Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অতঃপর তুমি পর্ব-০১

অতঃপর তুমি পর্ব-০১

#অতঃপর_তুমি
#পর্ব-১
Writer: ইশরাত জাহান সুপ্তি

১.
আমার বড় বোনের প্রাক্তন প্রেমিক শুধুমাত্র প্রতিশোধের উদ্দেশ্যে আজ যখন আমাকে বিয়ে করল সেই মুহুর্তেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম আমার জীবন তছনছ হওয়ায় আর কোনো অংশ থেকে বাকি রইলো না।কি অদ্ভুত!আজ ভোরেও যার জুতো চুরি করার পরিকল্পনা করছিলাম এখন তার জন্যই কিনা বাসর ঘরে অপেক্ষা করছি।এক দিনের ব্যবধানেই জীবনটা কিভাবে সম্পূর্ণ পাল্টে গেল।ইরা আপু আর অভ্র ভাইয়ার চার বছরের সম্পর্ক,সবকিছু ঠিকঠাক ছিল,তাদের সম্পর্কটাও দুই পরিবার থেকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।কিন্তু তবুও আজ কি হয়ে গেল।
সেই রাত নয়টা থেকে বাসর ঘরে বসে আছি আর এখন বাজে রাত আড়াইটা।তবুও অভ্র ভাইয়ার আসার কোনো নাম নেই।তিনি আদৌ আসবেন কিনা তার ঠিক নেই।পুরো রুম অগোছালো হয়ে আছে।জিনিসপত্রের ভাঙা টুকরো চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।এখানে যে কেউ নিষ্ঠুর ভাবে তার ধ্বংসাত্মক রাগ ঝেড়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।তারই মাঝে কোনো মতে ফুল দিয়ে সাজানো বিছানায় আমি বসে আছি।আজ এখানে কার থাকার কথা ছিল আর কে আছে।একেই কি বলে ভাগ্য!
দরজা খুলে ঢুলতে ঢুলতে এমন সময় অভ্র ভাইয়া প্রবেশ করে।তাকে দেখে ঠিক মনে হচ্ছে না তিনি স্বাভাবিক আছেন,এলোমেলো চুল,ফ্যাকাসে মুখ,রক্তবর্ণ চোখ।আমাকে দেখেই তিনি এমন ভাবে তাকালেন যেন বারুদে আগুন জ্বলে উঠলো।তড়িৎ বেগে কাছে এসে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে গলায় থাকা তাদের খানদানি সোনার লকেটটা হেঁচকা টানে ছিঁড়ে নিয়ে গেলো।আমি গলায় হাত দিয়ে ব্যাথায় শব্দ করে উঠলাম।সেদিকে তিনি তোয়াক্কা না করে আমার হাত শক্ত করে ধরে বিছানা থেকে নামিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে বললেন,
-‘এই লকেট পড়ার অধিকার তোমার নেই।আর আমার বিছানায় কোন সাহসে বসেছো!’
মদের বিশ্রী গন্ধ আমার নাকে আসতে লাগলো।অভ্র ভাইয়ার মতো ছেলে মদ খেয়েছে!ইরা আপু কতটা কষ্টই না তাকে দিলো!
-‘কি ভেবেছিলো তোমার বোন!আমার সাথে যা ইচ্ছা তাই করে কেটে পড়বে আর আমি চুপচাপ সব মেনে নিবো।ইরাকে কিছু বলতে পারলাম না তাতে কি!এবার তার প্রিয় মানুষটিকেই না হয় শাস্তি দিবো।তিলে তিলে জ্বালিয়ে মারবো,প্রস্তুত থাকো।’

কথাটি বলে এক ঝটকা দিয়ে তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন।কথাগুলো বলার মতো শক্তিই হয়তো তার কাছে ছিলো কেননা তার পরেই তিনি বিছানায় গা এলিয়ে পড়ে রইলেন।তার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনে থাকা ভাঙা আয়নায় নিজের বউ সাজের প্রতিফলনে চোখ পড়তেই বুকের মধ্যে ধ্বক করে উঠলো।সব মেয়ের মতোই কতটা আশা ছিলো এই বউ সাজা নিয়ে কিন্তু আজ সবকিছু দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
অভ্র ভাইয়া ঠিকই বলেছে,আপুর সবথেকে প্রিয় মানুষ ছিলাম আমি।কারণ আপুর করা সব দোষত্রুটি আমিই ঢাকতাম।ছোটো থেকেই একটু দুষ্ট হলেও আমি ছিলাম আমার বাবা মার বাধ্য সন্তান।আর ইরা আপু একটু জেদি আর একরোখা টাইপের।বাবা মার কথা খুব কমই শুনতো।তাই আমাকে দিয়েই বাবা মার থেকে বিভিন্ন কার্যসিদ্ধি করিয়ে আর নিজের দোষ ঢাকাতে পেরে আপু আমায় অনেক আদর করতো।তবে আপুর করা এইবারের দোষটি ছিল সাংঘাতিক বড়।চার বছরের সম্পর্কের বিয়েতেও তিনি পালিয়ে গেলেন।আবার তাও কিনা অভ্র ভাইয়ার সবথেকে কাছের বন্ধু মাসুদ ভাইয়ার সাথে।মাসুদ ভাই,ইরা আপু আর অভ্র ভাইয়া ছিলো ব্যাচমেট।অভ্র ভাইয়া দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি প্রতিষ্ঠিত।তার বাবা শহরের নামকরা ব্যবসায়িদের মধ্যে একজন।অভ্র ভাইয়াকে বিয়ে করার পেছনে যেটা ছিল আপুর সবথেকে বড় প্লাস পয়েন্ট।অভ্র ভাইয়া যে খুব ভালো একটি ছেলে তা আমার পরিবারের সবাই তার সাথে দু একবার দেখা করেই বুঝে গিয়েছিলো।তাই তো এমন আদর্শ ছেলে পেয়ে কেউ আর বিয়েতে দ্বিমত পোষণ করেনি।আর এমন একটি ছেলেকে ফেলে ইরা আপু কেনো পালিয়ে গেলো তা সবার কাছেই রহস্য হয়ে উঠলো।চার বছরের সম্পর্কের পরেও যে কেউ পালিয়ে যেতে পারে এই কথাটা আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারতাম না যদি না সকালে আপুর লেখা সেই চিঠিটা পেতাম যেটা আপু আমার উদ্দেশ্যে লিখে গিয়েছিলো।যেখানে লেখা ছিলো…
বোন,
আমি জানি তোর মতে আমি ভুল করেছি।তুই সবসময় চিন্তা করিস আবেগ দিয়ে কিন্তু আমি বিবেক দিয়ে।আর জীবনের এতো বড় সিদ্ধান্ত আবেগ দিয়ে নিলে হয় না।মাসুদ আমাকে আজ ভোরেই প্রপোজ করেছে।দেখ,মাসুদ আর অভ্র এরা দুজনেই সমান বড়লোক।কিন্তু মাসুদ বিদেশে সেটেল হবে আর তুই তো জানিস আমি ওয়েস্টার্ন লাইফ কতটা পছন্দ করি।অভ্রকেও আমি অনেকবার বলেছি কিন্তু ও ও’র পরিবার ছেড়ে যেতে রাজী নয়।তার উপর অভ্র ও’র বাবা মার একমাত্র ছেলে তার মানে ভবিষ্যতে ও’র বুড়ো বাবা মা আমার ঘাড়ে এসেই পড়বে।এদিক দিয়ে মাসুদ পুরো পারফেক্ট।সবদিক দিয়ে ভেবেচিন্তেই আমাকে এই স্টেপ নিতে হয়েছে।সবার এখন মাথায় রাগ তাই কেউ এখন আমাকে বুঝবে না।তুই একটু সবটা সামলে নিস।

কতো সহজে আপু বলে দিলো সবটা সামলে নিস।
যেন এটা কোনো ব্যাপারই না।সামলাতে চাইলেও আমি সামলাতে পারিনি।কারণ চিঠিটা সবার হাতে পড়ে যায়।বাবার জন্য ছিল এটা একটি বড় ধাক্কা।বিয়ের দিন মেয়ের পালিয়ে যাওয়া একটি বাবার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এর থেকে কষ্টের আর অন্য কিছু হতেই পারে না।কারণ সেখানে লুকিয়ে থাকে আজীবন ভালোবাসার প্রতিদানে ধোঁকা প্রাপ্তির গল্প।মান সম্মানের কথা না হয় বাদই দিলাম,কি জবাব দিবে বাবা অভ্র ভাইয়ার পরিবারকে।তবুও অভ্র ভাইয়া আর তার পরিবারকে ডেকে এনে সবটা খুলে বলা হয়।সবটা জানার পর অভ্র ভাইয়ার প্রতিক্রিয়া দেখে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিলো।তার জন্য এটা মেনে নেওয়া কতটা কঠিন তা যেন আমি বুঝতে পারছিলাম।পুরো স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো।
তখন তারা চলে গেলেও বিয়ের নির্দিষ্ট সময়ে আবার ঠিকই চলে আসে বরপক্ষ নিয়ে।বাবার সামনে বর বেশে দাঁড়িয়ে জানায় সে আমায় বিয়ে করতে চায়।আর ব্যাস!বাবাও নিজের বাকি থাকা সম্মানটুকু বাঁচাতে আর তাদের প্রতি অনুতপ্ত বোধ থেকে বিয়ের জন্য রাজী হয়ে যায়।আমাকে একবার জিজ্ঞাসা করারও প্রয়োজন মনে করে না।আর আমিও সেই মুহুর্তে পুরো হতভম্ব হয়ে যাই।তারপর কি থেকে কি হয়ে গেলো তা বুঝে উঠার আগেই বিয়েটা হয়ে যায়।বিয়ের কাগজে সিগনেচার করার সময় অভ্র ভাইয়া শুধু একবার আমার দিকে তাকিয়ে একটি তাচ্ছিল্যের রহস্যময় হাসি দেয়।আমার পুরো শরীরে একটা শীতল শিহরণ বয়ে যায়।তার চোখে তখন আমি শুধু নিজের ধ্বংস দেখতে পাই।
বাবা মার উপর খুব অভিমান হচ্ছে। তারা কেনো আমার সাথে এমন করলো!আপুর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত আমার কাঁধে তুলে দিল।আমার বয়সই বা কতটুকু!সবে এইচএসসি পাশ করেছি।আর এখনই বিয়ে!কত স্বপ্ন দেখেছিলাম এই বিয়ে নিয়ে কিন্তু এখন সব শেষ!
এই চার বছরে অভ্র ভাইয়াকে আমি দেখেছি মোট চারবার।প্রথম যখন দেখি তখন আমার বয়স মাত্র ষোল।সেদিন ছিলো স্কুলে হাফ পিরিয়ড,দুই বেণী করে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দুলতে দুলতে স্কুল ড্রেসে বাড়ি ফিরছিলাম।হঠাৎ মধ্য দুপুরের ছোট্ট ফাঁকা গলিতে পেছন থেকে মিষ্টি কন্ঠে কেউ ডেকে উঠে,’অরু।’
আমি পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখি নীল চেক চেক শার্ট গায়ে একটি ভার্সিটি পড়ুয়া সুদর্শন ছেলে মাথা ঈষৎ নিচু করে হাতে একটি সাদা খাম নিয়ে লাজুক মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।আমি কাঁচুমাচু করে অবাক হয়ে তাকিয়ে কিছু বলার আগেই সে তার হাতে থাকা সাদা খাম আর সাথে ছোট্ট একটি প্যাকেট আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বাম হাত দিয়ে মাথা ঈষৎ চুলকিয়ে লাজুক মুখে বলল,
-‘এগুলো তোমার বোন ইরাকে একটু দিয়ে দিয়ো প্লিজ।’
আমি নির্বাক হয়ে ভ্যাবলার মতো তার দিকে তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে সেসব নিয়ে নিলাম।আর সে তৎক্ষণাৎ একটু লাজুক মুচকি হাসি দিয়ে
পেছন ফিরে চলে যেতে লাগলো।গলির শেষ মাথা পর্যন্ত যতক্ষণ তাকে দেখা গেল ততক্ষণ সেখানে আমি অবাক অপলক ভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।

আপুর যে কারো সাথে প্রেম চলছে তা ততদিনে আমি জেনে গিয়েছিলাম।ষোল বছর বয়স,সারাক্ষণ উপন্যাসে বুঁদ হয়ে পড়ে থাকা আমির কাছে এসব ছিল সম্পূর্ণ নতুন।হঠাৎ বাস্তবে প্রথম কাছ থেকে এসব দেখে অনেকটা উৎসাহিত হয়ে পড়েছিলাম।এক ছুটে বাড়ি গিয়ে আপুর সামনে হাসতে হাসতে খামসহ প্যাকেটটি বাড়িয়ে দিলাম আর বললাম,
-‘খুব সুন্দর ফর্সা মতো একটি ছেলে তোমাকে দিতে বলেছে।’
আমার কথা শুনে আপু ফোন টেপা বাদ দিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে প্রথমে প্যাকেটটি খুলে দেখে খুব সুন্দর একটি দামী কানের দুল।দুলটি দেখে আপু খুব পুলকিত হয়ে উঠে তারপর কোনো মতে সাদা খামটি খুলে ভেতরে থাকা ছোট্ট চিরকুটটি কোনোমতে পড়ে খাম সহ চিরকুট মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে বিছানা ছেড়ে উঠে আয়নার সামনে গিয়ে দুলটি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।সামনে পড়ে থাকা খামটি থেকে দু’টো সাদা কাঠ গোলাপ ফুল আমার পায়ের সম্মুখে এসে পড়লো।আমি হাঁটু গেড়ে বসে বিস্ময় ভরা চোখে আলতো হাতে ফুলগুলো তুলে চিরকুটটি উঠিয়ে পড়ে দেখলাম সেখানে লেখা,

‘এভাবেই জড়িয়ে রেখো সাদা কাঠ গোলাপের সাদার মতো ভালোবাসার মায়ায়।’
~অভ্র

সেদিন সারা দিন আর রাত আপু ব্যস্ত হয়ে থাকলো সেই দুল নিয়ে আর আমি ব্যস্ত হয়ে রইলাম সেই কাঠ গোলাপ দুটি নিয়ে।বান্ধবীদের মুখে অনেক শোনা অবাক কাঠ গোলাপ ফুল সেদিন প্রথম দেখে পড়ার টেবিলে শুধু বিস্ময় ভরা চোখে হাতের তালুতে নিয়ে সেই অদ্ভুত সুন্দর ফুলগুলো বারবার দেখছিলাম।এতটাই ভালো লেগেছিলো যে আজও সেই শুকনো ফুলগুলো চিরকুট সমেত বইয়ের ভাঁজে রেখে দিয়েছি।অভ্র ভাইয়াকে আমার লাগতো ঠিক উপন্যাসের নায়কের মতো।তার করা সব কান্ডগুলোও মিলে যেত উপন্যাসের সাথে।আপু আমার পাশেই সারা রাত তার সাথে ফোনে কথা বলতো আর আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম।অভ্র ভাইয়া যে আপুকে খুব ভালোবাসতো তা তাকে সামনে থেকে বেশি না দেখেও বুঝতে পারতাম।খুব খুশি ছিলাম আপুর জন্য যে আপু তার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ খুঁজে পেয়েছে।আনমনে আমিও চাইতাম যে আমারও যেনো ঠিক অভ্র ভাইয়ার মতো এমন ভালোবাসতে পারা একজন মানুষের সাথেই বিয়ে হয়।আমার মন তো সেই ভাঙা ভেঙেছিলো যখন জানতে পারলাম অভ্র ভাইয়ার আর কোনো ছোটো ভাই নেই।ইরা আপু কতটা ক্ষেপিয়েছিলো আমাকে তা নিয়ে।অথচ কে জানতো! আজ স্বয়ং অভ্র ভাইয়ার সাথেই আমার বিয়ে হয়ে যাবে।কেনো এমনটা হলো?
রাত তিনটা বেজে গেছে।গতকাল এই সময়ও সব ঠিক ছিল অথচ আজ নেই।বাড়ির প্রথম বিয়ে আর একমাত্র শালী হওয়ার সুবাদে কি কি করবো তার এক্সাইটমেন্টে আমি কাল সারা রাত ঘুমাতে পারছিলাম না।হঠাৎ রাত তিনটার দিকে আপুর ফোনে অভ্র ভাইয়ার ফোন আসে।আপু তখন পুরো ঘুমে তাই আমিই আপুকে ডেকে তুলে বলি অভ্র ভাইয়া ফোন দিয়েছে।আপু বিরক্ত হয়ে ফোন রিসিভ করে কানে ধরে বলল,
‘হ্যালো।’
‘হ্যালো তুমি কি ঘুমাচ্ছো?’
‘যা বলার তা তাড়াতাড়ি বলো।’
‘বুঝেছি মহা রাণীর ঘুমে ডিস্টার্ব হচ্ছে।তবুও আরেকটু ডিস্টার্ব আমি আজ করবো বুঝেছো!কারণ একা একা এতটা এক্সাইটমেন্ট আমি সামলাতে পারছি না।তোমার কথা বলতে হবে না,তুমি শুধু আমার কথাগুলো শুনো।কাল আমাদের বিয়ে,হ্যালো..শুনছো?তোমার আজ ঘুম কিভাবে পাচ্ছে বুঝতে পারছি না।আরেকটা কথা কাল কিন্তু আমরা সারা রাত গল্প করবো আর চন্দ্রবিলাস করবো তাই আগে থেকেই বলে রাখলাম এই শুনছো, কাল কিন্তু তুমি সারা রাত ঘুমাতে পারবে না।এই শুনছো?’

রাতের নিস্তব্ধতায় ফোন লাউড স্পিকারে না থাকা সত্ত্বেও সব কিছু স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিলো।এই পর্যায়ে আপু বিরক্ত হয়ে ফোন অন রেখেই ফেলে ওপাশ ফিরে শুয়ে পড়লো।আপুর ঘুমিয়ে পড়ার কথা অভ্র ভাইয়াকে বলার জন্য আমি ফোন কানে ধরলাম।কিন্তু ভাইয়ার অনর্গল কথা বলায় কিছু বলার সুযোগই পেলাম না।
অভ্র ভাইয়া বলতে লাগলো,
‘ভাবতেই যেনো কেমন লাগছে না!কাল এই সময় তুমি আমার কাছে থাকবে।আমরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে বেঁধে যাবো।আমাদের মাঝে আর কোনো দূরত্ব থাকবে না।থাকবে শুধু ভালোবাসা।তুমি জানো না এই দিনটার জন্য আমি কতটা অপেক্ষা করেছি।ভার্সিটির পরপর সবাই যেখানে কিছুদিন ঘুড়ে বেড়িয়েছে সেখানে আমি কোনো সময় নষ্ট না করে বাবার সাথে ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েছি শুধুমাত্র তোমার দায়িত্ব নেওয়ার মতো নিজেকে যোগ্য করার জন্য।আমার ভালোবাসা যতটাই প্রকাশ করি তা কমই হবে।ভালোবাসা যে প্রকাশ করা যায় না শুধু অনুভব করে নিতে হয়।এই পর্যন্ত বলে অভ্র ভাইয়া হঠাৎ গাইতে লাগলেন,

তোমাকে না লেখা চিঠিটা
ডাকবাক্সের এক কোণে,
সাদা খামের না লেখা
নাম এঁকেছে তার গানে।
সেই চিঠি যত লেখা
থাকে একা একা,
সেই গানের আ শোনা সুর
আঁকা একা একা
ছুঁয়ে যায় তবুও কখন এসে…
যদি বলি সেসবই তোমারই,
একা চিঠি,একা একা মন।
যদি বলি সেসবই তোমারই
একা চিঠি,একা একা মন,
সাঈয়া…সাঈয়া…সাঈয়া
সাঈয়া…….সাঈয়া♪♪♪♪

উপুড় হয়ে শুয়ে বিছানায় বেঘোরে ঘুমাচ্ছে অভ্র ভাইয়া।জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলো ঠিক তার মুখ বরাবর পড়েছে।অন্ধকারের সাথে মেশা চাঁদের আলোয় সে মুখ দেখতে খুব মায়াবী লাগছে।সারাদিনের ক্লান্তিতে সোফায় গুটিশুটি মেরে বসে থেকে এবার আমারও খুব ঘুম পাচ্ছে তবুও কেন যেন ঘুমাতে পারছি না।কানে বাজছে শুধু একটি কথাই,
‘এই শুনছো,কাল কিন্তু তুমি সারা রাত ঘুমাতে পারবে না।এই শুনছো?’

চলবে,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ