Saturday, June 6, 2026







Happily Married Part-05

#Happily_Married🔥
#Part_5(#বিয়ে_স্পেশাল)💮
Writer:: Shaanj Nahar Sanjida


বিয়ের দিন
সবাই অনেক ব্যাস্ত একমাত্র আমি ছাড়া।কালকে গায়ে হলুদে এমন নাচ দিছি যা জন্য আজ কোমর ব্যাথা আর পা ব্যাথায় টনটন করছে।আমার বিয়েতে আমার নাচ দেখে সবাই অবাক হয়ে গেছে। অবশ্য নাচবো না কেনো?আজকে তো আমি এই বিয়ে ভাঙবো।তার সেলিব্রেট তো করতেই হবে।কাল রাত অনুষ্ঠানের পর যেই ভাবছি নাকে সরিষার তেল দিয়ে ঘুমাবো না তা না পিয়া সকাল সকাল নিজের নাকটা গলানোর জন্য চলে এসেছে।ওকে নাকি আব্বু বলছে আমাকে তৈরি করতে,,,

হিয়া উঠ না!(পিয়া আমাকে ঘুমের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে)

একটু ঘুমাতে তে না প্লিজ!(আমি বালিশ চাপা দিয়ে)

ভুলেও না। আটটা বাজে উঠে খেয়ে তারপর তৈরি হতে হবে তো।বর এসে পড়বে।(পিয়া টেনে তুললো)

আরে যখন ওই বর মহাশয় যখন আসে তখন ডাক দিস।উঠবো তখন।(আমি আবার বিছানায় শুয়ে পড়লাম)

হইছে তোর আবোল তাবোল বলা। যতো সব উঠ।(পিয়া)

সবাই আমার শত্রু।আমাকে একটু ঘুমাতেও দেয় না।
আমি ঘুম থেকে উঠে ওয়াশরুমে চলে গেলাম।


চৌধুরী বাড়িতে
আমি তো ভাবতেই পারছি না।আমার বেস্ট ফ্রেন্ড যে কিনা সব সময় বিয়েকে একটা মাথা ব্যাথা করা চ্যালেঞ্জ ভাবতো সে বিয়ে করতে যাচ্ছে।(পিয়াস দেয়ালে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে)

কি বললো আমি বিয়েকে একটা চ্যালেঞ্জ ভাবতাম?(আলিফ বিছানায় আধ শোয়া অবস্থায়)

মানে?(পিয়াস রুমে ঢুকে)

আমি এখনও বিয়েটা একটা চ্যালেঞ্জই ভাবি।ওই মেয়ে হিয়া বিয়ে ভাঙতে চায়।যে কোনো মূল্য ও বিয়ে ভাঙার প্ল্যান করছে।আর এটাই আমার চ্যালেঞ্জ মনে হচ্ছে।ও যতই বিয়ে ভাঙার প্ল্যান করছে ততই আমার বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে।(আলিফ)

তারমানে ও তোকে রিজেক্ট করছে।তুই কে?তুই কেমন দেখতে?তোর কাছে কি আছে?এইসব কিছুই মেয়েটার কাছে কোনো ব্যাপার না।বরং ও বিয়ে করবে না এইটাই সবচেয়ে বড় কথা।(পিয়াস ইমপ্রেস হয়ে)

হুম।ও আমাকে দেখেও নি।(আলিফ)

ওয়াও।তুই তো অনেক লাকি।(পিয়াস আলিফের কাধে হাত রেখে)

এখানে লাকির কি আছে?(আলিফ অবাক হয়ে)

তোর কাছে আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে বিনা স্বার্থ নিয়ে আসে নি।সবাই তোর গুড লুকস আর স্ট্যাটাস এর জন্য এসেছে।এই প্রথম কোনো মেয়ে তোর স্ট্যাটাস এর পরোয়াও করেনি।আর তোকে না দেখেই রিজেক্ট করে দিয়েছে।(পিয়াস হাসতে হাসতে)

আলিফ পিয়াসের কথায় চিন্তায় পড়ে গেলো।

সত্যি তো ওই মেয়ে আমাকে না দেখেই রিজেক্ট করে দিয়েছে।অন্য কোনো মেয়ে থাকলে আমার বাবার স্ট্যাটাস দেখেই বিয়ের জন্য রাজি হয়ে যেত। কিন্তু এই মেয়ে যখন থেকে বিয়ের কথা উঠেছে তখন থেকেই প্রাণ পণ দিয়ে চেষ্টা করছে বিয়ে ভাঙার।এই মেয়ে সত্যিই খুব আজব।

আলিফের চিন্তায় বাঁধ পরে পিয়াসের কথায়,,
আমি জানি তুই মেয়েকে ভালবাসিস না।তুই শুধু ওই মেয়েকে বিয়ে করে জিততে চাস।ওই মেয়ের কাছে হারতে তোর ইগুতে লাগবে।তবে একটা কথা বলছি ওই মেয়ে কিন্তু আর পাঁচটা মেয়ের মত না।পড়ে দেখা যাবে ওই মেয়ের কাছ থেকে জিততে গিয়ে না আবার নিজের মন হেরে বসিস।কারণ ওই মেয়ে এমন তোকে সহজে ভালোবাসবে না তবে তুই ঠিকই মেয়ের ভালোবাসার মায়ায় পরে যাবি। যাই অনেক হলো কথা আমি বরং গিয়ে একটু আঙ্কেলকে হেল্প করি।
বলেই পিয়াস উঠেই চলে গেলো।

আলিফ সেখানেই বসে পিয়াসের কথা গুলো চিন্তা করতে লাগলো,,
আমি ভালোবাসবো ওই মেয়েকে ইম্পসিবল।ওই মেয়ে কখনও আমার টাইপের হতে পারবে না।আর এই বিয়ের চ্যালেঞ্জে আমিই জিতবো।(আলিফ মনে মনে)


এক ঘন্টা পর হিয়াদের বাড়িতে
আমি প্যান্ডেলে বসে বসে আরাম করে খিচুড়ি খাচ্ছি তখনই কোথা থেকে যেন বাবা চলে আসলো,,

কিরে তুই এখানে বসে আছিস কেনো?(হিমেল সাহেব)

খাচ্ছি চোখে দেখো না।নাও তুমিও খাও।(আমি খেতে খেতে)

আমি খেয়েছি।কিন্তু রুমে বসে খেলে কি তোর কোনো সমস্যা?(হিমেল সাহেব)

রুমে বসে খেলে বিনোদন পাবো না।(আমি)

বিনোদন কোথায় পেলি তুই?(হিমেল)

এই যে সবাই মিলে কাজ করছে।কে কি করছে দেখছি এইটাই বিনোদন! জানো আব্বু নিজেকে রানী মনে হচ্ছে সবাই কাজ করছে আর আমি বসে বসে খাচ্ছি।(আমি) এক গাল হেসে

এইটাকে রানী বলে না।(হিমেল)

মানে?(আমি)

এইটাকে মালিক বলে।যে কিনা নিজে বসে থেকে সবাইকে কাজ করাচ্ছে। রানী হচ্ছে যে সবার কথা মন থেকে ভাবে,সবার খেয়াল রাখে,সবাইকে খুশি রাখে।এই জন্যই তো বাড়ির বউদের বাড়ির রাণী বলে।কারণ তারা সবার কথা মন থেকে ভাবে, সবার খেয়াল রাখে তাও আবার পরম যত্নে,সবাইকে খুশি রাখে।আর তাদের খুশিতেই তার খুশি।(হিমেল সাহেব)

তাহলে আমি তো ভুলেও রানী হতে চাই না।কারণ সবাইকে খুশি করার চেষ্টা আমি কোনো দিন করিও নি আর করবোও না।আর খেয়াল রাখা,,আমার খেয়ালই মানুষ রাখে আমি আবার রাখবো অন্য জনের খেয়াল।(আমি তাচ্ছিল্য হাসি দিয়ে)

এখন বুঝবি না।কিন্তু পরে বুঝবি।আর এইসব তোর করতে হবে না।এইসব আপনাআপনি হয়ে যাবে।তুই বুঝতেও পারবি না যে তুই কখন আমার রাজকুমারী থেকে তাদের বাড়ির রানী হয়ে গেছিস।(হিমেল সাহেব)

তোমার রাজকুমারী?লাঠির ধরেই রাখো আর বলছো রাজকুমারী।(আমি ঠোঁট ফুলিয়ে)

কারণ তুই কথা শুনিস না। এখনও শুনছিস না।(হিমেল সাহেব রেগে)

আবার কি করলাম?(আমি অবাক হয়ে)

যা গিয়ে তৈরি হ!(হিমেল সাহেব)

এখনও তো অনেক দেরি আছে।(আমি)

তুই যাবি না আমি লাঠি নিবো হাতে।(হিমেল সাহেব)

যাচ্ছি মিস্টার হিটলার।
বলেই হাত ধুয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম।

প্লেট কে ঠিক জায়গায় রাখবে?(হিমেল সাহেব চিৎকার করে)

মালিক কাজ করে না।আর আমি রানী হওয়া থেকে মালিক হওয়াটাই ভালো মনে করি!(আমিও জোরে দৌড় দিয়ে)

একদিন তুই নিজে থেকেই রানী হবি।আমি জানি।(হিমেল সাহেব মুচকি হেসে)

চৌধুরী বাড়িতে
বাবা আমি কিন্তু প্রায় তৈরি।(আলিফ)

বাবা।মাত্র দশটা বাজে আমরা বারোটার দিকে বের হবে এতো আগে তৈরি হয়ে কি করবি?(রামিম সাহেব)

তোমাদের তাড়া দিয়ে তৈরি করতে হবে তো!(আলিফ)

এই ছেলে বিয়ে পাগল হয়ে গেছে।(আলেয়া বেগম)

ভাই আমাদের বলেছিস ঠিক আছে।আর কাউকে প্লিজ বলিস না।না হলে তোর যে রাগী ইমেজটা আছে ওইটা হাওয়া হয়ে যাবে।(আলিশা)

আরে আলিশা তোমার ভাইয়ার বিয়ে হাওয়া লেগেছে।এখন উনার আর কিছুর খবর নেই।তাই না দুলে রাজা।(পিয়াস মজা করে)

বেশি কথা বলছিস।আর এখন কেনো ওদের সাইড নিয়ে কথা বলছিস কেন?একটু আগে তুইই তো আমাকে বললি বরকে আগে তৈরি হতে হয় আর তুইই তো আমাকে তৈরি হতে সাহায্য করলি!(আলিফ রেগে)

কি করবো বল?তোকে কোনো দিন জব্দ করার কোনো সুযোগ পায়নি।আজ পেলাম তাই ছাড় দিতে ইচ্ছে করলো না। তো কেসা লাগা মেরা মাজাক।(পিয়াস হাসতে হাসতে)

বলছি।
বলেই আলিফ পিয়াসের পিছু ধাওয়া করলো।

ওদের দুষ্টামি দেখে সবাই হাসতে লাগলো।


হিয়াদের বাড়ি
পিউ মা!একটু পরেই বর যাত্রী চলে আসবে,,আর হিয়ামনি তৈরি হয়েছে!(হিমেল সাহেব)

আঙ্কেল আমি কিছুই জানি না।আমার তো এখন হাত পা ছড়িয়ে কাদতে ইচ্ছে করছে।(পিউ কাদো কাদো হয়ে)

কিন্তু কেনো মা?হিয়া চলে যাবে বলে।থাক মা কান্না করো না।(হিমেল সাহেব সান্তনা দিয়ে)

না আঙ্কেল।ওই জন্য তো বিদায়ের সময় কান্না করবো।এখন কান্না করলে বিদায়ে ওই অনুভূতিটা আসবে না।(পিউ অবাক হয়ে)

ও আচ্ছা।তাহলে কেনো কান্না করছো?(হিমেল সাহেব)

এই পর্যন্ত পার্লারের লোক হিয়াকে পাঁচ বার সাজিয়েছে।আর ও পাঁচ বারই সাজ ধুয়ে ফেলেছে।আপনি তো জানেনই বিয়ের সাজ দিতে কতক্ষন লাগে,কতো কষ্ট লাগে।(পিউ)

আমি কি জানবো মা বিয়ের সাজের কথা!(হিমেল সাহেব)

ও তাও তো ঠিক।আচ্ছা বাদ দিন।কিন্তু পার্লারের মেয়েদের এক একটার কান্না করার অবস্থা হয়ে গেছে।(পিউ)

কিন্তু ও এমন করছে কেনো?(হিমেল সাহেব)

এক বার বলছে সাজ অনেক ভারী হয়ে গেছে,একবার বলছে অনেক হালকা হয়ে গেছে,একবার বলছে লেহেঙ্গার সাথে মানায়নি,একবার বলছে জুয়েলারির সাথে মানায় নি।আঙ্কেল এখন কি করবো আমি?(পিউ)

আচ্ছা চলো আমি দেখছি।
বলেই হিমেল সাহেব আর পিউ হিয়ার রুমে গেলো।


হিয়ার রুমে
রুমে ঢুকেই হিমেল দেখলো পার্লার থেকে তিনজন লোক এসেছে আর এখন তাদের তিনজনই ফ্লোরে এক জন আরেকজনের কাধে হাত বসে আছে।দেখেই মনে হচ্ছে হিয়া তাদের অবস্থা নাজেহাল করে রেখেছে।আর উনি(হিয়া) নিশ্চিন্ত হয়ে লেহেঙ্গা পরে বিনা সাজ গয়নায় বেডে আসন পেতে বসে বসে ফোন টিপছে।

হিয়ামনি।(হিমেল সাহেব চিৎকার দিয়ে)

ওরে বাবা।(আমি বুকে থুথু দিয়ে)

এইভাবে কেউ ভয় দেখায়?একটু হলেই ফোনটা হাত থেকে পরে যাচ্ছিল এমনি কান্নাকাটি করে কমদামি একটা ফোন পেয়েছি।(আমি)

তুই এখনও তৈরি হোস নি। এখনও ফাজলামির মধ্যে আছিস?(হিমেল সাহেব)

আমি ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে আছি তখনই
পিয়া কোথা থেকে যেনো দৌঁড়ে এসে বললো
বর চলে এসেছে।

দেখ বর চলে এসেছে।আর তুই এখনও তৈরি হোস নি।(হিমেল সাহেব)

আমি অন্যদিকে মুখ করে আছি।যেনো আমার কোনো এক্সাইটমেন্ট নেই।

বরই তো এসেছে।(আমি🙄)

তোকে তো,,,আপনাদের ওকে সাজাতে হবে না খালি গয়না পরিয়ে দিন।(হিমেল সাহেব পার্লারের লোকদের)

কেল্লায়?আমি সেজে ছবি তুলবো না?(আমি ঠোঁট ফুলিয়ে)

সেই চিন্তা থাকলে আপনি তৈরি হতেন।এখন কোনো কথা না।আমার যেনো আর এখানে আসতে না হয়।(হিমেল সাহেব)

হিটলার বাবা।(আমি)

পরেই পার্লারের লোকেরা আমাকে গয়না পরিয়ে দিতে লাগলো,,পিউ আপু আর পিয়া বরের গেট ধরতে গেলো।


কিছুক্ষণ
আমি রুমে বসে আছি তখনই পিয়া আসলো।

জানিস তোর বর না দেখতে হেব্বি সুন্দর।(পিয়া)

আমি জানার কোনো ইচ্ছে নেই।(আমি)

তুইও না।এখন তারা খাবার খাচ্ছে একটু পরেই বিয়ে পড়ানো হবে।(পিয়া)

হুম।(আমি)

কিছুক্ষণ পর

কি হলো?কখন থেকে দেখছি ফোনের সাথে যুদ্ধ করছিস।কি হয়েছে?(আমি ভ্রু কুঁচকে)

আকাশকে ফোন করার চেষ্টা করছি। ও গায়ে হলুদের আগে থেকেই ফোন বন্ধ করে বলছে,,

ও আসলে আমার ব্যাক আপ প্ল্যানের কি হবে?(আমি মনে মনে)

এতো শান্ত লাগছে কেনো ওকে?নিশ্চয়ই কিছু প্ল্যান করছে।(পিয়া সন্দেহের দৃষ্টিতে মনে মনে)


এক ঘন্টা পর
এই এক ঘন্টা পুতুলের মতো স্টেজে বসে আছি।একের পর একজন এসে ছবি আর সেলফি তুলে যাচ্ছে।আমি কোনদিনই এতো ধৈর্য্যশীল ছিলাম না।আমার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।আমার বরকে অন্য জায়গাতে বসানো হয়েছে।আমাকে এখানে আনা হয়েছে ছবি তোলার জন্য।তারপর আবার রুমে চলে যাবো সেখানেই বিয়ে পরাবে।অন্যসময় হলে সব কিছু উল্টে পাল্টে চলে যেতাম কিন্তু এখন কিছুই করতে পারছি না।

পিয়া আমি একটু ওয়াশরুমে যাবো।একটু চল।(আমি ফিস ফিস করে)

এখন?(পিয়া)

প্রকৃতির ডাক তোকে বলে আসবে তো।যাবি নাকি বল।(আমি রেগে)

হুম হুম।চল।(পিয়া)

পরেই আমি আর পিয়া ওয়াশরুমে চলে গেলাম।আমি ওয়াশরুমের ভিতরে ঢুকে বসে আছি। এখান থেকে আর সহজে বের হচ্ছি না।বের হলেই আপু একটা ছবি তুলি,একটা সেলফি তুলি বলে সবাই ঘিরে ধরবে।এর চেয়ে ভালো বিয়ের আগ পর্যন্ত এখানেই বসে থাকি।
পিয়া বাহিরেই দাড়িয়ে ছিলো।অনেকক্ষন হলো হিয়া ভিতরে গেছে। ও এতক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে হিয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। তখনই পিউ এসে,,

এই ফুলের ঝুড়িটা রাখ।বেশি হয়েছে ফুল গুলো। স্টোর রুমে রেখে দিস।
বলেই ফুলের ঝুড়িটা দিয়ে চলে গেল।

পিয়া ফুলের ঝুড়ি নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো তখনই একটা ছেলে দৌড়ে এসে পিয়ার সাথে ধাক্কা খেল।পিয়া ধাক্কা খেয়ে নিচে পরে যেতে লাগলো তখনই ছেলে ওকে কোমর চেপে জড়িয়ে ধরলো আর ফুল গুলো ওদের উপর পড়ল,,খুবই রোমান্টিক একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো।তখনই রোমাঞ্চ এর বারোটা বাজাতে এন্ট্রি নিলো হিয়া,,
আমি ওয়াশরুম থেকে বেরিয়েই দেখি বাহিরে পিয়া আর একটা ছেলে একে অপরকে ধরে আছে,, তাও আবার চোখে চোখ রেখে।এই রোমান্টিক দৃশ্য দেখে আমি ভ্রু কুঁচকে,,

লা লা লালা,,লা লা লালা।(আমি গাইতে গাইতে)

আমার কাক কণ্ঠের গান শুনে তারা একে অপরকে ছেড়ে দূরে সরে আসলো,,

আসলো এতো রোমান্টিক পরিস্থিতি ছিল গান না দিলে ভালো দেখায় না।তাই নিজে থেকে একটু ছোটো প্রয়াস করলাম।(আমি ভ্রু উচুঁ করে)

আপনি আসলে ভাবী তাই না?(ছেলেটা)

না আমি হিয়া।এখনও ভাবীর পদে আমার প্রমোশন হয়নি।(আমি)

ছেলেটা হেসে বললো
আমি পিয়াস।যেহেতু আপনার ভাবী পদে এখনও প্রমোশন হয়নি তাই আমি আপনাকে হিয়ামনি বলেই ডাকি।যদি মাইন্ড না করেন।

একমাত্র আমার বাবাই আমাকে হিয়া মনি বলে ডাকে। যাই হোক আপনি ডাকলেও সমস্যা নেই (আমি)

আমরা কথা বলছি তখনই কেউ একজন এসে বললো বিয়ের জন্য আমাকে ডাকা হচ্ছে,,
এসে পড়েছে বলি হওয়ার সময়।চল।
বলেই পিয়ার দিকে তাকাতেই দেখি ও লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।

হইছে আর লজ্জা পেতে হবে না।বিয়ে হচ্ছে আমার লজ্জা পাচ্ছিস তুই।এমন চলতে থাকলে নিজের কাছে নিজেই নির্লজ্জ হবো।
বলেই পিয়াকে নিয়ে রুমের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।

সত্যি আলিফ।এইবার তুই নিজের মন হারবি।আমি শিওর।
বলেই পিয়াসও ওদের পিছু পিছু গেলো।


বিয়ের সময়
কাজী সাহেব কি যেনো হাবিজাবি বলে আমাকে বললো,,
বলো মা কবুল।(কাজী)

না বলবো না।(আমি)

আমার এমন হটাৎ উত্তরে উনি খুবই অবাক হয়ে গেল।উনি কেনো সেখানে থাকা সবাই অনেক অবাক হয়ে গেল।আমার বাবা তো মাথায় হাত দিয়ে বসেই পড়লেন।

কেনো মা?তুমি কি এই বিয়েতে রাজি না!(কাজী)

রাজি তো।তবে আমার কিছু শর্ত আছে।আমার বর মশাইকে আসতে বলুন তার সাথে আমার কথা আছে।(আমি)

এইমেয়ে আমার মান সম্মান যা আছে ডুবাবে।(হিমেল সাহেব মনে মনে)

হিমেল সাহেব হিয়াকে কিছু বলতে যাবে তখনই রামিম সাহেব উনাকে আটকিয়ে,,
আপনার আর আমাদের যা করার ছিলো করেছি।এখন আমাদের ছেলে মেয়েদের বুঝতে দেন।জীবনে অনেক সিদ্ধান্ত ওদের একসাথে নিতে হবে।সব সময় ওদের সিদ্ধান্ত এ আমি বা আপনি থাকবো না।(রামিম)

পরেই হিমেল সাহেব দাড়িয়ে গেলো।

আলিশা ভাইকে ডেকে আনো।(রামিম সাহেব)

আনতে হবে না আমি নিজেই চলে এসেছি।
বলেই আলিফ রুমে ঢুকলো।আর পিয়াস দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ও গিয়েই আলিফকে ডেকে নিয়ে এসেছে।
পিয়াস দাড়িয়ে আছে আর ওর সামনেই পিয়া ভয়ে থরথর করে কাপছে।

তুমি কাপছ কেনো?(পিয়াস পিয়ার কানে ফিসফিস করে)

আপনি জানেন না।কিন্তু আমি জানি হিয়া নির্ঘাত কিছু করবে।কিন্তু এখন আমি কি করে এত বড় ধমাকা সামাল দিবো।(পিয়া তুতলিয়ে)

পিয়াস পিয়ার মাথায় হাত রেখে বলল,,
এখন নিজের কাজ থেকে বিরতি নাও।কারণ তোমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে সামাল দেয়ার জন্য আমার বেস্ট ফ্রেন্ড চলে এসেছে।(পিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে)

পিয়া অবাক হয়ে পিয়াসের দিকে তাকিয়ে আছে।পরেই লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললো।


আমি উনার কণ্ঠ শুনে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি একটা তাল গাছ সমান অতি সুদর্শন পুরুষ এসে দাড়ালো। চেহারাটা আমার চেনা চেনা লাগছে।কিন্তু কোথায় দেখেছি মনে পড়ছে না।

আমি এসে পড়েছি।কি কথা আছে তোমার বলো!(আলিফ মুচকি হাসি দিয়ে)

আপনি?(আমি অবাক হয়ে)

যাক।মনে আছে তাহলে আমার কথা।(আলিফ মনে মনে খুশি হয়ে)

আপনি কে?আমি তো বরকে ডেকেছি?(আমি ভ্রু কুঁচকে🧐)

আলিফ হিয়ার কথা শুনে নিরাশ হয়ে গেলো।
সবাই বলতো আমার এমন চেহারা যে একবার দেখে সে কখনও ভুলে না।আর এদিকে এই মেয়ে আমাকে চিনতেই পারছে না।(আলিফ নিরাশ হয়ে)

(((হিয়া কিন্তু আলিফকে ভালো করে দেখেনি।গাড়িতেও হিয়া আলিফকে আড় চোখে দেখেছে।তখনও আলিফ অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়েছিলো।তাই হিয়ার মনে করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে মনে পড়ে যাবে– লেখিকা)))

পিয়াস আলিফের নিরাশ চেহারা দেখে খুব কষ্টে নিজের হাসি আটকাচ্ছে।

আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কেউ কেউ তো আমার কথা শুনে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।

পাবেল আংকেল বাবাকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করছে,,,

এখন আমার মনে হচ্ছে কেউ যদি সিরিয়ালের ধুম তানানা,,ধুম তানানা মিউজিকটা বাজিয়ে দিতো। তা এই পরিস্থতিতে খুব ভালই লাগতো


চলবে,,,

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ