Friday, June 5, 2026







জলছবি পর্ব-১৮

#জলছবি
#পার্ট_১৮
#কাজী_সানজিদা_আফরিন_মারজিয়া
.
টুনির মা আশেপাশে না তাকিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে আসা লোকদের বলতে লাগলো,
“দেখেন দেখেন, আমার কথা বিশ্বাস হইলো? যুবতী মাইয়া মাইনষের ঘরে পোলা মাইনষের কাম কি?” বলেই পৈচাশিক এক ভাব নিলেন। কথা শেষে যখন সামনে তাকালেন তখন ‘ভূত দেখার’ মতো চমকে গেলেন। একজন ছেলে থেকে কি করে এতো মানুষ হয়ে গেলো সেই হিসেব-ই যেন মেলাতে পারলেন না। যেই চার পাঁচজন মুরব্বী নিয়ে এসেছিলে তাদের মধ্য থেকে একজন বললে,
“কি গো টুনির মা? আপনে যে কইলে একজন ছোকরা। এরা তো মনে হইতাছে ঘরের মেহমান। আপনে কি মশকারা করলেন নি?”
টুনির মা প্রতিত্তুরে বলেন,
“অ্যাঁ?”
তারপর চোখ দুটো গোলগোল করে সবাইকে দেখে নোলকের দিকে তাকালো।
নোলক শুরুতেই টুনির মায়ের মতলব ধরে ফেলেছে। এবং নবনী যে সঠিক ধারনাই করেছিল তাও বুঝতে বাকি রইলো না। পরিশেষে আল্লাহ পরিকল্পনায় তুষ্টি অনুভব করলো। এবং টুনির মাকে কৌশলে ব্যাঙ্গ করার জন্য কার্টুর টাইপ চওড়া হেসে বলল,
“ওমাহ কুটলি চাচি! আপনাকে দাওয়াত দেইনি বলে এত রাগ হলেন যে, এলাকার সবাইকে মাইকিং করে নিয়ে আসলেন! ইশশিরে! আগে বলবেন না, আপনার আমার আপুর বিয়ে খাওয়ার এতো শখ? থাক রাগ কইরেন না। আসেন আসেন, আসন করে বসেন।”
টুনির না বাকরুদ্ধ। এমন ভাবে হেয় হবে তা যেন ভাবতেই পারেন নি!
নোলক অন্য গুরুজনদের দিকে তাকিয়ে নমনীয় কন্ঠে বলল,
“আসলে আপুর বিয়েটা হুট করে প্ল্যান ছাড়াই হয়ে গেলো যে, কিছু জানাতে পারিনি। অপরাধ নেবেন না চাচারা। আসুন বসুন। আমার আপুর জন্য একটু দোয়া করে জান।”
তাদের ভেতর থেকে একজন নোলকের ভদ্রতা সন্তুষ্ট হয়ে বললেন,
“না, না মা। কোনো অসুবিধে নেই। তোমরা কেমন তা তো আমরা জানি। টুনির মায়ের কথায় উল্টো অন্যকিছু ভেবে বসেছিলাম, তোমরা বরং কষ্ট পেও না। আনন্দে ব্যাঘাত ঘটালাম।”
তারপর প্রায় সকলে মিলে টুনির মাকে এক প্রকার ধমকা-ধমকি করতে করতে বেড়িয়ে গেলেন। টুনির মা মিনমিন করে কিছু বলতে গেলে আরো বেশি ধমক খেল। সকলে চলে যাওয়ার পরও কিছুক্ষণ নির্লিপ্ত ভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন টুনির মা। নোলক প্রথমে মুখ টিপে হাসলো। তারপর টুনির মার একটু কাছে ঝুঁকে বিদ্রুপের ন্যায় সুর তুলে বলে,
“ও টুনির মা,
তোমর কুটনামী সফল হইলো না,
আর কত কাল কুটনামী করবা?
বয়স তো কম হইলো না!”
শেষ করে বিস্তর হাসে। তারপর বলে,
“সুন্দর হইছে না, গানটা? এই লিরিক্স দিয়ে ‘টুনির মার’ সেকেন্ড ভার্সন বের করা যাবে। কি বলো?”
টুনির মা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে বেড়িয়ে যেতে যেতে বলে,
“বেয়াদপ, পাঁজি মাইয়া। আজ শয়তানি কইরা পার পাইয়া গেছোস দেইখা ভাবছস সবসময় পার পাবি? আমার লগে বেয়াদপি? উচিত শিক্ষা দিয়াই ছাড়মু।”
নোলক আরো ক্ষ্যাপানোর জন্য পুনরায় সুর তুলে বলে,
“ও টুনির মা?
তুমি এমন ক্ষেইপা গেলা ক্যা?
হুমকি ধামকি দিয়া-মিয়া
আতংকে ফালাইলা!”
এতক্ষণ সবাই খানিক ভয় সংশয় নিয়ে চুপচাপ সবটা দেখলেও, নোলকের এই ভিন্নরূপী প্রতিক্রিয়া ও বিদ্রুপ দেখে না হেসে পারলো না। ইশান বলল,
“ইনি কি আমাদের সমাজের সেই তথাকথিত ‘পাশের বাসার আন্টি’?”
নোলক বোনের পাশে এসে বসে একগাল হেসে বলল,
“নাহ, ইনি হচ্ছে বাসের পাশার কুটলি চাচি! তাই না আপু?”
নবনী মৃদু হেসে বলে,
“ফাজিল!”
সবার মাঝে হাসির রোল পড়ে যায়।

তারপর অনেক কথা হয়, আনন্দ হয়, মজা হয়। সবকিছুতেই, সবার সাথেই নোলকের অস্থির সংযোগ। এতসবের ভেতর থেকেও আদ্রকে লক্ষ্য করতে ভুলে না। ইতিমধ্যে অবশ্য জেনে গিয়েছে আদ্র এবং ইশান দুজন একই ক্যাম্পাসে আরমানের জুনিয়র এবং প্রাক্তন রুমমেট। প্রাক্তন বলার কারন এখন আর এক সাথে সাথে না। দুজনকেই আরমান ছোট ভাইয়ের নজরে দেখে, পছন্দ করে, ভালবাসে। ইশান বলে,
“আরেহ! বিয়ে বিয়ে ফিল পাচ্ছি না কেন? কেউ একটু গান-টান গাও? এই অগ্নিশর্মা? একটা গান শুনাও তো ঝটপট? আগুন আগুন গান।”
নোলক চোখ কপালে তুলে পাল্টা প্রশ্ন করে,
“আমি? অসম্ভব। ইহা একখানা অসম্ভব কথা।”
আদ্র ফোড়ন কেটে বলে,
“আমি তো জানতাম অসম্ভব অসম্ভব কর্মকান্ড করাই কারো প্যাশন!”
নোলক বলে,
“মোটেও না।”
আদ্র হাসে। এই ছেলেটার হাসিটা ঠিক কেমন যেন। নোলক অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো, আদ্র’র হাসি ওর ভালো লাগছে! আদ্র’র কথাতেও তেমন রাগ হচ্ছে না। সবার কথার মাঝে হুটহাট আদ্র’র বলা ছোট ছোট কথা গুলোই কানের কাছে বাজতে থাকে অনবরত! ভারী অদ্ভুত! এই বুঝি মুগ্ধতার শুরু!

এরপর….এরপর কেটে গেলো ছয়মাস। এই ছয়মাসে, হ্যাঁ অল্পদিন। তবে এই অল্পদিনে কারো বিস্তর কোনো পরিবর্তন না হলেও অল্পসল্প পরিবর্তন অবশ্য হলো।
ফয়সাল আরো দুটো টিউশনি নিলো। মায়ের জন্য মাস শেষে টুকিটাকি কিছু কিনে নিয়ে অমূল্য সেই হাসি দেখার জন্য, ছলছল চোখ দেখার জন্য, জড়িয়ে ধরে ‘ভালোবাসি মা’ বলার জন্য। যথা সম্ভব লুবনাকে নিজের ভাবনায় ঠাঁই না দেয়ার অনবরত চেষ্টা চালাতে লাগলো। যদিও এতে বাধা হয়ে দাঁড়াল লুবনা নিজেই!
কারণ লুবনার ভাবনায় ফয়সালের জায়গা হলো। রাতদুপুরে ফোন দিয়ে বলা শুরু হলো,”দোস্ত, বাসার সামনে আয় তো একটু। খুব ইম্পরট্যান্ট কথা আছে। কলেজ যাওয়া অব্দি অপেক্ষা করতে পারছি না।”
কিন্তু বাস্তববাদী ফয়সাল প্রতিবারই রুক্ষ স্বরে বলতো,
“আমি তোর জামাই লাগি? আমার সাথে রাতবিরেতের কিয়ের কথা? ঘুমা ফাজিল! বড়লোক বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে, বড়লোকের মেয়ের সাথে কথা বলা আমার পোষায় না, বুঝলি?”
লুবনা রাগে অভিমানে ফোন কেটে দিতো। কিন্তু সে এ-ও জানতো, যতই উপর উপর কঠিন ব্যবহার করুক, এই ছেলে কখনই ওর মুখ ফুটে চাওয়া কোনো কিছু অপূর্ণ রাখে না। হলোও ঠিক তাই। মিনিট দশেক পর লুবনার ফোনে ফোন আসতো। লুবনা মিষ্টি হেসে ফোন কানে দিয়ে বারান্দায় আসতো। চেকপ্রিন্টের শার্ট আর জিন্স পরিহিত বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা টগবগে যুবকটাকে দেখে মুখের হাসি আরো প্রশস্ত হতো।
ওপাশ থেকে ফয়সাল কটকটে কন্ঠে বলে উঠতো,
“কি বলবি বল? সময় দুই মিনিট, ফ্যাস্ট।”
“এক মিনিট দাঁড়া আমি নিচে আসি।”
বলেই পা টিপেটিপে সবার আড়ালে বাড়ির নিচে নেমে আসে। ফয়সালের সামনে দাঁড়িয়ে বার’কয়েক শ্বাস নিয়ে বলে,
“এতো জলদি আসলি কি করে? আর এই বাইক কার?”
ফয়সালের খামখেয়ালি উত্তর,
“তোর জামাইর।”
লুবনা অসন্তুষ্ট হয়ে বলে,
“ধুর ভাল্লাগে না। কার বল না? তোর?”
ফয়সাল বাকা হেঁসে বলে,
“হাহ! টাকায় কামড়ায় না। আর আমি কি তোর জামাই? ফাহাদের বাইক। আজাইরা পকপক না করে ক্যান ডাকছিস ক?”
লুবনা নাকমুখ কুঁচকে বলে,
“ছিঃ তুই ওই বেদ্দপ ছ্যাঁচড়াটারে আমার জামাই কইলি ক্যা?”
ফয়সাল বাইক থেকে চাবির রিংটা খুলে নিয়ে হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে বলে,
“শোন? আলালের ঘরের দুলালিদের জন্য ফাহাদেরাই জোটে। তুই ব্যতিক্রম হবি ক্যান? ক্যান ডাকছিস ক, নইলে আমার ঘুম ভাঙানোর জন্য কানের নিচে দিমু এক চড়।”
লুবনা মুখ ফুলিয়ে বলে,
“তুই ঘুমাইতেছিলি? আমি তো মিস করতেছিলাম।”
ফয়সাল একটা গালি দেয়। আরো কিছু বলতে গিয়েও বলে না। বাইক উঠে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে যায়। লুবনা দাঁড়িয়ে থাকে, অভিমানে ঠোঁট উল্টে আসে। ফয়সাল কিছুদূর গিয়ে আবার ফেরত আসে। লুবনার অভিমানী মুখটার দিকে একটু চেয়ে বলে,
“আবার যদি এই একই কাজ করিস কোনোদিন, সত্যি সত্যি থাপ্পড় খাবি। এমন আহ্লাদী মুখ করলেও ছাড় পাবি না। মনে থাকে যেন। এখন গিয়ে ঘুমা। দ্রুত যা। নয়তো ধরে নিয়ে ফাহাদের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিবো।”
বলেই পুনরায় চলে যায়। লুবনা ফুঁসতে ফুসতে বলে,
“একশবার এমন করবো, হাজারবার করবো। আর কি বললি? বেয়াদপ, নির্দয়, পাষাণ! তোরে বিয়ে দিয়ে দিবো ঐ ছ্যাঁচড়া ফাহাইদ্দার সঙ্গে, কুত্তা-বিলাই!”

নিষাদ আর নিশিতার মান-অভিমান রোজকারকার অভ্যাস। প্রতিবার ঝগড়া শেষেই নিষাদ দীর্ঘশ্বাঃস ছেড়ে বলে,”ছোট নিব্বি টাইপ মাইয়া মানুষের লগে প্রেম কইরা ফাইসা গেলাম। হায়, খোদা! রক্ষা করো। এই ভুল দ্বিতীয়বার আর করমু না! কানে ধরছি, মাফ কইরা দেও।”

সৃজন? ফ্লার্ট এর কম্পিটিশন হলে নিঃসন্দেহে সৃজন-ই সেখানে চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু কষ্টের কথা এতো ফ্লার্টিং করেও কাউকেই পটাতে পারে না ছেলেটা। সে নিজেই নিজের উপর দীর্ঘশ্বাঃস ছেড়ে বলে, ”আফসোসরে সৃজন, আফসোস! তোর বুঝি আর এই জীবনে প্রেম-ট্রেম করা হলো না! সবাই ডেটিং-ফেটিং করে বেড়াবে, আর তুই চেয়ে চেয়ে দেখবি! কচু গাছ? ও কচু গাছ? আয়, কাছে আয়, ঝুইলা পড়ি। বাঁইচা থাইকা আর কি করমু?”

শ্রেয়া তার মাথার ছায়া হারানো ব্যথা এখনও ভুলে উঠতে পারলো না। ক্ষণে ক্ষণে মনে পড়ে চোখ ভিজে উঠে। বাবার সঙ্গে কাটানো সুন্দর স্মৃতিগুলো দুঃখী করে তোলে মন-প্রাণ!

নবনী আর আরমানের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ হলো। একজনের ব্যাক্ত ভালোবাসা আরেকজনের অব্যাক্ত ভালোবাসার পূর্ণতায় ঝলমলে রঙিন হলো দুজনের জীবন। তবে নবনীর শর্ত অনুযায়ী বাসায় আসতে পারস না আরমান। মাঝে মধ্যে নবনীর এনজিওতে গিয়ে দেখা করে আসে। বাসায় আসলেও দরজা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়া স্বরূপ আরমান দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে কয়,
“হায়রে কষ্ট! এই প্রথম কোনো নিষ্ঠুর বউ তার নিরপরাধ, নিরীহ, অসহায় স্বামীকে দরজার দারপ্রান্ত হতে তাড়িয়ে দেয় দূরদূর করে! ইতিহাসের দুঃখ পাতায় এই দুঃখের কাহিনী স্বর্নাক্ষরে লিখে রাখা উচিত।”
নোলক উচ্চস্বরে হেসে এই পাগল প্রেমিকের পাগল জামাইর পাগলামি উপভোগ করে। বোনকে বলে,
“তুমি কেমন নিষ্ঠুর বউ আপু? এমন অসহায় জামাইটারে কেন কষ্ট দাও বল তো?”
নবনী হেসে ‘বোন’ আর ‘জামাই’ দুজনকেই পাগল বলে আখ্যায়িত করে।

আরমানের সুবাদে আদ্র আর ইশানের সঙ্গে প্রায়শই দেখা হতে লাগে নোলকের। কখনো রস্তায় কখনো আরমানের শপে, কখনো বা অন্যকোনো ভাবে। কোনো-না-কোনো ভাবে দেখা ঠিক হয়েই যায়। এই যেমন আজ হলো।

আদ্রর চুপচাপ শান্ত স্বভাবটা হঠাৎ-ই ভালো লেগে যায় নোলকের। আজকাল আর তাকে বেয়াদপ কিংবা অভদ্র মনে হয় না। বরং আদ্রর এই ব্যতিক্রমী স্বভাবটাই ধীরে ধীরে নোলককে আকৃষ্ট করে বসে।
একটা বটগাছের নিচে এসে বসে দুজন।
নোলক জিজ্ঞেস করে,
“আপনার ঝুলিতে কি শব্দের পরিমাণ খুবই কম?”
অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকা আদ্র এবার নোলকের চঞ্চল মুখখানার দিয়ে চেয়ে বলে,
“তাই মনে হলো?”

“তা নয়তো কি? আপনাকে আমার খুবই কিপ্টে মনে হয়। খুব মেপে মেপে, হিসেব করে কথা বলেন। শুনুন? বেশি বেশি কথা বললে, মন ভালো থাকে।”

আদ্র এবার হেসে বলে,
“তাই? কিন্তু আমার লজিক তো অন্য কথা বলে!”
নোলকের চিন্তাহীন কপালেও ভাজ পড়ে। জিজ্ঞেস করে,
“কি বলে?”

“কথা বলার মাত্রা যত কম, কথা বলার মানুষ যত কম, তার দুঃখও ততো কম। সে হিসেব করলে মনে খারাপ লাগার পরিমান খুবই কম আমার। কিন্তু আপনার লজিক তো উল্টো বলে।”

নোলক কৌতূহল নিয়ে আগাগোড়া গম্ভীর ছেলেটাকে দেখে। তার ভালো লাগে। কেন লাগে তা জানা নেই।
“তবে বলছেন, কথা কম বলা ভালো? কথা বলার মানুষ কম থাকা ভালো?”

নোলকে কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকিয়ে অন্যরকম হাসে আদ্র। তারপর বলে,
“ভালো কি-না খারাপ তা সঠিক বলতে পারছি না। তবে আমার এই লজিক তৈরি হওয়ার পেছনে একটা যুতসই কারন বলতে পারি।”

নোলক জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চায়। আদ্র বলে,
“মানুষ নিজে যেমন, সে চায় তার আশেপাশের মানুষগুলোও তেমন হোক।আমার কথা বলার মানুষ নেই, মন খুলে মনের কথা কইতে পারি না আজ বহুদিন! কথাগুলো চেপে রাখতে রাখতে, শিখে গেলাম কথা না বলে থাকতে। সে কারনেই হয়তো মস্তিষ্ক এই লজিক তৈরি করে বসে আছে।”
নোলক ভালো লাগে। তবুও কেন জানি বিরক্ত হওয়ার ভাব করে বলে,
“আপনি সবসময় এমন করে কথা বলেন কেন? কথা বলতে ইচ্ছে না হলে, বলবেন না। কিন্তু এমন জ্ঞানী জ্ঞানী টাইপ কথা বলবেন না। আমার ভালো লাগে না।”

“আচ্ছা!”

আচ্ছা? শুধুই আচ্ছা? নোলকের ভারী অভিমান হয়। ‘আচ্ছা’ শব্দটাকে খুবই জঘন্য একটা শব্দ বলে বোধ হয়। আর কিচ্ছুটি না বলে মুখ ফুলিয়ে চলে আসতে লাগলে, আদ্র অন্যরকম সুরে ডাকে,
“নোলক?”
নোলকের মনে, মস্তিষ্কের একটা অংশজুড়ে বারবার প্রতিধ্বনি হতে থাকে সেই ডাক, সেই কন্ঠ। কি আশ্চর্য! এ-কি হয়ে যাচ্ছে নোলক কন্যার? সে কি প্রেমে-ট্রেমে পড়ে যাচ্ছে নাকি? কি সাংঘাতিক!
নোলক পেছন না ফিরে সায় দেয়,
“হু?”
“এদিকে আসুন, পাশে বসুন। একটু কথা বলি, কথা শিখি। তুরতুরি রানীর রাগ দেখি, অভিমান দেখি!”
কি সুন্দর, কি সুন্দর! কি সুন্দর তার বলা প্রতিটা শব্দ, শব্দ চয়ন!
নোলক ঠিকই পাশে গিয়ে বসে। মোটা ফ্রেমের চশমাটা ভেদ করে অতি সুন্দর চোখ দুটোর দিকে চায়। নোকলের চোখে তখন হরেক রকম প্রশ্ন খেলে।
আদ্র প্রতিদানে মুখ ফিরিয়ে সামনের দিকে চায়। তারপর তার গম্ভীর কন্ঠে বলে,
“আজকাল আমি সব ভুলে যাই, উলটোপালটা কথা বলি। অদ্ভুত সব চিন্তা ভাবনা মস্তিষ্কজুড়ে বিচরণ করে। আমার নিষেধ তারা মানে না। আমার কি মনেহয় জানেন? আমি বোধহয় পাগল-টাগল হয়ে যাচ্ছি! আপনাকে ম্যান্টাল ট্রিটমেন্ট করতে বলার শাস্তি স্বরূপ এবার আমারই মেন্টাল ট্রিটমেন্ট এর প্রয়োজন পড়ে যাচ্ছে। হা হা হা!”
নোলকের কপাল কুঁচকে আসে। এই হাসি, এমন কথা নোলকের পরিচিত নয়। ভারী অদ্ভুত ঠেকে। অচিন মানুষ মনে হয়, গুরুগম্ভীর স্বল্পভাষী আদ্রকে।…..(চলবে)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ