Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"একথোকা কৃষ্ণচূড়া এবং আপনিএকথোকা কৃষ্ণচূড়া এবং আপনি পর্ব-০৫ এবং বোনাস পর্ব

একথোকা কৃষ্ণচূড়া এবং আপনি পর্ব-০৫ এবং বোনাস পর্ব

#একথোকা_কৃষ্ণচূড়া_এবং_আপনি
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
#পর্বঃ০৫
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে দাঁড়িয়ে আছে হেমন্ত আর হিয়াজ শিকদার।হিয়াজ শিকদার হলেন অর্থ’র বাবা।হিয়াজ শিকদার আর হিয়ান্ত শিককদার হলেন আপন দুই ভাই।হিয়াজের দুই ছেলে মেয়ে অর্থ আর হিয়া।আর হিয়ান্ত’র একটাই ছেলে হেমন্ত।সবার বড় অর্থ তারপর হেমন্ত আর সবার ছোট হিয়া।বড় আদরের সবার ও।
অর্থ’র জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওরা দুজন।অবশেষে অপেক্ষা শেষ হলো। অর্থ ফার্স্ট টার্মিনাল দিয়ে এগিয়ে আসছে।সাথে আছে আরাফ।অর্থ আর আরাফ সালাম জানালো।হিয়াজ জড়িয়ে ধরলেন ছেলেকে।

-‘ কেমন আছিস বাবা?’

-‘ ভালো আব্বু।তুমি কেমন আছো?’

-‘ এইযে তোকে দেখেছি না? এখন একদম ভালো আছি।’

হিয়াজ এইবার আরাফকে জিজ্ঞেস করেন,

-‘ আরাফ কেমন আছো?’

আরাফ হাসিমুখে বলে,

-‘ ভালো আঙেল।আপনি কেমন আছেন?’

-‘ আলহামদুলিল্লাহ!’

হেমন্ত অর্থকে জড়িয়ে ধরে আছে।অর্থও ভাইয়ের মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিলো।ভালোমন্দ জিজ্ঞাসা করা হলো।আরাফের সাথেও কথা হলো।হিয়াজ এইবার বলে উঠেন,

-‘ এইবার বাড়ি চলো।অনেক হলো।রায়হানা আর হেনা সেই কখন থেকে বসে আছে তোমার জন্যে বার বার ফোন করে জিজ্ঞেস করছে অর্থকে নিয়ে আসছি না কেন?’

অর্থ আর আরাফ হিয়াজের কথায় সম্মতি জানিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।কি জানি একটা অনুভব করে অর্থ আবারও গাড়ির জানালা দিয়ে তাকালো।ওর কেন যেন মনে হচ্ছিলো কে যেন ওকে দেখছে।গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করে দেখছে।হয়তো মনের ভুল হবে ভেবে অতোটা ধ্যান দিলো না।শা করে ওদের গাড়িটা ছুটে চলে গেলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। এদিকে অর্থ’রা যেতেই লুকানো অবস্থা থেকে বেড়িয়ে এলো প্রাহি।আর একটু হলেই দেখে ফেলতো অর্থ ওকে। চোখে জল মুখে হাসি।কতো বছর পর দেখলো অর্থকে ও।লোকটা আগের থেকে আরো বেশি সুদর্শন হয়ে গিয়েছে।প্রানটা জুড়িয়ে গিয়েছে প্রাহির।চারদিকে ভালোলাগা আর ভালোবাসার রঙিন প্রজাপতিরা উড়ে বেড়াচ্ছে ওর মনে। অর্থ আজ আসবে আর প্রাহি তাকে দেখবে না?এটা অসম্ভব।সবার আগেই এয়াপোর্টে এসে হাজির হয়েছে প্রাহি।প্রিয় মানুষটিকে একপলক দেখার জন্যে।অশান্ত হৃদয়কে শান্ত করার জন্যে।অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টানা হলো।এখন শুধু সময় অর্থ’র কাছে নিজের ভালোবাসা ব্যক্ত করার।
_____________

বাড়ি ফিরতেই অর্থকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেকেটে অস্থির রায়হানা আর হেনা।হেনা অর্থ’র চাচি হলেও ওর মা থেকে কোন অংশে কম ভালোবাসেন না তিনি।এই দুই মাকে বহু কষ্টে সামলিয়ে কান্না থামিয়েছে অর্থ।টুকাটাকি কথা বলে ফ্রেস হতে চলে যায় অর্থ আর আরাফ।ফ্রেস হয়ে এসে ড্রয়িংরুমে এসে দাড়াতেই বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রায় একপ্রকার ভুমিকম্প সৃষ্টি করে হঠাৎ একটা মেয়ে এসে অর্থকে জড়িয়ে ধরে।অর্থ নিজেকে সামলে নিলো আকস্মিক ধাক্কায়।তারপর নিজেও মৃদ্যু হেসে দুহাতে জড়িয়ে ধরে মেয়েটাকে।মেয়েটা প্রায় চিৎকার করে বলে উঠে,

-‘ আই মিস্ড ইউ সো মাচ ভাইয়া।’

-‘ আমিও আমার পুচকিকে অনেক মিস করেছি।তা আমার পুচকিটা কি ভালো আছে?’ বলে অর্থ।

মেয়েটা অর্থকে ছেড়ে দিয়ে হাসি মুখে বলে,

-‘ নিজেই দেখে নেও।আমি একদম ফিট এন্ড ফাইন আছি।’

হেমন্ত মাঝখান থেকে বলে,

-‘ হ্যা সারাদিন হাতির মতো খেলে তো ফিট এন্ড ফাইন থাকবিই।আর কয়দিন পর পুরাই একটা আটার বস্তার মতো লাগবে।’

-‘ ভাইয়া এই হেমন্ত ভাইয়াকে কিছু বলবা?সারাদিন আমার সাথে ঝগরা লাগানোর ধান্দায় থাকে।’ কাঁদো কন্ঠ মেয়েটার।

অর্থ হেমন্তকে একটু মিথ্যে রাগ দেখালো।বিনিময়ে হেমন্তও ভয় পাওয়ার অভিনয় করলো।
এদিকে এতোক্ষন ভ্রু-কুচকে সবটা দেখছিলো আরাফ।এইবার বলেই ফেললো,

-‘ অর্থ? এটা কি সেই বাচ্চা মেয়ে তোর বোন হিয়া?’

অর্থ হ্যাসূচক মাথা নাড়ালো।আরাফ হেসে দিয়ে বলে,

-‘ আগে যেমন বাচ্চাদের মতো ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদতো এখনো দেখি সেভাবেই কাঁদে।’

হিয়া রাগি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো আরাফের দিকে।তেজ নিয়ে বলে,

-‘ এসব ভালো হচ্ছেনা কিন্তু আরাফ ভাইয়া।’

বলেই হনহন করে চলে গেলো মা, কাকি আর বাবা,কাকাদের সাথে দেখা করতে।এদিকে হিয়ার এতো রাগ দেখে মুচঁকি হাসলো আরাফ।মনে মনে বলে,

-‘ আজও রাগলে তোমাকে অসম্ভব সুন্দর লাগে হিয়া।আর আমি বার বার তোমার এই রূপে ঘায়েল হয়ে যাই। মন হারিয়ে বসে আছি তো সেই কবেই তোমার কাছে।এইবার পালা তোমার মন চুরি করার।শীঘ্রই সেটা করে নেবো।’

রায়হানা বেগমের ডাক শোনা গেলো।তিনি সবাইকে ডাকছেন ডিনার করার জন্যে।সবাই আজ কতোদিন পর একসাথে ডিনার করবে।পুরো শিকদার পরিবার আজ হাসিতে খুশিতে ভরপুর।

——————

খাবার টেবিলে হিয়াজ শিকদার হঠাৎ বলে উঠেন,

-‘ অর্থ’র আসার উপলক্ষে কাল আমি একটা পার্টির আয়োজন করবো।কি বলো অর্থ?’

অর্থ খাওয়া থামিয়ে দিলো।ভ্রু-কুচকে গম্ভীর কন্ঠে বলে,

-‘ এসবের কোন দরকার নেই বাবা।’

হিয়া চেঁচিয়ে উঠলো,

-‘ তোমার দরকার নেই। আমার দরকার আছে।আমি আমার সব ফ্রেন্ডদের ইনভাইটেশন দিয়ে দিয়েছি।ওরা কাল আসবে।আমার ভাইয়া এসেছে আর আমি সেলিব্রেট করবো না। এটা কি হয়?’

-‘ কিন্তু……!’

-‘ কোন কিন্তু না ভাইয়া কাল পার্টি হবে ব্যস।’

বোনের জেদের কাছে হার মানে অর্থ।সম্মতি দিয়ে দেয় সে।রায়হানা বেগম অর্থ’র প্লেটে খাবার দিচ্ছেন।এইবার হেমন্ত’র উদ্দেশ্যে বলে,

-‘ হেমন্ত?প্রাহি আর ইশি মেয়ে দুটোকেও ইনভাইটেশন দিয়ে দিস পার্টির।তোর আর কোন ফ্রেন্ড থাকলে তাদেরকেও বলিস।’

-‘ আচ্ছা বড় মা!’ বলল হেমন্ত।

এদিকে প্রাহি আর ইশি নামটা কেমন যেন একটু চেনা চেনা লাগছে ওর কাছে।কিছু একটা মনে করেই খাওয়া থামিয়ে হেমন্তকে বললো,

-‘ প্রাহি আর ইশি?এরা দুজন তোর ওই মেয়ে ফ্রেন্ড দুটো না?’

হেমন্ত চাঁদ হাতে পেলো।এইতো সুযোগ প্রাহির একটু গুনগান গাওয়া যাক ভাইয়ের সামনে।এতে ক্ষতি কি?
হেমন্ত উচ্ছাসিত কন্ঠে বলে,

-‘ হ্যা ভাইয়া।জানো ওরা খুবই ভালো।প্রাহির তো কোন জবাবই নেই।একদম শান্ত, ভদ্র,নম্র একজন মেয়ে। আমার ফ্রেন্ড্সদের মাঝে প্রাহি আর ইশিই সবচেয়ে বেশি ক্লোজ মানে বেষ্টফ্রেন্ড।আর জানো প্রাহি তো একেবারে আমাদের আপনজনের মতো।আমাদের ফ্যামিলির সবাইকে প্রচুর ভালোবাসে মেয়েটা।আর…….!’

-‘ ব্যস! অনেক হয়েছে।আমি শুধু একটু জিজ্ঞেস করলাম।ওমনি তুই তো পুরো জন্মসষ্টি নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিলে!জাস্ট লিসেন ওয়ান থিংক আই ডোন্ট লাইক টু টক টু মাচ মাইসেল্ফ।এন্ড আই এলসো ডোন্ট লাইক এনিওয়ান টু টক টু মি টু মাচ।’

কথাগুলো শেষ করেই খাবার টেবিল হতে উঠে চলে গেলো অর্থ।হেমন্ত’র মনটা খারাপ হয়ে গেলো।কিভাবে যে ভাইয়ের মনে প্রাহির জন্যে জায়গা তৈরি করবে। ইসস,এতোটা বোকা কেন হলো ও?আগে তো ওদের দুজনকে একসাথে করতে হবে।দুজনের প্রথম সাক্ষাৎটা যেন একটু রোমাঞ্চকর হয় এমন ব্যবস্থা করবে হেমন্ত।চেষ্টায় কোন কমতি রাখবে না ও।যে করেই হোক প্রাহিকেই ওর ভাইয়ের বউ করে আনতে হবে।
_______________
-‘ স্যার ইলফা ম্যাম ইস প্লানিং টু কাম টু বাংলাদেশ টুমোরো।’

অর্থ’র আন্ডারে কাজ করা একজন লোকের মুখে এমন কথা শুনে রাগে কপালের শিরা উপশিরা ফুলে উঠলো। রাগে চোখজোড়া লাল হয়ে উঠলো।মনে মনে বিশ্রি গালি দিলো ইলফাকে ‘ দ্যাট ব্লাডি বিচ।’ চোয়াল শক্ত করে গম্ভীর স্বরে বলে উঠে অর্থ,

-‘ স্টোপ দ্যাট ক্রেজি গার্ল এনিওয়ে।আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু হিয়ার এনি এক্সকিউসেস।ব্লক হার পাসপোর্ট নো ম্যাটার হাও মাচ ইট কোস্টস্!’

ফোনটা কেটে দিয়ে সজোড়ে পাশে টেবিলে রাখা ফুলদানিটা আছার মারলো অর্থ।এই মেয়েটা জানলো কিভাবে ওরা দেশে এসেছে।ওইটাকে না জানানোর জন্যে লুকিয়ে চুরিয়ে কতো প্লানিং করে ও আর আরাফ এসেছে বাংলাদেশে।আর সেই মুসিবত কিনা সয়ং এখানে এসে হাজির হওয়ার পায়তারা করছে।না এটা কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না।মেয়েটা আস্ত একটা ঝামেলা।আর অর্থ নিজেকে কোন ঝামেলায় জড়াতে চায়না।আর এইসব ঝামেলাদের কিভাবে নিজের কাছ থেকে দূরে সরানো যায় তা খুব ভালো করেই জানে অর্থ।মনে মনে কথাগুলো ভেবে বাঁকা হাসলো অর্থ।

#চলবে___________

#একথোকা_কৃষ্ণচূড়া_এবং_আপনি
#সাদিয়া_জাহান_উম্মি
#বোনাস_পর্ব

আজ কালো গ্রাউন পড়ে সেজেছে প্রাহি।প্রাহি আজ নিজেকে পুরোপুরি নিজেকে অর্থ’র ব্লাক প্রিন্সেস রূপে সাজাবে।সুন্দর করে সেজেছে প্রাহি।টানা চোখজোড়ায় গাঢ়ো কালো কাজল দিয়েছে, ঠোঁটে লাল লিপ্সটিক।চুলগুলো কার্লি করে ছেড়ে দিয়েছে পুরো পিটময়। এতেই যেন অসম্ভব সুন্দর লাগছে দেখতে ওকে।রেডি হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে হাজির হয় প্রাহি। নিচে এসে দেখে ওর বাবা আর মা দুজনেই রেডি।এরশাদ সাহেব বলেন,

-‘ রেডি মামুনি তুমি? বাহ কি সুন্দর লাগছে আমার মা’টাকে।’

রাবেয়া বেগম প্রাহির কানের পিছনে কালো কাজল লাগিয়ে দিলেন।তারপর তারা রওনা দিলেন শিকদার বাড়ির উদ্দেশ্যে।
___________
আজ শিকদার বাড়ি খুব সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে।অসম্ভব সুন্দর লাগছে পুরো বাড়িটা।গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলো প্রাহি।শিকদার বাড়ির সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো।প্রাহিকে দেখে ইশি আর হেমন্ত এগিয়ে আসলো।ইশি আর হেমন্ত প্রাহির মা বাবাকে সালাম জানালো।টুকটাক কথা প্রাহিকে নিয়ে চলে গেলো। প্রাহি ইশি আর হেমন্ত’র এমন টানাটানি দেখে বেশ বিরক্ত হলো।বললো,

-‘ আশ্চর্য এমন টানাটানি করছিস কেন তোরা?ছিড়ে ফেলবি নাকি আমায়?’

হেমন্ত প্রাহির কথায় পাত্তা না দিয়ে বলে,

-‘ আরে শোন তুই আজকে পার্টিতে একটা ড্যান্স পারফরমেন্স করবি!’

প্রাহি থ হয়ে গেলো।চেঁচিয়ে উঠে বলে,

-‘ কি?কি বলছিস এসব?ড্যান্স তাও আমি?নো নেভার।এটা আমি করতে পারবো না।’

ইশি নিজের চোখের চশমা ঠেলেঠুলে ঠিক করে নিয়ে বলে,

-‘ প্রাহি লিসেন না। তুই তো অনেক ভালো নাচ পারিস।একটা নাচই তো করবি এতে এমন করার কি আছে?’

প্রাহি মুখটা একটুখানি করে বললো,

-‘ কিন্তু কিভাবে?এতোগুলো মানুষের সামনে?’

হেমন্ত বেশ বিরক্ত হলো।ধমকে উঠে বলে,

-‘ ঢং মারাইস না ছেম্রি।নাচ করতে বলেছি করবি ব্যস।আর আমার পরিবারের সবাই জানেন তুই অনেক ভালো নাচ পারিস।স্কুলে থাকতে প্রতিটা অনুষ্ঠানে তুই নাচ করতি। আমার পরিবারের সবার তোর নাচ অনেক পছন্দ।’

প্রাহি আর কিছু বললো না।কিন্তু আজ অর্থ এখানে আছে।আর অর্থ’র সামনে কিভাবে কি করবে প্রাহি?অর্থ’র সাথে চোখাচোখি হলেই তো ওর দম বন্ধ হয়ে আসে।হাত পা উত্তেজনায় থরথর কাপে।অর্থ’র ছবি যতোবার দেখে ততোবারই এমন হয়।সেখানে আজ ও সরাসরি অর্থ’র সামনে লাইফ ড্যান্স করবে। ভাবতেই গলা শুকিয়ে আসে প্রাহির।উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে যায় প্রাহি।
_______________

অর্থকে আজ ভীষন সুদর্শন দেখাচ্ছে।ব্লাক স্যুটে অনেক আকর্ষনীয় দেখাচ্ছে ওকে।আশেপাশের মেয়েরা অর্থ’র এটেনশন পাওয়ার জন্যে কতোশতো চেষ্টা করছে কিন্তু অর্থ কিছুতেই সেদিকে পাত্তা দিচ্ছে না।আশাহত একেকজন মেয়ের মুখ লটকে যাচ্ছে। হঠাৎ মাইকে হেমন্ত’র কন্ঠ শুনে সেদিকে নজর দেয় অর্থ।

-‘লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান।আজ পার্টিটা শুরু করতে যাচ্ছি একটা অমায়িক ড্যান্স পার্ফোর্মেন্স এর মাধ্যেমে।তো সবাই তৈরি তো?’

সবাই চিৎকার করে উঠে।ঠিক তখনি চারদিকের লাইট ওফ হয়ে যায়।স্টেজে বিভিন্ন রঙের আলো জলে উঠে।আর ফোকাস লাইতটটা এসে পরে প্রাহির মুখে।প্রাহি চোখ তুলে তাকায় সামনের দিকে।ঠিক একেবারে অর্থ’র দিকে।এদিকে প্রাহির চোখের ওই চাহনী অর্থ’র মনে হচ্ছে ওর হৃদয়ে কিছু একটা প্রচন্ড জোড়ে আঘাত করেছে।অসম্ভব মায়াবী মুখশ্রীটা দেখে যেন ওর অন্তর জুড়িয়ে গিয়েছে।টানা টানা কাজলকালো চোখ, চিকন জোড়াভ্রুদ্বয়,লাল লিপ্সটিকে আবৃত ঠোঁটজোড়া,কোমড় অব্দি ছড়ানো চুল,কোমল নারিদেহের বাঁক।সবকিছু যেন তীব্রভাবে আকর্ষক করছে অর্থকে।হৃদস্পন্দন দ্রুতগতীতে উঠানামা করছে।সারাশরীরে অদ্ভূত শিহরণ অনুভব করছে।এ কেমন অজানা অনুভূতি।অর্থ’র জীবনে প্রথম সে এমন অদ্ভুত অনুভূতির সাথে পরিচয় হলো।আগে তো কোন মেয়েকে দেখে এমন অদ্ভূত অনুভূতি হয়নি।তবে আজ কেন?কেন আজ এই মেয়েটা তার চোখের চাহনী চোখের দেখায় অর্থকে পুরো এলোমেলো করে দিলো?কেন?

এদিকে প্রাহি অর্থ’র ওমন চাহনী দেখে দ্রুত নিজের চোখ সরিয়ে নিলো।হৃৎপিন্ডটা এতো জোড়েজোড়ে লাফাচ্ছে যে মনে হচ্ছে এক্ষুনি বেড়িয়ে আসবে।না এমন হলে হবে না ওকে স্ট্রোং থাকতে হবে।নিজের অনুভূতিগুলোকে সামলাতে হবে। গান স্টার্ট হতেই প্রাহি নিজের নাচের দিকে ধ্যান দিলো। মিউজিক বক্সে জোড়ালো শব্দে গান বাজছে সেই সাথে অত্যন্ত সুন্দরভাবে নাচ প্রদর্শন করছে।এদিকে প্রাহির এক একটা মুভমেন্ট যেন অর্থ’র মনের ভীতর তোলপাড় সৃষ্টি করছে।

Jab tak hai zameen
Jab tak hai aasmaan
Tum mere hi raho
Bus itna hi armaan

Tujhe baandh loon mera chaina
Jaise chaand rahe baadal mein
Hum jachte hain aise jaise
Saje nain kaajal mein

Mehbooba main teri mehbooba
Mehbooba main teri mehbooba
Mehbooba main teri mehbooba
Mehbooba ho main teri mehbooba

Shuru ho rahi hain nayi manzilein
Nai zindagi ka safar
Sham rok de jahan chaandni odh kar
Dhoop bikhri rahe jis jagah reth par

Is jahan se pare aa kahin hum chalein
Raat leti rahe apni chadar tale

Main gudia ban jaaungi
Mere sath tu khelte rehna
Kabhi baaho main jhula jhulana
Kabhi dil se laga lena

Mehbooba main teri mehbooba
Mehbooba main teri mehbooba

#চলবে______

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ