Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_১৩

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_১৩
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

নামটা শুনেই ধপ করে পুকুর ঘাটেই বসে পড়ে বেলী । আজ প্রায় ১০ মাস পর রাজুর কথা আবার মনে পড়লো বেলীর । নিঃশব্দ মুখে শান্ত চোখ জোড় বেয়ে ক্রমাগত পানি গড়িয়ে যায় গাল বেয়ে বেলীর । সারাদিনের পর ক্লান্ত শরীরটা তার এই কথাটার জন্য প্রস্তুত ছিল না । এমন সময় ময়না আবার বলে উঠে ,

– আমি তো পুরাই অবাক হইছিলাম ফোন পাইয়া ।
– কি কইলো সে ?
– তোর কথা জিগাইছে ,
– কি ,,,,,?
– শুনলাম বেলীর বিয়ে হইছে , বেলী কি এখন ঢাকা থাকে ? – এই সব বললো ,
– কি বললি তুই ?
– আমি বলেছি আমি সঠিক জানি না ।
– ভালো করছিস , কখনো বলিসও না ।
– তার কাছে হয়তো ভালোই থাকতি তুই , জানিস চাকরি করে একটা , অনেক ভালো টাকা বেতন পায় ।
– আমি এখন অন্যের বউ রে , এইসব শুনাও গুনাহ । জেনে শুনে গুনাহ কিভাবে করি ।
– ১০ মিনিট কথা বলছিল ৭ মিনিটই তোর কথা বললো ।
– আমার কথা কখনো বলিস না , তার সামনে কখনো হয়তো যাইতে পারবো না ।
– এটা রাখ ,
– কি এটা ?
– রাজু ভাইয়ের নাম্বার ,
– এটা আমার কোন কাজেই লাগবে না , বাদ দে ।
– রেখে দে বেলী , যদি কখনো ভালো লাগে কথা বলে নিস ।

এই বলে ময়না কাগজের টুকরো টা বেলীর হাতে দিয়ে দেয় । তারপর বেলীর সাথে আরও কিছুক্ষণ কথা বলে ময়না বিদায় নেয় । বেলী তখনও ঘাটে বসা । আসর আজান পড়ে যায়৷ কানে আজানের আওয়াজ পেতেই লাফিয়ে উঠে সে । তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে যায় । আজ সন্ধ্যার পর হয়তো তাকে শ্বশুরবাড়িও যেতে হবে কারণ রহমান আলী চান এক রাত তার কাছেও থাকবে তার ছেলে আর ছেলের বউ । বাড়ি এসে নিজের রুমে যায় বেলী । ইরফান তখন ওইদিক ফিরে শুয়ে আছে । আজ সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে মানুষটা । তাই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে । এইটা ভেবে বেলীও চুপচাপ কোন শব্দ ছাড়া কাজ করে । আস্তে করে নিজের পার্সের মধ্যে ময়নার দেয়া কাগজের টুকরোটা রেখে দেয় । তারপর অযুর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় রুম থেকে । কল পার থেকে অযু করে ঘরে এসে নামাজ আদায় করে নেয় বেলী ।
সন্ধ্যা হতে আর বেশিক্ষণ সময় নেই । বেলী সব গুছিয়ে নিয়েছে । কালকেই আবার ঢাকা ফিরতে হবে তাদের । আবার সেই বন্দী জীবন । নিজের স্বামী আর সতীনের সংসারে ফিরতে হবে তাকে । অপরদিকে রাজুর কথা বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে । এদিকে ইরফানও খেয়াল করছে বেলী কেমন জানি চুপচাপ হয়ে গেছে । কিন্তু সে কিছু বলেনি বেলীকে ।
মায়ের থেকে একেবারে বিদায় নিয়ে বেলী আর ইরফান বেরিয়ে পড়ে । একটা রিক্সা ধরে উঠে যায় বেলী আর ইরফান । ১০ মিনিটের রাস্তা , তাই বেশি একটা ঝামেলাও হয়নি পৌঁছাতে তাদের । বেলী পুরো রাস্তা চুপচাপ ছিল । ইরফান প্রথমে ভেবেছে তার মায়ের জন্যে মন খারাপ তাই সে আর তেমন কিছু বলে নি ।
বাড়ি পৌঁছে শ্বশুরকে সালাম করে নেয় বেলী । ঘরের ভেতরে গিয়ে বেলী একটু অবাক হয়ে যায় । পুরো ঘর‍টাই এলোমেলো হয়ে আছে । অথচ ইরফান একজন কাজের মহিলা ঠিক করে দিয়েছিল । সেই মহিলা থাকা স্বত্ত্বেও ঘরবাড়ির এই অবস্থা । তাই ইরফান রাগারাগি করে । অন্যদিকে বউয়ের হাতে রান্না খাবেন বলে রহমান আলী বাজার করে এনেছেন বিকালেই । তা দেখেও ইরফান ফোপাতে থাকে । এখন এই সন্ধ্যার পরে বেলীকে আবার চুলার কাছে যেতে হবে । গ্যাস হলে সমস্যা ছিল না কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মাটির চুলা বলে । কিন্তু বেলী একবারের জন্যেও বলেনি যে তার রান্না করতে সমস্যা হবে । তাই বুদ্ধি করে আগে আগে ইরফানের রুমের বিছানার চাদর পালটে নতুন চাদর বিছিয়ে পুরো রুম পরিষ্কার করে দেয় বেলী । নয়তো দেখা যাবে ইরফান রাতে বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকবে কিন্তু রুমে আসবে না । এক ঘন্টার মত সময় নিয়ে সব পরিষ্কার করে দেয় বেলী । আর কাল সকাল সকাল উঠে পুরো বাড়ি পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে । কারণ তারা দুপুরের বাসে যাবে । এরই মাঝে রহমান আলী ডাক দেয় বেলীকে ।

– বউমা ,,,,,,,, ও বউমা ,,,,,,,,,?
– জ্বি বাবা ,
– এখন কি রান্না করবা ? নাকি কালকে করবা ।
– বাবা এখনি যাইতেছি আমি পাকেরঘরে । আপনার ছেলের রুমটা পরিষ্কার করলাম একটু বাবা ।
– ওহ ,
– বাবা , খালা কি কাজ করে , সব কিছু এমন এলোমেলো কেন বাবা ?
– কি জানি মহিলায় কি ছতরবতর কাজ করে , বুঝি না আমি ।
– আচ্ছা কাল সব বুঝিয়ে দিয়ে যাবো আমি ।
– আচ্ছা ,

শ্বশুরের সাথে কথা বলে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বেলী রান্না ঘরে যায় । রান্নাঘরে সব কিছুই রাখা আছে তাদের । এইদিকে ইরফান ওদের বাড়ির ঘাটে বসে আছে । এরই মাঝে রুবির ফোন আসে । আশেপাশে তাকিয়ে ফোন রিসিভ করে ইরফান ।

– হ্যাঁ ,
– কবে আসবা ?
– কাল ,
– তাহলে আমায় এসে নিয়ে যাবা ।
– অসম্ভব , নিজে যেমন গেছো ঠিক তেমন আসবা ।
– মানে কি ?
– মানে আমি যা বললাম তাই । নিজে গেছো আর নিজেই আসবা ।
– আর যদি না আসি ?
– তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আমি বেঁচে যাবো ।
– এত সোজা ?
– রাখছি ,

লাইন কেটে দেয় ইরফান । ইদানীং রুবিকে তার অসহ্য লাগে । ইচ্ছে করেই কথা বলে না সে রুবির সাথে । কেন জানি বেলীর আশেপাশে থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ইরফান । ইরফানের মনের ঘরে তারই অজান্তে এখন বেলীর বিচরণ । তার মনে এক এক সময়ে এক এক ভাবনা , কখনো মন চায় বেলীকে নিয়ে হারাতে ওই দূর অজানাতে আবার কখনো মন চায় নিজেই হারাতে বেলীর মাঝে । বেলীর মাঝে কিছু তো একটা আছে যা ইরফানকে খুব করে টানে ।
মোবাইল টা অফ করে বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই দেখে উঠানের এক সাইডে রান্নাঘরে আলো জ্বলছে । ইরফান পা বাড়াতেই দেখে বেলী রান্না করে । একা হাতে এই রাতের বেলা রান্না করছে মেয়েটা । ঢাকাতে তো মিনু সাহায্য করতো কিন্তু এখানে তো একদম একা । বেলী এতইটাই শান্ত যে বেলীর হাতে ঘটি বাটিও শব্দ করতে পারে না । ইরফান কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ঘরের ভেতর চলে যায় । নিজের রুমে ঢুকে সে রীতিমত অবাক হয়ে যায় । সব কিছু পরিষ্কার , বিছানার চাদর থেকে শুরু করে রুমে যা যা ফার্নিচার ছিল সব পরিষ্কার করা । এমনকি রুমের পাপসটা পর্যন্ত পরিষ্কার করা । ইরফানও বুঝে যায় এটা বেলী ছাড়া অন্য কারো কাজ না । ইরফান বুঝে উঠতে পারে না , বেলী এত কাজ করে কিভাবে । বেলীর জায়গায় রুবির কাছে যদি তার বাবা আজকে রান্নার আবদার করতো হয়তো এই জীবনেও তার বাবার সেই আবদার পূরণ হতো না । আর সে জায়গায় বেলী বিনা কথায় সব করে ।
এইসব ভাবতে ভাবতেই বেলীর ডাক পড়ে ,

– শুনছেন ,,,,,,,?
-………..
– শুনছেন , ঘুমিয়ে গেছেন ?
– ওহ তুমি , চোখটা লেগে আসছিলো ।
– খাবার বাড়ছি , খেতে আসেন ।
– হু ,

ইরফান বেলীর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিল তার নিজেরই খেয়াল নেই । হয়তো এরই মাঝে বেলীর সব রান্না হয়ে গেছে । ইরফান আর দেরি না করে খেতে চলে যায় সেখানে ইরফানের বাবা ৷ রহমান আলী তার জন্যে অপেক্ষা করছে ৷

ইরফান ও রহমান আলী খাবার খাবে এমন সময় রহমান আলী বেলীকে তাদের সাথে খেতে বলে ,

– বউমা ,,,,,,,?
– জ্বি বাবা ,
– আমাগো সাথে খেয়ে নেও ,
– আপনারা খান বাবা , পরে আমি খেয়ে নিবো ।
– পরে তুমি কি একা একা খাবা নাকি মা , এখনই বসে পড়ো ।
– বাবা আপনারা খান ,
– বাবা বলতেছে তো বসার জন্যে , বসে খেয়ে নিলে কি হবে তোমার ?

ইরফানের এমন কথায় ভয় পেয়ে যায় বেলী । কারণ কথাটা একটু জোরেই বলেছে ইরফান । তাই রহমান আলীও ইরফানকে ডাক দেয় এই ব্যাপার নিয়ে ।

– ইরফান , বউমাকে ধমকাস কেন তুই ?
-…………….
– আমি তো বলতেই আছি , মাতাব্বরি করবি না একদম , এটা আমার মা ।
মা তুমি বসো , আমার সাথে কয়টা খেয়ে নেও ।

শ্বশুরের কথায় বেলীও খেতে বসে যায় । রহমান আলীর অনেকদিনের শখ ছিলেন লাউ চিংরি খাবেন তা আজ বেলী পূরণ করে দিয়েছে । ইরফানের জন্যে আলাদা করে মাছ ভুনা আর চিকেন ঝোল করেছে , আর তার বাবার জন্যে লাউ চিংরি , পুটি মাছ ভাজা , চিংরি ভর্তা করেছে বেলী । বেলী শুধু একটু ভর্তা দিয়ে অল্পকয়টা ভাত খেয়েছে । ইদানীং খাওয়ার প্রতিও তার অরুচি ধরে গেছে । কিছুই খেতে ভালো লাগে না তার ।

– কিরে মা , এই কয়েকটা ভাত নিলি ?
– বাবা এই কয়টাই বেশি ।
– হায় হায় বলে কি ? এমনে খেলে তো অসুস্থ হয়ে যাবি ।
– নাহ বাবা আমি ভালোই আছি ।

ইরফান আড় চোখে নজর দিয়ে বেলীকে দেখে । কিছু তো একটা হয়েছে বেলীর । কেমন জানি লাগছে তাকে , বেলী তো এইভাবে থাকে না । শান্ত থাকে কিন্তু এমন ভাবে থাকে না এটাই ইরফানের খটকা লাগছিল । ইরফান আর কিছু না বলে চুপ করে খেয়ে উঠে যায় । এইদিকে বেলীও সব গুছিয়ে রেখে রুমে যায় । ইরফান তো খাটে শুয়ে মোবাইল টিপছে । ইরফানের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে বেলী । এই সেই রুম আর এই সেই খাট যেখান থেকে ইরফান বাসর রাতেই তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আর বলেছিল ” তুই যদি এক বাপের জন্মের হয়ে থাকিস আমার আশেপাশেও ঘেষবি না ” । কথাটা আজও মনে আছে তার । আর তারপর একদিন ভুলবশত দুধ পড়ে যাওয়ায় জুতা মেরেছিল । নিয়তি বড্ড বেশি খেলা করে গেছে বেলীর সাথে । নিয়তি বেলীর কাছ থেকে শুধু নিয়েই গেলো বিনিময়ে কিছু দিয়ে গেলো না । এইসব কিছুক্ষন ভেবে তারপর ফ্লোরেই মাদুর পাততে থাকে বেলী । বেলীর মাদুর পাতা দেখে ইরফান তাকিয়ে থাকে বেলীর দিকে । তারপর অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় নিচু স্বরে বেলীকে ডাক দেয় ইরফান ,

– বেলী,,,,,,,,?
– জ্বি ,
– মাদুর কেন পাতো ?
– এখানেই শুবো ,
– বিছানায় কি হয়েছে ?
– আমি এক বাপের জন্মের ।

কথা শুনেই ইরফান কিছু উপলব্ধি করতে পারে । আর তখনই খাট থেকে নেমে বেলীর কাছে যায় সে । বেলীর বাম হাত টা ধরে আর বলে ,

– কোন রকম তামাশা চাই না , খাটেই শুবে তুমি , যাও ।
– আমি এখানেই ঠিক আছি ।
– এমন আছাড় দিবো , যাও খাটে ।

তবুও বেলী দাঁড়িয়ে আছে সেখানে । ইরফানের মেজাজ খারাপ হয়ে যায় । টানতে টানতে বিছানার কাছে নিয়ে যায় সে বেলীকে । তারপর জোর করে শুইয়ে দেয় বেলীকে ।

– যদি উঠেছো তো , আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না ।
– এভাবে জোর করলে কি মুখের কথাটুকু ফেরত নিতে পারবেন । কথায় আছে , বন্দুকের গুলি , ধনুকের তীর , ফেলে দেয়া থুতু আর মুখের কথা কিছুই ফেরত যায় না , শুভ রাত্রি ।

এইটুকু বলে বেলী চোখ বন্ধ করে ফেলে । ইরফান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে বেলীর দিকে । তারপর নিজেও এপাশে এসে শুয়ে যায় । একটা সময় সেও ঘুমিয়ে যায় ।

গভীর রাতে ইরফানের ঘুম ভাঙে কারো কান্নার শব্দে । ইরফান ঘুম থেকে উঠে দেখে বেলী পাশে কাঁদছে । এত রাতে কি জন্যে এইভাবে কাঁদছে সে , প্রশ্নটা মাথাতে এলেও তাৎক্ষনিত সে কি করবে বুঝতে পারছিল না । অন্যদিকে বেলীও ঢুকরে কাঁদছে । ইরফানের আর সহ্য হয় নি ইরফান বেলীর কাধে হাত দিয়ে বেলীকে এক পাশ থেকে সোজা করে শুইয়ে দেয় ,

– কি হয়েছে ?
-……….
– এত রাতে কাঁদতেছো কেন ?
-………..
– বেলী কি হয়েছে বলো ?
– একটা দাড়িপাল্লা , তার দুটো পাল্লার এক পাশে সুখ আর অন্যপাশে দুঃখ । মাপলে কেন দুঃখের পাল্লাটাই ভারী হয় , বলতে পারেন ?

বেলীর এমন কথায় স্তব্ধ হয়ে যায় ইরফান , ড্রীম লাইটের আলোতে ইরফান বেলীকে দেখছে নিবিড় ভাবে । বেলীর চোখের পানিগুলো চিক চিক করতেছে ।

– বলুন না , কেন সুখের চাইতে দুঃখের পাল্লাটা ভারী হয় ?
– বেলী কেঁদো না
– আমার সুখ চাই ,
– বেলী !!
– হ্যাঁ , আমার সুখ চাই । আজকে আপনার কাছে আমি আমার অধিকার টুকু চাই । দেবেন ?
-…………..
– এই বলেন না , দিবেন ?
-……………
– আমি সহ্য করতে পারি না , এইভাবে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয় । আমি মরে যাবো এইভাবে থাকতে থাকতে ।
– বেলী কি সব বলছো ?
– শুনেন না , আজ আমায় একটু ভালোবাসবেন ?
-………….
– এই আমার দিকে দেখেন , আমার আপনাকে চাই , আপনার এই শরীরটা আমার চাই , আপনার অংশ চাই আমি ।
-……………
– শুনতে পাচ্ছেন আপনি , আমার আপনাকে চাই । এতদিন পর আজ চাইছি আপনাকে , দিবেন না আমায় আপনাকে ?
-…………
– ইরফান এইদিকে দেখেন , এক রাতের জন্যে চাই আপনাকে । এই শরীরটা আপনার শরীরকে চায় ইরফান । আমার দিকে তাকান ।
-………….
– ইরফান চুপ করেই থাকবেন ? কিছু বলবেন না ? ইরফান এমন যেন না হয় , আপনি আসলেন আমার কাছে কিন্তু আপনাকে পাওয়ার জন্য আমিই রইলাম না ।

ইরফান আর কথা না বলে থাকতে পারেনি , ওই অবস্থাতেই বেলীকে জড়িয়ে নেয় ইরফান । বেলীও ইরফানকে জড়িয়ে নেয় । আজ বেলী ধরা দিয়েই দেয় তার ভালোবাসার কাছে । ইরফানের স্পর্শ পেয়ে বেলী আরও আঁকড়ে ধরে ইরফানকে । আজ বেলী কাঁদছে , ঢুকরে কাঁদছে আর ইরফানকে বলছে ,

– ইরফান আজ কোন কথা না বলি , আজ শুধু ভালোবাসুন । কোন শর্ত ছাড়া ভালোবাসুন আমায় ।

বেলীর কথায় ইরফান বেলীকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে । নিজের গায়ের কাথাটা সরিয়ে বেলীর কাথার নিচে ঢোকে ইরফান । বেলীর গায়ের ওড়নাটা সরিয়ে নেয় সে । বেলীর কপালে আলতো করে ভালোবাসার পরশ একে দেয় ইরফান । বেলীর নিঃশ্বাস যেন সেখানেই বন্ধ হয়ে যায় । বেলীর হাতের বন্ধনে নিজের হাত আবদ্ধ করে নেয় ইরফান । শরীরের নিচে দু জোড়া পা একে অপরকে জড়িয়ে নেয় । ইরফানের ডান হাতটা বেলীর গাল গলা কাধ স্পর্শ করে যায় । এক সময় হাতটা বেলীর পিঠে চলে যায় । বেলীর বাম কাধ থেকে ইরফান জামাটা টেনে নিচে নামিয়ে নেয় । বেলী যত শক্ত করে পারে আঁকড়ে ধরে ইরফানকে ।
বাহিরে ডাহুক পাখি ডেকে উঠে , সাথে ঝিঝি পোঁকার শব্দ । আজ আকাশে পূর্নিমার চাঁদ উঠেছে । সেই আলোয় দুটো শরীর মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে । ভালোবাসা গুলো জানান দিচ্ছে । পুরো ঘর জুড়ে চাপা আর্তনাদ । আজ কারো মুখেই কথা নেই শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া । মিলনের মাঝে ক্লান্ত শরীরে ইরফান যখন বেলীকে জড়িয়ে নেয় ঠিক তখনই বেলীর নিঃশ্বাস জোরে জোরে পড়া শুরু করে । একটা সময় বেলীর পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় । বেলী দুই হাত দিয়ে ইরফানের বুকে চেপে ধরে রাখে আর শ্বাস ফেলে । মনে হচ্ছিল তার শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । ইরফান বেলীর গালে হাত দিয়ে বেলীকে সেন্সে ফেরানোর চেষ্টা করে । বেলী কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলে । চোখে দিয়ে স্রোত বইছে পানির । ইরফান বুঝতে পারে বেলীর হাত পা সব ঠান্ডা হয়ে গেছে । ইরফান উঠে বেলীর হাতে পায়ে মালিশ করছে । কিন্তু বেলীর শ্বাস আরও বেড়ে যায় । গলা কাটা মুরগির মত তরপাচ্ছে বেলী । কিন্তু কিছুই করতে পারছে না ইরফান । বাবা বাবা বলে কয়েকবার নিজের বাবাকে ডাকে ইরফান কিন্তু তার বাবারও খবর নেই । ইরফান বেলীর হাত পা টিপে দেয় , ডোলে দেয় , বেলীর মুখে শ্বাস দেয় । হঠাৎ বেলী কেশে উঠে । ইরফান বেলীর দুই গাল তার দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে নেয় । ইরফান বুঝতে পারছে যে বেলীর খুব কষ্ট হচ্ছে । মুহুর্তের মাঝে শরীরের সব উত্তেজনা শেষ হয়ে যায় । বেলী বহুত কষ্টে কিছু কথা বের করে মুখ থেকে তবে শ্বাসকষ্টের জন্য সব টা আসে না কথা তবুও চেষ্টা করে সে ।

– বলেছিলাম না , সময় হয়তো না ও থাকতে পারে । আপন করে নিতে আমায় , কত মেরেছেন আমায় , কত আঘাত দিয়েছেন , এখন আপনি মুক্ত , আমি আপনাকে মুক্ত করে দিয়ে চলে গেলাম ।

ইরফান অশ্রু চোখে বেলীকে বার বার ডাকছে । আর বেলীর শ্বাস আরও বেড়ে গেছে , ইরফান বেলীকে বার বার ঝাকড়াচ্ছে কিন্তু এক সময় বেলী নিস্তেজ হয়ে যায় । হাত জোড়া ইরফানের বুক থেকে সরে খাটের মধ্যে পড়ে যায় । ইরফান কয়েকবার বেলী বেলী বলে চিৎকার করে কিন্তু বেলী আর সাড়া দেয় না । নাকের কাছে হাত নিতেই দেখে বেলীর আর নিঃশ্বাস পড়ছে না । বেলী মারা গেছে । হ্যাঁ বেলী মারা গেছে । বেলীর চোখে দিয়ে দম গেছে । শান্ত চোখে ইরফানের দিকে তাকিয়ে আছে সে । এই অন্ধকারেই বেলী তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ।

..

ঘামার্ত শরীর নিয়ে ইরফান লাফিয়ে উঠে । বেলী বলে চিৎকার করে উঠে সে । তবে সেই চিৎকারের কোন শব্দ হয় নাই । সব কথা যেন আজ ভেতরে রয়ে গেছে । ইরফান এদিক সেদিক তাকায় । নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে সে । পুরো শরীর কাঁপছে তার । কপালে ঘাম জমে গেছে । তাড়াতাড়ি উঠে লাইট জ্বালায় ইরফান । বেলী তখন ওইদিকে মুখ ফিরিয়ে ঘুমিয়ে আছে । ইরফান দৌড়ে গিয়ে বেলীর পাশে দিয়ে নিচে ফ্লোরে বসে পড়ে । ভালোভাবে বেলীকে দেখছে সে । তারপর বেলীর নাকের কাছে নিজের হাত নিয়ে দেখে । নাহ বেলীর নিঃশ্বাস তো ঠিকই আছে । বেলীর গায়ের কাথাটা হালকা সরিয়ে বেলীর শরীরের দিকে তাকায় সে । শরীরে জামাকাপড় তো ঠিকই আছে । তাহলে তখন এইটা কি ছিল । ইরফানের শরীর তখনও কাঁপছে ।
কিছুক্ষণ অতিবাহিত হওয়ার পর ইরফান অনুভব করতে পারে যে সে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিল । হ্যাঁ , ইরফান স্বপ্ন দেখছিল এতক্ষন ধরে । এক ভয়ার্ত স্বপ্ন , যা কল্পনাতেও আনতে পারেনি সে । এটা কেমন স্বপ্ন দেখলো সে যেখানে তারই সামনে তারই বাহুতে বেলীর মৃত্যু ঘটে গেলো । সে খাটের পাশে টেবিলের উপর পানি দেখতে পায় । গলাটা তার শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে । নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে তাই সে দ্রুত জগ দিয়েই পানি গুলো খেয়ে নেয় । খুব ভয় করছে তার , এটা কেমন স্বপ্ন দেখলো সে ।

– এটা কি দেখলাম আমি , এমন তো আগে কখনো হয় নি আমার সাথে । স্বপ্নে কারো মৃত্যু দেখলাম তাও বেলীর মৃত্যু । এমন লাগছে কেন ?

মনে মনে বলতে থেকে আবারও বেলীর দিকে যায় সে । মাঝে একবার ঘড়িতেও চোখ বুলায় সে । রাতের শেষ ভাগ চলছে এখন । কিছুক্ষণ পরেই হয়তো মোরগ গুলো ডাকাডাকি করবে । প্রায় ভোরের দিকেই স্বপ্নটা দেখেছে সে । অনেকের কাছে শুনা ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয় যে কোন দিন । যদি এটাও সত্যি হয়ে যায় ? এইসব ভাবা বন্ধ করে আবারও বেলীর পাশে এসে ফ্লোরে হাটু গেড়ে বসে ইরফান । বেলীকে ভালো করে দেখে নেয় সে । আবার চেক করে নাকে হাত দিয়ে । শ্বাস পড়ছে কিনা । তবে সব কিছুই ঠিক আছে । বেলী ঘুমাচ্ছে , শান্ত হয়েই ঘুমাচ্ছে সে ।
ইরফান উঠে লাইট অফ করে দেয় । তারপর আবার শুয়ে পড়ে । কিন্তু তার শরীর এখনও কাঁপছে । বুকটা ধুক ধুক করছে তার । ইরফানও হালকা পাতলা দোয়া দুরূদ পারে । তাই ঘুমানোর আগের দোয়া ” আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়াহিয়া ” পড়তে থাকে । তারপর কোন ফাঁকে যে ঘুমিয়ে পড়ে সে নিজেও জানে না ।

.
.

চলবে…………………

[ বিঃদ্রঃ স্বপ্ন , খুবই ক্ষুদ্র একটা শব্দ । যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন একটা অস্পর্শনীয় অনুভূতি । কথায় আছে শরীর ক্লান্ত থাকলে কিংবা সারাদিন আপনি যা ভাববেন বা কল্পনা করবেন তা রাতে ঘুমানোর পরে আপনার ঠান্ডা মস্তিষ্কে ঘুরপাক খায় । এবং সেই কল্পনাকেই আপনি ঘুমের মাঝে দেখতে পান । এটাই হলো স্বপ্ন । স্বপ্নকে স্পর্শ করা যায় না শুধু অনুভব করা যায় । এই স্বপ্ন আবার কয়ক রকম । আপনি যেমন ভাববেন তেমনটাই দেখবেন । কখনো ভালো স্বপ্ন , কখনো খারাপ স্বপ্ন , এইগুলা নিত্যদিনের ব্যাপার । এর মাঝে আবার কারো কারো স্বপ্ন সত্যি হয় আবার কারো কারো স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় । অনেক সময় দেখা যায় , ভালো স্বপ্ন পূরণের চাইতে খারাপ স্বপ্নটাই সত্যি হয়ে যায় । আবার অনেকের মধ্যে দেখা যায় নিজের স্বপ্নটা সত্যিও হয়ে যায় । আল্লাহ পাক চাইলে সব সম্ভব । আমরা তো তার বান্দা মাত্র । তবে আমি বলবো , স্বপ্ন যেটাই দেখুন না কেন , ভালো কিংবা খারাপ নিজেকে শক্ত রাখুন । যদি স্বপ্ন নিজের মন মত হয় তাহলে তাকে বাস্তবে রুপদান করার জন্যে কঠোর পরিশ্রম করুন । আর স্বপ্ন খারাপ হলে তাকে এড়িয়ে যান । দৈনিক ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় করুন । আল্লাহ পাক নিশ্চয়ই শান্তি প্রদান করবেন । আল্লাহ পাক বলেছেন , আমি তোমাকে সৃষ্টির সেরা জীব বানিয়েছি , তোমার মস্তিষ্কে জ্ঞান দিয়েছি । তুমি সেইভাবেই অগ্রসর হও । ফলাফল তুমি আপনা আপনিই পাবে । কিন্তু আমরা কয়জন এইসব মানি ? আবার যারা মানার তারা ঠিকই মানে ।
মৃত্যু , প্র‍ত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করতে হবে । তাই আজ মৃত্যুকেও আনলাম তার কারণ , আমাদের কখন কোথায় আর কিভাবে মৃত্যু লিখা আছে আমরা কেউই বলতে পারি না । তা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক জানেন । আমি শুধু বোঝাতে চেয়েছি মাত্র যে কাছের মানুষকে অবহেলা করতে নেই । সময় থাকতেই তার হাত ধরে ফেলা উচিত । নয়তো দেরি হয়ে যায় । তখন মন খুলে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ টাও হয়তো থাকে না । আল্লাহ পাক সবাইকে হেদায়েত দান করুন । আমীন ]

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ