||৭||
#তোমার_অস্তিত্ব
#মুসলিমা_ইসলাম
সকালে এক ভদ্র লোক এসে খেঁজুড়ের রস দিয়ে গেলো সুফিয়া আগেই তাকে বলে রাখছিল টাকা তার ছেলেরা দিয়ে দিবে এই জন্য তারাও দেরি করেনি খুব সকালে রস নামিয়ে দিয়ে গেছে। সুফিয়া উঠার একটু পরেই মহুয়া উঠে আসলো।
“রস কোথায় পেলে দাদি?”
তোর রহিম দাদা দিয়ে গেছে, আমি বলে রাখছিলাম। এত সকালে যখন উঠছিস আয় আমার সাথে একটু কাজে হাত লাগা।
“এমন করে বলছো যেনো আগে কখনো তোমার কাজ করিনি।” রস নিয়ে রান্না ঘরে চলে গেলো এগুলা এখন জ্বালানো হবে। কেউ এখনো উঠেনি শহরে মানুষ দেরি করে ঘুম থেকে উঠা অভ্যাস।
‘আমাকে এক গ্লাস দেও তো’
মহুয়া পিছন ঘুরতেই দেখলো তার চাচাত ভাই আরিয়ান দাড়িয়ে আছে।কাল আসার পর দেখছিল আর এখন দেখলো। মহুয়া মাথা ঘুরিয়ে আবারো চুলায় জ্বাল দিতে দিতে__
“একটু অপেক্ষা করুন ভাইয়া।”
আরিয়ান একটু বিরক্ত হলো ভাইয়া বলাতে, আসছিল জামাই হতে এখন ভাই অসয্য।কিছুক্ষন পর সেখানে ইমন চলে আসলো।
‘কি করছো মহুয়া’
‘আপনি কখন উঠছেন’
“এখনি,উঠে দেখলাম তুমি পাশে নেই, আমাকে ডাকলে না কেনো?”
‘আপনার ঘুমের ডিসটার্ব হবে এইজন্য।’
‘বাড়ি থাকলে তো ডেকে উঠাতে।’
‘আপনি হাত মুখ ধুয়ে আসুন, রস জ্বাল করছি’
‘এত সকালে রস পেলে কোথায়?’
রহিম দাদা দিয়ে গেছে আপনি যান। ইমন চলেই যেতেই মহুয়া আবারো নিজের কাজে মন দিলো, আরিয়ান দাড়িয়ে সবটাই শুনলো,যত দূর বুঝতে পারলো তাদের সম্পর্ক মধুর। এখানে আরিয়ানের বসবাস কখনোই সম্ভব নয়। তবে সে চাইনা কারো সংসার নষ্ট করতে যেটা ছিল সেটা তার একপক্ষিত মহুয়া তো জানতো না। তাহলে কেনো সে তার সুখ কেড়ে নিবে?
“এখানে বসুন ভাইয়া”
আরিয়ান কারো কন্ঠ পেয়ে তাকিয়ে দেখলো মহুয়ার স্বামী তাকে বসতে বলছে তার নাম এখনো পর্যন্ত জানা হয়নি। বসেই পরিচিত হয়ে নিলো, দুজনেই কথার ভিতরে আরিয়ান জানতে চাইলো ইমনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি।
“বাবার দোকান এখন আমার, অনার্স শেষ করলে জব করতে পারি তবে ইচ্ছে নেই।গাড়ি বাড়ি এগুলা আমার দরকার নেই,এত টাকা দিয়ে কি করবো, সারাদিন পর শান্তিটাই দরকার আর সেটার জন্য আপনার বোন আছে ভাইয়া।”
“আপনার বোন অল্পতে খুশি হয়ে যায়, তাকে বেশি কিছু দিতে হয় না। আল্লাহর রহমতে আমার যা সামাত্য আছে মহুয়া তাতেই রানি হয়ে থাকবে। দোয়া করবেন ভাইয়া আমাদের জন্য।”
আরিয়ান কিছু বললো না মুচকি হাসলো শুধু তার এখন আফসোস হচ্ছে ইমনের কি সুন্দর চিন্তা ভাবনা অথচ এখন মানুষ টাকার পিছনে ছুঁটে, সে ওতো বিদেশ থেকে পড়াশোনা শেষ করছে যাতে ভালো জব করতে পারে , প্রতি মাসে ভালো স্যালারি হাতে আসে,মানুষ টাকার জন্য কত কি করছে টাকা পাছনে ছুটছে প্রতিনিয়ত সেখানে ইমন। ইমন আবারো বললো
““টাকা দিয়ে হয়তো সব কিছুই সম্ভব, চাইলেই সব করা যাবে কিন্তু শান্তি কিনা যাবে না।””
দুজনেই কথা বলছিল এর ভিতরে তাদের জন্য রস দিয়ে গেলো মহুয়া,রোদ উঠে গেছে বাহিরে উঠানে রোদ সবাই বসে আছে যে যার মতো গল্প করছে মহুয়া সবাইকে রস দিয়ে দিলো।ইমনের সাথেও সবাই পরিচয় হলো। সকালের নাস্তা বানানো শেষে সুফিয়া ইমনকে বলে দিলো তারা যেনো কিছুদিন থেকে যায়, কিন্তু ইমন রাজি হলোনা তার দোকান, বাসায় মা বোন একা।
‘দুলাভাই পালাতে চাচ্ছে দাদি বলে উঠলো তাবাস্সুম।’
‘ঠিক বলছিস’
‘তেমন কিছুনা দাদি, মা একা বাসায়’
‘তোমার বোন আছে না।’
‘আছে তো তবুও’
তুমি ফোন করে জানিয়ে দেও। সবার জুড়াজুরিতে ইমন উপায় না পেয়ে তার মায়ের কাছে ফোন দিয়ে জানিয়ে দিলো।
__________
মিনুর জ্বর এখনো নেই তবে মাথার যন্তনা যেনো কমছেই না। ইমন বাসায় নেই ঔষধ আনতেও পারছেনা।এমন ব্যাথা তার আগে ছিলনা ডিভোর্স হওয়ার পর থেকে হুটহাট ব্যাথা করে। রুম থেকে বের হয়ে তার মায়ের কাছে যেয়ে বসলো।
‘মা মাথা টা ব্যাথা করছে প্রচুর একটু তেল দিয়ে দেও।’
‘মা ইমনরা বাসায় আসবে কবে?’
ওর চাচা শশুড়রা নাকি শহর থেকে আসছে তাই কিছুদিন থাকতে বলছে আমাকে ফোন দিয়ে বলছে।
‘তুমি কি বলছো’’
‘বেশিদিন থাকতে মানা করছি বাড়ি তুই আমি একা।’
সেই চিন্তা ভাবনা কি তোমার ছেলের আছে মা যদি থাকতো তাহলে আজকেই চলে আসতো।
এমন করে বলিস না,তোর চাচারা আসলে ওতো তোকে রাখতাম তাদেরও রাখছে্ আর বলতে গেলে এখন সে নতুন জামাই। তুই এসব নিয়ে আর কথা বলিস না তো দিন দিন কেমন যেনো হয়ে যাচ্ছিস। তুই আমার মেয়ে, ছেলে বিয়ে করছে তার বউও আমার আরেক মেয়ে,আমার কাছে সবাই সমান। মিনু চুপ হয়ে গেলো তেল দেওয়া শেষে উঠে চলে গেলো তার রুমে।
তার মা খুব ভালো, সব শাশুড়ি কি খারাপ হয়? নিজের মাকে না দেখলে হয়তো বুঝতো না। সে পরের মেয়েকে নিজের মেয়ের জায়গায় রাখছে অথচ তার মেয়েকে কাজের মেয়ে করে রাখা হতো। সংসারে কাজ না করলে খেতে দেওয়া হতো না,নিজের কোনো সংসার ছিল না, শাশুড়ির কথা মতো চলতে হতো। এসব যদি তার মা জানতো তাহলে বুঝতে পারতো তার মেয়ের কষ্ট।
#চলবে?
