Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তুই আমার শেষ ক্ষুধাতুই আমার শেষ ক্ষুধা পর্ব-১৩+১৪

তুই আমার শেষ ক্ষুধা পর্ব-১৩+১৪

#তুই_আমার_শেষ_ক্ষুধা
#শারমিন_প্রিয়া

১৩.
আরশী দু’দিন রাস্তাঘাটে খুঁজে খুঁজে বাবার কোনো খোঁজ পেল না। রুদ্রাণীর সঙ্গে এই দুই দিন তার না দেখা হয়েছে, না কথা। রুদ্রাণী বহুবার ফোন করেছিলেন, কিন্তু আরশী ফোন সুইচ অফ করে রেখেছে। বাবার কথা ভাবতেই বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। চোখে ঘুম নেই তার। বাবা তো সবসময়ই রাত হলে বাসার গেটের কাছাকাছি কোথাও থাকতেন… এখন তিনি কোথায়? মা কি রাক্ষসদের কাছে বাবার খোঁজ দিয়ে দিলেন? তারা কি বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে?ে

এই ভাবনাতেই আরশীর শরীর কেঁপে ওঠে।
“না… না, এমনটা হবে না। আমার বাবা কোথাও আছেন। আমি খুঁজে পাব।”

বারান্দায় পায়চারি করতে করতে এসব ভাবছিল সে। বাড়ির বড় লাইটগুলো জ্বলছে, চারপাশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বিলের ধার, নারকেল গাছের দুলে-যাওয়া পাত, সব..।

নিচতলায় কাজের খালার ঘরে লাইট জ্বলতে দেখে আরশী সেদিকে এগোল। জানলার সামনে এসে দেখে, লাইট জ্বালানো, কিন্তু বিছানা একদম ফাঁকা। তার বুক ধুক করে উঠল। খালা কোথায় গেলেন?

আরশী ডাকল, “খালা… খালা, কোথায় আপনি?”

কয়েক সেকেন্ড পর ওয়াশরুম থেকে বের হলেন খালা। আরশী গভীর নিশ্বাস ফেলে বলল, “ভয় পেয়ে গেছিলাম খালা। আচ্ছা, লাইট জ্বালিয়ে আপনার ঘুম আসে কী করে?”

খালা মাথা নাড়িয়ে বললেন,
“এত বড় বাড়ি মা, মাঝে মাঝে ভয় ভয় লাগে। তাই লাইট জ্বালিয়ে রাখি। তোমার কোনো সমস্যা হচ্ছে?”

“না খালা, আপনি ঘুমান।”

বাড়ির উঠোনে বেলি ফুলের ঝোপ থেকে মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসছে। আরশী উঠোনে নেমে বেলি ফুলের কাছে গিয়ে নাক টেনে টেনে গভীরভাবে ঘ্রাণ নিল। একটি ফুল ছিঁড়ে নিয়ে শুঁকতে শুঁকতে সিঁড়ির দিকে উঠছিল, হঠাৎ করে অদ্ভুত শব্দে থমকে গেল।

পরপর দু’বার শব্দ হলো। গেটে তালা দেওয়া এই বিশাল বাড়িতে এমন শব্দ আসবে কোথা থেকে?
কেউ তো ঢুকতে পারবে না। তাহলে…?

আরশী বামদিকের করিডোরের দিকে তাকায়। শব্দটা সেদিক থেকেই আসছে। সে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। তার কানে এবার খুব ক্ষীণ একটা গোঙ্গানির শব্দ আসে। মর্মান্তিক গা শিথিল করা শব্দটা।

আরশীর পা থেমে যায়। বুক ধুকপুক করে। এই গভীর রাতে ঐ করিডোরে কে থাকতে পারে? জ্বিন-ভূত নাকি? পুরনো বাড়ি… হতে তো পারে।

আরশী আর না দাড়িয়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যায়। রুমে ডুকে দেখে পেছনের জানলাটা আধখোলা। জানলা বন্ধ করতে হাত বাড়াতেই,
বাইরে কিছু একটা দেখে চমকে উঠলো আরশী। লম্বা ছায়ার মতো কিছু একটা চলে গেল ওদিক দিয়ে।

আরশীর বুকের মধ্যে শীতলতা নেমে আসে।
“সত্যিই কি ভূত-প্রেত…?”

আরহাম নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিল। আরশী আর তাকে ডাকল না। সে তাড়াতাড়ি আরহামকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ল।

_________

সকালে ঘুম ভাঙতেই আরশী দেখে, আরহাম তাকে শক্ত করে ধরে আছে, আর তার চুলে আলতো হাত বুলাচ্ছে। আরশী মৃদু হাসল। বুকটা ভালোবাসায় ভরে উঠল। সব চিন্তা, ভয় মুহূর্তেই যেন মিলিয়ে গেল কোথাও। এই মানুষটার বুকে তার এত শান্তি। যা আর কোথাও নেই।

আরশী আরহামের বুকে মুখ গুজে ফিসফিস করে বলে,
“অনেক, অনেক ভালোবাসি আপনাকে!”

আরহাম হাসল, হেসে আরশীর নাক টিপে বলল, “আমিও”। তারপর লাফিয়ে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলো।

গতরাতে তার গুহায় যাওয়ার কথা ছিল। রাভান আরশীর বাবাকে ধরে নিয়ে এসেছে, এখনও বন্দি অবস্থায় আছে। কথা ছিল, গত রাতে কায়ান নিজে প্রথম কামড় বসাবে, তারপর বাকিরা ভাগ করে নেবে। কিন্তু আরহাম এত গভীর ঘুমে ছিল যে কিছুই টের পায়নি। এখন গুহার অবস্থা কী, সে নিজেও জানে না। আরহাম ভাবে, আজ যে করেই হোক একটা অজুহাত বানিয়ে আরশীর কাছ থেকে সরে যেতে হবে।তারপর পেছনের লুকানো দরজা দিয়ে গুহায় ঢুকতে হবে। আরশীর বাবার তাজা রক্ত আজ রাতেই খেয়ে ছাড়ব।

ঘুম থেকে উঠে আরশীর শরীর কেমন দুর্বল লাগছে। মাথা ভারভার করছে। সে গোসল করতে যায়। মাথায় বেশি করে পানি ঢালে। তাতে যদি শরীরে একটু শান্তি আসে।

রুমে ফিরতেই আরহাম তার দিকে তাকিয়ে মজা করে বলে, “রাতে তো কিছু করলাম না বউ, সাজসকালে গোসল কেন?”

আরশী মুখ টিপে হাসে।তারপর দুলে দুলে হাসে। আরহাম মাঝেমাঝে এমন এমন কথা বলে যে আরশীর পক্ষে হাসি চেপে রাখা কঠিন হয় দাঁড়ায়।

আরহাম ড্রয়ার থেকে ইলেকট্রিক হেয়ার ড্রায়ার বের করে আরশীর পেছনে এসে দাঁড়াল। চুল থেকে টাওয়েল সরিয়ে ড্রায়ার চালু করতেই আরশীর লম্বা সিল্কি চুল বাতাসে উড়তে লাগল।

আরশী চোখ দিয়ে ইশারা করল, “কি হচ্ছে এসব?”

আরহাম ঠোঁট উল্টিয়ে মাথা কাত করে বলল,
“একদম নড়বে না। তোমাকে মন ভরে দেখি। অসাধারণ লাগছে।”

দু’জনের চোখে চোখ মিলল। মুহুর্তেই যেন চোখ থেকে চোখে এক অপার্থিব ভালোবাসা বয়ে গেল দু’জনেই হেসে ফেলল।

আরহাম আরশীর হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে গভীর নিঃশ্বাস ফেলে মনে মনে বলে—
তুমি সাধারণ মেয়ে নও আরশী। তুমি এক রাক্ষসের পাথর-হৃদয়ে প্রেম জাগিয়েছো। সবার ক্ষেত্রে আমি কঠোর, নিষ্ঠুর; কিন্তু তোমার প্রতি আমি অদ্ভুত নরম।তোমার প্রতি আমার ভালোবাসার সমান, পৃথিবীর কারো ভালোবাসা হবে না। সামনে আমার মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আমি তোমাকে প্রতিনিয়ত ভালোবেসে যাচ্ছি। কাছে রাখছি। ছুয়ে দিচ্ছে। এমন ভালোবাসা তুমি এ দুনিয়ার আনাচে কানাচে, আকাশে বাতাসে, পাতালে কোথাও খুজে পাবে না। কোথাও না।

আরশী চোখ সরিয়ে বলল, “আমার তাড়া আছে, ছাড়ুন, বাবাকে খুঁজবো। আপনি কি যাবেন আমার সাথে?”
আরহাম কাতর হয়ে বলল, “আমার ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে আরশী। আজ তুমি একা যাও না। পারবে?”
“কেন নয়, পারব। আমি তাহলে খেয়ে বের হচ্ছি। পরে ফিরব।”

আরহাম মাথা নাড়ালো। “যাও।”

আরশী আশেপাশের যত জায়গা আছে, সবকিছুর আনাচে-কানাচে সারাদিন তার বাবাকে খুঁজেছে, তারপর তার বাসার কাছে আসে। গেট সামান্য খুলে উঁকি দিয়ে দেখে ঘরের দরজা খোলা। তার মানে মা আছেন এখনও? মায়ের কথা ভাবতে ভাবতে আরশী উঠোনে গিয়ে দাঁড়ায়। ঘরে কারও উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘরে ঢুকতে বা কিছু বলতে তার বুক ধড়ফড় করছে। আজ প্রথম তিনদিন পার হলো সে মায়ের সাথে কথা বলেনি—এরকম এ জীবনে হয়নি। সে প্রচণ্ড মিস করছে মাকে। কিন্তু তার ভয়ও কাজ করছে। মানুষটা এসব অভিনয় করে না তো? বারবার এটা মনে হচ্ছে আরশীর।

এক আকাশ পরিমাণ ভয় নিয়ে আরশী দরজার সামনে এসে উঁকি দিলো—বিছানায় চোখ পড়তেই দেখলো, কম্বল গায়ে দিয়ে কাচুমাচু হয়ে কেউ শুয়ে আছে। রুদ্রাণী ছাড়া এই ঘরে আর কেইবা থাকতে পারে! আরশী ভাবলো, এত বেলা অব্দি মা কেন ঘুমাচ্ছেন, কিছু হলো কিনা! হাত বাড়িয়ে রুদ্রাণীকে ছুঁতে গিয়েও ছুঁলো না। চলে গেল তার রুমে।

নিজের রুম দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল আরশী। তার সবকিছু সুন্দর করে গুছানো আছে। দেয়ালে বড় ফ্রেমে টাঙানো রুদ্রাণী আর আরশীর হাসিমাখা ছবি। আরশীর চোখের কোণায় জল আসে। সেকেন্ড না পেরিয়ে টপটপ করে পড়ে সেই নোনাপানি। আরশী হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে ঘরের আনাচে-কানাচে, খাটের নিচে সবকিছু ভালো করে দেখে। তার অবচেতন মন রুদ্রাণীকেই সন্দেহ করছে, মনে হচ্ছে রুদ্রাণী লুকিয়ে রাখলেন কিনা তার বাবাকে।

কোথাও বাবাকে না পেয়ে বের হতে যাবে আরশী, তখন আবার স্থির হয় সে। মায়ের দিকে একনজর তাকায়। মায়ের এখনও নড়াচড়া নেই। কি এমন হয়েছে যে এত গভীর ঘুমাচ্ছেন? আরশীর ভয় লাগলো। সে কাছাকাছি গিয়ে কান পেতে শুনলো, নিঃশ্বাস চলছে কিনা। নিঃশ্বাসের উঠানামা টের পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে সে বের হয়ে আসলো।

গেট পার হয়েই সে মুখোমুখি হলো পাশের বাসার আন্টির। আন্টি তাকে দেখেই আফসোস করে বললেন, “এতদিনে সময় হলো আসার? মোবাইলে কি লাগিয়ে রেখেছো—ফোন যায় না। আমরা কেউ তোমার শশুরবাড়িও চিনিনা। তোমার মায়ের অবস্থা দুদিন ধরে খুব খারাপ। ভীষণ রকম জ্বর। সবসময় তোমাকেই ডাকছেন। একা মানুষ। আমি রাতে একটু ছিলাম। এখন আবার দেখতে যাচ্ছি। তুমি কখন আসলে আরশী?”
“এই তো একটু আগে।”
“কেমন দেখলে মাকে?”
আরশী মাথা ঘুরিয়ে বলল, “ঘুমাচ্ছেন মা। ভালোই।”
“কোথায় যাচ্ছো এখন আরশী?”
“আসলে কাকি, আমার হাজবেন্ড গুরুতর অসুস্থ। এই রকম জ্বরে একদম কাহিল। এখানে ভরসার হাত তোমরা আছো—ওখানে কেউ নেই। আমি না গেলে তাকে কে দেখবে?”
তারপর আরশী আন্টির হাত ধরে বলল, “মায়ের দিকে একটু খেয়াল রেখো, আমি আবার আসব।”

আরশী দ্রুত জায়গা ত্যাগ করে। এক চাপা কষ্ট ভর করে তার ভেতর। সে কীভাবে রুদ্রাণীকে এভাবে একা ফেলে যাচ্ছে? মানুষটা তো তার কিছু হলে পাগল হয়ে উঠতো। আরশী নিজের উপর বিরক্ত হলো, কেন এত ভয় পাচ্ছি আমি? উনি যাই হোন, আমার তো মা। নাকি আমার ভয়গুলো সত্যি? কি করব, কিছু মাথায় আসে না। বাবাকে পেয়ে গেলে কিছু একটা সমাধান হয়তো পেতাম

___________________

রুদ্রাণী একদম মুমূর্ষ অবস্থায় শুয়ে আছেন। চোখ বোজা। ঘরে অনেক মানুষ। উনার দু’ঠোঁট শুধু একটা নাম জপছে—
“আরশী! আরশী সোনা! মা আরশী!”
বারবার এই নাম বলছেন। একজন পুরুষ ডাক্তার ডেকে এনেছে। ডাক্তার বলল, “ওষুধে কাজ হচ্ছে না উনার। এটা ওষুধের জ্বর নয়। উনি কারো অভাবে, শূন্যতায় গভীর টানে এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মানুষটাকে উনার কাছে নিয়ে আসুন। তবেই উনার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

এতটুকু পর্যন্ত স্বপ্নে দেখে ঘুমের মধ্যে “মা” বলে কেঁদে উঠে আরশী। ঘুম ভেঙে যায় তার। চোখের সামনে ভাসতে থাকে স্বপ্নে দেখা দৃশ্যগুলো। আরশী মা মা বলে কান্না করে। তার কলিজার ভেতর যেন গরম লোহা কেউ ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে ভেতর জ্বলছে। মনে হচ্ছে পাখির মতো উড়াল দিয়ে সে এই মুহুর্তে মায়ের কাছে চলে যায়।

আরহাম আরশীর কান্না শুনে ধড়ফড়িয়ে উঠে, আরশীকে ধরে জিজ্ঞেস করে, “কান্না করছো কেন? খারাপ স্বপ্ন দেখেছো?”
আরশী কাঁপতে কাঁপতে বলে,
“মা… মা খুব অসুস্থ। অনেক জ্বর। আমি আজ গিয়েছিলাম। কিন্তু কথা বলিনি। এখন স্বপ্নে দেখলাম উনি আমাকে ডাকছেন। আমার সহ্য হচ্ছে না আর।”

আরহাম সবচেয়ে ভালো চেনে রুদ্রাণীকে। একই জাতের প্রাণী তারা। সে জানে, রুদ্রাণী তার প্রাণের থেকেও বেশি ভালোবাসে আরশীকে। যদিও আরশী বলুক এমনি মায়ের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে—তবু আরহাম জানে মূল কারণটা। আরশী মূলত এই কারণে রুদ্রাণীর মুখোমুখি হচ্ছে না। আবার দূরত্বও সহ্য করতে পারছে না। দুটো দ্বিধার মধ্যে ভুগছে সে, কষ্ট পাচ্ছে।

আরহাম শান্ত স্বরে বলল,
“দেখো আরশী, উনি তোমার মা না হতে পারেন, কিন্তু মা হয়েই তোমাকে বড় করেছেন। জন্ম না দিয়ে ও মা হওয়া যায় আরশী। আত্মার বন্ধন অনেক বড়, অনেক শক্তিশালী। তুমি সব ভুলে উনার ভালোবাসার কথা মনে করো। তুমি ফিরে যাও। সব মিটমাট করে নাও।”

আরহামের কথাটা আরশীর মাথায় ঢোকে। তার থেকেও বেশি—স্বপ্নে দেখা দৃশ্যটা আরশীর ভেতরকে নেড়ে দিয়েছে। সব উলটপালট করে দিয়েছে। আরশীর মন পাল্টেছে। আরশী ভাবলো, মায়ের আর আরহামের কথাটা হয়তো সত্যিই।
আমি কি সব ভয় ঝেড়ে ফেলে মায়ের কাছে ফিরে যাব? আমিও তো মাকে কত ভালোবাসি…
আমার এক মন বলে মা নাটক করছেন, অন্য মন বলে—না। আমি আর ঠিকে থাকতে পারব না। মা যদি নাটক করেও থাকেন, তাও আমি যাব।

আরশী আরহামের হাত ধরে অনুরোধ করলো,
“আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে চলো।”
“এত রাতে?”
“কাছাকাছি তো। তোমার গাড়ি আছে। প্লিজ…”

আরশীর বলার ভঙ্গি দেখে আরহাম রাজি হয়ে যায়। বলে, “চলো। বাইরে ঠান্ডা। শীতের সোয়েটার পরে নাও। মাথা ঢেকে বের হও।”

আরশী ঝটপট সব করে নিলে তারা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে। নিচতলায় আসতেই গতরাতের মতো কারো গুঙানির আওয়াজ পায় আরশী। আজকের শব্দটা আরও নিচু, আরও মর্মান্তিক। আরশীর পা থামে। আরহাম গাড়ি বের করতে গেছে। আরশী করিডোরের দিকে যেতে যেতে আরহামকে ডাকে।

আরশীকে করিডোরের দিকে যেতে দেখে আরহামের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। দৌড়ে সে আরশীর কাছে আসে৷
“এদিকে কেন? চলো, গাড়ি রেডি।”
আরশী আরহামের মুখে হাত দিয়ে ফিসফিস করে বলে,
“চুপ! খেয়াল করে শুনো, কারও শব্দ শোনা যাচ্ছে।”
আরহাম শুনেও মিথ্যে বলে,
“না তো। আমি কিছু শুনতে পাচ্ছি না। চলো।”
“না, যাব না। গতকালও আমি এটা শুনেছি। চলো করিডোরের শেষ মাথায় যাই। হয়তো কেউ আছে ওখানে।”

আরহামের মেজাজ গরম হয়। এই প্রথমবার জোরে ধমকায় আরশীকে,
“বললাম তো, কেউ নেই! চলো, দেরি হচ্ছে।”

আরশী আরহামকে পাত্তা না দিয়ে আরেকটু সামনে যায়। দেয়ালের পাশে দেখে বস্তার মতো কি একটা ফেলা। ওখান থেকেই গোঙ্গানোর শব্দ আসছে। আরশী ডাকতে শুরু করে,
“এদিকে আসেন! দেখেন—কি রাখা! এখান থেকে শব্দ হচ্ছে! দাঁড়িয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি আসেন!”

ওখানে কিছু থাকার কথা নয়৷ তবু আরহাম যায়। আরশীর কথামতো সত্যি বর বস্তা থেকে আওয়াজ হচ্ছে। আরহাম তাড়াতাড়ি মুখ খুলল বস্তার। কাচুমাচু করে একটা মানুষকে রাখা। অচেতন অবস্থায় মানুষটা গুঙাচ্ছে।

আরহাম মাথাটা সোজা করতেই বিস্ফোরণ হয় তার চোখে।
আরশী চিৎকার করে উঠে,
“এই তো সেই পাগল! আমার বাবা!”
তারপর সে লুটিয়ে পড়ে বাবার দিকে। মাথাটা ফ্লোর থেকে কোলে তুলে নেয়।

চলমান……!

#তুই_আমার_শেষ_ক্ষুধা
#শারমিন_প্রিয়া

১৪.

আরশী বাবার মুখে হাত বুলিয়ে ডাকতে লাগলো,
“বাবা! ও বাবা!”

আরহামের দিকে তাকিয়ে কেঁদে ফেলল। বলল,
“একটু পানি নিয়ে আসুন না।”

“যাচ্ছি, যাচ্ছি”—বলে আরহাম পানি আনতে গেল। পেছনে ফিরে ফিরে তাকিয়ে দেখে আরশী আর তার বাবাকে। তার ভেতর রাগ ক্ষোভে ফেটে পড়ছে। আরশীর বাবাকে সে গুহায় রেখে এসেছে। আরশীর বাবা তাহলে করিডোরে কী করে আসলো? কী করে? রাভান–দ্রোহান কোথায় ছিল? বস্তায় বাঁধা নজরুলের একা একা করিডোরে আসার কথা নয়। নিশ্চয়ই কারও হাত আছে। গুহায় না গেলে সব জানতে পারব না আমি। যদি জানা যায় এতে কারও হাত আছে তাকে ছাড়ব না আমি।

এক গ্লাস পানি নিয়ে আরহাম নিচে আসে।
আরশী বলে,
“এতক্ষণ লাগে পানিটুকু নিয়ে আসতে?” তারপর তাড়াতাড়ি তার বাবার মুখে একটু পানি দেয়। তার বাবা এতক্ষণ গুঙাচ্ছিলেন, এখন একদম অচেতন হয়ে পড়ছেন। আরশী আরহামের দিকে তাকালো। মিনতির স্বরে বলল,
“বাবাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলুন।”

“এত রাতে?”

“হাসপাতাল তো খোলা থাকবে। প্লিজ।”

আরহাম মাথা ঝাঁকালো।

আরহাম আরশীর বাবাকে কোলে করে গাড়িতে বসালো।
তারপর হাসপাতালে নিয়ে গেল। অ্যাডমিট করানো হলো। বড় ডাক্তার এসে ট্রিটমেন্ট করছেন। আরশী জিজ্ঞেস করলো,
“বাবার আসলে হয়েছে কী?”

ডাক্তার জানালো,
“কেউ ইচ্ছেমতো মারধর করেছে উনাকে। ভেতরে ক্ষত আছে। ঠিক হয়ে যাবেন, সময় লাগবে। শ্বাসেরও সমস্যা। অক্সিজেন লাগিয়েছি।”

ঘড়ির কাটায় রাত তিনটে। আরশী বাবার পাশে বসে আছে মলিন মুখে। মায়ের কাছে আর যাওয়া হলো না। মা কেমন আছেন কে জানে? এখন কি একবার যাবে মায়ের কাছে? নিজে নিজেকে প্রশ্ন করে। পরমুহূর্তে ভাবে—বাবাকে একা রেখে যাওয়া কি ঠিক হবে? কিন্তু বাবার সাথে এমনটা কে করলো? কেন কেউ বাবাকে মারলো? আর আমার বাড়িতেই বা বাবা কীভাবে আসলেন? বস্তায় ভরলো কে? এত এত জবাব কে দেবে আমাকে? বাবা সুস্থ হলে হয়তো জানা যাবে।

আরহাম বাইরে ছিল। ভেতরে ঢুকে বলল,
“কেবিন বুক করেছি। তুমি শুয়ে পড়ো। আমি বাবাকে দেখে রাখব।”

“গ্লাস তো লাগানো আছে। ডাক্তার আসলে আমাদের ডাকবে। তোমারও আর রাত জাগা লাগবে না। চলো দুজন শুয়ে পড়ি। আমার সত্যি ঘুম পাচ্ছে খুব।”

আরহাম আরশীর কথামতো শুয়ে পড়লো। তার আগুন হওয়া মাথা ঠান্ডা করতে সে আরশীকে জড়িয়ে ধরে চোখ বুজল। বুকের সাথে বুক মেশালো। সারা দুনিয়া ভুলে আরশীকে অনুভব করতে লাগলো।

হঠাৎ করে এক কালো ছায়া ধীরে ধীরে ভেসে উঠলো গুহায়। আসল রূপে এলো কায়ান রাত্রেশ। তার মুখে আজ শতগুণ বেশি রাগ। চোখজোড়া অগ্নিবর্ণ। দাঁত–নখ স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা। কায়ানের এমন দানব রুপ দেখে রাভান–দ্রোহানের ভেতর কেঁপে উঠলো।

কায়ান গর্জে উঠলো,
“আরশীর বাবা বাইরে কীভাবে গেল? কীভাবে? কার হাত আছে এতে? চুপ কেন? বলো তোমরা!”

রাভান কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“জ… জানি না, সর্দার…”

দ্রোহান এক নিঃশ্বাস চেপে শেষে বলে ফেলল,
“আমি… রেখেছি ওখানে…”

কথাটা শুনে কায়ান জোরে লাথি বসলো গুহায়। কায়ানের লাথি পড়তেই মাটি কাঁপতে থাকে, ছাদের পাথর দুলে ওঠে। রাভান আর দ্রোহান দেয়াল ধরে কোনোমতে দাঁড়িয়ে থাকে।

কায়ান ক্ষিপ্ত জানোয়ারের মতো এগিয়ে এসে এক হাতে দ্রোহানের গলা চেপে ধরে। তার নখ গলার মাংসে ঢুকে যায়। রক্ত গড়িয়ে পড়ে নিচে।

“ঘরের শত্রু বিভীষণ! কোন সাহসে করেছিস? কেন করলি এটা? নিজের জানের ভয় নেই তোর? আমার হাত থেকে কে বাচাবে তোকে? আজ তোকে শেষ করে দেব!”

দ্রোহান শ্বাস নিতে পারছে না, মুখ নীল হয়ে যাচ্ছে। তবু কোনোমতে কাঁপা গলায় বলল,
“আরশীর ভালোর জন্য”

এ কথা শুনে কায়ান আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
একসাথে সব নখ বসিয়ে দেয় দ্রোহানের গলায়।
রক্ত ঝরঝর করে পড়ে পাথরের গায়ে, ছিটকে পড়ে রাভানের পায়ে। দ্রোহানের শরীর ঝিমঝিম করছে, চোখ উল্টে যাচ্ছে।

রাভান হাঁটু গেড়ে পড়ে কায়ানের পায়ে,
“সর্দার! শান্ত হন! দ্রোহান আপনার বিশ্বস্ত।
সে শুধু চেয়েছে সর্দারনী যেন কষ্ট না পান। আপনি যদি উনার বাবাকে খেয়ে ফেলতেন, আর কোনদিন সত্যিটা জেনে যেতেন তখন সাথে সাথে উনি আপনাকে ছেড়ে দিতেন! এটা ভেবেই দ্রোহান উনার বাবাকে করিডোরে রেখেছে! তাছাড়া উনার বাবাকে না পেয়ে উনি তো অশান্তিতে ভুগতেন। মনমরা থাকতেন। তার ইফেক্ট আপনার উপর ও পড়তো। উনার মন খারাপ আপনি সইতে পারতেন না। দয়া করে ছেড়ে দিন, সর্দার!”

কায়ানের বুক ওঠানামা করছে আগুনের মতো।
দাঁত বেরিয়ে আছে, চোখ ভয়ংকরভাবে জ্বলছে। হঠাৎ সে দ্রোহানকে ছুড়ে ফেলে দিল দেয়ালের পাশে।

দ্রোহান পাথরে আছড়ে পড়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যায়। রাভান তাড়াতাড়ি তাকে কোলে নিয়ে ক্ষত সারানোর চেষ্টা করতে লাগল।

কায়ান ফিরে যায় আরশীর কাছে। গিয়ে দেখে আরশী তার বাবার কাছে বসে আছে।
আরহামকে দেখে সে জিজ্ঞেস করলো,
“কোথায় ছিলেন আপনি?”

“ঘুম আসছিলো না। বাইরে গিয়ে নিরিবিলি একটু হাঁটলাম। বাবার কি অবস্থা?”

“বাবার জ্ঞান ফিরেছিল। একবার তাকিয়েছিলেন। আমাকে দেখছিলেন। পরে আবার চোখ বুজে ফেললেন। তুমি কি বাবার কাছে থাকবে? আমি একটু মাকে দেখে আসব।”

“একা যাবে?”

“সকাল হয়ে গেছে তো। একা পারব। তুমি কিন্তু আমার বাবাকে দেখে রাখবে। এখান থেকে একটু-ও সরবে না প্লিজ।”

আরহাম মাথা ঝাঁকালো।

যাওয়ার সময় আরশী আবার আরহামের হাত ধরে বলল, “আমার বাবার লুকানো শত্রু আছে কেউ। আপনি থাকলে আমার ভয় থাকবে না। আপনি বাবার কাছ থেকে নড়বেন না প্লিজ!

আরহাম আবার মাথা ঝাঁকালো।

আরশী চলে যায়।

সামনে নজরুলকে দেখে। নিজ দাদার খুনিদের একজনকে সামনে দেখে আরহামের ভেতরের দানব ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এখনই টুকরো টুকরো করে ফেলতে ইচ্ছে করে তার। চারদিকে তাকিয়ে হাত বড় করে নখ লম্বা করে নজরুলের গলা আঁকড়ে ধরতে চাইলো সে। নখ বসিয়ে দেবে,
তখনই আরশীর বলা শেষ কথাটা মনে পড়ে— “আমার বাবাকে দেখে রেখো, প্লিজ।”

আপনাআপনি নখ সরু হয়ে আসে আরহামের। হাত খাটো হয়। মাথায় যন্ত্রণা হয় তার।
এই মেয়ের প্রত্যেকটা কথা কেন তার ভেতর গেঁথে যায়? কেন সে দুর্বল হয়ে পড়ে তার কথায়? তার আরশীর বাবাকে তো মেরে ফেলা উচিত,
কিন্তু মারতে গেলেই তার বলা কথা মনে আসে কেন? আরহাম নিজে নিজে বুলি আওড়ায়, “আমি যদি এভাবে ঘায়েল হয়ে যাই তাহলে তো আমার ধ্বংস অনিবার্য।”

আরহাম উঠে দাঁড়ায়। অনেকক্ষণ হাঁটাহাটি করে জানলার কাঁচ ধরে দাঁড়ায়। চোখ বুজে নিজের চুল টানে।

রুদ্রাণী গতকালের চেয়ে আজ একটু ভালো আছেন। রোদে বসে রোদ পোহাচ্ছেন। পাশের বাসার একজন স্যুপ করে দিয়ে গেছে। খাওয়ার রুচি নেই, তবু তিনি একটু পরপর এক চামচ করে মুখে দিচ্ছেন। এই তিন–চার দিনে তার মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

তিনি বারবার রাস্তার দিকে তাকাচ্ছেন, আরশীর বাবাকে খুঁজছেন। সকালে একজনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ওখানে যে একজন পাগল থাকতো, তাকে কি দেখছো?”

লোকটা জানালো, দুই–তিন দিন ধরে লোকটাকে দেখা যাচ্ছে না।

রুদ্রাণীর ভেতর টেনশন কাজ করে। কায়ান যেন আবার খবর না পায় আরশীর বাবার, নয়তো মেরে ফেলবে। এত বছর তিনি এটা লুকিয়েছেন আরশীর থেকে, সবার থেকে, যাতে আরশীর বাবা এবং আরশী দুজনেই নিরাপদ থাকে।

আরেক চামচ স্যুপ মুখে দিতে গিয়ে হাত থেমে যায় রুদ্রাণীর। গেটের দিকে তাকিয়ে তিনি স্থির হয়ে যান। আরশী আসছে।

সেদিনও নাকি আরশী এসে আবার চলে গিয়েছিল, পাশের বাসার ভাবি বলেছিল। আজ মেয়েকে দেখে রুদ্রাণীর ভেতর খুশিতে নেচে উঠলো। আরশী কি তাহলে মেনে নিয়েছে? নাকি দরকারে এসেছে? দোটানায় ভুগেন রুদ্রাণী।

আরশী গেট পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকে দেখে মা বারান্দায় বসে আছেন। রোদের আলো মায়ের সারা গায়ে। মায়ের দিকে তাকাতে তার অস্বস্তি হচ্ছে। কেমন অপরাধবোধ কাজ করছে। তবু সে মা’র কাছে এগিয়ে যায়।

রুদ্রাণী তাকিয়ে আছেন একদৃষ্টিতে।
আরশী গিয়ে উনার সামনে দাঁড়ায় মাথা নিচু করে।

রুদ্রাণী নরম গলায় বললেন
“কিছু বলবি?”

আরশী পা নাড়াতে লাগল। কয়েক সেকেন্ড পরে জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কণ্ঠ নামিয়ে বলল,
“তোমার জ্বর সেরেছে?”

রুদ্রাণীর ভেতর আনন্দে ঢেউ তুলল। তিনি মুচকি হাসলেন। “আমাকে বুঝি দেখতে এসেছো?”

আরশী মাথা দোলায়।

“অস্বস্তি হচ্ছে তোমার? তাকাচ্ছো না কেন আমার দিকে?”

“আ… আমি সরি মা। তোমার উপর রাগ করা ঠিক হয়নি আমার। তুমি যে প্রাণী হও না কেন, তুমি আমার মা, এটাই সত্য।”

রুদ্রাণীর চোখ ভিজে ওঠে। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে দুহাত বাড়িয়ে বলেন, ” তুমি যে আমায় বুঝেছো এটাই অনেক। আসো… আমার বুকে আসো সোনা। তোমাকে ছাড়া এ বুক আগুনের মতো জ্বলছে। এসে ঠান্ডা করে দে, মা।”

আরশী সব ভুলে মাকে জড়িয়ে ধরলো।
অভিমান,কষ্ট, সব গলে গেল মুহুর্তে। মা–মেয়ের মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

আরশী বলল,
“তুমি এখনও অসুস্থ মা। দেখেই বোঝা যায়। তুমি বসে থাকো রোদে, আমি তোমার পাশেই বসছি। এ বাবা! চুলের কি হাল করেছো?”

“আজ কতদিন ধরে শোয়া… এরকমই তো হবে।”

“দাঁড়াও, আমি চুল আঁচড়ে দিচ্ছি।”

এই বলে আরশী চিরুনি নিয়ে এসে মায়ের চুল আঁচড়াতে লাগলো।

রুদ্রাণী বললেন, “আমি ভাবিনি আরশী, তুমি আমাকে মেনে নিবি!”

আরশী একটু হাসল, চোখে জল চিকচিক করছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“এই অনিশ্চয়তা নিয়ে যে মানুষটা আমাকে এত বছর লালন করেছে, তার ভুল ধারণা আমার তো ভাঙানো দরকার ছিল।”

রুদ্রাণী চোখ বুজে আলতো করে হাত রাখলেন আরশীর হাতে।
“সোনা মেয়ে আমার। আজ আমি বুঝলাম, মানুষ যা করে তাই ফিরে পায়। ভালোবাসলে তার প্রতিদান অবশ্যই পাওয়া যায়। একটু থেমে জিজ্ঞেস করেন, “জামাই কোথায় রে মা?”

“হাসপাতালে।”

রুদ্রাণী চমকালেন। পিছনে ফিরে আরশীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“হাসপাতালে কেন? কী হয়েছে? ওহ হ্যাঁ… জিজ্ঞেস করতেও ভুলে গেছি। জামাই নাকি অসুস্থ?”

“না মা, উনি ভালো আছেন।”

“তাহলে?”

“আসলে মা, একটা বড় ঘটনা ঘটে গেছে…”

এরপর আরশী তার বাবার সাথে ঘটে যাওয়া সব বলল।

রুদ্রাণী দাঁড়িয়ে পড়লেন।
নজরুলের এই নতুন জায়গায় কে শত্রু থাকতে পারে? নাকি কায়ান রাত্রেশ জেনে গেছে নজরুলের খবর? আঁতকে উঠলেন রুদ্রাণী।
তাহলে তো আরশীরও বিপদ।

তিনি বললেন,
“চলো যাওয়া যাক তোমার বাবার কাছে। উনার থেকে কিছু শুনলে বোঝা যাবে কে এসব করতে পারে।”

চলমান…….!

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ