Friday, June 5, 2026







ঘুমন্ত রাজপরী_পর্ব(০৩)

ঘুমন্ত রাজপরী_পর্ব(০৩)

‘খুশি হয়েছি।’ ‘গলার স্বর কিন্তু কেমন শুকনাে-শুকনাে লাগছে।
এই বয়সে কি আর খুশিতে নেচে ওঠা ঠিক হবে? ‘খুশি হবার কোনাে বয়স নেই মা, যে-কোনাে বয়সে খুশি হওয়া যায়। ‘তা যায়।’
‘তুমি বাবার সঙ্গে চলে এসাে। ‘যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তাহলে চলে আসব। ‘সব ঠিকঠাকই থাকবে।
থাকলেই ভালাে। ‘মা, তােমার শরীর কি সত্যি-সত্যি সেরেছে? ‘হ্যা। ‘কিন্তু এমন করে কথা বলছ কেন? যেন কোনাে উৎসাহ পাচ্ছ না। একটু হাস তাে মা।
| তিনি হাসলেন। বেশ শব্দ করেই হাসলেন। আজ সারা দিনই তিনি খানিকটা বিষন্ন বােধ করছিলেন। সেই ভাবটা কেটে গেল। তিনি বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। সুন্দর রােদ উঠেছে। আকাশ অসম্ভব পরিষ্কার। রােদে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখতে তাঁর ভালাে লাগছে। বাতাস অবশ্যি খুব ঠাণ্ডা। সুচের মতাে গায়ে বেঁধে। ভেতর থেকে ওভারকোটটি নিয়ে এলে ভালাে হত। কিন্তু ভেতরে যেতে ইচ্ছে করছে না।
চোখ মেলতেই প্রিয় দৃশ্যটি দেখা গেল।
জানালার কাছে চায়ের কাপ। একটি চড়ুই পাখি কাপের কিনারায় বসে ঠোঁট ডুবিয়ে চা খাচ্ছে। মাঝে-মাঝে তাকাচ্ছে ফিরােজের দিকে। এই ব্যাপারটি প্রথম ঘটে। ডিসেম্বর মাসের ১১ তারিখে। চায়ের দোকান থেকে যথারীতি জানালার পাশে গরম চা রেখে ডাক দিয়েছে স্যার উঠেন। ফিরােজ ঘুম-ঘুম চোখে দেখেছে। হাত বাড়াতে বাড়াতে আবার ঘুম। ঘুম ভাঙল এগারটার দিকে কিচিরমিচির শব্দে। চায়ের কাপ ঘিরে পাঁচ-ছটা চড়ুই পাখি। মহানন্দে কাপে ঠোঁট ডুবিয়ে কিচিরমিচির করছে। সেই থেকে রােজ হচ্ছে। পাখিগুলি মনে হয় অপেক্ষা করে থাকে কখন চা আসবে। সেই চা ঠাণ্ডা হবে। রােজ তাদের সে-সুযােগ হয় না। বিছানায় আধশােয়া হয়ে ফিরােজ কাপ টেনে নেয়। চুমুক দিয়ে মুখ বিকৃত। তিক্ত, কষা ও মধু—এই তিন স্বাদের সমাহার। ভােরের প্রথম শারীরিক আনন্দ।
আজ ফিরােজের কোনােই কাজ নেই। কোথাও যেতে হবে না। দেনদরবার করতে হবে না। সাধারণত যে-দিন কোনাে কাজ থাকে না, সে-দিন সূর্য ওঠার আগেই ঘুম ভেঙে যায়। কাজের দিনে কিছুতেই ঘুম ভাঙতে চায় না। মনে হয় আরাে খানিকক্ষণ শুয়ে থাকি। আজ উল্টো ব্যাপার ঘটল। কোনাে কাজকর্ম নেই, তবু বেশ খানিকক্ষণ ঘুমুনাে গেল। চড়ুই পাখিটি কৃতজ্ঞ চোখে তাকাচ্ছে।
তার সঙ্গীরা আজ কেউ আসে নি। এলেও চা-পর্ব সমাধা করে চলে গিয়েছে। এই ব্যাটা যাচ্ছে না। হিন্দি ভাষায় ফিরােজ পাখিটির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চালাল। পশু পাখিরা বাংলা ভাষাটা তেমন বােঝে না। | ‘কেয়া ভাই চিড়িয়া, হালত কেয়া?
‘চিকির চিকির চিক।
২০
‘চিনি উনি সব ঠিক থা? ‘চিকির চিকির। ‘আউর এক দফা হােগা কেয়া নেহি? ‘চিক চিকির চিকির।
ফিরােজের ধারণা, পাখিরা মাের্স কোডে কথা বলে। চিকির এবং চিক এই দু’টি শব্দই নানান পারমুটেশন কম্বিনেশনে বেরিয়ে আসছে। এই বিষয়ে একটা গবেষণা হওয়া উচিত। সময় থাকলে দু-একজন পক্ষীবিশারদের সাথে কথা বলা যেত। পশু পাখিদের ভাষাটা জানা থাকলে নিঃসঙ্গ মানুষদের বড় সুবিধে হত।।
ফিরােজ টুথপেস্ট হাতে বারান্দায় এল। তার ঘর দোতলায়। একটি শােবার ঘর। জানালাবিহীন অন্য একটি কামরা এক শ’ ওয়াটের বাতি জ্বাললেও অন্ধকার হয়ে থাকে। সেই ঘরের উল্টো দিকে বাথরুম, যা অন্য এক জন ভাড়াটে রমিজ সাহেবের সঙ্গে শেয়ার করতে হয়। অত্যন্ত আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, যখনি ফিরােজের বাথরুমে যাবার দরকার হয়, তখনি রমিজ সাহেবকে বাথরুমের ভেতর পাওয়া যায়। ভদ্রলােকের ব্যাপার সব অদ্ভুত। বাথরুমে এক বার ঢুকলে আর বেরুবেন না। ফিরােজের ধারণা, বসে থাকতে-থাকতে ভদ্রলােক ঘুমিয়ে পড়েন।
এই যে ব্রাদার, অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। রমিজ সাহেব খুকখুক করে দু’ বার কাশলেন। ‘আজ অফিসে যান নি? এগারটা বাজে, এখনাে বাথরুমে বসে আছেন?
আবার খুকখুক কাশি। নাক ঝাড়ার শব্দ।
বেরিয়ে আসুন ভাই। খানিকক্ষণ পর না-হয় নতুন উদ্যমে আবার যাবেন। বাথরুম তাে পালিয়ে যাচ্ছে না।’
রমিজ সাহেব ভয়ঙ্কর বিরক্ত হয়ে বের হয়ে এলেন। কড়া গলায় বললেন, ‘রােজ রােজ এইসব কী বাজে কথা বলেন ?
“বাজে কথা কি বললাম?
‘এইসব আমি পছন্দ করি না। খুবই অপছন্দ করি। দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন কেন? এইটা কী ধরনের ভদ্রতা? ‘আজ কিন্তু ধাক্কা দিই নি।
অভদ্র ছােকরা।
রমিজ সাহেব রাগে গরগর করতে-করতে নিজের ঘরে গেলেন। ভদ্রলােক সম্ভবত অসুস্থ। গলায় মােটা মাফলার। চোখমুখ ফোলাফোলা। অফিসেও যান নি। ফিরােজ কিঞ্চিৎ লজ্জিত বােধ করল। এক জন অসুস্থ মানুষকে নিয়ে রসিকতা করা ঠিক হচ্ছে না। রসিকতার প্রচুর বিষয় আছে। | বেরুতে-বেরুতে সাড়ে বারটা বেজে গেল। একতলার বারান্দায় বাড়িওয়ালা বসে আছেন। আজ তাঁকে দেখে চট করে সরে যাওয়ার প্রয়ােজন নেই। দু’ মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি ছিল। গত সপ্তাহেই সেটা দিয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়িওয়ালার ছােট মেয়েটির জন্যে সে এক জন পাত্রের খোঁজে আছে, এমনও বলেছে। এটা বলার দরকার ছিল। কারণ বাড়িওয়ালা হাজি আসমত আলি ওপরের দু’ জন ভাড়াটেকে। উৎখাত করতে চাইছেন। সেখানে নাকি তাঁর বড় জামাই আসবেন। বড় জামাইয়ের
চাকরি নেই। বাড়িভাড়া দিয়ে থাকতে পারছেন না। চাকরিবাকরির কোনাে ব্যবস্থানা হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকবেন।
ফিরােজ আঁতকে উঠে বলেছে, খাল কেটে লােকজন কুমির আনে, আপনি তাে হাঙর আনার ব্যবস্থা করছেন। জামাই এক বার ঢুকলে উপায় আছে?
হাজি আসমত আলি বলেছেন, “করব কী তাহলে, ফেলে দেব?’
‘অফকোর্স ফেলে দেবেন। জামাই, শালা এবং ভাগ্নে—এই তিন জিনিসকে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না যদি বাঁচতে চান।
‘আপনি সবসময় বড় আজেবাজে কথা বলেন।
কোন কথাটা আজেবাজে বললাম?”
এই নিয়ে আপনার সঙ্গে বকবক করতে চাই না। আপনি ভাই ডিসেম্বর মাসের ত্রিশ তারিখে বাড়ি ছেড়ে দেবেন। এক মাসের নােটিশ দেবার কথা দিলাম।
‘আচ্ছা, ছেড়ে দেব। ঊনত্রিশ তারিখেই ছেড়ে দেব। এক দিন আগে।
মেয়ে বিয়ের প্রসঙ্গ এর পরপরই ফিরােজকে আনতে হয়েছে। কাল্পনিক এক পাত্র দাঁড় করাতে হয়েছে। এই ব্যাপারে হাজি সাহেব যে-আগ্রহ দেখাবেন বলে আশা করা গিয়েছিল, তার চেয়েও বেশি দেখালেন। ফিরােজ যথাযোেগ্য গাম্ভীর্যের সঙ্গে বলল, ছেলে এম এ পাশ করেছে গত বছর। ফার্স্ট ক্লাস পাওয়ার কথা ছিল, পায় নি। সেকেণ্ড ক্লাস ফোর্থ হয়েছে। একটা পেপার খুবই খারাপ করেছে। দেখতে রাজপুত্র নয়, সেটা আগেই বলে দিচ্ছি। চেহারা মােটামুটি, তবে ভালাে ফ্যামিলির ছেলে। ঢাকায় নিজের বাড়ি। পুরনাে ধরনের বাড়ি। তবে ময়মনসিংহ শহরে বিরাট বাড়ি। চার বােন তিন ভাই। ছােট বােনের বিয়ে হয় নি। ভাইরা সবাই স্ট্যাব্লিশড।
‘ছেলে করে কী?’ | ‘এখনাে কিছু করে না। মাত্র তাে পাস করল। তবে পারিবারিক অবস্থা যা, কিছুনা করলেও হেসে-খেলে দু’-তিন পুরুষ কেটে যাবে।’
ওদের সঙ্গে আপনার পরিচয় কীভাবে? ‘আমার আপন ফুপাতাে ভাই। আপনি আপনার মেয়ের একটি ছবি দিয়ে দেবেন, বাকি যা করার আমি করব। আরাে ছেলে আছে আমার হাতে, নাে প্রবলেম। ভালাে কথা, ব্ল্যাক এ্যাণ্ড হােয়াইট এবং কালার—দু’ ধরনের ছবিই দেবেন।’
“আচ্ছা দেব। ছবি দেব। যদি মেয়ে দেখতে চান, কোনাে অসুবিধা নাই, যেখানে বলবেন। কালার ছবি ঘরে নাই, স্টুডিওতে তুলতে হবে।
‘তুলে ফেলুন। কালারের যুগ এখন।
বিয়ের ঐ আলাপ-আলােচনার পর বাড়ি ছাড়ার প্রসঙ্গ চাপা পড়ে গেল। দু মাসের ভাড়াও হাজি সাহেব চাওয়া বন্ধ করলেন। অবশ্যি ভাড়া দিয়ে দেয়া হয়েছে, তবু মনে সন্দেহ, আবার বাড়ি ছাড়ার প্রসঙ্গ ওঠে কি না।’
হাজি সাহেব ফিরােজকে বেরুতে দেখেও কিছু বললেন না। বিষন্ন ভঙ্গিতে বসে রইলেন। ফিরােজ এগিয়ে এল, রােদ পােহাচ্ছেন?
খুব ভালাে, শরীরে ভিটামিন সি প্রডিউস হচ্ছে।’ ঐ ছেলের ব্যাপারে তাে আর কোনাে খবর দিলেন না।
ছবি? ছবি চাচ্ছে তাে!’ ছবি তাে তুলে রেখেছি। চান না, তাই…… ‘কী মুশকিল, চাইব না কেন। যান, নিয়ে আসুন। আজ ছেলের বড় ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা হবার সম্ভাবনা আছে। দেখা যে হবেই তা বলছি না—একটা প্রবাবিলিটি।
ছবি দেখে ফিরােজের মন উদাস হয়ে গেল। ভারি মিষ্টি চেহারার একটি মেয়ে। চোখ ছলছল করছে। হাজি সাহেবের মেয়েগুলি বােরকা পরে। ফিরােজ কখনাে এদের মুখ দেখে নি। ভাগ্যিস দেখে নি। দেখলেই এই বােরকাওয়ালির প্রেমে পড়ে যেতে হত।
আপনার মেয়ে তাে খুবই রূপবতী।’
হাজি সাহেব কিছুই বললেন না। ফিরােজ বলল, ‘এই রকম একটা মেয়ের বিয়ে নিয়ে কেউ চিন্তা করে? আশ্চর্য!
হাজি সাহেব ক্লান্ত গলায় বললেন, ‘অন্য সমস্যা আছে।
কী সমস্যা? ‘ওর পায়ে একটু দোষ আছে।” ‘কী দোষ? ‘পােলিও হয়েছিল।
বলেন কী। ‘হাঁটা-চলায় কোনাে অসুবিধা নাই কিন্তু।
ফিরােজের অসম্ভব মন খারাপ হয়ে গেল। তার প্রচণ্ড ইচ্ছে হতে লাগল বলে ফেলে—আমি এই মেয়েকে বিয়ে করতে চাই। শেষ পর্যন্ত বলল না। তার আবেগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
‘আমি টাকাপয়সা যথেষ্ট খরচ করব। এই মেয়েটা আমার খুব আদরের। যদি একটা ভালাে ছেলে দিতে পারেন।’
‘আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।
ফিরােজ লম্বা-লম্বা পা ফেলে বেরিয়ে গেল। যদিও তার খুব মন-খারাপ ছিল, রাস্তায় নেমে মন ভালাে হয়ে গেল। কী সুন্দর ঝকঝকে রােদ। ঘন নীল আকাশ। বাতাস কত মধুর। বেঁচে থাকার মতাে আনন্দ আর কী হতে পারে?
| ফিরােজ হাঁটছে ফুর্তির ভঙ্গিতে। কোনাে কাজকর্ম নেই, চিন্তা করতেই ভালাে লাগছে। যদিও উল্টোটাই হওয়া উচিত ছিল। তার ফুতির মূল কারণ হচ্ছে পকেট একেবারে ফাঁকা নয়। আট শ’ ত্রিশ টাকা আছে। এতগুলাে টাকা পকেটে নিয়ে শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করার কোনাে মানে হয় না। দুশ্চিন্তা মানেই পেপটিক আলসার, ক্ষুধামান্দ্য, অনিদ্রা। তারচেয়ে হাসিমুখে ঢাকার রাস্তায় হাঁটা অনেক ভালাে।
ঢাকার রাস্তাগুলি এখন বেশ সুন্দর। হেঁটে বেড়ানাের জন্যে এবং ভিক্ষা করবার জন্যে আদর্শ। ফুটপাতে ভিক্ষুকরা কী সুন্দর ঘর-সংসার সাজিয়ে ভিক্ষা করছে।
| ফিরােজ এই মুহূর্তে কৌতূহলী হয়ে একটি ভিক্ষুক-পরিবারকে দেখছে। এক বুড়াে তার দু পাশে দুটি ছােট-ছােট বাচ্চাকে নিয়ে ভিক্ষা করছে। তাদের একটু পিছনেই ইটের চুলায় রান্না হচ্ছে। ঘােমটা-দেয়া গৃহস্থ প্যাটার্নের একটি মেয়ে মাটির
হাঁড়িতে চাল দিচ্ছে। এই পরিবারটির চোখে-মুখে দুঃখ-বেদনার কোনাে ছাপ নেই। বরং বুড়াের মুখে একটা প্রশান্তির ভাব আছে। বাচ্চা দুটি একটু পর-পর দাত বের করে হাসছে। ফিরােজ কী মনে করে একটা চকচকে পাঁচ টাকার নােট বুড়াের থালায় ফেলে দিল। ভিখিরিরা এই জাতীয় ঘটনায় আবেগে উদ্বেলিত হয়। এই বুড়াে নিস্পৃহ ভঙ্গিতে নােটটা নিজের বুকপকেটে রেখে দিল। খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। থালায় একটি নােট থাকলে পয়সাকড়ি পড়বে না। ফিরােজের আফসােসের সীমা রইল না। টাকাটা জুলে গেল। দাতা সাজবার কোনাে প্রয়ােজন ছিল না। অদূর ভবিষ্যতে তাকে যদি এ রকম টিনের থালা নিয়ে বসতে হয় এবং কেউ যদি একটা পাঁচ টাকার নােট ফেলে দেয়, তাহলে সে আনন্দের এমন প্রকাশ দেখাবে যে চারদিকে লােক জমে যাবে। দর্শকদের আনন্দের জন্যে সে বাঁদর-লাফ দিতেও রাজি আছে।
| বাচ্চা দুটির মধ্যে কী-কারণে যেন মারামারি লেগে গেছে। দু জনই এলােপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারছে। এক জন মনে হচ্ছে খামচিবিশারদ। একেক বার খামচি দিয়ে ছাল চামড়া নিয়ে আসছে। জমাট দৃশ্য। কিন্তু বুড়াের এই দৃশ্যেও কোনাে ভাবান্তর হচ্ছে না! সন্ন্যাসীর নির্লিপ্ততা নিয়ে সে বসে আছে, রন্ধনরতা ঘােমটা দেয়া মেয়েটিও কিছু বলছে
ফিরােজের ইচ্ছে করছে একটু দূরে দাঁড়িয়ে এই পরিবারটিকে দেখে-দেখে দুপুরটা কাটিয়ে দেয়। সেটা করা ঠিক হবে না। লােকে অন্য অর্থ করবে। যে-মেয়েটি রাঁধছে তার বয়স অল্প। মুখে লাবণ্য এখনাে খানিকটা আছে। এই মেয়ের আশেপাশে দীর্ঘ সময় থাকার একটি মানেই হয়। বুড়াে যে পাঁচটি টাকা পেয়েও বিরস মুখে বসে রইল তার মানেও এই। বুড়াে অন্য কিছু ভেবে বসেছে। ফিরােজ মগবাজারের দিকে লম্বা-লম্বা পা ফেলতে লাগল। এখন সে যাবে তাজিনদের বাসায়। তাজিন তার বড় বােন। মগবাজার ওয়ারলেস কলােনিতে থাকে। ফিরােজের যখন টাকাপয়সার টানাটানি হয় তখন দুপুরে এই বাড়িতে খেতে আসে। | ‘কেমন আছিস রে আপা? তাের পুত্র-কন্যারা কোথায়? বাসা একেবারে খালি মনে হচ্ছে।
তাজিন মুখ অন্ধকার করে রাখল। হয়েছে কী? কথা বলছিস না কেন? কর্তার সঙ্গে আবার ফাইটিং? তাজিন থমথমে গলায় বলল, ‘তুই কি একটা মানুষ, না অন্য কিছু?
কেন? ‘রুমি এত করে বলে দিল তার জন্মদিনে আসার জন্যে, তুই আসতে পারলি না? মেয়ে কাঁদতে-কাঁদতে অস্থির। বাচ্চাগুলি তােকে এত পছন্দ করে, আর তুই এ-রকম করিস? ভালবাসার দাম দিতে হয় না?
“খুব কেদেছিল?
‘জিনিসপত্র ফেলে-ছড়িয়ে একাকার করেছে, শেষে তাের দুলাভাইকে পাঠালাম তাের খোঁজে।
‘আপা, হয়েছে কি জান…… আমাদের এক কলিগ…… ‘চুপ কর, আর মিথ্যা কথা বলতে হবে না। ভাত খেতে এসেছিস, খেয়ে বিদায়
‘আজ তােদের রান্না কী? তাজিন জবাব না দিয়ে টেবিলে ভাত বাড়তে লাগল। ‘তােদের টেলিফোন ঠিক আছে আপা? ‘আছে।’
‘তুই রেডি কর সবকিছু, আমি টেলিফোন করে আসছি। দারুণ একটা খবর আছে। আগামী সপ্তাহে বিয়ে করছি।”
এই দারুণ খবরেও তাজিনকে বিচলিত মনে হল না। ‘বিশ্বাস হচ্ছে না? এই নে, মেয়ের ছবি দেখ। কি, এখন বিশ্বাস হচ্ছে?”
ফিরােজ টেলিফোন করতে গেল। বি: করিম সাহেবকে জিজ্ঞেস করবে, মতিন কাজটা করেছে কি না। বি করিম সাহেবকে পাওয়া গেল। তিনি অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বললেন, ‘কে, ফিরােজ সাহেব নাকি?

চলবে….

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ