Friday, June 5, 2026







ধূসর শ্রাবণ পর্ব-২৬+২৭

#ধূসর শ্রাবণ
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💚
#পর্ব-২৬+২৭
________________

অতিরিক্ত এদিক সেদিক দৌড়ানোর কারণে সাথে বেখালি হওয়ায় আচমকাই শাড়ি পেঁচিয়ে পড়ে যেতে নেয় বর্ষা। সাথে সাথে সদর দরজা দিয়ে মাত্র ঢুকে পড়া ব্যক্তিটি ধরে বসলো তাঁকে। ঘটনাটা হুট করে হয়ে যাওয়াতে পুরোই চমকে উঠলো বর্ষা। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে সামনের ব্যক্তিটির দিকে তাকালো সে। ছেলেটির ফেস দেখতেই যেন চমকে উঠলো বর্ষা। কারন ছেলেটি হলো কালকের শপিং মলের সেই ছেলেটি। অন্যদিকে ছেলেটিও বর্ষার ফেস দেখে অবাক হয়ে বললো,

‘ আরে আপনি যে,

প্রতি উওরে নিজেকে ছাড়িয়ে নম্র গলায় বললো বর্ষা,

‘ ধন্যবাদ।’

‘ ধন্যবাদ পরে দিন আগে বলুন আপনি এখানে?’

ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে এগিয়ে আসলো শুভ্রের মা। আশিককে সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠলেন উনি,

‘ আরে আশিক যে ভিতরে আসো?’

প্রতি উওরে আশিকও বেশি কিছু না ভেবে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে বললো,

‘ আসসালামু আলাইকুম আন্টি কেমন আছেন আপনি?’

আশিকের কথা শুনে মুচকি হাসলো শুভ্রের মা। তারপর বললো,

‘ ওলাইকুম আসসালাম হুম ভালো তুমি?’

‘ জ্বী ভালো আন্টি।’

বর্ষা কৌতুহলী এগিয়ে আসে সামনে। বর্ষাকে দেখেই বলে উঠল শুভ্রের মা,

‘ ও হচ্ছে বর্ষা তোমায় বলেছিলাম না ও আমার ছেলে শুভ্রের বউ। শুভ্রতার মায়ের কথা শুনে আশিকও খুশি মনে মুচকি হেঁসে বললো,

‘ ওহ, আসসালামু আলাইকুম ভাবি।’

আশিকের কথা শুনে বর্ষাও মুচকি হেঁসে বললো,

‘ ওলাইকুম আসসালাম।’

ওঁদের কথার মাঝখানেই শুভ্রতার মা এবার বর্ষার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ আর বর্ষা ও হচ্ছে আশিক শুভ্রতার হবু বর,

সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় হয়ে যায় বর্ষার। শুভ্রতার হবু বর। বর্ষার রিয়েকশন দেখে হাসলো শুভ্রের মা তারপর বললো,

‘ কি অবাক হলে তো আসলে সবকিছু এত তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে তোমাদের জানানো হয়নি। আশিকের বাবা আর শুভ্রের বাবা হলো দুই বন্ধু তোমার বাবারও বন্ধু আর সেই সুবাদেই এই সম্পর্ক। প্রতি উওরে শুধু এতটুকুই বলে বর্ষা,

‘ ওহ।’

এরই মাঝে শুভ্রের মায়ের ডাক পড়লো রান্নাঘর থেকে। সেও ‘আসছি’ বলে বর্ষা আর আশিকের দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ তোমরা কথা বলো আমি এক্ষুনি আসছি?’

উওরে শুঁকনো হেঁসে বললো আশিক,

‘ ঠিক আছে আন্টি।’

শুভ্রের মা যেতেই আশিক বর্ষার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ আই কা’ন্ট বিলিভ দিস যে আপনিই বর্ষা ভাবি? শুভ্রতা আপনার কথা বলেছিল আমায় তবে আপনি যে বর্ষা ভাবি হবেন ভাবতে পারি নি।’

আশিকের কথা শুনে বর্ষাও বেশ আবেগী কন্ঠে বললো,

‘ আমারও কিন্তু সেইম অবস্থা। ওহ তাঁর মানে কাল আপনি শুভ্রতার জন্যই শাড়ি কিনতে গিয়েছিলেন।’

উওরে মাথা নাড়ায় আশিক। তারপর বলে,

‘ কাল তো শুভ্রতার সাথে শপিং মলে দেখা হওয়ার কথা ছিল বাট কোনো এক কারনে ও চলে আসায় দেখা হয় নি।’

আশিকের কথা শুনে হাল্কা সংকোচতা ফিল বর্ষার। কাল তো শুভ্রের জন্যই তাঁদের ওইভাবে বেরিয়ে আসতে হলো। বর্ষা কিছুটা সংকোচতা নিয়ে বলে উঠল,

‘ আসলে হয়েছিল কি,

বর্ষার পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই বলে উঠল আশিক,

‘ ইট’স ওকে ভাবি বলতে হবে না, আমি জানি শুভ্র ভাইয়ের জন্যই ফিরে আসতে হয়েছে। উনি যা রেগে গেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনায় আমায় একসাথে দেখে উল্টো পাল্টা কিছু ভেবেছিলেন।’

এবার কি বলবে বর্ষা। শুঁকনো হাসলো শুধু তারপর বললো,

‘ ওই আর কি।’

হাসলো আশিক। বললো,

‘ বউয়ের পাশে অন্য কাউকে সহ্য করা সত্যি টাফ।’

আশিকের কথা শুনে হেঁসে ফেলে বর্ষা।’

এদিকে,

সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে আশিক আর বর্ষার কার্যকলাপ সবই দেখেছে শুভ্র। রাগও হয়েছে তাঁর, এই মেয়ে শাড়ি পড়ে যখন হাঁটতে পারে না তাহলে শাড়ি পড়ার কি দরকার অদ্ভুত বিষয়। আশিকের কথা সকালেই বলে ছিল শুভ্রের মা শুভ্রকে। সাথে ছবিও দেখিয়ে ছিল। শুভ্র তো প্রথমে ছবিটা দেখে সত্যি অবাক হয়েছে। শপিং মলের কাহিনিটায় খুব একটা ভাবায় নি শুভ্রকে কারন সে জানে তাঁর বোকারানি বউ হুটহাট এখানে ওখানে পড়ার রোগ আছে। যেমন এইমাত্র পড়লো, তবে হ্যাঁ ছেলেটি বর্ষার হাত স্পর্শ করেছিল বলে রাগ হয়েছিল শুভ্রের। তবে বর্ষার মতো আজেবাজে চিন্তা মাথায় আসে নি তাঁর। কারন শুভ্র জানে তাঁর বোকারানি বউ তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকেই ভালোবাসতে পারে না। আর কখনোও পারবে না।’

হাল্কা হাসলো শুভ্র। তবে পরমুহূর্তেই আবার নিরাশও হলো সে তাঁর বউয়ের অভিমান এখনো ভাঙাতে পারছে না। শুভ্র বুঝতে পারছে না কি করলে বর্ষা আর তাঁর সম্পর্ক বাকি সব বিবাহিত কাপলদের মতো স্বাভাবিক হবে। হঠাৎই শুভ্রের মনে পড়লো তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পরিচিত হওয়া শুভাকাঙ্ক্ষী ঔপন্যাসিকার কথা। তক্ষৎনাত পকেট থেকে ফোনটা বের করলো সে। তাঁরপর কল অপশনে ঢুকে ঔপন্যাসিকার নাম্বারে কল করলো মুহূর্তেই। পর পর দু’বার কল করার পরও ধরলো না ঔপন্যাসিকা তৃতীয় বারের মতো কল করতেই ধরে ফেললো সে। কল ধরতেই হতভম্ব গলায় বললো শুভ্র,

‘ হ্যালো?’

সাথে সাথে অপরপ্রান্তের মানুষটি বলে উঠল,

‘ হেই মিস্টার হিরো, কি খবর?’

ঔপন্যাসিকার কথা শুনে নিরাশ হয়ে বললো শুভ্র,

‘ আর খবর কিছুতেই কিছু হচ্ছে না যে।’

হাসলো ঔপন্যাসিকা তারপর বললো,

‘ অভিমান ভাঙাতে এখনও ব্যর্থ মিস্টার হিরো?’

‘ তাহলে বলছি কি প্লিজ একটু হেল্প করো না আমি বুঝতে পারছি না কি থেকে কি করবো কিভাবে বললে বুঝবে বর্ষা।’

শুঁকনো হাসলো ঔপন্যাসিকা তারপর নীরবে ভেজা কন্ঠে বললো,

‘ শান্ত গলায়, নিঝুম নিরালায়, জোৎসা ভরা আলোতে, আলোকিত আকাশের চাঁদ মামাকে পাশে নিয়ে বলুন দেখবেন সব ঠিক হয়ে গেছে।’

‘ তুমি যতটা ইজি ভাবে বলছো আমি তো ততটা ইজি ভাবে পারছি না। যতবারই বর্ষাকে কিছু বলতে যাই ততবারই কোনো না কোনো বাঁধা এসে দাঁড়ায়।’

‘ তাঁর জন্যই তো বললাম নিঝুম নিরালায় যান, মন খুলে বলুন সব।’

‘ বলছো,

‘ হুম বি কনফিডেন্স!’

ফোন কাটলো শুভ্র। ভাবলো অনেক কিছু।’

_____

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে অনেক আগেই। ঘড়ির কাঁটারাও ছুটে চলেছে আপন গতিতে। নিস্তব্ধ প্রায় সব, শুধু মাথার উপর থাকা সিলিং ফ্যানের শব্দ ব্যতীত তেমন কিছুই শোনা যাচ্ছে না। রুম জুড়ে থাকা মানুষগুলোও চুপচাপ আজ। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। গোল হয়ে ড্রয়িং রুমের সোফাতে বসে আছে হিয়া, হিয়ার বাবা, মা, আর হিয়ার ছোট ভাই পিয়াস। আর তাদের মাঝ বরাবর সোফাতে বসে আছে নির্মল। সামনের টেবিল জুড়েই পড়ে আছে নির্মলের আনা ফলমূল মিষ্টিসহ আরো অনেক কিছু। কতক্ষন আগেই এসব নিয়ে এসেছে নির্মল। হিয়া জানতো না নির্মল আসবে। একবার নির্মল তো একবার বাবার মুখের দিকে তাকাচ্ছে হিয়া। কি হবে না হবে কিছুই যেন বুঝতে পারছে না সে। যদিও হিয়া জানে না নির্মল আসলে কি উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছে তবে হাল্কা সামান্য আন্দাজ করতে পারছে সে। হঠাৎই নিরবতার শিকল ছিঁড়ে মুখ খুললো নির্মল। বললো,

‘ আপনি হয়তো জানেন শশুর মশাই আমি এখানে কেন এসেছি?’ অবশ্য ভুলে গেলেও ক্ষতি নেই আমি আবার মনে করে দিচ্ছি আপনার মেয়েকে চাইতে। দেখুন চাইলে আমি আপনার মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়েই বিয়ে করতে পারতাম কিন্তু এতে আপনার অসম্মান হবে তাই করছি না। তবে আপনি বাধ্য করলে আমি সেটাই করবো। এর আগের বার বলেছিলাম আমি শুধু আপনার মেয়ের ‘ভালোবাসি’ শব্দটা শোনার জন্য অপেক্ষা করছি। এখন সেই সময়ের অবসান ঘটে গেছে। তাই আপনি চান বা না চান খুব শীঘ্রই আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করছি। আমার জীবন সম্পর্কে আর কি বলবো বলুন এতদিনে নিশ্চয়ই আমার খবরাখবর নিয়ে নিয়েছেন। শুনেছি আপনি নাকি আমার হসপিটালেও গিয়েছিলেন।’

থমকে গেল হিয়ার বাবা। আর অবাক হলো হিয়া। তাঁর বাবা নির্মলের হসপিটালে গিয়েছিল কিন্তু কেন?’ আপাতত প্রশ্নটাকে নিজের মাথায় জমিয়ে রেখেই মনযোগ দিলো নির্মলের বলা কথার দিকে। নির্মল বলছে,

‘ ছোট বেলা থেকেই একা থাকি। একাই বড় হয়ে ওঠা আমার। বাবা মায়ের মুখটা কখনো দেখা হয় নি আমার। তবে আশেপাশে মানুষের কাছ থেকে শুনেছি মা জন্মের সময়ই মারা যান। তারপর বাবা নাকি হসপিটালে রেখেই চলে যান আমায়। তখন থেকেই বাবা শব্দটাকে প্রচুর ঘৃণা করি আমি। প্রথমদিন আপনার সাথে হয়তো একটু বেশি বাজে ব্যবহার করেছিলাম আমি। তাঁর জন্য আমি দুঃখিত। আমার জীবনের প্রথম মেয়েই হলো আপনার মেয়ে যাকে আমি ভালোবেসেছি। আমি বিয়ে করতে চাই ওঁকে। জীবনে অনেক একা থেকেছি, অনেক রাত একা কাটিয়েছি। কিন্তু আপনার মেয়ে জীবনে আসার পর একা থাকাটা যেন বিষাক্তকর মনে হয়। যাইহোক বিয়ের ডেট জানিয়ে দিয়ে যাবো। মেয়েকে রেডি করে রাখবেন আমি কাজী নিয়ে এসে বিয়ে পড়িয়ে নিয়ে চলে যাবো। আপনি চাইলে বড়সড় ধুমধাম করেও বিয়েটা করতে পারি আর না চাইলে ছোট করে হবে। এটা আমি আপনার মতামত মেনেই করবো।’

এতটুকু বলে উঠে দাঁড়ালো নির্মল। ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ হসপিটালে যেতে হবে আমায়। আজ তবে আসি পরেরবার একদম বর বেশে এসে আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবো। ভালো থাকবেন শশুর মশাই, শাশুড়ী আর প্রাণের শালা মশাই। যদিও তোমার সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ হলো আজ। শুনেছি পড়াশোনার সুবাদে মাদরাসায় থাকছো। খুব ভালো মন দিয়ে পড়াশোনা করো।’

বলেই একপলক হিয়ার দিকে তাকিয়ে বেরিয়ে যায় নির্মল। আর হিয়া শুধু তাকিয়ে রয় চুপচাপ। বাবার চেহারার রিয়েকশন দেখে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। একদম চুপচাপ হয়ে গেছেন উনি। হিয়াকে ভাবাচ্ছে খুব, বার বার মাথায় একটা প্রশ্ন এসেই নাড়া দিচ্ছে,

‘ আজ বাবা কিছু বললো না কেন?’

_______

সারাদিনের হৈ-হুল্লোড় সাথে আত্মীয় স্বজনদের সেবাযত্ন, শুভ্রতার বার্থডে সেলিবেট করতে করতেই কেটে গেল পুরো সন্ধ্যাটা। ব্যস্ততায় কেটেছে সবার। বর্তমানে সবাই তাদের খাওয়াদাওয়ার পালা শেষ করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছে। আশিকও চলে যাবে এখন। আশিকের বাবা মাও এসেছিল আজকে, খুব শীঘ্রই তাঁরা শুভ্রতাকে তাঁদের বাড়ির বউ বানিয়ে নিয়ে যাবে। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। ওনারা আগেই গেছেন এখন আশিক যাবে।’

বাড়ির সামনের দিক দিয়ে হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত যাচ্ছে আশিক আর তাঁর পাশেই হাঁটছে শুভ্রতা। নীরবতা চলছে দুজনের মাঝে হঠাৎই শুভ্রতা বলে উঠল,

‘ আবার আসবেন কিন্তু?’

হাসলো আশিক তারপর বললো,

‘ নিশ্চয়ই আসবো।’

‘ কালকের জন্য রাগ করেন নি তো?’

‘ না, ওহ তোমার গিফটটাই তো দেওয়া হয় নি আজ।’

‘ গিফট?’

‘ হুম।’

এই বলে হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত গিয়ে গাড়ির ভিতর থেকে গিফটের প্যাকেটটা বের করলো আশিক। এগিয়ে দিল শুভ্রতার দিকে তারপর বললো,

‘ এটা তোমার জন্য কোনো একসময় পড়ে বেরিয়েও।’

শুভ্রতা তাকালো আশিকের দিকে। তারপর গিফট না দেখেই বলবো,

‘ ঠিক আছে।’

খুশি হলো আশিক। অতঃপর শুভ্রতাকে বিদায় জানিয়ে গাড়ি করে চলে গেল সে। শুভ্রতা তাকিয়ে রইলো আশিকের যাওয়ার পানে। এমন সময় শুভ্রতার কান ধরে টান দিলো বর্ষা। আচমকা এমনটা হওয়াতে শুভ্রতা ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে বললো,

‘ আরে ভাবি লাগছে তো?’

‘ লাগে লাগুক, স্পেশাল মানুষের সাথে দেখা করাবে বললে অথচ স্পেশাল মানুষটা যে তোমার হবু বর এটা বললে না কেন?’

‘ আসলে ভাবি সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম কাল বয়ফ্রেন্ড রূপে মিট করাবো আর আজ হবু বর হিসেবে। কিন্তু ভাইয়ার জন্য কিছুই হয় নি।’

‘ ওহ তলে তলে এত কিছু ভাবা হচ্ছিল।’

বর্ষার কথা শুনে শুকনো হেঁসে বললো শুভ্রতা,

‘ ওই আর কি?’

‘ ওই আর কি, তোমার ওই আর কি বের করছি আমি।’

প্রতি উওরে বর্ষার হাত থেকে নিজের কানটা ছাড়িয়ে বলে উঠল শুভ্রতা,

‘ আরে ভাবি এত রাগ করো কেন, আমরা আমরাই তো।’

রাগে হন হন করতে করতে বাড়ির বাহিরে বের আসলো শুভ্র। রাগে গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে একদম। বর্ষাকে একবার কাছে পেলে কি যে করবে সে নিজেও জানে না। সেই সকাল থেকে তাঁকে ইগনোর করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে। ডাকলেও সামনে আসছে না, বড্ড সাহস হয়ে গেছে, এবার সত্যি সত্যি সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে শুভ্রের। রাগে মাথায় আগুন জ্বলছে তাঁর। শুভ্র রাগে হন হন করতে করতে এগিয়ে গেল বর্ষার সামনে তারপর কাট কাট গলায় বললো,

‘ বর্ষা?’

#চলবে….

#ধূসর_শ্রাবণ💚
#লেখিকা:#তানজিল_মীম💚
#পর্ব-২৭
________________

হুট করে শুভ্রের সামনে এসে রাগী কন্ঠ শুনে অবাক হলো বর্ষা আর শুভ্রতা। তবে বেশি না ভেবে বর্ষা বেশ শান্ত গলায় বললো,

‘ কি হয়েছে?’

বর্ষার কথায় রাগ যেন আরো উঠলো শুভ্রের। সে শুভ্রতাকে উদ্দেশ্য করে বললো,

‘ শুভ্রতা চোখ বন্ধ করে সোজা নিজের রুমে যাবি এদিক সেদিক তাকালে একদম থাবড়িয়ে গাল লাল বানিয়ে দিবো।’

শুভ্রের কথা শুনে বর্ষা বলে উঠল,

‘ ও কেন যাবে ও যাবে না।’

বর্ষার কথাটাকে টোটালি ইগনোর করে আবারো ঝাঁঝালো গলায় বলে উঠল শুভ্র শুভ্রতাকে,

‘ আমি তোকে যেতে বলেছি শুভ্রতা।’

সঙ্গে সঙ্গে শুভ্রতা ঘাবড়ে গিয়ে দৌড়ে চলে গেল তাঁর রুমে। আর বর্ষা খানিকটা সাহসী কতা নিয়ে বলে উঠল,

‘ আপনার সমস্যাটা কোথায় বলুন তো, সেই আসার পর থেকে দেখছি কারনে অকারনে রাগ দেখিয়ে যাচ্ছেন।’

‘ আমি অকারণে রাগ দেখাই।’

‘ তা নয় তো কি?’

‘ ঠিক আছে আজ তবে অকারণেই অনেক কিছু হয়ে যাক।’

শুভ্রের কথা শুনে চোখ বড় বড় করে বলে বর্ষা,

‘ মানে?’

প্রতি উওরে কোনো কিছু না বলেই হুট করেই বর্ষাকে কোলে তুলে নিলো শুভ্র। আকস্মিক শুভ্রের এমন কান্ডে চোখ বড় বড় হয়ে যায় বর্ষার। সাথে শুভ্রের শার্টের হাতা খামচে ধরে বললো সে,

‘ আরে আরে কি করছেন কি পড়ে যাবো তো?’

প্রতি উওরে কোনো জবাব না দিয়েই বর্ষাকে কোলে নিয়ে হাঁটা শুরু করলো শুভ্র। শুভ্রের কান্ডে থমকে গেল বর্ষা। ঘাবড়ে গেছে সে।’

শুভ্র বর্ষাকে কোলে তুলে চলে যায় ছাঁদে। রাগে গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে তার।’

খোলা আকাশের নিচে ছাদের এক কিনারায় শুভ্র দাঁড় করায় বর্ষাকে। বর্ষা নিচে নেমেই হতভম্ব গলায় বলে,

‘ আপনি আমায় এখানে কেন নিয়ে এসেছেন?’

‘ তোমার সাথে কথা আছে আমার।’

‘ কিন্তু আমার আপনার সাথে কোনো কথা নেই।’

বলেই চলে যেতে নেয় বর্ষা। সাথে সাথে বর্ষার হাত ধরে নিজের কাছে টেনে আনে শুভ্র। কোমড় জড়িয়ে ধরে তক্ষৎনাত সঙ্গে সঙ্গে চমকে উঠলো বর্ষা। কেঁপে উঠল পরমুহূর্তেই। সাথে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো সে। বর্ষাকে ছটফট করতে দেখে শুভ্র বর্ষার কোমড় ছেড়ে দুই বাহু চেপে ধরে, কপালে কপাল ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে শীতল ভেজা কন্ঠ নিয়ে বলে,

‘ তুমি এমন কেন বোকারানি? এত বার করে বলছি কিছু কথা আছে তাও শুনতে চাইছো না কেন আমাকে মারার প্ল্যান করছো নাকি।’

শুভ্রের কান্ড আর কথা শুনে থমকে যায় বর্ষা। নিজের ছটফটানি কমিয়ে দেয় পরমুহূর্তেই। বর্ষাকে নিস্তব্ধ হয়ে যেতে দেখে আবারো বলে উঠল শুভ্র,

‘ আমি তোমায় ভালোবাসি বর্ষা। তোমার সাথেই থাকতে চাই সারাজীবন। তুমি কেন বুঝতে পারছো না আমার অবস্থাটা। তোমার শূন্যতায় যে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছি আমি। এবার তো বাঁচিয়ে নেও আমায়। তোমার এক একটা অবহেলা যেন ছুরির আঘাতের মতো ক্ষত দিয়ে চলেছে আমার বুকে। ক্ষত বিক্ষত করছে আমার হৃদয়রাকে। তুমি কি বুঝতে পারছো না? আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি ধীরে ধীরে। প্লিজ আর কষ্ট দিও না আমায় না হলে সত্যি শেষ হয়ে গিয়ে হারিয়ে যাবো অনেক দূরে। তারপর চাইলেও আর খুঁজে পাবে না কিন্তু বলে দিলাম।’

বর্ষাও শুভ্রের মতো চোখ বন্ধ করে ছিল এতক্ষণ শুভ্রের লাস্ট কথাটা শুনে চোখে খুলে ফেললো নিমিষেই। কি বলছে কি শুভ্র হারিয়ে যাবে মানে। বর্ষা নির্বিকার হয়ে এতক্ষন শুনেছিল শুভ্রের কথা। পরমুহূর্তেই কিছুটা শীতল স্বরে অবাক দৃষ্টিতে শুভ্রের দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ আপনি সত্যি আমায় ভালোবাসেন শুভ্র?’

চোখ খুললো শুভ্র। তারপর বর্ষার চোখের দিকে তাকিয়ে ওর দু’গাল চেপে ধরে বললো,

‘ কিভাবে বললে তুমি বুঝবে বলো আমি তাই করবো।’

শুভ্রের কথায় যেন এক অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল বর্ষার মাঝ দিয়ে। আনমনেই বলে উঠল সে,

‘ মুখেই বলুন না আর একবার।’

শুভ্র শুনলো বর্ষার কথা। গাল থেকে হাত সরিয়ে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরলো বর্ষাকে তারপর বললো,

‘ সত্যি বলছি বোকারানি তোমায় আমি নিজের অজান্তেই ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছি। তোমার বোকাসোকা কাজ কর্মের প্রেমে পড়েছি আমি।’

শুভ্রের কান্ডে সত্যি হতভম্ব বর্ষা। শুভ্র তাঁকে ভালোবাসে কথাটা যেন বিশ্বাস হচ্ছে না বর্ষার। বর্ষা নিজেও জড়িয়ে ধরলো শুভ্রকে। শুভ্রের কথা শুনে তাঁর তো খুশি হওয়ার কথা কিন্তু খুশি হতে পারছে না সে। হসপিটালের দৃশ্য বার বার চোখের সামনে ভাসছে তাঁর। বর্ষা নির্বিকার স্বরেই বলে উঠল শুভ্রকে,

‘ তাহলে সেদিন হসপিটালে যা দেখলাম সেটা কি ছিল শুভ্র?’

বর্ষার কথা শুনে বুক থেকে সরালো শুভ্র বর্ষাকে। তারপর আবারো বর্ষার দুই কাঁধ চেপে ধরে বললো,

‘ সেটাই তো বলতে চাই তোমায়। এবার কি শুনবে তুমি?’

উওরে মাথা নাড়ায় বর্ষা। বর্ষার মাথা নাড়ানো দেখে তপ্ত নিশ্বাস ফেলে বলে উঠল শুভ্র,

‘ হসপিটালে যাকে তুমি দেখেছো ওর নাম হলো নীলিমা। আমরা লন্ডনে একসাথেই পড়াশোনা করেছি। ও আমার মতোই বাংলাদেশ থেকে গিয়েছিল লন্ডনে পড়াশোনা করতে। ওর সাথে আমার প্রথম আলাপ ছিল ইউনিভার্সিটিতেই। ওর সাথে আমার সম্পর্কটা ছিল বন্ধুত্ব। আমি সবসময় ওঁকে আমার বন্ধুর নজরেই দেখেছি। একসাথে ক্লাস এটেন করা, ফিল্ম দেখা, ঘুরতে যাওয়া, স্ট্যাডি করা সবকিছুই একসাথে হতো আমাদের। আমি এগুলোর সবকিছুই ওর সাথে বন্ধু হিসেবে করতাম। কিন্তু ও যে আমায় বন্ধুর নজরে দেখে নি সেটা আমি কখনোই ভাবে নি। সেদিন জন্মদিনের রাতে হুট করেই জেনেছি ও নাকি হাত কেটে সুইসাইড করতে গিয়েছিল। ভাগ্য ভালো থাকায় বেঁচে যায় আর তখনই জানতে পেরেছি আমার বিয়ে হয়ে গেছে বলে ডিপ্রেশনে ভুগে এমনটা করেছে ও। আর ওঁকে সামলাতেই রোজ হসপিটালে যেতে হতো আমায়। আমি বুঝতে পারছিলাম কি করবো না করবো? কিভাবে তোমায় বললে তুমি বুঝবে। তোমায় আমি ঠকাচ্ছি এইরকম নানান ভাবনাই ঘুরতো মাথায়। যার দরুন তোমার সাথে স্বাভাবিক হতে পারতাম না। বলতে তো চাইতাম অনেক কিছু কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়ে উঠলছিল না। আর নীলিমাও সুস্থ হচ্ছিল না। জেদ ধরতো একেক সময় একেকটা। কিন্তু তুমি চিন্তা করো না এখন সব ঠিক আছে। আমি ওকে বুঝিয়ে বলেছি সবটা।’

শুভ্রের কথা শুনে পুরো স্তব্ধ বর্ষা। এমন কিছু যে ঘটতে পারে এটা তাঁর কল্পনার বাহিরে ছিল একদম। বর্ষা নির্বিকার হয়ে বললো,

‘ মেয়েটাকি সবটা মেনে নিয়েছে। আর আপনি যে এখানে এসেছেন তাও জানে ও।’

‘ সবই জানে। অনেক বুঝেছি, হয়তো বুঝেছে হয়তো বুঝেনি কিন্তু ও আমায় কথা দিয়েছে আর কখনোই উল্টো পাল্টা কিছু করবে না।’

‘ যদি না মানে?’

চুপ হয়ে গেল শুভ্র। ছল ছল চোখে তাকালো সে বর্ষার দিকে। তবে কি বর্ষা তাঁকে বুঝলো না।’

_____

রাত দশটার কাঁটায় ছুঁই ছুঁই। বিছানায় চুপচাপ বসে আছে হিয়া। মাথার ভিতর হাজারো প্রশ্ন এসে উঁকি মারছে তাঁকে। ১. বাবা কেন নির্মলের হসপিটালে গেল? ২. আজ বাবা নির্মলের কথা শুনে কোনো কথা কেন বললো না? ৩. বাবা কি বিয়েটা দিতে আধও রাজি হবে?এই রকম হাজারো কথা এসে বারি মারছে হিয়ার মাথায়। এমন সময় হিয়ার দরজায় নক করলো হিয়ার বাবা। বললো,

‘ আসবো?’

আচমকাই বাবার ভয়েস কানে আসতেই নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসলো হিয়া। তক্ষৎনাত বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হতভম্ব গলায় বললো সে,

‘ হুম বাবা আসো, পারমিশন লাগে নাকি।’

উওরে তেমন কিছু না বলেই ভিতরে ঢুকলো হিয়ার বাবা তারপর বললো,

‘ তোর সাথে কিছু কথা ছিল?’

বুকটা যেন কেঁপে উঠল হিয়ার। ভয় হচ্ছে ভীষণ না জানি কি বলে তাঁর বাবা। যদি বিয়েটা করতে বারন করে তবে। হিয়া তাঁর সকল ভাবনাকে সাইডে রেখে বলে উঠল,

‘ হুম বলো,

হিয়ার বাবা খাটে বসলো আগে। তারপর হিয়াকে নিজের সামনের জায়গাটা দেখিয়ে বললো,

‘ এখানে বস,

হিয়াও বসলো বুক কাঁপছে তাঁর। হিয়া বসতেই হিয়ার কপালে হাত রাখলো হিয়ার বাবা। তারপর আবেগী কন্ঠে বলে উঠল,

‘ তুই যে কবে এত বড় হয়ে গেছিস বুঝতেই পারি নি।’

বাবার কথা শুনে হিয়া অবাক হলো খুব। বাবার মুখে এত আবেগী কথা এই প্রথম বারই শুনছে সে। হিয়া ছলছল চোখে বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,

‘ কিছু কি হয়েছে বাবা?’

‘ না কি হবে।’

হিয়া চুপ করে রইলো। বাবার কথার পাল্টা উওর হিসেবে কি বলবে বুঝতে পারছে না সে। হিয়াকে চুপ থাকতে দেখে আবারো বলে উঠল হিয়ার বাবা,

‘ নির্মলকে তুই ভালোবাসিস হিয়া?’

সঙ্গে সঙ্গে রুহু সমেত কেঁপে উঠলো হিয়ার। এখন কি বলবে সে। এত বড় প্রশ্নের উত্তরটা তো জানা হিয়ার কিন্তু বাবার সামনে কি করে বলবে সে। হিয়াকে এবারও চুপ থাকতে দেখে আবারো বলে উঠল হিয়ার বাবা,

‘ কি হলো বলছিস না কেন? বিয়ে করতে চাস তুই নির্মলকে?’

এবার আর চুপ থাকতে পারলো না হিয়া। মাথা নিচু করেই উপর নিচ মাথা নাড়ালো সে। যার উওর ‘হুম চায় সে’।’

মেয়ের মাথা নাড়ানো দেখে শুধু এতটুকুই বললো হিয়ার বাবা,

‘ ঠিক আছে।’

তক্ষৎনাত উঠে দাঁড়ালো হিয়ার বাবা। বেরিয়ে যেতে লাগলেন হিয়ার রুম থেকে। যা দেখে হিয়াও বসা থেকে উঠে দাঁড়ালো তাররপর হতভম্ব গলায় বললো,

‘ বাবা,

হিয়ার কন্ঠ শুনেই দাঁড়িয়ে পড়লো হিয়ার বাবা। পিছনে ঘুরে তাকালেন মেয়ের পানে। বাবাকে নিজের দিকে তাকাতে দেখেই আবারো মাথা নিচু করে বললো হিয়া,

‘ নির্মল খুব ভালো ছেলে বাবা, একটু রাগী কিন্তু ভালো।’

উওরে শুঁকনো হেঁসে বললো হিয়ার বাবা,

‘ জানি আমি।’

এতটুকু বলেই হিয়ার বাবা বেরিয়ে যায় রুম থেকে। আর হিয়া জাস্ট নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো বাবার যাওয়ার পানে। আনমনেই ভাবলো সে,

‘ বাবা কি তবে মেনে নিলো তাঁর আর নির্মলের বিয়েটা?’

____

নিঝুম রাতের, নিঝুম নিরালায় এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে শুভ্র বর্ষা। কারো মুখেই কোনো কথা নেই। শুভ্র এখনো বুঝতে পারলো না বর্ষার দিকটা। বর্ষা কি তাঁর ভালোবাসা গ্রহণ করলো না নাকি বুঝতে চাইলো না। হঠাৎই বর্ষা বলে উঠল,

‘ রাত তো অনেক হয়েছে ঘুমাবেন না?’

শুভ্র শীতল দৃষ্টিতে তাকালো বর্ষার পানে। তারপর ওর হাত ধরে শীতল কন্ঠে বললো,

‘ তুমি কি আমায় বুঝলে না বর্ষা?’

বর্ষা শুনলো শুভ্রের কথা ভাবলো অনেক কিছু। তারপর বললো,

‘ আমার ভীষণ ঘুম পেয়েছে শুভ্র আমরা কাল কথা বলি?’

এতটুকু বলে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে ছাঁদ থেকে নেমে পড়লো বর্ষা। আর শুভ্র স্তব্ধ হয়ে বর্ষার যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে বললো,

‘ তুমি কি আসলেই আমায় বুঝলে না বোকারানি?’

আরেকটা সোনালি সকাল।’
জানালার কার্নিশ বেয়ে আসছে মৃদু রোদ্দুরের ছোঁয়া। সেই রোদ্দুরের ছোঁয়া এসে পড়লো শুভ্রের মুখে। বেঘোরে ঘুমিয়ে আছে সে বিছানা জুড়ে হুট করেই কাল রাতের বর্ষার চলে যাওয়ার দৃশ্য ভেসে আসলো শুভ্রের সামনে। তক্ষৎনাত ঘুমটা ভেঙে গেল তাঁর, মন খারাপ হলো আনমনে। শুভ্র শোয়া থেকে উঠে বসলো শান্তি মিলছে না তাঁর কোথায় ভাবলো বর্ষা তাঁকে মেনে নিবে কিন্তু হলো কই?’ খানিকটা বিরক্ত প্রকাশ করলো শুভ্র। চোখ মুখে হাত দিলো তক্ষৎনাত। হঠাৎই চোখ গেল তাঁর বিছানার পাশ দিয়ে থাকা সাদা রঙের কফির কাপের দিকে। উপরটা লাভ আকৃতির সাথে তাঁর পাশেই ছোট্ট চিরকুটে মুচকি হাসির ইমুজি দিয়ে লেখা,

‘ শুভ সকাল মাই কিউটজামাই?’ স্পেশাল কফি অনলি ফর ইউ!’😊

বর্ষার কান্ডে ভয়ংকর ভাবে খুশি হলো শুভ্র। তক্ষৎনাত খুশি মনে কফির কাপে চুমুক দিলো সে। সাথে সাথে তাঁর সোনালি সকাল করলার মতো তিতা হয়ে গেল কারন কফিতে চিনি হয় নি। সাথে সাথে চেঁচিয়ে ডাকলো সে,

‘ বররররররররর্ষা?’

#চলবে…..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ