#তুই_আমার_শেষ_ক্ষুধা
#শারমিন_প্রিয়া
৬.
কলেজে প্রথম দিন আরশীর। গেটে বড় বড় করে সোনালি কারুকার্যে লেখা— “নীলিমা সেন্ট্রাল কলেজ”। বড় গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে সবুজে মোড়া বিশাল ক্যাম্পাস। দুই পাশে সারি সারি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমগাছ আর কাঠগাছ। সকালবেলার হালকা বাতাসে গাছের প্রতিটি ডালের পাতা নড়ছে।
পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে ছড়িয়ে আছে ছাত্র–ছাত্রী। কেউ বড় অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে গল্প করছে,
কেউ ক্লাসের গ্রুপ স্টাডি করছে, কেউবা আড্ডা দিচ্ছে। এত এত স্টুডেন্টের মধ্যে আরশীর পরিচিত কেউ নেই। সবই নতুন, সবই অপরিচিত মুখ।
কলেজের মাঝখানে একটি বড় পুকুর, পাশে সাইনবোর্ডে লেখা ‘নীলিমা দীঘি’।
তার ওপর ভাসছে অসংখ্য শাপলা। সকালের রোদের আলো শাপলার পাতায় পড়ে চকচক করছে।
আরশী শাপলা ফুলের দিকে তাকিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। বেখেয়ালি হয়ে হুট করে অপর পাশ থেকে আসা একজনের সঙ্গে ধাক্কা খায়। যার সাথে ধাক্কা লাগে সে এ কলেজের লিডার। নাম হেমন্ত।
হেমন্ত আচমকা ধাক্কা খেয়ে সোজা পুকুরে পড়ে যায়। ঝপাৎ করে শব্দ হয়।
আরশী স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। চারপাশের ছাত্র–ছাত্রীরা মুহূর্তেই জড়ো হয়। ভয় চেপে বসে আরশীর মনে। প্রথম দিন কলেজে এসে কী কান্ড করে বসল সে।
হেমন্ত তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়ায়। ভিজে জবুথবু সে, শরীরের পানি ঝরছে। তার চোখ রাগে লাল হয়ে আছে। কটমট করে এগিয়ে আসে আরশীর দিকে এবং হঠাৎ এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয় আরশীর গালে। “ চোখ নেই মেয়ে? দেখে হাঁটতে পারিস না? আমার আইফোন পানির মধ্যে পড়ে গেছে! টুকরো টুকরো করে ফেলব তোকে!”
উপস্থিত সবার বিষয়টা খারাপ লাগছে, তবুও কারও সাহস হলো না হেমন্তের সঙ্গে কথা বলার। আজকাল কে যেচে ঝামেলা বাড়াতে যায়!
আরশী কাঁপছে। তার মুখে কোনো কথা নেই। যেখানে ছেলেটা থাপ্পড় মেরেছে সেখানেই হাত দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে সে। আজ অব্দি কেউ তাকে এভাবে মারেনি। ছেলেট মারল, তাও সবার সামনে। আরশীর মনে হচ্ছে পাখির মতো এখান থেকে উড়ে পালিয়ে যেতে।
হেমন্তের রাগ মোটেও কমছে না। সে সমানে ধমকাতে লাগল আরশীকে, “ কালকেই আমাকে আইফোন কিনে দিবি! নয়তো তোকে আমি ছাড়ব না!”
আরশী এবার জোরে কেঁদে উঠল।
ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত হয় অচেনা একজন— শ্যামলা রঙের লম্বা এক ছেলে। কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো। ছেলেটার সঙ্গে ছিল আরও একজন। যে হাত দিয়ে হেমন্ত আরশীকে মারছিল, সেই হাত টেনে ধরে হেঁচকে দেয় আগন্তুক ছেলেটা। তারপর হেমন্তকে ধাক্কা দিয়ে বলে, “ কি করবি ওকে? বল, কি করবি? একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে গেছে, মেয়েটা তো ইচ্ছে করে করেনি। মেয়েটাকে মারার তুই কে?”
তার ধমকানোতে কেঁপে উঠল কলেজ প্রাঙ্গণ— এমনকি হেমন্তও। হেমন্তের শক্তি নেই তার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার। ছেলেটা হেমন্তের হাত ধরায় হেমন্তর মনে হলো হাড্ডি–গুড্ডি সব ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
বুঝল, এর সঙ্গে সে পারবে না। তাই আগেভাগেই হাত জোড় করে মাফ চাইল। ছেলেটা বলল, “ আমার কাছে মাথা ঘুরাবি না। ওর কাছে মাফ চা।”
হেমন্ত আরশীর কাছে মাফ চায়। তারপর দ্রুত জায়গা ত্যাগ করে। যেতে যেতে একবার ফিরে দেখে সদ্য এন্ট্রি নেওয়া ওই ছেলেটাকে।
দাঁড়িয়ে থাকা সবার মধ্যে গুঞ্জন শুরু হলো সেই আগন্তুক ছেলেটাকে নিয়ে। আরশী দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ।
ছেলেটা আরশীর কাছে এসে নরম গলায় বলল, “চলো, আমার সাথে এসো।”
আরশী কোন প্রশ্ন না করে সাথে যায়। মনে মনে সে এ জায়গা ত্যাগ করতে চাচ্ছিল।
ছেলেটা তার বন্ধু আর আরশীকে নিয়ে অ্যাকাউন্ট ডিপার্টমেন্টের বারান্দায় বসে। ব্যাগটা পাশে রেখে আরশীকে বলে, “আর কেঁদো না। চোখ মুছো। নার্ভাস হওয়া যাবে না। বাই দ্য ওয়ে, তোমার পরিচয়? “
আরশী চোখ–মুখ মুছে, ভেজা পলক ফেলে বলে, “ আমি আরশী।”
ছেলেটা নিজের বুকের দিকে আঙুল তুলে বলে, “আমি আরহাম। আর ও আমার বন্ধু রাকেশ। আমরা পাশের কলেজে পড়ি। এখানে ঘুরতে আসছিলাম। তুমি কীসে পড়ো? বাসা কোথায়?”
“নতুন ভর্তি হয়েছি। এখানে থেকে আধ ঘন্টা দূর বাসা।”
আরহাম একটু ঝুঁকে আরশীর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, “ এই কলেজ আমার পাহারায় থাকবে। তুমি আর ভয় পেয়ো না, কেমন? কেউ সাহস পাবে না তোমাকে কিছু বলার।”
আরহামের কথায় আরশী খুব ভরসা পেল। চোরাচোখে সে একবার দেখে নিল আরহামকে, উঁচু নাক, তীক্ষ্ণ চোয়াল, শান্ত চোখ, উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙ। সব মিলিয়ে ক্রাশ খাওয়ার মতো ছেলেটা।
আরহাম তাকাতেই আরশী চোখ ঘুরিয়ে নিল।
আরহাম হেসে ফেলল, “তুমি আমাকে দেখছিলে? চোরাচোখে দেখার কি দরকার! সরাসরি দেখে নিতে পারো তো।”
আরশীর ঠোঁটে অনিচ্ছা সত্ত্বেও লজ্জার হাসি ফুটে উঠল।
রাকেশ হাতঘড়ি দেখে বলল, “আমাদের এখন ক্লাস আছে।”
আরহাম উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “আমরা যাচ্ছি। কিছু হলে অবশ্যই জানাবে। রাকেশ, নাম্বারটা দিয়ে আয়। কিছু হলে নক করবে।”
নাম্বার দিয়ে আরহাম আর রাকেশ চলে যায়। আরশীর ভালো ফিল হচ্ছে। আরহামের কথায় তার নার্ভাসনেস কেটে গেল।
বাড়ি গিয়ে মায়ের সাথে পুরো ঘটনাটা গল্প করে আরশী। মা শুনে বলেন, “নিশ্চয়ই ভালো মায়ের সন্তান সে, তাই তো এভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে।”
রাতে ঘুমাতে গিয়ে আরহামকে নিয়ে অদ্ভুত কিছু হচ্ছিল আরশীর মনে। বারবার চোখে ভাসছিল মুভির মতো, হঠাৎ করে আরহামের এন্ট্রি, তারপর ভিলেনকে মারা, তারপর আরহামের মুখের হাসি… চোখ… সবকিছু বারবার ভেসে উঠছিল আরশীর মনে–চোখে।
***********
আরশীর নতুন বাসা থেকে আরও ভেতরে, বিলের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে এক দুইতলা পুরনো প্রাসাদ। প্রাসাদটা প্রথম দেখায় মনে হয় ভুতুড়ে, দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাতাস হলে জং ধরা জানালার গ্রিল কড়মড় করে শব্দ তোলে। চারপাশে পুরনো মহুয়া গাছ মাথা ঝুঁকিয়ে শুয়ে আছে। সব মিলিয়ে কেমন যেন দেখতে প্রাসাদটা।
এটি এক সময় পুরনো জমিদার বাড়ি ছিল। বংশপরম্পরায় এর বর্তমান মালিক অন্য শহরে থাকেন। প্রাসাদ অনেকদিন অবহেলায় পড়ে থেকে তার সমস্ত সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে। একা-একা দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়িটিকে কেউ ভাড়া নিতে চায় না, কিনতেও চায় না।
এটা দেখে কায়ানের বেশ পছন্দ হয়। মানবজগতে তার লুকিয়ে থাকার জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ। তাছাড়া শোরগোল তার ভালো লাগে না। সে মালিককে খুঁজে বের করে মোটা দামে কিনে নেয়। নতুন করে রং করে বাড়ির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনে। প্রাসাদের নিচে নিজেরাই বানিয়ে নেয় রাক্ষস গুহা। সেখানে তারা নিজের মতো সময় কাটায়। বড় বাড়িটায় বসবাস করে চারজন রাক্ষস।
এই মুহূর্তে কায়ান রাত্রেশ সে তার আসল রূপে গুহায় বড় কালো গদিতে বসে আছে। দেয়ালে লাল হয়ে মশাল জ্বলছে। রাগে তার বুক দপদপ করছে। হঠাৎ সে পাশের কাঠের চেয়ারটায় এক থাপ্পড় মেরে উঠে দাঁড়ালো—
“রাভান! দ্রোহান! কোথায় তোরা?”
দুজন ছুটে এলো তাড়াতাড়ি। কায়ান রাত্রেশ গর্জে উঠলো,
“কত বড় সাহস ওর! আরশীর গায়ে হাত দেয়! রাতের ভোজ হিসেবে আমি ওকে চাই। আমরা সবাই ওকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাব।”
দ্রোহান কাঁপা গলায় বলল,
“আপনি তো বললেন আর মানুষ খাবেন না সর্দার?”
“ ওকে খেতে চাই। নাহলে রক্ত ঠান্ডা হবে না আমার।”
“ সে না হয় খাবেন। কিন্তু…”
দ্রোহান দুরুদুরু বুকে বলেই ফেলে,
“সর্দার, মানবরূপে আমি বারবার আসতে পারব না। আমার শক্তি ক্ষয় হবে। আমি মানুষ হতে পারব না আর।”
রাভানও পাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দ্রোহানের কথাটা তারও। সর্দারের ভয়ে তারা বলতে পারে না। তারা কেউই মানবরূপে আসতে চায় না।
কায়ানের মেজাজ এমনিতে গরম। দ্রোহানের কথা শুনে সে আরও চটে গেল। চোখ রক্ত ঝরছে তার, যেন চোখ দিয়েই ভস্ম করে ফেলবে দ্রোহান আর রাভানকে। চোখ বন্ধ করে সে আরশীর মুখ চোখে আনার চেষ্টা করল। সঙ্গে সঙ্গে তার সব রাগ উধাও হয়ে গেল। সে স্মিত হেসে দ্রোহান আর রাভানকে বলল—
“বাবাকে বলে তোদের শক্তি বাড়িয়ে দেবো আমি। টেনশন নিস না। শুধু সাথে থাক। আরশীর একটা পরিবার দেখানো দরকার আমাদের।”
দ্রোহানরা স্বস্তি পেলো। খোশমেজাজে সর্দারকে বলল,
“আমরা যাচ্ছি। রাতের ভোজ নিয়ে আসছি। গুহায় গিয়ে আড্ডা দিয়ে খাওয়া হবে।”
কলেজে দ্বিতীয়বার দেখা হলো আরশীর আরহাম উরফে কায়ানের সাথে। আরশী ক্লাস শেষে ফিরছিল, তখন আরহামের সাথে তার দেখা হয়। আরহাম নিজ থেকে হাই বলল। তারপর জিজ্ঞেস করল—
“আজ কেউ বিরক্ত করছে?”
আরশী মাথা ঝাঁকিয়ে না বলল।
“আমরা বসে কথা বলতে পারি? পারমিশন দিবে?”
আরশী উৎফুল্ল হলো। সে জানে না এই মানুষটাকে তার এত ভালো লাগছে কেন। কাছে থাকলে অদ্ভুত ফিলিং হয়। মনে হয় মানুষটা বসে থাকুক, এত সুন্দর করে কথা বলে, শুধু তাকিয়ে শুনতে ইচ্ছে করে। আরশী আবারও মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক মতামত দিলো।
“তুমি কি সবসময় মাথা নাড়াও? কথা কম বলো?”
আরশী মাথা কাত করল।
আরহাম হেসে উঠল—
“দেখো তুমি আবারও এরকম করছো!”
আরশী এবার মুখ টিপে হাসল। আরহাম গভীর চোখে আরশীর হাসি দেখলো। তারপর পর্যবেক্ষণ করলো আরশীর চোখ, ধূসর চোখ যে এত সুন্দর হয়, আরশীকে না দেখলে আরহাম বুঝতই না।
তারা বসল বড় শিমুল গাছটার নিচে। পাশে ছড়ানো অনেক ফুলের পাপড়ি। আরহাম কয়েকটা পাপড়ি জড়ো করে ছুড়ে মারলো আরশীর দিকে। পাপড়িগুলো ছড়িয়ে পড়ল আরশীর চুলে-মুখে। সে লজ্জার হাসি হাসলো।
আরশীর বয়স এখনও অল্প। আরহামের অল্প সঙ্গেই আরশী ঘায়েল হয়ে যাচ্ছে। আরহাম এটা বেশ ভালো টের পাচ্ছে। মনে মনে সে খুশি। সে তো এটাই চাই। আর আরশী ঘায়েল হবেই বা না কেন? ঘায়েল হওয়ার জন্য সবকিছু ইউনিক করে করা হচ্ছে। তাছাড়া আরহামের মানবরূপ খারাপ নাকি! ভিড়ের মধ্যেও মেয়েদের নজর তার দিকেই থাকে।
“আরশী?”
“হুঁ?”
“আমরা তো ফ্রেন্ডের মতো গেলাম?”
“হুঁ…”
আরহাম একটু ঝুঁকে বলল,
“একটা প্রস্তাব দিই?”
আরশী চোখ বড় করে,
“কি?”
“তুমি অভয় দিলে বলতে পারি?”
আরশী মাথা কাত করল,
“বলুন না…”
আরহাম ভ্রু তোলে,
“আপনি করে কেন বলো? ‘তুমি’ বলতে পারো না?”
“আপনি এত বড় মানুষ!”
“বড় মানুষ হলে কি ‘তুমি’ বলা যায় না?”
আরশী আমতা আমতা করে। সে ছেলেদের সাথে কথা বলতে অভ্যস্ত নয়। তাই জড়তা কাজ করে। আরহামকে তার ভালো লাগে কিন্তু কথা বলতে সংকোচ আসে।
“তুমি বলার চেষ্টা করবে, ঠিক আছে?”
“আচ্ছা…”
আরহাম এবার আরশীর দিকে গভীর দৃষ্টি দিয়ে বলল,
“এবার শুনো… তুমি আমার প্রিয়তমা হবে? নাকি অর্ধাঙ্গিনী হবে?”
আচমকা এরকম হৃদয়স্পর্শী কথায় আরশীর হৃদস্পন্দন কেঁপে উঠল। শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বাড়লো। কি বলে ফেলল এক মুহূর্তে লোকটা! মুহূর্তেই ঝড় তুলে ফেলল সর্বাঙ্গে।
আরহাম বুঝে আরশীর ব্যাপারটা। সে আলতো করে হাত রাখে আরশীর ঘাড়ে।
“ঘাবড়ে যেও না। ধীরে সুস্থে ভেবে বলো। প্রথম দেখায় তোমাকে ভালো লেগেছে। আমি এখনই তোমাকে ঘরে তুলতে চাই। এখন তুমি শুরুতেই ঘরে উঠবে নাকি কয়েকদিন প্রেম করে এনজয় করবে—তোমার সিদ্ধান্ত।”
এই বলেই জিভে কামড় বসায় আরহাম।
কি বলে বসল! সে কেন অপশন দিলো আরশীকে? সে তো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চায় আরশীকে। রাক্ষস রাজ্যের রানী বানাতে চায়। শুরুতে কেউ মেনে না নিলেও, আরশী বাচ্চা জন্ম দিলে এমনিতে সে রানী হয়ে উঠবে, নিজের জায়গা নিজে পেয়ে যাবে।
আরশী মুখ ঘুরিয়ে আছে। আরহাম ঝুঁকে তার দিকে, “প্রেম করা ভালো না। বিয়ে পবিত্র সম্পর্ক। বিয়ের আগের ভালোবাসার চেয়ে বিয়ের পরের ভালোবাসা গভীর হয় বেশি। আমি গভীরটা চাই। তোমার কোন মতামত আছে?”
আরশীর কাঁপন বাড়ে।
লোকটার কি লজ্জা-শরম নেই! সরাসরি পাত্রীকে কেউ এসব বলে? এখন আমার এই কাঁপন কমাবে কে?
“আরশী, তোমার কিছু বলতে হবে না। তুমি স্থির হও। আমি যাচ্ছি এখন। কাল দেখা হবে।”
এই বলে আরহাম উঠে চলে গেল।
আরশী ফোঁস করে শ্বাস ছাড়ে। আরহামের যাওয়ার পথে তাকিয়ে দেখে, আরহাম নেই। চলে গেছে।
আরশী মনে মনে বলল, “মানুষটা মনটা এমন অশান্ত করে চলে গেল কেন?”
চলমান…..!
