#হঠাৎ_তার_সাথে_দেখা
#লেখিকা_সোহানা_সুলতানা
#পর্ব___৫
তাহির তো এতক্ষন এক দৃষ্টি তে ফিরোজার দিকে তাকিয়ে ছিল , সে নিচে নেমে যাওয়ায় তার ঘোর ভাঙ্গে , এর পর এক এক করে সবাই কে পুরস্কার তুলে দেওয়া শেষে, সে নিচে নেমে আসে
এদিকে ফিরোজার বান্ধবী আরোহী তাকে বলতেছে, ”
আরে আমি তো প্রথম থেকেই বলতেছিলাম তুই প্রথম হবি”
ফিরোজা এবার বিরক্ত হয়ে বলল,” হ্যাঁ;বাবা বুঝছি তুই বলেছিস, তাই বলে এতো বলা লাগবে”
আরোহী এই নিয়ে দশ বারের বেশি বলে ফেলছে কথাটা,
আরোহী এবার বেশ অবাক হওয়ার মতো করে বলল;”তুই শুনেছিস আমার কথা”
ফিরোজা: “না শুনার কি আছে”
আরোহী:”না আমি ভাবলাম, আজ মনে হয় তুই কারো কথাই শুনবি না ” বলেই মুচকি হাসলো,
এতে ফিরোজা বিরক্ত হয়ে বলল, “তুই এ নিয়ে আর কোনো কথা বলিস না তো, ভালো লাগতেছে না”
এইদিকে তাহির নিচে নেমে এসে ফিরোজা কে খোঁজে কিন্তু পায় না কারণ ততক্ষণে সে চলে গেছিলো, তখন তো সে তাকে দেখার জন্য তার সাথে কথাই বলতে পারি নি
তাহির যখন ফিরোজা কে খুঁজতে ছিলো তখন আতিক এসে বলল, “কাউকে খুঁজছেন স্যার?”
কথা একটু মজার স্বরে বলল সে,
যেটা তাহির বুঝতে পেরে আতিকের পেট বরাবর হাত দিয়ে ঘুষি মারলো, এতে আতিক কিছু টা ঝুঁকে পরে সামনের দিকে,
ব্যাথা না পেলেও ব্যাথা পাওয়ার অভিনয় করে,
আর বলে, “আপনি যাকে খুঁজছেন স্যার সে তো কখনই চলে গেছে”
আতিকের কথা শুনে তাহির বেশ অবাক হয়ে বলল, ”
কি বলিস? অনুষ্ঠান এ তো কেবল পুরস্কার দেওয়া হলো, এখনো কত কিছু বাকি, এখনি চলে গেছে”
আতিক,” হুম” চলে গেলে আর কি করতে পারি বল”
তাহির তখন একটু ভেবে বলল,” ওর নাম্বার আছে তোর কাছে”
আতিক: “ওর নাম্বার আমার কাছে কিভাবে থাকবে ”
কথা বলে, আবার বির বির করে বলল, “যার নাম্বার রাখতে চাচ্ছি, তার টাই পারতেছি না, আর তো স্বয়ং তার ম্যাডামের ”
তাহির ঠিক করে আতিকের কথা শুনতে পাইনি তাই বলল কি, “কি বললি তুই?”
আতিক: “না কিছু না ”
আহির এবার বলল,”তাইলে ওর সাথে কিভাবে কথা বলে সবাই ”
আতিক, “জ্বি ম্যাম তো অনেক ব্যস্ত থাকে, তাই তাকে কেউ তার সাথে সরাসরি কথা বলতে পারে না”
তাহির,”তুই আবার কবে থেকে ফিরোজা কে ম্যাম ডাকতে শুরু করছিস”
আতিক,”অনেক দিন হইছে”
তাহির:”সে যাই হোক, এর পর থেকে আর এই নামে ডাকবি না,”
আতিক:” তাহলে কি বলে ডাকবো?”
“যা খুশি ডাকিস” বলেই তাহির সেখান থেকে চলে যায়,
পরে সে ফিরোজার এসিস্ট্যান্ট এর কাছ থেকে অনেক বলে নাম্বার নেয় , প্রথমে সে নম্বর দিতে রাজি হয়নি কারণ ফিরোজার কড়া আদেশ কাউকে নম্বর না দেওয়ার, তার পরও তাহির শেষ মেষ নম্বর নিতে সক্ষম হয় তারপরই তো ওসব ঘটে যায়
এসব ভাবনার মাঝেই তার গাড়ি এসে থামে তাহিরের জয়েন হওয়া নতুন অফিসে, এটা আসলে আতিকের বাবা আলতাফ এর,
এখানেই মেইন Software Designer সেক্টরে,
যেহেতু ফিরোজা এখানের মেইন বিভাগের তাই এসম্পর্কের সব দায়িত্ব,
তাহির হলো নতুন এসেছে তাই তাকে সব কাজ বুঝানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছে ফিরোজার উপর Mr. আলতাফ হোসেন,
তাই তাহির এসেই ফিরোজার অফিস রুমে চলে যায়,
তাহির ভিতরে
#হঠাৎ তার সাথে দেখা
লেখিকা: সোহানা সুলতানা
পর্ব : ৬
তাহির ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ফিরোজা রাগি দৃষ্টে তাকায় তার দিকে,
সে একটু আগেই একটা গুরুত্বপুণ্য আলোচনা শেষ করে এসে সবে মাত্র বসেছে, সে জন্য তার মাথা গরম ছিল, সেখানে সবাই কে বলতেছিল এক তারা করতেছিল আরেক,
ফিরোজা লেট করা একদম পছন্দ করে না, তাহির তাই করছে, আর তার তো তাহিরের পরে আগে থাকতেই মেজাজ গরম,
তো তাহির এর উদ্দেশ্যে ফিরোজা বলে, “প্রথম দিনেই লেট,”পরে কি করবেন ”
তাহির,” আসলে”
তাহির কে আর কিছু বলতে না দিয়েই ফিরোজা বলল, “আপানার বক্তব্য শোনার জন্য এখানে আমি আসি নাই” , আমারও কাজ আছে, তাই তাড়াতাড়ি আপনাকে কাজ বুঝিয়ে দিতে পারলে আমার দায়িত্ব শেষ করে আমি যেতে পারি,”
তাই সময় নষ্ট না করে দ্রুত করুন,,,,
বলেই সব কাজ বুঝিয়ে দিতে শুরু করে ফিরোজা,
ফিরোজা অনেক তাড়াতাড়ি সব বুঝাচ্ছিল, কিন্তু তাহির তো কিছুই বুঝতে পারতেছিলো না,
সে তো একবার ফিরোজার দিকে তো একবার ফাইলের দিকে তাকাচ্ছিল,
ফিরোজা তা লক্ষ করে, যেটা দেখে তার মাথা গরম হয়ে যায়, “আজ দিনটাই খারাপ, একে তো আসার সময় ওই দুর্ঘটনা, তারপর আবার বিরক্তি কর মিটিং, এখন আবার এই ছাগল টাকে বুঝানো ” যে একটা কথা সহজে বুঝতেই চায় না”
এসব মনে মনে বলতে থাকে ফিরোজা, ফিরোজা কিছু বলছে না দেখে তাহির বলল, “কিছু ভাবতেছো?”
ফিরোজা, “জ্বি;না ”
বলেই ফিরোজা আবার বলল,” শুনুন স্যার আপনাকে আমি কাল বুঝিয়ে দিবানি কাজ টা,”
থেমে গিয়ে আবার বলল,”আর যদি আপনার জরুরি বুঝার দরকার হয়, তাহলে এখানে আতিক আছে তার কাজ থেকে বুঝে নিন” ঠিক আছে,
কথাটা শুনার সাথে সাথে তাহির বলল, “না না সমস্যা নাই, আমি কালই বুঝে নিবনে”
যেটা শুনে ফিরোজার রাগ হলো, সে ভেবে ছিলো, এটা বলে সে ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে, কিন্তু এবান্দা তো তার কাছেই বুঝবে, উফফ, অসহ্য ,,,
আরো কতক্ষন মনে মনে বকতে থাকে তাহির কে,,, এর সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই তার সময় খারাপ যাচ্ছে,,,,
ফিরোজা মুখে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বলল, “আচ্ছা ”
বলেই সে আর কিছু না বলে চলে গেল,,,,,,,,
এই দিকে তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে তাহির, আর মুচকি মুচকি হাসছে,,,
আসলে তাহির সব কাজই জানে এই অফিস সম্পর্কে, তারপরও সে আলতাফ হোসেন কে বলেছিল , সে তো কাজ বুঝে না, তার তো বুঝা লাগবে, তার পরই আলতাফ হোসেন, ফিরোজা কে দায়িত্ব দেয় ,
আসলে তাহির চেয়ে ছিল, এই সুযোগে তাদের মধ্যের ঝামেলা মিটাতে, কিন্ত ফিরোজা তো থাকে পাত্তাই দিচ্ছে না,,,
তাহির সেখান থেকে বের হয়ে, এসে আতিক এর অফিস রুমে ঢুকলো,,,
আতিক কিছু কাজ করছিল,,,
তাহির কে দেখে বলল, “আমাকে তো একটা ধন্যবাদ ও দিলেন না স্যার ”
আমি যে এতো সুন্দর বুদ্ধি দিলাম আপনাকে,”
তাহির:” আচ্ছা এখন ধন্যবাদও দিয়া লাগবে ”
আচ্ছা দিচ্ছি ধন্যবাদ ”
বলেই সে সামনের দিকে আগাতে লাগলো,,,,,,
এটা দেখে আতিক তার চেয়ার থেকে উঠে বলল, “না না স্যার, থাক আপনার ধন্যবাদ দেওয়া লাগবে না”
তাহির:”কেনো দি একটা ধন্যবাদ”
“এতো চাইছেন যখন চাচ্ছেন না বলেন”
বলেই যেই না সামনে এগিয়ে আতিক এর দিকে যাবে তার আগেই আতিক দৌঁড়ে রুম থেকে বের হয়ে যায়, কারণ সে জানে যে তাহির তাকে ধন্যবাদ দেওয়ার পরিবর্তে পিটানি দিবে, কারণ সে যা করছে,,,,,
তাহির বাড়ি এসে সবে তার রুমে ঢুকলো, আর আজকের দিনের কথা ভাবলো,,,,,, ফিরোজার আজকের দিন খারাপ গেলেও,,, তাহিরের অনেক বছর পর এই দিনটা তার মনের মতো করে কেটেছে
এসেই তার প্রিয় মানুষটার সাথে দেখা, তার সাথে কথা বলতে পারা,,,,,
তাহির ভেবে ছিলো ফিরোজার সাথে কথা বলতে গেলে হয়তো সে তার সাথে কথাই বলবে না,,, হতে পারে ফিরোজা তার সাথে তেমন ভালো করে কথা বলতেছে না, কিন্তু তাতে কি কথা তো বলতেছে,,,,, এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতে সে ফ্রেশ হতে চলে যায় ওয়াশ রুমে,,,,,,
এই দিকে ফিরোজা তো এখনো তাহির কে একনাগারে বকে যাচ্ছে,,,,, এই মানুষ টার সাথে যখন প্রথম বারের মতো দেখা হয়েছিলো তখনও এরকম সব কিছু উল্টা পাল্টা ঘটেছে তার সাথে,,,,,
কল্পনার পাতায় পারি জমায় সেই প্রথম শুরুর দিনের পরন্ত বিকেলের সেই সুন্দর মুহুর্তর কথা, যে প্রথম পথ চলার সাথী হয়েছে কিন্তু ফিরোজার কাছে দিনটা খুব একটা ভালো যায় নি
পার্কের রাস্তা দিয়ে হাঁটছে দুই রমণী,,, হঠাৎই একটা বাইক তাদের সামনে চলে আসে ,
বাইক একদম পাশ দিয়ে যাওয়ার ফলে ফিরোজা পরে যায়,,, যার ফলে ফিরোজা পায়ে বেশ ভালোই ব্যাথা পায়,,, আরোহী ভিন্ন পাশে থাকায় তার কিছু হয়নি,,,
এই দিকে যারা বাইক এ ছিল তারা গিয়ে পরে পাশের মাঠে,,, যে বাইক চালাচ্ছিল সে বেশি ব্যাথা পায়, কিন্তু পেছনে বসা ছেলেটি বেশি বলছিলো,,,
আসে পাশের মানুষ এগিয়ে আসে তাদের দিকে,,, তাহির তাদের আসার আগেই উঠে পরে,,, কিন্তু আতিক কে ধরে উঠানোর চেষ্টা করছে তবুও যেনো উঠাতে পারতেছে না, যেনো সে তাহিরের থেকেও বেশি ব্যাথা পেয়েছে,,,
তাহির উঠে এমনি পেছনের দিকে আসে,,, কারণ যাদের পাশ কাটিয়ে গাড়ি চলে এসেছে তাদের কি খুব বেশি লেগেছে নাকি তা দেখার জন্য,,,
আসলে তারা বাইক চালানো শিখছিলো,,, কিন্তু এমন কিছু হবে তারা তা ভাবে নি,,,
তাহির এসে দেখে,,,,,
চলবে,,,,,,
