Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"জলছবিজলছবি পর্ব-৩৫ এবং শেষ পর্ব

জলছবি পর্ব-৩৫ এবং শেষ পর্ব

#জলছবি
#পার্ট_৩৫(অন্তিম)
#কাজী_সানজিদা_আফরিন_মারজিয়া
.
প্রথম অংশ
———
সেই সকাল থেকে ঝিড়িঝিড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ক্ষণে ক্ষণে মেঘকন্যার ভয়ংকরী গর্জন। জলে ভেজা পথঘাট। একটু থেমে জিরিয়ে নিয়ে পুনরায় আনন্দের সহিত টুপটুপ করে পড়তে থাকে।
ফয়সালের সাদা শার্টের বেশঅর্ধেক ভিজে গিয়েছে। যতক্ষণে টং দোকানের ভেতর ঢুকেছে ততক্ষণে বৃষ্টির পরশ তার শরীরের অনেকখানি স্পর্শ করে ফেলেছে। আধভেজা চুল কপালে লেপ্টে রইলো। বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি কণা সমস্ত মুখ, গলা, হাতে! টং দোকানের ইষৎ বেঁকে যাওয়া বেঞ্চটাতে বসে দু’হাতে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে দোকানদারকে বলল,
“মামা? এক কাপ গরম গরম চা দাও তো। মনটা যেন আরো বেশি ফুরফুরা হয়ে যায়, বৃষ্টি শেষে পরিষ্কার আকাশের মতন!”
দোকানদার মামা এক গাল হেসে জিজ্ঞেস করলেন,
“লিকার বেশি দিমু, না কম?”
“বেশি মামা, বেশি দেও। আজ সব কিছুই বেশি বেশি চাই।”
“আপনে মনে হইতাছে আইজ অনেক খুশি?”
ফয়সাল তৃপ্তির হাসি হাসলো। সত্যি-ই ভীষণ খুশি সে। একটু একটু করে, অনেক নির্ঘুম রাত পারি দিয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রম, মেহনত, চেষ্টা আর সদিচ্ছার আর প্রচেষ্টার ফলে ফ্রিল্যান্সিং-এ নিজের শক্ত একটা স্থান তৈরি করে ফেলেছে। মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই এখন মোটা একটা এমাউন্ট তার হাতে আসতে শুরু করেছে। এছাড়াও দুবছর আগে থেকে খানিক জেদ থেকে শুরু করা অনলাইন বিজনেসটাও এই অল্পদিনেই; অনলাইন-অফলাইন দুজাগাতেই বেশ সরব হয়েছে। এরই মাঝে সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করেছে। সৃষ্টিকর্তা যখন দিতে শুরু করেন, উজার করে দিতে থাকেন। সদিচ্ছা আর নিবির চেষ্টা থাকলে মানুষ কী না করতে পারে?
কাল মাকে নিয়ে ফয়সাল বেশ কয়েকটা ফ্লাট দেখে এসেছে। মায়ের যেটা পছন্দ সেটাতেই উঠবে। কোহিনূর বেগম অবশ্য আহ্লাদী হয়ে বলেছিলেন,”এত বড়ো বাড়ির কী দরকার বাপ? দুইডা মাত্র মানুষ!”
ফয়সাল আরো বেশি আহ্লাদী হয়ে বলেছিল,
“তুমি তো আমার রানীমা! আল্লাহ্‌ তৌফিক দিলে তোমারে আমি রাজপ্রাসে রাখমু আম্মা। আমার যা কিছু সব শুধু তোমার জন্য আম্মা, সব সুখ তোমার।”
চকচক করে উঠল কোহিনূর বেগমের দৃষ্টি। এত সুখকরও হয় মানবজীবন?

নতুন ফ্লাটের কথা অবশ্য লুবনা জানে না। জানবে কী করে? দু’দিন আগে কী সিরিয়াস ঝগড়া হলো। ‘জীবনেও আর মুখ দর্শন করবে না’ টাইপ প্রতিজ্ঞাও করেছে দুজন। যদিও এমন প্রতিজ্ঞা সপ্তাহ দুই-একবার করেই থাকে তারা! এটা তেমন বিশেষ কিছুই না। তবুও খুব রাগ লাগে ফয়সালের। এত ঘারত্যাড়া মেয়েটা! পরে আবার নিজের দিকে তাকিয়ে ভাবে, সে নিজেও তো কম কিছু না। আনমনে হেসে ফেলে ফয়সাল।
তাদের প্রেম চিরাচরিত প্রেমের মতো নয়। বাহির থেকে দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না! ভাববে, দুজন দুজনকে সহ্যই করতে পারে না বোধহয়! সারাক্ষণ-ই ‘মেরে ফেলব, খেয়ে ফেলব’ টাইপ প্রতিক্রিয়া। বাহির দেখে তাদের ভেতরের টান বুঝা দুষ্কর!
সামনে বিশাল দালানের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো ফয়সাল। দুবছর আগেও বাড়িটার দিকে তাকালে লুবনাকে নিয়ে ভাবার সাহস পেতো না! আর আজ?
চায়ের কাপটা বেঞ্চের উপর রেখে লুবনাকে ফোন দিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ফোন রিসিভ হলো। যেন ফোন হাতে নিয়েই বসে ছিল মেয়েটা। ফয়সাল কিছু হয়নি টাইপ ভাব নিয়ে বলল,
“এই ফাজিল, নিচে নাম। সময় দুই মিনিট দশ সেকেন্ড।”
লুবনা গম্ভীর হয়ে বলল,
“পারবো না।”
“দশ সেকেন্ড শেষ। আর দুই মিনিট বাকি। না এলে কী হতে পারে, ইউ নো বেটার দ্যান মি!”
“তুই একটা ফালতু, জঘন্য। তোর কথা শুনতে বাধ্য নই।”
বলে ফোন কেটে দিল। ফয়সাল জানে, লুবনা না এসে পারবেই না! মুখেই যত বড়ো বড়ো কথা! তার চোখে হাসি, মুখে হাসি। কৃষ্ণবর্ণ মুখটা তখনও ভেজা! দোকানদার মামাকে চায়ের কাপটা দিতে দিতে বলে,
“মামা? আজকের পরিবেশটা অদ্ভুত সুন্দর, না?”
দোকানদার মামা কাপ ধুতে ধুতে বলে,
“মন ভালা থাকলে, দুনিয়ার বেবাক কিছুই অদ্ভুত সুন্দর লাগে মামা!”
ফয়সালের পছন্দ হয় কথাটা। তবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়ার আগেই লুবনা এসে উপস্থিত হয়। হাতে ছাতা। পরনে সবুজ রঙের সেলোয়ার কামিজ। ভ্রু কুঁচকানো। টুপ টুপ ছন্দের মতো বৃষ্টি পড়ছে। ফয়সাল মাথায় এক হাত দিয়ে ‘ছাউনি দেয়ার মতন’ করে টং থেকে নেমে আসে। যতটুকু বাকি ছিল, ততটুকুও ভিজে যায় তার শরীর। লুবনার রাগ তখনও পড়েনি। মুখ ফুলিয়ে বলল,
“কেন ডেকেছিস, মানে ডেকেছেন?”
ফয়সাল খুব জোড়ে হেসে ফেলে। লুবনার রেগে থাকলে ‘আপনি আপনি’ করে কথা বলে। কী অদ্ভুত মেয়ে একটা। পাগলীও বটে!
ফয়সাল বলে,
“চটকোনা দিতে ডেকেছি। দিব? দেই?”
লুবনা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলে,
“ফাইজলামি কম করবি, মানে করবেন। কী চাই, তা বলুন। আমার অফুরান্ত সময় নেই!”
ফয়সাল একটু ঝুকে এসে বলে,
“তোরে চাই।”
লুবনা একবার তাকায়। তারপর মুখ ঘুরিয়ে চলে যেতে লাগলে ফয়সাল হাত হেচকা টান মারে। তাল সামলাতে না পেরে লুবনার হাতের ছাতাটা পড়ে যায়। ভিজে যায় শরীর। লুবনা খানিক ভয় পায় যেন। রাগ ভুলে চাপা কন্ঠে বলে,
“বাসায় বাবা আর ভাইয়া আছে। দেখে ফেললে…..!”
ফয়সাল বলে,
“দেখুক। আই ডোন্ট কেয়ার। আমি কী তাদের ভয় পাই?”
লুবনা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আশেপাশে তাকায়। মেয়েটা ভীত হলে কী দারুন দেখায়, যদি তা জানতো! ফয়সাল মোহনীয় কন্ঠে বলে,
“তোর বড়লোক বাপ আর ভাইয়ের একমাত্র আদুরীরে বিয়ে করে ফেললে কেমন হয় বলতো?”
লুবনার কী যে ভালো লাগে। আতংক, আশংকা ভুলে বৃষ্টি ভেজা ফুলের ন্যায় স্বচ্ছ-সুন্দর হয়ে ওঠে মুখখানা। অদ্ভুত ভাবে তারও মনে হয়, আজকের প্রকৃতি এত সুন্দর কেন? অদ্ভুত সুন্দর
.

সৃজন আর শ্রেয়া পাশাপাশি বসে আছে। সৃজন পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার ব্যাবসা সামলাচ্ছে। ব্যাবসা সামলাচ্ছে বলেই যে সে ফয়সালের মতো ক্যারিয়ার নিয়ে খুব বেশি সিরিয়ার হয়েছে তেমন নয়। খুব বেশি পরিবর্ত এই দুই-আড়াই বছরে তার জীবনে আসেনি। শুধু শ্রেয়ার জন্য হঠাৎ হঠাৎ খুব মায়া লাগে! ওর প্রতি মায়াটা একটু বেড়েছে এই যা! রাহাতের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর থেকেই মেয়েটা কেমন যেন দুঃখী হয়ে গেল, চুপচাপ মেয়েটা আরো বেশি চুপচাপ হয়ে গেল! জগতের সবচাইতে দুঃখী মেয়েটা হয়ে উঠলো যেন! সম্পর্ক ভেঙেছে, তা প্রায় বছর পেরোতে চলল; তবুও মেয়েটা নিজেকে সামলে নিতে পারছে না। এত দিনের স্মৃতি এত সহজে ভুলা যায় কী?
যখনই খুব বেশি মনে পড়ে, তখনই কেমন মুষরে যায়। অনেক মানুষের মাঝে থেকেও চোখ ভিজে যায়!
শ্রেয়ার দৃষ্টি নত। এক হাত দিয়ে অন্য হাতের নখ খুটছে। চোখ বেয়ে টপটপ করে অশ্রু ধারা বইছে। আকাশে সকল জল যেন তার চোখে এসে ভর করেছে এই মূহুর্তে।
সৃজন মহাবিরক্ত হয়ে আড়চোখে তাকিয়ে আছে। বেশ অনেকক্ষণ সহ্য করার পর তেঁতে উঠে বলল,
“কী সমস্যা তোর?”
“বাসায় যাব।”
“কেন?”
“এমনি।”
“না, যেতে পারবি না। এখানে বসে বসেই ড্রামা কর, ফালতু আবেগ দেখা। দেখি কতক্ষন দেখাতে পারিস!”
শ্রেয়া উঠে চলে যেতে লাগলে সৃজন টেনে বসায়। ধমকের সুরে বলে,
“শালার মগাডার জন্য এত কিসের দরদ তোর? সেল্ফরেসপেক্ট নাই? এত ফালতু আবেগ বেশি বলেই জাস্ট দুচ্ছাই করে ছেড়ে দিয়েছে। শালার ফালতুটার জন্য, ফালতু কান্না দেখে দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি!”
শ্রেয়া আকস্মিক রেগে গিয়ে একটা কান্ড করে বসলো। সৃজনকে একটা থাপ্পড় দিয়ে বসে। ভেজা আঁখিপল্লব, কম্পিত কন্ঠে বলে,
“মায়া বুঝিস? টান বুঝিস? সত্যিকারের ভালোবাসা বুঝিস? বুঝিস না। বুঝিস না বলেই অন্যের মায়া, টানকে তোর কাছে ফালতু ইমোশন মনে হয়। তুই আমাকে আর কল দিবি না, মেসেজ দিবি না অসভ্য!”
বলেই হনহনিয়ে হাঁটতে লাগে। সৃজনের ভয়ানক খারাপ লাগে! চোখমুখ লাল হয়ে আসে। ধরে আসা কন্ঠে চেঁচিয়ে বলে,
“হ্যাঁ, দুনিয়ার সব মায়া, টান আর আবেগ তো তোরেই দিয়ে রাখছে ইশ্বরে। আর কারো তো নাই। একজন চইলা গেছে, এহন এই ফালতু মায়ার দোহাই দিয়ে মইরা যাইতে হইবো তো, হইবো না? ওই মগাডারে ছাড়া তো আপনি দুনিয়ার কিছু চোখে দেখেন না। যা ইচ্ছা কর, আমার কী?”
বলে একটু দম নেয়। ঘনঘন নিশ্বাস নিয়ে পায়ের কাছের খালি বোতলটা পা দিয়ে দূরে ফিক্কা মেরে বলে,
“খবরদার ব্লক দিবি না। জাস্ট মাইরা ফেলমু।”
শ্রেয়া ততক্ষণে পার্ক থেকে বেরিয়ে যায়। সৃজন তখনও বসেই রইলো। ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু হয়েছে সৃজনের মুখে, হাতে, গালে…..
.
আটমাস আগে হঠাৎ একদিন নিশিতা নিষাদের সঙ্গে দেখা করতে এসে কান্নাকাটি করে জানায়, তার বাসা থেকে বিয়ের প্রেশার দিচ্ছে। মা বাবা সন্দেহ করছে।
নিশিতার আশংকা, ওকে যেকোনো সময় জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই হয়তো আজ ওকে নিয়ে পালিয়ে যাবে, নয়তো ও সুইসাইড করবে।
নিষাদ খুব করে বুঝালো, এমন কিছুই হবে না। পালিয়ে যাবে কই? না পড়াশোনা শেষ হয়েছে, আর না আছে চাকরি! থাকবে কই? খাওয়াবে কী?
নিশিতা নাছর বান্দা। সে কিছুতেই বাড়ি ফিরে যাবে না। নিষাদ বাড়িতে আলোচনা করবে বলে, অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে সেদিন বাড়ি পাঠিয়েছিল। এবং বাড়িতেও জানিয়েছিল। আর গন্ডগোলটা তখনই বাঁধে। বাবা-মায়ের সঙ্গে মতবিরোধ হয়, বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে নিষাদ জিদ করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসে। নিশিতাকে ফোন করে জানায়, ‘বিয়ে করবে, বাসা থেকে বেড়িয়ে আসতে। আর জেদ বাস্তবায়ন করতে বিয়ে করেও ফেলে!’
বন্ধুরা যদিও ভাবতে বলেছে, রাগের মাথায় ভাবার অবকাশ পায়নি সে। বিয়ে হয়। এক দিকে জেদ, অন্যদিকে প্রণয়িনীকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পেয়ে অন্যরকম সুখানুভূতিও হয়েছিল সেদিন। বন্ধুরা মিলে ছোটখাটো একটা বাসা ঠিক করে দিল। টুকটাক সরঞ্জাম কিনে দিল। কিন্তু জীবনের কী ভীষণ বাস্তবতায় যে পা দিয়েছিল তা তখনও ঠাহর করতে পারনি। প্রথম প্রথম সুখকর লাগলে; কিছুদিন যেতেই ত্যাক্ত লাগতে আরম্ভ হলো। মোটামুটি সচ্ছল পরিবার থেকে উঠে আসার ফলেই বাস্তবতা মানতে কষ্ট হচ্ছে তার।
এই আটমাসেই পদে পদে টের পাচ্ছে রাগ করে বাসা ছেড়ে কী ভীষণ বাস্তবতার মুখে পড়েছে। পড়াশোনা শেষ হয়নি, চাকরি নেই। ঢাকা শহরে বাসা ভাড়া, খাওয়া, দুজনের পড়াশোনার খরচ! সব মিলিয়ে কুলিয়ে উঠছে না। টিউশনির টাকা দিয়ে চলছিল। পাশাপাশি কিছু টাকা জমিয়ে একটা ব্যাবসা শুরু করেছিল, কিন্তু ভাগ্যে নির্মম পরিহাসে সেখানেও লোকসান! এরপর থেকেই মেজাজ আরো বেশি খিটখিটে হয়ে থাকে সারাক্ষণ।

নিশিতার খুব বেশি চাওয়া পাওয়া নেই। মুখ ফুটে কিছু চায়ও না কখনও। সেও সচ্ছল পরিবারের মেয়ে। এত অভাব কোনদিন চোখেও দেখেনি। তবুও প্রতিনিয়ত মানিয়ে নেয়ার তীব্র চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। যেখানে আগে নিষাদ মতের বেমিল কিছু বললেই মুখ ফুলিয়ে থাকতো, উল্টা রাগ দেখাতো; সেখানে এখন নিষাদ অকারণ রাগ দেখালেও কোনো প্রতিবাদ করে না। নিষাদের দিকটাও বুঝতে চেষ্টা করে।
আজ সকালেও খুব চেঁচামেচি করে বাসা থেকে বেড়িয়ে গিয়েছে নিষাদ। নিশিতা কয়েকবার কল করলেও ধরেনি।
নিশিতা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় তার বিষন্নতা ঝড়ে। খুব অভিমান লাগে মনে। সত্যি কী ‘অভাবে ভালোবাসা জানালা দিয়ে পালায়?’
কারো আসার আলাপে ভাবনা ভেঙে নড়েচড়ে ওঠে নিশিতা।
নিষাদ খুব মিষ্টি করে ডাকে,
“নিশি? একটু এদিকে আসো তো।”
নিশিতা খুব দ্রুত গতিতে নিষাদের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। নিষাদ হাতের ফুচকা আর চটপটি নিশিতার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলে,
“তোমার তো খুব প্রিয়, তাই নিয়ে এলাম!”
নিশিতার মনে হলো সে এত খুশি বহুদিন হয়নি! নিশিতার নিরবতা দেখে নিষাদ কাছে এসে নিশিতার গালে হাত রেখে বলে,
“সকালের জন্য স্যরি! তুমি খুব লক্ষ্মী নিশি। তবুও কষ্ট দিয়ে ফেলি। আ’ম স্যরি।”
নিশিতা মৃদু হেসে বলে,
“আমি কষ্ট পাইনি। আমি বুঝি তো তোমায়। কত চাপ যাচ্ছে! রাগ করে বাড়ি ছাড়াটা একদমই ঠিক হয়নি, বুঝলে? আম্মু আব্বুকে একটু কষ্ট করে মেনেজ করে নিলেই হতো। এখন তো তাঁরাও কষ্ট পাচ্ছে!”
নিষাদ শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে ভেতরের রুমের দিকে যেতে যেতে বলে,
“ইশশ! কত বুঝের মেয়ে হয়ে গিয়েছ নিশি!”
নিশিতা মুখের হাসি আরো গাঢ় করে বলে,
“বিয়ে হয়ে গিয়েছে না আমার? আটমাস হয়ে গিয়েছে! বুঝের হতে হবে না?”
ভেতর থেকে হাসির ধ্বনি ভেসে আসে।
.
শেষাংশ
——-
“অগ্নিশর্মা, কেমন আছো? আশাকরি বৃষ্টির জলে ভেজা পদ্মফুলের মতো স্বতঃস্ফূর্ত আছো। তোমার শেষ ই-মেইলে বলেছো, আমি নাকি মেমসাহেব পেয়ে তোমাদের সকলকে ভুলে গিয়েছি! যদিও ভারী অদ্ভুত কথা বলেছো; তবে তোমার এই কথার পর থেকেই মনে হতে লাগলো, দুবছর পরও যদি একজন মেমসাহেব পটাতে না পারি, তাহলে এ আমার জন্য চরম মিস্টেইক। হা হা হা!
তার থেকেও ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, বেশ কয়েকজন বিদেশীনীর ফটোগ্রাফি শুরু করলাম এরপর। মানে পোটানোর আধুনিক টেকনিক বলতে পারো, হা হা!
কিছু মেমসাহেবদের দেখলে হুট করে ম্যানিকুইন এর মতো লাগে বুঝলে? সব কেমন যেন কৃত্রিমতায় ভরপুর। হাসলে মনেহয়, জোড় করে পিটিয়ে পিটিয়ে কেউ হাসাচ্ছে! কী আশ্চর্য! তবে দুই তিনজন মেমসাহেবকে ভালোই লেগেছিল, কিন্তু এদের সাথে কথা বলার পর মনে হলো, কোনো ভিনগ্রহের এলিয়েনের সাথে কথা বলছি! মন খুলে কোনো কথাই বলতে পারি না। বলি এক বুঝে আরেক। কী এক যন্ত্রনা, বলো দেখি?
সেদিন কী হয়েছে জানো? এক মেমসাহেবকে পোটানোর দু-তিন ধাপ অতিক্রম করে ফেলেছি। সেও বেশ হেসে-টেসে কথা বলছে। আমার নামটাও মোটামুটি সুন্দর করে উচ্চারণ করলো। মনে মনে লাড্ডু ফুটে গিয়েছিল অলরেডি। ভাবলাম, মেমসাহেব এবার জুটেই যাবে। কিন্তু আমার সেই বিদেশীনী তোমার আর আদ্রর নামের পুরো বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আদ্রকে বানিয়েছে “অ্যাড্র” আর তোমাকে বানিয়েছে “অঘ্নিশরম্যা” “নোওলোখ”! কী ভয়ংকর! এটুকু অব্দি তাও মেনে নিয়েছিলাম; কিন্তু যখন সে আমায় “ভাংঘালি ভ্যাবু” বানিয়ে দিয়েছে তখন থেকে আমার বিদেশীনী মেমসাহেব বিয়ে করার শখ অর্ধেক মিটে গিয়েছে। ভাংঘালি ভ্যাবু উপাধির সাথে সাথে আমাকেও ভেঙে দিয়েছে, অগ্নিশর্মা! আপাতত আমি ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাঁকা হয়ে আছি। তোমার খোঁচা মারা কথার চক্কোরে পা দিয়ে, বিদেশিনী বিয়ে করে আপাতত ভেঙে যেতে চাচ্ছি না বুঝলে? তাই বিয়ে ফিয়ের চিন্তা বাদ দিয়েছি। হা হা হা!
আচ্ছা এসব কথা বাদ দেই। কাজের কথায় আসি। অ্যাড্র, না মানে আদ্র বলদটারে ভীষণ মিস করছি অগ্নিশর্মা। তোমাকেও বোধহয়!
আচ্ছা শোনো? বলদটারে বলবা আমাকে যেন কল না দেয়। ওর উপর আমি খুব রেগে আছি। দুবছরেই এই রাগ কমে যাওয়ার নয়। আরো বছর কয়েক লাগবে।

তোমায় চুপিচুপি একটা কথা বলি! এতদিন বলা হয়নি। আদ্র বলদটা তোমাকে খুব ভালোবাসে। শরৎ এর মতো সুন্দর আর জলের মতো স্বচ্ছ ভালোবাসা। ইশশ! এমন বলদের বলদ, ভালোবাসে সেটাও বলতে জানে না ঠিক ভাবে।
শোনো অগ্নিশর্মা? বলদটাকে বলে দিও তো, সে তোমায় যতটা ভালোবাসে, আমি বলদটারে ততটাই ভালোবাসি। রাগ কমলে দেশে ফিরে, আগে একটা ঘুষি দিব স্টুপিডটাকে তারপর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মনে জেদ মিটাবো।”

ই-মেইলটা পড়া শেষ করে নোলকের চোখেমুখে স্নিগ্ধ হাসি ফুটে ওঠে। শুরুতে যতটা হেসেছে, শেষে ঠিক ততটাই মুগ্ধ হয়েছে। আদ্রর পর এই মানুষটাকে নোলক খুবই পছন্দ করে। অদ্ভুত ভাল একটা মানুষ। বন্ধুর প্রতি কী অকৃতিম ভালোবাসা তার!
সেদিন যদি এই মানুষটা না থাকতো তবে কী করে এই ছেলেটাকে পেতো? কিন্তু হুট করে তাঁর ভিনদেশে পারি জমানো রহস্যটা আজও ভেদ করতে পারে না।
নোলক বিরবির করে বলে,”আল্লাহ্‌! এই ভাল মানুষটাকে একটা ‘মিষ্টি ম্যানিকুইন’ এর মতো ‘মেমসাহেব’ জুটিয়ে দাও প্লিজ! যে তাকে ‘ভাংঘালি ভ্যাবু’ না বলে ‘বাঙালি বাবু’ বলতে পারবে!”

রাতের শেষ ভাগ। বাহিরে প্রচুর বাতাস বইছে। ‘বৃষ্টি হবে?’ ভাবতে ভাবতে ঝপঝপ করে বৃষ্টি শুরু হলো। খোলা জানালার ফাঁকে বৃষ্টির ছাট এসে নোলকের গায়ে লাগে, মুখে লাগে। ড্রিম লাইটের মৃদু আলোতে, পাশে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটার দিকে চায়। এত মায়া!
নোলক ডাকে,
“এই যে শুনছেন, এই? একটু উঠুন না!”
সুপুরুষটির ঘুম খুব পাতলা। আর এই মেয়ের ডাকের কাছে, সকল ঘুম কই যেন পালায়! চটজলদি উঠে বসল। অদ্ভুত সুন্দর চোখ দুটি পিটপিট করে। ভ্রু’জোড়া খানিক কুঁচকে আসে। অনুমানের উপর….ঠিক অনুমান বলা চলে না, অভ্যেস বলা যায়! সেই অভ্যেসেই বা’হাতটা নোলকের গালে রেখে বলে,
“কী হয়েছে নোলক? ঠিক আছো তুমি?”
নোলক এই পুরো কাজটাই ভারী মুগ্ধ হয়ে দেখে! যদিও আজ প্রথম নয়! বিগত দু’বছরে প্রায়শই এমনটি সে করে আসছে! কুটিকুটি হেসে বলে,
“বাহিরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। চলুন না ভিজি!”
মুগ্ধতায় ঘেরা মানবটি বিরক্তি নয় শুধু, মহা বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,
“আজীবন ছেলেমানুষ থেকে যাবে তুমি নোলক?”
নোলক ছেলেটির খুব সন্নিকটে গিয়ে গুটিশুটি হয়ে বুকে মাথা রেখে বলে,
“আপনি জুড়েই আমার সকল ছেলেমানুষি, আদ্র সাহেব! আপনি আমার, এই খুশিতেই আমার সকল ছেলেমানুষি! জনম জনম আপনাতেই আমার সকল অবুঝপণা বন্ধি হয়ে রইবে, আমার বুঝের মানুষ!”
আদ্র নোলককে নিজের বাহুতে জড়িয়ে বলে,
“আমার তুরতুরি, আমার চঞ্চলাবতী, আমার নোলকরানী! আমার পাগলী একটা!”
নোলক খুব আহ্লাদ করে বলে,
“শুনুন? শ্রী আর আপু দুজনেরই মেয়ে বাবু হবে, ইনশাআআল্লাহ্‌। খুব কিউট না ব্যাপারটা? দুটো মেয়ে বাবুর নাম ঠিক করতে হবে, বুঝেছেন?”
আদ্র ঠাট্টার স্বরে বলে,
“হায়রে! সবাই বড়ো হয়ে যাচ্ছে, মা হয়ে যাচ্ছে, শুধু আমার বউ’টাই বড়ো হচ্ছে না! আহ, দুঃখ!”
নোলক মুখ ফুলিয়ে উঠে যেতে লাগলে; আদ্র আরো শক্ত করে ধরে রেখে, খুব আদর দিয়ে বলে,
“এত মায়া, এত স্নিগ্ধতা, এত ভালোবাসা কেন পুরো তুমিটা জুড়ে? আমার জীবনের যত অপূর্ণ ভালোবাসা সব তুমি দিয়েছো নোলক! আমার নোলকরানী? আমার অভিমানী? এত সুখ আমি কই রাখি, বলো দেখি?”
মূহুর্তের মাঝেই নোলক পুনরায় চঞ্চল হয়ে ওঠে। বলে,
“চলুন না, আজ আমাদের সকল সুখ জলে মেশাই?”
রাতদুপুরে আদ্র ভারী আওয়াজ করে হাসে। নোলকের কপালে ওষ্ঠদ্বয় ছুঁয়িয়ে বলে,
“বৃষ্টি এলেই তোমায় পাগলে পায় নোলক!”

নোলক বিছানা থেকে নেমে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। পর্দা আরো খানিক সরিয়ে দিয়ে বৃষ্টির মায়া অঙ্গে জড়ায়। চোখ দুটি বন্ধ করে খুব দরদ দিয়ে বলে,
“জলের সঙ্গে আমার খুব ভাব, আদ্র সাহেব। যতবার বৃষ্টি নামে, জলের ধারা বয়; ততবার, ঠিক ততবার আমি আপনার প্রেমে পড়ি! আকাশ জুড়ে, মন জুড়ে, আমার প্রাণজুড়ে জলে ভাসা প্রেম নামে। মন কেমন করা প্রেম।”
আদ্র ততক্ষণে নোলকের পাশে এসে দাঁড়ায়। বৃষ্টির জল দুজনের গায়ে মাখামাখি হয় খুব। নোলক চমৎকারতম দৃষ্টিতে আদ্রর দিকে চায়।

বৃষ্টি নামে, দুঃখ নামে, সুখ নামে! শহরজুরে প্রেম নামে, জলের প্রেম!
(সমাপ্ত)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ