Friday, June 5, 2026







অভিমান হাজারো পর্বঃ১৫

অভিমান হাজারো পর্বঃ১৫
আফসানা মিমি

—“ভাইয়া, বৌমণিকে কি কিছু বলেছো তুমি? দেখলাম মন খারাপ করে বসে আছে।”

রাতের খাবার খাওয়ার শেষে অয়নের কফি খাওয়ার অভ্যেস সেই অনেককাল আগে থেকেই। তাই আজও কফি নিতেই কিচেনরুমের দিকে যাচ্ছিল। তার আগেই অরুনিমা এসে অয়নের উদ্দেশ্যে উপরোক্ত প্রশ্নটি ছুঁড়ে মারলো।
—“হ্যাঁ, শুধু বলেছি তার বাড়ি যেতে মন চায়ছিল সেটা আমাকে বললেই হতো। অথবা একা চলে যেত। তোকে গিয়ে বলার কী দরকার ছিল?”
অবাক হয়ে অরুনিমা বললো
—“আমাকে শুধুশুধু এসব বলতে আসবে কেন? আজ সারাদিন ধরেই খেয়াল করছি বৌমণির মন খারাপ। তুমিও তো বাসায় ছিলা না তাই দেখতে পাওনি। তাই আমিই সন্ধ্যার সময় বৌমণিকে জিজ্ঞাসা করলাম বাড়ি যেতে মন চায়ছে নাকি। মন চায়লে তোমাকে যাতে বলে নিয়ে যেতে। পরে বৌমণি আমাকে বললো তুমি যখন নিয়ে যাবা তখনই নাকি যাবে। একা একা নাকি যাবে না। এজন্য বৌমণির মন ভালো করতে আমি নিজেই তোমাকে সন্ধ্যায় বলেছিলাম।”

সব শুনে অয়ন বুঝতে পারলো বেশ বড় একটা গড়বড় করে ফেলেছে সে। এখানে আফরার কোন দোষই ছিল না। তাই তো তখন কিছু না বলে তার কাছ থেকে সরে এসেছে। সে জিজ্ঞাসা করলো
—“কোথায় এখন ও?”
—“আমার রুমে।”

অয়ন যেতে যেতে ভাবছে ‘মেয়েটা এমন কেন বুঝি না। একবার যদি কথা শুরু করে সহজে থামতে চায় না। আর যখন কিছু বলে না তো একটা কথাও বলে না। তখন কি বলা যেতো না যে আমি অরুনিমাকে কিছু বলিনি! কিন্তু না! মহারাণী গাল ফুলিয়ে অন্যরুমে গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে। এত্তো অভিমান! এখন ওর অভিমান কি করে ভাঙাই আমি!’

রুমে ঢুকে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো অয়ন। বউ তার ঘুমিয়ে কাদা। কাছে এগিয়ে গিয়ে মুখপানে চেয়েই সে থমকে দাঁড়ালো। কেমন ফুলে ফুলে আছে মুখটা। চোখের আশপাশ জুড়ে কান্নার দাগ স্পষ্ট। এই সামান্য কারণে এতো কাঁদা লাগে! নাকের ডগা লাল টুকটুকে হয়ে আছে। সাথে বিন্দু বিন্দু ঘাম। যেন মুক্তোর দানা। মুক্তোদানার মাঝে নোজপিনটা ফুটে আছে। লোভ সংবরণ করে কপাল থেকে এলোমেলো চুলগুলো সরিয়ে কয়েকটা মুহূর্ত অপলক তাকিয়ে রইলো। এ মেয়েটা কি জানে অয়ন তাকে কতটা ভালবাসে! আদৌ কি কখনো জানতে পারবে! বেশি কিছু না ভেবে একটু ঝুঁকে আফরাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। ঘুমন্ত থাকায় মাথাটা একটু পিছনের দিকে ঝুঁকে পড়ায় অয়নের চোখ গেল আফরার গলায়। আফরার গায়ের রং দুধে হালকা হলুদের গুঁড়ো মিশালে যে রংটা হয় তেমন। ফর্সা গলায় উজ্জ্বল কালো তিলটা যেন সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে। লোভাতুর দৃষ্টিতে কতক্ষণ তাকিয়ে থেকে মাথা ঝাঁকিয়ে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে নিজেদের রুমে নিয়ে এলো আফরাকে।

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

বিছানায় শুইয়ে এসির টেম্পারেচার ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে দিয়ে গায়ে একটা পাতলা ব্ল্যাঙ্কেট জড়িয়ে দরজাটা আটকে এসে নিজেও শুয়ে পড়লো আফরার পাশ ঘেঁষে। কফিটা আর খাওয়া হলো না। মাথাটা কেমন যেন ভার ভার লাগছে। কাত হয়ে এক হাতে ভর দিয়ে মাথা তুলে আফরার দিকে তাকালো অয়ন। কী নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে! কখনো ভেবেছিল সে যে আফরা তার বউ হবে! এভাবে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওর মুখ দেখে ঘুমাবে। ঘুম থেকে উঠেও এই মায়াবী মুখটাই দেখতে পাবে দিন শুরুর প্রথমভাগে। ধুর! আফরাকে দেখে মাথাটা যেন জ্যাম হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। নিজেকে সামলে আফরার মাথাটা অয়ন তার এক বাহুর মাঝে রেখে পিছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে চুলে মুখ গুঁজে চোখ বুজলো।

আজ ভ্যালেন্টাইনস ডে। সামির ঠিক করেছে আজ লাবণ্যকে ১৪ টা গোলাপ ফুল দিয়ে প্রপোজ করবে। তাই সাদা শার্ট পরে, ব্লু ডেনিম জিন্সের প্যান্ট পরে রেডি হয়ে নিল। বেরুতে যাবার সময় মায়ের মুখোমুখি হলো। তাকে এভাবে ফর্মাল ড্রেসআপে দেখে জানতে চায়লো
—“কিরে কোথাও যাচ্ছিস তুই?”
—“হ্যাঁ, আসলে একটু কাজ ছিল তাই বেরুচ্ছি।”
—“এখন তোর কী কাজ পড়লো হঠাৎ?” ভ্রু কুঁচকে জানতে চায়লো তার মা।
আমতা আমতা করে সামির জবাব দিল
—“না আসলে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। অনেকদিন পর সব বন্ধুরা একসাথে হচ্ছি।”
—“আচ্ছা যেখানে যাচ্ছিস যা। একটু তাড়াতাড়ি আসিস। আজ আফরা আসবে। জামাইবাবা ফোন দিয়েছিল।”
—“আচ্ছা তাড়াতাড়িই আসার চেষ্টা করবো।” বলেই কোনমতে কেটে পড়লো মায়ের সামনে থেকে।

আফরা অয়নের সাথে কথা বলছে না। অয়ন যতবারই কিছু বলতে যাচ্ছে সে ততবারই অয়নকে ইগনোর করে এ কাজে সে কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। বেচারা অয়নের হয়েছে বেহাল দশা। কী করে আফরাকে কনভিন্স করবে তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না। আজও অয়নেরই প্রথমে ঘুম ভেঙেছিল। তাও সে চোখ বুজে শুয়ে থাকে আফরা কী রিয়েক্ট করে তা দেখার জন্য। ভেবেছিল গতদিনের মতো আজও আফরার ছোঁয়া পাবে। কিন্তু তার আশায় বরফ ঠাণ্ডা পানি ঢেলে নিজেকে অয়নের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চুপচাপ চলে গেল। এরপর থেকে যতবারই চেষ্টা করছে কথা বলার ততবারই ব্যর্থ হচ্ছে সে। মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে। কাজে তো দিবে তবে আবার না জানি কষ্ট পেয়ে বসে। আফরার এমন গুমরা মুখ দেখার চেয়ে এটুকু ক্ষতি নিজের করতেই পারে অয়ন। তবুও যদি সাহেবার অভিমানটা একটু গলে।

—“আউচ!” হাত চেপে ধরে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে অয়ন।

অয়নের এমন আর্তনাদ শুনে হঠাৎ আফরার বুকের ভিতর কেমন ছটফট করে উঠে। তাড়াহুড়ো করে তার কাছে এসে দেখে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি চেপে ধরে বসে আছে। ফিনকি দিয়ে রক্ত ঝরছে। আপেল কাটতে গিয়ে আঙুল কেটে ফেলেছে। দেখেই যেন মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। হতবুদ্ধি খেয়ে গেল আফরা। কি করবে না করবে বুঝে উঠতে পারছে না যেন সে। দ্রুত গিয়ে অয়নের হাতটা সিংকে পানির নিচে নিয়ে ধরলো। তাড়াহুড়ো করে ফার্স্টএইড বক্স এনে কটন দিয়ে রক্ত মুছতে লাগলো। প্রচুর রক্ত ঝরছে। মুছে শেষ করা যাচ্ছে না। তার হাত প্রচণ্ডভাবে কাঁপছে। বুকের ভিতরটাও কেমন ঢিপঢিপ করছে অজানা আশঙ্কায়। অয়ন নিজেও ভাবতে পারেনি এতোটা কেটে যাবে। সে তো একটু কাটার জন্য নাইফটা ছুঁইয়েছিল। যাতে করে আফরার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। কিন্তু ছুরিটা বেশ ধারালো ছিল। যা কিনা অয়ন বুঝতে পারেনি। আফরার চোখ বারবার ঝাপসা হয়ে আসছে। তবুও অনভিজ্ঞ কাঁপা কাঁপা হাতে স্যাভলন লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিল। ব্যান্ডেজ করার পরও হালকা রক্তের আভাস দেখা যাচ্ছে সাদা কাপড়টায়।

কেটেছে অয়নের হাতের আঙুল। অথচ ব্যথা পাচ্ছে যেন আফরা। কিন্তু অয়নের তাতে কোন বিকার নেই। যেন আঙুল কাটেনি, পিপীলিকা কামড় দিয়েছে। সে এক দৃষ্টিতে আফরার দিকে তাকিয়ে আছে। এই সামান্য কারণে কান্না করতে করতে কয়েকটা মুহূর্তেই চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি লাল হয়েছে নাকের ডগাটা। বড্ড লোভ হচ্ছে তার ঐদিকে তাকিয়ে থেকে। জোর করে দৃষ্টি ফেরানোর সময় তার নজর যায় আফরার কম্পমান ওষ্ঠের দিকে। লোভটা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে। নাহ্ এভাবে আফরার সামনে বসে থাকলে কিছু একটা অঘটন করে বসবে সে ওর সাথে। তাই মানে মানে কেটে পড়াই উচিৎ। অয়নের এমন তড়াক করে উঠে দাঁড়ানোতে আফরা হঠাৎ হকচকিয়ে গেল।

—“ইয়ে…..”
পিছন থেকে আফরা কিছু বলতে চায়লো। অয়ন থেমে গিয়ে তার দিকে ঘুরে ক্ষীণ সুরে বললো
—“কিছু বলবা?”
আফরা ইতস্তত করে বললো
—“হ্যাঁ, বলছিলাম যে একটা পেইনকিলার খেয়ে নিন। ব্যথাটা সেরে যাবে।”
আফরার কাছে সরে এসে হাতের দিকে একবার তাকিয়ে ফের আফরার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো
—“এটা তো কিছুই না। এই ব্যথা নাহয় পেইনকিলার খেয়ে সারিয়ে নিলাম। কিন্তু এই ব্যথা!” অতঃপর আফরার ডান হাতটা নিয়ে তার বুকের বামপাশে রেখে অসহায়ভাবে বললো “কিন্তু এই ব্যথা কিভাবে সারাবো বলতে পারো? তার ঔষধ যে আমার জানা নেই।”

আফরার বুকের ভিতরটা হঠাৎ চিনচিন করে উঠলো। অয়ন আবারো বললো
—“প্লিজ আফরা ক্ষমা করে দাও না! ভুল হয়ে গেছে আমার। আমি মেনে নিতে পারছি না তোমার এড়িয়ে চলাটা। অপরাধবোধ আমার ভিতরটাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মানছি আমি নাহয় না জেনেশুনে তোমার সাথে রুড বিহেভ করেছি। কিন্তু তুমি আমাকে সঠিকটা বলবা না? আমি ভুল করলে আমাকে শুধরে দিবা না?”

আফরা কিছু না বলে চলে যেতে নিচ্ছিল। অয়ন অপরাধী সুরে বললো
—“ওকে ফাইন! ইচ্ছে হলে ক্ষমা কোরো না হলে না কোরো। তবুও এমন চুপচাপ থেকো না। রেডি হয়ে নিও। আজ শ্বশুরবাড়ি যাব বউকে নিয়ে।”

অয়নের এমন কথায় চকিতে তার দিকে ফিরে তাকালো। কিছুটা অবাকও হলো। অবাক ভাবটা কাটিয়ে নিচুস্বরে বললো
—“আমি যাব না।”
—“তুমি যাবে নাকি যাবে না তা তো জানতে চাইনি। শুধু বলেছি রেডি হয়ে থাকতে। আমার শ্বশুরবাড়িতে কি আমার যেতে ইচ্ছে হতে পারে না? কথায় আছে না শ্বশুরবাড়ি মধুর হাড়ি!”
—“আপনি যান আমি যাব না।”
—“বউ ছাড়া যাব নাকি আমি?”
—“আরেকটা খুঁজে নেন।” বলেই চলে যাচ্ছিল। অয়নের কাণ্ড দেখে থমকে দাঁড়ালো।
—“আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে এই ব্যান্ডেজটা খুলে যাই অন্যকাউকে খুঁজে আনি গিয়ে।” বলেই খুলার চেষ্টা করতে লাগলো। আফরা দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে অয়নের হাত ধরে বাধা দিয়ে বললো
—“আরে আরে করছেন কী? ব্যান্ডেজ খুলছেন কেন? কী পাগলামি শুরু করেছেন! দেখি হাত সরান।” জোর করে হাত সরিয়ে দিল। চলে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়াতেই অয়ন তাকে পিছন থেকে দু’হাতে আবদ্ধ করে তার কাঁধে চিবুক ঠেকিয়ে বললো
—“আগে বলো যাবে। তা নাহয় ব্যান্ডেজ খুলে ফেলবো আমি।”

আফরা তার সর্বাঙ্গ জুড়ে শিরশিরানি অনুভব করে। মেরুদণ্ড বেয়ে সাপের মতো এঁকে বেঁকে ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে যায়। হাত পা কাঁপতে থাকে বিরতিহীন। বুকের ভিতর হাতুরি পিটাচ্ছে অনবরত। চোখ বন্ধ করে জোরে কয়েকটা নিঃশ্বাস নেয়। হঠাৎ অয়নের কথা শুনে তার মুখ কান গরম হয়ে ধোঁয়া বের হবার উপক্রম। কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো
—“কি ব্যাপার বউটা! এমন ধুকপুক আওয়াজ আসছে কোত্থেকে? তোমার বুকের ভিতর থেকে নাকি? আর এভাবে কাঁপছে কেন সারা শরীর? এখনো তো কিছুই করলাম না। সামান্য ধরেছি বলেই এমন অবস্থা! কিছু করলে দেখি তোমাকে…….” পুরো কথা শুনার ধৈর্য্য আফরার হয়নি। নিজেকে অয়নের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এক ভোঁদৌড় দিয়ে সেখান থেকে পগারপার। আফরার এমন কাণ্ড দেখে অয়ন নিঃশব্দে হাসতে লাগলো। বাপরে কী লজ্জা এই মেয়ের!

পার্কের নিরিবিলি জায়গায় একটা বেঞ্চে বসে আছে লাবণ্য। অপেক্ষা করছে রনকের জন্য। আজ বেশ সুন্দর করে সেজেছে সে শুধুমাত্র রনকের জন্য। তাদের সম্পর্কের আজ আজ পাঁচ মাস চলে। ফার্স্ট ভ্যালেনটাইনস পালন করার জন্য এখানে এসেছে সে। রনক এখনো আসছে না। বিরক্তির সাথে হাতঘড়িতে একবার চোখ বুলিয়ে সামনে তাকিয়ে সে অবাক হয়ে গেল। ফর্মাল ড্রেসে সামির দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে হাতে বেশ কয়েকটি হলুদ গোলাপ নিয়ে। হলুদ গোলাপ লাবণ্যর প্রিয় ফুল। কিন্তু তবুও এখন ফুলের দিকে নজর না দিয়ে সামিরের দিকে বিরক্তিকর দৃষ্টি হেনে কপাল কুঁচকে বললো
—“কী, এখানে কী চাই?”
হাসি মুখে সামির বললো
—“তোমাকে।”
—“ভালোয় ভালোয় বলছি মন মেজাজ আজকে খারাপ করবেন না। নয়তো খুব খারাপ হয়ে যাবে।”
—“উফফ্! তোমাকে রাগলে যা লাগে না! আমার সামনে প্লিজ এভাবে রেগে না। নয়তো নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারবো না।”
সামিরের কথা শুনে লাবণ্যর মাথায় রক্ত উঠে যাচ্ছে। আচ্ছা বেহায়া তো লোকটা! এভাবে অপমান করার পরও তার পিছু ছাড়ে না। আজকে এর শিক্ষা দিতে হবে ভালো করে। হয় এসপার, নয় ওসপার।
—“ঘরে কি মা বোন নেই? বাইরের অপরিচিত মেয়েদের এভাবে জ্বালাতন করেন কেন সবসময়?”
—“তুমি তো আমার অপরিচিত না। আমার আপনের চেয়েও আপন। আর ঘরে মা বোন সবই আছে। তবে বউ নেই। তুমি রাজী থাকলে কাজি ডেকে বউ করতে পারি তোমাকে।” ফুলগুলো সামনে এগিয়ে দিয়ে বললো “আই লাভ য়্যু। উইল য়্যু ম্যারি মি?”
রাগে শরীর কাঁপছে লাবণ্যর। নিজেকে সামলাতে না পেরে তার হাতটা উঠে গেল সামিরের গালে। রাগে চিৎকার করে বললো
—“হাউ ডেয়ার য়্যু? তোর সাহস হয় কি করে আমাকে প্রপোজ করার? লজ্জা নাই তোর? জীবনে মেয়ে মানুষ দেখস নাই? আরে এতোই যখন মেয়েদের দরকার পড়েছে তাহলে যা না, ব্রোথেলে যা। সেখান থেকে একটা ধরে এনে যা ইচ্ছে তা কর। বিয়ে কর মনে চায় তো রেপ কর। কেউ ধরে রাখে নাই তোকে। আমাকে সেরকম মেয়ে ভাববি না। নেক্সট টাইম যদি কখনো আমার সামনে আসিস তাহলে মনে রাখিস তোর নামে আমি মানহানির মামলা করবো। মাইন্ড ইট!” তর্জনী উঁচিয়ে শাসিয়ে সেখান থেকে প্রস্থান করলো লাবণ্য। সামিরের চোখে পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেল। তার কল্পনার বাইরে ছিল লাবণ্য তার সাথে এমন নোংরা আচরণ করবে।

বেশ কিছু উৎসুক জনতা তামাশা দেখছিল ভীড় করে। কেউ কেউ আবার মোবাইলে ধারণও করেছে তা। কিন্তু কেউ একজন সে দৃশ্যটা একেবারে ঘটনার সূত্রপাত থেকে শেষটা পর্যন্ত অবলোকন করে সহ্য করতে পারলো না। অজান্তেই তার আঁখিযুগল অশ্রুসিক্ত হয়ে তা থেকে যেন রক্ত ঝরছে। হৃদপিণ্ডে কে যেন বেশ কয়েকবার পোচ মেরেছে ধারালো চাকু দ্বারা। রক্তাক্ত হৃদয়টা নিয়ে সেখানেই আর্তনাদ করে ধপ করে মাটিতে বসে পড়লো। কাঁদতে লাগলো ভাঙা হৃদয় নিয়ে।

চলবে……..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ