Friday, June 5, 2026







তোমায় পাবে বলে পর্ব-০২

#তোমায়_পাবে_বলে
#পর্ব_২
#নিশাত_জাহান_নিশি

“আই নো। হোয়াই ডিড ইউ কাম টু মাই রুম! আই টোল্ড ইউ না? কয়েকদিনের মধ্যেই আমি “হিমেশকে” খুঁজে বের করে আনব? আমার ফ্রেন্ডকে খুঁজে আমি তোমার মুখোমুখি দাঁড় করাব। দাঁড়িয়ে থেকে তোমাদের দুজনের বিয়েটা দিবো! সো ইউ জাস্ট ডোন্ট ওরি এন্ড গেট আউট অফ মাই রুম রাইট নাও।”

প্রচন্ড ভয়ে জর্জরিত হয়ে আমি অর্নগল কন্ঠে বলতে আরম্ভ করলাম,,

“আপনার বুঝতে ভুল হচ্ছে পরশ ভাই। আমি শুধু নিজের স্বার্থেই আপনার রুমে আসি নি। দেখতে এসেছিলাম কি হয়েছে আপনার। কেনো আপনি রেগে আছেন। কেনো এভাবে আসবাবপএ ভাঙ্গচূড় করছেন।”

পরশ ভাই আমার দিকে রুখে এসে বললেন,,

“তুমি কি ভেবেছ? আমি খুব বোকা? কিছু বুঝি না আমি? তুমি নিজের স্বার্থেই আমার রুমে এসেছ। শুধুমাএ নিজের স্বার্থেই!”

চোখের জল আটকে রাখতে পারলাম না আমি। গড়িয়ে পড়া চোখের জল নিয়েই আমি স্থির দৃষ্টিতে পরশ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,

“আপনাদের বাড়িতে থাকছি, খাচ্ছি, পড়ছি বলে আপনার একটু ও বিবেকে বাঁধছে না না? আমাকে এতোটা ইনসাল্ট করতে? আমাকে স্বার্থপর বলতে?”

“না আমার বিবেকে বাঁধছে না তোমাকে ইনসাল্ট করতে৷ কারনটা তুমি নিজেই! তুমিই আমাকে বাধ্য করছ তোমাকে ইনসাল্ট করতে! কেনো আগ বাড়িয়ে এলে আমার রুমে? কেনো আমার মুখোমুখি হলে? অযথা কেনো আমার রাগের কারন জানতে চাইলে? বুঝতে পারো না না? আমি তোমাকে আপাতত সহ্য করতে পারছি না?”

পালাক্রমে আমি পরশ ভাইয়ার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে বললাম,,

“তবে কি এবার থেকে আপনার মুখোমুখি হওয়া যাবে না? আপনার রুম প্রবেশ করা যাবে না? প্রতিবারই কি আমাকে এভাবে ইনসাল্টেড হতে হবে?”

পরশ ভাই আঙ্গুল উঁচিয়ে তিরিক্ষি পূর্ণ মেজাজে বললেন,,

“হুম হতে হবে। প্রতিবারই তোমাকে এভাবে ইনসাল্টেড হতে হবে। আমার মুখোমুখি হলেই তোমাকে তোঁপের মুখে পড়তে হবে!”

এক মুহূর্ত ও দাঁড়ালাম না আমি। ফুঁফিয়ে কেঁদে পরশ ভাইয়ার সম্মুখ থেকে প্রস্থান নিতেই পরশ ভাই পেছন থেকে উচ্চ শব্দে চেঁচিয়ে বললেন,,

“হেই ইউ, স্টপ। পারমিশান ছাড়া আমার রুম থেকে বের হওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছ তুমি?”

থমকালাম আমি। মানুষটাকে বুঝতে ভীষন দ্বিদা দ্বন্ধে ভুগতে হচ্ছে। এই মাএ তো উনি নিজেই বললেন আমাকে রুম থেকে বের হতে। সহ্য হচ্ছে না আমাকে একদম। এখন যখন আমি নিজ থেকেই উনার সম্মুখ থেকে প্রস্থান নিচ্ছিলাম তখনই উনার থেকে পারমিশান নেওয়ার প্রশ্নটা এলো? এ কোন অকূলপাথারে ফেঁসে গেলাম আমি? দারুন ভোগান্তিতে ফেঁসে গেলাম তো!

চোখের কোণে শুকিয়ে আসা জল নিয়ে আমি পিছু ফিরে কান্নাজড়িত কন্ঠে বললাম,,

“আমি আর ইনসাল্টেড হতে চাই না পরশ ভাই। রুমে ইন করতে ও যেমন আপনার পারমিশান নেই নি, তেমনি আউট হতে ও আপনার পারমিশান নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না।”

রাগে গজগজ করে পরশ ভাই ঠিক আমার মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন। রক্তিম বর্ণ ধারন করা মুখের আদলটা একটু একটু করে তার নিজস্বতা ফিরে পাচ্ছে। ঘামে লেপ্টে থাকা কপালের অগ্রভাগের চুল গুলো পেছনের দিকে ঠেলে পরশ ভাই আমার চোখে শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন,,

“হিমেশকে তুমি সত্যিই ভালোবাসতে?”

আমি আনমনা কন্ঠে বললাম,,

“পরিবার থেকে সম্বন্ধ ঠিক করা হয়েছিলো। বলতে পারেন এরেন্জ্ঞ ম্যারেজ। ভালোবাসা জন্ম নেয় নি কখনো উনার প্রতি। কারন, উনাকে কখনো কাছ থেকে দেখি নি আমি। বিয়ের দিনই প্রথম বারের মতো উনাকে দেখেছিলাম। তাও আবার হিংস্র রূপে। বিয়ে ভেঙ্গে বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে যেতে!”

“একটা মানুষকে ভালো না বেসেই তাকে খুঁজতে আমার সন্ধানে আমার বাড়ি অবধি পৌঁছে গেলে? হিমেশ আমার নামে মাএ বন্ধু ছিলো বলে তাকে খুঁজে আনার এতো বড় গুরু দায়িত্বটা আমার কাঁধে শোঁপে দিলে?”

“ভালোবাসার টানে আমি ঐ মানুষটাকে খুঁজতে আসি নি। শুধু কারন জানতে এসেছি! কেনো মানুষটা ঐ দিন বিয়েটা ভেঙ্গে বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়েছিলেন? গোটা সমাজের কাছে কেনো আমার পরিবারকে ছোট করেছিলেন, হেনস্তা করেছিলেন? কি ক্ষতি করেছিলাম আমি উনার? বিয়ে ভাঙ্গার পর একটা মেয়ের অবস্থান সমাজে ঠিক কতোটা সূচনীয় আর বর্বর হয় লোকটা কখনো ভেবে দেখেছিলেন?”

“হিমেশের পরিবার ঐ দিন কিছু বলে নি? হিমেশকে আটকানোর চেষ্টা করে নি?”

“হিমেশ শুধু একটা কথাই বলেছিলেন, বিয়েটা উনি করতে পারবেন না! পরিবারের কোনো বারণ শুনেন নি উনি। সব বাঁধা উপেক্ষা করে উনি বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়েছিলেন। এরপর থেকে উনার আর কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যায় নি। উনার পরিবার ও জানেন না, উনি আসলে কোথায় আছেন!”

“আর তুমি ও বিশ্বাস করে নিলে? হিমেশের পরিবার হিমেশের ব্যাপারে কিছুই জানেন না? সন্তানকে এক নজর দেখতে না পেলে মা-বাবা যে ঠিক কতোটা অস্থির উতলা হয়ে উঠে তা আমার মা-বাবাকে দেখে শেখা। সেই জায়গায় তো হিমেশ দীর্ঘ এক মাস পরিবার থেকে দূরে আছে। তুমি কি ভাবছ? হিমেশের পরিবার হিমেশের খোঁজ, খবর, ঠিকানা কিছুই জানেন না?”

“কিছু জানি না আমি। কিছু না। মাথায় কিছু কাজ করছে না আমার। আপাতত আমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্তের উপর বিরক্ত। তবে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। হিমেশকে আমি খুঁজে বের করে অন্তত একবার হলে ও তার সম্মুখীন হবো। কড়ায় গন্ডায় হিসেব নিয়ে এরপর নিজের মনোস্থির করব। অতীতটা ভুলে বর্তমান নিয়ে ভাবব।”

নতজানু হয়ে চোখের জল ছাড়ছিলাম আমি। পরশ ভাই দাঁতে দাঁত চেঁপে বললেন,,

“এই মেয়ে কান্না থামাও। কান্না থামাও বলছি।”

তবু ও কাঁদছিলাম আমি। কান্না যেনো কিছুতেই থামছে না আমার। উল্টে কান্নার বেগ ক্রমান্বয়ে বাড়ছিলো। পরশ ভাই ক্রোধ নিবারন না করতে পেরে পাশে থাকা টুলটায় জোরে এক লাথ মেরে বললেন,,

“কান্না থামাতে বলেছি তোমাকে। কথা কানে যাচ্ছে না তোমার?”

হেচকি তুলে কেঁদে আমি কম্পিত চোখে পরশ ভাইয়ার দিকে তাকাতেই পরশ ভাই রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,,

“হিমেশকে আমি খুব দ্রুত খোঁজে বের করে আনব বলেছি তো? তবু ও কেনো ফ্যাস ফ্যাস করে কাঁদছ? মেয়েদের ফ্যাস ফ্যাসানী কান্না আমার একদম সহ্য হয় না।”

কান্না থামিয়ে আমি অনবরত হেচকি তুলছিলাম। পরশ ভাই আমার সম্মুখ থেকে প্রস্থান নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়ালেন। আয়নায় নিজের রাগান্বিত প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে আমায় উদ্দেশ্য করে বললেন,,

“টেবিলের উপর থেকে পানির বোতলটা দাও।”

কাঁপা কাঁপা হাতে আমি টেবিলের উপর থেকে বোতলটা নিয়ে পরশ ভাইয়ার হাতে তুলে দিলাম। বোতলের ছিপিটা খুলে পরশ ভাই গড়গড় করে হাফ বটেল ঠান্ডা পানি মাথায় ঢেলে দিলেন। ভেজাক্ত মুখ মন্ডলে পরশ ভাই অর্ধ ভেজা চুল গুলো আলতো হাতে সেট করে পুনরায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকালেন। মাথা ঠান্ডা করার জন্যই হয়তো এই টেকনিকটা কাজে লাগালেন উনি! আমি নির্বাক দৃষ্টিতে ফ্লোরে তাকিয়ে আছি। ফ্লোরটা পানিতে ভিজে চুপচুপ। এতো বড় ওয়াশরুম থাকতে মানুষটা কেনো রুমের মধ্যেই মাথায় পানি ঢালতে গেলেন তাই আমার বোধগম্য হচ্ছে না! ফ্লোর থেকে দৃষ্টি উঠিয়ে আমি পরশ ভাইয়ার দিকে দৃষ্টি বুলাতেই বুঝতে পারলাম উনি স্মোকিং করার ধান্দায় আছেন। খুব ব্যতিব্যস্ত ভঙ্গিতে উনি দু ঠোঁটের মাঝখানে সিগারেট গুজে প্যান্টের পকেট থেকে লাইটার বের করে সিগারেটটা জ্বালাতেই আমি নাক ছিটকে আয়নায় পরশ ভাইয়ের রাগ মিশ্রিত প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বললাম,,

“রুমে স্মোকিং করবেন আপনি?”

সিগারেটে ফুঁক দিয়ে পরশ ভাই ঘাড়ের রগ গুলো টান টান করে অস্পষ্ট কন্ঠে আমায় বললেন,,

“আমার বাড়ি, আমার রুম, আমার মর্জি, আমার লাইটার, আমার সিগারেট। যা ইচ্ছা আমি তাই করব। তুমি কে? আমাকে প্রশ্ন করার?”

মাথা নিচু করে আমি অপরাধী কন্ঠে বললাম,,

“স্যরি।”

পরশ ভাই প্রসঙ্গ পাল্টে বললেন,,

“শাড়িটা পাল্টে নাও!”

আমি বিস্ময়বোধক কন্ঠে বললাম,,

“শাড়ি পাল্টাবো মানে?”

“আই মিন সালোয়ার স্যুট পড়ো!”

“কিন্তু কেনো?”

“পারো? শাড়ি সামলাতে? বার কিন্তু আমি তোমাকে সেইফ করতে আসতে পারব না!”

হেয় হেসে আমি জিগ্যাসু কন্ঠে বললাম,,

“আগের বার ও কি আমায় সেইফ করেছিলেন?”

“করতে চেয়েছিলাম। তুমিই আমাকে ইনসাল্ট করেছিলে!”

“আমি তো ইচ্ছে করে ইনসাল্ট করতে চাই নি!”

“এতোকিছু জাজ করার সময় নেই আমার।”

“একটু সময় বের করে হিমেশকে খুঁজে দিতে পারবেন? হিমেশ তো আপনার বন্ধু। আপনি কি সত্যিই জানেন না? হিমেশ কোথায় আছে?”

মুহূর্তের মধ্যেই পরশ ভাই তীব্র রেগে আমার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন,,

“হিমেশ শুধুমাএ আমার অফিস কলিগ ছিলো। গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিলো না আমাদের, যে হিমেশের সমস্ত খবরা খবর আমি জানব, রাখব। তবু ও আমি ট্রাই করছি। এক মাস সময় চেয়েছি মাএ। সেই সময়টুকু ও সহ্য হচ্ছে না তোমার?”

মাথা নিচু করে আমি ক্ষীণ কন্ঠে বললাম,,

“আমি আসছি। এনগেজমেন্টের প্রোগ্রাম শুরু হয়ে গেছে হয়তো।”

পরক্ষনে মাথা তুলে আমি পরশ ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে বললাম,,

“আপনি যাবেন না?”

সিগারেটে লাস্ট ফুঁক দিয়ে পরশ ভাই সিগারেটটা পা দিয়ে মারিয়ে মুখ থেকে ধোঁয়া নির্গত করে বললেন,,

“নো। প্লিজ ইউ হেভ টু গো নাও।”

আমি চরম আশ্চর্যিত কন্ঠে বললাম,,

“আপনার বোনের এনগেজমেন্ট আর আপনি যাবেন না?”

রগচটা কন্ঠে আহনাফ আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন,,

“নো। লিভ মি এলোন প্লিজ।”

হম্বিতম্বি হয়ে আমি রুম থেকে প্রস্থান নিলাম। রুম থেকে বের হতেই পায়েলের মুখোমুখি হলাম। আমাকে দেখা মাএই পায়েল উত্তেজিত কন্ঠে বলল,,

“কোথায় ছিলে তুমি আপু? জানো? কতক্ষন যাবত তোমাকে খুঁজছিলাম?”

“কেনো পায়েল? কি হয়েছে?”

“আরে পিয়ালীর আপুর এনগেজমেন্ট তো শুরু হয়ে যাচ্ছে। বর পক্ষরা ও চলে এসেছে!”

“পরশ ভাই যাবেন না?”

পায়েল তব্ধ শ্বাস নির্গত করে বলল,,

“না। ভাইয়া এসব জমজমক অনুষ্ঠানে যেতে পছন্দ করেন না।”

“তাই বলে নিজের বোনের এনগেজমেন্টে যাবেন না?”

“না। ভাইয়া একটু এমনই। গম্ভীর, মুডি, রসকস হীন!”

প্রসঙ্গ পাল্টে আমি পায়েলকে বললাম,,

“শাড়িটা পাল্টাতে হবে আমার!”

“কিন্তু কেনো আপু? শাড়িটা তোমার পছন্দ হয় নি?”

“আসলে আমি শাড়ি সামলাতে পারি না তো, তাই!”

“কোনো ব্যাপার না। আমি আছি তো! ঠিক তোমাকে এবং তোমার শাড়িকে সামলে নিবো!”

পায়েল জোর করে আমায় নিয়ে নিচে নেমে এলো। ড্রইং রুমে গেস্টদের লাইন পড়ে গেছে। এদের মধ্যে পুরুষ গেস্ট ই বেশি। সোফায় পিয়ালী আপু এবং উনার উডবি হাজবেন্ড বসে আছেন। দুজনের পাশেই দুই পরিবারের সদস্যরা বসে আছেন। পায়েল আমায় ছেড়ে সোফায় আন্টির পাশ ঘেঁষে বসলেন। ইতোমধ্যেই কেউ একজন আমার পাশে দাঁড়াতেই আমি চোখ ঘুড়িয়ে সেই ব্যক্তিটির দিকে তাকালাম। ঠোঁটে মুচকি হাসি ঝুলিয়ে ব্ল্যাক শার্ট পরিহিত একজন মধ্য বয়সী যুবক আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছেন। ভ্রু যুগল ঈষৎ কুঁচকে আমি জিগ্যাসু দৃষ্টিতে যুবকটির দিকে তাকিয়ে বললাম,,

“হোয়াট? গাঁ ঘেঁষে এভাবে দাঁড়ালেন কেনো?”

“কোথায় গাঁ ঘেঁষে দাঁড়ালাম? সামান্য পাশ ঘেঁষেই তো দাঁড়ালাম!”

“সেই তো! দাঁড়ালেন কেনো?”

যুবকটি খানিক লজ্জাবোধ নিয়ে মৃদ্যু হেসে বলল,,

“ইউ আর লুকিং সো প্রিটি!”

“তো?”

আগ পাছ না ভেবেই যুবকটি সরাসরি প্রস্তাব রেখে বলল,,

“আমরা বন্ধু হতে পারি?”

কপালে কয়েক ভাঁজ বিরক্তির ছাপ ফুটিয়ে আমি বললাম,,

“কিছু কিছু ছেলে মানুষ আছে, খুব চিপকু টাইপের। আপনি কি তাদের কাতারে পড়ছেন?”

ইতোমধ্যেই মনে হলো পরশ ভাইয়ার গলার স্বর আমার কর্নকুহরে তীক্ষ্ণ ভাবে প্রতিধ্বনিত হলো। পিছু ফিরে তাকাতেই দেখলাম পরশ ভাই উন্মুক্ত শরীরে ঠিক আমার পেছনটায় দাঁড়িয়ে দাঁতে দাঁত চেঁপে আমায় উদ্দেশ্য করে বলছেন,,

“টয়া রুমে এসো। কথা আছে!”

আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দুরী মেয়েরা ড্যাব ড্যাব করে পরশ ভাইয়ার উন্মুক্ত ফর্সা শরীরে তাকিয়ে আছে। আমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা মুদ্যু হেসে পরশ ভাইয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললেন,,

“হেই পরশ ভাই। হোয়াট’স আপ?”

পরশ ভাই জোর পূর্বক হাসি টেনে বললেন,,

“ফাইন। তবে তোমার বিহেভিয়ার দেখে বোধ হয় ভালো থাকাটা হলো না আমার!”

“মানে? ঠিক বুঝলাম না ভাইয়া?”

পরশ ভাই দাঁতে দাঁত চেঁপে বললেন,,

“হ্যাংলাদের মতো মেয়েদের পাশে দাঁড়িয়ে না থেকে তোমার ভাইয়ার পাশে গিয়ে বসো। ডু ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড হোয়াট আই মিন?”

আমি এবং যুবকটি অকস্মাৎ ভড়কে উঠে তাজ্জব চোখে পরশ ভাইয়ার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম। মানুষটা কি চুপিচুপি আঁড়ি পাতছিলেন? গোপনে আমাদের কথা শুনছিলেন? এর মধ্যেই হঠাৎ সোফা থেকে আন্টি পরশ ভাইকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে বলে উঠলেন,,

“পরশ এদিকে আয়৷ বোনের এনগেজমেন্টে থাকবি না তুই?”

পরশ ভাই সংকুচিত কন্ঠে বললেন,,

“স্যরি মা। টয়াকে নিয়ে আমার একটু বের হতে হবে!”

#চলবে…?

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ