||৯||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
শীতের রাতে উঠানে সবাই আগুন ধরিয়ে পাশে দাড়িয়ে আছে, মহুয়া রান্না ঘরে দাদিকে সাহায্য করছে সাথে তানিয়াও টুকটাক হাতে এগিয়ে দিচ্ছে মালিহা দাঁড়িয়ে আছে। রাতে গরুর মাংস, ছোট মাঝের ঝোল, আর সুটকি ভর্তা।মহুয়ার সুটকি ভর্তা খুব প্রিয়। আরিয়ান চেয়ার নিয়ে বসে আছে সবার থেকে একটু দূরে সেখান থেকে মহুয়াকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না চাইলেও তার চোখ বার বার মহুয়ার দিকে চলে যাচ্ছে।
“তোমাকে দেখার তৃষ্ণা কবে থেকে হলো? তুমি তো আমার নও তবুও কেনো তোমার জন্য মন বেকুল? যদি কোনো উপায় থাকতো আমি সেই উপায়ে তোমায় আমার করে নিতাম।”
আরিয়ানের চোখ ঝাপসা হয়ে আসলো, পুরুষ মানুষ সে কান্না করবে? না কান্না পুরুষদের মানায় না। উঠে আরেকটু দূরে যেয়ে সিগারেট ধরিয়ে এক টান দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে দিলো দূর আকাশে।
‘তুমি আমার না হলেও আফসোস হতোনা, কিন্তু তুমি অন্য কারো অন্যোর অস্তিত্ব।’ এটা মেনে নেওয়া কঠিন! “খুব কঠিন।”
ইমন যাচ্ছিলো তার রুমে হঠাৎ খেয়াল করলো আগুন জ্বলছে খেয়াল করতে দেখলো সিগারেট খাচ্ছে কেউ কৌতূহল নিয়ে সেদিকে যেয়ে দেখলো আরিয়ান দাড়িয়ে সিগারেট টানছে।
‘আপনি সিগারেট খান ভাইয়া?’
আরিয়ান এক মনে টানছিল আশে পাশে তার কোনো ধ্যান নেই।
‘ভাইয়া, শুনতে পাচ্ছেন?’
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ বলো। তুমি, “তুমি কখন এলে?”
‘মাএ আসলাম, আপনার কি হয়েছে ভাইয়া?এমন দেখাচ্ছে কেনো।’
‘কেমন দেখাচ্ছে?’
“চোখ মুখ লাল, সিগারেট খান কেনো এসব ভালো না ফেলে দেন।” আরিয়ানের হাত থেকে সিগারেট নিয়ে নিচে ফেলে দিলো ইমন।
‘এবার বলুন কি হয়েছে আপনার, সিগারেট খাচ্ছেন কেনো?’
আরিয়ান নির্বাক তার কথা বলার ভাষা হারিয়ে গেছে সে কিভাবে বলবে তার কি হয়েছে।যে মানুষটার জন্য কষ্ট হচ্ছে সেই মানুষটার প্রিয় মানুষ এখন সে, তার সাথে কিভাবে বলবে তার কি হয়েছে।
‘কি হলো কথা বলছেন না কেনো?’
“তেমন কিছু না, মাথা ধরে আছে। আর সিগারেট আমি মাঝে মধ্যে খাই।”
‘শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর এসব।’
“মনটাই ক্ষত, শরীর দিয়ে কি করবো?” আস্তে করে বললো আরিয়ান।
‘কি বলছেন ভাইয়া? বুঝিনি।’
এত বুঝতে হবেনা। চলো ওদিকে চলো। দুজনেই আগুনের পাশে যেয়ে চেয়ার নিয়ে বসে পড়লো, মহুয়া হাতে করে সবার জন্য সিঙ্গারা, আলুর চপ, বেগুনের চপ, নিয়ে আসলো। সবাইকে খেতে বললো গরম গরম ভেজে আনছে ঠান্ডা হয়ে যাবে। আরিয়ান একবার মহুয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো, বেহায়া মন কথা শুনছে না এভাবে কখন কার চোখে পড়লে বিষয় টা খারাপ দেখা যাবে সে উঠে পড়লো বাহিরের দিকে ঘুরে আসলে যদি মন ঠান্ডা হয়।
“প্রিয় মানুষ গুলাকে নিজের করতে যা করার করুন, সময় থাকতে সময়ের মূল্য দিন।” নয়তো হারিয়ে গেলে হাজার চেষ্টা করেও পাবেন না। আরিয়ান বুঝে গেলো তার ভুলটা, এখন বুঝেও সময় নেই তবুও যদি চেষ্টা করা যায়। মনকে কোনো ভাবে বুঝিয়ে নিলো।
ইমন আরিয়ানের অবস্থা বুঝার চেষ্টা করছে কি হয়েছে এমন দেখা যাচ্ছে কেনো। কয়দিন এসে সে খেয়াল করছে।রাতের খাওয়া শেষ করে যে যার মতো শুয়ে পড়ছে। আরিয়ান সুফিয়ার দরজার কাছে এসে ডাকতেই সুফিয়া বেরিয়ে আসলো।
‘কি হলো দাদু ভাই এতো রাতে কিছু লাগবে?’
“যদি কিছু চাই দিবে দাদি।” সুফিয়া তাকিয়ে পড়লো আরিয়ানের দিকে অসহায় দেখা যাচ্ছে চোখ লাল হয়ে আছে মুখটাও ফ্যাকাসে।
‘কি হয়েছে তোমার দাদু ভাই ভিতরে আসো।’ আরিয়ান গেলো না ভিতরে তাবাস্সুম আছে সুফিয়াকে নিয়ে বাহিরে চলে আসলো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সুফিয়ার পায়ের কাছে বসে পড়লো।
“তোমার পা দুইটা ধরছি মহুয়াকে আমার করে দেও, আমি আর পারছি না। বিশ্বাস করো অনেক চেষ্টা করেছি প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছি নিজের সাথে আমাকে বাঁচাও দাদি।” সুফিয়া আরিয়ানের থেকে কিছুটা দূরে সরে গেলো।
‘এটা কখনোই সম্ভব নয়’, মহুয়া “বিবাহিত”
‘আমার সমস্যা নেই দাদি, কথা দিচ্ছি আমি রানি করে রাখবো।’
‘মহুয়া ভালো আছে, ওরে ভালো থাকতে দেও।’
‘তুমি না কথা দিয়েছিলে মহুয়াকে সারাজীবনের জন্য আমার করে দিবে,তবে আজ কেনো এই কথা বলছো দাদি।’
আমি মানছি আমি বলছিলাম কিন্তু তোমার মা কখনোই সেটা চাইনি। তোমাকে নিয়ে চলে গেছিলো তুমি ওতো খোঁজ নেওয়ার প্রোয়জন মনে করোনি তাহলে এখন এসে এসব কেনো বলছো? মহুয়াকে আমি নিজে মানুষ করছি। তাকেও বুঝিয়েছি তোমার জন্য তাকে আমি রেখেছি কিন্তু মহুয়া বড় হতে লাগলো,মানুষের চোখে পড়লো। মহুয়া যথেষ্ট সুন্দরী মানুষ পিছে লাগাটাই স্বাভাবিক ছিল। ইমনও,কিন্তু ছেলেটা ভালো ছিলো সোজা এসে আমার কাছে প্রস্তাব দিয়েছে।আমি বুড়া মানুষ দিন দিন শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ছে তোমাদের কোনো খোঁজ নেই। ছেলেটার হাতে ভরসা করে তুলে দিয়েছিলাম খোঁজ ও নেইনি। মনে হয়েছিলো দিতে পারলেই ভালো হবে মানুষের চোখের আড়াল হবে। মানুষ নামের পশু গুলা যেনো তার কোনো ক্ষতি করতে না পারে। আল্লাহর রহমতে মহুয়া ভালো আছে তুমি ওর জীবনে কাঁটা হতে যেও না। মেয়েটাকে সুখে থাকতে দেও।
‘মহুয়া জানতো? তাহলে সে অপেক্ষা করলো না কেনো?’
কিসের জন্য অপেক্ষা করবে কার জন্য অপেক্ষা করবে? তুমি কি কখনো তার কোনো খোঁজ নিয়েছো?মহুয়া জানলেও কখনো তোমার প্রতি ভালোবাসা জম্ম নেইনি বরং ঘৃণা আর রাগ। তোমার বাবা সবার বড় সেও মহুয়ার খবর নিতো না কোন আশায় সে তোমার অপেক্ষায় বসে থাকবে।ছোট থেকে সে একা বড় হয়েছে তোমাকে দেখেনি, তোমার সম্পর্কে ভালো করে জানতো না।আর এতদিন পর এসে তুমি বলছো তোমার মহুয়াকে লাগবে।
“আমি সত্যি মহুয়াকে অনেক ভালোবাসি” মহুয়ার অস্তিত্ব ছাড়া আমি অসহায়। আমি জানি ওর বিয়ে হয়ে গেছে কিন্তু উপায় তো আছে ওরে ডিভোর্স..?আর বলতে পারলো না
“এই কথা এখানেই শেষ করো আরিয়ান।” তুমি বেশি বলে ফেলছো মহুয়া ভালো আছে, ইমন তাকে ভালো রাখছে আমার তো মনে হয় তোমার থেকে ইমন হাজার গুনে ভালো। মহুয়ার ভালো তোমার সয্য হচ্ছে না তাই তো।আরিয়ান কথা গুলা নিতে পারছে না তার মাথা ফেটে যাচ্ছে।
ইমন বাহিরে আসছিল মায়ের সাথে কথা বলতে দুজনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আসছিল তখনি কথা গুলা তার কানে চলে যায়, সামনে না এগিয়ে তাদের আড়াল হয়ে সব কথা শুনে ফেলে।
#চলবে?
কেমন হয়েছে জানাবেন, ভুল ক্রটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
