Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুলতুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব-১১+১২

তুমি আমার স্নিগ্ধ ফুল পর্ব-১১+১২

#তুমি_আমার_স্নিগ্ধ_ফুল
#নুসাইবা_ইসলাম_হুর
#পর্বঃ১১

বদ্ধ রুমে পাশাপাশি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আজ একদিন ধরে পড়ে আছে পারফি আর ইয়ানা। কোথায় আছে, কারা ধরে এনেছে কিছুই জানা নেই। শুধু বুঝলো যে গভীর কোনো জঙ্গলের ভিতরে আছে। কারণ রাতে বেলা স্পষ্ট ভেসে আসছে বিভিন্ন পশুপাখির ডাক যা শুনে ভয়ে কেঁপে উঠছে ইয়ানা। শরীরে বিন্দু পরিমাণ শক্তি অবশিষ্ট নেই।
পুরো একটা দিন রাত কেটে গেলো এভাবে বাঁধা অবস্থায় এখন পর্যন্ত এক ফোটা পানিও খেতে পারে নি। জল তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ভয়, খুদায় আর পানির তেষ্টা সব মিলিনে চোখ খুলে রাখা দায়। কান্না করতে করতে চোখ গুলো ফুলে উঠেছে। নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে এবার। মুখটাও বাঁধা যার জন্য শ্বাস নিতে আরো বেশি কষ্ট হচ্ছে। পাশের চেয়ারেই অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে পারফি।

কাল রাতে যখন সবার থেকে পালিয়ে পারফি ফুল স্পীডে বাইক চালাচ্ছিলো তখন হঠাৎ সামনে থেকে আরো কিছু গাড়ি এসে ওদের আঁটকে দিলো। পারফি বার বার করে বলছিলো যা বোঝাপড়া ওর সাথে ইয়ানাকে ছেড়ে দিতে কিন্তু ওরা পারফির কোনো কথা শুনলো না। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে পারফি নিজের সবটা দিয়ে লড়াই করে ইয়ানাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো। জানে এতো মানুষের সাথে ওর একার পক্ষে লড়া সম্ভব না তবুও হাল ছাড়ালো না। মা/রা/মা/রি/র এক পর্যায়ে একজন পিছ থেকে পারফির মাথায় আঘাত করলো। চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে আসতে লাগলো। ঝাপসা চোখে অস্পষ্ট ভাবে ইয়ানার ভয়ে কান্না ভেজা মুখটা ভেসে উঠলো। মন থেকে আল্লাহর কাছে বার বার বলতে লাগলো স্নিগ্ধ ফুলের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এর পর কি হয়েছে কিছুই মনে নেই।

আচমকা পারফির জ্ঞান ফিরে আসলো। জ্ঞান ফিরতে নিজেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থা পেলো। আস্তে আস্তে সব মনে পড়তে বুকের ভিতর ধক করে উঠলো। স্নিগ্ধ ফুলের কোনো ক্ষতি করে নিতো ওরা ভাবতে কলিজা কেঁপে উঠলো। পরক্ষণে ওর পাশে চোখ পড়তে জীবন ফিরে পেলো যেনো। পাশের চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় ইয়ানা কান্না করে যাচ্ছে। দূর্বল তার চাওনি, ফর্সা মুখ লাল হয়ে আছে,চোখ দুটো ফুলে গেছে। বেঁধে রাখা হাত লাল হয়ে আছে আরেকটু হলেই যেনো রক্ত বেরিয়ে যাবে।
ইয়ানার এমন করুন অবস্থা দেখে পারফির কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। বুঝলো যে এখানে অনেক সময় ধরে আটকা পড়ে আছে। করুন চোখে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধ মুখটার দিকে।

ইয়ানার হঠাৎ মনে হলো পাশে থাকা মানুষটা ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দূর্বল চোখে সেদিকে তাকাতে যেনো জীবন ফিরে পেলো ইয়ানা। পুরো একটা রাত আর দিন পারফি অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিলো। পারফির অবস্থা দেখে ইয়ানা শুধু কান্না করে গেলো এ ছাড়া যে আর কিছুই করার নেই। লোকটা আজ ওকে বাঁচাতে যেয়ে এই অবস্থা হয়ে পড়ে আছে ভাবতে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। ভয়ে বারংবার কুঁকড়ে গেলো ইয়ানা, ভাবলো এই বন্দী জীবন থেকে আর মুক্তি নেই এখানেই হয়তো জীবন টা শেষ ভাবতেই শিউরে ওঠতো। পারফির জ্ঞান ফিরতে দেখে একটু আশার আলো খুঁজে পেলো। কান্নার রেশ এবার বেরে গেলো ইচ্ছে করলো বলতে আপনি ঠিক আছেন নীলমনি? আমরা কি এখান থেকে আর বের হতে পারবো না? আমি যে আর পারছি না কিন্তু কিছুই বলতে পারলো না শুধু কান্না করে গেলো।

ইয়ানার কান্না দেখে পারফির খুব কষ্ট হচ্ছে আশেপাশে তাকিয়ে বুঝতে লাগলো কোথায় আছে। কিভাবে এখান থেকে যেতে পারবে। তখন কারো পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলো। বুঝলো যে কেউ এখানেই আসছে তখন হঠাৎ রুমের লাইট বন্ধ হয়ে গেলো। ভয়ে ইয়ানা শিউরে উঠলো।

তখন কেউ দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করলো। ঘুটঘুটে অন্ধকার রুম দরজা খোলার পর অন্য রুম থেলে মৃদু আলো আসলো। সেই মৃদু আলোতে একটা অবয় দেখা গেলো। যেহেতু রুম অন্ধকার সেহেতু লোকটা কে তা দেখা গেলো না।

তখন লোকটি বলে উঠলো তো আবরার পারফি চৌধুরী অবশেষে আপনার জ্ঞান ফিরলো।

পারফির রাগে শরীর পুড়ে যাচ্ছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না মুখ বাঁধা থাকার জন্য।

পারফির অবস্থা দেখে লোকটা একজন গার্ডকে ইশারা করলো মুখ খুলে দিতে। মুখ খুলে দিতে পারফি হুংকার দিয়ে বললো কে তুই? এভাবে ধরে কেনো নিয়ে এসেছিস? সাহস থাকলে বাঁধন খুলে দে। কাপুরুষের মতো আঁটকে কেনো রেখেছিস?

পারফির কথায় লোকটা ঘর কাঁপিয়ে হেসে বললো আরে রিলাক্স আবরার পারফি চৌধুরী রিলাক্স। এখনো দেখি তেজ কমে নি। ডোজটা হয়তো কম হয়ে গেছে।

পারফি ফের হুংকার দিয়ে বললো আমি কাউকে পরোয়া করি না কাপুরুষের মতো লুকিয়ে না থেকে নিজের পরিচয় দে শা*।

পরিচয়? তাতো জানবে বটে পুরোনো শত্রু বলে কথা এ বলে আবার বিশ্রীভাবে হাসতে লাগলো।

পুরোনো শত্রু মানে? কে তুই আর কোন উদ্দেশ্যেই বা এখানে এনেছিস?

আরে মিস্টার চৌধুরী এতো তারা কিসের? আস্তে আস্তে সবি জানতে পারবে এখনো অনেক হিসেব নেওয়া বাকি তো। সবেতো মাত্র শুরু আস্তে আস্তে সব জানতে পারবে। এবার আসি কেমন? দেখতে আসলাম মিস্টার চৌধুরীর জ্ঞান ফিরলো কিনা। যেহেতু জ্ঞান ফিরেছে এবার হবে আসল খেলা। দেখা হচ্ছে সকালে এ বলে হাসতে হাসতে চলে গেলো আর গার্ডরা ফের দরজা লাগিয়ে দিলো।

পারফি আর কোনো কথা না বলে নীরব হয়ে গেলো। এখন মাথা গরম করলে চলবে না। আগে এখান থেকে বের হতে হবে। কিন্তু রুম ঘুটঘুটে অন্ধকার কিভাবে কি করবে বুঝতে পারলো না। কিছুক্ষণ চোখ বুঁজে ভাবতে লাগলো কি করবে তখন রুমের লাইট ফের জ্বলে উঠলো।

অনেক সময় রুম অন্ধকার থাকায় হঠাৎ লাইন জ্বলে ওঠায় চোখমুখ কুঁচকে ফেললো ইয়ানা। পারফি সেদিকে তাকিয়ে ইয়ানার উদ্দেশ্যে বললো ঠিক আছো তুমি? চিন্তা করো না আমি যেভাবে পারি এখান থেকে বের হবো। তোমাকে সেফলি পৌঁছে দিবো। একদম ভয় পেও না বিড়াল ছানা আমি আছিতো। কিছু হতে দিবো না তোমার।

ইয়ানা ছলছল চোখে পারফির দিকে তাকিয়ে রইলো। এই অবস্থায় এসেও লোকটা নিজের কথা না ভেবে ওর কথা ভেবে যাচ্ছে। কিন্তু আদো কি এখান থেকে ওরা বের হতে পারবে? সেই চেনা পরিচিত মুখ গুলো কি আর দেখা হবে? ভাবতে ডুকরে কেঁদে উঠলো ইয়ানা।

পারফি কি বলে ইয়ানাকে সান্ত্বনা দিবে বুঝতে পারলো না। কিছু একটা করতে হবে যেভাবে হোক এখান থেকে ছাড়া পেতে হবে। আশেপাশে খুঁজতে লাগলো কিছু পায় কিনা কিন্তু কোনো কিছু চোখে পরলো না। আশাহত হয়ে চোখ বুঁজে নিলো পারফি।
কিছুক্ষণ পর কিছু একটা মনে পড়তে চোখ খুললো পারফি। ইয়ানার দিকে তাকি আস্তে করে ডাক দিলো বিড়াল ছানা…

ডাকটা শুনে ইয়ানা দূর্বল চোখে তাকালো পারফির দিকে কিন্তু কিছু বলার শক্তি পেলো না।
——————————
চৌধুরী পরিবারে শোকের ছায়া নেমে গেলো। রাত বাজে প্রায় ১২ টা কিন্তু কারো চোখে ঘুম নেই। সিঁড়ির কাছে বসে প্রীতি ফুপিয়ে কান্না করে যাচ্ছে। ভাই আর প্রিয় বান্ধবীকে এভাবে খুঁজে না পেয়ে কাল রাত থেকে কান্না করে যাচ্ছে। পাশে বসে শাহানা বেগম মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে তার চোখেও পানি।

পিয়াসা বেগম প্রায় অবচেতন অবস্থায় সোফায় বসে কান্না করছে। কয়েকবার জ্ঞান ও হারিয়েছে। কলিজার টুকরো ছেলে আজ পুরো একটা দিন থেকে নিখোঁজ এটা কোনো মা কিভাবে মানবে। বার বার মন কু ডাকছে ছেলের কিছু হয়ে যায় নিতো।

আরেকটা ছোফায় পাভেল চৌধুরী আর শরীফ শিকদার বসে আছে চুপচাপ। কারো মুখে কোনো কথা নেই। কাল রাত থেকে তন্য তন্য করে খুঁজে বেড়াচ্ছে। পুলিশকে ইনফর্ম করেছে কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ পায় নি।

পাভেল চৌধুরীর ভিতরটাও দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। আজ তার এই পেশার জন্য ছেলেকে হারাতে বসেছে। এতদিন পিয়াসার এই পেশা ছেড়ে দিতে বলার কারণটা বুঝতে পারছে পিয়াসা কেনো এমন করতো। প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা কতোটা তিব্র তা তার থেকে ভালো কে বোঝে?সেই ছোট বেলা বাবা-মা কে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলো আর আজ ছেলেকে হারাতে বসেছে। নিজেকে আজ খুব অপরাধী লাগছে কেনো এই পেশায় জড়াতে গেলো কিন্তু এই পেশায় না জড়ালে নিজেকেও নিজে কখনো ক্ষমা করতে পারতেন না। নিজের মা-বাবার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পারতেন না। অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারতেন না। কিন্তু আজ যে উনি বড্ড অসহায় হয়ে পড়লেন।

শাফিন মাথার চুল খামছে ধরে বসে আছে। প্রাণ প্রিয় বন্ধু বিপদে আছে আর ও কিছু করতে পারছে না। নিজের বোনের মতো মেয়েটার জন্য কিছু করতে পারছে না ভাবতে ভিতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে।

শাফিন চোখ তুলে তাকালো সিঁড়ির কাছে বসে কান্নারত প্রীতির দিকে। সবসময় চঞ্চলতার মাঝে ডুবে থাকা মেয়েটাকে আজ দেখতে কতটা বিধ্বস্ত লাগছে। এগুলো আর সহ্য করতে না পেরে শাফিন বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে। সবার এই অসহায় মুখ বসে বসে দেখার আর সাধ্য হলো না। নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হচ্ছে আজ বন্ধু এতো বড় বিপদে এদিকে ও কিছুই করতে পারলো না। হাজারো খুজে কোনো খোঁজ মিললো না। এখনো গার্ডরা, পুলিশরা তন্য তন্য করে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

চৌধুরী পরিবারের মতো শোকের ছায়া আহমেদ পরিবারে ও মনেমেছে। ইসহাক আহমেদ মেয়েকে এভাবে হারিয়ে পাগলপ্রায় অবস্থা। প্রেশার বেড়ে যেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ইমা বোনের নিখোঁজ হওয়ার খবর আর বাবার এমন অসুস্থতার খবর শুনে ছুটে এসেছে। বাবার পাশে বসে ইমা কান্না করে যাচ্ছে প্রিয় ছোট বোনকে খুঁজে না পেয়ে।

এসবের মাঝে শুধু মাত্র ইতি বেগমকে দেখা গেলো না কষ্ট পেতে। তিনি তার মতো চুপচাপ বসে আছে কিন্তু কিছু বলছে না এখন কিছু বলা মানে নিজের কাপালে শনি ডেকে আনা তাই চুপচাপ বসে রইলেন।
————————————-
ইয়ানা অনেক কষ্টে বাঁধা হাত দিয়ে পারফির পকেট থেকে ছোট একটা ছু/রি বের করলো। পাশাপাশি চেয়ারে বেঁধে রাখা হয়েছে যার জন্য অনেক কষ্টে এক হাত পারফির পকেট পর্যন্ত নিতে সক্ষম হলো।

পারফির পকেটে সবসময় ছোট খাটো একটা ছু/রি রেখে দেয় যেটার কথা মনেই ছিলো না এতো সময়। হঠাৎ তখন মনে পড়তে ইয়ানাকে ফিসফিস করে বললো ছু/রি টা বের করতে।

ইয়ানা পারফির কথায় সম্মতি দিয়ে অনেক চেষ্টার পর ছু/রি টা বের করতে সক্ষম হলো।

ছুরিটা বের করতে পারফি ফের ইয়ানাকে ফিসফিস করে বললো এবার আস্তে আস্তে আমার হাতের বাঁধনটা কাঁটার ট্রাই করো।

ইয়ানা দুর্বল শরীর নিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো আ…আপনার হাতে ল..লাগবে।

তা তুমি ভেবো না আগে আমাদের এখান থেকে বের হতে হবে। যা বলছি সেটা করো কুইক।

ইয়ানা জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে ছু/রি দিয়ে দড়ি কাটার চেষ্টা করতে লাগলো কিন্তু শরীরে বিন্দু পরিমাণ শক্তি নেই হাত প্রচন্ড কাঁপছে। কাঁপতে কাঁপতে হাত থেকে ছু/রিটা পড়ে যেতে নিলো কিন্তু পড়ার আগে ধরতে সক্ষম হলো।

পারফি ইয়ানার অবস্থা দেখে বললো বিড়াল ছানা একটু মনে সাহস জোগাও প্লিজ। আর একটু কষ্ট করো এর পর তোমাকে কোনো কষ্ট পেতে দিবো না। একটু চেষ্টা করো দড়িটা কাটার।

পারফির কথায় ইয়ানা নিজের সবটা দিয়ে দড়িটা কাটার চেষ্টা করতে লাগলো। ছু/রির আঘাতে পারফির হাত কয়েক জায়গায় কেটে যেয়ে রক্ত বের হতে লাগলো তা দেখে ইয়ানা ঘাবড়ে গেলো। কাঁপা কাঁপা হাত আরো কাঁপতে লাগলো।

ইয়ানার অবস্থা বুঝে পারফি বললো বিড়াল ছানা আমার দিকে তাকাও। ওইটুকু আঘাতে আমার কিছু হবে না সত্যি। দেখো আমার কিছু হয় নি তুমি একটু সাহস নিয়ে কাজটা করো।

ইয়ানা তাকালো পারফির দিকে। চোখ পড়লো সেই নীলমনির দিকে। যে চোখে তাকিয়ে ইয়ানা ভরসা খুঁজে পাচ্ছে। এই প্রথম ওই নীলমনির দিকে এতো সময় তাকাতে সক্ষম হলো। যেই চোখে ইয়ানাকে আস্বস্ত করছে আমি আছিতো পাশে।

ইয়ানা ফের কাঁপা কাঁপা হাতে দড়ি কাঁটার চেষ্টা করতে লাগলো। ছু/রির আঘাত যেয়ে লাগছে পারফির হাতে তা দেখে চোখে খিচে বন্ধ করে নিচ্ছে। এভাবে লোকটাকে আঘাত করতে খুব কষ্ট হচ্ছে কিন্তু এ ছাড়া যে আর কোনো উপায় নেই।
ওই ক্ষত বিক্ষত হাতে দিকে ইয়ানার তাকাতে আর সাহস হলো না। তাই চোখ খিচে বন্ধ করে বাঁধন কাটতে লাগলো। তাকালে হয়তো ওই হাত এভাবে ক্ষত বিক্ষত করে সাহস হতো না দড়ি কাঁটার।

আরো অনেক সময় পর এভাবে কাঁপা কাঁপা হাতে দড়ি কাটতে সক্ষম হলো। দড়ি কেটে গেছে বুঝতে পেরে ইয়ানা চোখ খুললো। চোখ খুলতে চোখে পড়লো সেই নীলমনি চোখজোড়া যা ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো।

পারফি দ্রুত এবার হাত ছুটিয়ে আরেক হাতের রশি খুললো তারপর পায়ের বাঁধন খুলে ইয়ানার হাতে পায়ের বাঁধন খুলে দিলো। ছাড়া পেতে ইয়ানার দূর্বল শরীর ধরে দাঁড় করালো। ইয়ানা সব ভুলে পারফিকে জড়িয়ে ধরলো।

পারফি একটু অবাক হলেও পরক্ষণে বুকে আগলে নিলো ইয়ানাকে। মেয়েটা প্রচন্ড ভয় পেয়ে আছে আর শরীর খুব দূর্বল বুঝতে পারলো। এখন এখান থেকে ওকে নিয়ে কোনো রকম যেতে পারলেই হবে আর কিছু লাগবে না।

#চলবে?

#তুমি_আমার_স্নিগ্ধ_ফুল
#নুসাইবা_ইসলাম_হুর
#পর্বঃ১২

পারফিকে জড়িয়ে ধরার পর ইয়ানার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পারফি ইয়ানাকে কয়েকবার ডাক দিলো। কিন্তু ইয়ানার কোনো সাড়াশব্দ পেলো না তা দেখে পারফি ইয়ানার মুখ সামনে এনে কয়েকবার গালে হালকা করে চাপর মেরে ডাক দিলো। তখন দেখলো ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বিরবির করে বলছে ইয়ানা। শব্দটা এতোটাই আস্তে যে পারফির কান পর্যন্ত সেই শব্দ পৌছালো না। তাই পারফি কানটা এগিয়ে নিলো ইয়ানার মুখের কাছে। তখন অস্পষ্ট ভাবে শুনতে পেলো ইয়ানা বিরবির করে পানি চাচ্ছে।

পারফি ইয়ানাকে ধরে চেয়ারে বসিয়ে দিলো। দিশেহারা হয়ে আসেপাশে পানি খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও পানির ছিটে ফোঁটাও নেই। এমন বদ্ধ একটা ঘরে পানি থাকার কথাও না। পারফি কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না। ইয়ানার সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে ইয়ানার দু গালে হাত রেখে ইয়ানাকে ডাকতে লাগলো। কিন্তু কোনো সারা পাচ্ছে না। হাত-পা প্রচুর ঠান্ডা হয়ে আছে এই অবস্থায় পারফি কিভাবে কি করবে ভাবতে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। তারাতাড়ি নিজের পড়নের জ্যাকেট খুলে ইয়ানাকে পড়িয়ে দিলো। ইয়ানার হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে উষ্ণ করার চেষ্টা করলো। এভাবে অনেক সময় পর ইয়ানা কিছুটা উষ্ণ হতে গালে হালকা করে চাপর মেরে ডাকতে লাগলো।

একটা সময় ইয়ানা কিছুটা হুঁশে আসলো। পিটপিট করে তাকাতে দেখতে পেলো পারফি ওর সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসে ওর গালে হাত দিয়ে ওকে ডেকে যাচ্ছে। দূর্বল গলায় কিছু বলতে যাবে কিন্তু পানির পিপাসায় গলা এতো শুকিয়ে আছে যে কিছু বলার শক্তি পেলো না।

এদিকে ইানাকে চোখ খুলতে দেখে যেনো পারফি নিজের জীবন ফিরে পেলো। তারাতাড়ি বসা থেকে উঠে ইয়ানাকে বুকে আগলে নিলো। এতো সময় ইয়ানার কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়াতে পারফির নিঃশ্বাস আঁটকে আসছিলো। ইয়ানাকে নিজের বাহুডোরে আগলে রেখে করুন গলায় বললো আর একটু সহ্য করো বিড়াল ছানা। নিজের ভিতর একটু শক্তি জোগাড় করো আর নাহলে এখান থেকে যাবো কিভাবে বলো? এখান থেকে যেয়ে তোমার সব কষ্ট মুছে দিবো শুধু একটু শক্ত হও স্নিগ্ধ ফুল।

ইয়ানা চুপচাপ পারফির বুকে চুপটি করে পড়ে রইলো। পারফির ব্যাকুলতা দেখে নিজেকে একটু শক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলো। এখান থেকে বের হতে হলেও অনন্ত নিজেকে একটু শক্ত করা প্রয়োজন। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ইয়ানা উচ্চারণ করলো এ..খান থ..থেকে ন..নিয়ে চলুন ন..না ন..নিশ্বাস নিতে খ..খুব কষ্ট হ..হচ্ছে।

পারফি ইয়ানার কাঁপা কাঁপা কন্ঠ শুনে বললো আর একটু কষ্ট সহ্য করো স্নিগ্ধ ফুল আমি এখনি তোমাকে এখান থেকে নিয়ে যাবো। আর কখনো কষ্ট পেতে দিবো না শুধু একটু কষ্ট করো।

ইয়ানা কিছু বললো না চুপ থাকলো তা দেখে পারফি ইয়ানাকে নিজ থেকে ছাড়িয়ে দু গালে হাত রেখে বললো বিড়াল ছানা ঠিক আছো তুমি?

ইয়ানা অশ্রুসিক্ত চোখে পারফির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে ইশারা করলো ঠিক আছে।

পারফি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইয়ানাকে ফের চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বললো তুমি এখানে বসো আমি দেখি কি করা যায় এ বলে দরজার কাছে এগিয়ে গেলো। বাহির থেকে দরজা লক করা। কিভাবে দরজা খুলবে তা ভাবতে লাগলো।
কিছুক্ষণ ভেবে কিছু একটা মনে করে ডাক দিলো দরজার ওই পাশে কেউ আছে?

প্রথমবার সাড়াশব্দ না পেলেও কয়েকবার ডাক দেওয়ার পর ঘুম জড়ানো কন্ঠে কেউ বললো কি হয়েছে? চেঁচাচ্ছেন কেনো?

আসলে ভিতরে যেই মেয়েটাকে রেখেছেন সে পানির জন্য ছটফট করছে। একটু পানি খাইয়ে দিয়ে যাবেন আর নাহলে মেয়েটার কিছু হয়ে যেতে পারে।

এখন দরজা খোলা যাবে না বসের নিষেধ আছে। যা বলার কাল সকালে বসকে বলেন।

মেয়েটার এখন পানি না পেলে কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। আপনার বস নিশ্চয়ই আমাদের মে/রে ফেলার আদেশ দেয় নি?এখন যদি মেয়েটার কোনো ক্ষতি হয়ে যায় তখন আপনার বসকে কি কইফিয়ত দিবেন?

লোকটা ভাবলো আসলেই যদি কিছু হয়ে যায় তখন বসকে কি বলবে? বসতো তাহলে জা/নে মে/রে দিবে ভাবতে কিছুটা ঘবড়ে গেলো লোকটা। তাই বললো আসছি আমি পানি নিয়ে এ বলে কিছুক্ষণ পর হাতে এক বোতল পানি নিয়ে এসে দরজা খুলতে লাগলো। দরজা খোলার সাথে সাথে পারফি লোকটার মুখ চেপে ধরে ভেতর থেকে দরজা আঁটকে দিয়ে লোকটার ঘাড় বরাবর ঘুষি মেরে দিলো। লোকটা সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো নিচে।

নিচে পড়ে থাকা পানির বোতল উঠিয়ে পারফি ইয়ানার কাছে চলে গেলো। কিছুটা পানি ইয়ানাকে খাইয়ে দিয়ে চোখমুখ পানি দিয়ে দিলো এতে যেনো ইয়ানা জীবন ফিরে পেলো। ইয়ানাকে একটু স্বাভাবিক হতে দেখে ইয়ানার হাত নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে সামনের দিকে হাঁটা দিয়ে বললো চলো।
ইয়ানা দূর্বল শরীর নিয়ে ভয়ে ভয়ে পারফি সাথে হাঁটতে লাগলো।

পারফি সতর্কতার সাথে ইয়ানাকে নিয়ে বের হতে লাগলো। রাত অনেক গভীর তাই গার্ডের আনাগোনা কম হয়তো সবাই ঘুমাচ্ছে। পারফি সাবধানে মেইন ডোর পর্যন্ত ইয়ানাকে নিয়ে আসলো। তারপর দেখতে পেলো মেইন ডোরের কাছে একজন গার্ড ঝিমাচ্ছে। পারফি সেই সুযোগে ইয়ানাকে একটু আড়ালে দাঁড় করিয়ে ওই গার্ড কেও একি ভাবে মে/রে দরজা খুলে ইয়ানাকে নিয়ে বাসাটা থেকে বের হলো।

বাসা থেকে বের হয়ে বুঝতে পারলো গভীর কোনো জঙ্গলের মাঝে ওরা আছে। চারপাশে সারিসারি বিশাল বিশাল গাছ। সব কিছু অন্ধকারে ঘেরা এখন এই অবস্থায় কোন দিকে যাবে কি করবে কিছু বুঝতে পারলো না।

এদিকে ইয়ানা ভয়ে ভয়ে আশেপাশে তাকাচ্ছে। চারদিক থেকে শিয়ালের ডাক একটু পর পর কানে ভেসে আসছে যা শুনে কেঁপে উঠছে ইয়ানা। এক হাত পারফির হাতের মুঠোয় অন্য হাত দিয়ে ভয়ে পারফির শার্ট খামছে ধরলো। তা দেখে পারফি ইয়ানার হাতটা আরেকটু জোরে ধরে বললো ভয় পেও না আমি আছি তো।

ইয়ানা একটু ভরসা পেলো। পাশে থাকা মানুষটা যে ওকে জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবে এতক্ষণে বুঝে গেছে তা।

হালকা চাঁদের আলোয় পারফির চোখে সরু একটা রাস্তা চোখে পড়লো। ইয়ানাকে নিয়ে সেদিকে হাঁটা দিলো এখানে এখন বেশি সময় থাকা যাবে না যতো দ্রুত সম্ভব এখান থেকে যেতে হবে।

সরু রাস্ত অনুসরণ করে হেঁটে চলেছে কিন্তু কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না। সাথে ফোন ও নেই যে লোকেশ দেখে এই ঘনো জঙ্গল থেকে বের হবে। এই ঘনো জঙ্গলে এভাবে বেশি সময় থাকাটাও রিস্ক।

এদিকে ইয়ানার আর পা চলছে না। এমনি দূর্বল শরীর দুদিন থেকে না খাওয়া যার জন্য প্রচন্ড খুদাও লেগেছে। হাঁটার আর শক্তি খুঁজে পাচ্ছে না বার বার পা ভেঙে আসছে। এভাবে আরো অনেক সময় হাটার পর মেইন রাস্তার দেখা মিললো। দূর থেকে ল্যাম্পপোস্টের আলোতে মেইন রাস্তা দেখা যাচ্ছে। তা দেখে ইয়ানার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। পারফির খামছে ধরে রাখা শার্ট আরেকটু দৃঢ় ভাবে ধরে বলে উঠলো ওই দেখেন মেইন রাস্তা দেখা যাচ্ছে ।

পারফি ইয়ানার দিকে তাকি বললো দেখতে পারছি চলো এ বলে দুজন দৌড়ে মেইন রাস্তায় উঠে হাঁপাতে লাগলো। দুজনের মুখে খুশির ঝলক দেখা গেলো।

এখন কথা হলো মেইন রাস্তা পর্যন্ত তো এসেছে কিন্তু এখন এতো রাতে গাড়ি পাবে কোথায়? দুই পাশের রাস্তার কোন দিকে যাবে কিছুই বুঝে উঠলো না কারণ জায়গায়টা পুরোই অচেনা। বুঝলো যে ঢাকার বাহিরে কোনো জায়গায় আছে ওরা।

দাঁড়িয়ে দুজন গাড়ির অপেক্ষা করতে লাগলো। প্রচন্ড শীত ও লাগছে। এতক্ষণে ইয়ানা খেয়াল করলো পারফির জ্যাকেট ওর গায়ে। ইয়ানা দেখলো জ্যাকেট গায়ে তারপর ও শীত লাগছে প্রচুর আর পারফি শুধু একটা শার্ট গায় দেওয়া। তা দেখে ইয়ানা আমতা আমতা করে বললো আপনার শীত লাগছে না? চাইলে জ্যাকেটটা নিতে পারেন।

পারফি ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে বললো আমার লাগবে না আমি ঠিক আছি এটা তোমার প্রয়োজন। চলো সামনে এগিয়ে দেখি কোনো গাড়ি পাই কিনা। এ বলে ফের ইয়ানার হাত ধরে সামনে হাঁটা ধরলো। ইয়ানা বিড়াল ছানার মতো চুপটি করে পারফির সাথে তাল মিলিয়ে হাঁটতে লাগলো। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আলোকিত রাস্তায় দুজন এক সাথে হেঁটে চলেছে অজানা গন্তব্যে। কোথায় আছে, কোথায় যাচ্ছে কিছুই জানা নেই। এভাবে হাটতে হাটতে একসময় একটা সিএনজির দেখা মিললো।

সিএনজিটা কাছে আসতে পারফি হাতের ইশারায় সিএনজি থামালো। সিএনজি ড্রাইভার কিছুটা ভয় পেয়ে গেলো এতো রাতে এই নির্জন রাস্তায় মানুষ আসলো কি করে? কোনো ভূত ছদ্মবেশে আসলো নাকি ভাবতে লোকটা কাঁপতে লাগলো।

হঠাৎ করে লোকটাকে কাঁপতে দেখে বেকুব বনে গেলো পারফি। লোকটার দিকে তাকি বললো আপনি কাপছেন কেনো?

লোকটা কাঁপা কাঁপা গলায় বললো আ..আপনারা কি সত্যি মানুষ নাকি ভ…ভূত।

লোকটার কথা শুনে পারফি কি বলবে বুঝতে পারলো না। কিছুক্ষণ লোকটার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো ভূত হলে নিশ্চয়ই এতক্ষণে আপনার ঘাড় মটকে দিতাম? দেখেন ভাই আমরা বিপদে পরে এখানে আটকা পড়ে গিয়েছি একটু হেল্প করতে পারবেন?

লোকটা এতক্ষণ এ ভাবলো আসলেই ভূত হলে এতক্ষণে তার ঘাড় মটকে দিতো। বুঝলো যে এরা মানুষ বিপদে পরেছে তাই বললো কি হেল্প?

এই জায়গাটার নাম কি বলতে পারেন?

লোকটার থেকে জানতে পারলো জায়গাটা ঢাকা থেকে অনেক দূরে গ্রাম টাইপের একটা জায়গায় আছে। এখান থেকে ঢাকা পৌঁছাতে ৫,৬ ঘন্টা লাগবে। তা শুনে পারফি বললো আমাদের পৌঁছে দিয়ে আসতে পারবেন?

লোকটা বললো আমরা তো এই জায়গার লাইনে গাড়ি চালাই। অন্য লাইনে যাওয়া যাইবো না তবে আপনারা চাইলে আমি বাসস্ট্যান্ডে পর্যন্ত পৌঁছায় দিয়া আসতে পারি। কিন্তু এতো রাইতে বাস পাইবেন না বাসের জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগবো।

আচ্ছা সমস্যা নেই আপনি তাহলে আমাদের বাসস্ট্যান্ডে পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসেন তাহলেই হবে।

আচ্ছা ওঠেন তাইলে।

পারফি ড্রাইভারকে ধন্যবাদ দিয়ে ইয়ানাকে নিয়ে সিএনজিতে উঠে বসলো। ওরা উঠতে ড্রাইভার গাড়ি চালাতে লাগলো।

এদিকে ইয়ানা দূর্বল শরীর নিয়ে সিএনজির সাথে হেলায় দিয়ে চোখ বুঁজে বসে রইলো। সিএনজির ঝাঁকুনিতে বারবার মাথাটা সিএনজির সাথে মৃদু টাক খাচ্ছে সেটা দেখে পারফি ইয়ানার কিছুটা কাছে যেয়ে মাথাটা ওর কাঁধে নিয়ে রাখলো।
ইয়ানা দূর্বল চোখে একবার পারফির দিকে তাকিয়ে মাথা উঠাতে যাবে তখন পারফি বললো যেভাবে রেখেছি এভাবে থাকো চুপচাপ।

ইয়ানা আর উঠালো না মাথা। দূর্বল শরীর নিয়ে এতক্ষণ ওভাবে বসে থাকতে হিমশিম খাচ্ছিলো। এখন কিছুটা ভালো লাগছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পারফির কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লো।

ইয়ানার ভারী নিঃশ্বাস ঘাড়ে পরতে পারফি বুঝলো ঘুমিয়ে পড়েছে ইয়ানা। ঘাড় ঘুড়িয়ে তাকালো স্নিগ্ধ মুখ পানে। কপালের পাশ দিয়ে কিছুটা জায়গা ছিলে গেছে যেখানে রক্ত জমাট বেধে আছে। মুখের দু পাশে লাল হয়ে আছে মুখ বেঁধে রাখার জন্য।
স্নিগ্ধ ফুল ওর জন্য এতটা কষ্ট পাচ্ছে ভাবতেই পারফির খারাপ লাগছে। প্রথমে হাত কাটলো তারপর আজ দুদিন থেকে কতটাই না কষ্ট পাছে।
পারফি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে নিলো যারা যারা স্নিগ্ধ ফুলকে কষ্ট দিয়েছে তাদের কাউকে ছাড়বে না। প্রত্যেককে এর শাস্তি পেতে হবে।

পারফি ইয়ানার মুখপানে তাকিয়ে থেকে কপালের সামনে আসা ছোট ছোট চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিয়ে আস্তে করে বুকের মাঝে আগলে নিলো ইয়ানাকে। ইয়ানাও বিড়াল ছানার মতো চুপটি করে ঘুমিয়ে রইলো পারফির বাহুডোর।
পারফি নিজের অজান্তেই ইয়ানার কপালে ঠোঁট ছুয়ে দিলো। পরক্ষণে হুঁশ আসতে ভরকে গেলো ইয়ানা টের পেয়েছে কিনা। কিন্তু ইয়ানার কোনো হুঁশ নেই আদুরে বিড়াল ছানার মতো ঘুমিয়ে আছে তা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।

#চলবে?

ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
হ্যাপি রিডিং….🥰

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ