Friday, June 5, 2026







“জ্যোৎস্নার ছল”পর্ব ২.

“জ্যোৎস্নার ছল”পর্ব ২.

আমি আগে কখনও এতো লম্বা যাত্রা করিনি। চমকটা আমার জন্য বাস থেকে নামার পর অপেক্ষা করছিল। যেন পৃথিবী একটি থালা, তার উপর রাখা চালগুলো মানুষ। থালাকে এদিক থেকে ওদিক দোলানো হলে চালগুলো যেভাবে এক জায়গা থেকে ভিন্ন এক জায়গায় এসে পড়ে, ঠিক সেভাবেই যেন আমি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে পৃথিবীর অজানা এক কোণে এসে পড়েছি। গ্রামটি দেখে আমার গা শিউরে উঠল। এর আগে কখনও গ্রামীণ পরিবেশ দেখিনি।
দোকানের সংখ্যা খুব কম। ওদিকেই আমি চেয়ে রয়েছি। যেতে যেতে সে বলল, এখানে মাঝে মাঝে বন্যা হয়। রাস্তাও খারাপ। কিন্তু ভেতরের বাড়িগুলো ঠিক আছে। এখানে খোলামেলা অনেক জায়গা। শহরের মতো খারাপ অবস্থা নেই। কিছু সুন্দর মনোমুগ্ধকর জায়গাও আছে। তোমার ভালো লাগবে।
এই গম্ভীর স্বরে আমি ছোট মায়ের বর্ণনার মিল খুঁজে পেলাম না। তবু তার দিকে তাকানোর ইচ্ছা জাগছে না। তাছাড়া মানুষের বাহ্যিক কিছু দেখে অভ্যন্তরীণ দিক নির্ণয় করতে নেই। সে পাশে পাশেই হাঁটছে। আমার হালকা লাগেজটি সে নিয়ে আসছে। সে বোধ হয় কিছু নিয়ে যায়নি।
বাস যেখানে থেমেছিল তারপর থেকে একটি লম্বা ইটের রাস্তা শুরু হয়েছে। সেই আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে আমি আশেপাশে অনেক ঘরবাড়ি দেখলাম। কিছু কিছু এখনও মাটির। কিছু কিছু টিনের, আর কিছু কিছু পাকাবাড়ি। তার মাঝে কয়েকটিতে শেওলা পড়ে জায়গায় জায়গায় সবুজ আস্তরণ পড়ে আরেক রূপ নিয়েছে।
কিছু কিছু মেয়েকে দেখে আমার উদ্ভট লাগল। তারাও আমাকে দেখে হাসছে বা অদ্ভুত ভঙ্গিতে চেয়ে আছে।
সে বলল, ‘এখানে তেমন কেউ তোমার মতো কুঁচি শাড়ি পরে না। ঢালা শাড়ি পরে।’
‘ঢালা?’
‘ঢালা মানে.. আমি জানি না। এখানে সবাই এভাবেই বলে। তুমিও এখন থেকে পরবে। কেউ তাকাবে না।’
‘আমার তো মনে হয় না। ওরা এমনিতেই বুঝতে পারছে আপনি বিয়ে করেছেন। বউ নিয়ে এসেছেন। দেখুন, ওরা আমায় দেখে হাসছে। মনে হয়, আপনার এখানে খুব নাম-ডাক আছে।’
‘ও কিছু না। নতুন বাসিন্দা বলেই সবাই ভিন্নভাবে দেখে।’
‘এমন জায়গায় কেন এলেন?’
‘ইচ্ছে হয়েছে।’
লোকটির প্রতি আমার ধারণা ক্রমেই পাল্টে চলেছে। তার কথার কোনোদিকে উগ্রভাব নেই। বাবার কথা মনে পড়ায় আমি নিজেকে গুটিয়ে নিলাম। বাবাও মায়ের সব আবদার পূরণ করতেন। তার পেছনে কী লুকিয়ে ছিল, তা তেমন কেউ ধরতে পারত না।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

লোকটির বাড়ি দেখে কিছুটা স্বস্তি হয়। অন্যান্যদের চেয়ে ঠিকই আছে। বিদঘুটে লাগল বাথরুমটা বাইরে, টিনের, বড়ও নয়। বাসার সামনে বড় এক উঠোন আছে। বোধ হয় যেখানে ছাদটা টিনের, ওখানে রান্নাঘর। বাইরের বারান্দায় বেতের লম্বা এক বেঞ্চ আছে। হয়তো এই লম্বা লোকটি কারেন্টের অভাবে গরমে মাঝে মাঝে ওখানে শোয়।
কতগুলো উৎসুক চোখের ভিড় এড়িয়ে ভেতরে ঢোকার পর আমার স্বস্তি হলো। ফ্যান আছে, খাট আছে ফার্নিচারও আছে। গ্রামে ঢোকার পর আমি কী আশা করেছি জানি না। মোটামুটি ঠিক আছে। বামদিকের ঘরে অনেকগুলো তক্তা রাখা আছে। ওই ঘরে আর কিছু নেই। ডানদিকেই শোয়ার ঘর। খুব কম জিনিসই এখানে আছে। দেয়ালের সাথে লাগানো আছে একটি ড্রেসিং টেবিল। ঘরের এক কোণোয় আছে ছোট খাটটি। এটিতে দু’জন ঘুমোবে কী করে ভেবে পেলাম না।
সে নিজে পানি খেল। আমার দিকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলো। ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের উপর কোমরের কাছে বসার এক তাক থাকায় ওখানে বসে আমি পানি খেলাম। ফ্যান চালু করে সে কিছু দূরের বিছানাটিতে বসেছে। সে আমার দিকে তাকাল। আমি তার দিকে তাকালাম। এই প্রথমবার আমাদের চোখাচোখি হচ্ছে।
সে আমার দিকে তাকানোর পর তাকে দেখে মনে হলো যেন তার হৃদস্পন্দনই থেমে গেছে। সে কি আমাকে আগে একবারও দেখেনি? লোকটি দেখতে মোটেই খারাপ নয়। সাদিকের মতো ফরসা না হলেও তার গায়ের রং ঠিক আছে। তবে চোখের নিচে কালো ছায়া পড়েছে। চোখগুলো সাদিকের মতো ভোলা নয়। সে কোনোদিক থেকেই সাদিকের মতো নয়। সে লম্বা বলিষ্ঠ আকর্ষণীয় এক লোক। কে জানে কয়টা প্রেম নিবেদন পেয়েছে? নইলে তাকে দেখে মেয়েরা হাসত না। মনে হয়, আমি আজ সারাদিনই সাদিকের সাথে তার তুলনা করব।
সে বলল, ‘ওয়াজেদ বলেছিল তুমি..’
‘আমি কী?’
‘তোমার মা নাকি ওকে বলেছে তুমি ময়লা রঙের।’
‘ছোট মা।’
‘হ্যাঁ হ্যাঁ তোমার ছোট মা। নিশ্চয় ওয়াজেদও তোমাকে সরাসরি দেখে অবাক হয়েছে।’
‘আপনি আমার ছবি দেখেননি?’
‘ইচ্ছে ছিল না। তোমাকে এইমাত্র দেখলাম।’
‘কেন ইচ্ছে ছিল না?’
‘বিয়ে করারই ইচ্ছে ছিল না। ওয়াজেদ তোমার কথা বলেছে। আমাকে নিয়ে তার আর চিন্তা না করার জন্যই আমি আর না করে পারলাম না।’
‘তাহলে আমি কুচকুচে কালো মেয়ে হলেও বিয়ে করতেন?’
‘আমার মতো লোক কুচকুচে কালো মেয়েও ডিজার্ভ করে না।’
আমি তার দিকে তাকালাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
‘কী দেখছেন এভাবে?’
‘তোমার চোখগুলো..’
‘কী?’
‘ভয়ংকর মায়াবী। এরকম টানা টানা চোখ আমি আগে কখনও দেখিনি। একদম দেবীর মতো।’ সে তৎক্ষণাৎ চোখ সরিয়ে নেয়।
‘কাপড় পাল্টে নাও। ওহহো পানি তো নেই।’ সে ব্যস্ত হয়ে উঠে পড়ল। পানি নেই?
‘ভয় পাবে না। আমি একা ছেলেমানুষ, তাই যখন তখন নলকূপে গিয়ে পানি ব্যবহার করি। এখন থেকে তোমার জন্য বড় বালতিতে বাথরুমে পানি এনে রাখব। হবে তো?’
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম।
‘বড় বালতি তো এখন নেই। চলো বাইরে। একটু হাত-মুখ ধুয়ে কাপড় পাল্টে নেবে। জায়গাটি দেখেও আসবে।’
আমি ওর সাথে বাইরে চললাম। সে বিড়বিড় করছে, আগে থেকে কেন এসব ব্যবস্থা করে রাখেনি। এখানের সবাই হয়তো নলকূপের কাছে যায়, নয়তো পুকুরে। তারা হয়তো এভাবেই অভ্যস্ত। তাই হাতের কাছে পানি না পাওয়া নিয়ে আমার মতো নীরব অভিযোগ তাদের নেই।
সে অর্ধেকে থেমে গিয়ে বলল, ‘তোমার চুলগুলো..’
‘কী হয়েছে?’ আমি দ্বিধান্বিত হয়ে আমার চুল ধরে দেখতে লাগলাম।
‘না মানে এখানে কাউকে খুলে রাখতে দেখা যায় না। থাক, সমস্যা নেই। হয়তো এটা ইচ্ছার উপর নির্ভর করে।’
‘নির্ভর মানে?’
‘নির্ভর মানে.. ডিপেন্ড বুঝ?’
‘হ্যাঁ। বুঝেছি। কিছু মনে করবেন না। আমি কিছু কিছু শব্দের অর্থ জানি না।’
সে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমাকে তুমি তুষার বলে ডাকতে পারো।’
নলকূপের কাছে অনেকগুলো মেয়ে ছিল। আমি যাওয়ার পর সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে। কলসি হাতে এক বৃদ্ধা বললেন, ‘বাবা, বিয়া কইরা বউ লই আনলা বুঝি? আমাদের তো দেখাইলা না?’
‘এইমাত্র আমরা এসেছি।’
রুবী ভাবির মতো বয়সী এক মহিলা এসে বলল, ‘ওমা, তুমি কী একটা সুন্দর বউ আনছ! তোমার নাম কী গো?’
‘অনন্যা।’
‘নামও তো কত সুন্দর! তোমরা কেউ এমন নাম হুনছ?’
তুষার আমাকে বলল, ‘ইনি শরীফের বউ আসমা। শরীফ আমার প্রতিবেশী বন্ধু। শরীফ আমার সাথে তোমাদের বাসায় গিয়েছিল। আমরা যেতে না যেতেই সে বিল্ডিং-এর ভেতরটা দেখতে আগে আগে চলে যায়।’
আসমা ভাবি বললেন, ‘তোমার জামাই তো বাসায় থাহে না। বিরক্ত লাগলে তুমি আমার ওহানে চইলা আসতে পারো। এই তোমরা ওনান্যাকে জায়গা করি দাও।’
আমি বললাম, ‘ভাবি, আমাকে অনু বললে হবে।’
‘আচ্ছা বাবা।’
তারা আমাকে জায়গা করে দিলো। আসমা ভাবি আমাকে সাহায্য করলেন। আমি মুখ ধুতে লাগলাম। মনে হলো, আঁচল নিচে ভিজে যাচ্ছে। কেউ একজন আমার আঁচল ধরল। এমন সময় আঁচল সামলাতে গিয়ে কুঁজো হয়ে থাকায় আমার চুলও ভিজে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে। কেউ একজন চুলও ধরল, মুখে আসতে দিচ্ছে না। সবাই হাসাহাসি করায় দেখলাম, এটা তুষার। সে আমাকে আশ্বস্ত করে ইশারায় মুখ ধুয়ে যেতে বলল।
রান্নাঘরে যাওয়ার পর আমার কেমন যেন লাগল। যদিও এখানে গ্যাসের চুলা নেই, আমি কী রাঁধব? কীভাবে রাঁধব?
আমার উদ্বিগ্নতা দেখে তুষার বলল, ‘এখানে কী করছ? ঘরে যাও। যা করার আমি করে নেব।’
আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘আমার আবার কখনও রান্না করতে হয়নি। আপনি রাঁধতে জানেন?’
‘আমি নিজে করেই তো খাই।’
‘পারবেন?’
‘চাইলে সাহায্য করতে পার।’
‘না, আমি বরং শিখে নিই।’
রান্নাঘরের এককোণে দুইজন বসার উপযোগী কাঠের একটি চেয়ার আছে। আমি ওখানে বসে পড়লাম। সে পানি এনে সবজি ধুয়ে কাটছে। আমি তা চেয়ে রয়েছি।
‘আপনি আমার সম্বন্ধে কী কী জানেন?’
সে বলল, ‘কেন? যা জানা দরকার।’
‘দরকারি কী কী জেনেছেন?’
সে আমার দিকে তাকাল। আবার কাজে মন দিয়ে বলল, ‘আমাকে ওয়াজেদ বিয়ের জন্য দুই বছর যাবৎ অনেক মেয়ের কথা বলেছে। আমি তাকে বলেছি, কালো, অভদ্র এমন একজন হলেই দেখিস। সে সবসময় এমন সব মেয়ের খোঁজ দিয়েছে, আমি যাদের জন্য নিজেকে যোগ্য মনে করি না। শেষে সে খুব বিরক্তির সাথে তোমার সম্বন্ধে বলেছে। তোমাকে ইন্টারেস্টিং লাগায় বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমার এখন লাগছে, শেষ পর্যায়ে আমি আমার যোগ্য কাউকে বিয়ে করিনি। তোমার সম্বন্ধে তোমার মা মানে ছোট মা অনেক মিথ্যে বলেছে দেখছি। তোমার ভাগ্যে ভালো কারও নাম থাকা উচিত ছিল।’
আমি অদ্ভুতভাবে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই লোকটিকে যতই দেখছি, ততই তার সম্বন্ধে জানতে পারছি।
‘আর হ্যাঁ। দরকারি বলতে তেমন কিছু শুনিনি। এই শুনলাম, তোমার মায়ের সাথে তুমি থাকতে না। তুমি কেমন ধরনের মেয়ে। কলেজে থাকতে কিনা একটি সংগঠন খুলেছিলে। সাদিক নামের একটি ছেলের সম্বন্ধেও শুনেছি। আর তেমন কিছু না।’
‘সাদিক নামের মানে?’
‘তোমার প্রাক..প্রাক্তন তো বলতে পারছি না প্রেমিকের সম্বন্ধে।’
লোকটির কাটাকুটি শেষ হলে সে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তেলে পেঁয়াজ ঢেলে দিলো। আমি হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছি। লোকটি পাগল নয়তো?
‘আমার প্রেমিকের সম্বন্ধে কী কী জানেন?’
‘এইযে সে তোমাকে বিয়ে করবে।’
‘এসব কীভাবে জানলেন?’
‘ওয়াজেদ খবর নিয়েছে। আমাকে সে এসব কথা নাক সিঁটকে বলেছিল। আমি রাজি হওয়ায় সে অবাক হয়ে গেছে।’
‘আমিও কিন্তু কম অবাক হচ্ছি না।’
‘আমি আগেও বলেছি, আমার বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল না। তোমার জন্য যেমন বর খোঁজা হচ্ছিল, তোমাকে যদি অন্যত্রে বিয়ে দেওয়া হতো তবে তোমার হয়তো সুখে থাকার গ্যারেন্টি ছিল না। তাছাড়া প্রেমিকের সাথে চলে যাওয়ার কাজটা সহজে করতে পারতে না। আমি তোমাকে বিয়ে করে কাজটি সহজ করে দিলাম।’
‘আপনি স্বাভাবিক মানুষের মতো কথা বলছেন তো?’
‘হয়তোবা। তোমার প্রেমিকের সাথে বিয়ের করার সব সুযোগ থাকলেও সময় সাথে দিচ্ছে না। সময়টা আসতে আসতে অন্য কারও সাথে তোমার বিয়ে দিয়ে ফেলা হচ্ছে। তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করে পালালে লোকটির জীবন নষ্ট হতো। আমার তা হবে না। তাই আমি বিয়ে করে তোমাকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েছি।’
‘আপনি একটা পাগল। মস্ত বড়।’
‘হয়তোবা। আমার সত্যিই আবেগ নেই।’
‘আছে। নয়তো এভাবে আরেকজনের দুঃখ বুঝতেন না।’
‘আমি সেদিক থেকে বলিনি। তুমি এখানে আসায় সাদিক যতটা আবেগপ্রবণ হয়েছে, তুমি চলে গেলে আমার ততটা হবে না। বুঝেছ?’
আমি নীরবে বসে থেকে এই অদ্ভুত লোকটিকে দেখতে লাগলাম। তার রান্না শেষ হলে সে খুব স্বাভাবিকভাবে আমার পাশে বসে খেল। রান্না খুব একটা খারাপ হয়নি। এমন রান্না মা যাওয়ার পর বাবার হাতে অনেক খেয়েছি। সে বাসা থেকে থেকে বেরুতে যাবে, দাঁড়িয়ে পড়ে দরজার দিকে বেশ কিছুক্ষণ চেয়ে রইল। আমি তার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
‘কী হয়েছে?’
‘ভাবছি দরজার সামনে একটি তক্তা দিলে কেমন হয়?’
‘কেন? উপরে তো হুক আছে।’
‘শক্ত মাংসপেশির লোকের হুক লাগানোর সত্ত্বেও দরজা ভাঙতে কতক্ষণ?’
‘বুঝলাম না।’
‘এখন থেকে এই বাসায় তুমি থাকবে। তোমার নিরাপত্তার জন্য বলছি।’
‘কেন? আপনি এতদিন নিরাপদ ছিলেন না?’
‘আমি তোমার মতো লাজুক নই। কারও সাথে লড়ার যথেষ্ট শক্তি আছে। তাছাড়া এখানে কারও সাথে আমার শত্রুতা নেই।’
‘ঠিক আছে। কিন্তু কীভাবে এই তক্তা লাগাবেন?’
‘দরজার মাঝ বরাবর থাকবে তক্তাটি। সেটির দু’পাশ আটকিয়ে রাখার জন্য দরজার দু’পাশে ঘর করা হবে। দরজা খুলতে তক্তাটি নিয়ে পাশে রেখে দেবে। এরপর আবার লাগিয়ে দেবে।’
‘এতো পরিশ্রম করানোর চেয়ে ভালো হবে, আমাকে একটি বন্দুক ধরিয়ে দেন। বদলোকের মার্ডার করতে কী যায় আসে?’
সে হাসল। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম, এতো সুন্দর করে কেউ হাসতে পারে? তার হাসি দেখে মনে হলো, অনেকদিন সে হাসার কোনো কারণ পায়নি। সে যেতে যেতে বলল, ‘বড় একটি বালতি কিনব। তোমার জন্য কিছু লাগবে?’
‘না। হ্যাঁ, শাড়ি লাগবে।’
‘আমি কিনে রেখেছি। আলনার নিচের ড্রয়ারে পাবে।’
আমি শোয়া থেকে বসে পড়লাম।
‘দরজাটা বন্ধ করে দাও। অপরিচিত কারও কথায় দরজা খুলবে না। রান্নাঘরের জানালা দিয়ে চেয়ে নেবে কে এসেছে। উঠ, এখনই বন্ধ করো।’
(চলবে…)
লেখা: ফারিয়া কাউছার

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ