Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রতিশোধপ্রতিশোধ পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব

প্রতিশোধ পর্ব-০৫ এবং শেষ পর্ব

#প্রতিশোধ
#অন্তিম_পর্ব ( প্রথম অংশ)
#ইলোরা_ফারদিন

অবশেষে সবার অপেক্ষার শেষে তূর্ণার বিয়ের দিন আসলো। তূর্ণাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে স্টেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার মুখ ভর্তি হাসি, তার মনে কি চলছে একমাত্র সেই জানে।

এদিকে হাসি নেই তূর্য ও তিতলীর মুখে। সেদিন থেকে তূর্য আর তিতলী, তূর্ণার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যেন একি বাসায় থেকেও তারা অপরিচিত। বাশার কায়সারের অনেক বোঝানোর পরেও তারা তূর্ণার সাথে কথা বলে নি।

।।।।।।।

জহির আজ অনেক খুশি। সে কোনোদিনও ভাবে নি তার যেই সন্তানদের উপর সে এতো অত্যাচার করেছিল, যেই ছোট্ট তূর্ণার গায়ে সে হাত তুলেছিল, তার সেই মেয়ের বিয়েতে তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তার সেই ছোট্ট মেয়ে তূর্ণা আজ এতো বড় হয়ে গিয়েছে!
ইশ যদি সে তিতলীর সাথে সেই অন্যায়গুলো না করতো, তবে আজ নিজের মেয়েকে সে নিজের লাল টুকটুকে বউ হিসেবে সাজিয়ে বিদায় দিত!” ভেবেই জহিরের চোখ ভিজে উঠলো।

চোখের পানি মুছে, পুরোনো রংচটা পাঞ্জাবিটা গায়ে জড়িয়ে, সামান্য আতর মেখে জহির হাসি মুখে তার এক কামড়ার ছোট্ট বাসাটা থেকে বেরিয়ে আসলো।

।।।।।।।।।

তূর্ণার বিয়ে পাচ মিনিট হলো শেষ হয়েছে। পুরোটা সময় তিতলী স্টেজের সাইডে থম মেরে বসে ছিল। জহিরকে সে দেখেও না দেখার ভান করেছে।জহিরের করা অবহেলা, উপেক্ষা, নির্যাতন সব মনে পরছে তার। এদিকে তূর্যকে দেখে জহির কথা বলতে এলেও তূর্য তাকে ভদ্রতা সহিত সালাম দিয়ে পাশ কেটে চলে গেছে।
জহির এতে কষ্ট পেলেও সে বুঝে যে এটাই তার কর্মফল। জহির চেয়ারে বসে বসে লক্ষ্য করলো একটা লোক একটু পর পর তিতলীকে এটা ওটা খেতে এনে দিচ্ছে, কখনোবা তিতলীর পাশে বসে ওর মাথার ঘাম মুছে দিচ্ছে। এরকই মাঝে একটা ছোট্ট মেয়ে বার বার লোকটির কোলে উঠে বসছে। মেয়েটি দেখতে অবিকল তিতলী। জহিরের বুঝতে বাকি রইলো না যে লোকটি তিতলীর বর্তমান স্বামী। আর বাচ্চাটি তাদের।
আফসোস হলো তার। এই সংসারটা তো তার ছিল। তার কি হয়েছিল সে সময়, কেন অন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কেনো নিজের সন্তান আর স্ত্রীর প্রতি এতোটা অমানবিক আচরণ করেছিল! উত্তর পায় না জহির! উত্তর পায় না!

এরই মধ্যে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তূর্ণা জহিরের হাত ধরে তাকে স্টেজের উপরে নিয়ে আসল। আবার নেমে এবার বাশার কায়সারকে সাথে নিয়ে স্টেজে উঠলো।

এরপর নিজের একপাশে জহির আর আরেক পাশে বাশারকে দাড় করিয়ে মাইক হাতে নিল, তারপর বলতে শুরু করলো।।

“আগে আমার বর্তমান দিয়ে শুরু করি। এই যে আমার বাম পাশে যে মানুষটি দাঁড়িয়ে আছে উনি হচ্ছেন আমার বাবাই, আমার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী। আমি তার বায়োলজিকাল মেয়ে নই সত্যি, কিন্তু সে এই ১৫ বছরে একদিনও আমাকে তা বুঝতে দেন নি।

আমার বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর আমি অনেক বেশি ট্রমাটাইজ হয়ে পরেছিলাম। কেননা তখন আমার বয়স মাত্র আট। এরপর মা যখন দ্বিতীয় বিয়ে করলো, সেটাও আমি মেনে নিতে পারছিলাম না। কারণ আমার ছোট্ট মন তখনো আমার বায়োলজিক্যাল পিতাকেই খুজতো। ফলে দিন দিন মানসিক রোগীতে পরিণত হচ্ছিলাম।
সেসময় বাবাই সেটা বুঝতে পেরেছিলেন। সে আমাকে সাইকিয়াট্রিস্ট এর কাছে নিয়ে যায়। আমাকে সময় দেয়। ধীরে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু হয়ে উঠে আমার বাবাই।
আমার স্কুল কলেজ ইউনির্ভাসিটি লাইফের যত পোগ্রাম যত প্যারেন্ট মিটিং, একটিও আজ পর্যন্ত বাবাই মিস দেন নি। তার আমার প্রতি এতোটাই স্নেহ, ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ ছিল যে আমার বন্ধু মহলের কেউই টের পান নি যে ইনি আমার আসল বাবা না। আজকে সবার সামনে আমি আমার বাবাইকে বলতে চাই,
” বাবাই অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের জীবনে আসার জন্য। আমাদেরকে এতো সুন্দর একটা জীবন দেয়ার জন্য। ভালোবাসি বাবাই।”

তূর্ণার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে কমিউনিটি সেন্টারের সবাই হাত তালি দিয়ে উঠলো। সবার মুখে মুখে বাশার কায়সারের নামে প্রসংসা।

এরপর সবাইকে থামতে বলে তূর্ণা আবারো মাইক হাতে নিল।
এদিকে তিতলীর মস্তিষ্ক মুহুর্তে সজাগ হলো। মেয়ে তার কি করতে যাচ্ছে সে যেন টের পেল। তাই তাড়াতাড়ি মেয়েকে থামাতে যেতেই পেছন থেকে তূর্য তার হাত টেনে ধরলো। তিতলী তূর্যর দিকে গরম চোখে তাকি বললো,
“কাউকে এভাবে ডেকে এনে অপমান করার কোনো মানে হয় না তূর্য। তূর্ণা ছোট, ভুল করছে। কিন্তু বড় ভাই হয়ে তুই কিভাবে এটা সাপোর্ট করছিস। যত বড়ই পাপ করুক না কেনো সে তোদের জন্মদাতা পিতা…

হ্যা মা, আমার জন্মদাতা পিতা। জানো তো আজও আমার পেটের বাম পাশে ব্যাথা করে। কেনো জানো? আমার বাবার সামনে তার ওই রক্ষিতার ভাই আমার পেটে লাথি মেরেছিল। ভুলি নি মা। আমার বোনটাকে আমি প্রতিদিন রাতে কান্না করতে দেখেছি মা, ওকে ধীরে ধীরে মানসিক রোগী হতে দেখেছি। বনু যা করছে ওকে করতে দাও, অন্তত এবার ওর মনটা একটু শান্ত হোক…

থেমে গেল তিতলীর পা….

এদিকে মাইকে তূর্ণা বলছে,
” এই যে এই লোকটাকে দেখছেন। এনার নাম জহির আহসান। ইনিই আমার জন্মদাতা পিতা। ইংরেজিতে বায়োলজিক্যাল ফাদার!!
বলে একটু তাচ্ছিল্য হাসলো তূর্না…
এই মানুষটা আমার পুরো দুনিয়া ছিল একটা সময়। উনাকে ছাড়া আমি রাতের খাবারটা পর্যন্ত মুখে তুলতাম না। তার বুকে মাথা না রাখলে আমার ঘুম আসতো না।

কিন্তু ইনি হুট করে একদিন আমাদের ভুলে গেলেন। একটি ব্যা*শ্যাকে আমার মায়ের জায়গায় আর সংসারে স্থান দিলেন। এমন কি আমাদের সংসারে টাকা দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দিলেন।
অভাবে আমাদের সংসার তখন দিশেহারা। এমনো দিন গিয়েছে আমরা একবেলা না খেয়ে থেকেছি। মাছ মাংস মুখ জুটত না সে সময়।
সবচেয়ে মজার বেপার কি জানেন, আমার এই বায়োলজিক্যাল ফাদারের ব্যবসা তখন রমরমা। লাখ লাখ টাকা ইনকাম তার প্রতিমাসে। কিন্তু সে টাকা সে আমাদের দিত না। বরং তার রক্ষিতাকে দিত। সেই রক্ষিতার সংসারে টাকা দিত সে।
সে তার ওই রক্ষিতার জন্য আমার উপর আর আমার মা ভাইয়ের উপর হাত পর্যন্ত তুলেছে। আমার মা তার পা ধরে সংসারটা ভিক্ষা পর্যন্ত চেয়েছিল, কিন্তু সে আমার মায়ের মুখে লাথি মারে।
এই অমানুষটার জন্য আজও প্রতি রাতে আমাকে মানসিক রোগের ওষুধ খেতে হয়। মাঝে মাঝেই আমার প্যানিক এট্যাক হয়।
যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে সব কিছুর জন্য।
বিশ্বাস করুন, আমি ভেবেছিলাম আপনাকে ডেকে অপমান করে মনে হয় আমি মানসিক শান্তি পাব, কিন্তু আমি কেনো জানি শান্তি পাচ্ছি না।
আমার না খুব কষ্ট হচ্ছে। খুবি কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে বুকটা ছিড়ে যাচ্ছে।
আমি আপনাকে ঘৃণা করি জহির আহসান। কিন্তু আমি আমার বাবা জহির আহসানকে এখনো ভালোবাসি, অনেক বেশি ভালোবাসি।”
বলেই কান্নায় ভেঙে পরলো তূর্ণা, তার প্যানিক এট্যাক হয়েছে। সবাই তাড়াতাড়ি দৌড়ে এলো তার কাছে। হস্পিটালে নিতে হবে যে।

এদিকে সবাই চলে গেলেও স্টেজে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জহির। চোখ দিয়ে অঝোরে তার অশ্রু ঝরছে। নিজের করা পাপ গুলো তার মনে পরছে।

।।।।।।।।

হস্পিটালের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে জহির আর তিতলী। জহির নত মাথায় তাকে বললো,” ক্ষমা চাওয়ার মুখ নেই আমার। তবু বলছি পারলে মাফ করে দিও। আর এই চিঠিটা রুমি দিয়েছে তোমাকে ওর মারা যাওয়ার আগে। এতোদিন আমার কাছে আমানত হিসেবে ছিল। তোমার ঠিকানা খুজেছিলাম অনেক, পাই নি। তোমরা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলে।

তিতলী চিঠিটা নিল। তারপর বললো,
“আশা করি আমাদের আর দেখা হবে। আর কোনোদিন এ মুখী হইয়ো জহির। ভালো থেকো, বলে হসপিটালের ভেতরে চলে গেল তিতলী।

এদিকে জহিরও চললো আপন গন্তব্যে….

চলবে…

#প্রতিশোধ
#অন্তিম_পর্ব ( শেষ অংশ)
#ইলোরা_ফারদিন

তূর্ণাকে কিছুক্ষণ আগেই বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে। সবাই এখন বিশ্রাম নিচ্ছে। এদিকে তিতলী কাপ কফি হাতে তার রিডিং টেবিলে বসেছে। হাতে তার রুমির লিখা শেষ চিঠি,
“তিতলী আপা,
আপাই বললাম, বয়সে বড় আপনি আমার। জানি আজ এতো সম্মান দেখাচ্ছি বলে তাচ্ছিল্য হাসছেন। কারণ আমার জন্যই আপনার সাজানো সংসার নষ্ট হয়েছে। আর সেই পাপের শাস্তিই এখন পাচ্ছি আমি।
তবে মৃত্যুর আগে আপনাকে কিছু সত্য জানিয়ে যেতে চাই আপা।
আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। আমরা দুই বোন এক ভাই। বাবা জুতার দোকানের কর্মচারী ছিল। আর মা গৃহিণী।
আমি আর আপা দুই জনেই পড়াশুনায় অত্যন্ত তুখোড় ছিলাম। ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হব। আর আপার ইচ্ছে ছিল সে টিচার হবে। কিন্তু একটা সময় পর বাস্তবতার সামনে আমাদের স্বপ্ন হুমড়ি খেয়ে পরলো। আপাকে বিয়ে দেয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করলো আব্বা আম্মা। আপা সুন্দর হওয়ায় প্রথমে বড় ঘর থেকে প্রস্তাব আসলেও তাদের বড় এমাউন্টের যৌতুক দিতে অক্ষম ছিলাম আমরা। বাধ্য হয়ে শেষে এক এইট পাশ মুদি দোকানদারের সাথে বিয়ে হয় আপার, যেখানে আপা নিজেই ইন্টার পাশ। আপার বিয়ের সময় আব্বার প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ হয়ে যায়। যার ফলে এমনো দিন গেছে আমাদের যে আমরা একবেলা খেয়েও থেকেছি।

কিন্তু আরও জঘন্য দিন সামনে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। আপাকে প্রচুর নির্যাতন করতো দুলাভাই। দুইদিন পর পর আপাকে বাসায় পাঠাতো টাকা আনতে। এরি মধ্যে জানতে পারলাম যে আপা অন্তসত্তা। এরপর তারা আপাকে বাসায় পাঠায় দিল। দিন এভাবেই যেতে লাগলো। বাসায় ভালো খাবার না থাকায় আপাও দিন দিন দুর্বল হতে লাগলো। সাতমাসের সময় একদিন হুট করে আপা মাথা ঘুরে পরে গেল। আর তার পেট মেঝে বরবর পরলো। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও টাকার অভাবে ভালো হাসপাতালে না নেয়ায় আমার আপাটা আর তার বাচ্চাটা মারা গেল।

এরপর থেকেই আমরা বদলে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম যে টাকার জন্য যত নিচে নামতে হয় নামব, তবু টাকা চাই। এরই প্রেক্ষিতে জহিরের অফিসে আমি চাকরি নেই। বার বার ওকে নানা ভাবে আকর্ষণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু জহির আমাকে আশকারা দিতে চাইতো না। সে বরাবরই আমাকে ইগ্নোর করার চেষ্টা করতো। ও তো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমাকে চাকরি থেকে বের করে দিবে। তাই আমি আর আমার পরিবার মিলে নতুন পরিকল্পনা করি।
একদিন জহিরের চায়ের কাপে আমি নেশা জাতীয় ওষুধ মিশিয়ে দিই। পরে নিজেদের নাটক সাজাই। জহিরের হুশ ফিরলে সে অফিসের রুমে নিজেকে আমার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় পায়।
আর এরকই মধ্যে আমার ভাই লোকজন নিয়ে আসে, জহিরকে বাধ্য করে আমাকে বিয়ে করতে।
জহির বুঝেছিল আমি ওকে ফাসিয়েছি। তবু দায়িত্ব নিতে রাজি হয়। কারণ ওরও আমার প্রতি কোথাও না কোথাও দুর্বলতা জেগেছিল। নাহলে বিয়ের পর পরই সে আমাকে তালাক দিয়ে দিত। কারণ কাবিননামা শোধ করার মতো ক্ষমতা তার ছিল। এমনকি বিয়ের পর অন্য দশটা স্বামী স্ত্রীর মতো সম্পর্ক আমাদের মধ্যে ছিল। সে যে আমার শরীরে নিজের সুখ খুজে পেত তা কিন্তু আমি বুঝতাম আপা।
কিন্তু জহির আপনাদের দায়িত্বও পালন করছিল। যেটা আমার সহ্য হয় নি। আমি তার পুরো রাজ্যের রানি হতে চেয়েছিলাম। তাই আমি আর আমার মা মিলে কুফরি করি।
ফলে জহির আপনাদের থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেয়।
কিন্তু বলে না, পাপের ফল এই জন্মেই পায় মানুষ। আমরাও পেয়েছি। আপনাদের ডিভোর্সের পর প্রথম এক বছর আমি যেন স্বর্গে ছিলাম। খালি সুখ আর সুখ। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে সব শেষ হতে লাগলো। আমার ভাই জহিরকে ঠকিয়ে ওর ব্যবসার টাকা সরাতে লাগলোম ফলে জহিরের ব্যবসায় ধস নামলো। এরপর আমার জরায়ুতে সিস্ট ধরা পরল, যা মারাত্মক পর্যায়ে ছিল। ফলে আমার জরায়ু কেটে ফেলা হলো। অন্যদিকে আমার ভাই একদিন জহিরের ব্যংকের টাকা তুলে পালিয়ে গেল, যেহেতু জহিরের সব ডিটেইলস তখন আমাদের হাতে ছিল।
এরপর আমার বাবা মায়েরও নির্মম মৃত্যু হলো। যা আমি এখন বর্ননা করতেও পারছি না। আর কুফরি করার শেষ শাস্তিটা পেলাম আমি।
কোনো এক অজানা রোগে আমার শরীরে পচন ধরল। এখন আমি দিন গুনছি আমার মৃত্যুর।

আপা আমি জানি আমাকে ক্ষমা করা সম্ভব না। তবু ক্ষমা চাই। বিশ্বাস করেন আমিও অনেক সাদাসিধা একটা মেয়ে ছিলাম, কিন্তু অভাবে আমাকে শয়তান বানিয়ে ফেলেছে।

যাই হোক, দোয়া করি অনেক অনেক ভালো থাকবেন।”

চিঠিটা বন্ধ করে তিতলীর চোখ দিয়ে পানি বেয়ে পরলো। মনে মনে বললো, ” জহির তুমি কখনোই আমাক্র ভালোবাসো নি। ভালোবাসলে তুমি দ্বিতীয় নারীর শরীর স্পর্শ করার কথা কল্পনাতেও ভাবতে না। রুমিকে বিয়ের আগেই তোমার রুমির প্রতি দুর্বলতা জেগেছিল। আমি বুঝেছিলাম জহির। কিন্তু সমাজে নিজের নাম খারাপ হওয়ার ভয়ে তুমি রুমি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে। কিন্তু আমার প্রতি যে তোমার কোনো আগ্রহ আর ছিল না তা কিন্তু বুঝতে পারতাম আমি।
আর যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বিয়েটা হয়ে গেল, তুমি লাইসেন্স পেয়ে গেলে। অবশ্য অনাকাঙ্ক্ষিত বলি কি করে, তোমার কেবিনে সিসি ক্যামেরা ছিল, তুমি চাইলেই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারতে। তুমি তা করো নি। কারণ তুমি চাচ্ছিলে বিয়েটা হোক। তুমি চাচ্ছিলে রুমি তোমার হোক!
তাচ্ছিল্য হেসে চিঠিটা ডাস্টবিনে ফেলে দিল তিতলী। সে আর চায় না অতীতে ফিরতে। জীবন এখনি সুন্দর। ভয়ংকর সুন্দর।

সমাপ্ত

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ