Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় পর্ব-১৯+২০

এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায় পর্ব-১৯+২০

#এই_সুন্দর_স্বর্ণালী_সন্ধ্যায়
#পর্বসংখ্যা_১৯

দৌড়ে এসে দু’ ভাই ঘরে ঢুকে পড়লো। দরজা আটকে, বিছানায় আসাম করে বসে টিংকু খামটা হাতে নিলো। আসবার সময় একটা ফল কাটা চাকু নিয়ে এসেছে ডাইন ইন থেকে। খামের আঠা খুলে লুকিয়ে-চুরিয়ে চিঠি বের করতে হবে না? নয় তো, বড়’পা টের পেয়ে যাবে তো!
অত্যন্ত সতর্কতার সহিত টিংকু খামের আঠা খুলছে। রিংকু মুখ লটকে চেয়ে আছে ওর দিকে। এ কাজটা এক্কেবারে ঠিক হচ্ছে না! বড়’পা বুঝতে পারলে রাগ করবে খুব। চিঠিটা সিরিয়াস কোনো ইস্যুতে লিখলে, মন খারাপ করাও স্বাভাবিক। বললো,
— “কাজটা কি ঠিক হচ্ছে, টিংকু? বড়’পা বুঝতে পারলে রাগ করবে—”
অর্ধেক আঠা খুলে এসেছে। খুব ধীরে ধীরে কাজটা করছে। এরমধ্যে সহোদরের জ্ঞানী জ্ঞানী কথা শুনে বিরক্ত হলো। ধমকে উঠলো,
— “চুপ থাক, তো! জ্ঞান দিস না!”
— “শোন। টিংকু—”
— “ছোট’পার চিঠি আমরা পড়ি নি? কতো ছেলেরা ওকে চিঠি দিয়েছে, আমরা সবই পড়েছি। ছোট’পা কোনদিন রাগ করেছে? ও তো নিজেই পড়তে দিতো—”
— “কিন্তু সেগুলো চিঠি ছোট’পা কখনো খুলেই দেখত না। আমাদের দিয়ে বলতো ফেলে দিতে। কারণ ওদের প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না আপার। কিন্তু এটা নিখিল ভাইয়ের চিঠি। বড়’পাকে উনি পছন্দ করে—”
— “ওরাও তো আপাকে পছন্দ করত।”
যুক্তি দেখায় টিংকু। রিংকু বুঝানোর চেষ্টা করে,
— “নিখিল ভাইকে বড়’পাও পছন্দ করে, টিংকু। ওদের পার্সোনাল বলেও কিছু থাকতে পারে…”
টিংকু এবার বিরক্তির চরমে পৌঁছে গেল। রাম ধমক দিলো জমজকে,
— “চোপ! বেশ বকবক করিস!”
তারপর পরই খামের দিকে চেয়ে বিড়বিড় করলো,
— “কি আঠা লাগাইছে রে, খুলেই না। পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যাচ্ছে —”
রিংকু শেষবারের মতো অনুরোধ করে,
— “টিংকু প্লিজ! চিঠির ক্ষয়ক্ষতি হলে—”
কথা শেষ না করতেই একটা মেয়েলি স্বর ভেসে আসে কানে,
— “কী নিয়ে তোরা এতো বকবক করছিস, রিংকু – টিংকু? কীসের চিঠি?”
চমকে উঠতেই, হাত থেকে চাকুটা ছলকে পড়ে গেল বিছানায়। একটানে খামটা নিয়ে হাতটা পিছে লুকিয়ে ঘুরে তাকালো।
ওদের ঘরের লাগোয়া ওয়াশরুমের দরজায় দাড়িয়ে ঋতু। মাথায় টাওয়াল প্যাঁচানো আর হাতে একগাদা ভেজা কাপড় — দেখেই বুঝলো সে মাত্রই গোসল সেরে বেরিয়েছে। কিন্তু ও এখানে কেন? রিংকু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— “তুই এখানে কি করছিস, ছোট’পা?”
— “গোসল করছিলাম। আমাদের ওয়াশরুমে লাইনের সমস্যা। ট্যাপে পানি আসছে না। সে কথা ছাড়। তোরা কি করছিলি?”
বলেই দু’ ভাইয়ের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। ওরা কেমন অপ্রস্তুত হয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো নিজেদের। টিংকু বললো,
–“কই! কিছু না তো। আমরা তো এমনই…”
ঋতু কয়েক পা এগিয়ে এলো। টিংকুর আচরণ অদ্ভুত। ডান হাতটা পেছনে। সেটা কেন?
সন্দিহান গলায় বললো,
— “তোর হাতে কি, টিংকু?”
— “কই কিছু না তো —”
চট করে হাতটা সামনে নিয়ে এলো। দেখালো বোনকে। ঋতুও কম কীসে? সে ত্বরিৎ পায়ে এগোলো ওর কাছে, বাড়িয়ে দেয়া হাত রেখে অন্যহাতের দিকে দৃষ্টি তাক,
— “ও হাতে দেখি? আন, এদিকে।”
ভারি বিপাকে পড়লো টিংকু। খামটা কোনোমতে পিছনে টি – শার্টের পেছনে লুকোনোর চেষ্টা করলো। কিন্তু রক্ষে হলো না। ঋতুর বাজের ন্যায় শাণিত নজর ফাঁকি দেয়া সহজ নয়। সে হুড়মুড় করে খামটা কেড়ে নিলো হাত থেকে। ধরা পড়ে গিয়ে টিংকুও ঝাঁপিয়ে পড়লো ছোট’পার দিকে,
— “ছোট’পা দাও! দাও ওটা!”

ঋতু দিলো না। খাম ধরা হাত উঁচু করে ধরলো। উচ্চতায় বোনের চেয়ে বেঁটে হওয়ায় টিংকু চেষ্টা করেও নাগাল পেল না। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি করলেও, ঋতুর এক ধমকে চুপসে যেতে বাধ্য হলো,
— “সর, বেয়াদব! দেখতে দে আমাকে!”
ঋতু ভেবেছিল ওর দুই বিচ্ছু ভাই নিজেরা কাউকে চিঠি লিখেছে। নয় তো, ওদের কেউ দিয়েছে। তাই আগ্রহ দেখিয়ে ছিনিয়ে নিলো চিঠিটা। এই বয়সে পাকামো করে কাকে চিঠি দিচ্ছে বদমাশ দুটো, জানতে হবে না?

কিন্তু খাম হাতে নিয়েই চক্ষু ছানাবড়া হলো ওর। প্রাপকের জায়গায় বড়’পার নাম! প্রেরকের নাম দেখবার প্রয়োজন হল না। ও শুধু এটুকুই বুঝলো, বিচ্ছু দুটো মহা বেয়াদবি করতে যাচ্ছিল। তীব্র রাগে দু’ ভাইয়ের কান চেপে ধরলো সে। সাপের মতো হিসহিস করে বললো,
— “অসভ্য, বর্বর! আপার চিঠি তোদের কাছে কি করছে!”
রিংকু নিজেকে বাঁচাবার জন্যে সাফাই গাইবার চেষ্টা করলো,
— “আমি কিছু করি নি, আপা। সব দোষ, টিংকুর। ও-ওই এসব—”
— “সব দোষ এখন ওর, না? আমি জানি না বোধ হয়? দুজন যে দুজনকে ছাড়া কিচ্ছু করিস না? বেয়াদব, মিথ্যুক!”
আরও জোড়ে কান মুচড়ে দিলো। তারপর সেভাবেই দুটোকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করলো। টেনে নিয়ে যেতে লাগলো চারুর কাছে। পথে অপরাধী দু’ ভাই কাকুতি মিনতির পাহাড় জমাবার প্রয়াস করলেও পাত্তা দিলো না ঋতু। দোতলার সিঁড়ি ভেঙে হিড়হিড় করে টানতে টানতে চিৎকার করে ডাকলো চারুকে,
— “বড়’পা? ও বড়’পা? এসো তাড়াতাড়ি!”

চারু রান্নাঘরে মা – চাচিদের সঙ্গে ছিল। একটু আগেই চাচারা সব খেয়ে-দেয়ে দোকান মুখে ছুটলেন। তাই খাবারগুলো গোছাচ্ছিল সবাই মিলে। এরমধ্যেই ঋতুর ডাক কানে আসতেই হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে এলো চারু। সিঁড়ির মাঝে দাড়িয়ে ঋতু, দু’ হাতে কান মুচড়ে দাড়িয়ে আছে দুই জমজ দ্বয়ের। বিস্মিত কণ্ঠে বললো,
— “কি হয়েছে, ঋতু? ডাকলি কেন? আর ওদের কান—”
পেছন পেছন মেজো চাচীও এসেছে। ঋতু তাই দেখে কিছুটা ধাতস্থ করলো নিজেকে। শান্ত হয়ে বড় বোনকে ডাকলো,
— “তুমি একটু উপরে আসো, আপা। হাতের কাজ রাখো।”
পেছনে থাকা মেজো চাচীর দিকে একবার তাকালো চারু। তার প্রশ্নাত্মক চোখের দিকে চেয়ে, ইশারায় কিছু বলে ঋতুর দিকে এগোলো। ও তখন দুই অপরাধীকে ধরে উপরে যেতে ব্যস্ত।

— “কি হলো ঋতু?”
ঋতু কান ছেড়ে দিলো ওদের। হাতের খামটা বড় আপার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
— “তোমার চিঠি।”
— “আমার? কে পাঠিয়েছে—”
বলতে বলতেই প্রেরকের নাম চোখে পড়তেই থেমে গেল চারু। কি আশ্চর্য! নিখিলের চিঠি? এতদিন পর? উচ্ছ্বসিত হয়ে মনটা নেচে উঠতে চাইলেও, পরক্ষণেই সামলালো নিজেকে। ছোট বোনের দিকে তাকাতেই দেখলো, ঋতু চোখ পাকিয়ে চেয়ে আছে স্বীয় জমজ সহোদর দ্বয়ের দিকে। চোখ দিয়ে অগ্নি বর্ষণ করতে করতে বললো,
— “এই বেয়াদব দুটো তোমার চিঠি নিয়েছিল। ঘরে গিয়ে সেই চিঠি পড়বার জন্য খাম ছিঁড়ছিল! কি পরিমাণ অভদ্র এরা, ভাবতে পারছ? অ-স-ভ্য, ব-র্ব-র!”
বলেই চাটা মারলো দুজনের মাথায়। রিংকু ব্যথাসূচক ‘আহ্’ করে বললো,
— “আমি ওকে নিষেধ করছি—”
— “চুপপ!”
ধমকে উঠলো ঋতু। টিংকু এতক্ষণে মুখ খুললো। মাথা নিচু করে অপরাধী স্বরে বললো,
— “স্যরি, বড়’পা। রিয়েলী স্যরি!”
চারু কিছুই বললো না ওদের। নির্বাক শ্রোতা হয়ে সব শুনলো। একসময় চোখের কার্নিশ উপচে পড়া টলটলে জল নিয়ে প্রস্থান করলো। ওর যাওয়া দেখে কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে রইলো দু ভাই। এতক্ষণে তাদের মনে হচ্ছে, কাজটা ঠিক হয় নি! আপা রাগ করে নি, কষ্ট পেয়েছে!
লজ্জিত হয়ে মাথা নোয়ালো দুজন।
কাঙ্খিত কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে ঋতুও আর কিছু না বলে স্থান ত্যাগ করলো!

ঘরে এসে দরজা আটকে, খাম নিয়ে বসলো চারু। তার মনের অবস্থা অবর্ণনীয়। একদিকে সে প্রচন্ড খুশি, অন্যদিকে তার মন বিমর্ষ। অদ্ভুৎ দ্বৈত অনুভূতিতে ছেয়ে যাওয়া মন নিয়ে সে বিছানায় বসলো। খামের মুখ ছিঁড়ে বের করলো, আকাশি নীল রঙের ভাঁজ করা কাগজ। যার ভেতরে চমৎকার টানা টানা অক্ষরের লেখা একটি বার্তা,

“প্রিয় চারুলতা,
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটা বিখ্যাত উপন্যাসের উক্তি আছে,
‘তোমাকে যখন দেখি, তারচেয়ে বেশি দেখি; যখন দেখি না।’ — পড়েছেন?
আমার বোধ হয় তেমন অবস্থাই হয়েছে। আমি ‘চারুলতা জাফরিন’ নামক মিষ্টি কন্যাকে দেখে প্রেমে পড়েছি। তাকে বাস্তবে ঠিক কতটুকু সময় ধরে দেখেছি জানি না, কিন্তু তারচেয়ে বেশি দেখছি, তার অনুপস্থিতিতে। যখন সে আমার চেয়ে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে! এতবেশি দেখছি, যে আমার দুনিয়া চারুময় সৌন্দর্যে পূর্ণ। অবশ্য চারু মানেই যখন সৌন্দর্য, তখন দুনিয়া তো রঙিন হবেই। তাই না?
আচ্ছা, কথাগুলো কি কাব্যিক শুনাচ্ছে? আপনি নির্ঘাৎ আমায় পাগল সাব্যস্ত করে প্রাণখোলা হাসছেন? হাসুন, আমি দূর থেকে অনুভব করবো সেই আনন্দ। সেই মুক্তোঝরা হাসি কল্পনা করে আরও পাগলামি করবো। কারণ প্রেমিক হয়ে একটু-আধটু পাগলামি না করলে প্রেম শুদ্ধ হয় না। আমি শুদ্ধ প্রেমিক হতে চাই, আমার শুদ্ধ প্রেমের ছোঁয়ায় আপনার জীবনের কলুষ মেশানো অতীত ভুলিয়ে আপনাকে রাঙিয়ে দিতে চাই! ভালোবাসি, চারুলতা!
পুনশ্চ: বকবক করতে করতে আসল কথাই বলতে ভুলে গেছি, আপনার মুঠোফোন নম্বরটা আমার হারিয়ে গেছে। তাই খোঁজ নিতে পারি নি। চিঠির পেছনে আমার নম্বরটা দিচ্ছি। মন চাইলে ছোট্ট একটা মিসডকল দেবেন, আমি সর্বদা আপনার অপেক্ষাতেই—
ইতি
নিখিল নওশাদ”

কাগজটা পুনরায় ভাঁজ করে বুকের কাছে ঠেকালো চারু। ওর চোখে নোনা জল। টপটপ করে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে কপোল বেয়ে। তবে এই জল দুঃখের নয়। প্রচন্ড খুশিতে লোকে যেমন কাঁদে; এই জলও ঠিক তেমনই। চারুর ইচ্ছে করলো চিৎকার করে কাঁদতে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলতে,
‘সে ভোলে নি, ভোলে নি আমায়!’
___

অফিসে নতুন কয়েকজন নতুন স্টাফ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন সিনিয়র এমপ্লোয়ীর আন্ডারে কাজ শিখতে বলা হয়েছে। এরকমই একজনের দায়িত্ত্ব পেয়েছে সৌভিক। স্টাফটি মেয়ে, নাম নওরোজ আনিকা।
প্রথম দর্শনে মেয়েটিকে দেখে সৌভিকের পছন্দ হলো না। সুন্দরমতো চেহারা বটে, কিন্তু কেমন যেন বোকা-বোকা চাহনি। হাবভাব অদ্ভুৎ।সৌভিক পরিচয় হবার জন্য নাম – ধাম বললো, মেয়েটা মাথা নাড়ানো ছাড়া কিছু করলো না। ভদ্রতা সূচক হাসি, কিংবা পরিবর্তে নিজের নাম বলার সৌজন্যও বোধ হয় জানে না। অথবা নার্ভাসনেসে ভুলে খেয়েছে। ভাবলো সৌভিক।
মেয়েটাকে ওর পাশের কেবিনে ডেস্ক দেয়া হয়েছে। ওর ডেস্ক দেখিয়ে, মেয়েটাকে নিয়ে সৌভিক বেরোলো অফিস দেখাতে। কোথায় কি আছে না আছে, সব বুঝানোর জন্য। সৌভিক এটা-ওটা দেখাচ্ছে আর মেয়েটা সব হা করে গিলে যাচ্ছে। এমন ভাব করছে, যেন সে ফর্মাল কর্পোরেট অফিসে নয়, ফ্যান্টাসি কিংডমে প্রথমবারের মতো এসেছে বেড়াতে! আশেপাশে চেয়ে দেখতে দেখতে রাস্তা দেখে হাঁটতেও ভুলে গেল সে।সৌভিক ত্যক্ত হয়ে আড়চোখে ওকে দেখছে আর মনে মনে কপাল চাপড়াচ্ছে,
‘কার পাল্লায় পরলাম, মাবুদ! এই মেয়ে কিভাবে চলে! এখনই না কারো ঘাড়ে উল্টে পড়ে!’
বলতে বলতেই মেয়েটা একটা ডাস্টবিনের সঙ্গে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে উদ্যত হলো। মুখ থুবড়েই পড়তো সৌভিক হাত ধরে টেনে আনায় রক্ষে!
অতঃপর মেয়েটা একটু লজ্জিত হাসলো,
— “স্যরি!”
ভ্রু কুঁচকে ফেললো সৌভিক। কিছু বললো না। এগিয়ে চললো তার কাজে। তার মেজাজ খারাপ হচ্ছে। রাগ বাড়ছে চড়চড় করে!

প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে নির্দেশনা দেবার পর সে থামলো। লক্ষ্য করলো, মেয়েটা এখনো অমনোযোগী। আশেপাশে দেখে বেড়াচ্ছে। এবার রাগ হলো বেশ। একটু ধমকের সুরেই বললো,
— “মিস. আনিকা!”
চমকে ফিরে তাকালো ওর দিকে। ডাগর চোখ দু’টোতে এতক্ষণ যে বিস্ময় খেলা করছিল, নিমিষেই তার স্থানে চলে এলো ভয়। মেয়েটা শঙ্কিত চোখে বললো,
— “জ্ব-জ্বি—”
— “আপনি কি আমার কথা শুনছেন?”
— “জ্বি।”
ঘাড় নাড়িয়ে জবাব দিলো মেয়েটা। সৌভিক আশ্বস্ত হলো না। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে শুধালো,
— “ম্যানেজিং ডিরেক্টর স্যারের কেবিন কোথায়? বলুন তো।”
‘আনিকা’ নামের মেয়েটা শুকনো ঢোক গিললো। আমতা আমতা করে বলবার চেষ্টা করলো,
— “সেকেন্ড ফ্লোরে…”
ক্রুর হাসি দেখা গেল সৌভিকের মনে। তার আন্দাজই সঠিক। মেয়েটা মোটেও সিরিয়াস নয়। সিরিয়াস হলে মাত্র দেখিয়ে আনা বসের কেবিন সে ঠিকমত চিনে নিতে পারতো।
শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বললো,
— “শুনুন, আনিকা। আপনাকে কয়েকটা রুঢ় বলি। শুনতে খারাপ লাগলেও, কথাগুলো আপনার জানা উচিৎ। কর্পোরেট অফিসে পারফরম্যান্সের উপর চাকরির স্থায়ীত্ব, পদোন্নতি নির্ভর করে। এটা সরকারি চাকরি নয় যে যেমন-তেমন করে কাজ করে যাবেন, মাস শেষে বেতন উঠাবেন। এখানে সব রূলস-রেগুলেশন স্ট্রিক্টলি মেইনটেইন করা হয়। কাজেই অ্যাটেন্টিভ থাকবেন, বসের মন যুগিয়ে চলবেন। আমাদের এই ব্রাঞ্চটা হেড অফিস। চাপ বেশি। সবকিছু খেয়াল রেখে না চললে টিকতে পারবেন না!”

বলেই ওকে ফেলে গটগট করে এগিয়ে গেল। ক’দিন ধরে মেজাজটা তার এমনিই খিঁচড়ে আছে। অসম্ভব রাগ-বিরক্তির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। মানসিকতা ভালো না। তার উপর এই হাবা মেয়ে পড়েছে কপালে, সামনে না জানি কি হয়!

চলবে___

#এই_সুন্দর_স্বর্ণালী_সন্ধ্যায়
#পর্বসংখ্যা_২০

সকালে চিঠি পাবার পর চারুর তক্ষুণি কল করতে মন চাইছিল নিখিলকে। কিন্তু কি যেন ভেবে করে নি। চিঠি পাবার সঙ্গে সঙ্গেই বুঝি কল করতে হয়? একটু ধৈর্য তো রাখা উচিৎ। তাছাড়া, এখন অফিসের সময়। কে জানে, লোকটা ব্যস্ত কি-না?
রাতেই কল করবে চারু। যখন অফিস সময় পেরিয়ে যাবে, দিনের ব্যস্ততা ফুরিয়ে যাবে, অবসন্ন-ক্লান্ত দেহমন নিয়ে বিছানায় এলিয়ে পড়ে দু’টো মিষ্টি কথা কইবে সে। ব্যক্ত করবে প্রাণের আকুলতা!
__

হাত ঘড়িতে সময় দেখলো সৌভিক। ন’টা পঁয়তাল্লিশ বাজে। হাতের কাজ আপাদত গুছানো শেষ। কয়েকটা ফাইল আছে সহকর্মী রাতুলের কাছে, সেগুলোর প্রয়োজন। সেগুলো সহ সাড়ে দশটায় একটা মিটিং অ্যাটেন্ড করতে হবে ওকে। জায়গাটা অফিসের বাইরে। এখান থেকে যেতে আধ ঘণ্টার মতো লাগবে। এখনই বেরিয়ে যাওয়া উচিৎ। বলা তো যায় না, যদি জ্যামে আটকা পড়ে?
কন্ট্যাক্টসে গিয়ে চটজলদি রাতুলকে ফোন করলো। কুশল বিনিময়ের পর ফাইলগুলোর প্রসঙ্গ তুলতেই সে দুঃখিত সুরে জানালো,
— “আজ হাফ ডে ছুটি নিয়েছি, ভাই। বাইরে আছি—”
সৌভিক তিক্ত গলায় বললো,
— “সে কি কথা, রাতুল ভাই? আপনি জানেন তো মিটিংয়ে ফাইলগুলো দরকার! আপনি সেগুলো না দিয়ে…”
ওপাশ থেকে রাতুলের অপরাধী সুর,
— “নিখিল ভাইয়ের কাছে ফাইল রেখেছি। আপনি ওঁকে বলুন একবার।”
‘কি যন্ত্রণা!’ — মনে মনে বিরক্ত হলো সৌভিক। রুঢ় স্বরে বললো,
— “ফাইলগুলো তো আপনার কাছেই রাখবার কথা। তাকে কেন এরমধ্যে—”
তড়িঘড়ি জবাব সহকর্মীর,
— “ভাই, জরুরি কাজে বাইরে এসেছি। বসের কাছে ছুটি চেয়েছি এক দিনের। উনি কিছুতেই দিবেন না। শেষে দয়া করে হাফ ডে দিল, ফাইল তাকে না দিয়ে কার কাছে দেই বলুন তো? প্লিজ ভাই! আমি নিখিল ভাইকে কল করে বলছি। উনি দিয়ে দেবেন।”
— “আচ্ছা।”
সৌভিক বিরস মুখে সায় দিয়ে কল কাটলো।

মনে মনে সে যথেষ্ট বিরক্ত। বাড়ি থেকে ফেরার পর পারত পক্ষে ওকে এড়িয়েই চলছে। একই অফিসে পাশাপাশি কেবিনে ওদের ডেস্ক। যেতে-আসতে দেখা হচ্ছে কতো! নিখিল তো শুধু সহকর্মী নয়, ভালো বন্ধুও।এখানে ওকে উপেক্ষা করে যাওয়া বেশ কঠিন! তবুও তা করেছে। কারণ তার মন ভালো নেই।
নিখিল অবশ্য কথা বলছে। সৌভিকের ভেতরটা কোন অন্তর্দহনে পুড়ে ছারখার হচ্ছে সে সম্বন্ধে তো ওর জ্ঞান নেই!
স্বভাব বশেই দেখা হলে হাত নাড়িয়ে সম্ভাষণ জানাচ্ছে। কিংবা হাসি হাসি মুখ করে জিজ্ঞেস করেছে,
‘কেমন আছিস?’
সৌভিক খুব সূক্ষ্ম ভাবে পাশ কাটিয়ে গেছে। শুনেও যেন না শোনার ভান করেছে। নিখিল হয় তো সেটা বুঝেছে। আহত হয়েছে হয় তো। কিন্তু ওর হেলদোল হয় নি। চারু ওর নেহাৎ পছন্দের মানুষ নয়, ভীষণ ভালোবাসার এক নারী!
তাকে ও বিনা যুlদ্ধে জয় করে নিয়েছে, সৌভিকের জ্বলবে না? মনটা পুড়ে অঙ্গার বনবে না?

ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে সৌভিক এসে নিখিলের দরজায় নক করলো। নিখিল ব্যস্ত ছিল, মুখ না তুলেই ডাকলো,
— “কাম ইন!”
সৌভিক ভেতরে ঢুকে যান্ত্রিক ভঙ্গিতে বললো,
— “রাতুল তোর কাছে যে ফাইলগুলো রেখে গেছে সেগুলো দে।”
মুখ তুলে তাকালো নিখিল। ক’দিন পর বন্ধুকে সরাসরি কথা বলতে দেখে হাসলো মিষ্টি করে,
— “বস্। দিচ্ছি আমি।”
কঠিন সুর সৌভিকের,
— “বসতে আসি নি আমি। কাজ আছে। ফাইল দে।”
নিখিলের দুঃখ হলো। ঠোঁটটা কিঞ্চিৎ বাঁকিয়ে কেমন যেন হাসি দিলো। অতঃপর ফাইল হস্তগত হতেই হনহন করে বেরিয়ে গেল সৌভিক। কোনো কথা না বলেই!

ওর প্রস্থানে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোলো নিখিলের বুক চিড়ে। বন্ধুর অভিমান যুক্তিযুক্ত নয়। কিন্তু একেবারে অন্যায্য তাও সে বলতে পারে না। চারুকে তো সেও ভালোবাসে, সৌভিকও। এবং ওর জীবনে আগে থেকেই ছিল সে। তবে কেন সময় থাকতে চারুকে নিজের করে নেয় নি? কেন মেয়েটাকে নির্মম-দুর্দশা সইতে হয়েছে?

ফাইল নিয়ে সোজা বেরিয়ে গেল সৌভিক। লিফটে চড়ে কাঙ্খিত গ্রাউন্ড ফ্লোরের উদ্দেশ্যে বোতাম টিপলো। ত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় গন্তব্যে পৌঁছে দরজা খুলে গেল লিফটের। সামনে না তাকিয়েই বেরোচ্ছিল সৌভিক, হুট করে কারো সঙ্গে প্রবল একটা ধাক্কা খেয়ে দু’ পা পিছিয়ে গেল!
এমনিতেই মেজাজ বিগড়ে আছে, এরমধ্যে—
আগন্তুককে লক্ষ্য করে ঝাড়ি দিতে দিতে ফিরে তাকালো,
— “চোখে দেখেন না? কীভাবে পথ হাঁটেন?”
বলতে বলতেই খেয়াল হলো মেয়েটাকে!
কয়েক হাত দূরে মাটিতে ছিটকে পড়ে আছে আনিকা। ওকে দেখেই দ্রুত উঠে দাড়ালো। এগিয়ে এসে হড়বড় করে বললো,
— “সো স্যরি স্যার। আ’ম সো স্যরি! আমি দেখি নি!”
থমথমে দৃষ্টিতে চাইলো সৌভিক। এখানে কেন এই মেয়ে? শীতল সুরে বললো,
— “মাত্র এলেন?”
ঘনঘন মাথা নাড়লো মেয়েটা। ঠিক অপরাধীর ন্যায়! একপল হাত ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নিলো সৌভিক। কিছুটা রাগত কণ্ঠে বললো,
— “ন’টা চুয়ান্ন বাজছে। অফিস টাইম সাড়ে ন’টা থেকে। আপনি আধ ঘণ্টা পর কেন?”
ধমক খেয়ে মাথা নিচু করলো আনিকা। অস্ফুট আওয়াজে কি যেন বলতে চাইলো, হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দিল সৌভিক। তীব্র শোনাল ওর পুরুষালি কণ্ঠস্বর,
— “থাক। সাফাই দিতে হবে না। ওতে আমার কাজ নেই। লেইট করে অফিসে এলে ইমেজ আপনার খারাপ হবে, আমার নয়! গতকাল ভালো করে বুঝিয়েছি। না বুঝলে কি করার!”
শেষের কথাগুলো আক্ষেপ করেই বললো। আনিকা নামের মেয়েটা লজ্জায় এতটুকু হয়ে কোনোমতে বললো,
— “স্যরি স্যার!”
— “আর দেরি করবার দরকার নেই। কাজে যান।”
মেয়েটা ফের ঘাড় নাড়ালো। তারপর হন্তদন্ত হয়ে ঘুরে হাঁটা ধরলো সিঁড়ির দিকে। সৌভিক মহাবিরক্ত হয়ে ডাকলো,
— “ওদিকে আবার যাচ্ছেন কোন দুঃখে?”
মেয়েটা তৎক্ষণাৎ পিছু ফিরে তাকালো। লজ্জিত হয়ে বললো,
— “না, মানে স্যার…”
— “লিফটে প্রবলেম নাকি? ফোবিয়া – তোবিয়া আছে?”
— “না, না!”
চটপট মাথা নাড়লো। সৌভিকের ত্যক্ত গলা ভেসে এলো,
— “এমনিই লেট করে এসেছেন। লিফট ছেড়ে সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে কি এখন সারাদিন পার করতে চান?”
— “স্যরি স্যার।”
মেয়েটা আড়ষ্ট হয়ে দাড়ালো। সৌভিক এবার রাগে ফেটে পড়লো,
— “আবার স্যরি! যান তো আপনি!”
মেয়েটা প্রায় দৌড়েই প্রস্থান করলো!
ওর যাবার দিকে কপাল কুঁচকে তাকালো সৌভিক। তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বিড়বিড় করলো,
— “অদ্ভুৎ পাগল!”
__

নিখিল অফিস থেকে ফিরছে মিনিট দশেক হলো। চট করে গোসলটা সেরে বেরিয়েছে অমনই ওর সেলফোনের রিংটোন বাজলো। টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বিছানায় ফেলে রাখা ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখলো। আননোন নাম্বার। নিখিলের ধরতে মন চাইলো না।
ফোনটাকে সাইলেন্ট করে রেখে সে ব্যালকনিতে চলে গেল টাওয়াল নাড়তে। আবছা-অন্ধকার মেশানো জায়গাকে বরাবরই চমৎকার লাগে ওর। তাছাড়া হিম ছড়ানো শীতল হাওয়ায় বইছিল প্রচুর।। নিখিল গ্রিলে হাত ঠেকিয়ে দাড়িয়ে রইলো।
একটু পরে নাজিয়ার গলার স্বরে চটকা ভাঙলো,
— “নিখিল? খেতে আয়!”
— “আসছি!”
জবাব দিয়ে ত্বরিৎ পায়ে খাবার ঘরের দিকে এগোলো। ততোক্ষণে অজ্ঞাত ফোনকলের কথা মাথা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে ওর!

দু’ বার রিং করবার পরও যখন ওপাশ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া গেল না তখন একটু খারাপ লাগলো চারুর। তবে হতাশ হলো না। হতেই পারে, নিখিল এখনও ব্যস্ত!
সে বরং একটু পরে কল করবে।
কিন্তু একটু পরেও কল করে নিখিলের কোনো পাত্তা পেল না চারু। কারণ সে যখন কল করে চাতকের ন্যায় ব্যাকুল হয়ে চেয়ে আছে স্ক্রিনের দিকে, তখন তার থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে নিজের কক্ষের নরম বিছানায় শুয়ে পরম নিশ্চিন্তে চোখ বুঁজেছে নিখিল। হাতের কাছেই মুঠোফোন রাখা, কিন্তু তা এখন মূকের ভূমিকায় অবতীর্ণ!
অগত্যা নিরাশ হয়ে ফোন রাখলো চারু। খানিকটা দুশ্চিন্তায়, খানিকটা বেদনায় জর্জরিত হলো বিরোহিনী মন!
___

ফোনকলের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে নিখিল। সকালে উঠেও ফোন চেক করা হয় নি। ব্যস্ত হাতে তৈরী হয়ে অফিসে ছুটেছে। কাজের ফাঁকে ফোন চেক করতে গিয়ে, আননোন নম্বরটা চোখে পড়েছে। বেশ কবার কল এসেছে। জরুরি ছিল বোধ হয়। কিন্তু ব্যস্ততায় ‘পড়ে কল ব্যাক করবো’ ভেবে ফোন রাখলো। এরপর মনে রইলো না। এবং চারুর কাঙ্খিত কল ব্যাক করাও হয়ে উঠলো না!

দুটো দিন সেভাবেই পার হলো। চারু এরমাঝে আর কল করলো না। সম্ভবত সে কষ্ট পেয়েছে নিখিলের অনিচ্ছাকৃত এই উদাসীনতায়!

রাতে খাওয়া – দাওয়া সেরে সবে বিছানায় গা এলিয়েছে নিখিল, তখন পুনর্বার কল এলো। আজ নম্বর দেখে ভুল হলো না। রিসিভ করলো নিখিল,
— “আসসালামু আলাইকুম। কে বলছিলেন?”
ওপাশ থেকে নম্র মেয়েলি সুর ভেসে এলো,
— “ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
এক মুহূর্তের জন্য হৃদযন্ত্রের স্পন্দন থমকে গেল। বিস্ময়াহত নিখিলের ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেল দুটো শব্দ,
— “চারুলতা জাফরিন!”
উত্তর এলো না। রমণীর শান্ত নিঃশ্বাসের আওয়াজ পাওয়া গেল কেবল। আটকে রাখা দমটা ছাড়লো নিখিল। নিজেকে সামলে শুধালো,
— “কেমন আছেন, চারুলতা?”
— “আলহামদুলিল্লাহ্। আপনি?”
— “এইতো — এতদিনে মনে পড়লো তবে?”
প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই অভিমানিনীর উষ্মা,
— “কদিন ধরে কল করলাম। আপনিই তো গুরুত্ব দিলেন না!”
অপরাধ বোধ জাগলো বটে কিন্তু সেটাকে ছাপিয়ে দিয়ে গেল একটা রঙিন অনুভূতি! চারুর অনুযোগ ওর বুকে ঝড় তুললো। প্রবল ঝড়ে ভেসে গেল নিখিল নওশাদ নামে তুচ্ছ প্রাণী!

চলবে___

#মৌরিন_আহমেদ

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ