার জন্য। কিন্তু বর্ষার কোনো খবর নেই। শুভ্র বুঝে না এই মেয়েটা অলওয়েজ এত দেরি করে কেন?’ সে কি বুঝে না কেউ একজন তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে ব্যাকুল হয়ে।’

শুভ্র তাঁর পকেটে হাত রাখলো বের করলো বর্ষার জন্য আনা একটা ছোট্ট গিফট। গলায় পড়ার সুন্দর একটা লকেট কিনেছে শুভ্র যেটা দুপুরেই জুয়েলারি দোকানে গিয়ে এনেছিল সে। শুভ্র মুচকি হেঁসে বক্স থেকে লকেটটা বের করে তাঁর দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ তুমি কখন আসবে বোকারানি আর তোমায় আমি নতুন ভাবে বুকে জড়িয়ে ধরে বলবো ভালোবাসি। বলবো অনেক কথা,

মুচকি হাসলো শুভ্র। হঠাৎই কারো পায়ের ধ্বনি শুনতে পেল শুভ্র। শুভ্র বুঝতে পেরেছে বর্ষা হয়তো আসছে তার রুমে। শুভ্র খুশি হয়ে লকেটটা বক্সে রেখে বক্সটা বন্ধ করে আবারো পকেটে ভরে নিলো তাঁরপর চলে যায় সে সাইডে।’

রুমের লাইট অফ করে দেয় নিমিষেই।’

সবেমাত্র সব কাজ শেষ করে রুমের দিকে আসতে লাগলো বর্ষা। চোখে মুখে হাল্কা ক্লান্তির ছাপ। বর্ষা তেমন কিছু না ভেবেই রুমে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো কিন্তু পুরো রুম জুড়ে অন্ধকার দেখে অবাক হলো খুব। সে যতদূর জানে শুভ্র এখন রুমে আছে। তাহলে অন্ধকার কেন? বর্ষা অবাক হয়েই বললো,,

‘ আপনি কি রুমে নেই শুভ্র?’

সঙ্গে সঙ্গে রুমের দরজা আঁটকে পিছন থেকে বর্ষার মুখ চেপে ধরে শীতল ভেজা কন্ঠ নিয়ে বললো শুভ্র,

‘ হুস অনেক হয়েছে তোমার আপনি বলা আজ থেকে তুমি শুনতে চাই,

শুভ্রের কাজে চোখ বড় বড় হয়ে যায় বর্ষা। তবে কিছু বললো না। আর শুভ্র পকেট থেকে তাঁর গিফটটা বের করে পড়িয়ে দিল বর্ষার গলায় তারপর বললো,

‘ আজ থেকে তোমার আমার ভালোবাসার গল্প শুরু বর্ষা। অতঃপর সব অভিমান ভুলে আমি তোমায় চাই একদম নিজের করে। কোনো বাধা থাকবে না আর। থাকবে না আর দূরত্ব। থাকবে শুধু ভালোবাসা। তুমি কি ভালোবাসবে আমায়?’

প্রতি উওরে খুশি হয়েই বললো বর্ষা,

‘ হুম বাসবো তো তবে একটা শর্তে?’

বর্ষার কথা শুনে অবাক হলো শুভ্র। বললো,

‘ শর্ত কিসের শর্ত?’

বর্ষা সরে আসে শুভ্রের কাছ থেকে। রুমের লাইট জ্বালিয়ে দেয় তক্ষৎনাত। গলায় লকেটটা দেখে মুচকি হাসলো সে। তারপর শুভ্রের মুখোমুখি হয়ে বললো,

‘ আপনি এখনো একটা প্রশ্নের উত্তর দেন নি আমায়?’

বর্ষার কথায় ভ্রুজোড়া কুঁচকে এলো শুভ্রের। বেশ ভরাট গলায় বললো,

‘ কি বলি নি তেমায়?’

‘ এটাই যে আপনি বিয়ের দিন ফিরে কেন এলেন? কেনই বা বিয়ে করলেন আমার। আর প্রায় রাতে কার সাথে কথা বলেন আপনি, আর কেই বা এই ঔপন্যাসিকা?’

বলেই বিছানার ওপর থেকে শুভ্রের মোবাইল এনে। কল লিস্টের প্রথম নামটা দেখালো বর্ষা। শুভ্র অবাক হলো খানিকটা পরক্ষণেই হেঁসে বললো,

‘ এই ব্যাপার? ঠিক আছে আজই তোমায় সব বলবো আমি। ভেঙে ফেলবো সব ধূসরতা। চলো আমার সাথে,

এই বলে বর্ষা হাত ধরে এগিয়ে গেল শুভ্র সামনে।’

#চলবে…..

#ধূসর_শ্রাবণ💚
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💚
#পর্ব-২৯
________________

জোৎসা ভরা রাত। আকাশটা জ্বল জ্বল করছে তাঁরাদের নিয়ে। চাঁদমামাও আছে তাদেরই ভিড়ে। বাড়ির সামনের রাস্তার ধারে জ্বল জ্বল করছে রাতের আধারে দাঁড়িয়ে থাকা নির্ঘুম আলোকিত ল্যামপোস্ট। গেটের সামনে থাকা গাছের পাতারাও নড়েচড়ে উঠছে কতক্ষণ পর পর, শীতল হাওয়া বইছে চারিদিকে। এসবে মাঝেই বেলকনিতে পাশাপাশি চেয়ারে বসে আছে শুভ্র বর্ষা। কারো মুখেই তেমন কথা নেই। হঠাৎই নিজেদের নিশ্চুপতাদের সাইডে রেখে বলে উঠল বর্ষা,

‘ এবার বলুন তবে সবটা?’

বর্ষার কথা শুনে বেশ ভাবনাহীন ভাবেই বললো শুভ্র,

‘ হুম বলবো তো কিভাবে শুধু করবো সেটাই বুঝতে পারছি না। ঔপন্যাসিকা থেকে শুরু করবো নাকি বিয়ে।’

‘ বিয়ের দিন দিয়েই শুরু করুন।’

‘ ঠিক আছে।’

বলেই বলতে শুরু করলো শুভ্র।
ফ্লাসবেক,,

বিয়ের দিন। বর বেসেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে ছিল শুভ্র। মাথায় তখন একটা জিনিসই ঘুরছিল তাঁর এখান থেকে পালাতে হবে, আর বিয়েটা করা যাবে না। কিছুতেই সে বর্ষাকে বিয়ে করবে না। যতদ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি জমাবে সে। সাথে আগামী পাঁচ দশ বছরে দেশেও আসবে না। এইরকম নানা কিছু ভাবতে ভাবতেই এগিয়ে চলছিল শুভ্র। এমন সময় আচমকাই তাঁর গাড়ির সামনে এসে পড়লো একটা মেয়ে পরনে তাঁর মিষ্টি কালার থ্রি-পিস, বাঁধা চুল, সাথে চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। মেয়েটা সামনে আসতেই জোরে ব্রেক কষলো শুভ্র। কিন্তু তারপরও মেয়েটি ঘাবড়ে গিয়ে পড়ে যায় নিচে। দোষটা শুভ্রেরই ছিল, আসলে মাথার ভিতর হাজারো ভাবনা ঘুর ঘুর করতে থাকায় একটু বেখালি হয়ে পড়েছিল সে। শুভ্র তক্ষৎনাত গাড়ি থেকে বেরিয়ে এগিয়ে যায় মেয়েটির কাছে। মেয়েটি তখন বসে ছিল রাস্তার মাঝে শুভ্রের গাড়ির সামনে। শুভ্র দৌড়ে গিয়ে উত্তেজিত কন্ঠ নিয়ে বললো মেয়েটিকে,

‘ আপনি ঠিক আছেন তো আসলে আমি বুঝতে পারি নি আপনি সামনে চলে আসবেন।’

শুভ্রের উত্তেজিত ভাব দেখে বলে উঠল হিয়া,

‘ ইট’স ওঁকে রিলাক্স এত উত্তেজিত হওয়ার মতো কিছু হয় নি।’

মেয়েটির মুখ দেখে সাথে তাঁর কথা শুনে থেমে যায় শুভ্র।’

রাস্তার ধারে এয়ারপোর্টের সামনেই একটা গাছের নিচে সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চে বসে আছে হিয়া। পড়ে যাওয়ার কারনে পায়ে সামান্য ব্যাথা পেয়েছে সে। মুলত তাঁর কাজিনকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ্ট করতেই এসেছিল সে। কিন্তু এয়ারপোর্টের সামনে আসতেই যে এমন এক দূর্ঘটনা ঘটে যাবে বুঝতে পারে নি হিয়া। হিয়ার ভাবনার মাঝেই তার দিকে এগিয়ে এসে পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বললো শুভ্র,

‘ এটা খেয়ে নিন?”

হিয়াও শুনলো পানির বোতলটা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পুরো পানিটা শেষ করলো সে। তারপর বললো,

‘ থ্যাংক ইউ।’

শুভ্র হাল্কা হাসলো তারপর বললো,

‘ আমি সত্যি দুঃখিত আমার জন্য আপনার,

‘ ইট’স ওঁকে তা বর বেসে কোথায় যাচ্ছেন বউ আনতে বুঝি?’

প্রতি উওরে নিজের জামাকাপড়ের দিকে তাকিয়ে বললো শুভ্র,

‘ তেমনটা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হবে না।’

শুভ্রের কথা শুনে হিয়া অবাক হয়ে বললো,

‘ হবে না মানে?’

‘ মানে এটাই আমি বিয়ের আসর ছেড়ে চলে এসেছি মাত্র।’

সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় হয়ে যায় হিয়ার। সে যে প্লটের গল্প লেখে সেই প্লটেরই একজন চরিত্রকে চোখের সামনে দেখবে ভাবতেই পারি নি হিয়া। তবে হিয়ার গল্পের চরিত্রটা ছিল উল্টো মানে বিয়ের আসর ছেড়ে মেয়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু এখানে তো ছেলে পালিয়ে এসেছে। হিয়া অবাক হয়ে বললো,

‘ ইন্টারেস্টিং তো।’

হুট করেই হিয়ার মুখে ইন্টারেস্টিং ওয়ার্ডটা শুনে বেশ অবাক হয়েই বললো শুভ্র,

‘ মানে।’

উওরে উত্তেজিত কন্ঠ নিয়ে বললো হিয়া,

‘ মানে আই কান্ট বিলিস দিস যে আমারই গল্পের প্লটের মতো কোনো চরিত্রের লোকের সাথে আমার দেখা হবে।’

শুভ্র অবাক হলো খুব হিয়ার থেকে খানিকটা দূরত্ব নিয়ে বসলো সে। তারপর আবারও প্রশ্ন করলো,

‘ আপনার কথার মানেটা বুঝলাম না।’

এবার হিয়া বেশ আগ্রহ নিয়ে শুভ্রের দিকে নিজের হাত এগিয়ে দিয়ে বললো,

‘ হাই আমি হিয়া রহমান।’

হিয়ার কাজ আর কথা শুনে শুভ্রও হাত মিলালো হিয়ার সাথে। তারপর বললো,

‘ হ্যালো।’

শুভ্রের কথা শুনেই হিয়াও তক্ষৎনাত শুভ্রের সাথে হাত মিলিয়ে গট গট করে বলতে লাগলো,

‘ আমি একজন স্টোরি রাইটার। আমার নিজস্ব একটা ফেসবুক পেইজ আছে। যেখানে আমি গল্প লিখি প্লাস উপন্যাসও লিখি। ছোট করে বললে ঔপন্যাসিকা বলতে পারেন। দুটো পান্ডুলিপি বের করারও ইচ্ছে আছে খুব। সে যাইহোক আমার নেক্সট গল্পের থিমটা একদম আপনার চরিত্রের সাজাতে চেয়েছিলাম। যে বিয়ের আসর ছেড়ে বউ পাালিয়ে যাবে। তবে কেউ যে সত্যি সত্যি বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে আসবে এটা কল্পনার বাহিরে ছিল আমার। আচ্ছা আপনি যে বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছেন এটা এতক্ষণে আপনার বাড়ির সবাই জেনে গেছে তাই না।’

হিয়ার কথা শুনে শুভ্রও কিছুক্ষন ভেবে বললো,

‘ হবে হয়তো।’

‘ নিশ্চয়ই বাড়ি জুড়ে হুল্লোড় নেমেছে বর পালিয়ে গেছে, বর পালিয়ে গেছে।’

এবারও মাথা নাড়িয়ে বললো শুভ্র,

‘ হুম।’

‘ আশেপাশের লোকজন নিশ্চয়ই এতক্ষণে আপনার পরিবার, সাথে আপনার হবু বউকে নিয়ে সমালোচনা জুড়ে দিয়েছে। নানা লোকে নানা কিছু বলছে, নিন্দা করছে,অপয়া বলছে আরও কত কি? তাই না।’

এবার থেমে যায় শুভ্র। মাথা নিচু করে ফেলে তক্ষৎনাত কারণ এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত জানা থাকলেও বলার সাহস নেই শুভ্রের। শুভ্রকে চুপ থাকতে দেখে আবারো বলে উঠল হিয়া,

‘ কি হলো চুপ করে আছেন কেন?’

প্রতি উওরে হিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো শুভ্র,

‘ আপনি যা বলতে চান তা ডিরেকলি বলুন?’

শুভ্রের কথা শুনে স্বাভাবিক গলায় বললো হিয়া,

‘ এটাই বলতে চাই জীবনটা হাতে লেখা কোনো গল্প নয়। গল্পে আমরা যে জিনিসগুলো খুব ইজিলি পেয়ে যাই। বাস্তবে ততটা ইজিলি পাওয়া খুব কঠিন। একটা মেয়ের জীবনের বিয়ে জিনিসটা একটা স্বপ্নের মতো। আপনি যাকে বিয়ে করবেন না বলে চলে এসেছেন সে মেয়েটা হয়তো আপনাকে নিয়ে আকাশ পাতাল স্বপ্ন নিয়ে বসে ছিল। আপনি কেন চলে এসেছেন এটা আমি জানি না। কিন্তু আমি বলবো আপনি ভুল করছেন?’

হিয়ার কথা শুনে শুভ্র বললো,

‘ আমি জানি আমি ভুল করছি। কিন্তু বিয়েটা হয়ে গেলে যে আরো বড় ভুল হবে।’

‘ এটা আপনার আগে ভাবা উচিত ছিল তো এক গা লোকজন আর বিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসাটা কি বুদ্ধিমানের কাজ হলো।’

‘ আমি বাধ্য ছিলাম।’

শুভ্রের কথায় হাসলো হিয়া। বললো,

‘ আমরা তো বাধ্যেরই কাঙাল। আচ্ছা কোন কাজটা আমরা বাধ্য বিহীন করি বলুন তো? এই যে আমি এখানে বসে আছি এটাও কিন্তু একপ্রকার বাধ্য হয়েই কারণ আমি পায়ে চোট পেয়েছি।’

‘ তাহলে আপনি বলতে চাইছেন আমার বাধ্য হয়েই বিয়েটা করে ফেলা উচিত।’

উওরে মাথা নাড়ায় হিয়া। বলে,

‘ কমছে কাম আপনার পরিবার আর আপনার হবু বউয়ের কথা ভেবে তো করে ফেলা উচিত।’

‘ আপনি বুঝতে পারছেন না। আমার যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তাঁর সাথে আমার যায় না। তাঁকে আমার পছন্দ না। ওর ভীতু ভীতু স্বভাব, একটুতেই ইমোশনাল হয়ে যাওয়া, বোকা বোকা কাজ কর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি কিছুই পছন্দ নয় আমার।’

এতক্ষণে যেন হিয়ার কাছে পরিষ্কার হলো শুভ্রের বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে আসার মূল কারণ। হিয়া হাসলো, উচ্চ স্বরে হাসলো। বললো,

‘ আপনি সামান্য এই বিষয়ের জন্য বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।’

‘ আপনার কাছে এটা সামান্য মনে হচ্ছে।’

‘ তা নয়তো কি?’ শুনন আমরা যাকে ভালোবাসি তাঁর এলেমেলো চুল, অগোছালো স্বভাব, ফ্যাকাসে চেহারাতেও মায়া খুঁজে পাই। আর যাকে ভালোবাসি না তাঁর সাজানো চুল, গোছালো স্বভাব, মায়াবী চোখের মাঝেও বিরক্তিতা খুঁজে পাই। সবই হলো ভালোবাসা বুঝলেন, সবই ভালোবাসা। তা আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?’

হিয়ার কথা অনেক্ক্ষণ ভাবলো শুভ্র। কথাটা মিথ্যে নয়। সত্যি তো আজ যদি সে বর্ষাকে ভালোবাসতো তাহলে হয়তো ওঁকে নিয়ে এত অভিযোগ থাকতো না। জীবনে ভালোবাসাটাই আসল। শুভ্রকে চুপচাপ থাকতে দেখে আবারো প্রশ্ন করে বসলো হিয়া,

‘ কি হলো কথা বলছেন না কেন গার্লফ্রেন্ড আছে আপনার?’

প্রতি উওরে হিয়ার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে বললো শুভ্র,

‘ না।’

‘ আহ বাহ্ তাহলে তো কোনো সমস্যাই দেখছি না। যাইহোক আপনার লাইফ, আপনার বিয়ে, আপনার হবু বউ, আপনার পরিবার, আমার কি?’ তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন মাঝে মাঝে বাধ্য হওয়া জিনিসগুলোই জীবনের জন্য সঠিক হয়। আমার মনে হয় আপনার জন্য আপনার হবু বউই সঠিক। বাকিটা আপনার ইচ্ছে,

বলেই আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালো হিয়া। এখন তাঁকে যেতে হবে। হিয়াকে দাঁড়াতে দেখে বললো শুভ্র,

‘ আমার হবু বউই যে আমার জন্য সঠিক এটা আপনি বুঝলেন কি করে?’

এমন সময় আকাশ পথ বেয়ে শুভ্রের লন্ডন যাওয়ার ফ্লাইট উড়ে গেল। শুভ্র অবাক হয়ে আকাশ পথে তাকিয়ে দেখে উত্তেজিত হয়ে বললো,

‘ আমার লন্ডন যাওয়ার ফ্লাইট, আপনার জন্য আমার ফ্লাইট মিস হলো।’

এবার আরো উচ্চ স্বরে হেঁসে ফেললো হিয়া। হিয়াকে হাসতে দেখে কিছুটা রাগী কন্ঠ নিয়েই বললো শুভ্র,

‘ আপনি কথায় কথায় এত হাসেন কেন বলুন তো?’

শুভ্রের কথা শুনে হিয়া তাঁর হাসি থামিয়ে বললো,

‘ হাসাহাসির প্রশ্নের জবাবটা নয় হয় পড়ে দেই। আগে বলি আপনার জন্য আপনার হবু বউই সঠিক কেন?’

হিয়ার কথা শুনে শুভ্র অবাক হয়ে বললো,

‘ কেন?’

‘ সিম্পল, এই দেখুন আপনি তো বিয়ে ছেড়ে কোথাও যাওয়ার আইমিন লন্ডন যাওয়ার পণ করছিলেন মাঝপথে আমার সাথে দেখা হলো, আমি পায়ে চোট পেলাম। আমার জন্য আপনার দেরি হলো, আমাদের মধ্যে এত কথা হলো, আপনার ব্যক্তিগত কথাগুলো আমায় বললেন। আপনার ফ্লাইট মিস হলো। এগুলো কি একটাও হওয়ার কথা ছিল নাকি।’

হিয়ার কথা শুনে সত্যি সত্যি থমকে গেল শুভ্র। সত্যি তো, এগুলোর একটাও তো হওয়ার কথা ছিল না। আর যেখানে সে তার ব্যক্তিগত কথাগুলো বাড়ির মানুষের সামনে বলতে পারলো না। সেখানে এই মেয়ের সামনে নিরদ্বিধায় বলে দিল। শুভ্র অবাক চোখে হিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ সত্যি তো এগুলো হওয়ার কথা ছিল না তো।’

হিয়া হাসলো আবার তারপর বললো,

‘ এটাই ভাগ্য। আপনার ভাগ্যে আপনার হবু বউই আছে। তাই বেশি না ভেবে বিয়েটা করে ফেলুন।কে বলতে পারে একটা সময় আপনার এই বউ আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার হয়ে দাঁড়াবে।’

বহিয়ার কথা শুনে শুভ্র শুধু তাকিয়ে রইলো হিয়ার পানে। কিছু বললো না। মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে তাঁর এতক্ষণ যে ভাবনাগুলো তাঁর মাথায় ছিল তা নিমিষেই কোথাও একটা হারিয়ে গেল যেন। শুভ্রকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠল হিয়া,

‘ আপনার ফোন নাম্বারটা দিন তো?’

হিয়ার কথা শুনে অবাক হয়ে বললো শুভ্র,

‘ কি?’

‘ আপনার ফোন নাম্বার?’

শুভ্রও কি মনে করে যেন তাঁর নাম্বারটা দিলো হিয়াকে। হিয়া গট গট করে তাঁর মোবাইলে নাম্বারটা উঠিয়ে কল করলো শুভ্রকে। রিং বাজতেই শুভ্র পকেট থেকে ফোন বের করে দেখলো নাম্বারটা। এরই মাঝে হিয়া আবার বলে উঠল,

‘ এটা আমার নাম্বার মাঝে মাঝে আপনার আর আপনার বউয়ের খবরাখবর জানার জন্য ফোন করবো? আর হ্যাঁ শুভকামনা রইলো আপনার নতুন জীবনের জন্য।’

‘ এর মানে আপনি শিওর আমি বিয়েটা করছি।’

‘ তা নয় তো কি? আমি ভাগ্যকে খুব বিলিভ করি। আর আপনার যা দেখছি তাতে আপনার ভাগ্যে আপনার হবু বউই আছে৷ আচ্ছা আপনার নামটা কি বলুন তো?’

‘ কেন বলুন তো?

‘ আরে নাম্বার সেইভ করতে হবে তো।’

হিয়ার কথা শুনে শুভ্র বলে উঠল,

‘ শুভ্র।’

‘ শুভ্র আচ্ছা আর আপনার বউয়ের নাম?’

‘ বর্ষা।’

‘ ওহ শুভ্র বর্ষা। নাম দুটোই মিল আছে তো খুব। পারফেক্ট কাঁপল। যাইহোক আমায় এখন যেতে হবে মিস্টার হিরো। বাকি কথা ফোনে হবে ভালো থাকবেন।’

বলেই এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো হিয়া। পায়ে চোট থাকায় হাল্কা কষ্ট হচ্ছে হিয়ার। তবে সেই কষ্টকে টোটালি উপেক্ষা করে চললো সে।’

আর এদিকে শুভ্র জাস্ট অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো হিয়ার যাওয়ার পানে। বহুত বিপাকে ফেলে গেল মেয়েটা। এখন কি করবে শুভ্র? বাড়ি ফিরে যাবে আবার কিন্তু বাড়ি ফিরে কি বলবে সবাইকে। আর অনিক তো বোধহয় এতক্ষণে সবাইকে সবটা বলে দিয়েছে।’

এরই মাঝে শুভ্রের ভাবনার মাঝে ফোনটা আবার বেজে উঠলো শুভ্রের। হিয়াই ফোন করেছে। শুভ্র অবাক হয়েই ফোনটা তুললো।

এদিক, এয়ারপোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে বললো হিয়া,

‘ কি এতো ভাবছেন মিস্টার হিরো, আমি তো বলেছি আপনার ভাগ্যে আপনার হবু বউ বর্ষাই আছে।’

শুভ্র শুনলো হিয়ার কথা। নিজের অজান্তেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো সে। আর সত্যি এবার ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল অনিক কিছু বলার আগেই সেখানে উপস্থিত হয় শুভ্র। আর ভাবনাহীন ভাবেই বিয়েটা করে ফেলে সে বর্ষাকে। পুরো বিয়ের আসরে হিয়ার কথাগুলো মাথায় রেখেই বিয়েটা করে শুভ্র। তারপর আর কি ভাগ্যকেই মেনে নেয় শুভ্র আর সংসার করতে থাকে বর্ষার সাথে। আর প্রায় রাতে হিয়ার সাথেই কথা হতো শুভ্রের। এভাবেই করতে করতে আননোন মেয়েটির সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল শুভ্রের। আর মোবাইলে সেইভ হলো তার নাম ‘ঔপন্যাসিকা।’

পর পর সব কথাগুলো বর্ষাকে বলে দম ছাড়লো শুভ্র। বললো,

‘ এই হলো ঔপন্যাসিকার কাহিনি।’

সব শুনে বর্ষা যেন হতভম্ব। শেষে কিনা তাদের বিয়েটা একজন ঔপন্যাসিকার জন্য হলো। বর্ষার ভাবনার মাঝেই বলে উঠল শুভ্র,

‘ আমি জানি না ঔপন্যাসিকার সাথে কি কানেকশন আছে আমার। কিন্তু ওর জন্যই আজ আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ জিনিসটা উপলব্ধি করতে পারলাম। ধন্যবাদ ঔপন্যাসিকা। মেয়েটার মাঝে আলাদা একটা যাদু আছে কথা বললেই মনটা ভালো হয়েছে যায়।”

শুভ্রের মুখে ঔপন্যাসিকার এত প্রশংসা শুনে মুখ ভাড় করে বললো বর্ষা,

‘ হুম হয়েছে হয়েছে বুঝতে পেরেছি আপনার ঔপন্যাসিকা আমার চেয়েও ভালো।’

বর্ষার কথা শুনে হাসলো শুভ্র। বর্ষাকে জড়িয়ে ধরে বললো,

‘ আমি তা কখন বললাম তুমিই তো তুমি। আমার প্রিয় বোকারানি।’

‘ হুম একসময় তো অপ্রিয় ছিলাম।’

‘ তাতে কি এখন তো প্রিয় হয়েছো।’

বলেই বর্ষাকে বুকে জড়িয়ে ধরে মুচকি হাসলো শুভ্র। বর্ষাও খুশি মনে জড়িয়ে ধরলো শুভ্রকে। এই প্রথম শুভ্রকে কাছ থেকে ফিল করছে বর্ষা। একরাশ ভালো লাগা এসে গ্রাস করলো তাঁকে। সাথে মন থেকে ধন্যবাদ জানালো সে, সেই ঔপন্যাসিকাকে। মনে মনেই বললো,

‘ থ্যাংক ইউ।’

_____

রাতের জোৎসা ভরা আলোতে বিছানা লেপ্টে কাঁথা জড়িয়ে বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে হিয়া। এমন সময়,,

#চলবে…..

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ