*প্রিয়দর্শনীর নেশাক্ত আখি*
কলমে – শ্রেষ্ঠা ওরফে মেঘ
এই জো মাইয়া তোমার নাম কি।
মেয়েটি জমিতে ধান চাষ করছিল, কিন্তু পেছন থেকে এক পুরুষালী শব্দ শুনে সে তার কাজ খনিকের জন্য থামিয়ে পিছন ফিরে না তাকিয়েই বলল —
— আমার নাম প্রিয়দর্শিনী।
পুরুষটি আবার জিজ্ঞেস করল, আমার একটু উপকার করতে পারবে গো মাইয়া?
এবার প্রিয়া, মানে প্রিয়দর্শিনী, চোখ মুখ কুঁচকে হাতের কাজ ফেলে পেছন ঘুরে দেখল—এক বলিষ্ঠ, পেশীবহুল দেহের পুরুষ। তার গায়ে ডিপ ব্লু শার্ট, আর গায়ের রঙ প্রায় বিদেশিদের মতো ফর্সা। কেউ সহজে ধরতেই পারবে না, এ দেশি না বিদেশি।
প্রিয়া এই খটখটে রোদের মধ্যে হাত-পায়ে কাদা-মাখা অবস্থায় ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে সেই পুরুষটিকে দেখছিল।
সে পুরুষটি প্রিয়াকে দেখে নিয়ে হু… হা.. করে হেসে উঠল, আর তখনই প্রিয়ার ধ্যান ভাঙল।
সে একবার নিজের দিকে তাকিয়ে নিয়ে তারপর সেই পুরুষের দিকে তাকিয়ে বলল—
এই কাকু, আপনি কেডায়? এইভাবে আমারে দেইখা হাসছেন কেন?
সেই পুরুষটি বলল, আমি কে, সেটা না হয় পরে বলব। তা তুমি তো বেশ দেখতে, যে কেউ একবার তোমারে দেখলে ফিদা হয়ে যাবে। তা এই গ্রামে তুমি কি এক জন ডানকাটা পরী? নাকি এমন আরো কেউ আছে এ গ্রামে ?
প্রিয়া এই কথা শুনে রাগে গজরাতে গজরাতে বলল—
সালা! আমি ডানাকাটা পরী হলে তুই বদরমুখ সিম্পাঞ্জি!
ওই পুরুষটি বুঝতে পারল, মেয়েটি খুবই সহজ-সরল, তবে ওর চোখে এক অদ্ভুত মায়া আছে।
দেখতে তো সুন্দরী, তবে ওর দিকে একবার যে তাকাবে, তার নেশা ধরে যাবে।
পুরুষটি একদৃষ্টিতে প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে এসব ভাবছিল, ঠিক সেই সময় প্রিয়ার এক বান্ধবী এসে প্রিয়ার হাত ধরে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
আরে প্রিয়া! তুই কাকে কি বলছিস? তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?
(প্রিয়া): কেন? উনি কি এই গ্রামের পঞ্চায়েত নাকি, যে উনাকে সম্মান দিব? আর তাছাড়াও উনি আমারে কিসব উল্টোপাল্টা কথা বলল জানিস?
প্রিয়ার বান্ধবী এবার প্রিয়াকে বোঝানোর সুরে বলল—
আরে বোহিন রে, আমি সব শুনেছি। আর উনিতো ঠিক কথাই বলেছে—তুই তো সত্যিই সুন্দরী। তাই উনি তোকে ডানকাটা পরী বলেছে। আর তাছাড়া এই জমির ছোট মালিক উনি, বুঝলি?
প্রিয়া তো অবাক! এখন ও কী করবে? ওকে যদি আর এই জমিতে কাজ করতে না দেয়, তাহলে ও কিরে ওর বাবা-মাকে নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচবে?
প্রিয়ার ভাবনার মাঝেই পুরুষটি বলে উঠল—
আমি নিশান শিকদার। আজই আমি গ্রামে ছুটি কাটাতে এসেছিলাম। তাই ভাবলাম, একটু গ্রামটা ঘুরে আসি। কিন্তু এটা ভাবিনি যে কোনো প্রিয়দর্শিনী নামের মেয়ের হরিণের মতো তনুতনু চোখের প্রেমে পড়ে যাবো। তাও আবার প্রথম দেখাতে! প্রেমে পড়া বললেও ভুল হবে, এককথায়—নেশা ধরে গেছে।
আর এই মেয়ের চোখের নেশা যখন একবার আমাকে ধরেছে, তখন এই প্রিয়দর্শিনী আমার হৃদয়েই আবদ্ধ থাকবে।
—সমাপ্ত—
নিষিদ্ধ কাঠগোলাপ
*শ্রেষ্ঠা ওরফে মেঘ*
আমি দাঁড়িয়ে আছি কাঠগোলাপ গাছটার নিচে।
একজনের অপেক্ষায়।
তবে আজকের অপেক্ষাটা একটু আলাদা—
কারণ যার জন্য দাঁড়িয়ে আছি, সে ছিল আমার জীবনের জীবন্ত কাঠগোলাপ।
আর আজ সে আমার কাছে একরকম মৃত ফুল।
মানে, যাকে আমি সামনাসামনি দেখব,
তবু তাকে কোনো বিশেষ মানুষ ভেবে অনুভব করা আমার পক্ষে আর সম্ভব না।
কারণ, এই ভাবনাটা এখন আমার জন্য একেবারে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
কেমন দিন কাটছে, জুইফুল?
এই ডাকটা কানে আসতেই কাঠগোলাপ গাছটার দিক থেকে চোখ সরালাম।
দেখলাম, আমি যার অপেক্ষায় ছিলাম—সে এসে গেছে।
আমি কিছু বলার আগেই সে বলে উঠলো—
মিট মাই ওয়াইফ, নিশিতা।
এই কথাটুকু শুনেই বুকের ভেতর দিয়ে যেন বিদ্যুৎ বয়ে গেল।
এক মুহূর্তে বুঝে ফেললাম—
আমার কাঠগোলাপ, অর্থাৎ আমার ভালোবাসার মানুষ ত্রিশিত..
আজ আর আমার নয়।
সে এখন অন্য কারও।
তাই এখন তাকে নিয়ে মনে কিছু ভাবতে চাইলেও,
মনে হয় যেন কেউ ভিতর থেকে বলে ওঠে—
না, ও ভাবনা এখন আমার জন্য নিষিদ্ধ।
—- সমাপ্ত
এক কাপ চায়ে তোমাকে চাই
*শ্রেষ্ঠা ওরফে মেঘ*
আমি অফিস থেকে ফিরছিলাম রাত আটটার দিকে। হঠাৎই দেখলাম—আমাদের পাড়ার সেই তিরিশ বছরের পুরনো চায়ের দোকানে বসে আছে এক চেনা মুখ, চেনা মানুষ—অনুভব।
কিছুটা দূর থেকে তাকিয়েই পা থেমে গেল আমার। চোখের সামনে যেন ভেসে উঠল কলেজ জীবনের দিনগুলো। সাহস জুগিয়ে এগিয়ে গেলাম তার সামনে। জানি না, সে আমাকে চিনতে পারবে কিনা, কিন্তু আমি তাকে চিনতে একটুও ভুল করিনি।
অনুভব হাতের মুঠোয় একটা চায়ের মাটির ভাঁড় নিয়ে বসে আছে পাড়ার পুরনো চায়ের দোকানে। পরনে পাজামা–পাঞ্জাবি, কাঁধে শান্তিনিকেতন থেকে কেনা সবুজ রঙের ঝোলা। বুকপকেটে গোঁজা একটা কলম, চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, আর ধূসর রঙের শান্ত দু’টো চোখ। মনে হয়, ঝোলাটার ভেতরে রাখা আছে সুকুমার, শ্রীজাত, নজরুল আর আরও অনেক লেখক–লেখিকার গল্পের বই।
আমি তাই তার অনেকটা সামনে গিয়ে দেখলাম,সে হাতে স্পাইরাল নোটবুক নিয়ে, মাথা নিচু করে আঁকছে কোনও এক মেয়ের স্কেচ। বুকভরা একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে আমি তাকে ডেকে উঠলাম—
কেমন আছো…. অনুভব?
অনুভব আমার দিকে তাকাল।
তারপর সেই আঁকার খাতাটা আলতো করে বন্ধ করে উঠে দাঁড়াল। চশমাটা ঠিক করে নিল চোখে, গভীরভাবে আমার দিকে তাকিয়ে বলল—
আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না?
আমি খানিকটা অবাক হলাম। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই মানুষ, যাকে ভুলবার প্রশ্নই ওঠে না। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর নরম গলায় বললাম—
আমি চারু… চারুলতা সেনগুপ্ত।
অনুভব হালকা শুকনো হেসে জিজ্ঞেস করল,
আচ্ছা… তাহলে আমায় মনে আছে, প্রিয়তরী?
আমি অবাক হয়ে গেলাম—অনুভব আমায় মনে রেখেছে!
ঠিক তখনই ও হালকা হেসে জিজ্ঞেস করল,
কি হলো চারু? অবাক হলে যে আমি তোমায় চিনিনা বলেও আবার কিভাবে সেই পুরোনো, আমার দেওয়া ডাকনামে তোমায় ডাকলাম—সেটা ভাবছো?
আমার তখন ভীষণ আনন্দ হচ্ছিল। অনুভব আবার বলল—
নাম—চারুলতা সেনগুপ্তা।
স্টুডেন্ট অফ সরোজিনী নাইডু কলেজ।
সাবজেক্ট—ইংলিশ লিটারেচার অনার্স।
ব্যাচ—২০২০-২০২২।
বাড়ি—হাতিবাগান।
ফেভারিট ফুড—চা খেতে ভীষণ ভালোবাসে।
ফেভারিট প্লেস—যেকোনো ক্যাফেটেরিয়া।
হবি—গান গাওয়া আর কবিতা লেখা…
কি, মিস চারু? মনে আছে? যদিও আমাদের দেখা হয়নি গত দুই বছর, তবুও কি সব মনে আছে আমার? ঠিক বললাম তো?
আমি তো একেবারে অবাক—
অনুভব, এত কিছু এখনো মনে রেখেছ তুমি?
অনুভব আমার হাতে এক কাপ চা ধরিয়ে দিয়ে হেসে বলল—
কি করব বলো? যার সাথে টানা তিন বছর প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার সময় আর ফেরার পথে চা খেতাম, তাকে কি ভোলা যায়? কিন্তু জীবনে সাবলম্বী হওয়ার জন্য যখন দুই বছর যোগাযোগ রাখিনি, তখন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তবে দেখো, কেমন ব্যাপার—আজ আবার দেখা হলো তোমার সাথে, আর আমাদের গল্প শুরু হলো সেই হারিয়ে যাওয়া দুই বছরের চায়ের স্মৃতি নিয়ে। আজ দেখা হওয়ায় আবার সেই পুরোনো চায়ের দোকানটায় একসাথে বসে চা খাওয়ার সুযোগ পেলাম। আসলে আজ আমার আরও চা খেতে ইচ্ছে করছে… এক কাপ চায়ে আজ মন ভরবে না।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম—
কেন?
অনুভব হালকা আফসোসের সুরে বলল—
কারণ, আমার চা-পাগল প্রিয়তরী চারুলতার সাথে দুই বছর পর দেখা হয়েছে… আর এই সময়টা কাটানোর এর চেয়ে ভালো সুযোগ নেই। তাই আমার কাছে আজ প্রতিটা কাপ চায়েই তোমাকেই চাই। বুঝলে তো, আমার প্রিয়তরী চারুলতা?
— সমাপ্ত–
নীলাঞ্জনার বৃষ্টিময় প্রেম কাব্য
*শ্রেষ্ঠা ওরফে মেঘ*
চারিদিক বাঙালির সব থেকে বড় পুজো দুর্গা পুজোর গন্ধে ভরে আছে। আজকে অষ্টমী। নীলাঞ্জনার মন কিছুটা ভালো আবার কিছুটা খারাপ কারণ এবারে এখনও পর্যন্ত একদিনও পুজোতে ঠাকুর দেখতে বেরাতে পারেনি কারণ রাস্তাঘাটে প্রচুর জল আর শুধুই বৃষ্টি হচ্ছে। তবে আজ যতই হোক অষ্টমী আর মাত্র দুদিন তারপর যে পুজো শেষ। নীলাঞ্জনা আজকে সকাল সকাল স্নান করে একটা লাল রঙের শাড়ি পরে হালকা গোলাপি লিপস্টিক আর গাঢ় কাজল পরে অল্প সাজগোজ করে নিয়ে তার বাড়ির ছাদটায় চলে এসেছে। আর তার হাতে ছিল একটা ডায়েরি। নীলাঞ্জনা ছাদের কার্নিশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে চোখের কোনের সামান্য জল’টা মুছে ডায়েরি’টা খুলল আর পড়তে লাগল,
প্রিয় মায়াবতী নীলা,
এই পুজোতে আর হয়তো আমাদের দেখা হল না, তবে সামনের পুজোতে আমি মহালয়ার দিন অবশ্যই তোমার বাড়ি আসব আর দশমী অবধি তোমাদের সকলের সাথে ভালোভাবে পুজো কাটাব, স্পেশালি তোমার সাথে।
ইতি
তোমার বেহায়া প্রেমিক পুরুষ
ব্যস ডায়েরি’টা পড়া শেষ করতেই শুরু হলো আবার টিপ টিপ বৃষ্টি। নীলাঞ্জনার চোখের জল যেন বৃষ্টির সাথেই মিশে গাল বেয়ে পড়ছে কারণ এই ডায়েরিটাতে একটা ছোট্ট চিঠি ছিল যেটা আজ থেকে পাক্কা ন’বছর আগে কেউ নীলাঞ্জনাকে দিয়েছিল। আর এই চিঠির লেখা যেন চিঠিতে নিবন্ধ ছিল কারণ নীলাঞ্জনার সেই বেহায়া প্রেমিক পুরুষ আজও আসেনি। নীলাঞ্জনা ডায়েরি’টা হাতে নিয়ে আকাশের পানে চেয়ে আছে, ঠিক তখনই ওর খুব নিকটে ওর কানে আসে এক পুরুষালি ভারি কণ্ঠস্বর যে ওকে ডাকছে, কেমন আছো নীলাবতী?
নীলাঞ্জনা পেছনে ফিরে তাকায়, তবে ও ঠিক বুঝতে পারছে না ওর সামনের পুরুষ মানুষটি আসলে কে! তাই ও সরাসরি সেই পুরুষের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ল।
— কে আপনি? ঠিক চিনতে পারলাম না তো আপনাকে!
ওর সামনে থাকা সেই পুরুষটি ওকে বলল, আমি কাব্য।
— কাব্য?
— আজ্ঞে ম্যাডাম, তা তুমি কেমন আছো নীলাবতী?
কাব্যের মুখে নীলাবতী ডাক’টা শুনে নীলাঞ্জনার যেন বুক কেঁপে উঠল। সারা শরীর বেয়ে একটা শিহরণ জেগে উঠল।
নীলাঞ্জনা মনের এক নীরব দুঃখ নিয়ে বলে,
— আজও মনে রেখেছ তাহলে আমায়?
কাব্য সামান্য হেসে,
— কি করে ভুলি বলো! তুমি তো আমার মায়াবিনী নীলাবতী যাকে আমি আমার কিশোর বয়স থেকে ভালোবেসে এসেছি আর এই বিষয়’টা আর কেউ জানুক বা না জানুক তুমি তো জানতে তাই না!
নীলাঞ্জনা মনে অভিমান নিয়ে বলে,
— তুমি যদি আমায় সত্যি ভালোবাসতে তাহলে আমায় মনে রাখতে আর ন’বছর আগে বলেছিলে যে তুমি আমাদের বাড়িতে আসবে আমরা সবাই একসাথে পুজো কাটাব। আর আজ ন’টা বছর কেটে গেছে। এখন তুমি আসলে আমার খোঁজ নিতে! এতদিন একটা বারের জন্যও মনে পড়ল না আমার কথা?
কাব্য হাঁটু গেড়ে নীলাঞ্জনার সামনে বসে,
— কি করে ভুলতে পারি আমি এই মায়াবিনীকে? তোমাকে ভুলে থাকা আমার যে পক্ষে সম্ভব নয় নীলা!
— তাহলে এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?
— আমি তোমাকে যখন ভালোবেসেছি তখন তোমাকেই আমার জীবনসঙ্গিনী বানাব আর এই কারণেই আমি ন’টা বছর আগে যখন তোমায় ওই ডায়েরিতে চিঠি’টা লিখে দিয়ে গিয়েছিলাম ঠিক তার পরদিনেই আমি আমার বাবা মায়ের সাথে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলাম কারণ তুমি জানো যে সেখানে আমার বাবার বিজনেস আছে।
নীলাঞ্জনা কাব্যকে এবার উঠিয়ে দাঁড় করালো।
— সবই বুঝলাম কিন্তু এতদিন কোথায় ছিলে সেটা তো বললে না?
কাব্য এবার একটু শ্বাস নিয়ে আবার বলতে শুরু করে,
— ধৈর্য্য ধরুন ম্যাডাম বলছি আমি।
— হুম বলো।
— তখন যে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলাম আর ফিরতে পারিনি কারণ বাবার বিজনেসের সব রেসপনসিবিলিটি ওইখানেই পার্মানেন্টের জন্য হয়ে গিয়েছিল। আর এটা জাস্ট মা বাবা জানতো কিন্তু আমায় জানায়নি, তার জন্যই ভেবেছিলাম যে নেক্সট ইয়ার দুর্গা পুজোতে আমি মা বাবা সবাই একসাথে তোমাদের বাড়িতেই পুজো কাটাব কিন্তু সেটা আর করতে পারলাম না।
নীলাঞ্জনা এবার দুই হাত ভাঁজ করে বলে,
— তাহলে এতদিন পর আসলে কেন?
— আমি আমার মায়াবিনীকে আমার সঙ্গে করে নিয়ে যাব তাই আর এখন আমি বাবার বিজনেসটাই সামলাচ্ছি। কারণ বাবা আজ থেকে ২ বছর আগে আমাকে আর মাকে রেখে চিরবিদায় নিয়েছেন।
কাব্য এবার আর কোনও কথা না বাড়িয়েই নীলাঞ্জনার সামনে নিজের দু কান ধরে বলে,
— মায়াবিনী আমায় ক্ষমা করে দিন। আজ কিন্তু আমি অনেক প্ল্যান নিয়ে এসেছি আপনাদের বাড়িতে। কিছুদিন আগেই আমি দেশে ফিরেছি আর আজ আপনাদের বাড়িতে এসেছি আপনাকে আমার অর্ধাঙ্গিনী করে নিয়ে যাব বলে। কিন্তু দেখুন আপনার এই নিরীহ মানুষ’টার জন্য কোনো মায়া হচ্ছে না, যে মানুষ’টা বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছে।
নীলাঞ্জনা এবার ফিক করে হেসে ফেলে বলে,
— এই বেহায়া পুরুষ।
কাব্য এবার নিজের বুকের বাম পাশে এক হাত দিয়ে বলে,
— হায় নীলাবতী তোমার রূপে যেমন মায়া আছে তেমন তোমার কথাতেও মায়াভরা। আর এই ‘বেহায়া পুরুষ’ শব্দ’টা জাস্ট তোমার মুখে শোনার জন্য আমি কতদিন অপেক্ষা করেছি জানো?
— এত পাকা পাকা কথা না বলে চুপচাপ নিচে চলো আমার সাথে, নাহলে বৃষ্টির মধ্যে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে ছাদে দাঁড় করিয়ে রাখব বলে দিলাম।
কাব্য এবার হা হা করে হেসে বলল,
— আমার দুরন্ত নীলা কত বড়ো হয়ে গেছে! আমি তোমায় একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরব নীলা?
নীলাঞ্জনা কোনও উত্তর না দিয়েই নিজে থেকে কাব্যকে জড়িয়ে ধরলো শক্ত করে। কাব্যের বুকে মুখ গুঁজে নীলাঞ্জনা কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— অবশেষে আমার কাব্য আমারই হলো। জানো কাব্য আমি প্রতিবছর তোমার আসার অপেক্ষায় দিন গুনতাম বিশেষ করে এই পুজোর সময়। কারণ কোনো এক পুজোর সময় তুমি আসবে বলেও আসোনি। ঠিক তেমনই আমি আজও দাঁড়িয়ে ছিলাম তোমার অপেক্ষায়। আর আজই তুমি আসলে আমার কাছে।
কাব্য নীলাঞ্জনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
— কাব্য যে তার নীলাঞ্জনাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাই তো কাব্য ছুটে এসেছে তার নীলার কাছে।
মেঘলা আবহাওয়া, চারিদিকে বৃষ্টি পড়ছে আর কোনও এক বাড়ির ছাদে একে অপরকে গভীর আলিঙ্গন করে দাঁড়িয়ে আছে কাব্য আর নীলা।
— সমাপ্ত–
