Friday, June 5, 2026







একলা একার গান পর্ব-০১

‎#একলা_একার_গান
‎লেখনীতে:#তাবাসসুম_তোয়া
‎১.

‎বুয়েটের আন্ডারগ্রাড এডমিশন টেস্টের দিন।

‎রিকশা থেমে গেল এক নম্বর ফটকের অনেক দূরে।পলাশীর কাছাকাছি! বুয়েটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাটা চলছে এজন্য রাস্তা আটকানো। রিকশা এর থেকে বেশি ভেতরে যেতে পারবে না! সেখানেই নেমে পড়লাম। বাকি রাস্তা টুকু হেঁটে যেতে হবে।
‎মূল ফটকের কাছাকাছি আসতেই দেখলাম উদ্বিগ্ন মুখের এক মহাসমারহ। অসংখ্য অভিভাবক চিন্তিত মুখে গেটের দিকে তাকিয়ে। আমি তাকিয়ে তাকিয়ে সব অভিভাবকদের চিন্তিত চেহারা গুলো একনজর দেখলাম। কারো বয়স্ক বাবা, কারো বোন, কারো মা। কয়েকজন মায়ের হাতে পুতির দানা তসবিহ।উনারা আঙুলের সাহায্য শুধু পড়ে চলেছেন। এই যুদ্ধটা শুধু যারা পরীক্ষার হটসিটে বসে আছে শুধু তাদের নয়, বাইরে দাড়িয়ে থাকা অভিভাবক সমাজেরও! কি হচ্ছে ভেতরে! পারবে কি তাদের ঔরসজাত সে যুদ্ধে জয়ী হয়ে সামনে এসে দাড়াতে?

‎আজকের দিনে ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাওয়াটাও ভীষণ কষ্টের! এজন্য বুয়েটে কোন অনুষ্ঠান/ অলিম্পিয়াড থাকলে সেদিন না যাওয়ার চেষ্টা করি। তবে সুপারভাইজার ম্যাম ডেকেছেন। এজন্য আসতেই হলো। ভীড় ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছি কোনমতে গা বাঁচিয়ে,

‎” এক্সকিউজ মি। এক্সকিউজ মি,আন্টি। ”

‎সাইড নিতে নিতে ভেতরে আসছি। আমি এগোতেই বাইরে থাকা সিকিউরিটি গার্ড আমাকে দেখলেন। সেটা দেখে তিনি রাস্তা ফাঁকা করে দিলেন।

‎” দেখুন জায়গা দিন। যেতে দিন ”

‎তখন অভিভাবকের সারির মধ্যে দিয়ে একটা ছোটখাটো লাইন তৈরি হয়ে গেল। উনারা দুপাশে সরে গেলেন। আমি মাঝখানে দিয়ে এগিয়ে গেলাম। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে। আমার গলায় ঝুলানো আমার আইডেন্টিটি! একজন আন্টি আমার হাত চেপে ধরলেন।

‎” বাবা, তুমি এখানে পড়ো? ”

‎” জ্বি আন্টি। অনেকটা সেইরকমই ”

‎” তুমি বলতে পারো ME ভবনটা কোনটা। আমার ছেলে ওখানে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। ”

‎আন্টিকে হাতের ইশারায় এমই ভবনের পেছনটা দেখালাম। আন্টি খুশী হলেন। আমি এগিয়ে গেলাম মূল ফটকের সামনে।

‎মূল ফটক বন্ধ ছিলো। কিন্তু গেটম্যান আমার গলায় ঝুলানো আইডি দেখে পাশের ছোট গেটটা খুলে দিলেন, আমি একা ভেতরে চলে এলাম৷ নিজেকে অনেক ভিআইপি মনে হচ্ছিলো। শতশত মানুষের ভীড়ে আমার এখানে ঢোকার অনুমতি পত্র রয়েছে যদিও সেটা অতি সামান্য৷ সবাই আমাকে দেখছিলো অবাক নয়নে ঠিক যেমন ভাবে বুয়েটের বাসে উঠলে সবাই দেখে তেমনটাই!

‎আমি অবশ্য সরাসরি বুয়েটিয়ান নই। আমি আমার বিএসসি কমপ্লিট করেছি আরেকটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জীবনে আগত নানা
‎জটিলতার কারনে ঢাকাতে সিফট করতে হলো তাই সেই ভার্সিটিতে এমএসসি করার সুযোগ হলোনা। ঢাকাতে এসেই অথৈ সমুদ্রে পড়লাম৷ কোথায় ভর্তি হবো? নাকি এবরোডের জন্য চেষ্টা করবো সে সিদ্ধান্তহীনতায় কেটে গেল কয়েকটা মাস৷
‎খোঁজ করলাম আমার সাবজেক্টে ঢাবিতে এমএসসি করার সুযোগ আছে কি? প্রথম টার্গেট ছিলো ঢাবি নাহয় বুয়েট!
‎দেখলাম, কিন্তু নাহ ঢাবিতে বাইরের স্টুডেন্ট নেই না। তখন নিতনা। এখন অবশ্য নেয়। তার কিছুদিনের মাথায় একটা সার্কুলার এলো আমার ফেসবুকের টাইমলাইনে।

‎বুয়েটের এমএসসি এডমিশন। মাথার মধ্যে দেমাগ কা বাত্তি জ্বলার মতোই মনে হলো। এখানে ভর্তি হয়ে যাই সাথে সাথে বাইরের ট্রাই করবো। ব্যাস সে সিদ্ধান্তে রাজি হলো সবাই। যদিও সে এডমিশন আন্ডারগ্রাডের এডমিশনের মতো ওতোটা কঠিন ছিলো না৷ তবে এমএসসির জন্য একটা নির্দিষ্ট সিজিপিএ থাকতে হয় আর সাথে বেশকিছু রিকোয়ারমেন্ট! আল্লাহর রহমতে আমার সকল রিকোয়ারমেন্ট আগে থেকেই পূর্ণ ছিলো। বসলাম এডমিশন টেস্টে! আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে রেজাল্ট পাবলিশের দিন লিস্টের একদম টপে নিজের নাম দেখে আনন্দে কেঁদে ফেললাম। জীবনে হয়তো আমার অনেক সওয়াবের কাজ ছিলো।

‎ব্যস, যথারীতি ক্লাস শুরু করলাম। এবং আমি অনুধাবন করতে শুরু করলাম,

‎” This is absolute war ”

‎বুয়েট আমাকে হামানদিস্তার মতো পিষতে শুরু করলো। আরেকটা পাবলিকের ফাস্ট ক্লাস-সেকেন্ড হওয়া আমিকে এমন পেষা পিষলো! হাড়ে হাড়ে টের পেলাম-কেন সবার কাছে বুয়েটের ডিগ্রি এতোটা মহা মূল্যবান? তারা সঠিক ওয়েতে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।
‎তারা কাপড় নিংড়ানোর মতো করে নিংড়ে ফেলে সকল অপারগতা দূর্বলতা,জীবনের রঙ রস! সব কিছু!

‎এবং শেষে পিঠের উপর স্টাম্পের মতে ধাপ্পা দিয়ে বলবে,

‎“ Now you are successfully defended! ”

‎বহু কষ্টে ফার্স্ট সেমিস্টার শেষ করলাম। বুঝলাম কেন বুয়েটিয়ানরা একটা না একটা কোর্স অবলীলায় ছেড়ে দেয়৷ কারন এক সেমিস্টারে সবগুলো কোর্স কমপ্লিট করা কখনোই সম্ভবপর নয়! কখনোই না! তাই সিজি ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে আমিও একটা কোর্স ছাড়লাম। অবশ্য সেটাও বান্ধবীদের সাথে পরামর্শ করেই।

‎ততদিনে ফার্স্ট সেমিস্টার শেষ৷ TA শীপের জন্য এপ্লাই করতে বলল। টিএ শীপ বা টিচিং-এসিস্ট্যান্টশীপ হচ্ছে বুয়েটের পিজি ক্যান্ডিডেটদের জন্য এক মহা সুযোগ! ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে সাথে মাসে মাসে একটা বড় এমাউন্টও আসবে নিজের একাউন্টে! তাতে নিজের হাত খরচ চলে যায় দিব্যি!

‎TA দের কাজ হলো ল্যাবে স্যারকে সাহায্য করা।এপ্লাই করলাম আর কেমন করে জানি TA-শীপটাও পেয়ে গেলাম। সরাসরি বুয়েটিয়ানদের ক্লাস নেওয়া যাকে বলে। আমি প্রথম দিন ক্লাসে উপস্থিত হলাম ভীষণ ভয়ে ভয়ে। বুক কাঁপছে সামনে সব বুয়েটিয়ান! ক্ষুরধার মেধার অধিকারী৷ সেখানে আমি নস্যি! আমি তো বুয়েটে এডমিশনও দেইনি৷ আমার টার্গেট ছিলো মেডিকেল। একদম অল্পের জন্য মেডিকেল মিস হলো আমার। ভেবেছিলাম ওয়েটিং থেকে ডাক পাবো, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেলাম না। তবে পেলাম চারটা পাবলিকে চান্স৷ তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে উন্নত মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হলাম। সেটা ছিলো জাহাঙ্গীরনগর। কিন্তু সেখানেও আমার পড়া হলো না।চার পাঁচমাস ক্লাস শেষে নানা কারনে সেখানেও আমার থাকা হলো না। ভার্সিটি চেঞ্জ করলাম। চলে গেলাম ঢাকা ছেড়ে। যেই ঢাকা ছাড়লাম সেই ঢাকাতেই আবারও ফিরলাম। বেশ কয়েকবছর পর…

‎.

‎যাক যেখানে ছিলাম, বুয়েটের ল্যাব ক্লাসে যথারীতি স্যার আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন,

‎” তোমাদের আরেকজন ম্যাম। তোমরা তাকে ম্যাম বলতে পারো, আপুও বলতে পারো৷ তোমাদের ম্যাম তোমাদের যেটা ডাকতে পারমিশন দেন। ”

‎এতে ভালো লাগলো স্যারের কথাটা! সত্যি সত্যিই আমি ম্যাম! ওরে বাবা! আমার মতো পুচকে আবার ম্যাম! কই যাই!

‎দুরু দুরু বুকে প্রথম ক্লাস শেষ করলাম। তারপর মনে হলো যাহ! শুধু শুধুই ভয় পাচ্ছিলাম। এটা তে কোন ব্যাপারই না। ছেলের হাতের মোয়া!
‎রোজ রোজ ক্লাস করালাম স্যার আমার উপর ক্লাসের অনেক দায়িত্ব দিলেন। সেগুলো সুন্দর ভাবে পালন করছিলাম। সরাসরি বুয়েটিয়ান রা আমাকে ম্যাম বলে ডাকছে ভাবতেই মনের মধ্যে প্রজাপতি উড়তো! আহা! স্বপ্ন ছিলো কি আর আসলাম কোথায়। মেডিকেল পড়তে না পারার আফসোস আমার সারাজীবন থেকে যাবে। ক্লাস-ল্যাব শেষে কখনও ভার্সিটি বাস মিস হয়ে গেলে সন্ধ্যার দিকে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত বদনে যখন বকশীবাজার মোড়ে এসে দাড়াতাম তখনই দেখতাম ক্লান্ত পরিশ্রান্ত লম্বা চওড়া ছেলেগুলো ক্লাস শেষে এপ্রোনটা খুলতে খুলতে হাঁটছে আর ফিরছে সামনের ডিএমসির ডা:ফজলে রাব্বি হলের দিকে। বেশ কয়েকজনকে প্রায়ই দেখতাম। ফেস একদম পরিচিত হয়ে গেল। কয়েকজন তো আমাকে দেখতো হতাশ নয়নে। তাদের দৃষ্টি বলত! আপু আপনি বুয়েটের? গলায় ঝোলানো সেই আইডেন্টিটি! তারা মুখে না বললেও তাদের চোখ আমি পড়তে পারতাম। তখন মনে হতো!

‎” নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস। ”

‎বেশ উচুলম্বা ছেলেটার হয়তো স্বপ্ন ছিলো বুয়েট।ছেলেটা দেখতেও অনেকটা গল্পলর নায়কদের মতোই ছিলো। একদিন তো জিজ্ঞাসা করেই ফেললো,

‎” বুয়েটের? ”

‎” জ্বি! ”

‎” কততম ব্যাচ তুমি? ”

‎আমি অবাক হলাম আমাকে কি এতোই ছোট মনে হয়। সবাই কেন আমাকে এতো ছোট ভাবে! ‎হাসি দিয়ে বললাম

‎” ভাইয়া, আপনি? ”

‎” আমি ইন্টার্নি করছি। ”

‎আমি আর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করলাম না। কারন তাতে ছেলেটা অপ্রস্তুত হবে, যখন জানবে আমি তার বেশ সিনিয়র!

‎.

‎ল্যাবে রোজ বুয়েটিয়ান দের ক্লাসে এটেন্ড করছি আমার নিজের কোর্স গুলো করছি। কয়েকটি কোর্স নিয়েছিলাম বুয়েটিয়ানদের সাথেও। তাদের সাথে ভালো একটা ভাব হয়ে গেল। কিছু হলেই,

‎” আপু এটা, আপু ওটা! ”

‎ল্যাব আপুকে ম্যানেজ করতে পারলে লাভ বই লস নেই কারো! কেউ রিপোর্ট জমা দিতে দেরি করে কেউ ভুল করে! কেওবা আরেকজনেরটা কপি করে জমা দেয়। হরেক রকমের সমস্যা।
‎কত কথা৷
‎এর মধ্যে একজন জুনিয়রকে খুব অন্যরকম লাগলো।খুবই পাগলা টাইপের এবং ভীষণ সিনসিয়ার!
‎ল্যাবে রেজাল্টে একটু গড়মিল হলেই পাগল হয়ে যেত। চশমা পরা পাগলা যাকে বলে! কেমিকেলের কালারে খানিকটা লাইট কিংবা ডার্ক আসলেই কিংবা রেজাল্ট খানিকটা এদিক ওদিক হলেই,

‎” আপু এটা কেন হলো? আপু আমি একদম পুরোপুরি সঠিক রেজাল্ট চাই!১০০% অ্যাকিউরেট! ”

‎নানা রকমের সিস্টেমেটিক এরর থাকতে পারে। কেমিক্যালের কারনেও অনেক সময় রেজাল্টের হেরফের হয়। সে ল্যাবে আসলেই সবসময়,

‎” আপু এখানে আসেন। আপু এখানে আসেন। ”

‎সেজন্য ওকে বেশ ভালো ভাবেই চিনলাম৷ ওদের ব্যাচের যেদিন ল্যাব থাকতো বুঝে যেতাম ঐ চশমিশ ‎জ্বালিয়ে মারবে!

‎কিন্তু বুঝলাম সে হচ্ছে আতেল দ্য গ্রেট৷ এই ধরনের স্টুডেন্টরা সাধারণত আন্ডারগ্র্যাড শেষ করেই ফ্যাকাল্টি হিসেবে ঢুকবে৷ এমন ছেলেরা তাই হয়। হলোও তাই। ছেলেটা আন্ডার গ্রাড শেষ করেই ফ্যাকাল্টি হিসেবে ঢুকে পড়লো। কিন্তু ততদিনেও আমার থিসিস শেষ হয়নি! বুয়েটে ভর্তির আগে কেউ একজন আমাকে বলেছিলো ওটা একটা টাইম মেশিন এই যে ঢুকবেন আর বের হতে পারবেন না! কেন যেন কথাটা আমার ক্ষেত্রে মিলে গেল! এতোবার স্যাম্পল চেঞ্জ করি, এতো ভাবে ট্রাই করি সঠিক এবং সুন্দর রেজাল্ট পাই না কিছুতেই। কেটে গেল বেশ কিছুটা সময়। মাথা নষ্ট হয়ে গেল আমার! একবার ভাবলাম—ছেড়ে দিই। কয়েকজন বান্ধবী ছেড়ে দিয়ে চাকরিতে ঢুকে গেছে। কিন্তু আমার টার্গেট ফ্যাকাল্টি হওয়া— তাই এমএসসি ছাড়তে পারতাম না কিছুতেই!
‎পড়ে গেলাম বেকায়দায়! না পারছি ছাড়তে না পারছি রেজাল্ট মেলাইতে, না পারছি উগলে দিতে! জান যায় যায় অবস্থা! এমন অবস্থায় রোজ রোজ আসি টুকটাক কাজ করে ফিরে যাই। আজ আবারও ম্যাম ডেকেছেন। সেই উদ্দেশ্যেই আজকের আগমন।

‎ম্যামের সাথে দেখা করতেই ম্যাম আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন আরোও অনেক গুলো পেপার।

‎” যাও এই অনুযায়ী নতুন ভাবে চেষ্টা করে দেখো! ”

‎সেই পেপার গুলো নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছি নিজ ল্যাবে।

‎আমার থিসিস ল্যাবে যেতে গেলে সেই চশমিশ জুনিয়রের কেবিন পেরিয়ে যতে হয়। যদিও সে এখন টিচার আর আমি?
হেঁটে হেঁটে সেই কেবিন পার হচ্ছি। ইদানীং খেয়াল করেছি চশমিশের কেবিনের গেট হাট করে খোলা থাকে। ব্যাপারটা খটকা লাগে মাঝে মাঝে! সমস্যা কি? আমি কেবিন পেরিয়ে গেলেই দেখি সে বেরিয়ে আসে। কেবিনে তালা দিয়ে পাশ কাটিয়ে কোথাও চলে যায়। আমি আসা যাওয়ার পথে বারবার তাকে দেখি। ব্যপারটা কি কাকতালীয়?
নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে! নাহলে এতোবার দেখা হওয়ার কথা নয়! নাকি আমার ভুল? জানি না।

‎বেশ কিছুদিন ধরেই তার অদ্ভুত আচরন খেয়াল করছি।
আমার মনে পড়ে না এর আগে ছেলেটা কোনদিনও আমাকে দেখেছে কিনা! আমিও সেভাবে দেখেনি! আমি বরাবরই কড়া। ভীষণ স্ট্রীক্ট ল্যাব আপু! কিন্তু হঠাৎ সেই ছেলেটার দৃষ্টি যেন অন্য কথা বলতে শুরু করলো!যে দৃষ্টির পারমিশন আমি কাউকে দেইনি! ঐযে মেয়েদের সিক্সথ সেন্স!

সেদিনও একই অবস্থা! আমি ডিপার্টমেন্টের সিঁড়ি পেরিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তার কেবিনের সামনে পৌঁছানোর আগেই ফোন আসলো একটা। সেটা রিসিভ করে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, বুঝলাম কেউ পিছনে। সেদিন আমি বেশকিছু দিন পর ডিপার্টমেন্টে এসেছি, ল্যাব থেকে সরাসরি হেঁটে একদম লম্বা করিডরের ঐ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছালাম। বুঝলাম তখনও অব্দি কেউ আসছিলো। কিন্তু ফিরে যাকে দেখলাম তাকে আশা করিনি মোটেও।

‘ সেই চশমিশ জুনিয়র দীপ্ত এহসান নিরব! ‘

আমার পিছু পিছু। নাকি অন্য কোন কাজে? থমকে গেলাম!

আশ্চর্য হয়ে দাড়িয়ে পড়লাম৷ এসবের মানে কি? সে খানিকটা লজ্জা পেয়ে অন্য পাশের ডিপার্টমেন্টে চলে গেল। আমি দাড়িয়েই থাকলাম ঠিক তার গমন পথের দিকে তাকিয়ে! তার ধরা পড়ে যাওয়া দৃষ্টি অন্য কথা বলল!
সে কতটা ডুবেছে সেই পরিধি টা জানতে চাচ্ছিলাম। কেন এতোটা ডুবলো সেটার কারন মনের কোথাও বাফারিং হচ্ছিল৷ সার্চ করে একটা কারনও খুঁজে পেলাম না৷ আমি কোনদিনও কারো সাথে দুটো হেসে হেসে কথা বলেছি? কিংবা রঙঢঙ করে হেলতে দুলতে করিডর পার করেছি। কিংবা কোন ছেলের সাথে অযাচিত কথা। তাহলে সে ডুবলো কিভাবে? কেন ডুবলো? নাকি এটাও আমার ভুল! যদিও সে এখন টিচার তারপরেও আমার থেকে জুনিয়র!
ও নাহয় বোকা, ইম্যাচিউর৷ আমি তো বোকা নই। আমি যে তার থেকে অনেকখানি বড়৷ সেটা কি সে জানে না?

চলবে….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ