Friday, June 5, 2026







জলছবি পর্ব-২৭

#জলছবি
#পার্ট_২৭
#কাজী_সানজিদা_আফরিন_মারজিয়া
.
লুবনাকে হসপিটাল থেকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে দরজা বন্ধ করে বসে আছে মেয়েটা। প্রথমে সে আসতে চায়নি কিন্তু শেষে বাধ্য হয়েই আসতে হলো। ভাইকে সে বাবার থেকেও বেশি ভয় পায়। তাই যখন কঠিন কন্ঠে বলল,’লুবনা? বাসায় চলো। কথা বাড়াবে না।’
তখন অজ্ঞতা লুবনাকে চলে আসতেই হয়। ভাইকে কোনো প্রতিত্তুর না করে, তেজ নিয়ে চলে আসে।
গাড়িতে বসে ভাইয়ের শাসানো কথাগুলো কানে বাজে। এবং আজই জানতে পারে, তার ভাই ফয়সালের আদ্যপ্রান্ত সব জানে। সেই সঙ্গে মারাক্তক অপছন্দ করে। আদ্যপ্রান্ত জানে বলেই হয়তো অপছন্দ করে। ফয়সালের জন্য আলগা দরদ না দেখাতে কড়া নিষেধ করে।
সব মেনে নিলেও ফয়সালকে ছোট করে বলা কথাগুলো তার শরীরে কাটার মতো বিঁধে আছে।
কেন বলবে এতো ছোট করে কথা? শুধু ছেলেটার অর্থ আর প্রাচুর্য নেই বলে?
আর ‘আবেগ বেশি দেখালে, আবেগ দেখানোর মানুষ খুঁজে পাবে না’ কথাটাই বা কেন বলল?
মনে ক্ষীণ সন্দেহ জাগে, কোনো ভাবে ফয়সালের ক্ষতি তার ভাই করায়নি তো? এত প্রতিহিংসা কেন তার মাঝে? লুবনার রাগ হয় প্রচুর। জীদ মেটাতে ড্রেসিংটেবিল এর সব কিছু ফেলে দেয়। কাচের জগ, গ্লাস আছার মেরে চূর্ণচার করে ফেলে।
শব্দ পেয়ে লুবনার মা এসে দরজায় কড়া নাড়ে, দরজা খুলতে বলে। বাসায় লুবনার ভাই আর বাবা নেই। লুবনার মা বিপাকে পড়ে যান। লুবনা দরজা খোলে না। বরং আরো কিছু ভাংচুর করে বলে,
“ফয়সাল ঠিকই বলে, আম্মু! অহংকারী, নিচুমনের বড়লোকেরা সবসময় আত্মসম্মানে আঘাত করে কথা বলে মজা পায়। তোমার ছেলেকে বলে দিও আম্মু? ছেলেটার ক্ষতি যদি ওরা করে থাকে তবে আমি কিন্তু কাউওকে ছেড়ে দিবো না। আমি কিন্তু মরে যাবো, আম্মু। এই টাকা-পয়সা প্রাচুর্য কিচ্ছু চাই না আমার। তোমার অহংকারী ছেলেকে বলে দিও, সে যেন আমায় নিয়ে না ভাবে। আই এম এনাফ ম্যাচিউরড নাও। ফয়সালকে নিয়েও যেন কোনো ফালতু কথা না বলে।”
কথা শেষে আরেকবার চূড়মুর করে কাঁচ ভাঙার আওয়াজ হলো।
ফয়সাল কেমন আছে ভেবেই হাঁটু মুড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লো মেয়েটা। বিরবির করে বলে, “আল্লাহ্‌ তোকে খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দিক! সুস্থ হয়ে জলদি ফিরে আয় ফয়সাল! তোরে আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না রে ছেলে! আই মিস ইউ আ লট!”
.

রাত দুইটা বিশ মিনিট। পিনপতন নিরবতা বিষাদময় হসপিটালের কড়িডোর জুড়ে। সবাই যেমন বসে ছিল আগে, এখনও ঠিক তেমনই বসে আছে। সবার সব কিছুই যেন থমকে আছে কেমন!
শুধু কোহিনূর বেগম নেই। তার মনের দহন, মনের পোড়ন ঠাহর করার সাধ্যিও কারো নেই। পর পর দুবার সেন্সলেস হয়েছেন তিনি। মধ্যখানে জ্ঞান ফিরার পর শুধু অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে ছিলো কিছুক্ষণ। তারপর আবার নেতিয়ে পড়ে। সবাই তো কেঁদে উদ্ধার হচ্ছে, কিন্তু তার যে কান্নাটাও নেই! ছেলের আট বছর বয়সে স্বামীকে হারালেন। তারপর এই এতগুলো বছর ছেলেটাকে আঁকড়ে ধরেই তো বেঁচে ছিল। এখন এই ছেলেটার কিছু হয়ে গেলে বাঁচবে কেমন করে? উপরওয়ালা ব্যতিত তার কষ্টের মর্ম কেউ বুঝবে না, কেউ না!

অবসাদ, চিন্তা, অস্থিরতা মিলিয়ে সকলে ভীষণ ক্লান্ত। চেয়ারে বসে দেয়ালে হেলান দিয়ে কেউ কেউ নির্বিকার ভঙ্গিতে চেয়ে রইল, কেউ ঝিমুচ্ছে, হঠাৎ-ই চমকে উঠে আশপাশ তাকাচ্ছে। কত মানুষ। সবার চিন্তাই প্রিয় কাউকে ঘিরে। ‘যদি কিছু হয়ে যায়?’ ‘ঠিক হয়ে যাবে তো?’ এই ধরনের নানান চিন্তা, দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে।
এর বেশি আর কিছুই করার নেই কারো। সময়ে পালাক্রমে কত কত ভয়ানক পরিস্থিতি মানুষের এই ক্ষুদ্র জীবনে আসতে পারে, তার কিছুটা আন্দাজ এই ‘সদ্য ফ্যান্টাসি থেকে বের হয়ে, বাস্তবতায় পা রাখা’ ছেলে-মেয়েগুলো করতে পারছে। একদিনেই যেন জীবনের অনেকখানি মানে বুঝতে শিখে গিয়েছে।
নোলকও যেন হঠাৎ করেই অনেক বড় হয়ে গেল এই ক’দিনে। জীবনে কখনো কোনো কিছু নিয়ে যার চিন্তা ভাবনা করা লাগেনি, তার মাথায় এখন কত চিন্তা, কত প্রশ্ন! চঞ্চলতা ভুলে গিয়ে কেমন নিরব হয়ে গিয়েছে।

নিষাদ সৃজন রক্তের জন্য ছোটাছুটি করেছে কয়েকবার। শেষবার গেল আরমান।
রক্ত নিয়ে ফেরত আসার পথেই তার মনে আরো একটা চিন্তা যোগ হয়েছে। চিন্তার উৎস আদ্র। ইশান ফোন করে আদ্রর কথা বলেছে। এরপর থেকে স্থির থাকতে পারছে না, না পারছে কাউকে বলতে। আদ্রকে তো কাছ থেকে দেখেছে। ছেলেটা কেমন একলা একা। আল্লাহ্‌ তার জগৎ আরো একাকীত্বে, অন্ধকারে ডুবিয়ে দিচ্ছে ভেবে কেমন অভিমান হলো আল্লাহর উপর।
ঐ উপরওয়ালার প্রতি-ই সকলে সকল অভিমান, অভিযোগ। অথচ সে সুনিপুণ পরিকল্পনাকারী।
এই একই হসপিটালেই আদ্র থাকার ফলে এক ফাঁকে দেখেও এসেছে আরমান। এরপর থেকে আরো বেশি খারাপ লাগছে। আরমানের অস্থিরতা নবনীর চোখ এড়ায়নি। মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
“কোনো সমস্যা হয়েছে? হঠাৎ এমন অস্থির হয়ে উঠলেন কেন?”
আরমান এক চিন্তার মাঝে আরেক চিন্তা ঢুকাতে চায়নি বলেই হাসার চেষ্টা করল। নবনীর হাত ধরে বলল,
“ক…কই? না তো! তেমন কিছু হয়নি। তুমি চিন্তা করো না।”
নবনী আর কিছু জিজ্ঞেস করেনি। কোনো কিছু নিয়ে জোর করার স্বভাব ওর নেই।
আরমান হালকা কিছু খাবার নিয়ে এসে সবাইকে খেতে দিলেও কেউই খেল না। এত চিন্তায় খাবার গলা দিয়ে নামে কারো?

সবাই যখন ক্লান্তি আর বিষাদ নিয়ে ঝিমুচ্ছিল ঠিক তখনই ডক্টর বেড়িয়ে এলো। সে নিজেও ক্লান্ত। কত দীর্ঘ সময়ের পরিক্ষা সকলের। ডক্টর হাতের গ্লাভস খুলতে খুলতে বলল,
“পেশেইন্টের লোক কে?”
কেউ ভয়ে কিচ্ছুটি বলতে পারলো না। ধুরুধুরু করা হার্টবিট আর অসহায় দৃষ্টিতে চাইলো কেবল। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। যেন কত দিনের তৃষ্ণার্ত তারা! নিষাদ আর সৃজন দাঁড়ায়। ছেলে দুটোও যেন দূর্বল হয়ে পড়ছে এই দীর্ঘ সময়ের ছোটাছুটিতে। শেষে আরমান এগিয়ে গিয়ে বলে,
“আমায় বলুন, ডক্টর।”
সকলের সকল চিন্তা, ভয়, আতংকের সমাপ্তি ঘটে তখন, যখন ডাক্তার বলল, “দ্যা পেশেইন্ট ইজ ফেয়ার ফ্রি নাও। অপারেশন সাকসেসফুল, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আল্লাহর অসীম রহমত বলা চলে। আঘাতটা যদি আর হালকা এদিক-সেদিক হতো তবে আমাদের আর কিছুই করার থাকতো না।
যাইহোক রোগীর জ্ঞান ফিরতে একটু সময় লাগবে। আপনারা সবাই বোধহয় রোগীর লোক। হসপিটালে ভীড় বাড়াবেন না অনুগ্রহ করে। দুই-একজন থেকে বাকিরা চলে যান। সকালে এসে দেখে যাবেন নাহয়।”
অপারেশন সাকসেস হয়েছে শুনে সবাই কেঁদে ফেললো। এই কান্না দুঃখে নয়, সুখের, সন্তুষ্টির, একরাশ আতংকের সমাপ্তিতে শান্তির কান্না। স্রষ্টার প্রতি শুকরিয়ার কান্না।

ডক্টর চলে যাওয়ার পর সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল। নোলক বলল,
“ফাজিলটা সুস্থ হয়ে নিক, খুব মারবো দেখিস? মারামারি করার শখ হয়েছে না অনেক? দেখবো কত মার খেতে পারে! বেয়াদপ, অসভ্যটা!”
বলতে বলতেই চোখ মোছে। মেয়েটা আনন্দ চোখমুখ বেয়ে ঠিকরে পড়ে।
সবার মুখে হাসি ফুটে উঠে। নোলকের আরো দুটো মানুষের কথা মনে পড়ে। লুবনা আর কোহিনূর বেগম। লুবনা থাকলে খুব খুশি হতো। খবরটা জানাতেই লুবনাকে ফোন করে। কিন্তু ফোন বন্ধ। ফোন বন্ধ করে রেখেছে ক্যান মেয়েটা? কি আশ্চর্য! পরক্ষণেই ভাবলো সকালে জানাবে। এই ভাবনা ছাড়া আর কি-ই-বা করবে?
কোহিনূর বেগমের কথা মনে পড়তে নোলক স্থান ত্যাগ করে তাঁর কেবিনের পাশে এসে দাঁড়াল। স্যালাইন চলছে মানুষটার। নোলকের কি যে মায়া হলো! একটা দীর্ঘশ্বাঃস, একটু মায়া! এই ভেবে স্বস্তি পেল, এই মানুষটা তার সম্বল আঁকড়ে ধরে রাখতে পারলো আল্লাহর ইচ্ছায়। মায়ের দোয়াতে বোধহয় এই এত বড় বিপদ থেকে ছেলেটা উদ্ধার পেলো।

কিছুক্ষণ দাঁড়ালো। তারপর ঠোঁটের কোনে হাসি আর কিছুটা স্বস্থি নিয়ে চলে আসতে যাবে ঠিক তখনই নজর পড়লো পাশের কেবিনে শুয়ে থাকা ছেলেটার দিকে। চেনা মুখ, চেনা মানুষদের চিনতে হলে খুব নিকটে থাকতে হয়না। নোলকেরও খুব কাছে থেকে দেখে চেনার প্রয়োজন পড়লো না। মানুষটা যে তার চেনা, খুব কাছের, খুব প্রিয় একজন।

কিন্তু তার এখানে কি? হসপিটালে কেন সে? অসুস্থ সে? অনেক প্রশ্ন জাগলো মনে।
কেবিন থেকে একজন নার্স বের হওয়ার সময় তার অনুমতি নিল ভেতরে যাওয়ার। তবে জিজ্ঞেস করা হলো না, তাঁর কি হয়েছে? প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করার কথা মাথাতেই আসেনি।
‘এই ছেলেটার কাছে আর কখনই যাব না’ বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মেয়েটা বেমালুম ভুলে বসলো, তার নিজের কাছে করা সেই প্রতিশ্রুতির কথা। নার্স অনুমতি দিতেই মনের সকল বিস্ময় নিয়ে কেবিনের ভেতর গেল।
আদ্র তখন ঘুমে। নোলকের দৃষ্টি প্রথমে ঘন কালো ভ্রু জোড়ার দিকে। তারপর গেল গভীর মায়ায় জড়ানো বন্ধ চোখ জোড়ায়।
কিছু চুল এসে স্পর্শ করছে তার উজ্জ্বল কপাল খানা। চশমা ছাড়া আদ্রকে বোধহয় এই প্রথম দেখলো নোলক। ছেলেটা জেগে থাকলেও গম্ভীর, ঘুমিয়ে থাকলেও গম্ভীর। ট্রেনের সেই প্রথম দিনের মুখখানা মনে পড়ে হেসে ফেলল নোলক। ইশশ! কত অপ্রিয় ছিল সে! আর এখন?
দিন-দুনিয়ার শত শত ভাবনা ভুলে আত্মভোলা হয়ে মুগ্ধ নয়নে আপাদমস্তক দেখলো ছেলেটাকে। বেডের পাশে বসে হাত রাখলো আদ্র’র চুলে। আনমনে হাত চলে এলো কপালে, চোখে। কি স্নিগ্ধ লাগছে সমস্ত মানুষটাকে। ঠিকরে পড়া মায়া পুরো মানুষ জুড়ে। নোলক বিরবির করে বলল, এই ঘুমন্ত মানুষটা? আমার হয়ে যান প্লিজ! আমার সকল চঞ্চলতার নিরবতা হয়ে যান, প্লিজ! এই যে এই? ঘুমন্ত চোখের মায়াগুলো আমায় দিয়ে দিন প্লিজ। শুনছেন? আপনি শুধু আমার হয়ে যান!
তারপর…তারপর নোলকের ভ্রম কেটে গেলো আচানক। চমকে আশেপাশে তাকালো। সামলে নিল নিজেকে।
একটু দুঃখ এসে ভর হলো যেন মনে। এই মুখ, এই মানুষ তার দুঃখ বাড়িয়ে শতগুণ করে দিল। সঙ্গে সঙ্গে একটু আগের বলা কথাগুলোকে ‘মিথ্যে, মিথ্যে, তিন মিথ্যে’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে দিল নোলক। অভিমানের প্রখরতার কারণেই আদ্রর হসপিটালাইজড এর কারণ না জেনেই চলে আসতে লাগলো। জানার চিন্তা মাথায়ও রইলো না। আর একটু সময়ও থাকবে না এখানে, দেখবে না তাকে!

কিন্তু হায়! কেবিন থেকে বের হতেই ইশানের মুখামুখি হয়ে গেল। ইতস্তত বোধ করলো।
একটু বাহিরে গিয়েছিল ইশান। এসে যে নোলকে দেখতে পাবে তা সেও ভাবতেই পারেনি যেন। ভীষণ অবাক হলো। মেয়েটা এই সময়ে এখানে কেন? ও কি সব জানে? নাকি জানে না? কেউ বলেছে? কে বলবে? কত প্রশ্ন তৈরি হয়ে গেলো মন জুড়ে। প্রশ্ন মনে রেখেই দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জিজ্ঞেস করলো,
“তুমি কখন এসেছো?”
নোলক খানিক অপ্রস্তুত হলো বৈকি! বলল,
“এখন।”
“আদ্র’র কাছে এসেছো? কে বলেছে ও হসপিটালে?”
“তার কাছে আসিনি।”
ইশান কেন যেন বিশ্বাসও করে নিল। মনে মনে ভেবে নিলো অন্য কাউওকে দেখতে এসে বোধহয় আদ্রকে দেখতে পেয়েছে। জানবেই বা কি করে মেয়েটা? একবারের জন্যও মনে হলো না, আরমানও তো বলতে পারে! মানুষের চিন্তা যখন এককেন্দ্রিক হয়ে যায় তখন অন্যকিছু নিয়ে আর চিন্তা করতে পারে না। ভাবনা চিন্তার সহজ সমাধান খোঁজে। সমাধান পেয়ে গেলেই তা মেনে নেয়। ইশানেরও তাই হয়েছে। নোলক কোথায় এসেছে, কেন এসেছে সেসব নিয়ে ভাবার অবকাশই পেলো না। জিজ্ঞেস করলো,
“চলে যাচ্ছো কেন?”
“থাকার কেউ নই এখানে!”
“কে বলল?”
ইশানের পাল্টা প্রশ্নে কপাল কুঁচকে তাকালো নোলক। ইশান বলল,
“কাল একটু সময় দিতে পারবা, অগ্নিশর্মা? অনেক, অনেক কিছু বলতে চাই তোমায়। খুব অসহায় লাগছে আজকাল। প্লিজ? একটু সময়?”
নোলক এবার বিস্মিত হলো। ইশান কখনো এভাবে বলেনি। নোলক ছোট্ট করে বলল,
“কোথায়?”
“তুমি যেখানে বলবে!”
নোলক কোথায় থাকবে, তা জানিয়ে চলে আসে। তার ভীষণ কান্না পাচ্ছে। কেন কে জানে! সে অমন ন্যাকা কান্না কাঁদতে জানতো না আগে। আজকাল যেন সারাক্ষণ-ই চোখের ডগায় অশ্রুকণা টুইটুম্বুর হয়ে থাকে। কি হচ্ছে তার?

নোলকের চলে যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে ইশান। ফাঁকা লাগে খুব। কেন এই শুন্যতা, কে জানে! মনকে শক্ত করে ভাবে, যা তার নয়, তা নিয়ে এই শুন্যতা বোকামি বৈ কিছু নয়।
দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে। আদ্র’র পাশে এসে বসে। আদ্র’র মাথায় হাত রাখতেই আদ্র বলে,
“নোলক এখানে কেন এসেছে, দোস্ত?”
ইশান বলে,
“তোর সাথে কথা হয়নি?”
“উঁহু! দোস্ত ওরে কিছু বলিস না। ওরে এখানেও আসতেও দিস না। দম বন্ধ লাগছে। একটু আগে থেকে নাকের কাছে একটা অস্বস্তিকর গন্ধ লেগে আছে। আমার চোখে কপালেও সেই গন্ধ, ছোঁয়া। এই গন্ধটা যখন থেকে নাকে, মনে, মস্তিষ্কে লেগে গেল, তারপর থেকে বেশি কষ্ট লাগছে দোস্ত। নূপুরের ঝুমঝুম শব্দ কানে লেগে আছে। উফ, অসহ্য!”
একটু থেমে বলে,
“এক কাজ কর তো? আমায় বাসায় নিয়ে চল। আমি ভালো আছি তো। ডক্টর তো বলল, যেটুকু ড্যামেজ হওয়ার হয়ে গিয়েছে। অযথা এখানে কেন রেখে দিয়েছিস? দোস্ত নোলক এখানে কেন এসেছে বলতো?”
ইশান হাসলো। অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার হাসি। আদ্রর হাত ধরে বলে,
“বেশি ভালোবাসিস, বলিস না ক্যান? স্বীকার করিস না ক্যান?”
“বাসি না ভালো।”
“মিথ্যুক একটা।”
আদ্র আর কিছু বলে না। কপালে হাত রাখে, যেখানে নোলক রেখেছে। চোখে হাত রাখে, যেখানে নোলক রেখেছে। মনেমনে বলে,
“তোমার মতো মায়া আমার শরীর জুড়ে নেই নোলক। বাচ্চা একটা মেয়ে আমার একলা অন্ধকার জীবনের সঙ্গি হয়ে আসতে চাওয়ার মতো ভুল, কেন করো বারবার?”……..(চলবে)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ