Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"মেঘের আড়ালে রোদমেঘের আড়ালে রোদ পর্ব-৩৪+৩৫

মেঘের আড়ালে রোদ পর্ব-৩৪+৩৫

#মেঘের_আড়ালে_রোদ
#পর্ব_৩৪
লেখিকা #Sabihatul_Sabha

একটা গলি থেকে বের হয়ে দৌড়তে গিয়ে হুঁচট খেয়ে রাস্তায় পড়লো মেঘলা। পেছনের দিকে ফিরে দিকে সবগুলো এই দিকেই আসছে।
মেঘলা পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো পা দিয়ে রক্ত পড়ছে। হাতে ছু*রির আঘাত খেয়ে অনেকটা কেঁটে গেছে।

মেঘলা আশেপাশে তাকালো কেউ নেই এখনি তো পেছনে ছেলেগুলো ছিল কোথায় গেল…???

” আর কতো বসে থাকবেন উঠেন”
মেঘলার ভয়ে বুক কেঁপে উঠল। পরিচিত কারো কন্ঠ শুনে চুপসে গেলো।

~ এই কি অবস্থা হয়েছে আপনার পায়ের..??
মেঘলা তাকিয়ে দেখলো সাজ্জাদ আর নির্জন দাঁড়িয়ে আছে।
মেঘলা আস্তে করে উঠে দাঁড়ালো।
নির্জনঃ হাটতে তো কষ্ট হবে।ভাইকে বলবো আসতে..?
সাজ্জাদঃ ভাই কে কেন বলতে হবে..? আমি কোলে নিব মেঘলা..?
মেঘলাঃ নাহ্ ধন্যবাদ।
নির্জনঃ গাড়িতে উঠে বসুন হসপিটাল যেতে হবে।
মেঘলা নির্জনের হাত শক্ত করে ধরে বলল,’ আচ্ছা তবে…’
নির্জনঃ এখন কোনো কথা নয় ভাবি আগে বাসায় যেয়ে নেই।
মেঘলা ভয়ে মাথা নাড়লো।

______________

হসপিটাল থেকে বাসায় আসতেই সবাই ঘিরে ধরল মেঘলার হাত পায়ে ব্যান্ডিজ কেন..?
নির্জনঃ তেমন কিছু না ছোট একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে।

শ্রাবণ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে।

মেঘলা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সিঁড়ির কাছে যেতেই শ্রাবণ কোলে তুলে নেয় মেঘলাকে৷
সবাই তাতে একটুও অবাক হয়নি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সাজ্জাদ। সে নিতে চাইলো মেঘলা নিষেধ করলো আর শ্রাবণের কোলে কি সুন্দর উঠে গেল!!

শ্রাবণ চলে যেতেই আমেনা বেগম বলে উঠলো, ‘ এক এক করে আমাদের পরিবারের সাথে কি হচ্ছে আল্লাহ..? এমন কেন হচ্ছে..? দিন দিন সব খারাপ হচ্ছে!!

নিরুপমা চুপচাপ বসে আছে। তিনি কিছু ভাবতে ব্যাস্ত।
মোবাইলের রিংটোনে সবাই নিরুপমার দিকে তাকায় নিরুপমা মোবাইল হাতে নিয়ে দ্রুত নিজের রুমে চলে যায়।

আমেনা বেগমঃ আজ কাল নিরুর আবার কি হয়েছে..? কেমন অদ্ভুত আচরণ করছে।

আনোয়ার চৌধুরী কিছু না বলে মেয়ের ভীতু দৃষ্টিতে সবার দিয়ে তাকিয়ে রুমে ছুটে যাওয়া দেখলেন।

মেঘলা বাড়ির পেছনে একটা গাছ বেয়ে নিজের বারান্দায় নামলো। গ্রামে অনেক এমন গাছ বেয়ে ছিল বিধায় তেমন একটা কষ্ট হয়নি।

নিজের রুমে আস্তে করে প্রবেশ করে ছোঁয়াকে খুঁজলো। ছোঁয়াকে না পেয়ে একটা শান্তির নিশ্বাস নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। হাতের ছোট একটা পেনড্রাইভের দিকে তাকিয়ে হাসলো।

শ্রাবণ সেই কখন থেকে মেঘলা কে একের পর এক প্রশ্ন করেই যাচ্ছে কিন্তু মেঘলা কিছুর ঠিক ভাবে উত্তর দিচ্ছে না।

শ্রাবণঃ আমি কিছু বলছি মেঘলা।
মেঘলাঃ এতো কিছু জেনে আপনার কাজ কি..? নিজের কাজ করুন আমার বিষয় এতো ভাবতে হবে না আর দশদিন পর আপনার আপনাদের সবার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
শ্রাবণঃ খাবার খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নাও।
মেঘলাঃ আপনি তো খুশি তাই না..? আমার মতো একটা খারাপ মেয়ের সাথে থাকতে হবে না।
শ্রাবণঃ মেঘলা এখন কিন্তু বেশি বেশি বলছো। আমি তোমাকে খারাপ মেয়ে বলিনি আমি শুধু বলেছি বখাটে, বাজে মেয়েদের মতো এতো রাত অব্দি বাহিরে কেন থাকো..? তুমি বুঝতে হবে তুমি একটা মেয়ে।
মেঘলাঃ মেয়ে বলে কি ঘরকুনো হয়ে থাকবো..? কেন মেয়েরা ছেলেদের থেকে এখন কম কিসে..? সব দিকে মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে।
শ্রাবনঃ হ্যাঁ ঠিক বলেছো এখন আর ছেলে ছিনতাইকারী দেখা যায় না, ঘরে বাইরে সব জায়গায় মেয়ে। জিনিসপত্র লুটপাট করার সাথে সাথে মনও ছিনতাই, লুটপাট করে নিচ্ছে।

মেঘলাঃ মন ছিনতাই করা যায়..?
শ্রাবণঃ হয়তো যায়, তোমার এখন বুঝতে হবে তুমি এখন একা নও।তোমার নামের সাথে এখন আমার নাম যুক্ত এই বাড়ির প্রতিটি সদস্য জড়িয়ে আছে। তুমি এখন কারো বউ,কারো জীবন যা হয়তো তুমি নিজেও জানো না। তোমার কিছু হলে কারো পৃথিবী থমকে যাবে, বেঁচে থেকে কেউ মরে যাবে। তোমার জীবনের মূল্য তোমার কাছে না থাকতে পারে অন্য কারো কাছে তোমার থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন। এক দিন, দুই দিনের জন্য নয় একটা আস্ত জীবন কাটাতে হবে মেঘলা।

মেঘলা খুশিতে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো। মুখ আড়াল করে নিলো শ্রাবণ জেনো এই খুশি দেখতে না পায়।

শ্রাবণঃ জলদি খেয়ে মেডিসিন খেয়ে শুয়ে পড়।
মেঘলা হাতের দিকে তাকালো ছুরিটা ধরতে গিয়ে হাতে লেগে গেছে অনেকটা কেঁটেছে। এই হাত দিয়ে কিভাবে খাবে।
শ্রাবণ মেঘলার কিছু বলার অপেক্ষায় ছিলো কিন্তু না এই মেয়ে ভাঙবে কিন্তু মচকাবে না।
শ্রাবণ খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে মেঘলাকে খাইয়ে দিলো।

শ্রাবণ আচমকা বলে উঠলো ” দিন দিন কেমন বউ পাগল ছেলেদের মতো হয়ে যাচ্ছি, দুই দিন পর দেখা যাবে মানুষ আমাকে দেখলেই বলবে ওই যে বউ পাগল লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে।”

মেঘলা হুঁ হুঁ করে হেঁসে উঠলো। মেঘলার হাসি দেখে শ্রাবণ গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো ” মজা নিচ্ছ! নাও এখনি সময়। আমারও সময় আসবে।”

ফোনের রিংটোন বেজেই চলছে কিন্তু মহুয়ার একদম ইচ্ছে করছে না উঠে ফোনটা হাতে নিতে।
সে আজ অনেক ক্লান্ত। অনেক কষ্ট চোখ মেলে মোবাইল হাতে নিয়ে আহনাফের এতো এতো কল দেখে অবাক হলো। সাথে ভয় ও পেলো আহনাফের কিছু হয়নি তো..? দ্রুত মোবাইল হাতে নিয়ে কল দিলো। আহনাফ কল কেটে আবার ভিডিও কল দিলো।

আহনাফঃ অন্ধকার কেন সামনে আসো।
মহুয়া এক হাতে চুলগুলো ঠিক করে সামনে আসতেই আহনাফ বললো,’ শান্তি। ‘

মহুয়াঃ এতো কল, মেসেজ কিছু হয়েছে..?
আহনাফঃ হুম হয়েছে… এই যে মন, মস্তিষ্ক, চোখ সব কেউ দখল করে নিয়েছে। সব কিছু আমার হয়েও আমার কথা শুনছে না। এই যে এতো কাজের চাপেও তোমাকে দেখার তৃষ্ণা পেয়ে বসেছে।

মহুয়া হাসলো, হেঁসে বলে উঠলো, ‘ আপনার শহর স্নিগ্ধতার। আমার শহর বিষাদের,বিষাক্ত । আপনার শহর ফুলের রাজ‍্য। আমার শহর কাঁটার। আমাদের দু’জনের রাস্তা দুই দিকে।’

আহনাফ মহুয়ার কথা শুনে চোখ থেকে চশমা খুলে রাখলো, ‘ তুমি বিষাক্ত পান করলে মরে যাব,তাও একবার নয় বার বার পান করতে চাই । তুমি কাঁটা পায়ে ফুটলে ব‍্যাথা পাই তবুও সেই ব্যাথায় সুখ খুঁজে পাই,। তুমি এই শীতের রাতের চাঁদর জড়িয়ে রাখলে উঞ্চ পাই না রাখলে কেঁপে উঠি।’
মহুয়াঃ এটা আবেগের বয়স নয়, রাখি।
আহনাফঃ আবেগের বয়স সেই কবেই কাটিয়ে এসেছি এটা আবেগ নয় ভালোবাসা। তুমি আমার বিয়ে করা বউ তোমার প্রতি আবেগ কেন আসবে..? এই এদিকে আসো তোমাকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
মহুয়াঃ খেয়েছেন..?
আহনাফঃ নাহ্।
মহুয়াঃ বাসায় আসবেন কখন..?
আহনাফঃ আরও এক ঘন্টা লাগবে।
মহুয়াঃ রাখব..?
আহনাফঃ এদিকে আসতেবলেছিলাম।
মহুয়াঃ হুম বলিন..
আহনাফঃ একটা কিস দেই.??. ছোট একটা কপালে দিব।

মহুয়া ঠাস করে কল কেটে দিলো৷ লজ্জায় নাক,গাল লাল হয়ে গেছে। লোকটা দিন দিন নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে।

কি আজব মানুষের মন, যেই জিনিস কখনো পছন্দ ছিল না তা আজ অভ্যাস হয়ে গেছে। বড়,চোখ,চুল,ফর্সা মুখ,লম্বা মেয়ে যার কখনো পছন্দ ছিল না আজ সেই ছেলে এমন মেয়েকে এক নজর দেখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

মহুয়া ফোন রেখে ভাবতে লাগলো। লোকটা কি কষ্ট পাবে আমার এমন আচরণে.?? ইসস এভাবে কলটা কেঁটে দেওয়া উচিত হয়নি। আমার কি দোষ! থুর….

মেঘলার রুমে এসে উঁকি দিতেই দেখলো মেঘলা বসে আছে আর কিছু ভাবছে।

মহুয়া মেঘলার থেকে অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।

” শরীর কেমন আছে…?”
~ হুম ভালো।
~ পায়ে কি বেশি ব্যাথা..?ছুরিটা কি বেশি গভীরে গিয়েছে..?
মেঘলা অবাক দৃষ্টিতে তাকালো মহুয়ার দিকে।
মেঘলাঃ না বেশি গভীরে ক্ষত হয়নি। তুমি কিভাবে….
মহুয়া হেঁসে মেঘলার সামনে একটা পেনড্রাইভ রাখলো।
মেঘলার মুখ আপনাআপনি হ্যাঁ হয়ে গেলো। যেই জিনিসের জন্য এতোকিছু সেটা মহুয়ার কাছে কি করছে..?
মেঘলাঃ এটা!! তোমার কাছে কিভাবে..? তুমি কোথায় পেয়েছো..?
মহুয়াঃ আস্তে আস্তে….. তুমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমি তোমাকে ফলো করি, ফাহিম স্যারের সাথে যা বলেছিলে সব শুনে ছিলাম তখন বুঝলাম পেনড্রাইভটা খুব প্রয়োজন। তোমাকে যখন সবাই আঘাত করে ধরতে ব্যাস্ত তখনি আমি পেছনের দরজা দিয়ে অফিসে ঢুকে যাই। বাহিরে একটা গ্লাস ফেলতেই ভেতর থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসে আর বাহিরে তোমাকে দেখে ছু*রি দিয়ে আঘাত করে তখন পুরো অফিসে কেউ ছিল না আর আমি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পেনড্রাইভ খুঁজে নেই।
মেঘলাঃ তুমি জানো এটা কতো ইম্পর্ট্যান্ট আমার জন্য।
মহুয়াঃ এতো কিছু তো জানিনা তবে তুমি কে..? তোমার আসল পরিচয় কি..? আবার এটা বলো না বস্তি থেকে আলৌকিক শক্তি দিয়ে সিআইডি অফিসার হয়ে গেছ।

মেঘলা পেনড্রাইভ হাতে নিয়ে বললো,’ আমাকে ছাঁদে নিয়ে চলো।’

_______________

ছোঁয়া হালিমা বেগমের রুম থেকে বের হলো। সারাক্ষণ হালিমা বেগমের সাথে গল্প করতে ভালো লাগে। হালিমা বেগমের কেমন অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে ছোঁয়ার সাথে গল্প করার। এই এক মেয়ে যার কাছে শান্তি খুঁজে পায়, কথা বললে ভেতর শান্ত হয়, স্বামীর মৃত্যুর কথা কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকেন।

ছোঁয়া নিরুপমার রুমের সামনে এসে দরজা ধাক্কা দিবে তখন ভেতরে একটা নাম শুনে থমকে গেল।
” আফজাল” এই নামটা কালকেও বড় মামার মুখে শুনেছে। আম্মুও ফোনে কাউকে আফজাল বলছে!! ছোঁয়া দরজা ধাক্কা না দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো।

______________

হসপিটালে জ্ঞান ফিরতেই আমি চারপাশে তাকিয়ে কিছুই চিনতে পারছিলাম না। আমার সারা শরীরে বেন্ডেজ করা ছিল। শুধু দূর থেকে কয়েকজনের কথা ভেসে আসছিলো ” ডাক্তার আমার মাইয়াডারে বাঁচাই দেন। এতো টাকা তো নাই আমার যা আছে তা দিয়েই চেষ্টা করতাছি ডাক্তার। ”
~ আপনার মেয়ের স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে। গাড়ি এক্সিডেন্টে খুব কম এমন রোগীদের বাঁচানো যায়।

আমি জানিনা আমার কিভাবে এক্সিডেন্ট হয়ে ছিল। একজন মহিলা এসে বললো আমি উনার সন্তান আমিও তাই বিশ্বাস করে নেই। তারপর থেকে বস্তিতে আমার অভ্যাস হয়ে উঠে। আমি ওই মহিলাকে মা ডাকতে শুরু করি, মায়ের ইচ্ছে ছিল আমাকে পড়াশোনা করানোর কিন্তু টাকা ছিল না, বাসায় বাসায় কাজ করে যা পেত তা দিয়ে আমার মেডিসিন আর আমাদের খাওয়া খরচ হয়ে যেত।ক্লাস ফাইভে উঠার পর মায়ের এক মারাত্মক রোগ হয় চিকিৎসার অভাবে মার শরীর দিন দিন খারাপ হতে শুরু করে। একদিন মা আমাকে ছেড়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। মায়ের কেউ ছিলো না বস্তিতে আমার বাবা কোথায় তাও আমি কিছুই জানতাম না ছোট ছিলাম এক্সিডেন্টের জন্য বেশি কিছু মনেও রাখতে পারতাম না খুব জলদি ভুলে যেতাম আঘাত মাথায় পেয়ে ছিলাম চিকিৎসাও ভালো করাতে পারেনি।

মায়ের মৃত্যুর পর পড়াশোনা বন্ধ নিজের খাওয়ার জন্য ঘরে কিছু না পেয়ে বাহিরে বের হলাম। বাহিরের দুনিয়া খুব কঠিন। একদিন দুইদিন তিন দিনের দিন সবার দরজা বন্ধ। পুরো একটা দিন ঘুরেও যখন খাবার পেলাম না রাস্তায় বসে কাঁদতে শুরু করলাম, কোনো কাজও জানতাম না। খাবারের জন্য পাগল প্রায় তখন একটা দোকানে রুটি চোখে পড়তেই চুরি করার কথা মাথায় আসলো। আপনি যখন মৃত্যুকে নিজের খুব নিকটে দেখবেন তখন আপনার কোনটা সঠিক কোনটা ভুল তা মাথায় আসবে না। আমি সেই দিন দোকান থেকে রুটি চুরি করে দৌড় দেই। দোকানদারের ভয়ে দৌড় দেওয়ার সময় রাস্তায় আবারও কারো গাড়ির সাথে ধাক্কা খাই। ভাগ্য ভালো তেমন কিছু হয়নি হাত, পা ছুলে গিয়ে ছিল।

সেই দিন আমি ভাবতেও পারিনি সেই চুরি আর এক্সিডেন্ট আমার ভাগ্য এভাবে পাল্টে দিবে।

গাড়িটা ছিল সিআইডি অফিসার আরমান খানের।

দোকানদার আমাকে ধরে চোর বলে মারতে শুরু করে তখন আমাকে বাঁচিয়ে নেয় আরমান স্যার।
আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে আমাকে নিয়ে আসে নিজেদের বিশাল বাড়িতে। আরমান স্যারের কোনো সন্তান নেই। আরমান স্যারের স্ত্রী নীলা ম্যাডামও অনেক ভালো মনের মানুষ আমাকে নিজের মেয়ের মতো আদর, ভালোবাসা দিয়ে বড় করলেন, ভালো ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করে তুললেন। নতুন জীবন দিলেন। পড়াশোনা করাচ্ছেন, স্বাধীন জীবন দিয়েছেন। সাথে সিআইডি চাকরি নিলাম নিজের সাহসীকতায় আর বুদ্ধিতে আজ আমি সিআইডি অফিসার মেঘ চৌধুরী। যাকে এক নামে সবাই চিনে তবে আমাকে দেখেনি কেউ, অনলাইনে, গুগলে সার্চ দিলে আমার সব তথ্য আসবে সাথে মাক্স, ক্যাপ পড়া ছবি আমি কখনো মাক্স, ক্যাপ ছাড়া সাংবাদিকের ক্যামেরায় ধরা দেইনি তাই আমার ফেইস কারো চিনা নাই। আর এই জন্যই আমি আমার কেইস গুলো খুব সহজে সমাধান করতে পারি।

নিজের জীবনের গল্প বলে থামলো মেঘলা।

মহুয়া খুব মন দিয়ে শুনছিলো সেই গল্প।

” তাহলে আমাদের বাড়িতে পরিচয় গোপন করে বউ সেজে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আছেন কেন..? ”

মেঘলা, মহুয়া পেছন ফিরে তাকালো।

নির্জন দাঁড়িয়ে আছে, নির্জনের পেছনে সাজ্জাদ।

মেঘলাঃ তোমরা..?
নির্জনঃ আমরা আগে থেকেই ছাঁদে ছিলাম আপনারা খেয়াল করেননি।

মেঘলাঃ তাহলে তোমরাও সব জেনে গেলে। এমনিতেও দশদিন পর সব সত্য সামনে চলে আসবে।
নির্জনঃ আমি আর মহুয়া সেই কবেই আপনার আসল পরিচয় জানি শুধু জীবনের গল্পরা জানা ছিল না।
মেঘলাঃ কিভাবে..?
মহুয়াঃ মনে আছে আমাকে রনি তুলে নিয়ে গিয়ে ছিলো তখন একটা মেয়ে এসে ছিলো আমাকে বাচাতে আমি তখন মেয়েটার মুখ দেখিনি তবে কার্ডে নাম দেখে ছিলাম ” সিআইডি অফিসার মেঘ”

বাসায় এসে অনেক ভেবেছি কাউকে বলিনি। হঠাৎ তোমার কথাই মনে হচ্ছিল, প্রথম থেকেই তোমার পরিচয় নিয়ে আমার সন্দেহ হতো, তুমি বাহিরে যেতেই তোমার রুমে গিয়ে সব খুঁজতে শুরু করলাম লাস্টে তোমার একটা ডাইরিতে সেই কার্ড খুঁজে পেলাম।

মেঘলাঃ বাহ্ আমার থেকেও বড় গোয়েন্দা তোমরা৷

নির্জনঃ আমি তোমাকে সিআইডি অফিসে যেতে দেখতাম প্রায়, সিআইডি অফিসের পাশেই সাজ্জাদের বাসা তারপর খুঁজ নিয়ে সবটা জানতে পারি।অনোক কষ্ট হয়ে ছিলো সত্যি কথা বের করতে। ফাহিম তো মুখ খুলতে চায়নি তুলে নিয়ে মাথায় পিস্তল ধরে সত্যি কথা বের করেছি।

সাজ্জাদ এতোক্ষনে মুখ খুললো,’ গল্প এখনো বাকি আছে মেঘলা বাকিটা শেষ করুন। ‘

মেঘলাঃ বাকিটা অন্য দিনের জন্য তুলা থাক।
নির্জনঃ আমাদের বাড়িতে কেন..? আর ভাই কেই কেন.?? ভাই কি আসামী..? না মানে সিআইডিরা তো আসামীদের পেছনে লেগে থাকে তাই বললাম।

মেঘলা আকাশের দিকে তাকিয়ে হেঁসে উঠলো ” হুম তোমার ভাই অনেক বড় আসামী আর সেই জন্যই আমি সারাজীবনের জন্য তোমার ভাইয়ের পেছনে লেগে গেলাম মৃত্যুর আগে পিছু ছাড়বো না।মৃত্যুর পড়েও আমি পিছু নিব।

__________

রাত ১টায় বাড়িতে ফিরলো আহনাফ।

মহুয়া কলিং বেলের শব্দ শুনে নিচে এসে দরজা খুললো। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।মহুয়া দরজা খুলে আহনাফের সাথে অপরিচিত পুরুষ দেখে সালাম দিয়ে সরে দাঁড়ায়।

আহনাফের সাথে অপরিচিত পুরুষ এসেছে শুনে আমেনা বেগম উঠে আসলেন মেহমান এসেছে খাবারের ব্যাবস্থা করতে হবে।

নিচে এসে মহুয়াকে দেখে হাসলেন। মহুয়াকে বরাবর সব সময় উনি পছন্দ করেন।

সোফায় আহনাফ বসে কারো সাথে কথা বলছে।

আমেনা বেগম আগে রান্না ঘর গিয়ে চা বানিয়ে নিলেন মহুয়া ফ্রিজ থেকে খাবার নামালো গরম করতে হবে।

আমেনা বেগম চা হাতে নিয়ে লোকটার সামনে দাঁড়াতেই অবাক হয়ে হাত থেকে চায়ের কাপ নিচে পড়ে গেলো। কাপের সাথে সাথে উনার শরীর কেঁপে উঠল। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে লোকটার দিকে তাকিয়ে বললো ” আফজাল!!!!…”

চলবে….
ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

#মেঘের_আড়ালে_রোদ
#পর্ব_৩৫
লেখিকা #Sabihatul_Sabha

মধ্য রাতে সবাই ড্রয়িংরুম জুড়ে বসে আছে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।

দুইতলা থেকে মেঘলা,মহুয়া, ছোঁয়া দাঁড়িয়ে নিচে কি হচ্ছে বুঝার চেষ্টা করছে।

আনোয়ার চৌধুরী সবার দিকে তাকিয়ে আফজাল সাহেবের দিকে তাকালো।

আফজাল মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে উঠলো, ‘ আব্বা কেমন আছেন!..??’
আনোয়ার চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো, ‘ এতোগুলো বছর পর তুমি..? আমরা তো ভেবে ছিলাম তুমি মরে গেছ।’
আফজালঃ এতো বছর পর আমার স্মৃতি ফিরে পেয়ে ছুটে আসলাম আব্বা।
আনোয়ার চৌধুরীঃ এতোদিন কোথায় ছিলে..? নিশ্চয়ই নতুন বউ বাচ্চা আছে এখন এখানে কেন এসেছো.?
আফজালঃ কি বলছেন আব্বা!! আমার বউ বাচ্চা বলতেই নিরু আর আমার আদরের মেয়ে ছোঁয়া আর কেউ নেই আমার জীবনে।

নিরুপমা নড়েচড়ে বসলেন, অগ্নি দৃষ্টিতে তাকালেন আফজালের দিকে। কতো বড় মিথ্যাবাদী!

ছোঁয়া ফিসফিস করে বলে উঠলো , ‘ এই লোকের নাম আফজাল..? আমি বড় মামা আর আম্মুকে উনার সাথে কলে কথা বলতে শুনেছি তাও ভীষণ রেগে ছিল।’
মেঘলাঃ কি কথা হচ্ছিল..?
ছোঁয়া সব বললো মেঘলাকে সাথে মহুয়াও শুনলো।

আনোয়ার চৌধুরী আমেনা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো,’ ওর জন্য খাবারের ব্যাবস্থা কর বউমা যা হবার কাজ সকালে হবে। এখন বাকিরা গিয়ে ঘুমাও।’

আফজালের মুখে শয়তানি হাসি ফুটে উঠলো।

নিরুপমা রাগে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে হনহন করে নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল।

আমেনা বেগম রান্না ঘরে গেলেন।

আহনাফ উপরে নিজের রুমে যাওয়ার সময় ওদের সামনে পড়লো। মহুয়ার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, ‘ এক কাপ কফি নিয়ে আসেন’
মহুয়া ছোঁয়ার দিকে তাকালো ছোঁয়া হামি তুলে রুমের দিকে চলে গেল। মেঘলা ওদের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো, ‘ তোমাদের মধ্যে কি কিছু চলছে..?”
আহনাফ মেঘলার কথা শুনে হেঁসে বললো, ‘ হয়তো চলছে…’

মহুয়াঃ মিথ্যা কথা কিছুই চলছে না। এ-ই লোককে তো আমি চিনিও না।

আহনাফঃ আচ্ছা কফি নিয়ে আসেন চিনিয়ে দিব আ…মি কে..?
মহুয়াঃ আমি এখন পারবো না ঘুমাব।
আহনাফঃ আমি অপেক্ষা করছি।

মহুয়া ভেংচি কেটে নিচে নেমে গেল।

মেঘলা নিজের রুমে চলে গেল। শ্রাবণ ল্যাপটপ নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে।

মেঘলাঃ অনেক রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়েন কাজ সকালেও করা যাবে।
শ্রাবণ মেঘলার দিকে তাকিয়ে হাসলো।
মেঘলাঃ হাসছেন কেন..? হাসার মতো কি বললাম..??
শ্রাবণঃ শাড়িতে তোমাকে একটু বেশিই সুন্দর আর বউ বউ লাগে।
মেঘলাঃ আপনার অফিসে ঝামেলা চলছে..?
শ্রাবণঃ একটু..
মেঘলাঃ সব ঠিক হয়ে যাবে এভাবে দিন রাত কাজ করলে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
শ্রাবণঃ কি ব্যাপার আজ বউয়ের মতো কথা বলছো।
মেঘলাঃ এতোদিন কি বোনের মতো কথা বলতাম.?
শ্রাবণঃ নাহ্ মনে হতো শালিকার সাথে এক ঘরে আছি। যদিও শালিকাও এর থেকে ভালো জিজুর খেয়াল রাখে।

মেঘলা বিছানা করে মোবাইল রেখে শুয়ে পড়লো। কাল অনেক কাজ আছে কথা পেঁচালে রাত এভাবে শেষ হয়ে যাবে।
মেঘলাঃ লাইট বন্ধ করুন আলোতে ঘুম আসে না।
শ্রাবণ ল্যাপটপ বন্ধ করে লাইট বন্ধ করে দিল।

মহুয়া আমেনা বেগমের সাথে আফজাল সাহেব কে সব কিছু এগিয়ে দিলো।
আফজাল আমেনা বেগম কে বলে উঠলো, ‘ এটা কে ভাবি..!??
আমেনা বেগম কিছু সময় মহুয়ার দিকে তাকিয়ে হেঁসে বললো,’ আমার বোনের মেয়ে।”
আফজালের মুখে শয়তানি হাসি ফুটে আছে।
আফজালঃ ওহ্ আচ্ছা। বাড়িটা আগের মতোই আছে।
আমেনা বেগম টুকটাক কথা বলছেন আফজালের সাথে।
আজাদ চৌধুরী এখনো সোফায় বসে আছেন। কিভাবে কি করবেন..? আফজালের সত্য নিরুপমা, মিরাজ চৌধুরী, আর উনি ছাড়া বাসার কেউ জানে না। এতোদিন দূর থেকে ক্ষতি করে শান্ত হয়নি এখন ঘরে ঢুকে গেছে!!…ছেলেদের কি সত্যিটা বলে দেওয়া উচিত!..????

বাবা এসেছে শুনেও ছোঁয়ার মধ্যে কোনো পরিবর্তন নেই৷ এটা কেমন বাবা!.? এসেও একবার মেয়েকে দেখতে চাইলো না!!.? অভিমান জেনো ভেড়ে গেল। অভিমান! উঁহু আমরা অভিমান করি প্রিয় মানুষের প্রতি এইলোক তো প্রিয় নয়।

বাড়িতে এতোকিছু হয়ে গেল নির্জন একবারও নিচে নেমে আসলো না। বাড়িতে কে আসছে.? কি হচ্ছে.? এতে জেনো কিছুই যায় আশে না নির্জনের সে এখন নতুন পুলিশের জব নিয়েছে বাবার কেইস নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত।

মহুয়া কফি নিয়ে চুপিচুপি আহনাফের রুমে রেখে চলে আসতে নিলেই খপ করে হাত ধরে ফেললো আহনাফ।

মহুয়া চোখ বন্ধ করে নিজেকেই কয়েকটা বকা দিল। নিজে না এসে আমেনা বেগম কে পাঠালেই হতো।

আহনাফ মহুয়ার হাত ধরে বলে উঠলো, ‘ কি চুরি করতে এসেছো..?’
মহুয়া রেগে বলে উঠলো, ‘ আপনার রুমে আছে কি চুরি করার!.?
আহনাফ অবাক হওয়ার মতো মুখ করে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে বললো,’ আমার রুমে নেইটা কি!.??’
মহুয়াঃ আপনার রুমের কোনো কিছুই আমার প্রয়োজন নেই। আর আমি চোর নই কফি দিতে এসে ছিলাম।
আহনাফঃ সত্যি তুমি চোর না.??
মহুয়াঃ আপনি দেখতে পারেন আমি কিছুই নেইনি।
আহনাফ মহুয়ার দিকে ভালো করে তাকাতেই মহুয়া একটু সরে গিয়ে বলে উঠলো, ‘ আমি আপনার রুম দেখতে বলেছি আমাকে না।’
আহনাফঃ আমার মন, শরীর এই আমি টাকেই চুরি করে নিয়েছো মহুয়া সুন্দরী।
মহুয়ার বুক ধুকপুক করছে এই লোকের সামনে আসলেই এমনটা হয়।
আহনাফঃ এই চুরির শাস্তি হিসেবে এখন তুমি আমাকে একবার জড়িয়ে ধরবে।
মহুয়া সাথে সাথে দুই পা পিছিয়ে গেল।
আহনাফঃ থুর কি কপাল আমার!! বিয়ের পরও একবার জড়িয়ে ধরার জন্য হাজার বাহানা খুঁজতে হয়। সারাদিন হসপিটালে তোমার স্বামী এত্তো কাজ করে বাসায় আসলে তো একবার জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করতে পারো, কেমন আছি.?
মহুয়াঃ আমাদের বিয়েটা আর পাঁচটা বিয়ের মতো নয়।
আহনাফঃ তাহলে বলছো আর পাঁচটা বিয়ের মতো জলদি করে নিতে..?।
মহুয়াঃ আমি ঘুমাবো যাই।
আহনাফঃ পালাচ্ছ কেন..? আর পাঁচটা বিয়ের মতো হওয়ার আগে জমিয়ে প্রেম তো করা যায়।
মহুয়া চোখ বড় বড় করে তাকালো৷ এই লোকের কি আজ মাথার তার নড়ে গেছে!!??
আহনাফঃ আইডিয়া কিন্তু খারাপ না। সখ ছিল প্রেম করে বিয়ে করবো কিন্তু তুমি তো দিলে না। এখন আপাতত যতদিন পাই সখ পূরণ করে নেই৷ আজ থেকে তুমি আমার বউ না প্রেমিকা।
মহুয়াঃ হসপিটালে রোগী দেখে আপনি নিজেও রোগী হয়ে গেছেন। ভালো ডাক্তার দেখান।
আহনাফঃ এই রোগের ডাক্তার তুমি মেডিসিনও তুমি।
মহুয়ার লজ্জায় মুখ লাল হয়ে গেছে।
আহনাফঃ তুমি লজ্জা পাচ্ছ.?
মহুয়াঃ নাহ্ আমার এলার্জি সমস্যা।
আহনাফ হেঁসে পকেট থেকে বেলীফুলের মালা বের করে মহুয়ার হাতে দিয়ে বলে উঠলো, ‘ যাওও..’
মহুয়াঃ প্রতিদিন বেলীফুলের মালা নিয়ে আশার কি দরকার!!
আহনাফঃ তোমার পছন্দ তাই।
আহনাফ মহুয়ার হাত থেকে বেলীফুলের মালা নিয়ে ওকে ঘুরিয়ে চুলের খোঁপায় পড়িয়ে দিল।
আহনাফঃ ফুলের খোঁপায় ফুল।
মহুয়া একহাতে খোঁপায় বেলীফুল স্পর্শ করে লজ্জায় রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

___________________

সকাল থেকেই ছোঁয়া উঁকি মারছে নির্জনের রুমে।

নির্জন রুমে নেই।
সাহস করে নির্জনের রুমে প্রবেশ করলো ছোঁয়া।

নির্জনের পুলিশের ড্রেস বিছানার উপর ছিল।
ছোঁয়া দরজা বন্ধ করে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে ড্রেস গুলো দেখে নিল। ইচ্ছে করলো একবার পড়ে দেখতে।

আয়নার সামনে নির্জনের সুন্দর করে বাজ করা ড্রেস পড়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে ছোঁয়া।

” বাহ্ তোকে তো একদম পুলিশ পুলিশ লাগছেড়ে ছোঁয়া, যদিও ড্রেস গুলো একটু বেশি লম্বা।”
নিজের প্রসংশা নিজেই করছে, মোবাইল বের করে ফটাফট কয়েকটা ছবি তুলে নিল। সাথে কয়েকটা টিকটক করে নিল।

চুলগুলো ছাড়া ছিল সুন্দর করে বেঁধে পেছন ফিরতেই ভয়ে চিৎকার দিয়ে পড়ে যেতে নেয়। নির্জন সাথে সাথে ওর কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়।

ছোঁয়া ভয়ে চুপসে গেছে। নির্জন রুমে কিভাবে আসলো!.? ভেতর দিয়ে তো দরজা লাগানো ছিল!!

নির্জন ছোঁয়াকে ছেড়ে দুই পা পিছিয়ে দাড়ালো। পকেটে হাত রেখে ভালো করে দেখে নিল।

ছোঁয়া নিজের দিকে তাকিয়ে নির্জনের দিকে তাকালো। বোকা হেঁসে বললো,’ রুমে কিভাবে আসলে..?’
নির্জন চাবি দেখালো।
ছোঁয়াঃ আমি আসলে.. দেখছিলাম তোমার ড্রেসটা সুন্দর হয়েছে কিনা।
নির্জনঃ এখন তো মনে হচ্ছে ড্রেসটা আমার না তোর।
ছোঁয়াঃ না,না এটা তোমার ড্রেস।
নির্জনঃ খুলে রুম থেকে বের হ আমার সময় নেই।
ছোঁয়া নির্জনের আচরণ স্বাভাবিক দেখে বলে উঠলো, ‘ আমাকে কেমন লাগছে..?’
নির্জনঃ আয়নায় তাকা…
ছোঁয়া ঠোঁট উল্টে বলে উঠলো, ‘ এতোক্ষন তো আয়নায় দেখলাম..
নির্জন আবার ছোঁয়াকে আয়নার দিকে ঘুরিয়ে দিলো। ছোঁয়ার মাথা নির্জনের বুকে।
নির্জন ছোঁয়ার কানের পাশে মুখ নিয়ে বলে উঠলো, ‘ এমন বেশরম বেশে একজন ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে বলছিস আমাকে কেমন লাগছে!!.?? এখন তুই বল তোকে কেমন লাগছে..?

ছোঁয়া লজ্জায় মাথা নিচু করে আশেপাশে ওড়না খুঁজছে।
বিছানার পাশে ওড়না পড়ে আছে ছোঁয়া সরতে গেলে নির্জন আঁটকে বলে উঠলো, ‘ আয়নার দিকে তাকা৷ ‘
ছোঁয়া নিচের দিকে তাকিয়ে বললো, ‘ উঁহু ‘
নির্জনঃ তাকাতে বলেছি ছোঁয়া…
ছোঁয়া চোখ পিটপিট করে আয়নায় তাকালো।
নির্জনঃ সুন্দর লাগছে। এই সৌন্দর্যের বর্ননা কিভাবে দিতে হয় আমার জানা নেই, কিভাবে প্রকাশ করতে হয় জানা নেই।তবে আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী নারী আমার সামনে।

ছোঁয়া লজ্জায় বার বার চোখের পলক ফেলছে।
নির্জন ছোঁয়াকে ছেড়ে বলে উঠলো, ‘ যা ড্রেস রেখে নিজের রুমে যা। প্রয়োজন ছাড়া যখনতখন আমার রুমে আসবি না।’

ছোঁয়া কথা না বাড়িয়ে ড্রেস রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

ছোঁয়া বেরিয়ে যেতেই নির্জন বলে উঠলো, ‘ আমার বোকা ফুল”

_______________

আফজাল সাহেব গেস্ট রুম থেকে বের হয়ে সোফায় বসে ছোঁয়ার দিকে তাকালো।
ছোঁয়া নিরুপমার সাথে ভার্সিটিতে যেতে হবে বলছে।

আফজাল সাহেবঃ তুমি ছোঁয়া..? আমার মেয়ে..??
উপস্থিত সবাই আফজাল সাহেবের দিকে তাকালো।
ছোঁয়া মুচকি হেঁসে বলে উঠলো, ‘ আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে আমি আমার মায়ের মেয়ে আর কারো নই।’
আফজালঃ অভিমান….

আজাদ চৌধুরী সবাইকে ডাকলেন ড্রয়িং রুমে।

আজ নির্জন, আহনাফ, শ্রাবণ, আনোয়ার চৌধুরী সবাই ড্রয়িং রুমে আছে।

মেঘলার মুখে হাসি ফুটে আছে।
আজাদ চৌধুরী একবার মেঘলার দিকে তাকালো।
মেঘলা চোখের ইশারায় কিছু বুঝাতেই আজাদ চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো, ‘ আজ তোমাদের সবাই কে একটা গল্প শুনাতে চাই।’

নির্জনঃ অন্য দিন শুনি বড় আব্বু আজ অফিসে….
আজাদ চৌধুরীঃ চুপচাপ বসে থাক নির্জন।
নির্জন চুপ হয়ে গেল।

আফজাল রাগী চোখে আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে আছে।

আজাদ চৌধুরী হেঁসে বলে উঠলো, ‘ গল্প শুরু করি..? বেশি বড় না ছোট। ‘

চলবে…..
ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ