#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#অন্তিম_পর্ব
#পর্ব_১৪
তারা এভাবে গান শেষ করতেই স্ট্রেসের নীচে থেকে ফিরোজা ও তাহির এর বন্ধু মহল জোরে চিল্লিয়ে উঠলো, তাদের গান টা আসলেই অনেক সুন্দর ছিলো,
এভাবেই অনেক নাচ দেখে এর সাথে অনুষ্ঠান টি শেষ হলো,
রাতে ফিরোজা বিছানা রেডি করছে তাদের শোয়ার জন্য, এমন সময় তাহির রুমে ঢোকে, ফিরোজা কে কাজ করতে দেখে সে যেয়ে তার পিছনে দাঁড়ায়,
ফিরোজা তাহিরের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পিছনে ফিরে,
তাহির: এখনো টের পাও আমার উপস্থিতি;
– হুম; ছোট করে জবাব দেয় ফিরোজা;
-“চলো কাল কোথাও ঘুরে আসি;”
-“কোথায়;”
-“দেখি কোথায় যাওয়া যায়;”
এভাবেই আরো কিছুক্ষণ কথা বলে তারা;
সকাল হতেই দুজনে রেডি হয়ে পরে; যেহেতু আজ তাদের ঘুরতে যাওয়ার কথা;
তাহির অনেকক্ষণ ধরে বাইক চালাচ্ছে ধীর গতিতে, সেই সময় ফিরোজা বলল, “আরেকটু তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় না,”
তাহির, “আরে তাড়াতাড়িই তো চালাচ্ছি;”
ফিরোজা মুখ ভেংচি কাটলো আর বলল, “এটা তাড়াতাড়ি চালানো হচ্ছে”
তাহির ; ” হুম ”
ঠিক সেই সময়ে পিছন থেকে একটা ভ্যান গাড়ি তাহিরদের গাড়ি থেকে সামনে চলে গেছে, এই পর্যন্ত ঠিক ছিল, কিন্তু গাড়িটির চালক পিছনে তাকায় সামনে গিয়ে আর হেঁসে দেয়, এইটুকু যথেষ্ট ছিল এক জনের ক্ষেপে যাওয়ার জন্য,
সাথে সাথে ফিরোজা বলল, “এই তুমি আমাকে নামিয়ে দেও তো ;”আমি অন্য গাড়িতে চলে যাবো;” এভাবে তোমার ঘুরা হচ্ছে;”
তাহিরও দেখেছে ওই গাড়ির চালকের কাণ্ড কারখানা তার পরও কিছু না বুঝার ভান করেই বললো ;”কেনো আবার কি হলো ;”
ফিরোজা: “কিছুই হয়নি, ;শুধু আপনার গাড়ি পার করে চলে গেছে ওই গাড়িটা”
তাহির: “তো কি হইছে ;” গা ছাড়া ভাব নিয়ে;
“তো আর কি হবে ; এবার নিজেই ভেবে দেখো, তুমি গাড়ি কতই না জোরে চালাচ্ছ;” ফিরোজা বললো;
এবার বেশ শান্ত স্বরে তাহির বললো,”জানতে চাও, কেনো ধীরে চালাচ্ছি গাড়ি”;
“হাম” ছোট করে উত্তর দিলো ফিরোজা;
“তো শুনো; তোমার সাথে সময় মেলা সময় কাটালেও মনে হয়, এটা কিছুই না; শেষ হয়েও হয় না যে শেষ;” এবার বলো আমি কেনো বাইক ধীরে চালাবো না;” তাহির বললো;
ফিরোজা বুঝলো তার পরও বললো; “কি জানি;”
তাহির এবার বলল,”এখন খুব করে একটা গান মনে আসছে;”
-“কি গান;”
তাহির এবার গাওয়া শুরু করলো;
এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলোতো?
যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলোতো?
ফিরোজা ও গানের তালে তাল মিলিয়ে বললো ”
তুমিই বলো…
ফিরোজার তাল পেয়ে তাহির আবার গাওয়া
শুরু করলো;
এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলোতো?
ফিরোজা আবার তাল মেলালো;
লাল লা লা লা …
তাহির আবার সুর ধরলো;
কোন রাখালের ওই ঘর ছাড়া বাঁশীতে সবুজের
ওই দোল দোল হাসিতে রাখালের,
কোন ওই ঘর ছাড়া বাঁশীতে সবুজের
ওই দোল দোল হাসিতে
মন আমার মিশে গেলে বেশ হয়।
যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়
তবে কেমন হতো তুমি বলোতো ?
ফিরোজা ; বলবো না, হুম…
এভাবেই অনেক জায়গা ঘুরে তাদের দিন কাটে,
আজ আতিক আর আরোহির বিয়েতে এসেছে তাহির আর ফিরোজা ,
তাদের মাঝেও সকল ভুল বুঝাবুঝি দূর হয়ে তাদের চার হাত এক হয়েছে,
দীর্ঘ সাত বছর পর……………..
এক পার্কের বেঞ্চে বসে আছে তাহির, ফিরোজা, আতিক , আরোহী
আর তাদের লিটিল পিটিল সামনে মাঠে খেলে বেড়াচ্ছে , বলা বাহুল্য যে এটা সেই পার্ক যেটায় তাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো ,
তাহির আর ফিরোজার ছেলে আবরার মির্জা হামিম তার বয়স সাত বছর আর তাদের লিটিল প্রিন্সেস এর নাম ইশিতা মির্জা তার বয়স তিন বছর
আর আতিক আর আরোহীর ছেলে এর নাম তাইমুন বয়স ছয় বছর, আর মেয়ের নাম আরুশি বয়স চার বছর
ছোট রা খেলাধুলা করতে করতেই আরুশী পরে গিয়ে হাতে ব্যাথা পায়, বড়রা এগিয়ে আসার আগেই হামিম দৌঁড়ে এসে তার কাছে বসে, পাশে থাকা ঘাস চিবিয়ে তার ক্ষত হওয়া হাতে দিয়ে দেয়, ঘাস দেওয়ার দরুণ আরুশীর হাতে কিছুটা জ্বালা অনুভূত হয়, এটা হামিম বুঝতে পারে, তাই সে ফুঁ দিতে থাকে তার হাতে;
এই সব দাঁড়িয়ে দেখছে তাদের বাবা-মা আর হাসছে সাথে বলছে, “আমাদের নতুন প্রজন্মে ও একই দশা ”
এভাবেই হাঁসি আনন্দের মাঝে হঠাৎ দেখা হওয়া সম্পর্ক টা পরিণত হয়েছে চিরো চেনায়
———————————–সমাপ্ত —————-
