#থাকো_আমার_পাশে
লেখনীতে:#তাবাসসুম_তোয়া
পর্ব:১
That was the worst presentation ever!
সেকেন্ড ইয়ারের সেবারের প্রেজেন্টেশনটা ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে প্রেজেন্টেশন!
সাখাওয়াত স্যার ভীষণ ক্ষেপে গেলেন। আর উনার ক্ষেপে যাওয়াটা জায়েজ ছিলো। আমি শুধু আমার সুপারভাইজারের দিকে তাকিয়ে পুরোটা স্পিচ কমপ্লিট করলাম। সিরিয়াসলি আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম! ভয়ে আমার হাত পা তো কাঁপছিলোই! সাথে বুকের ভেতরের ধুক ধুক শব্দ আমি দাড়িয়ে থেকেও শুনতে পাচ্ছিলাম।পরিস্থিতি এমন ছিলো যেকোন মূহুর্তে সেন্সলেস হয়ে যাবো!
তাছাড়া বাকী আর সব বিষয় ঠিক ছিলো। প্রোনান্সিয়েশন,ফ্লুয়েন্সি,কনটেন্ট,ডেলিভারি, পুরোটা স্লাইড/ পিপিটি অল ওকে। শুধু ল্যাক অফ কনফিডেন্স! সাথে অডিয়েন্সের সাথে পোর আই কন্টাক্ট!
বাট পুরোটা অডিয়েন্স আমার সামনে আমি লাজুক লতার মতো শুধু ম্যামের দিকে তাকিয়ে পুরোটা স্পিচ দিলাম। যদিও ম্যাম সবার সামনেই বসে ছিলেন।
Q&A সেকশনে প্রথমেই কথা বললেন সাখাওয়াত স্যার! ভীষণ রেগে গেছেন তিনি!
” আয়রা? টেল মি।
Is your supervisor the only audience here? Aren’t we part of the audience too?”
[এখানে কি তোমার সুপারভাইজারই একমাত্র শ্রোতা? আমরা কি শ্রোতার অংশ নই?]
” ইয়েস স্যার। ” ভয়ে ভয়ে জবাব দিলাম। তার চেহারার ভাব দেখেই ভয় পেলাম। স্যারকে এমনিতেই সবাই ভয় পায়। কেউ চায় না স্যার তার সেমিনার এটেন্ড করুক৷ স্যার এমন একজন মানুষ!
” দেন হোয়াই ডিড ইউ প্রেজেন্ট জাস্ট টু ম্যাম এন্ড এগনোর দ্যা রেস্ট অফ আস! বাপু? ”
[তাহলে আমাদের সবাইকে উপেক্ষা করে শুধু ম্যামকে কেন প্রেজেন্ট করলে, বাপু?]
” স্যরি, স্যার! ”
” এন্ড সেকেন্ডলি ডিড ইউ গিভ আন একাডেমিক প্রেজেন্টেশন ওর ওয়াজ ইট এ কর্পোরেট স্টাইল প্রেজেন্টেশন? ”
[এবং দ্বিতীয়ত,তুমি কি একটা একাডেমিক প্রেজেন্টেশন দিয়েছ, নাকি এটা কর্পোরেট স্টাইলের প্রেজেন্টেশন ছিল?]
” একাডেমিক প্রেজেন্টেশন! ”
” নোহ, ইউ হ্যাভ জাস্ট গিভেন আ কর্পোরেট স্টাইল প্রেজেন্টেশন! ”
[না, তুমি আসলে শুধু একটা কর্পোরেট স্টাইলের প্রেজেন্টেশনই দিয়েছ!]
আবারও বললেন,
” ওহ ওয়ান থিংক। আর ইউ হায়ারড ফর আ কোম্পানি? ”
[ওহ, একটা কথা, তুমি কি কোনো জবে আছো?]
” না স্যার। ”
” অবভিয়াসলি,হু ইজ গোয়িং টু হায়ার ইউ! ”
[অবশ্যই, তোমাকে কে চাকরি দেবে!]
আমার চোখে পানি টলমল হলো। হয়তো অনেক ভুল হয়েছে কিন্তু স্যার তো যাচ্ছেতাই ভাবে অপমান করে যাচ্ছেন এতো গুলো মানুষের সামনে। ম্যাম টু শব্দটি করছেন না।করার কথাও না। স্যারকে সবাই ভয় পাই। তবে আমি অন্য আরেকজনের আরেকটা রুপ দেখলাম।
সৌহার্দ্য স্যার! তিনি ক্ষেপে গেলেন।
” কন্ট্রোল ইয়োর ভয়েজ সাখওয়াত স্যার। ইউ টেক ইট টু পার্সোনাল! ”
” Nope, I’m not. ”
” দেন হোয়াই আর ইউ রিয়াক্টিং লাইক দ্যাট! ”
” আই’ম জাস্ট ট্রায়িং টু এক্সপ্লেইন মাই পয়েন্ট ক্লিয়ারলি। ”
[আমি শুধু আমার বক্তব্যটা পরিষ্কারভাবে বোঝানোর চেষ্টা করছি।]
” আয়রা, ইউ সুড কিপ দ্যাট ইন মাইন্ড!
দিস ইজ দ্যা বেস্ট ইউনিভার্সিটি ইন দিজ ক্রান্ট্রি! এন্ড ইউ আর দ্যা রিপ্রেজেনটেটিভ অফ আওয়ার ইউনিভার্সিটি৷ সো ইউ কান্ট ডেলিভার ইয়োর প্রেজেন্টেশন লাইক দ্যাট! ”
[আয়রা, এটা মাথায় রাখা উচিত! এটা আমাদের দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়, আর তুমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি। তুমি এভাবে তোমার প্রেজেন্টেশন প্রেজেন্ট করতে পারো না!]
সৌহার্দ্য স্যার আরোও কিছু বললেন। সাখাওয়াত স্যারের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলো, কিন্তু সেসব আমার কানে গেল না৷ শুধু গেল স্যারের গরম গরম কথা গুলো।
আসলে প্রধান সমস্যা হলো এক্সটার্নাল স্যার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন। তার সামনে এভাবে অপমান!
তিনি অবশ্য স্যারের কথার প্ররিপেক্ষিতে তেমন কিছু বললেন না। তবে সাখওয়াত স্যারের রাগটা আমি বুঝতে পারলাম! এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো
মতো জায়গার প্রেজেন্টেশন দিচ্ছি তাও শুধু হিজাবী না একদম নেকাবী হয়ে। স্যার তো ক্ষেপবেনই! স্যার এমনিতেই খানিকটা এগনস্টিক টাইপের৷ ইশ্বর খোদায় উনার বিশ্বাস নেই। সেখানে উনারই সামনে কেউ এভাবে পুরো একটা প্রেজেন্টেশন কমপ্লিট করলো, উনার তো আঁতে ঘা লাগবেই!
ইদানীং ভার্সিটিতে হিজাবীর সংখ্যা বাড়ছে! এতে তিনি বেশ ক্ষিপ্ত! আর অন্য কোন সমস্যা ছিলো না। কিন্তু স্যার যতগুলো কথা শোনালেন। আমি ডায়াসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদলাম চুপচুপ করে।
সেই ঘটনার রেশ ধরে আমি তারপরের দুদিন ক্যাম্পাস গেলাম না। আমি যে এমন ভাবে ডলা খেয়েছি সে কথাটা রটে গেল পুরো ডিপার্টমেন্টে।
এর মধ্যে ডিপার্টমেন্টের পেজে নোটিশ দেখলাম,
” এফেক্টিভ প্রেজেন্টেশন স্কিল! ”
এর উপর একটা ওয়ার্কশপ। নিচে রেজিষ্ট্রেশন লিংক যুক্ত করা। ডেডলাইন তিনদিনের মধ্যে। আমি রেজিষ্ট্রেশন করবো না, যাবোও না। ব্যস আমি রেজিষ্ট্রেশন করিনি৷ তৃতীয়দিন ডেডলাইন শেষ রাত বারোটায়, ঐ দিন সন্ধ্যে বেলা একটা নম্বর থেকে কল আসলো। নম্বর সেভ করা ছিলো না। কিন্তু ট্রু কলারে দেখালো সৌহার্দ্য স্যার৷ আমার জান শুকিয়ে পানি পানি হয়ে গেল। কি করবো ভাবতে ভাবতেই কল কেটে গেল৷ এবার শুনলাম বাইরে ল্যান্ড লাইনে রিং হচ্ছে! বুঝতে পারলাম স্যার ছাড়া আর কেউ না। বাসায় কেউ ধরলে তখন? আমি শ্যাষ! দৌড়ে গেছি। কাজের মেয়ে মিলি রিসিভ করার আগেই ছুটে গিয়ে রিসিভারটা কানে তুললাম।
” আসসালামু আলাইকুম। ”
” ষ্টুপিড! হোয়াই আরে’ন্ট ইউ রেজিস্ট্রার্ড? ”
” স্যরি স্যার। ”
” কমপ্লিট ইয়োর রেজিষ্ট্রেশন রাইট নাও। ”
”ওক…ওকে স্যার। ”
স্যার ফোন রাখলেন এতো শব্দ করে তাতে আমার কানের তালা ফাটলো।
পড়িমরি করে ডেস্কটপে ছুটলাম৷ ঐ পোর্টালে ঢুকে আগে রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লিট করলাম৷ তারপরের দিন ওয়ার্কশপ।
ওয়ার্কশপে গিয়ে বসেছি একদম লাস্টের ডেস্কে! কারন একটাই সৌহার্দ্য স্যার!
তিনি দেখে যদি আমারে সামনে ডাকেন কিংবা এতো মানুষের সামনে যদি বলে আসেন ঐদিন আমি এই এই ভুল করেছি তাই আজকের এই সেমিনার! লজ্জায় একশেষ হয়ে পেছনে বসে আছি! যথারীতি সেমিনার রুমের সকল লাইট জ্বলে উঠলো। পুরো সেমিনার রুম ভর্তি স্টুডেন্ট। সৌহার্দ্য স্যার ঢুকেই আগে চোখ বোলালেন। দৃষ্টি থমকালো আমাতে। আমি ডেস্কের নিচের দিকে মাথা দিয়েও লাভ হলো না!
” হেই ইউ৷ সিট হেয়ার ইন ফ্রন্ট৷ ”
মূহুর্তেই ডেকে নিলেন একদম সামনের ডেস্কে৷ মাথা নষ্ট এই স্যারের! কাঁপা কাঁপা পায়ে সামনের চেয়ারে গিয়ে বসলাম।
সব স্যারেরা আসলেন। যারা আজকের হোস্ট ছিলেন, প্রেজেন্টার ছিলেন তারা সকলেই। সামনে বিশাল স্ক্রীনে তখন পিপিটিটা অন হলো।
একে একে স্যার তাদের প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত লেকচার শেষ করলেন।
আমরা নোট করলাম। ফিনিসিং টাচে আসলেন সৌহার্দ্য স্যার। স্যার তার লেকচার শেষ করলেন খুব সুন্দর ভাবে। আমার ভুল গুলো একদম হাতে ধরিয়ে শিখিয়ে দিলেন যেন। কনফিডেন্সের সাথে কিভাবে একটা প্রেজেন্টেশন কমপ্লিট করতে হয় সেটা শেখালেন। শেষে হুট করে আমাকে ডেকে বসলেন,
” ইউ আয়না না আয়রা কাম হেয়ার।
ইউ আর নাউ প্রেজেন্টিং এবাউট দ্যা ট্রপিক অফ স্পেকট্রোস্কপি। ”
জান শেষ। আমি তাকিয়ে আছি স্তব্ধ হয়ে! বলেন কি! কিভাবে আমি?
স্যার উনার কথা শেষ করেই স্ক্রিনের দিকে ঘুরে গেছেন। তারপর খুঁজে খুঁজে সেই পিপিটা অন করলেন যেটা আমি নিজেই তৈরি করে স্যারকে জমা দিয়েছিলাম।আমাদের সবাইকেই এমন পিপিটি বানানো লাগে। এবার জানে পানি আসলো।কোনমতে উঠে গিয়ে সামনে দাঁড়ালাম। স্যার বসলেন আমার সামনের চেয়ারে।
প্রেজেন্টেশনটা আমি নিজেই তৈরি করেছি। শুধু একবার পুরোটা স্লাইড দেখে নিয়ে বলা শুরু করলাম।
সো, প্রেজেন্ট করতে আমার সমস্যা হলো না৷ স্যারের কাছে এবারের মূল বিষয় ছিলো অডিয়েন্সের দিকে আই কন্টাক্ট! কোনমতে হয়তো সেদিন উতরে গেলাম।
ডেস্কে ফিরে যাওয়ার পর স্যার সেদিন অনেক কথা বললেন।
” আমাদের নিজেদের শত্রু হচ্ছে আমাদের লজ্জা/ জড়তা৷ যেদিন আমরা লজ্জা, জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারবো সেদিন থেকে আমরা একধাপ এগিয়ে থাকবো! ”
.
তারপর একদিন ছিলো বৈশাখী উপলক্ষে কালচারাল ফেস্ট। আমি ওসব অনুষ্ঠানে কখনও যাইনা৷
স্যারের ফোন পেলাম আগের দিন।
” ইউ আর ষ্টুপিড! কালকে অনুষ্ঠানে অবশ্যই যেন তোমাকে দেখি। ”
কি আর করা। ব্যস গেলাম। এটেন্ড করলাম সে অনুষ্ঠানে। স্যার ছিলেন উপস্থাপনায়।কবিতা গান অনেক কিছু হলো। হঠাৎ করেই স্যার ঘোষণা করলেন,
” এবার আমাদের মাঝে কবিতা নিয়ে আসছে
কাজী আয়রা আহমেদ! ”
আমি শেষ। জান শেষ! একদম শেষ। আমি জীবনে কোনদিন স্টেজে উঠিনি! জীবনেও না। সবসময় সবকিছুতে ফার্স্ট হয়েছি এটুকুই আমার জীবনের অর্জন। এর বাইরে আমার আর কোন অর্জন ছিলো না। শুধু পড়ালেখায় করেছি আর কিচ্ছু করিনি কোনদিনও। এমনকি কোনদিন কোন পাবলিক অনুষ্ঠানেও পার্টিসিপেট করিনি৷ সে ঘোষনায় আমি এতটুকু হয় গেলাম। স্যার কেমন করে জানেন আমি আবৃত্তি জানি? ভেবে পেলাম না। নাকি স্যার ভুল নাম বললো!
আমি নিজেকে লুকাতে চাইলাম বান্ধবীর পেছনে। তিনি বুঝতে পারলেন। তিনি স্টাফকে ডেকে বললেন।
” মাসুদ, এই মাইক তার অব্দি পৌঁছে দাও। ”
আমি কবিতা আবৃত্তি করতে চাচ্ছিলাম না৷ কারন কন্ঠেরও একটা পর্দা রয়েছে। আমি নিজে প্র্যাকটিসিং মুসলিমাহ টাইপের! মাসুদ ভাইকে এটা বলে পাঠালাম! আবৃত্তি আমার দ্বারা সম্ভব না। স্যার এটা শোনার পর আমাকে অবাক করে সবার সামনে বললেন,
” আমাদের আয়না কন্ঠের পর্দা মেইনটেইন করে চলে, আমরা সবাই কান বন্ধ করে তার আবৃত্তি শুনবো। ওক্কে?
সো, আয়রা এখন কবিতা আবৃত্তি শোনাচ্ছে। ”
আমার তখন কপালে হাত! কি বললাম আর স্যার কি বলেন!
কি আর করা,চেয়ারের বসেই প্রলয়োল্লাস কবিতাটি
যতটুকু মনে ছিলো আবৃত্তি করে শুনালাম। পিনপতন নিরবতা বিরাজ করলো সে মূহুর্তটুকু। আমার কন্ঠে ধ্বনিতে কম্পিত হলো পুরো হলরুম, অনুষ্ঠানস্থল! শেষ করে দেখি সবাই চুপটি করে বসে। স্যারই প্রথম বাহবা দিলেন। তারপর সবাই।
সবাই ভীষণ খুশী হলো।এই হিডেন ট্যালেন্ট আছে এটা জেনে সবাই ভীষণ অবাক হলো! এই যোগ্যতা নিয়ে কেন সবসময় চুপ থাকি তাই নিয়ে প্রশ্ন তুললো! কি বলতাম আমি, শুধু মেজাজটা তখন স্যারকে পাইলে!!
স্যার উপস্থাপনার মাঝে আবারও বললেন আমাদের প্রধান শত্রু জড়তা। যাদের সামনের সারিতে থাকার কথা তারা পেছনে পড়ে যায় শুধু মাত্র জড়তার কারনে!
.
এরপর স্যার আমাকে বেশ জ্বালালেন। বেশ কিছু অনুষ্ঠানে আমাকে এটেন্ড করতে হলো। এমনকি বাইরের একটা International University Outreach Seminar ও আমাকে দিয়ে আবৃত্তি করালেন। সেখানে ছিলো অস্ট্রেলিয়ান, আমেরিকান,কানাডিয়ান এম্বাসির বেশ কিছু ব্যক্তিবর্গ ছিলো, সাথে বাইরের বেশকিছু ভার্সিটির রিপ্রেজেন্টাররা! সবাই বাহবা দিলেন। কিন্তু সবচেয়ে উইয়ার্ড ব্যাপারটা হচ্ছে সৌহার্দ্য স্যারের ঐ ক্ষুদ্ধ দৃষ্টি!
প্রত্যেকটা কাজ করিয়ে নেবেন শেষে একদম খেয়ে ফেলা দৃষ্টি দেবেন৷ যেন ভীষণ রেগে কেন এতোদিন বলিনি! অনেকটা এমন টাইপের!
ততদিনে আমি সে দৃষ্টির মানে জেনে গেছি৷ অথবা ধরার চেষ্টায় আছি!
আর তাইতো আমার গলা শুকিয়ে আসে। আমি তার থেকে লুকাতে চাই। আমি কাউকে ওমন দৃষ্টি দেওয়ার অনুমতি দেইনি। কাউকে না। আমি কাউকে দেখিনা তাই দেখতেও দেবোনা। কিন্তু সৌহার্দ্য স্যার কেন যেন কিছুতেই মানলেন না। হুটহাট ফোন দিয়ে ঐ রুমে যাও সেমিনারে এটেন্ড করো। ঐ রুমে যাও ঐ প্রোগামে এটেন্ড করো। এই ফেস্টে যাও। মাথা একদম নষ্ট!
শহীদ মিনারে প্রতীকী মিছিল সে প্লাকাড হাতে আমাকে দাড় করিয়ে দিলেন একদম সামনে! লজ্জায় একশেষ হচ্ছি৷ সে পাহাড়ের মতো অবিচল!
” ইউ হ্যাভ টু ডু ইট! মাস্ট ডু ইট ”
ততদিনে স্যারের প্রেসারে অনেক খানি পটু হয়েছি।আগের লজ্জা কেটেছে খানিকটা। তবুও আমি বরাবরই মুখচোরা! মুখ লুকাতেই আমার যত শান্তি!
স্যার একদিন ক্লাস শেষে আমাদের সাথে খুব বন্ধুত্ত্বপূর্ণ কথা বললেন।
” জগতে কখনও কোন জায়গা খালি থাকে না, তুমি যে জায়গা ছেড়ে দিবে সে জায়গা কেউ না কেউ দখল করে নিবেই। সেজন্য নিজের জায়গাটা কখনও ছাড়বে না। সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর অন্য কোন রাস্তা অবশিষ্ট নেই। আমাদের মতো থার্ড ওয়াল্ড কান্ট্রির একটা দেশে সার্ভাইব করতে শুধু চেষ্টা করে যেতে হয় সারা জীবন অব্দি। তাহলে আমরা অন্যদের সমকক্ষ হবো কিভাবে?সেখানে যদি লজ্জায় নিজের অবস্থান থেকেই নেমে যাই? তাহলে এগোব কি করে?
আর কখনও কখনও বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর অনেক কিছুকে সেক্রিফাইস করতে হয়। জীবনে চলছো, আস্তে আস্তে জানবে! ”
” আর তুমি যে এই পর্যন্ত এসেছো এটা কে এনেছেন তোমাকে? কেন এনেছেন? এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজেছো কখনও? ”
থেমে থেমে বলে চললেন,
” অবশ্যই আল্লাহ!
তোমাকে আল্লাহ এখানে দাড় করাইছেন,তার অর্থ হলো তিনি তোমাকে যোগ্য মনে করেছেন তাই এখানে এনেছেন। এখন কেন এনেছেন?এখন করনীয় কি সেটা খুঁজে বের করতে হবে তোমাকেই!
শুধুমাত্র লাজুকলতা হয়ে থাকার জন্য আল্লাহ তোমাকে এখানে পাঠাননি। কিংবা বান্ধবীর পেছনে মুখ লুকানোর জন্য, আল্লাহ তোমাকে এই মেধা দেননি? নিজেকে খুঁজে বের করো। নিজেকে আরোও বিকশিত করো। নিজে অনুপ্রানিত হও। এবং অন্যের জন্য অনুপ্রেরণা হও। ”
.
কিন্তু সমস্যা সেটা না, সমস্যা হচ্ছে! এতো সবকিছুর পর আমার সাব-কনশাস মাইন্ড আমাকে শুধু একটাই সিগনাল দিতো,ঐ দৃষ্টি দেখলেই মস্তিষ্ক বলতো,
” গাধি! হি ইজ ম্যাডলি অবসেসড উইথ ইউ!
হি ইজ ম্যাডলি ইন লাভ উইথ ইউ। ”
বাট মাই কোয়েশ্চেন ইজ,
” হোয়েন এন্ড হোয়াই ”
শুধু ভাবনা না, যখন বদ্ধমূল বিশ্বাসে পরিনত হয়ে গেল তখন ঐ দৃষ্টি দেখেই জমে যেতাম। কি করবো বুঝতে পারতাম না। ওহ একটা কথা স্যার তখনও পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলো। মনে মনে বলতাম,
” আল্লাহ এই লোকটা বিয়ে করে না কেন?
তাড়াতাড়ি বিয়া করাইয়া দাও। আমার সামনে থেকে ভাগাও! ”
আর আমার দিকে এমনে তাকানো কবে বন্ধ করবে?
আল্লাহ! চোখ অন্ধ কইরা দাও। স্যরি স্যরি এতো ভালো মানুষের চোখ অন্ধ করা লাগতো না। শুধু যেন আর না তাকায়। এটা বন্ধ করাই দাও।
কিন্তু তা কেন বন্ধ হয়না।
সে তাকায়, আমি লুকিয়ে যাই, সে তাকায়, আমি অন্যদিকে ঘুরে যাই৷ সে খুব ইনজয় করে। স্যার মানুষ কিছু বলতেও পারি না৷ সইতেও পারিনা৷ কোন বন্ধু হলে এতোদিনে……!!
দিনশেষে অবস্থা এমন আমি তার থেকে পালিয়ে বেড়াই আর সে সবসময় আমাকে খুঁজে এনে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। কি এক মহা মুশকিল!
চলবে……
