#নিষ্ঠুর_নিয়তি
১ম -পর্ব
Kzal Mithun
মেয়ের খুব কাছের বান্ধবীর মা মারা গেছে কয়েকদিন হলো । এতে আমার মেয়ের মনটা বেশ খারাপ হয়ে আছে । আমারও খুব খারাপ লাগছে । আহারে – ভাবিটা দুইটা বাচ্চা রেখে মারা গেলো । উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন । সারাক্ষন ভাবির মুখে হাসি লেগেই থাকতো । শুনেছিলাম ভাবিরা নতুন ফ্লাট কিনেছে । সামনের মাসেই ওদের নতুন বাসায় উঠার কথা ছিলো । নিজের হাতে বাসা সাজিয়েছিলো ভাবি । আমাদের সাথে দেখা হলেই ভাবি তার নতুন ফ্লাটের গল্প করতো।এটা কিনেছি , ওটা কিনেছি বাসার জন্য । দামি দামি সব ফার্নিচার কিনেছি বুজছো ? আরো বলতো – আমার নতুন বাসায় উঠার পর ,তোমাদের সবাইকে একদিন দাওয়াত করে খাওয়াবো । বুক চিরে একটা দীর্ঘনিশ্বাস বেরিয়ে এলো আমার ! আহারে – ভাবির সখটা আর পুরন হলো না ! হঠাৎ করে উনি স্ট্রোক করে মারা গেলো ।
তবে ,ভাবির এই মৃত্যু নিয়ে অনেকে একটু কানাঘুসা করে । কেউ বলে , ভাবির হাসব্যান্ডের উপর রাগ আর অভিমান করে নাকি ভাবি অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেছিলো । আবার কেউ বলে ভাবি নাকি গলায় ফাঁস নিয়েছিলো । কিন্তু ভাবির হাসব্যান্ড স্ট্রোক বলে চালিয়ে দিয়েছে । কি জানি ? কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে ? আল্লাহ ভালো জানেন ।
প্রতিদিন আমার মেয়ে ওর বান্ধবীর খোঁজ নিচ্ছে । আমিও রান্না করে মাঝে মধ্যে ওর বান্ধবীর বাসায় পাঠাচ্ছি । আমার মেয়ে ভার্সিটিতে পড়ে । ওর বান্ধবী অবশ্য অন্য একটা কলেজে অনার্স পড়ছে । আর ওর বান্ধবীর ভাইটা এবার কলেজ পাস করলো । মায়া লাগে বাচ্চা দুইটার জন্য । এই বয়সে ওরা মাকে হারালো । আল্লাহ ওদের সহায় হউন । ভাবির হাসব্যান্ডের নিজের ব্যবসা আছে । আর্থিক দিক দিয়ে ওরা বেশ সচ্ছল ।
দিন পনেরো পর , আমি আমার ছেলেকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে বাসার দিকে ফিরছিলাম । হঠাৎ দেখি – ভাবির হাসব্যান্ড একটা ছোট মেয়ে বাচ্চা সহ এক মহিলার সাথে করে আরেকটা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলাম শিউর হওয়ার জন্য । হ্যা ! ঠিকই তো দেখছি । মনে মনে ভাবলাম – হয়তো আত্মীয় হতে পারে । এ মুহুর্তে আমি নেগেটিভ কিছু ভাবতে চাচ্ছি না । তবে স্কুলের নামটা মনে রাখলাম ।
বাসায় এসে আমার মেয়েকে ওর বান্ধবীর খোঁজ নিতে বললাম । জিজ্ঞেস করতে বললাম ঔ সকুলে ওদের কোনো আত্মীয়ের বাচ্চা পড়ে কি না ? মেয়ের বান্ধবী না বললো । আমি বিষয়টা চেপে গেলাম । কাল আমার মেয়ের জন্মদিন । মেয়েকে বললাম ওর বান্ধবীকে বাসায় ডাকতে ।জন্মদিন উপলক্ষে কোনো আয়োজন করলাম না । শুধু মেয়ের কয়েকজন কাছের বান্ধবীকে বাসায় ডাকলাম । যাতে ওরা কয়েকজন মিলে ওর মন ভালো করে দিতে পারে ।
পরদিন বিকেলে আমার মেয়ের বান্ধবীরা ঠিক সময়ে চলে এলো । কিন্তু ঐ মা মরা মেয়েটা( পায়েল ওর নাম )তখনও আসিনি ।ভাবলাম – হয়তো বাচ্চাটার মন খারাপ সেজন্য আসবে না । কিন্তু আমার মেয়ের সাথে ওর অন্য বান্ধবীরা কি একটা বিষয় নিয়ে দেখলাম চুপিচুপি কথা বলছে । আমি গেলেই চুপ হয়ে যাচ্ছে ।একটু সন্দেহ হলো আমার । মেয়েকে পাশের রুমে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম – কি ব্যাপার বলতো ? তোরা কিছু একটা লুকাচ্ছিস মনে হচ্ছে ? বল আমাকে কি হয়েছে ? আমার মেয়ে কিছু একটা বলতে যাবে – ঠিক তখনই বাসার কলিং বেলটা বাজলো ।
আমি দরজা খুলতে যাবো – আমার মেয়ে আমাকে যেতে দিলো না । তড়িঘড়ি করে বললো – আম্মু ! তুমি থাকো , আমি যাচ্ছি । বলেই সে দ্রুত চলে গেলো দরজা খুলতে । মনে মনে আশ্বস্ত হলাম । যাক্ ! পায়েলটা তাহলে আসলো শেষ পর্যন্ত ! মেয়ে হয়তো সেই খুশিতেই নিজে গেলো দরজা খুলতে ।
আমি দশ পনেরো মিনিট অপেক্ষা করলাম । কৈ !পায়েল তো আমার সাথে দেখা করতে ভিতরে এলো না ! হয়তো মেয়েটার মনটা বেশিই খারাপ । মাত্র ক’দিন হলো ওর মাটা মারা গেছে । তাই হয়তো চুপচাপ আছে । নিজেই এগুলাম ড্রইংরুমের দিকে পায়েলের সাথে দেখা করার জন্য । যাই , বাচ্চাটাকে একটু সান্তনা দিয়ে আসি । একটু এগোতেই একটা পুরুষ কন্ঠ কানে এলো আমার । একি ! পুরুষ কন্ঠ কার ? ওর বাবা তো বাসায় নেই । ছেলেও কোচিং এ । তাহলে কে কথা বলছে । আমার মেয়ের তো কোনো ছেলে বন্ধুও আসার কথা না ? তাছাড়া আমার মেয়ের কোনো ছেলে বন্ধুও নেই । কৌতুহলি হয়ে ড্রইংরুমের পর্দা সরিয়ে আৎকে উঠলাম !
রোগা পাতলা একটা ছেলের পাশে খুব ঘনিষ্ট হয়ে সোফায় বসে আছে পায়েল । পায়েলের পোষাকটাও খুব দৃষ্টিকটু । অন্যান্য বান্ধবীরা চোখ ইশারা দিয়ে দুষ্টুমি করছে পায়েল আর ঐ ছেলের সাথে । আমার মেয়ের মুখটা ভয়ানক শুকিয়ে গেছে ভয়ে । হাত নেড়ে খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে পায়েলকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করছে দেখলাম ।
আমার তো রাগে সারা শরির জ্বলতে লাগলো । এতোবড় স্পর্ধা এই মেয়ের ? বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আমার বাসায় এসে হাজির হয়েছে ! অথচ ওর মা বলতো – ভাবি আমার মেয়ে এ যুগের মতো এতো ফাস্ট না বুঝছো ? ওসব প্রেম ট্রেমের কিচছু বোঝে না আমার মেয়ে ।এখন এসব কি দেখছি ? ওর মা মারা গেছে মাত্র কয়েকদিন হলো ! এর মধ্যেই এই মেয়ে এতদুর পৌছে গেছে ?
ড্রইংরুমে না ঢুকে আড়াল থেকে আমার মেয়েকে কড়া গলায় জোরে ডাক দিলাম । আশ্চর্য ! এক ডাকে আমার মেয়ে আসলো না । রাগে আমার শরির কাঁপতে লাগলো । একটু অপেক্ষা করে আবার ডাকলাম। এবার এক ছুটে সে আমার রুমে আসলো ।আমি কিছু বলার আগেই সে বললো – আম্মু ! ওরা চলে গেছে । একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম – সবাই চলে গেছে মানে ? আমার মেয়ে বললো – তুমি রাগ করবা বলে আমি ওদেরকে তানিদের বাসায় যেতে বলেছি । আশ্চর্য ! ওদেরকে না খেয়ে চলে যেতে বললি কেনো ? ধমক দিলাম মেয়েকে । কি করবো বলো ? তুমি তো আর পায়েলের বয় ফ্রেন্ডকে আমাদের বাসায় এ্যালাউ করবা না ।
আজব কথা তো ? পায়েলের মা মারা গেছে মাত্র কয়েকদিন হলো – এরই মধ্যে মেয়েটা বয় ফ্রেন্ড নিয়ে বান্ধবীদের বাসায় যাতায়াত শুরু করে দিয়েছে ? আর এটা আমি প্রশ্রয় দিবো তুই ভাবলি কি করে ? তুই কি আগে থেকে জানতিস যে এই মেয়ে প্রেম করে ? জানলে আমাকে জানালি না কেনো ? রেগে গেলাম আমি ।
আশ্চর্য ! সব কথা তোমাকে কেনো বলতে হবে আম্মু ? আমি তো এখন বড় হয়েছি তাই না ! আর পায়েল প্রেম করে এটা তোমার কাছে বলার কি হলো ? বলেই মেয়ে মুখ ঝামটা দিয়ে চলে গেলো । মেয়ের কথায় একটু আহত হলাম আমি । ইদানিং দেখছি বেশ মুখে মুখে তর্ক করছে মেয়েটা ।
পরদিনই শুনলাম পায়েল নাকি ঐ ছেলেকে বিয়ে করেছে । শুনে খুবই মর্মাহত হলাম । এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই শুনি , পায়েলের বাবাও বিয়ে করেছে । নতুন ফ্লাটে উঠেছে সেই বউকে নিয়ে । খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম – এই মহিলার সাথে নাকি পায়েলের বাবার অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ছিলো । আর এই বিষয়টা নিয়েই পায়েলের মার সাথে নাকি ওর বাবার ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো । তার মানে ভাবির মৃত্যুটা তাহলে আসলেই স্বাভাবিক ছিলো না । মনে মনে কষ্ট পেলাম ভাবির জন্য ।
ছেলেকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলাম একদিন । গিয়ে দেখি পায়েলের ভাইটাও একটা মেয়ের সাথে খুব আপত্তিকর অবস্থায় বসে সিগারেট টানছে। একটু পর পর মেয়েটা অসভ্যর মতো খিল খিল করে হাসছে আর ছেলেটার গায়ের মধ্যে ঢলে ঢলে পড়ছে। এসব দেখে কেমন জানি অস্থির লাগতে লাগলো আমার । দ্রুত ছেলেকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম আমি ।
হায়রে …! মহিলাটা মারা গেছে এক মাসও হয়নি । এরই মধ্যে স্বামী , সন্তানরা তাকে ভুলে গেলো ? তার সাজানো গোছানো সংসার , ছেলে মেয়ে সবই এখন অন্যের দখলে । কেউ তার কথা মনে রাখেনি । এতো দ্রুত কিভাবে সবাই ভুলে গেলো মানুষটাকে ! কাছের মানুষগুলো এতো নিষ্ঠুর হয় কেমন করে ?
আচ্ছা ! আমিও যদি এমন হঠাৎ করে মরে যাই , তাহলে কি আমার সন্তানরাও আমাকে এতো দ্রুত ভুলে যাবে ? আমার স্বামীও কি এক মাসের মাথায় আর একটা বিয়ে করবে ? এমনও হতে পারে – আমার হাসব্যান্ডও এখন অন্য কোনো মহিলার সাথে পরকীয়া করে যেটা আমি জানিনা । আচ্ছা ! আমার মেয়েও কি প্রেম করে ? আমি মরে গেলে আমার মেয়েও মনে হয় ওর বয় ফ্রেন্ডের হাত ধরে পালিয়ে যাবে । আর আমার এতো আদরের ছেলে ..? ও কি করবে ? ঔ নিশ্চয় ওর মাকে ভুলে যাবে । না না ! আমার ছেলে এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারবে না মনে হয় । কি জানি ? কিছুই ভাবতে পারছি না আমি ।
আমার এতো কাছের , এতো আপন মানুষগুলো আমি মরে গেলে এরা সবাই আমাকে ভুলে যাবে, এটা ভেবে আমি মনে মনে খুব অস্থিরতা বোধ করতে লাগলাম। তাহলে .. কেনো আমি এতো কষ্ট করছি ওদের জন্য ? সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এতটুকু বিশ্রাম নেই আমার । স্বামী , সংসার , সন্তানদের জন্য জীবনপাত করে চলেছি । ঠিকমতো খাই না , ঘুমাই না , কোথাও ঘুরতে যাই না । সারাদিন শুধু ছুটছি আর ছুটছি । তিনটা মানুষের তিনরকম পছন্দের খাবার রান্না করি আমি । আমি কি পছন্দ করে খেতাম , সেটাই আমি এখন ভুলে গেছি । শশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজন দের কোনোরকম একটু অযত্ন হলে হাসব্যান্ড কিন্তু কথা শুনাতে একটুও ছাড়ে না । অথচ ! আমার দিকে তার এতটুকু নজর নেই ।সারাক্ষন সে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত ।
এসব ভাবতে ভাবতে খুব অসুস্থ বোধ করতে লাগলাম আমি । সারা শরির ঘামতে শুরু করলো আমার । বোধহয় প্রেসারটা বেড়েছে । প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলো । বাসায় কেউ নেই তখন। ওরা তিনজনই বাইরে। গলাটা শুকিয়ে গেলো একদম । খুব পানি পিপাসা পেয়েছে। মাথায় পানি দিতে পারলে মনে হয় ভালো লাগতো । ইস ! মাথার ভিতরে ঘিলুগুলো মনে হচ্ছে টগবগ করে ফুটছে । বিছানা থেকে উঠে যে ডাইনিং পর্যন্ত বা ওয়াশরুমে যাবো , সেই শক্তি পাচ্ছি না । আহ্ ! কি ভয়ানক যন্ত্রনা !
ততাড়াহুড়া করে বিছানা থেকে নামতে যেয়ে পায়ে ওড়না বেধে মুখ থুবরে পড়ে গেলাম। মেঝেতে লেগে দাঁতের চাপে উপরের ঠোঁট থেতলে গেলো আমার । গল গল করে রক্ত পড়া শুরু করলো । ডান পাটা উল্টে গিয়ে ভয়ানকভাবে মট করে একটা শব্দ করলো । আল্লাহ জানে পায়ের হাডডি ভেঙে গেলো কি না । আল্লাহ গো বলে একটা শব্দ করে জ্ঞান হারালাম ।
যখন জ্ঞান ফিরলো তখন দেখি আমার পায়ে ব্যান্ডেজ করা । ঠোঁটে সেলাই লেগেছে দুটো । মুখটা অসম্ভব ফুলে গেছে । বাম হাত ব্যথায় নড়াতে পারছি না । সারা শরিরেও ভয়ানক ব্যথা । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত ১২ টার বেশি বাজে । আমার মাথার কাছে আমার মেয়ে আর পায়ের কাছে আমার ছেলে আর আমার হাসব্যান্ড বসে আছে । সবার মুখেই দুশ্চিন্তার ছাপ । ছেলের মুখে সব শুনলাম । আল্লাহ বাচিয়েছেন যে , সবার কাছে একটা করে চাবি থাকে । তা না হলে তো তোমাকে আজকে বাঁচানো যেতো না আম্মু ! কি আর হতো – তোর আম্মুটা মরে যেতো ! উপহাস করে বললাম আমি । কি যে সব আবোল তাবোল বল না তুমি ? যতসব বাজে কথা ! ধমক দিলো আমার হাসব্যান্ড । আমার ছেলেও বকা দিলো আমাকে ।
পরদিন আমার হাসব্যান্ড অফিসে গেলো না । আমার অসুস্থতার জন্য ছুটি নিলো । ছেলে মেয়েও বাসায় থাকলো । হাসব্যান্ড রান্না করে , ছেলে ওষুধ খাইয়ে দেয় , মেয়ে মুখে তুলে স্যুপ খাইয়ে দেয় আমাকে । সে কি যত্ন তিন জনের । অনেক বছর পর , সারাটা দিন স্বপ্নের মতো কেটে গেলো । বুকের উপর থেকে আমার একটা পাথর নেমে গেলো । ধ্যুর ! শুধু শুধু আজে বাজে ভাবনা ভেবে অযথা নিজের শরিরের বারোটা বাজালাম । ওরা কত ভালোবাসে আমাকে ।
ডাক্তার আমাকে দুই সপ্তাহ বেড রেস্ট নিতে বলেছে । পায়ের হাডডি ভাঙেনি, তবে মচকে যাওয়ার কারনে সরে গেছে । তাই ডান পাটা প্লাস্টার করা । পা নাড়াতে পারি না । হাঁটা হাঁটি করাও নিষেধ । ঠোঁটের সেলাই কাটবে সাতদিন পর । ঠিকমতো খেতে পারি না । সারাক্ষন বিছানায় শুয়ে থাকতে হচ্ছে । কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখলাম হাসব্যান্ডের আচরনে বেশ পরিবর্তন এসেছে । ছেলে মেয়েও আমার রুমে খুব একটা আসে না । ডাকলে আসে । অবশ্য ওরা পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে । হাসব্যান্ডও তো সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত হয়ে ফেরে । বাসায় ফিরে অসুস্থ বউকে দেখতে হয়তো তার ভালো লাগে না । নিজের খাবারটাও তাকে নিজে নিয়ে খেতে হয় । আমার পাশে একটু খানি যায়গার মধ্যে তাকে ঘুমাতে হয় । দিন দিন মনে হচ্ছে সে খুব বিরক্ত হচ্ছে আমার এই সারাক্ষন শুয়ে থাকা দেখে ।
ভাশুরের ছেলের বিয়ে । আগে থেকেই ডেট ফিক্সড করা ছিলো । আজকে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান ।আমার হাসব্যান্ড আজকে অফিস শেষ করে বাসায় ফিরলো না । আমাকে ফোন করে বলে দিলো ,সে সরাসরি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে চলে যাবে । ছেলে মেয়েকে রেডি থাকতে বললো । বললো – সন্ধ্যার পর গাড়ি পাঠিয়ে দিবে । আমার কথা সে কিছুই বললো না । তাকে খুব ব্যস্ত মনে হলো । হবেই বা না কেনো ..? ভাইয়ের ছেলের বিয়ে বলে কথা !
চলবে …..!
