Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অন্যরকম তুমিময় হৃদয়াঙ্গণঅন্যরকম তুমিময় হৃদয়াঙ্গণ পর্ব-৩২ এবং অন্তিম পর্ব শেষ অংশ

অন্যরকম তুমিময় হৃদয়াঙ্গণ পর্ব-৩২ এবং অন্তিম পর্ব শেষ অংশ

#অন্যরকম_তুমিময়_হৃদয়াঙ্গণ
#লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
#পর্ব_৩২( সমাপ্তির দ্বিতীয়াংশ)

তাবাসসুম পাগল পাগল হয়ে গেল। পায়চারী করে একের পর এক রুম চেক করছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগণকে পেলো না। মনে হচ্ছে পুরো বাসা খালি। হিয়া দেয়ান বুঝতে পেরেছে ফাহিম পরিবারের সবাই তাদের ধোঁকা দিয়েছে। তিনি মেয়ের দিকে ক্ষোভ-মিশ্রিত দৃষ্টিতে চেয়ে বলেন,

“আমার মনে হচ্ছে তারা আমাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রিসোর্টে চলে গেছে। এখনি আমাদের বের হওয়া উচিৎ চল।”

দাঁতে দাঁত চেপে তৎক্ষণাৎ মা-কে নিয়ে বাসার থেকে বেরিয়ে যায় তাবাসসুম। তাদের কান্ড আড়াল থেকে নিশ্চুপে পরখ করছিল রাফি। মা-বেটিকে যেতে দেখে নিজের মালিককে রিমাইন্ডার দিয়ে দেয়। এক ভ্যানের মধ্যে পুরো পরিবার বসে আছে। রিসোর্টের প্রায় কাছেই চলে এসেছে তারা। পরিকল্পনা করে সবাই রিসোর্টের জন্য বেরিয়েছে। রাফির রিমাইন্ডার পেয়ে বাঁকা হাসল আফরাজ। নাজীবা জানালার বাহিরে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তার বিশ্বাস হচ্ছে না এতো বড় রিসোর্টে তারা থাকবে। বীচ-সাইড রিসোর্ট। নিজের কেবিনের জানালা থেকে ভ্যান গাড়ি ঢুকতে দেখে নাদিম উত্তেজিত হলো। তার বোন-কে কত বছর পর বুকে নিতে পারবে। সেই আশায় তার বুক ধড়ফড় করছে। নাদিমের এরূপ দশা দেখে তার পিএ কাজল ভ্রু কুঁচকাল। মুখ বাঁকিয়ে বিরবিরিয়ে বলে,’লুচ্চু ছেলে খালি মেয়েদের দিকে তাকাবে। আমার মত সুন্দরী-রে কি তোর চোখে পড়ে না? নাকি আমার মুখে কালি মাখা আছে। ধুর তোর চোখেই ছানা পড়ছে। হা’রা’মজা’দা বস একখানা।’
নাদিম ফিসফিস শুনে বিরক্ত চোখে একপলক কাজলের দিকে তাকিয়ে বলে,’দেখো তোমার ফিসফাস করতে মন চাইলে এ কেবিন থেকে বের হও। শুধু শুধু আমার মাথার পোকা কে রাগিও না। নাহলে পরের বার তোমার ঠোঁটের উপর অত্যাচার চালাবো। আগেরবার প্রথম ছিল বলে চোখের উপর ঠোঁট বসিয়ে ছিলাম।’

কথাগুলো বলে বাঁকা হাসল। বসের কথায় কাজল জমে যায়। আমতা আমতা করে রুমের থেকে বেরিয়ে গেলো। নাদিম তার লজ্জাবতীর লাজ দেখে তৃপ্তি পেলো। এইতো এক রমণী যাকে ছাড়া তার জীবনে আর কেউ ছিল না। সেদিন পথের ফকির হয়ে ঘুরার বদলে এই রমণীর একজোড়া হাতের মুঠোয় নিজের হাত রাখতেই পুরোটা জীবন তার সঙ্গে পারাপার হওয়া। কখনো ভাবেওনি নাদিম তার মনের জগতে এই রমণী এতটা জায়গা করে নেবে। তাইত প্রতিমুহূর্তে এই রমণীকে তার চাই,চাই মানে চাইই। নাদিম দরজার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে পুনরায় বাহিরের দিকে তাকায়। ঐ যে তার বোন,কত বড় হয়ে গেলো মেয়েটা। সে তো নিজ হাতে পুতুল এনে দিতো। এখনো মনে হয় ভাইকে দেখলেই এসে বায়না ধরবে ভাইয়া আজকে কিন্তু তুমি চকলেট আনোনি। আমি খুব লাগ করছি। ছোট বোনটার তোতলা কথা শুনে সে কতই না হেসে বায়নাগুলো পূর্ণ করতো। ছোটবেলার কথা মনে পড়ায় তার চোখের কোণে কবে পানি জমালো টেরও পেলো না। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)চোখ মুছে পরণে কোট জড়িয়ে নেয়। নিজস্ব সত্তাকে স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টা মাত্র। তখন ফোনে কল আসার শব্দে নিজেকে ধাতস্থ করে ফোনটি রিসিভ করে। অপরপাশ থেকে ‘শা’লা’ কথাটি শুনে মৃদু হাসল।
‘শা’লা’ আমার বউয়ের দিকে কু’নজর দেওয়া বন্ধ কর। নাহলে তোর একদিন কি আমার একদিন।’
‘জনাব আপনি হয়ত ভুলে যাচ্ছেন। যাহাকে আপনি বউ বলিয়াছেন তাহা আমার রক্তের বোন লাগিয়াছে। আমি বলিলেই আমার বোন আমার কাছে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠিবে। তাই সাবধানে কথা বলিবেন।’
‘তুই তো শা’লা সুবিধার না। আমার বউকে ভাগিয়ে নিজের কাছে রাখার প্ল্যান করছিস। তোর পরিচয় গোপন রাখব। বলতাম না আমার কোনো শা’লা টা’লা আছে। তুই তোর বউয়ের আঁচলের নিচে গিয়ে মর। আমার বউয়ের আঁচল ধরে আমি ঘাপ্টে মে’রে বসে থাকব। দেখি কোন বাপের সাহস কত বড়? আমার বউকে ভাগানোর হুহ্।’
‘চুপ ব্যাডা নিচে থাক আমি আসতেছি।’

নাদিম ফোন রেখে আবেগী মনকে নিয়ন্ত্রণ করে নিলো। কেবিনের দরজা পেরিয়ে নিচের ফ্লোরে এগিয়ে গেলো। সানন্দের সহিতে ফাহিম পরিবারের সদস্যদের আপ্যয়ন করা হচ্ছে। কাজল একের পর এক ফুল বিতরণ করছে। নাজীবা-র বিষয়টা বেশ আনন্দের লাগল। ফুলটা শুঁকে আফরাজ এর গালে কামড়ে দেয়। যা দেখে আফরাজ চোখ সরু করে তাকালো। নাজীবা পোচ দেওয়ার মত মুখ করে তার ফোনের ক্যামেরায় ক্যাপচার করে নিলো। আকবর তো তার বউকে নকশার কারুকাজ করা স্থানে দাঁড় করিয়ে একেক এঙ্গেলে ছবি তুলছে। জনাব ইসমাইল আর মিসেস ফেরদৌসী পরিবেশটা উপভোগ করছেন। রিসোর্ট এর ঠিক বিপরীতে রয়েছে নেভাল বীচ। আজ রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় নেভাল বীচের দিকে যাবে না বলে ভেবে রাখলো। হঠাৎ কারো আগমনে তাদের সকলের দৃষ্টি সেই মানুষটির দিকে পড়ে। কাজল বসকে দেখেই সকলের দৃষ্টিকার্ষণে ডেকে উঠে। আফরাজ আর আকবর ব্যতীত সকলের চোখে মানুষটি নতুন। তার চেয়ে বড় কথা পরিচয় হলো এই রিসোর্টটি তার। ‘টুরিস্ট অফ নেভাল’ রিসোর্টটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি চোখ ধাঁধানো পরিবেশের মুগ্ধতা বিরাজ করে।
কাজল পরিচয় করিয়ে দেয়। এতেও নাজীবার ভ্রুক্ষেপ নেই। তার চোখের দৃষ্টি স্থির। শরীরটা ঝংকার দিয়ে উঠেছে বোধহয়। ঢোক গিলে আফরাজ এর হাতের উপর থেকে হাত সরিয়ে নাকিব মুনসিফ নামক লোকটির নিকট এগিয়ে গেলো। নাকিব মুনসিফ নামটা অন্যরকম হলেও নাদিম তো তার আসল নাম। নাদিম এর ইচ্ছে করছে তার বোনটাকে ঝাপ্টে ধরতে‌। কিন্তু ফাজিলের হাড্ডি ফাজিল আফরাজ তার ব্যাপারে কোনো কথাও তুলছে না। রা’গ পেলেও আফরাজ এর লুকানো শ’য়’তানি হাসি দেখে মনেমন কয়েকটা গা’লি ছুঁড়ে মা’রল। মুখে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে রাখা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে পড়ছে। নাজীবা অচেনা মানুষটির মুখোমুখি হলো। তার মুখের আদলে সে কিছু একটা খোঁজে চলেছে। এমন আচরণ তো সে একজনের সাথেই করতো। কাঁপা হাতে চোখ বুজে তার হাতের স্পর্শ নাকিব নামক লোকটির গালে ছুঁয়ে দেয়‌। জনাব ইসমাইল, মিসেস ফেরদৌসী আর কুসুমা অবাক চোখে চেয়ে আছে। তাদের কাছে দৃষ্টিকটু মনে হলেও আফরাজ আর আকবর ভাবলেশহীন। দু’জনের মতিগতি দেখে তারাও প্রশ্ন করার সাহস পাচ্ছে না। নাজীবা-র গলা পাকিয়ে কান্না আসছে। চোখ বুজে থাকা অবস্থায় চোখের কোণা দিয়ে পানি পড়ছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে নাদিম চট করে নাজীবাকে বুকে আগলে নেয়। কাজলের দৃষ্টিদ্বয় শীতল হয়ে গেলো। তার বুকের মধ্যে অজানা হারানোর বেদনা গ্রাস করছে। নাকিব কেনো এই মেয়েকে জড়িয়ে ধরলো? সে তো অন্যের স্ত্রী। তবে কি তার প্রাক্তন প্রেমিকা? কথাটা মাথায় আসতেই তার শরীর-মন ক্রোধে কেঁপে উঠে। বাক্যহীন তৎক্ষণাৎ নাদিম এর শরীর থেকে হিচড়ে টান দিয়ে দূরে ধাক্কা দেয় নাজীবা-কে। ভাগ্য ভালো বিধেয় আফরাজ কিছুটা আঁচ করতে পেরে তৎক্ষণাৎ তার বিবিজান কে আগলে নেয়। নাদিম এর মেজাজ তুঙ্গে উঠলো। মেয়েটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। নাজীবা-র স্থানে অন্য নারী হলে এ কাজ করলে সে মেনে নিতো‌। কিন্তু তার বোন-কে এভাবে আলাদা করা। মানতে পারল না মোটেও। দাঁত চেপে কাজলের বাহু চেপে নিজের দিকে ফিরিয়ে জোরেসরে চ’ড় বসালো। চ’ড়ের প্রতিঘাতে কাজল ব্যালেন্স হারিয়ে ফ্লোরের উপর পড়ে যায়। নাদিম চিৎকার করে বলে উঠে।

“তোর সাহস কেমনে হলো আমার বোন-কে আমার বুকের ভেতর থেকে দূরে সরানোর? খুব বাড়াবাড়ি করে ফেলছিস না। শোন কালকে থেকে যেনো তোকে অফিসের ধারেকাছেও না দেখি। লো ক্লাস গার্ল লো ক্লাস পজিশনেই থাকবি।”

নিজের মেয়ের উপর ঘাত হওয়া দেখে জনাব কাশেম এর চোখে পানি চলে এলো। তিনি তৎক্ষণাৎ তার মালিকের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলো। কাশেম মিয়াকে দেখে নিজের রা’গ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল নাদিম। কপালে হাত রেখে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে বলে,’আপনি আপনার মেয়ে কে আমার চোখের সামনে থেকে নিয়ে যান। তাকে আমি এমুহুর্তে আর চোখের সামনে দেখতে চাইছি না।’
কাজলের গাল ব্যথায় কাতরাচ্ছে। তবুও টু শব্দ অব্দি করল না। একটু নাহয় বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। তার মানে এই নয় সকলের চোখের সামনে তাকে অপদস্থ করবে। তার আত্মসম্মান বলতে কিছু তো আছে। চোখ মুছে বাবার হাত ধরে বলে,’থ্যাংকিউ স্যার আমার রাস্তা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যে।’
বাবাকে নিয়ে আর অপেক্ষা করল না। রাতের আঁধারে বেরিয়ে যায়। রাত হলেও রিসোর্টের আশপাশ জুড়ে হৈচৈ লাইটিং করা। তাই তারা নিশ্চিন্তে বাড়ি চলে যেতে পারবে। এতটুকু ধারণা করে তপ্ত-শ্বাস ফেলল নাদিম। তার রা’গ নিয়ন্ত্রণ থাকত কিন্তু কাজল অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করায় সে হাত উঠিয়ে ফেলেছে। নাজীবা বোবার মত চেয়ে রইল। আফরাজ আমতা আমতা করে নাদিম এর পিঠে চা’প’ড় মে’রে বলে,

“সরি রে দোস্ত আমার উচিৎ ছিল সবাইকে তোর সত্য পরিচয় জানানো। নাহলে আজ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। তুইও কম কিসে মামা? হবু ভাবী গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে বসে আছিস। আগে বললে তোর ভাগেরটারেও জানিয়ে দিতাম। এই না বলার ভুলটা কিন্তু তোর মামা। এই দোষ মোটেও আমি আমার মাথায় নেবো না নেভার এভার।”

“ব’দমা’ই’শ ব্যাডা ফাঁদে ফেলে এখন শান্ত্বনা না দিয়ে উল্টো টিটকারী মারছিস। ভুলে যাস না বোনটা কিন্তু আমার।”

“তো তাতে কি নিয়ে যাহ। বোনের ভাই নিয়ে যেতেই পারিস। আমি কি তাতে মানা করবো নাকি?”

নাদিম চোখ রাঙালে আফরাজ হাত উঁচিয়ে বুঝছি বোঝায়। সকলের দিকে তাকিয়ে বিশেষত নাজীবা কে উদ্দেশ্য করে বলে,

“এই হলো নাদিম মুসাররাত মোবারক আলী আর মেহজাবিন সিরাত এর বড় পুত্র আর আমার বিবিজান এর পরম মিত্র ভাই। এক বোনের স্পর্শের মর্ম এক বোনই বুঝে কেননা ভাই তো তারই।”

কথাটা বলার পরপর নাজীবা পুনরায় নাদিম-কে জড়িয়ে ধরে নিশ্চুপ কান্না করতে লাগে। নাদিম ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বোনটা বড় হলে কি হবে এখনো ছোট রয়ে গেলো! বোনকে সোফায় বসিয়ে চোখজোড়া মুছে দিয়ে টিটকারী-র সুরে বলে,’দোস্ত বোন তো আমার বাচ্চা রয়ে গেলো। তুই ওর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু ভুলেও করবি না। নাহলে আমি তোর এপারওপার করে দেবো।’

আফরাজ মুখ বাঁকিয়ে বলে,’এ্যাহ আসলো আমার কোথাকার কোন মেলায় হারিয়ে যাওয়া শা’লা। তোর বোন আমার বিবিজান। শুধু উল্টাপাল্টা করব না বরং তোর কোলে উল্টা নয়-দশটা বাচ্চা দিয়ে পূর্ণ করে দেবো দেখিস।’
খুব ভাব নিলো কথাটা বলে। নাজীবার তো কান্না বন্ধ হয়ে গেল কিন্তু আফরাজ এর কথায় বিড়ম্বনায় পড়ে গেল। নাদিম গলা ঝেড়ে অন্যদিক চোখের দৃষ্টি ফেলল। নাজীবা মুখ ফুলিয়ে চোখ রাঙায়। এতে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিল না আফরাজ। নাদিম সেসবে খেয়াল না দিয়ে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,

“তোর কোনো কষ্ট হচ্ছে না তো আফরাজদের সাথে? আমার সাথে তোর খুব অভিমান তাই না? আমাকে মাফ করে দিস-রে বোন। তোর খারাপ সময়ে তোকে সামলানোর জন্য আমিও ততটা সবল ছিলাম না । তাইত আমাদের উপরে আল্লাহ মেহেরবান হয়েছিলেন। তোকে তোর নিজের আসল স্থানে পাঠিয়ে দিলেন। তোর কাছে অটুট বন্ধন রক্ষাকারী একজন এলো‌। আফরাজ তোকে খুশি সুখি রাখবে আমি জানি। রাগারাগী হবে স্বাভাবিক আর আমি জানি তুই মানিয়ে নিবি। এই ভাইটার কাছেও কয়েকদিন পারলে থেকে শ্বশুরবাড়ি যাইস। জানিস তোর জন্য আমি তোর পছন্দমত রুম সাজিয়েছি। আমার বড় বাংলো আছে।”

“ভাইয়া ব্যস করো। আমি থাকব তোমার এখানে। আমি রাগও আর রাখিনি মনে। কিন্তু একটা বিষয়ে খারাপ লাগছে। আমার কারণে তুমি মেয়েটার সাথে খুব খারাপ আচরণ করে ফেললে। এতটা রাগ হওয়া তোমার উচিৎ হয়নি। তুমি চাইলেই পারতে বুঝিয়ে বলতে। তা না করে হাত উঠিয়ে পুরুষত্বদেখালে? আমি এতে খুব খারাপ বোধ করছি। মেয়েটার চোখে তোমার প্রতি ভালোবাসা দেখেছি আমি।”

কথার পিঠে কি বলল নাজীবা বুঝতে পেরে থ বনে গেলো। চোখ পাকিয়ে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলে,’ওয়েট ভালোবাসা আচ্ছা তাহলে এই কাহিনী! বলো কাহিনী কি হুম?’
নাদিম মাথা চুলকে বলে,’অনেক বড় কাহিনী। তোর বাচ্চা হলে তখন মামা হিসেবে কাহিনীটা শোনাবো। আপাতত তোকে সারাংশটা জানিয়ে দেয়। তোদের ছেড়ে পথের মিসকিন হওয়ার পর ঐ মেয়েটাই ছিল আমার একমাত্র আশ্রয়। তার বাবা আমার এই রিসোর্টের দারোয়ান। আমি লুকিয়ে আমাদের বাবার কাছ থেকে পেয়ে ছিলাম ব্যবসার দলিলপত্র। তার তদারকি করতে নিজের নাম বদলে নাকিব মুনসিফ রেখে ব্যবসা চালু করি। তাইত দাহাব এহসান আমাকে ঘুণাক্ষরেও চিনতে পারেনি। বরং তার কাছে আমাকে সোনার হাঁস মনে হয়ে ছিল। আমিও তার মুখে টাকা ছুঁড়ে বাবার জমির টাকায় ব্যবসা চালাতে পেরেছিলাম। ঐ মেয়েটা আমার মনের ক্ষুধার্ত জীবনের একমাত্র চিহ্ন। আজকে একটু বাড়তি রা’গ দেখিয়েছি। বাট ডোন্ট ওয়ারি তোর ভাই প্রেমিক হিসেবে বেশ রোমান্টিক। দেখবি কালকেই তোর হবু ভাবীকে সামনে হাজির করে দেবো।’

দু’ভাইবোন আপনাআপনি হেসে ফেলল। আফরাজ দূরে দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখে চোখ মুছল। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)তারও তো একটা বোন থাকার কথা ছিল। কিন্তু আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ছেড়েই চলে গেল। ‘আফরিন’ নামটা মায়ের মুখে আর এলবাম-এ কয়েকবার ছবি দেখে ছিল। বোন নামক মানুষটির সাথে তারও খুব লাঘব থাকার কথা ছিল! হায় আফসোস! জীবনটা বড়ই অদ্ভুত।মিসেস ফেরদৌসী ছেলের মনোভাব বুঝতে পেরে ছেলের নিকট এগিয়ে যান। আফরাজ মা-কে দেখে বোনের ব্যাপার মাথা থেকে ঝেড়ে মা-কে জড়িয়ে ধরে। জনাব ইসমাইল খুশি হলেন অনাথ মেয়েটার বর্তমান পরিচয় বহনকারী একজন পেলো। তারা তো আছেই। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির চেয়ে বাপের বাড়ির মায়া মমতা এক মেয়ে কখনো ভুলতে পারেনা। দীর্ঘশ্বাস ফেললেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানের দিকে চেয়ে তিনি মনেমন দোয়া পাঠ করলেন। যেনো কোনো কুনজর তাদের পরিবারের উপর না পড়ে।

চলবে…….

#অন্যরকম_তুমিময়_হৃদয়াঙ্গণ
#লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
#অন্তিম_পর্ব

“খুব হাসা হচ্ছে সকলের। আমিও চলে এসেছি। দেখবো কতদিন আর হাসতে পারিস তোরা।”
তাবাসসুম সকলের হাসিমাখা চেহারা দেখে হাত মুঠোবদ্ধ করে আছে। সেও তার মায়ের হাত ধরে ভেতরে প্রবেশ করে। আকস্মিক কারো আগমনে আফরাজ সমেত সকলে পিছু মোড়ে। তাবাসসুম সকলকে বিড়ম্বনায় ফেলতে ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,

“আমাকেও বলতে আমিও আসতাম। আফটার অল সেকেন্ড ওয়াইফ আফরাজ এর।”

এ কথায় যেনো কেউ পাত্তা দিলো না এমন ভান করলো। তাবাসসুম সেদিক চোখ দিয়ে মনেমন গা’লি ছুঁড়ে দেয়। আফরাজ এর নিকটে যেতে নিলে নাজীবা সপথে হাজির হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। ভান ধরল যেনো সে তার স্বামীর পাশে কাউকেই সহ্য করতে পারবে না। মুখ ঘুরিয়ে তাবাসসুম এর দিকে তাকিয়ে বলে,

“খবরদার আর এক কদম বাড়ালে তোর পা আর পা থাকবে না। যেখানে আছিস সেখান থেকে সোজা উল্টো পায়ে ফিরিয়ে যাহ্। এই ঘরপরিবারে তোর হক নেই বললেই চলে।”

নাদিম হাত তালি দিয়ে সামনের দিক ইশারা করে। তাবাসসুম চোখ ঘুরিয়ে মা-কে ধরে রুমের দিকে এগালো। নাজীবা ফিক করে হেসে দেয়। নাদিম পরিবারের সকলের সাথে কথাবার্তা বলে আফরাজ কে সঙ্গে নিয়ে কেবিনে ঢুকে পড়ে। যে যার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে। আফরাজ বলে,
“কালকের পার্টিতে গেস্ট হিসেবে সতর্ক থাকিস। তাবাসসুম এর বিশ্বাস নেই। নাজীবা-র ক্ষতি করে দিতে পারে। আমি চাইছি কালকে শরীয়ত মোতাবেক তাবাসসুম এর মুখের উপর তালাক বলে দিতে! শোন সিরিঞ্জ এনেছিস না?”

নাদিম মাথা নেড়ে সিরিঞ্জ-টা এগিয়ে দেয়। আফরাজ পকেটে ভরে রাখল। দু’জনে একে অপরকে আশ্বাস দিয়ে যে যার মত চলে যায়। দিনে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য আফরাজ রুমের যাওয়ার সময় এক স্টাফকে ভাড়া করে রাখল। তখনি তার নজরে অচেনা এক মেয়ের চেহারা সামনে এলো। চেহারাটা এখানকার নয় তা মেয়ের গড়ন বলে দিচ্ছে। মেয়েটার নজর বুঝিয়ে দিচ্ছে সে চোরামি করে এসেছে। তার যাওয়ার পথ কোনদিকে তা অনুসরণ করার সময় রইল না আফরাজ এর। রুমে নাজীবা একলা হওয়ায় রুমের দিকেই অগ্রসর হয়। কিন্তু মাঝপথে বিষয়টি নাদিম-কে জানিয়ে রাখার কথা ভাবল। ফোন বের করে নাদিমকে মেসেজ করে দিলো। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)
সকাল ১১টায় ফাংশন শুরু হলো। একের পর এক টুরিস্ট গেস্ট আসছে। তাদের মাঝে ফাহিম পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত। নাজীবা-কে কোনোভাবেও হাতছাড়া করছে না আফরাজ। সর্বক্ষণে নজরে রেখেছে। স্বামীর মাত্রাতিরিক্ত ফোকাস নিয়ে নাজীবা বিরক্তবোধ করছে। হঠাৎ মনে হলো তার ওয়াশরুমে যেতে হবে। বিনা সংকোচে স্বামীর হাতায় গুঁতো মে’রে বলে,
“আমি ওয়াশরুমে যেতে চাই।”
আফরাজ ‘চলো’ বলে টেনে নিয়ে যায়। নাজীবা হা করে তাকিয়ে স্বামীর সঙ্গেই গেলো। তাবাসসুম বুঝতে পারছে আফরাজ তার কারণে নাজীবার সঙ্গ ছাড়ছে না‌। তবে তা কতক্ষণ? এই ভেবে শ’য়’তানি হাসি দেয় আপনমনে তাবাসসুম। তার ভাড়া করা পুষ্প নামের মেয়েটিকে চোখের ইশারায় সিরিঞ্জ-টা এগিয়ে দেয়। আফরাজ এর পেছনের যেতে ইশারা করল। সিরিঞ্জ-টা হলো এক রোগীর এইচআইভি ভাইরাসের রক্তের। সে সংগ্রহ করেছে তার সতীনকে তীব্র কষ্টে মৃত্যুর মুখে ফেলার জন্য। পুষ্প মুখে কাপড় পেঁচিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগালো। তাবাসসুম প্রশান্তির শ্বাস ছেড়ে হিয়া দেয়ান এর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু হিয়া দেয়ান কেনো যেনো নিজের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছেন না। তিনি আলতো হাতে মেয়েকে ধরে বসে পড়লেন। মায়ের অবস্থা দেখে ভ্রু কুঁচকে ‘কি হলো মম’ বলে উঠে। হিয়া দেয়ান মাথা নেড়ে ‘কিছু না’ বোঝায়। মনেমন তিনি নিজেও শরীরের অবস্থার অবনতি নিয়ে চিন্তিত।

আধাঘণ্টা পর এওয়ার্ড পর্ব শুরুর ঘোষণা করা হলো। আফরাজ এর সঙ্গে তাবাসসুম দাঁড়িয়ে যেতে এগোলেও কদম পেরুতে পারে না। কিংবদন্তি হয়ে থমকে দাঁড়িয়ে থাকে। নাজীবার সুস্থ শরীর দেখে তার মাথার মধ্যে অজস্র প্রশ্নের ঘুরপাক খায়। তৎক্ষণাৎ পুষ্প কে ফোন লাগাল। ফোন ধরল না মেয়েটা। হঠাৎ একজন-কে পাশে এসে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে তাবাসসুম নিজে-কে স্বাভাবিক করে নেয়। নাকিব ওরফে নাদিম এসে বলে,

“যাকে খুঁজছো সে আর ফিরে আসবে না। সাবধানে থেকো তার কাছে দেওয়া সিরিঞ্জের ব্লাড যেনো আবার তোমার শরীরে না যায়?”

তাবাসসুম পাল্টা প্রশ্ন করার পূর্বেই সেখান থেকে নাদিম ভীড়ের মধ্যে মিলিয়ে যায়। আফরাজ বিবিজান এর সঙ্গে এওয়ার্ড রিসিভ করে সকলের সামনে বলে,’এই অংশটা কখনো পেতাম না আমার বিবিজান কে ছাড়া। সে আছে বলেই আমি পরিপূর্ণ। থ্যাংকিউ ফর কামিং মাই লাইফ বিবিজান।’
নাজীবার হিজাবের উপর চুমু এঁকে দেয়। মাস্কের আড়ালে লাজুক হাসে। কাজল আমতা আমতা করে নাদিম এর পাশে এসে দাঁড়ায়। সে পুরো রাত কান্না না করে ভেবেছে। সে যেমন বুঝতে না পেরে বাড়াবাড়ি করল তেমনি নাদিমের মাত্রাতিরিক্ত রা’গ দেখানো উচিৎ হয়নি।
দু’জনেই মৌনব্রত পালন করছে। কিন্তু নাদিমের এই মৌনতা পছন্দ হলো না। সে আক্ষেপের গলায় বলে,’বিয়ে করে আমার অর্ধাঙ্গিণী হতে চাও? একটা ভুলকে মাফ করে এই তোমার পথের ফকিরকে জীবনের বড় অংশ বানাতে দিবে? তোমার মনের মত সম্পদশালী না হলেও আমার হৃদয়ের ছোট আঙ্গিনায় যত্নে গড়া ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। সেখানে তুমি আরামে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতে পারবে। কোনো অভিযোগ হলে নির্দ্বিধায় বলে দেবে,কোনো প্রকার মৌনতা আমি আমাদের মাঝে চাইছি না। আরেকটা কথা পরনারীর প্রতি রা’গ থেকে আমায় নিয়ন্ত্রণ করে যেও তবুও বোনের প্রতি আমার ভালোবাসার নিখুঁতটার পরীক্ষা করতে চেও না।’

নাদিম এর প্রতিটি কথা শুনে মুখ চেপে কান্না নিবারণ করতে লাগে কাজল। কিঞ্চিৎ মুহূর্ত পর তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। কাজল পরম প্রিয়তমের আশ্রয় পেয়ে আহ্লাদী গলায়,’বিয়েতে আমি রাজি’ বলে দেয়। শুনে দুষ্টুমির হেসে নাদিম বলে,’তবে একটু অসভ্যতামি করা উচিৎ কি বলো?’
লজ্জা পেয়ে কাজল মিইয়ে গেল। নাজীবা ভাই-হবু ভাবীর এরূপ দৃশ্য দেখে চোখের উপর হাত রেখে বলে,

“ওপস আমি কিছু দেখিনী সরি।”

দু’জনে হকচকিয়ে গেলো। নাদিম মাথা চুলকে তখনই সরে যায়। কাজল পড়ল বিপাকে। পালিয়ে যেতে নিলে নাজীবা দিলো না। বরং তাকে ধরে আবদারের ঝুলি নিয়ে বসে পড়ল। তাবাসসুম এর মাথা ঘুরছে। সে হিয়া দেয়ান এর পাশে বসে পড়ল। আফরাজ ,আকবর,নাদিম আর জনাব ইসমাইল সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তাদের স্ত্রীগণ রিসোর্টের ভেতরের রুমে আছে। আফরাজ বুকের উপর হাত ভাঁজ করে বলে,

“আজ পরিবারের সবাইকে সাক্ষী মেনে তোমাকে তিন তালাক দিচ্ছি। এক তালাক আমার বিবিজান-কে অপদস্থ আর ভাইরাস আক্রান্ত করার প্রচেষ্টা করায়, দুই তালাক মা-মেয়ে মিলে জঘণ্য পরিকল্পনা করার জন্য আর তিন তালাক আমার জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য। আলবিদা।”

নিজের কথা ব্যক্ত করে রাফিকে কল দিয়ে ডাকে। তাবাসসুম এর মুখে কোনো কথা নেই। কেনো না প্রথম তালাকের কারণ শুনে বুঝে গিয়েছে তার শরীরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। বোবার মত মায়ের দিকে তাকায়। তার মায়ের চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েছে। হাত-পা অজান্তেই বেঁকে যাচ্ছে। প্যারালাইজের লক্ষণ বলা চলে। রাফি লেডি গার্ডস নিয়ে তাবাসসুম আর তার মা-কে ধরে উঠালো। তাবাসসুম আড়চোখে আফরাজ এর দিকে তাকায়। বোবার মুখে কথার বুলি না থাকলেও হৃদয়ের মাঝে অগ্নি ঠিকই জ্বলছে। হুংকার ছেড়ে তৎক্ষণাৎ হাতের ব্যাগ থেকে ছোট আতরের বোতল নিয়ে বোতলের মুখ খোলে নেয়। কেউ কিছু বোঝার পূর্বেই চিৎকার করে উঠে নাদিম। তিনজন হতভম্ব হয়ে গেল। আফরাজ এর হাতের উপর এসিড পড়তে গিয়েও পড়ল না। নাদিম এসে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। একারণে তার হাতে এসিড লেগে যায়। লেডি গার্ডস গু’লিবিদ্ধ করে দেয় তাবাসসুম এর শরীরকে। মুহুর্তেই তাবাসসুম এর শরীর র’ক্তা’ক্ত হয়ে গেলো। তবুও তার মুখে তৃপ্তির হাসি। সে নাজীবা-কে মৃত্যু দিতে না পারলেও তার ভাইকে পুড়াতে পেরেছে। এই যেনো তার জীবনের সার্থকতা। হিয়া দেয়ান মেয়ের নিথর শরীরের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলতে লাগেন। কথা বলার জো নেই। রাফি তাবাসসুম এর লা’শ কে নিয়ে তদন্তহীন ঝামেলা মেটাতে গেলো। নাদিমের গার্ডস এর মাঝে হৈচৈ লেগে গিয়েছে। গার্ডস নিয়ে তৎক্ষণাৎ নাদিম-কে হসপিটালাইজ করে। আফরাজ চিন্তিত। নাজীবা স্বামীকে ধরে চোখের পানি ঝরাচ্ছে। গতরাতেও ভাইকে পেয়ে সুখের পানি ঝরিয়ে ছিল। অথচ এক রাতের ব্যবধানে এমুহুর্তে চোখের থেকে বেদনার পানি ঝরাছে। মিসেস ফেরদৌসী বউমা কে টেনে বসিয়ে দেন। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)ছেলেকে ইশারায় নাদিম এর খোঁজ নিতে ইঙ্গিত দেন। অপারেশন কেবিন থেকে মাস্ক খুলে ডক্টর বের হলেন। সকলে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকায়।
ডক্টর বলেন,
“আইম সরি টু সে এসিড বাজেভাবে লেগেছে মিস্টার নাদিমের বাম হাতে। কয়েকমাস পর বাম হাতটা নাড়াচাড়া করতে পারবেন তার আগে নয়। কিন্তু ওষুধের উপর রাখতে হবে যেনো হাতটা অচল না হয়ে পড়ে। আর দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে এসিডের দাগটা আজীবন রয়ে যাবে। ভারী কাজ করতে হলে হেল্পিং হ্যান্ড লাগবে। নাউ পেশেন্ট ইজ রেস্টিং। আফটার হাফ আওয়ার উই শিফট হিম ইন দ্যা কেবিন।”

নামাজ রুম থেকে বের হয়ে অপারেশন রুমের দিকে আসছিল কাজল। এসেই ডক্টরের কথা শুনে ফেলে। চোখ-মুখের বেহাল দশা বানিয়েছে। কাজলের বাবা ডক্টরের কথা শুনে মনেমন মেয়ের ভালোবাসার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানান। অনড় কাজল। বাবার মুখের দিকে চেয়ে বলে,

“যাকে ভালোবাসি তাকে কখনো পরিস্থিতির খাতিরে ফেলে চলে যাবো না আমি। আমার নাদিম অচল হলেও তাকে আমি স্বামী রুপে মেনে নেবো। তবে তাকে ছাড়া অন্য কেউ নয়!”

মেয়ের কথায় কাজলের বাবা খুশি হলেন। এবার নাদিম এর জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা শুধু।
ঘুম ভাঙে নাদিমের। পাশে কান্নাময় চেহারা নিয়ে বোন-কে বসে থাকতে দেখল। বোনের হাত ধরতে ডান হাত উঠাতে নিলে নাজীবা নিজে ভাইয়ের হাত ধরল। নাদিম বলে,

“তোর সুখকে বাঁচিয়েছি বিনিময়ে আমার খুশিকে প্রাধান্য দিস।”

ভাইয়ের কথার অর্থ বুঝতে পেরে নাজীবা মাথা নাড়ল। নাদিম সকলের সাথে টুকটাক কথা সারলেও তার চোখজোড়া এক রমণীর উপস্থিতি খুব করে অনুভব করছে। জানে না মেয়েটা নিজের কি হাল করেছে? আদৌ সুস্থ আছে কিনা বুঝতে পারছে না। লজ্জায় বোনের শ্বশুরবাড়ির কাউকেও জিজ্ঞেস করছে না। বোন কি ভাববে তা ভেবে মৌন রইল। অথচ নাজীবা ভাইয়ের অস্থিরতা ঠিকি ধরতে পেরেছে। কেশে সকলকে নিয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। তখন দীমি পায়ে প্রবেশ করে কাজল। তার দিকে শীতল নয়ন ফেলল নাদিম। মেয়েটার চোখের কোণে পানি চকচক করছে। পুনরায় রাতের কথাটি তুলে বলে,

“আমাকে কি আর বিয়ে করবে কাজল্লতা? আমি কি আর তোমার স্বামীর যোগ্য রয়েছি? নাকি আমার এই এসিড পোড়ানো হাত দেখে অযোগ্য হয়ে পড়লাম। তুমি নিসংকোচে বলতে পারো‌। আমি নিজ হাতে আমার কাজল্লতার বিয়ে অন্যপারে দেবো। আমি অযোগ্য হলেও আমার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা কখনো মিথ্যা হবে না।”

“ব্যস চুপ করুন। এতো কথা বলতে বলেছি আমি? ব’দ’মাই’শ হা’রা’মজা’দা কু’ত্তা।”
গা’লি ছুঁড়ে কোনো দিকবেদিক না মেনে নাদিমের নিকট ছুটে গিয়ে ওষ্ঠজোড়া মিলিয়ে দেয়। নাদিম এর চোখজোড়া বড় বড় হয়ে গেলো। তার হবু অর্ধাঙ্গিণী এতো ফাস্ট জানা ছিল না তার! কাজল পরম আবেশে নাদিম এর পাশে খানিক স্থান জুড়ে বসে দুজোড়ার শুকনো ওষ্ঠদ্বয় ভিজিয়ে নিচ্ছে। আফরাজ তার শা’লকের প্রাইভেসির জন্য সকলকে নিয়ে রিসেপশনে চলে যায়। আকবব,রাফি,জনাব ইসমাইল থাকল হাসপাতালে। আফরাজ মহিলাগণ কে রিসোর্ট এ না রেখে বাসায় ছেড়ে হসপিটালে ফিরে আসল।

পাঁচ মাস তিন সপ্তাহ পর…..
নাজীবার দম ফেলার অবকাশ পাচ্ছে না। নিজ হাতে নাদিম ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন করছে। কুসুমার ভারী পেট নিয়ে কাজ করা অসম্ভব। অসহায়ের মত তাকিয়ে আছে। তারও ইচ্ছা করছে বিয়ের আনন্দ উপভোগ করতে। সবার ভালোবাসার কাছে পরাজয় হয়ে বসে আছে। নতুন মাসের প্রথম সপ্তাহেও সুখবর শোনা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন ডক্টর।
আফরাজ পায়জামা-পাঞ্জাবী পরে গোমড়া মুখে বসে আছে। কেমন পাষাণ নারী সে! তার আর্দশ ভাইয়ের বিয়ে বলে সে আর কুসুমা ভাবী রাতের আঁধারেই বাসায় চলে গেল। ফোনের দিকে বারংবার চোখের দৃষ্টি ফেলছে। কোনো ফোন কল অব্দি দিলো না পাষাণ নারীটি। মিসেস ফেরদৌসী ছেলের রুমে এসে তাড়া দিলেন। আফরাজ বিরক্তিকর গলায় বলে,

“যাবো না আমি। যান আপনারা।” ছেলের কথা শুনে মিসেস ফেরদৌসী মৃদু হেসে চলে যান। আফরাজ পাত্তা না পেয়ে বিছানায় হেলান দিয়ে ঘাপটি মে’রে বসে রইল।
মিসেস ফেরদৌসী-রা আকবর-কে কে নিয়ে গাড়িতে উঠে গেলেন। জনাব ইসমাইল ছেলের রুমের জানালার দিকে তাকিয়ে উচ্চ গলায় বলেন,

“ব্যাটা মেয়েদের মত মুখ না ফুলিয়ে চলে আয়।”

আফরাজ পা দিয়ে পা’রা দিচ্ছে। হঠাৎ ফোনে নোটিফিকেশন এলো। মেসেজ রেকর্ড বোধ হয়। রেকর্ডিং চালু করতেই নাজীবার কণ্ঠ শুনতে পায়। আক্ষেপের সুরে জলদি আসার জন্য বলছে। আফরাজ ফোন পকেটে ভরে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো।
বিয়ের মঞ্চে শেরওয়ানি পরিহিত বর জনাব নাদিম মুসসারাত অস্থীর হয়ে বসে আছে। নতুন জীবন শুরুর অনুভূতি তাকে উদগ্রীব বানিয়ে দিচ্ছে। তার হবু স্ত্রীর অপেক্ষায় কাতরাচ্ছে। নাজীবাও আজ ভাইয়ের বিয়ে বলে সৌন্দর্যে মোড়ানো সাজ দিয়েছে। তার বোরকায় স্টোন এটার্চ করা।
গাড়ির হর্ন শুনে নাদিম উৎসুক দৃষ্টিতে চাইল। আফরাজদের দেখে খুশি হলো বটে। মঞ্চের উপর উঠে আফরাজ পরিবার সমেত কোলাকুলি করল। জনাব ইসমাইল আর মিসেস ফেরদৌসী দোয়া দিলেন নতুন বরকে। আফরাজ উৎসুক দৃষ্টি দিয়ে বিবিজান কে খোঁজে চলেছে। দেখা পাচ্ছে না বলে মনেমন রা’গ ঝারছে মেয়েটার উপরে। হাতে গ্লাস ভর্তি শরবত নিয়ে মঞ্চের দিকে আসছিল নাজীবা। জিভে কামড় লাগায় বুঝতে পারল কোনো এক শ’য়’তান খুব করে বকেছে। আফরাজ এর অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। নাজীবা হাসিমাখা মুখশ্রী নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন কে শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করল। স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে বাহুডোরে হাত পেঁচিয়ে বলে,

“জানেন কোনো এক কু’ত্তা বিলাই আমাকে গা’লি দিছে। আমার জিভে জোরে কামড় খাইছি। ব্যাটা কী ব্যাটি যেই গা’লি ছুঁড়ছে তারে আমি পেলে পঁচা নালায় ডুবাবো।”

বিবিজান এর কথা শুনে ঢোক গিলল আফরাজ। মনেমন আর কখনো গা’লি বা বকা দিবে না বলে নিজের কাছে শপথ করে।
নাদিম কে আর অস্থিরতায় ভোগালো না মেয়েপক্ষ। কাজলের কাজিনরা বিয়ের মঞ্চে উঠালো। নাদিম বউয়ের হাত ধরে পাশে বসায়। মিটমিটে হাসির শব্দ বুনল। কাজীও চলে এলেন। কাবিননামা দেনমোহর ধার্য করে দুজনের বিয়ে পড়ানো হলো। সকলে ‘আলহামদুল্লিল্লাহ্’ বলে দোয়া পাঠ করে। কাজল কে ভাবী ডেকে নাজীবা আর কুসুমা দুষ্টুমি করতে লেগে পড়ে।
খাওয়ার পর্ব শেষে অতিথিবৃন্দ বেরিয়ে যায়। কাজলকে ভাইয়ের রুমে বসিয়ে নাজীবা অধীর আগ্রহে টাকা হাতানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। নাদিমকে আকবর আর আফরাজ টিজ করতে করতে রুমের কাছে আনলো। বিবিজান কে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে,

“বিয়ে হয়েছে তোমার ভাইয়ের। পথের থেকে সরে ঢুকতে দাও তারে। জানো না আজ রাতে তোমার ভাই বিলাই মা’র’বে।”

লজ্জায় কাঁচুমাচু হয়ে গেলো নাদিম। নাজীবা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,

“হাতের মধ্যে কচকচে দশটা হাজারের নোট রাখো। নাহলে রুমে প্রবেশ করার কথা তো ভুলেই যাও।”

নাজীবার পক্ষ নিতে কাজলের কিছু কাজিনও হাজির হয়ে যায়। যা দেখে আকবর মিইয়ে যাওয়া গলায় বলে,

“ভাই দিয়ে দেহ্। নাহলে আমাদের মত অবলা জোয়ান পুরুষদের হরণ করে নেবে এই মাইয়াগণ। সবগুলোই টাকার ক্ষুধার্ত। টাকা না পেলে আজ রাত আমাদের অন্তিম রাত হয়ে যাবে।”

নাদিম টাকা দিয়ে দেয়। মেয়েরা টাকা পেয়ে ছু’মন্তুর হয়ে যায়। আফরাজ এর নজর তখনও নাজীবার দিকে। আজ মেয়েটা তারে পাগল বানিয়ে ছেড়েছে। নাদিম ভেতরে ঢুকে পড়লে আফরাজ হাই তুলে বলে,

“যাহ্ ব্যাটা ভাবীর কাছে যাহ্। হবু বাচ্চাকে আগলে নিয়ে আদর কর। আমিও গিয়ে আরেকবার বাসর ছাড়ি। আজ নাহয় বাচ্চার প্রসেসিং চালু করব।”

“বকরচকর ব্যাটা। যাহ্ ভাগ এখান থেকে।”

বন্ধুকে লা’থ মা’রতে নিলে আফরাজ তৎক্ষণাৎ দূরে সরে যায়। চোখ টিপ দিয়ে বিবিজান এর কাছে গেল। রুমে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে না পেয়ে বিরক্ত হলো। লেখিকা_তামান্না(আল রাইয়ান)মেয়েটা খালি খাপছাড়া ভাব নিয়ে পালিয়ে বেড়ায়। কোথায় তুই জামাইকে পেয়ে আদর করবি তা না উল্টা টইটই করে ঘুরে বেড়াস। ড্রয়িং রুম থেকে হৈচৈ এর শব্দ শুনে আফরাজ উঁকি মেরে দেখল। কাজিনপক্ষ এর সাথে নাজীবা আড্ডা দিচ্ছে। দাঁতে দাঁত চেপে লাঠি একখান হাতে নিলো। তাদের মাঝে গিয়ে বলে,

“সবার টাকা ভাগাভাগি শেষ। একেকটা ডান্ডার বা’রি খেতে না চাইলে যে তার রুমে পালাও।”

তাদের আর পায় কে? হুডমুড় করে নাজীবাকে রেখে পালিয়ে যায়। লাঠিটা রেখে বুকের উপর হাত গুজল আফরাজ। স্বামীর নীরব মেজাজ দেখে আমতা আমতা করে বলে,

“আ আমি আজকে ভাবীর কাছে থাকি কেমন?”

কথা বলার অজুহাত না পেয়ে এটুকু বলে পালাতে নিলে আফরাজ পাঁজাকোলা করে নেয়। নাজীবা ভীতি গলায় বলে,

“দেখেন উল্টাপাল্টা কিছু করলে ভাইকে বলে দেবো।”

“দাও দেখি। আজ আমার শা’লাও বাপ হওয়ার প্রসেসিং নেবে। এদিকে আমি? একবছরের মত হচ্ছে বিয়ে করেছি। বাপ ডাক আর কত দেরিতে শুনবো। আজ আমিও চক্কা মা’র’ব। গেট রেডি বিবিজান।”

নাজীবা মাথা নেড়ে ‘না না’ করছে। ছাড় পেল না। রুমে গিয়ে বিবিজান কে আপন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আফরাজ। মন-মস্তিষ্কে শুধুই এখন তার বিবিজান। সুখের মুহূর্তে আফরাজ ফিসফিসিয়ে বলে,”আমার বিবিজান কে আমি #হৃদয়াঙ্গণ এ আগলে নিচ্ছি।”
পরম আবেশে নাজীবা আঁকড়ে ধরল তার আফরাজ কে।

দু’বছর পর……

কুসুমা তার দু’বছরের বাচ্চা আজিম কে কোলে নিয়ে চিন্তিত মুখে নাজীবার পাশে বসে রইল। আজিম কে বিছানায় শুয়ে দেয়। আজিম তার বড়’মাকে খুব পছন্দ করে। কারণ কুসুমা অসুস্থ অবস্থায় নাজীবা মায়ের মমতায় পালন করতো। হামাগুড়ি দিয়ে নাজীবার কোলে মাথা রাখে। আফরাজ তিনমাস হলো দেশের বাহিরে গিয়েছে। তার সাথে কন্টাক্টও করা যাচ্ছে না। ছেলেটা এমন কেনো? কুসুমা বুঝে না। তার বউত চিন্তায় চোখের নিচে কালি বসিয়ে ফেলেছে। বউ-মার আকস্মিক মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ায় মিসেস ফেরদৌসী বেশ ভয় পেয়েছেন। জনাব ইসমাইল চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করলেন।

“আমাদের বউমা ঠিক আছে তো ডক্টর? আপনি কিছু বলছেন না যে?”

“কি বলবো? আপনাদের খুব সর্তক হওয়া উচিৎ। আপনাদের বাড়ির বউ যে তিনমাসের গর্ভবতী সে খবর রেখেছেন?”

ডক্টরের হাস্যজ্জ্বল মুখশ্রী থেকে কথাগুলো শুনে সকলের মুখে হাসি ফুটল। জনাব ইসমাইল ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললেন। তৎক্ষণাৎ আকবরকে মিষ্টির জোগান দিতে বলেন। সেও চাচা হওয়ার খুশিতে আফরাজ কে মেসেজ করে দেয়। অন্যথায়, আফরাজ মিটিং এ ব্যস্ত ছিল। প্রেজেন্টেশন দিচ্ছিল। তার ফোনে মেসেজ আসায় চোখের দৃষ্টি সেদিক দিতে পারল না। বিদেশে আসার পর থেকেই মিটিং,কাজের চাপে বাসার কারো সাথে কথা বলতে পারছিল না। ফোন দেখার সময় অব্দী পেতো না। আকবর একটু আধটু বাসার খবর সম্পর্কে রেকর্ড পাঠাতো। নাজীবার মেসেজ কল দেখেও রিপ্লাই করতো না। কারণ তারও মন জ্বলত। কাজের চাপে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতো। কাজ যত জলদি শেষ করবে তত জলদি সে বাসায় ফিরতে পারবে।
আড়াইঘণ্টা পরে কেবিনে ফিরে এসে বসল আফরাজ। ফোন হাতে নিয়ে আকবর এর পাঠানো মেসেজটা পড়ল। ‘আমি চাচা হতে যাচ্ছি।’ আফরাজ বুঝল না। পাত্তাহীন রেখে দিল। পরক্ষণে টনক নড়ে। আকবর চাচা হচ্ছে মানে? কথাটা তার মস্তিষ্কে জোয়ার তুলল। ফোন হাতে নিয়ে পুনরায় মেসেজটা পড়ে। হঠাৎ খুশিতে চিল্লিয়ে উঠে। তৎক্ষণাৎ বিবিজান কে কল দেয়। স্বামীর কল পেয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয় নাজীবা। এরোপ্ল্যান মোড অন করে রেখে দেয় ফোন। আফরাজ বিবিজান এর অভিমান বুঝতে পারল। কালকেই শেষ প্রেজেন্টেশনটা রেডি করে ফেলবে। এরপর বিবিজান এর অভিমান ভাঙ্গাতে ফিরে যাবে।
পরের রাত প্রায় তিনটা নাগাদ….
তাহাজ্জুদ এর নামাজ আদায়ে বসেছে নাজীবা। মিনিট খানেক পর সালাম ফেরানো শেষে তার চোখজোড়া খুলে। পাশে আফরাজ কে দেখে স্তদ্ধ হলো। পরমুহূর্তে খিলখিলিয়ে হেসে স্বামীকে বুকের উপর লুটে পড়ে। রাত দুইটার সময় দেশের মধ্যে পৌঁছেছে আফরাজ।নাজীবা ব্যতীত সকলের আফরাজ এর আগমন বার্তা জানা। জনাব ইসমাইল,আকবর আর নাদিম এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিল। আফরাজ এর উতলা মন বিবিজান কে দেখার জন্য ছটপট করছে। নাদিম এর সাথে মজামাস্তির মাঝে মোবারকবাত দিলো। কেনো না নাদিম বাবা হয়েছে সপ্তাহ খানেক হবে। তার কন্যা সন্তানের ছবি দেখেছিল ফোনে। নাম ‘কণিকা মেহজাবিন’ রেখেছে। নাদিম হেসে বলে, ‘তুইও কম কিসে? মাশাআল্লাহ অবশেষে বাচ্চার বাপ হতে চলেছিস।’

আফরাজ হাসল। দু’বছর অপেক্ষার পর তাদের কোলজুড়ে সন্তান আসতে চলেছে। দু’বছর আগেও নাজীবার প্রেগন্যান্সি নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলো। মেয়েটা গর্ভধারণ করতে না পারার কষ্টে নেতিয়ে পড়েছিল। ডক্টর দেখিয়েও লাভ হয়নি‌। রিপোর্টে সব শুদ্ধ পাওয়া যেতো। বিঘ্নিত মনে নাজীবাও দূরত্ব বাড়ায়। কিন্তু আফরাজ অসীম ধৈর্য্য দ্বারা বিবাহ সম্পর্ককে অটুট রাখে। প্রতিসময় আল্লাহর কাছে মানত করত। সবচেয়ে বড় ব্যাপার আফরাজ তাবাসসুম এর মায়ের সুস্থতা কামনা করে ভালো আশ্রমে রেখেছে। সব হারিয়ে হিয়া দেয়ান এর মাঝে কোনো প্রতিহিংসা নেই। তিনিও মনেমন আফরাজ আর নাজীবার জন্য দোয়া করেন। প্রশান্তির শ্বাস ছেড়ে আফরাজ গাড়ি থেকে নামে।
তড়ফড়িয়ে বিবিজান এর দর্শন পেতে রুমে চলে যায়। সেখানে নামাজরত বিবিজান কে দেখে সেও পরিপাটি হয়ে নামাজে বসে পড়ে। স্বামী-কে পেয়ে নাজীবা আহ্লাদী গলায় বলে,

“আর কিন্তু কষ্ট দিবেন না। নাহলে আমি আমাদের বাবুকে নালিশ দেবো।”
“তাহলে তো আমার বাবুর আম্মুর খুব যত্ন নিতে হবে। নাহয় পুচকা বা পুচকি এসে চ’ড় মা’র’বে।”

কথাটা বলে বিবিজান এর পেটে আলতো হাত ছুঁয়ে চুম্বন দেয় আফরাজ। বিবিজান এর গালে এক হাত রেখে বলে,

“আজীবন আমার হয়ে থেকো বিবিজান , শুধুই আমার হৃদয়ের আঙিনায় #অন্যরকম_তুমিময়_হৃদয়াঙ্গণ রূপে থেকো।”
স্বামীর হাত আঁকড়ে ধরে মিহি গলায় বলে,”ইন শা আল্লাহ থাকব।”
আফরাজ বিবিজান কে বুকে আগলে রেখে জানালার বাহিরে আকাশের মধ্যে লুকোচুরি করা মেঘের দিকে চেয়ে থেকে আদুরীয় কন্ঠে কথার ঝুলি খোলে বসে। একফালি চাঁদ এর রশ্নিতে তারা নিজেদের মনভাব প্রকাশ করছে।

সমাপ্ত……

(অতএব, গল্পের সমাপ্তি ঘটলো। ভুলগুলো ক্ষমা করবেন আর গল্পটা নিয়ে আপনাদের মন্তব্য চাই। আশা করি আপনারা মন্তব্য করবেন। কোনো একসময় ইন শা আল্লাহ আবারো নতুন গল্প নিয়ে হাজির হবো। আপনাদের এই লেখিকাকে ভুলবেন না। ফিরব কোনো একদিন ইন শা আল্লাহ। ততদিন ভালো থাকবেন। দোয়া করবেন আমার জন্য। আল্লাহ হাফেজ)

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ