Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ঝড়ে যাওয়া বকুলঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_২

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_২

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_২
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

রুমে শুয়ে শুয়ে আগের কথা ভাবছে বেলী । বাসর ঘরে সেদিন বসে ছিল সে । ইরফান রুমে তো এসেছিল ঠিক , কিন্তু সেখানের ঘটনা গুলো ঘটেছিল উল্টো । ইরফান এসে সোজা শুয়ে পড়ে । বেলী তখনও বসা খাটে । এরই মাঝে একটা ফোন আসলো ইরফানের মোবাইলে , ফোনটা হাতে নিয়ে বাহিরে চলে যায় সে । আর তারপর যখন রুমে আসে তখন হয়তো ইরফান না কোজ এক দানব রুমে ঢুকেছিল । ইরফান খাটের এপাশ ঘুরে হাতে ধরে টেনে নিচে ফেলে দেয় বেলীকে । অকথ্য বিশ্রী ভাষায় কথাও বলে । আর তার শেষ কথা টা ছিল ,

– তুই যদি এক বাপের জন্মের হয়ে থাকিস আমার আশেপাশেও ঘেষবি না ।

আর তারপর দিনই ইরফান চলে যায় । মুখ বুজে সব টা সহ্য করে নেয় বেলী । বিয়ের ঠিক ১ মাস পর ইরফান আবার বাড়ি আসে তাও রহমান আলীর কথায় । সেইবার রাতে বেলী ভুল করে ইরফানের গায়ে দুধ ঢেলে দেয় । আর তার শাস্তি বেশি কিছু ছিলো না , শুধু পায়ের থেকে জুতা খুলে জুতা দিয়ে মেরেছিল নিজের সদ্য বিয়ে করা বউটাকে ।
সেইবার একদিন থেকেই আবার চলে যায় ইরফান । আর তারপর লাস্ট আসে রহমান আলীর শরীর খারাপ হওয়ার পর । সেইবার আসার পরই রহমান সাহেব ইরফানকে বাধ্য করে বেলীকে নিয়ে ঢাকা থাকার । ইরফান শত না করার পরেও রহমান আলী কিছুই শুনেন নি এবং শুনতেও চান নি । জোর করেই বেলীকে ইরফানের সাথে ঢাকা পাঠিয়ে দেয় । আর যার ফল স্বরূপ আজ সে কুকুরের মত মা’র খায় ইরফানের কাছে ।

এইসব ভাবতে ভাবতে ঘুম চলে আসে বেলীর । শরীর ব্যাথা থাকা কারণে ঘুম চলে আসছে চোখে । মিনু ফাঁক দিয়ে একবার দেখে গেছে বেলীকে । মিনু মেয়েটা ইদানীং এক রকম আতংকে থাকে । ইরফান যেইভাবে মারে বেলীকে । কোন দিন জানি দেখে একেবারে মেরেই ফেলে । এই ভয়ে থাকে সারাদিন ।
বিকেলের শেষ দিকে ঘুম ভেঙে যায় বেলীর । ওযু করে নামাজ পড়ে রান্না ঘরে যায় সে । সন্ধ্যায় তারা আসলেই কফি চাইবে , বলার সাথে সাথে হাজির না করলে আবার মারবে । তাই আগে ভাগে সব করে রাখবে বেলী ।

মাগরিব নামাজের পর ইরফান আর রুবি বাসায় আসে । কলিংবেল বাজার সাথে সাথে মিনু গিয়ে দরজা খুলে । রুবি সোজা নিজের রুমে চলে যায় । ইরফান ড্রইং রুমে বসে । সোফায় বসে এ.সি টা ছেড়ে দেয় সে । এরই মাঝে বেলী কফি নিয়ে আসে । কফির মগটা ইরফানের হাতে তুলে দেয় বেলী । হাত বাড়িয়ে কফির মগটা নিতে গিয়ে বেলীর হাতে নজর পড়ে ইরফানের৷ বেল্টের বারির দাগ এখনও লাল হয়ে আছে । এটা দেখার পর একবার বেলীর মুখের দিকেও নজর দেয় ইরফান । মুখটা ফুলে একাকার হয়ে আছে । আজকে বোধ হয় মা’রের পরিমান টা বেশিই হয়ে গেছিলো । মুখে কিছুই বলে নি ইরফান । বেলী সেইখান থেকে চলে যেতে নিলে ইরফান ডেকে দেয় । ইরফানের ডাকে কলিজায় কামড় পড়ে বেলীর । বেলীর ধারণা আবার হয়তো মারবে । সেই এক জায়গায় ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মেয়েটা । আবার ডাকে ইরফান ,

– বেলী , শুন তো ?
– জ্বি ,
– রুবিকেও কফি দিয়ে আয় ।
– জ্বি আচ্ছা ,

বেলী রুবির রুমের সামনে গিয়ে দরজায় নক করে ।

– এই কে ?
– আপু আমি , বেলী ।
– কি চাই ?
– কফি দিতে আসছিলাম ,
– ভেতরে আয় ,

রুবিও কুকুর বেড়ালের মত ব্যবহার করে বেলীর সাথে । বয়সে এবং পড়ালেখায় অনেক এগিয়ে আছে রুবি । ইংলিশের উপর অনার্স কমপ্লিট করা , দেখতে শুনতেও খারাপ না , বাপের ভালো টাকা পয়সা যার কারণে মানুষকে মানুষ মনে করে না । আর বেলী , বেলী তো তার দু’চোখের বিষ । শুধু ইরফান তাকে আগে বিয়ে করার জন্যে সে প্রথম বউ আর রুবি দ্বিতীয় বউ । যদিও কয়েক দফা বলা হয়েছিলো বেলীকে ডির্ভোস দিতে , কিন্তু ইরফান চেয়েও দিতে পারে নি । কারণ গ্রামে তার বাবা রহমান আলী শুনলে তাকে হয়তো ত্যাজ্যপুত্র করে দিবে । এমনকি রহমান আলী এখনও জানে না যে ইরফান আরও একটা বিয়ে করেছে এখানে ।
রুমের মধ্যে গিয়ে বেলী কফির মগটা টেবিলের উপর রেখে চলে আসতে নিলে রুবি বেলীকে আটকে ধরে । বেলীর সামনে এসে বেলীর বাম গাল টা নিজের হাতে ধরে । আর তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বেলীকে বলে ,

– লজ্জা থাকলে আর কখনো আমার বেড টি দিতে দেরি করবি না । আজকের মা’রের কথা মনে থাকলে ।
– হু ,
– মনে থাকবে ? ঠিক সকাল ১০ টায় আমার বেড টি চাই আমার বিছানার পাশে ।
– থাকবে ,
– যাহ এখান থেকে ।

রুবি ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বেলীকে । চোখের পানি মুছতে মুছতে রান্না ঘরে ঢোকে বেলী । বেলীকে দেখে মিনু বুঝে যায় , কিছু একটা হয়েছে ।

– আবার কিছু কইছে ওই নবাবের বেটি ?
– মিনু আস্তে বলো বোন , শুনলে তোমাকে বের করে দিবে ।
– দেক বাহির কইরা , আমার কি আসে যায় , আমার কি আপনের মত কইলজা ছোড নি , তা কি কইছে সে ?
– কিছুই বলে নাই ।
– দেহি আমার দিকে তাকান তো ,

মিনু বেলীর মুখটা ধরে তার দিকে ঘোরায় । বেলীর মুখটা আসলেই অনেক মায়ায় ভরা । মিনু কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে , তারপর আবার বলে ,

– ভাইয়েরে ভালাবাসেন ?

মিনুর কথায় চোখ বড় করে তাকায় বেলী । মিনু এইসব কি বলে ? আসলে এইটাই যে বেলীর মনের কথা । কিন্তু মিনু বুঝে ফেললো কিভাবে ?

– মিনু কি সব বলো ?
– আপনে ভালাবাসেন ভাইয়েরে , এইজন্যেই তার এমন পিডা খান । ভাবী একটা কথা কই ?
– বলো ,
– আপনেরে মাইরাই ফেলাইবো ভাইয়ে । ভাবী এহনও সময় আছে , যান গা ।
– কই যাবো মিনু ? যাওয়ার মত কোন জায়গা আছে ? গ্রামে যাইতে পারবো না সেইদিকে তার বাবায় আছে । আর আমার মা ? তার কাছে থাকলেও মানুষে অনেক বাজে বাজে কথা বলবে ।
– শরীরডা তো আছে , রত তো আছে , কাম কইরা খাইবেন । তবুও আর মাইর খাইয়েন না ।
– কিন্তু আমি তাকেও ছাড়তে পারবো না ।
– কিহ , ধুর বেয়াক্কেল মাতারি , যান যান মরেন গিয়া , আমার কি ? আপনেরে মাইরা ফালাইয়া রাইখা যাইবো আর আমি গিয়া মলম লাগামু । হায়রে ভালাবাসা রে , ফিছা মারি এমন ভালাবাসার কফালে ।

মিনু রেগে মেগে বক বক করতে করতে কাজে মন দেয় । বেলী রুমে যায় , দরজা এটে দিয়ে ওড়নায় মুখ চেপে কেঁদে দেয় ।
বেলী সত্যিই নিরুপায় । কি করবে সে ? আবেগের কাছে সে বাঁধা । ভালোবাসে অনেক ইরফানকে , যদিও সে জানে ইরফান তাকে শুধুই তার বাসার বান্দি ভাবে , বউ সে কখনোই হতে পারবে না । তবুও কেন জানি বেলী ছাড়তে পারে না ইরফানকে ।

[ বিঃদ্রঃ সমাজে এখনও কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা ভালোবাসা আর আবেগকে প্রাধান্য বেশি দেয় । যার জন্যে প্রতি বছর কম করে হলেও ৫০% স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে স্বামীর হাতে । অনেকেই বলে , বিশেষ করে আমাদের মত মেয়েরা কিংবা আমি নিজেই বলি এমন স্বামীর কাছে না থাকলে কি হয় , কাজ করে খেলেই তো হয় , কিন্তু আসলে যার যার পরিস্থিতি সে সে বুঝে । কতটা অসহায় পরিস্থিতি হলে একটা মেয়েকে সতীন নিয়ে ঘর করতে হয় কিংবা স্বামী দ্বারা নির্যাতিত হতে হয় , আর মেয়েরাও অনেকটা হিংস্র যারা অন্যের সংসার এইভাবে নষ্ট করে । গল্পটা আমাদের সমাজের প্রাচীন এবং বর্তমান কিছু প্রেক্ষাপটে বানানো সাথে কিছু সত্যতা/বাস্তবতা এবং কিছুটা কাল্পনিকতার মিল রেখে লিখা হয়েছে । কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে লেখিকার দোষ নেই ]

সকাল সকাল উঠে নাস্তা বানিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখে বেলী । রোজ সকাল ৯ টায় অফিসে যায় ইরফান । এই ৭ মাসে ইরফান শুক্রবার ব্যাতিত সপ্তাহে ৬ দিনই একা নাস্তা করে । কারণ তার দ্বিতীয় স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে সকাল ১০ টায় । তার পক্ষে সকাল সকাল উঠা ইম্পোসিবল ব্যাপার আর নাস্তা বানানো তো অসম্ভব ব্যাপার । এই ৭ মাসে সে একবারও রান্নাঘরে ঢুকে দেখেও নি রান্নাঘরের চেহারাটা কেমন ? ইরফান একাই ঘুম থেকে উঠে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে নাস্তা খেয়ে অফিসে চলে যায় । তার বাঁধা বান্দি বেলী তো আছেই , সেই সব করে দেয় ।
আজও ব্যাতিক্রম কিছু হয় নাই । বেলী সব সাজিয়ে রাখে , মিনু দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করছে রান্নাঘরে । ইরফান শার্টের হাতা ঠিক করে ব্লেজার হাতে নিয়ে নাস্তার টেবিলে বসে । ইরফান বলার আগেই তার সামনে সব হাজির করে রাখে । ইরফানের সকালবেলা দুধ চা না হলে চলেই না । আর বেলী চা + কফি দুইটাই ভালো বানায় , যদিও ইরফান কখনো প্রশংসা করেনি এইসবের । তবে সেও মানতে বাধ্য হয় যে হ্যাঁ বেলী চা টা ভালোই বানায় । নাস্তা করতে করতে এক হাত দিয়ে কলারের নিচের বোতামটা খুলতে গিয়ে একদম পুরো ছিড়েই ফেলে ইরফান ।

– ধুর , মেজাজটা কেমন লাগে এখন , তাড়াতাড়ির সময় দেরি হয়ে যায় ।

বেলী সাইডে দাঁড়িয়ে ছিল বিধায় দেখে সব । আর মিনু রান্নাঘর থেকে সবটাই খেয়াল করে । মুচকি হাসি দিয়ে ভেতরেই বক বক করে সে ।

– এক্কেবারে ভালা হইছে , হারামজাদা অসিভ্য বেডা । বিয়া একটা কইরা আবার আরেকটা করছে , বউডারে জানোয়ারের মত ফিডায় , এক্কেরে ভালা হইছে । এই বেডায় এক জানোয়ার আর এইডার ছোড বউডা আরও বদমাইশ ।

ইরফানের চৌদ্দ গুষ্টিকে তুঙ্গে তুলে দেয় মিনু । যদিও আস্তে আস্তে বলেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মিনু । কারণ ইরফান বা রুবি কারো সামনেই এইস বলার ক্ষমতা নেই তার । তাই নিজে নিজেই বলে । এইদিকে বেলী ফ্লোর থেকে বোতামটা কুড়িয়ে হাতে নেয় । ইরফান একা একাই বলতে থাকে ।

– আজকে প্রেজেন্টেশন আর আজকেই এমন হতে হলো , ধুর

বেলী ইরফানের বিরক্ত হওয়া দেখে নিজেই বলে ওঠে ,

– আমি লাগিয়ে দেই ?
– এখন আবার শার্ট খুলতে হবে , লাগাতে গেলে শার্টের ইস্ত্রিটাও নষ্ট হয়ে যাবে ।
– আপনি নাস্তা খান , আমি সুই-সুতা নিয়ে আসি । শার্ট খুলতে হবে না , এমনিতেই লাগানো যাবে ।

ভেতর থেকে সবটাই শুনে নেয় মিনু । বেলীর উপর অতিরিক্ত মেজাজ খারাপ লাগছে তার ।

– এহহহহহ , হের এক্কেরে আদর বাইয়া বাইয়া পড়ে । এহন হের পেয়ারের ছোড বউরে উডাইয়া লাগাইতে ফারে না । শয়তান এইডা নামাজ কালাম তো ফড়েই না চিত্তায়া পইড়া ঘুমায় । অসিভ্য বেডি কোনহানের ।

এই বলে বোতামটা হাতে নিয়েই বেলী রুমে যায় সুই-সুতা আনতে । প্রায় ৫ মিনিট হয়ে যায় বেলীর আসার খবরও নেই । ইরফানের নাস্তা খাওয়াও শেষ হয়ে যায় । কিছুক্ষন বসে থেকে নিজের রুমে যায় ইরফান । রুবি তখনও ঘুমাচ্ছে । রুবিকে ডাকতে থাকে সে ।

– রুবি , এই রুবি,,,,,,?
-…….
– আরে এই রুবি , শুনছো ?
– কি হয়েছে ডাকো কেন ?
– শার্টের বোতামটা লাগিয়ে দেও না ।
– শার্টের কি অভাব পড়ছে ঘরে , আরেকটা পরে যাও ।
– কি সব বলো ঘুমের তালে , আজকে আমার প্রেজেন্টেশন । তাই তো এই শার্ট পরছি আমি ।
– ঘুমাইতে দিবা একটু , আমি তোমার বোতাম লাগানোর জন্যে ঘুম নষ্ট করবো নাকি , যাও সরো এখান থেকে । পারলে নিজে লাগিয়ে নাও ।

ধমক টমক দিয়ে আবার ঘুমিয়ে যায় রুবি । ইরফানের মেজাজ সেই লেভেলের চড়ে গেছে । ওর মন চাইছে রুবি এক লাথি মেরে খাট থেকে ফেলে দিতে । কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই । একবার জোরে ধমক দিয়েছিল বলে রুবির বাবা ইচ্ছামত ঝেরেছিল ইরফানকে । বড়লোকের মেয়ের এই একটা সুবিধা , বাপের অঢেল টাকা পয়সা থাকলে জামাইকে পাত্তা দেয় না । এখানে রুবিও তেমনটাই । ইরফান নিজের রুম থেকে বেরিয়ে বেলীর রুমে যায় । গিয়ে দেখে বেলী তখনও সুচে সুতা গাঁথছে । ইরফান রুমের ভেতরে যায় ,

– তুই এখনও সুতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস ?
– আসলে আমি ভুলেই গেছিলাম এইগুলা কোথায় রাখছি , খুজতে খুজতে এই মাত্রই পাইলাম , এখনি সেলাই করে দিচ্ছি ।
– তাড়াতাড়ি কর ।
– এই তো হয়ে গেছে , এখনি লাগিয়ে দিবো ।

এই বলে বেলী ইরফানের সামনে যায় । কাঁপা কাঁপা হাতে ইরফানের বুক অবদি উঠায় নিজের হাত জোড়া । যথাস্থানে বোতামটা রেখে সুই গাঁথে বেলী । ইরফান খেয়াল করছে বেলীর হাত প্রচন্ড কাঁপছে । ইরফান একবার বেলীর মুখের দিকেও তাকায় । বেলী সব সময় মাথায় ওড়না পরে থাকে । দুই পেচ দিয়ে চুল গুলো ঢেকে সে ওড়না পরে সব সময় । গালের দিকে নজর দিয়ে দেখে কালকের মা’রের দাগ গাঢ় হয়ে আছে ।

– তুই এইভাবে যে কাঁপছিস , কখন না জানি আমার বুকেই সুই গেঁথে দেস ।
– ভয় নাই আমি কারো বুকে মনে আঘাত করি না ।
– মুখে কিছু দেস না ? এমন কালসে হয়ে আছে কেন ? স্নো বা কিছু কি নাই ?

ইরফানের এমন কথায় বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো বেলীর । কান্না পাচ্ছিলো ভিষণ সেই মুহুর্তে , কিন্তু তবুও সে চুপ করে আছে । লাস্ট কবে স্নো মেখেছিল সেইটাও ভুলে গেছে সে । ইরফান সাইডে তাকিয়ে কোন স্নোর বক্স খুজে পায় নি । ওমনি তোতলাতে তোতলাতে বেলী কিছু বলে ,

– একটা কথা বলতাম ?
– বল ,
– আমার দুইটা জামা লাগতো ?
– কেন , জামা নাই ?
– বাড়ি থেকে যেইগুলা আনছিলাম সেই গুলাই এতদিন পরছি , জামা গুলা ছিড়ে গেছে । আর কয়েকটার রঙ জ্বলে গেছে । আমাকে সুতির জামা কিনে দিলেই হবে ।
– কেমন সুতির জামা পরবি ?
– ৬০ টাকা গজের গজ কাপড় গুলা আছে না গ্রামে পাওয়া যাইতো , ওই রকম এনে দিলেই হবে ।
– আচ্ছা দেখি পাই কিনা ,

বোতাম লাগিয়ে দেয়ার পর ইরফান রুম থেকে বেরিয়ে যায় । কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আবার রুমে ঢোকে সে ।

– কয় গজ লাগে তোর ?

পিছনে ফিরে তাকায় বেলী , ইরফানকে আবার রুমে আসতে দেখে অবাক সে । তারপর ইরফানের ডাকে কথার উত্তর দেয় ,

– জ্বি ,
– কয় গজ লাগে তোর ?
– জামা ওড়না সেলোয়ার সব গুলাতেই আড়াই গজ লাগে ।
– আচ্ছা ,

বেরিয়ে যায় ইরফান । তারপর সোজা নিচে চলে যায় সে । বেলীর রুমের জানালা দিয়ে নিচের সব কিছুই দেখা যায় । পর্দার আড়ালে ইরফানকে এক নজর দেখবে বলে নিচে তাকায় সে । ইরফান তখনও নিচে দাঁড়ানো ছিল । আজ ইরফানকে ভালোই দেখাচ্ছিলো । সাদা ফরমালে অনেক সুন্দর লাগছিলো তার বরটাকে । এরই মাঝে মিনু এসে পিছন থেকে বেলীর গায়ে হাত রাখে ।

– কিছু বলবা মিনু ?
– আপনে মানুষ হইবেন কবে ?
– মানে ,
– ফিডা খাইতে খাইতে কি লজ্জা শরমের মাতা খাইছেন আপনে ?
– কি হইছে বলবা তো ।
– কি দরকার ডা আছিলো ভাইয়ের জামার বোতাম লাগানোর । আমি তো দরকার দেখলাম না ।
– আমি তো দেখছি ।
– এহন হের ছোড বউ কই যহন প্রয়োজন পড়ে তহন আপনের কাছে আহে , আর ছোড বউয়ের কান কতা হুইন্না আপনেরে গুম্মুর গুম্মুর লাগায় । বেডা বজ্জাত কোনহানকার ।
– থাক না মিনু , মানুষটার আজ অফিসে কি জানি আছে । আর আমি মনের মধ্যে হিংসা রাখতে পারি না । বাদ দাও ,
– আমি যে কই আপনে বেয়াক্কেল মাতারি কতা ডা আমি ভুল কই না আপনে আসলেই বেয়াক্কেল মাতারি । তো যান এহন আপনের সতীনের বেড ঠি লইয়া যান , নবাবজাদি বিছানায় নইয়া চা পান করবো ।
– মিনু কোনদিব জানি সব শুনে ?
– শুনুক গা তাতে আমার কি ? আমি ডরাই না কাউরে ।

এ বলে মিনু রুম থেকে বের হয়ে যায় । আর বেলীও কফি নিয়ে রুবির রুমে যায় । দরজায় নক করার পর রুবি ভেতরে যেতে বলে । রুবি তখন বিছানায় বসেছিল
। বেলীকে দেখে রুবি একটা হাসি দেয় । রুবির ভেজা চুল গুলো বেলীর ভেতর টাকে ফালা ফালা করছিল , তাড়াতাড়ি কফির মগটা রেখে বেরিয়ে যেতে নিলে রুবি ডাক দিয়ে বসে ,

– যাস কই তুই , আমি কি বলছি যেতে ?
– কিছু লাগবে ?
– নাকি আমার ভেজা চুল তোর সহ্য হয় না কোনটা ?
– হাতে কাজ তো , তাই আর কি ।
– আফসোস লাগে তোর জন্যে , তোর বর আমারও বর । ফারাক হচ্ছে তোর বর আমাতে মত্ত্ব , আর তোকে দেখতেই পারে না । প্রতি রাতে সে আমাতে লেপ্টে থাকে আর প্রতি রাতে তুই একা ঘরে কাতড়াস । আফসোস লাগে রে বড় আফসোস লাগে তোর জন্যে ।
– আমি আসতেছি কফিটা খেয়ে নিন ।

এই বলে বেলী রুম থেকে বেরিয়ে যায় । দৌড়ে নিজের ঘরে এসে বিছানায় উপুর হয়ে পড়ে । বুকে হাত দিয়ে মুখে বালিশ চেপে চিৎকার করে কাঁদে বেলী ।

– এমন টা তো হওয়ার কথা ছিল না । তবে কেন এমন হলো , বাবা আমাকেও সাথে করে নিয়ে যাইতা । এতিম করে কেন গেলা বাবা । এখন আমি কার বুকে মাথা রাখবো বাবা ।

.
.

চলবে………………….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ