||৮||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
বহুদিন পর গ্ৰামে আসছে সব কিছুই পাল্টে গেছে এজন্য আকরাম সবাইকে বললো গ্ৰামটা একটু ঘুরে দেখবে মালিহার এসব ভালো না লাগলেই সবাই রাজি হয়ে গেলো। সবাইকে আসরের একটু আগে তৈরী হয়ে নিতে বললো শীতের সময় বেলা তাড়াতাড়িই চলে যায়।
‘তোমার এসব কিন্তু আমার অসয্য লাগছে বাসায় যাবে কবে?’
এত তাড়া কিসের তোমার? আসছি কয়দিন থেকে ভেবে দেখবো কবে যাওয়া যায়, এবার মাকেও সাথে নিয়ে যাবো।
কথাটা শুনার জন্য মালিহা প্রস্তুত ছিল না বিরক্ত হয়ে বললো
‘তোমার বুড়া মাকে কে দেখবে? আমি এসব পারবো না।’
“নিজের মায়ের বেলায় সব পারো””
‘তুমি কিন্তু বেশি বলছো, এখানে আসা থেকেই দেখছি আমার কথায় পাত্তা নেই।’
এটা আগে করা উচিত ছিল কথাটা বলেই আকরাম আর এক সেকেন্ড না দাঁড়িয়ে চলে গেলো না হলে এই মহিলা যে ঝগড়ুটে। মালিহা কটমট চোখে তাকিয়ে আছে তার স্বামীর যাওয়ার দিকে।
‘একবার চলো বাসায় বুঝাবো কত ধানে কত চাল।’
‘কাকে কি বুঝাবেন ভাবি?” মালিহা ঘুরে দেখলো তানিয়া বলছে কথাটা এই মেয়ে আবার কখন আসলো শুনলো না তো আবার?
‘কাউকে কিছু না ’
‘এখানে কেমন লাগছে ভাবি?’
‘ভালো লাগছে না, তোমার ভাই যে কবে বাসায় যাবে।’
‘আমার কিন্তু ভালোই লাগছে ভাবি। গ্ৰামের মজাই আলাদা, শহরে রুমের ভিতর বন্দি জীবন।’’’
‘তোমরাই মজা খাও,অসয্য।” বলেই চলে গেলো তানিয়া তাকিয়ে আছে উনার আবার কি হলো নিশ্চই ভাইয়ের সাথে কিছু হয়েছে।
দুপুরে খাওয়ার পর সবাই তৈরী হতে শুরু করছে মহুয়া প্রথমে যেতে না চাইলেও ইমন জোর করলো সেওতো যাবে সাথে তাহলে কি সমস্যা। সবাই তৈরী হয়ে বাহিরে আসলো।
‘আপনিও চলুন আমাদের সাথে’ সুফিয়াকে বললো ইমন।
‘না রে আমার আর কি সেই বয়স আছে, তোমরাই যাও ঘুরে আসো।’ মহুয়া বের হতেই
চাদর নিয়ে আসো, আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে ঠান্ডা লেগে যাবে। মহুয়া ইমনের কথা মতো রুম থেকে চাদর এনে গায়ে দিয়ে নিলো।
এখন পৌষ মাস চারিপাশে সবুজের আনাগোনা, বড় রাস্তা ধরে সবাই হাটছে দুপাশে বড় বিল যেখানে কৃষকেরা ধান লাগাচ্ছে, কেউ ধানে বিষ দিচ্ছে,যে যার কাজে ব্যাস্ত হয়ে আছে।
‘আব্বু আর হাটতে পারছি না’.. (তাবাস্সুম )
‘এই তো সামনে একটা পার্ক আছে ওখানে গেলেই বসতে পারবে।’ ইমন বললো
“তুমি এখানে সব কিছু চিনো নাকি? বললো ইকরাম।
টুকটাক চিনি এখানে অনেকবার যাওয়া আসা হয়েছে বন্ধুদের সঙ্গে।আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে সবাই চলে আসলো, পার্কের ভিতরে ঢুকতে গেলে একজনের ২০ টাকা করে। টাকা ইমন দিতে চাইলেও আরিয়ান দিতে দিলো না সবাইকে যেতে বলে সে টিকিট কেটে ভিতরে ঢুকলো। পার্কের ভিতরে সুন্দর করে বসার জায়গা, বাচ্চাদের খেলার জন্য সব কিছু আছে।খাওয়ার জন্য দোকান যেখানে প্রয়জনিও জিনিসপত্র পাওয়া যায়। মালিহা তানিয়া দুজনে গল্প করছে নিজেদের ভিতরে কিছু নিয়ে আলোচনা করছে।আকরাম ইকরাম দোকানে বসে চা খাচ্ছে, আরিয়ান সবার আড়ালে যেয়ে একটা সিগারেট ধরালো এটা এখন খুবই দরকার তার জন্য। তাবাস্সুম বসে আছে তার পা ব্যাথায় টনটন এত হাটাহাটি সে কখনো করেনি নাঈম তার পাশে বসে চিপস খাচ্ছে। মহুয়া দাড়িয়ে ছিলো__
“কিছু খাবে? চানাচুর, ঝাল মুড়ি, একটা আইসক্রিম এনে দিই?”
‘মহুয়া মাথা দুলালো তার অর্থ না।’
‘কেনো কি হয়েছে মন খারাপ কেনো?’
‘কিছু হয়নি বাসায় যাবেন কখন’
বেশি খারাপ লাগলে বলো চলে যাবো। মহুয়া চুপ হয়ে আছে তার কিছুই ভালো লাগছে না। মা বাবার কথা মনে পড়ছে, তাবাস্সুম নাঈম কি সুন্দর তার মায়ের সাথে, বাবার সাথে যখন যেটা চাইছে পূরন করছে। বায়না ধরলে সাথে সাথে দিয়ে দিচ্ছে।তাদের সাজ পোশাক দেখলেই বুঝতে পারছে তারা তার চাচার আদরের ছেলে মেয়ে। তারা কখনো অভাব বুঝিনি। ইমন একটু হলেও বুঝে গেলো।
‘আমি আছি তো,’ মন খারাপ করে থেকো না। তোমাকে হয়তো মায়ের অভাব বাবার অভাব পূরণ করতে পারবো না কিন্তু আমি তোমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো সুখে রাখার তোমায় কোনো কষ্ট আমি দেবো না। “তোমার হাত যখন ধরছি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই হাত আমি ছাড়বো না।”
মহুয়ার চোখ ভিজে উঠলো, মা বাবা যাদের নেই তারাই বুঝে কষ্ট।পুরো দুনিয়া অন্ধকার লাগে, পৃথিবীতে থাকার ইচ্ছা ও মরে যায়। মাথার উপরে যার মা নেই, বাবা নেই সেইসব সন্তানদের কারো কাছে কদর নেই। ইমন মহুয়ার হাত ধরে পার্কের গেটের সামনে নিয়ে আসলো যেখানে ফুল বিক্রি হচ্ছে। বেলি ফুল নেই, গন্ধরাজ আর বকুল ফুলের মালা। ইমন বকুল ফুলের মালা কিনে নিলো এটার গন্ধ টাও দারুন। মহুয়ার হাত ধরে পড়িয়ে দিয়ে…
“তুমি আমার কাছে এমন একটা ফুল, যার গন্ধে আমি শিহরিত হয়, যার পাশে গেলে আমি অস্তিত্ব খুঁজে পাই, যার সুবাসে আমি নতুন করে জেগে উঠি। “ভালোবাসি ভীষণ ভালোবসি তোমায়”
মহুয়া নিষ্পলক ভাবে তাকিয়ে আছে ইমনের দিকে এই ছেলেটে তার ভিতরে কি পেয়েছে তাকেও এত ভালোবাসা যায়? কল্পনার বাহিরে ছিল।আরিয়ান সবটাই দেখলো, সে সিগারেট শেষ করে আসছিল তখনি দেখতে পাই মহুয়ার হাত ধরে ইমন নিয়ে আসছে তাই সেখানেই দাঁড়িয়ে গেছিল। আরিয়ান একটু বিরক্ত হলো।
আমার সামনেই কেনো বার বার এসব পড়বে?সেদিন রাতেও দুজনকে এক সাথে দেখছে। সেদিন রাতে মহুয়া আর ইমন উঠছিল মহুয়ার যাতে শীত না লাগে ইমন তার শরীর থেকে সুইটার খুলে তার গায়ে পড়িয়ে দিয়েছিল দুজনে তখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিল আরিয়ানের চোখে সেটা পড়ে যায়। তার ভাগ্যে এমন করে খেলা করবে আগে জানলে সে কখনোই গ্ৰামে আসতো না। অন্য দিক দিয়ে তার জায়গা ত্যাগ করলো।
‘তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে আব্বু তোমাদের খুঁজছে’
মহুয়া ইমন নাঈমের কোথায় সেখান থেকে চলে আসলো সবাই কিছু সময় থেকে সন্ধ্যার একটু আগেই রউনা দিলো বাড়ির উদ্দেশ্যে।
#চলবে
