Friday, June 5, 2026







আজল পর্ব-১১

#আজল
#পর্ব-এগারো

২৫.

দুদিন হলো শ্রীমঙ্গল এসেছে ফুয়াদ আর সাঁচি। সাঁচিকে ও কথা দিয়েছিল যে চা বাগান ঘোরাবে। সেই কথা রাখতেই সাঁচিকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল এসেছে। ফুয়াদের এক বন্ধুর বাবা চা বাগানের মালিক। ফুয়াদ ঐ আংকেলকে বলে চা বাগানে তিনদিন থাকার জন্য অনুমতি নিয়ে নিয়েছে। সাঁচি অবশ্য এতে খুশি কিনা বোঝা যাচ্ছে না। সেই দিনের পর থেকে সাঁচি কেমন যেন হয়ে গেছে। সব সময় চুপচাপ থাকে, মুখে যেন একটা গাম্ভীর্যের মুখোশ এটে নিয়েছে…হাসে না একদমই। ফুয়াদের সাথে আগের মতো কথাও বলে না। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কথাটা বলে.. তাও মনেহয় যেন জোর করে বলছে। ফুয়াদ দু এক বার ওকে সরি বলতে চেয়েছে… কিন্তু কি কারনে যেন বলতে যেয়েও বলতে পারেনি। আর তাছাড়া ফুয়াদ কিছু বলতে গেলে সাঁচি আর আগের মতো আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে না… বরং ওর কথা না শুনেই হেটে চলে যায়। সাঁচির এই চেন্জটা ফুয়াদের ভালো লাগছে না…আবার নিজে মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছে না। খুবই অসস্তিকর অবস্থা… দুজন মানুষ একসাথে খাচ্ছে, ঘুরছে, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছে কিন্তু কেউ কারো সাথে প্রয়োজনের বাইরে কোনো কথা বলছে না…ব্যাপারটা মোটেও সুখকর না! ফুয়াদ মাঝে মাঝেই দুর থেকে সাঁচির দিকে তাকিয়ে থাকে…বোঝার চেষ্টা করে ওর মনে কি চলছে? কিন্তু সাঁচি যেন আজকাল অচেনা বইয়ের পাতা। ওর মুখে কেমন এক ধরনের কঠোরতা চলে এসেছে, কি অদ্ভুত নির্লিপ্ততা ওর চোখে মুখে…ফুয়াদ বোঝে, সেদিনের কথাগুলো সাঁচির আত্মসম্মানে আঘাত হেনেছে…ও আর এতো সহজে ফুয়াদের সাথে সহজ হবে না হয়তে???

এই দুদিনে ওরা আশপাশের বেশ কয়েকটা জায়গা ঘুরে ফেলেছে। চিড়িয়াখানা, মাধবপুর লেক আর আজ গেছিলো লাউয়াছড়া উদ্যানে। ওখান থেকে তাড়াতাড়িই ফিরে আসতে হলো আজ বৃষ্টির কারনে। বৃষ্টিতে ভিজতেই সাঁচির হাঁচি আর কাশি শুরু হলো। সাঁচি অবশ্য কিছু বলছিলো না, ফুয়াদ ই জোর করে সাঁচিকে নিয়ে ফিরে আসলো বাধ্য হয়ে। যেভাবে ও হাঁচি দিচ্ছিলো ফুয়াদ ভয় পেয়ে গেলো। সাঁচি অবশ্য ওকে অভয় দিচ্ছিলো, কিছু হবে না বলে. . . ফুয়াদ শুনলো না। ফেরার পথে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এক রেস্টুরেন্টে লান্চও করে নিয়েছে ওরা। ফুয়াদ খেয়াল করেছিলো সাঁচি কিছু না খেয়ে কেবল খাবার নাড়ছিলো। ও হাবিজাবি কিছু খাবার প্যাক করে নিলো সাঁচির জন্য।
ওদের এই চা বাগান থেকে সব গুলো ঘোরার স্পটই দুরে হয়ে যাচ্ছে। একদিনে একজায়গায় গেলে আর অন্য কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। তবে বাগানের মধ্যেই বেশ ভালো লাগে…বিশাল বড় বাগান, মাঝখানে এই বাংলো…বাংলোটার চারদিকেই বারান্দা…. যে কোন দিকে বসেই বাগান দেখা যায়… বেশ ইউনিক ডিজাইনে তৈরি। ঘোরার সময় বাদে বাকি সময় প্রায় পুরোটাই সাঁচি বাগানে কাটায়। দিনের বেলা হলে ঘুরে ঘুরে মালিদের কাজ দেখে, গল্প করে আর রাত হলে মগ ভর্তি চা নিয়ে বাংলোর বারান্দায় বসে থাকে অনেক রাত অবধি। ফুয়াদ না ডাকলে সে ঘরে ঢোকে না, ঠায় ওভাবেই বসে থাকে বারান্দা অন্ধকার করে। গতকাল মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেছিলো ফুয়াদের…দেখে খাটে পাশের জায়গাটা ফাঁকা। খুজতে খুজতে বারান্দায় এসে দেখে সাঁচি চুপচাপ বসে আছে বারান্দায়। আশ্চর্য মেয়েটা! এতো রাতে ভয় করে না ওর? আর তাছারা একা একা কথা না বলে এতোক্ষণ একটা মানুষ কিভাবে থাকে? ফুয়াদ ভাবে। এই সাঁচিকে ফুয়াদের ভীষণ অচেনা লাগে।

আজ ফিরতে ফিরতে সন্ধা লেগে গেল প্রায়। বাংলোয় ফিরে এসে কাপড় চেন্জ করেই বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে গেল ফুয়াদ। খুব টায়ার্ড লাগছিল ওর। সাঁচি একবার ওর দিকে তাকিয়ে নিজের জামাকাপড় নিয়ে বাথরুমে ঢুকলো। আজকাল আর শাড়ি পড়ে না সাঁচি। কি হবে শাড়ি পড়ে? কে দেখবে ওকে? দরকার নেই কোন শাড়ি পড়ার-নিজের মনেই কথা বলে সাঁচি। গোসল করে সুন্দর ফুলেল কাজের এ্যাশ কালারের একটা থ্রিপিছ পড়ে বাথরুম থেকে বের হলো সাঁচি। ওদেরকে দেখা মাত্রই বাগানের কেয়ারটেকার টা পট ভর্তি করে চা বানিয়ে দিয়ে গেছে…সেই সাথে বলে গেছে আজ রাতে খিচুড়ি আর সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস কসানো খাওয়াবে। সাঁচি এক মগ ভর্তি করে চা নিয়ে বারান্দার বসলো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে….বাগানের শ্রমিকগুলো সব সারিবদ্ধভাবে বেড়িয়ে যাচ্ছে। এই বারান্দায় বসে দৃশ্যটা দেখতে বেশ ভালো লাগে সাঁচির। গত দু’দিন ধরে এই সময়টার এই দৃশ্য দেখছে। চমৎকার আবহাওয়া…. সূর্য ডুবে গেছে…চারিদিকে লালচে একটা আভা ছড়িয়ে আছে। এই সময়টা খুব উপভোগ করে সাঁচি, কিছুক্ষণের জন্য হলেও নিজেকে ভুলে থাকা যায়। আজকাল নিজের মনকে বেশ প্রবোধ দিয়ে ফেলেছে… ফুয়াদের সাথে আর কথা বলতে যায় না নিজ থেকে…কি দরকার! অযাচিতভাবে কাউকে বিরক্ত করার!! এর চেয়ে এই ভালো..নিজেকে নিয়ে ভালো থাকা। এই যে শর্ত জিতে বেড়াতে আসলো…ফুয়াদ ওর অজানা অধ্যায় জানাবে বলেছিল..অথচ কিছুই বলছে না এখন? এই যে সাঁচি রাগ দেখিয়ে ওর সাথে কথা বলছে না তবুও ওকে একবার সরি বলারও প্রয়োজন মনে করছে না? সাঁচি ভেবে রেখেছে এবার ঢাকায় ফেরত যেয়ে ফুয়াদকে বলবে, লাষ্ট সেমিস্টার টা ও বাবার বাসায় থেকে করবে। ফুয়াদকে ওর হালে ছেড়ে দেবে। ও নিজে থেকে অনেক চেষ্টা করেছে সম্পর্কটা স্বাভাবিক করার জন্য… এখন ফুয়াদের পালা। ফুয়াদ যদি এগিয়ে না আসে তাহলে আর ওর কিছুই করার নেই। নিজেকে আর ছোট করতে পারবে না সাঁচি!!

ফুয়াদের ঘুম ভাংলো রাত তখন সাড়ে আটটা বাজে। বেলের শব্দে ঘুম ভাঙলো ফুয়াদের। দড়জা খুলে দিতেই কেয়ারটেকার রাতের খাবার গুলো টেবিলে সাজিয়ে দিয়ে চলে । ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় গেলো ফুয়াদ, জানে সাঁচি ওখানেই আছে….বাতি জ্বালিয়ে সাঁচির পাশে একটা চেয়ার টেনে বসলো, এক নজর সাঁচির দিকে তাকিয়ে দেখলো, এ্যাশ কালারের উপর মাল্টিকালারের সুতোর কাজের জামায় সাঁচিকে বেশ অন্যরকম লাগছে, যদিও চেহারায় মলিনতা স্পষ্ট। ফুয়াদ মুখ ফিরিয়ে বললো –
“আমাকে একমগ চা দেবে, সাঁচি?”
চমকে ফুয়াদের দিকে ফিরলো সাঁচি। মনেহচ্ছে কতযুগ পর ফুয়াদের মুখে নিজের নাম শুনলো। কারন কি? আজ গলায় একটু আন্তরিকতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে মনেহয়? সাঁচি কিছু না বলে উঠে গেল। মগ ভর্তি চা নিয়ে ফেরত আসলো। মগটা ফুয়াদের হাতে দিয়ে ফেরত আসছিলো সাঁচি, তখনই ফুয়াদ বললো-
“বসো না, তোমার সাথে গল্প করি একটু! ”
সাঁচি বসলো ওর চেয়ার টাতে।
“আমার ধাঁধার উত্তর টা কি ছিলো যেন?”
“অতীত। আপনি আপনার বুকের ভেতর কোনো একটা অতীত লুকিয়ে রেখেছেন সেটাই তো?”
“হুম। তো তোমার সাথে সেই অতীত টা শেয়ার করার কথা ছিলো, তাই না? আজ ভাবছি কথাগুলো বলবো? তুমি কি শুনবে?”
সাঁচি কিছু না বলে অবাক হয়ে তাকালো ফুয়াদের দিকে। “বাহ!ভালো,উন্নতি হয়েছে ফুয়াদ সাহেবের? আজ নিজে থেকেই কথা বলছে? “মনেমনে আউরালো সাঁচি। ফুয়াদ সাঁচির উত্তরের অপেক্ষা না করে চায়ে চুমুক দিয়ে নিজেই শুরু করলো-

” আমি না ছেলেবেলা থেকেই ভদ্র, আলাভোলা টাইপ ছেলে ছিলাম। বাবাকে ছোট থেকেই প্রচন্ড রাগী হিসেবেই পেয়েছি। মা ছিলো আমার বন্ধু, মাও বাবাকে প্রচন্ড ভয় পেতেন। কি কারনে এত ভয় পেতেন তখনো বুঝিনি, কারন ভয় পেলেও মা বাবাকে ভালোও বাসতেন প্রচুর। বাবা এমনিতে তো কিছু বলতেন না কিন্তু তার কথার বাইরে যাওয়ার কারো কোনো উপায় ছিলো না । একান্নবর্তী বিশাল পরিবারে বাবার কথাই ছিলো শেষ কথা। ছোট থেকে সব ঠিকই চলছিলো, আমার আট বছর বয়সে প্রিয়তা আসলো আমাদের মা ছেলের দুনিয়ায়। বাবা প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতেন ব্যবসা নিয়ে। তাই আমরা তিনজন মিলে বেশ সুন্দর একটা দুনিয়া সাজিয়ে নিলাম। আমি যাই করতাম মা আমাকে প্রচন্ড উৎসাহ দিতেন। আমার আবৃতি ভালো লাগতো, সাহিত্য পড়তে ভালো লাগতো, মা আমাকে সঙ্গ দিতেন। আমি মাঝেমাঝে স্কুলে অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃতি করতাম। বাবার কাছে সব খবরই যেত। কখনো কিছু বলেনি এব্যাপারে। হয়তো আমার রেজাল্ট ভালো হচ্ছিল বলে। এভাবেই আমার দিন কাটছিলো। প্রথম ধাক্কা খেলাম ক্লাস এইট থেকে নাইনে যখন উঠলাম। আমার ইচ্ছা ছিল আর্টস বা কমার্সে পড়বো যাতে পরবর্তী কালে বাংলা বা ইংরেজি নিয়ে পড়তে পাড়ি। কেন জানিনা কবিতা বা গল্প লিখতে, পড়তে প্রচন্ড মজা লাগতো। বাবা সেই প্রথম আমার উপর রাগলেন। এতো ভালো ছাত্র আমি, সেই আমি কিনা এইসব হাবিজাবি পড়বো। মারলো বেধড়ক। লাইনে চলে আসলাম মার খেয়ে। বাবার মারের ভয়েই কিনা জানিনা আমি আর টাঙ্গাইল থাকাকালীন কোনোদিনো ওসব গল্প, কবিতার ধারে কাছেও যাইনি। মা মাঝে মাঝে আমাকে কবিতা আবৃতি করতে বলতেন আমি মানা করে দিতাম, প্রচন্ড অভিমান হতো মায়ের উপর, সে কেনো বাবাকে বোঝালো না! মা বুঝতে পেরেছিলেন, আমি রাগ করে হয়তো আর কবিতা আবৃতি করবো না কোনো দিন। যাই হোক, সায়েন্সে পড়ে এইচ এস সি পাশ করে ফেললাম বেশ ভালো মতোই। তারপর চান্স হয়ে গেলো বুয়েটে। আমার খুব আনন্দ হচ্ছিল। এই কারনে না যে আমি বুয়েটে চান্স পেয়েছি! আনন্দ টা এই কারনে বেশি ছিল যে, এই প্রথম বাড়ির বাইরে আমি একটা স্বাধীন জীবনের স্বাদ পাবো। কারন, বাড়িতে কোনোদিনও নিজের ইচ্ছা মতো কিছু করতে পারতাম না। মোটকথা মুক্তির আনন্দে আমি পাগল ছিলাম প্রায়। আমার ঢাকায় আসার আগেরদিন বাবা ডাকলেন আমাকে-
“ফুয়াদ, কাল তো ঢাকা যাচ্ছিস, তাই না?”
“জ্বী, বাবা।”
“এই প্রথম আমার চোখের আড়ালে যাচ্ছিস, আমার খুব চিন্তা হবে রে তোর জন্য।”
“বাবা, চিন্তার কি আছে? টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার দূরত্ব আর কতটুকুই বা!”
“তবুও তো…চাইলেই আর দেখতে পাবো না…. যাইহোক তোকে যে কারনে ডেকেছিলাম…”
“জ্বী,বাবা বলেন না?”
“আমাদের থেকে দূরে থাকবি, একা একা থাকবি, দেখার কেউ নাই, শাসন করার কেউ নাই।”
ফুয়াদ নিশ্চুপ দাড়িয়ে থাকে কোনো কথা না বলে।
” হঠাৎ করে এরকম স্বাধীনতা পেলে বেশিরভাগেরই হজম হয় না। বখে যায়, নস্ট হয়ে যায়, প্রেম ভালোবাসা করে। বুঝলি?”
ফুয়াদ মাথা নাড়ে। বাবার কথাতে লজ্জায় ওর মাথা টা আরেকটু হেলে যায়।
“তোমার কাছে আজ কিছু চাইবো, দেবে?”
ফুয়াদ অবাক হয়ে বাবার দিকে তাকায়। বাবা ওকে তুমি করে বলছে? তারমানে বাবা সিরিয়াস কিছু চাইবে?
“আমাকে তোমার কথা দিতে হবে, এই পড়ালেখার সময়টাতে তুমি কোনো ধরনের কোনো সম্পর্কে জড়াবে না! তুমি এতদিন যে রকম ভালো রেজাল্ট করেছো সেটা ধরে রাখবে। এমন কিছু করবে না যাতে তোমার বাবা কস্ট পাবে! আর জানো তো বাবা কস্ট পেলে মা ভীষণ কষ্ট পাবে?”
ফুয়াদ ভয় পেল। ততদিনে ফুয়াদ জেনে গেছে, ওরা কিছু দোষ করলে বাবা ওদের কিছু না বললেও মাকে খুব বকে।ফুয়াদ তাই সবসময় চেষ্টা করে ওর দ্বারা ওর মা যেন কষ্ট না পায়। ও ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়ে।
“মুখে বলো।”
বাবা হুঙ্কার ছাড়ে।
“জ্বী, বাবা। কথা দিলাম।”
ফুয়াদ মৃদু সুরে জবাব দেয়।
এইটুকু বলে ফুয়াদ থামে। চায়ে চুমুক দেয়, চুপচাপ কিছুক্ষণ ভাবে। ওপাশে সাঁচি উশখুশ করে। জানতে চায় তারপর কি হলো, কিন্তু মুখে কিছু বলে না। দুজনাই বেশ অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে আছে। সাঁচি ভাবে, এতোক্ষণ হয়ে গেল, তাও চুপ! কি এতো ভাবছে? জিজ্ঞেস করবে ভাবলো….মুখ খুলতে যাবে তখনই ফুয়াদ বলে-
“এক হিসেবে তুমি অনেক লাকি,জানো তো?”
“কেন?”
থাকতে না পেরে সাঁচি বলে উঠলো।
“এই যে আমার মনের একান্ত কথাগুলো, এই যে গোপন অতীত, যা এতোদিন কেবল আমার ছিলো তা এখন তোমারও হতে যাচ্ছে। যেগুলো বলছি তা আমি ছাড়া কেউ জানতো না, আজ তুমি জানছো, আরো জানবে হয়তো ভবিষ্যতে। ”
“আপনি ভাববেন না! কথাগুলো আপনি যেভাবে স্বযতনে রেখেছেন আমার কাছেও সেভাবেই থাকবে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে দামী অতীত স্মৃতি যা আপনি আমার সাথে শেয়ার করছেন। ”
“থ্যাংকস। আর একটা কথা বলতে চাচ্ছিলাম?”
“বলুন!”
“যেগুলো বলবো সেসব কোনো মেয়েরই ভালো লাগবে না। তোমারও কষ্ট হবে। তাই আগে থেকেই সরি বলছি তোমাকে। যদি এগুলো না বলে তোমার সাথে সম্পর্ক টা কন্টিনিউ করতে পারতাম তাহলে ভালো হতো। কিন্তু তা করতে পারছি না। এতে তোমাকে ঠকানো হবে। সেটা নিশ্চয়ই তোমার ভালো লাগবে না?”
“হুম, ভালো তো লাগবেই না। কষ্ট হলেও আমি শুনবো। আপনি বলুন।”
“আমাকে বোঝার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ”
“ঠিক আছে। এবার বলুন তারপর কি হলো?”
“আচ্ছা আমরা ডিনারটা সেরে নিয়ে আবার বসি? আমার না খিদে পেয়ে গেছে। আসলে, এতোক্ষণ যেটুকু বললাম সেটুকু কেবল পটভূমি, আসল গল্প এরপর শুরু হবে। তাই একটু এ্যনার্জি নিয়ে নিতে চাচ্ছিলাম। ”
সাঁচি কিছু না বলে উঠে এলো। সাথে সাথে এলো ফুয়াদ ও। দু’জনে নিঃশব্দে খেয়ে উঠলো। সাঁচির খুব অস্থির লাগছে, বাকিটুকু জানার জন্য ওর তর সইছে না। কি হয়েছে এরপর? ফুয়াদ নিশ্চয়ই কারো প্রেমে পড়েছিল? নিশ্চয়ই ভালোবেসেছিল কাউকে? বোঝাই যাচ্ছে, তাকেই এখনো মনের মধ্যে বসিয়ে রেখেছে! তাহলে,ওকে বিয়ে করলো কেন? ব্রেকাপ হয়ে গেছিলো? ছ্যাকা খেয়েছে নিশ্চয়ই? নাকি ওর শশুর কিছু করেছিলো? মনের মধ্যে হাজারো প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি মারছে। উফ কখন শুনবো বাকিটুকু????

চলবে—-
©‌‌‌‌Farhana_Yesmin

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ