Friday, June 5, 2026







জলছবি পর্ব-২৩

#জলছবি
#পার্ট_২৩
#কাজী_সানজিদা_আফরিন_মারজিয়া
.
কৃত্রিম আলোময় রেস্টরন্টে তাদের টেবিলটায় কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করলো। ওয়েটার এসে কোল্ডড্রিংস দিয়ে গেলো। নোলক পুরো সময়টাতেই নির্লিপ্ত। আরশি কৃত্রিম হেসে আবার বলতে শুরু করল,
“আমি গত কয়েকমাস যাবত আদ্রর খোঁজখবর নিচ্ছি। ছেলেটা আসলে কেমন আছে তা জানার বেকুলতায় বলতে পারো।
ছেলেটা আসলে খুব একা। ঐ এক ইশান ছাড়া ওর কাছের কেউ নেই। মা-বাবা থেকেও না থাকার মতো। আমি ওর জীবনে যাওয়ার পর কিছুটা হয়তো ভরসা পেয়েছিল। সেই আমিটাও চলে এলাম আরো বেশি একাকীত্ব বাড়িয়ে দিয়ে। মানুষ অনেক স্বার্থপর, বুঝলে? শুধু নিজের সুখের ভাবনাতেই মত্ত থাকে। আমিও বোধহয় সেই স্বার্থপরদের একজন। বোধহয় বলছি কেন? এটাই তো সত্য!
আমি আমার অনুতাপ কমাতেই বারংবার আদ্রকে ফোন দিয়ে স্যরি বলতে থাকি। কারণ সবসময় মনে হতে থাকে আদ্ররে মনজুড়ে যেদিন শান্তি আসবে সেদিন আমার জীবনেও শান্তি আসবে।”
সামনে রাখা কোল্ডড্রিংসে এক চুমুক দিয়ে একটু জিরাল আরশি। দৃষ্টি নোলকের দিক থেকে সরিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে বলতে লাগলো,
“ইশানের থেকে শুনেছিলাম ওরা দ্বীপের বাসায় যাবে ওর বোনের বিয়ে উপলক্ষে। ইশানের থেকেই মোস্ট অব দ্যা টাইম আমি আদ্র’র খোঁজখবর নিয়ে থাকি। এতো অপ্রিয় মানুষ জনের মাঝে ঐ একটা ছেলেই এখন অব্দি সত্যিকারে প্রিয় হিসেবে টিকে আছে।
যদিও নিজের বেস্টফ্রেন্ডের সাথে চিট করার ফলে অনেক কঠিন কথা ইশানও শুনিয়েছে আমাকে। তবুও আমি একটুখানিও দুঃখ পাইনি, জানো? কথাগুলো তো আমার প্রাপ্য।
সে যাই হোক, ওদের একটু মাইন্ডফ্রেশ হবে ভেবে মনে মনে খুশি-ই হলাম। কিন্তু আদ্র ফেরত আসার পর ওর সঙ্গে তোমার মেলামেশা আমার চোখে বাজলো। পরে তোমাদের ব্যাপারে সব খোঁজখবর নিয়ে জানতে পাড়লাম, তুমি শ্রীতমার ফ্রেন্ড। তোমার খুঁটিনাটি খুনশুটি সবটাই জানলাম।
জানলাম, প্রথমে তোমাদের সাপেনেউলে সম্পর্কের কথা। সাপেনেউলে হোক কিংবা যেমনি হোক আমি ব্যাতিত কিন্তু ওর জীবনে এর আগে আর কোনো নারী সঙ্গ কিন্তু ছিল না। হওয়ার সুযোগই পায়নি, হবে কি করে? বেশির ভাগ মেয়েদের কাছেই ওর এই গুরুগম্ভীর স্বভাবটা অপছন্দের ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ছেলে মানুষের আবার এত ভাব কিসে? ওরা তো জানতো না, ওর এই স্বভাবটার পেছনে দীর্ঘকালীন একাকীত্বের বড়সড় দায়ভার রয়েছে। আমি নিজে থেকে ওর কাছে না গেলে হয়তো আমিও ওর সেই সঙ্গটা পেতাম না!
বহুদিনপর আবারও আমার মতোই চট করে এলে তুমি ওর জীবনে! যাকে আমি বহুদিন হাসতে দেখিনি, সে তোমার সংস্পর্শে এসে মন খুলে হাসতে শিখলো পুনরায়। প্রথম যেদিন আমি এই দৃশ্য দেখেছিলাম সেদিন আমার যেমন ভালো লেগেছিলো তেমনি একটু হিংসেও লেগেছিলো।”
বলেই হাসলো আরশি। তারপর বলল,
“নিশ্চই ভাবছো হিংসে কেন হয়েছিল? কোনো কারণ নেই, অযথাই। ভেব না আদ্র’র প্রতি আমার পুরোনো মুগ্ধতা জেগে উঠেছে বলে এমন লেগেছে। তেমন কিন্তু কিছু নয়। মানুষের সহজাত বৈশিষ্ঠের মধ্যে একটি হলো, যে জিনিস একবার তার ছিলো, সে জিনিস অন্যকারো দখলদারিত্বে চলে গেলে সামান্য হিংসে অনুভব করে। আমিও তাই করেছিলাম। এর বেশি কিছু নয়।
এবার শেষ কথাটায় আসি। তোমায় এত কিছু বলার কারণ! হ্যাঁ, কারণ একটা অবশ্য আছে। সত্যি বলতে আমার মনে হয়েছে আদ্ররে প্রতি তোমার খানিক মুগ্ধতা আছে। আই মিন তৈরি হচ্ছে। যেহেতু আদ্রও অযথা কোনো মেয়েকে নিজের সংস্পর্শে আসতে দেয়না, সেহেতু তোমার প্রতিও যে ওর অল্প হলেও টান আছে তাও অস্বীকার করার উপায় নেই। অন্ততপক্ষে আমার তাই মনে হচ্ছে। হয়তো আমি ভুল, হয়তো নয়। কিন্তু এই হওয়া, না হওয়া সম্ভাবনাটা বাস্তবে রূপান্তরিত হওয়ার আগেই কিছু কথা তোমায় বলে রাখা আমার উচিত বলে মনে হয়েছে। আমি বলছি না তোমাদের মাঝে বিশেষ কিছু আছে, ইনফ্যাক্ট আমি জানিও তোমাদের মাঝে বিশেষ কোনো বন্ধন নেই। সে কারণেই বলতে চাই, আদ্রকে সত্যিকার অর্থে ভালো বেসে না থাকলে, তোমার প্রতি ওর মায়া বাড়িও না। সত্যি বলছি, ছেলেটা তবে মরেই যাবে নোলক।
যাদের প্রিয় মানুষের সংখ্যা খুব কম, তারা প্রিয় মানুষ হারানোর ভয় পায় বলে সংখ্যা বাড়াতে পারে না। ঐ অল্পসংখ্যক মানুষদেরকেই নিজের সবটা দিয়ে ভালোবেসে আগলে রাখে। হয়তো সবসময় নিজের ভালোবাসাটা প্রকাশ করতে পারে না, কিংবা চায়না। কিন্তু তাদের মতো করে ভালো কেউ বাসতে পারে না, ট্রাস্ট মি!
তুমি আর আদ্র দুটি ভিন্ন স্বভাবের মানুষ। দুদিন পর ওর উপর তোমার বিরক্তি চলে আসবে না তো? ঠিক আমার মতোই মাঝপথে ছেড়ে আসবে না তো?”
নোলক কিছু বলে না। বলতে পারে না। আসলেই তো! আদ্র’র প্রতি শুধুই যে ওর ভালোলাগা কিংবা মোহ নয়, তার কি নিশ্চয়তা? পরক্ষণেই ভাবে, ভালোলাগা থেকেই তো ভালোবাসার জন্ম।
নোলককে চুপ থাকতে দেখে আরশি তার নরম হাত দু’খানা নোলকের বাচ্চাবাচ্চা দেখতে হাতদুটোর উপর রাখে। তারপর খুব সুন্দর করে বলে,
“আমি কিন্তু তোমার অনুভূতিতে আঘাত করছি না। শুধু অনুরোধ করছি, যা করবে একটু ভেবে করবে প্লিজ।
মুখ ফুটে মনের কথা বলতে না পারা ছেলেটার মনের দুঃখ আর বাড়িয়ে দিও না। বারবার অনুভূতিতেই আঘাত পেতে থাকলে ছেলেটা অনুভূতি শুন্য হয়ে যাবে।
তুমি খুব মিষ্টি, চঞ্চল একটা মেয়ে। এই দূরন্তপনায় ভরপুর মানুষগুলো চারপাশের মানুষগুলোকে ভালো রাখার প্রবল ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। চারপাশের সব কিছু প্রাণবন্ত করে দিতে পারে এক নিমিষে। আমার বিশ্বাস তুমিও তেমন-ই একজন।”
এটুকু বলে আরশি উঠে দাঁড়ায়। তৃপ্তির কন্ঠে বলে,
“আজ অনেকটা হালকা লাগছে। অনুতাপ বোধের থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়ার সুযোগ বোধহয় পেতে চলেছি। ভালো থেকো, ভালোবেসে আগলে রেখো ভালোবাসার মানুষটাকে। আসি তবে!”

আরশি চলে যায়। নোলক সেদিকে চেয়ে থাকে। নোলকের মন ভারি হয়ে আসে। তার সারা মনজুড়ে দ্বিধা। কি অদ্ভুত অনুভূতি। মস্তিষ্কজুড়ে কতশত প্রশ্ন ঘুরে বেড়াতে লাগলো অনায়াসে। প্রশ্নবিদ্ধ হতে লাগলো নিজের সুপ্ত অনুভূতি।
.
এরপর কেটে গেলো দশদিন।
ইশান তৈরি হচ্ছিল কোথাও বের হবে বলে। রুমের দেয়ালের সাথে সেট করা মাঝারি ধরনের একটা আয়নায় খানিক নিচু হয়ে চুলগুলো হাত দিয়ে গোছ করছে।
আদ্র ডেকে বলল,
“এই ইশু? আমার চশমাটা দেখেছিস?”
“তোর দুইটা আধ-কানা চোখ ছাড়া, বেচারা চশমাকে তো আর কোথাও দেখি না।”
আদ্রর দিকে না তাকিয়েই খানিক হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতেই কথাটা বলল ইশান। মুখ জুড়ে হাস্যজ্জ্বল ভাব।
“একটু খুঁজে দে দোস্ত, পাচ্ছি না।”

আদ্র’র কন্ঠে দুর্বলতা স্পষ্ট। নিজের চুলে হাতের আঁচড়ে বাহারি নকশা করা বন্ধ করে এবার ইশান আদ্র’র দিকে চাইলো। আদ্রকে মাথায় হাত রেখে বসে থাকতে দেখে কাছে এলো। এবং কাছে আসতেই টেবিলের উপরে চশমাটা দেখলো। চমশাটা নিয়ে আদ্র’র পাশে বসলো। তারপর আদ্র’র চশমা আদ্র’র দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“তোর পাশেই তো চশমা। এতো কাছে থেকেও দেখিস না?”
আদ্র কিছুই বলল না। চোখে চমশাটা পরে ইশানের দিকে চাইলো। একটু ঝাপসা দেখার ফলে চশমাটা খুলে নিয়ে পরিষ্কার করে আবার পড়লো।

ইশান কিঞ্চিৎ চমকানোর মতো করে বলে,
“এই? চোখ লাল কেন? দেখি দেখি?”
“লাল? অ্যালার্জি হবে হয়তো। দেখতে হবে না। ঠিক হয়ে যাবে।”
“দোস্ত তোর কি শরীর খারাপ? দূর্বল দেখাচ্ছে।”
আদ্র মৃদু হেসে বলে,
“নাহ। কই যাচ্ছিলি, যা।”
“আচ্ছা আজ তো পারছি না। তবে কাল হসপিটাল যাবো। তুই খুব বেশি কেয়ারলেস আদ্র। মানুষ বলে ইন্ট্রোভার্ট ছেলেগুলো খুব যত্নশীল হয়। তুই এত অযত্নশীল কেন? এক্সট্রোভার্ট হয়ে আমিও তো এতটা অযত্নশীল নই। আমি কয়েকদিন যাবত লক্ষ্য করছি তোর মাথা আর চোখে বেশ প্রেসার দিচ্ছিস। আই থিংক মাইগ্রেনের খুব উৎপাত বেড়েছে। দুই-তিনদিন দেখেছি রাতে উঠে বসে থাকিস! আমারও ভুল এতদিন ডাক্তারের কাছে না যাওয়া। শেষ কবে চোখের ডক্টর দেখিয়েছিস বল তো? নোলককে তো খুব ইমম্যাচিউর ইমম্যাচিউর বলতে থাকিস। তুই কতুটুকু ম্যাচিউর বল তো? কালই ডক্টরের কাছে যাবো। নো হাংকি-পাংকি ওকে?”
ইশানের বলার ভঙ্গিতে যন্ত্রনা নিয়েও আদ্র হেসে ফেলল। বলল,
“শাসাচ্ছিস?”
“তা মনে হলে তাই।”
আদ্র মুখে, ঠোঁটে, চোখে তখনও হাসি লেগে রইলো। তবে কিছু বলল না। কারন এই ছেলেটার প্রভাব তার জীবনে অনেক। ওর কোনো কাজে খুব একটা বাঁধা দেয় না। বাঁধা দিলেও অবশ্য বিশেষ লাভ হয় না। কখনো কখনো তো মনেহয়, আদ্র নিজেকে যতটুকু বুঝে, ইশান তার থেকেও বেশি ওকে বুঝে।

ইশান মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে,
“বুঝলি? আজ প্রথমে বোনের জন্য কিছু টাকা পাঠাবো। তারপর একটা কাজে যাবো। কি কাজ, বলা যাবে না। টপ সিক্রেট।”
“আচ্ছা যা।”
ইশান উঠে দাঁড়ায়। শান্ত স্বরে বলে,
“শুধু একটা কথা বলি, তুই আমার জন্য যতটুকু বিসর্জন দিতে পারবি, তার থেকে বেশি বিসর্জন তোর জন্য আমি দিতে পারবো। তুই আমার বন্ধু, তুই আমার ভাই। তোর থেকে বেশি ইম্পরট্যান্ট আমার কাছে কিছু না, কেউ না।”
আদ্র উঠে দাঁড়ায়। ইশানকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,
“তোর মতো করে ভালো কেউ বাসতে পারেনা দোস্ত। তুই ছাড়া আমার এত আপন আর কেউ নাই। তুই ছাড়া আমার সব কিছু অন্ধকার। আই লাভ ইউ মোর এন্ড মোর।”

সুখানুভূতিতে সারা মন জুড়িয়ে যায় দুজনের। এমন ঈর্ষান্বিত হওয়ার মতো সুন্দর মজবুত বন্ধুত্ব দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে, সুখানুভূতি অনুভব করবে।
ইশান চলে যাওয়ার পর আদ্র রুমের বাতি নিভিয়ে দিলো। চোখের চশমা খুলে পাশে রাখলো। মাথাটা আজকাল খুব জ্বালাচ্ছে, সঙ্গে চোখ। ইচ্ছে করে চুলগুলো টেনে ছিড়ে ফেলতে। আর চোখ দুটো? চোখ দুটোকে একেবারে নিষ্প্রয়োজন বোধ হয়। একটু দূরের জিনিস বুঝতে হলে খুব পরিশ্রম করতে হচ্ছে আজকাল।
.

“হ্যালো নোলক?”
“হুম।”
“একটা কথা জানতে ইচ্ছে হচ্ছে।”
“বলুন।”
“অন্ধকার বেশি সুন্দর নাকি আলো?”
নোলক ফোন কানে নিয়েই দেয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়।। ঠিক দশদিন পর আদ্র’র কন্ঠ শুনতে পেলো। নিজের মন পরিক্ষার জন্যই সে এই কয়েকদিন আদ্রর থেকে দূরে দূরে রইলো। অবশ্য ঠিক দূরে ছিলো তাও বলা যায় না। পথের দূরত্ব তো আসল দূরত্ব নয়, যতক্ষণ না মনের দূরত্ব বাড়ে। নিচের দিকে চেয়ে পায়ের নখ দিয়ে মেঝেতে আঁচড় কাটতে কাটতে বলে,
“আপনাকে আমি অন্ধকারে বেশি অনুভব করি লেখক সাহেব।”
আদ্র এক কান থেকে ফোন অন্য কানে নেয়। শোয়া থেকে উঠে বসে। শরীরটাকে মৃদু কাঁপিয়ে হেসে বলে,
“হা হা! ভূত হিসেবে? কামড়ানো ভূত?”
নোলক বলে,
“যাহ! তা কখন বললাম?”
আদ্র’র মুখের হাসি, শরীর দুলানো হাসি হঠাৎ-ই মিলিয়ে গেল। কেমন করে যেন বলল,
“অন্ধকারের অনেক তেজ নোলক। ঠিক আপনার মতো। আজকাল অদ্ভুত এক ভাবনা আসছে। অন্ধকারে হারিয়ে যেতে মন চায়। অনর্থক ইচ্ছে।”
“আমায় নিবেন সাথে? আমিও একটু হারাই!”
আদ্র আর কিছুই বলে না। একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বঃস বের হয় কেবল। ফোন কেটে দিয়ে চশমা খোঁজে। এপাশ-ওপাশ। চশমা কই?

নোলক কান থেকে ফোন নামিয়ে নেয়। দুঃখ লাগে ভারি! এমন করে ফোন কাটা কি খুব প্রয়োজন?

দরজায় বেল বাজে। নবনী বাসায় নেই। নিজে গিয়ে দরজা খোলে। নমনীয়তার সঙ্গে ভদ্রলোক বলে,
“আপনার নামে এই পার্সেলটি এসেছে।”
নোলক ভাবে, তাকে কে পার্সেল পাঠিয়েছে?
ভাবনা আর কৌতূহল নিয়েই সই করে, পার্সেল নিয়ে ভেতরে আসে। নামধাম কিছু লেখা নেই। কে পাঠালো?
কৌতুহল নিয়েই পার্সেল খুললো। একটা নূপুর, একটা চিঠি আর একটা ছবি। ছবি না ঠিক, জলছবি। শুন্য পায়ের জলছবি। যেই নূপুরটা আছে সেটা তার-ই। হারিয়ে যাওয়া নূপুর! নোলক চিঠিটা নিয়ে জানালার কাছে এলো। বিস্ময় নিয়েই চিঠিটা খুলল,
“শ্রাবণের শেষ সময়টা। প্রকৃতির ঘন বর্ষণের মাঝে খাঁ খাঁ রোদ হয়ে এলো সে! তীব্র রোদে মানুষের যেমন কপাল কুঁচকে যায়, আমার বেলাতেও হলো ঠিক তাই। তার তুরতুর করা স্বভাবটায় একেবারে শুরুতেই বিরক্ত, মহাবিরক্ত, অতিবিরক্ত হয়ে বিরক্তির মাত্রা অতিক্রম করে ফেললাম। তারপর যে হঠাৎ কি হলো! বিরক্ত হওয়া ভুলে গেলাম!

তারপর কত কি হলো! কত রাগ, কত বিরক্তি! তার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকা ভীতু ভীতু!
সেই রাতে ছাদে গল্প করতে করতে তার ঘুমিয়ে যাওয়া! গল্প করতে করতে যে কেউ ঘুমিয়ে যেতে পারে এর আগে আমি কল্পনাও করতে পারিনি নোলক। সেই ঘুমুঘুমু মুখ দেখে কেউ ভাবতেও পারবে না, মেয়েটা এক সেকেন্ডও স্থির থাকতে পারে না। পুরো বাড়ি, সারা শহর, কারো কারো মস্তিষ্ক দাঁপিয়ে বেড়ায় দিন-রাত, অনবরত!

নোলক? আপনার এই নূপুরটা আজ বহুদিন আমার কাছে। শুরুতে আমার মনে হয়েছিল আপনার এক পা খালি-ই থাকুক! আমি ইচ্ছে করেই দেইনি তাই। এর অবশ্য একটা বড়সড় কারন এতদিন ছিল। যেদিন থেকে নূপুরটা পেলাম সেদিন থেকে, সেই মূহুর্ত থেকে কানের কাছে বেজে চলতে শুরু হলো, ঝুম-ঝুম-ঝুম চঞ্চল এক শব্দ।
এই ছন্দময়ী মেয়েটা কেবল অন্ধকারে আসে। প্রথমে সে খুব দূরে ছিল। কিন্তু…কিন্তু ইদানিং খুব কাছে এসে পড়ছে। নোলক? সত্যি বলছি, আমি চাইনা এই ছন্দময়ী চঞ্চলাবতী আমার আরো বেশি কাছে আসুক। আমি আর চাচ্ছি না আমার অন্ধকারের ঐ ছন্দময়ী শব্দ আরো গাঢ় থেকে গাঢ়তর হোক। কিছু শব্দ, কিছু ছন্দ, কিছু মায়া নাহয় দূর থেকেই অনুভব করি?

শুনুন? চিঠি লিখার জন্য প্রয়োজনে রাগ করবেন। চিঠির শুরুতে এবং শেষে ‘প্রিয়-অপ্রিয়’ বিশেষণ জুড়ে দেইনি বলেও রাগ করবেন। রাগ করতে বলছি বলে অবাক না হয়েও রাগ হবেন প্লিজ!
হুটহাট রেগে যাওয়াটাই আপনার বিশেষত্ব। আপনার রাগ দেখার ভীষণ লোভ আমার। আপনার রাগ আমার ভীষণ প্রিয় নোলকরানী। তবুও চাই, এই প্রিয় জিনিস আমার দূরেই থাকুক। অন্ধকারে দূরের ঐ ছন্দময়ী চঞ্চলাবতী হয়ে দূরে-বহুদূরেই থাকুক, কাছে না আসুক।”

নোলক পরপর তিনবার পড়লো চিঠিটা। গাল বেয়ে টসটসে এক ফোটা দুঃখ চিঠিটাতে পড়লো। চিঠির সাথের নূপুরটা এক হাতে রেখে জানালা ভেদ করে বাহিরে তাকালো। কী হবে কাছে গেলে? কেন এত ঘটা করে দূরে রাখার বায়না?
(চলবে)……..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ