Friday, June 5, 2026







চন্দ্রকিরণ পর্ব-০৯

#চন্দ্রকিরণ
কলমে: লাবণ্য ইয়াসমিন
পর্ব:৯

চৌধুরী বাড়ির গুমট পরিবেশ হঠাৎ বদলে গেছে । দেশের বাইরে অবস্থান করা কমোলিনির স্বামীর চার ভাই তাদের বউ বাচ্চাদের নিয়ে হাজির হয়েছেন। বহুকাল পরে সব দেশে ফিরেছে বিধায় তাদের জন্য কক্ষ প্রস্তুত করতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা। তাছাড়া কমোলিনির শশুরের ভাই সস্ত্রীক এসে উপস্থিত। লোকটার ছেলেমেয়ে নেই। ভাইয়ের ছেলেদেরকে নিজের ছেলে ভাবেন। এই বাড়িতে কমোলিনির শশুরের থেকেও লোকটাকে বেশি কদর করা হয়। এই বাড়ির বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত উনি নিয়ে থাকেন। জাবির চৌধুরীর নামে এক সময় বাঘ কাঁপতো। বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি কমেনি। ফিরোজকে নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। ভদ্রলোক এই বিয়ে মানতে পারছেন না। কুলকিনাহীন অনাথ মেয়েকে বিয়ে করে ফিরোজ ঠকেছে সেটাই উনি বারবার উল্লেখ করছেন। একেক জনের মতামত এক। এখানে আরিয়ানের কথা বলা নিষেধ। ফ্যামিলির বিষয়ে বাইরের মানুষের মতামত আগ্রহ করা হয়না। ফিরোজের বুকের মধ্যে ঢিপঢিপ করছে। বিয়ে না মানলে ভালোবাসার মানুষটা হাতছাড়া হয়ে যাবে ভেবেই ভয়ে সিউরে উঠলো। ওর ধৈর্য্য কম তাই চিৎকার করে বলে উঠলো,

> বউ আমার, ঘর করবো আমি। কে মানলো আর কে মানলোনা ওসব আমার দেখার বিষয় না। চৌধুরী পরিবারের ভদ্র ছেলের বিয়েটা যদি খেতে চাও বা আনন্দ করতে চাও করতে পারো।না পারলে অসুবিধা নেই। আমি জানতাম ঝামেলা একটা হবেই। জেলা শহরে ছোট একটা বাড়ি আগে থেকে কিনে রেখেছি। আমি বউ নিয়ে ওখানে থাকবো। তোমাদের এই বিশাল সম্পত্তি নিয়ে তোমরা ক*বরে যাও। আমার প্রয়োজন নেই। সামনে নির্বাচন এইসব খেজুরে আলাপ করার আমার টাইম নেই। সামনের শুক্রবার বউ আনতে যাচ্ছি। বউ নিয়ে পজেটিভ কিছু বলতে চাইলে ডাকতে পারো। নয়তো আমাকে আর নক করোনা। মাথা ঠান্ডা আছে রেগে গেলে তান্ডব চালিয়ে তবে থামবো।

ফিরোজ আরও কয়েকটা অশালীন গালিগালাজ করে গটগট করে নিজের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করলো। ও যেতেই জাবির সাহেব দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

> বেয়াদব, এইটা জীবনেও মানুষ হবে না। আমার মুখের উপরে কথা বলে এতো সাহস? কথাবার্তার কি অবস্থা। শুনেই বমি আসছে।

লোকটা উত্তেজিত হয়ে পড়লো। পাশ থেকে ফিরোজের বাবা মুখটা পানসে করে বলল,

> চাচাজান আপনি উত্তেজিত হবেন না। জানেন তো ছেলেটা কেমন? খারাপ ছেলেদের সঙ্গে মিশে একেবারেই বিগড়ে গেছে। কি যে করবো।

> তুমি চুপ থাকো। ছেলেকে মানুষ করতে পারোনি আবার কথা বলছো? এই যে আরিয়ানকে দেখো। কমোলিনি দক্ষ হাতে ওকে কেমন মানুষ করেছে। বাবা মা নেই বিগড়ে যাবার কথা ওর ছিল। আর শুনো ইব্রাহিম খানকে খবর দাও। তার বোন একবার এই বাড়ির কম যন্ত্রণা দেয়নি। কোনো উত্তরসূরি দিতে পারেনি। সেইতো মা মেয়ে মা*রা গিয়ে আমার ছেলেটাকে ঝামেলায় ফেলে দিলো। ছেলেটাকে কতবার বললাম আবার বিয়ে করো সেতো শুনলোনা।সে যাইহোক,ইব্রাহিম খান এখন আবার নিজের মেয়ে আর ভাগনিকে এই বাড়িতে পাঠিয়ে আমাদের বাড়ির সম্মান নষ্ট করতে চাইছে। আমি বেঁচে থাকতে তা কখনও সম্ভব না।

লোকটা গর্জ*ন করছে। ড্রয়িং রুমে থমথমে ভাব। আবহাওয়া বিশেষ সুবিধার না। কমোলিনি ভয়ে চুপসে আছে। ইব্রাহিম খানের সঙ্গে যে এই পরিবারের পূর্বে সম্পর্ক ছিল এটা ওর জানা ছিল না। কিভাবে জানবেন এই বাড়িতে আগে কখনও ইব্রাহিম খানেক নাম নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।শশুর শাশুড়ি বাড়িতে নেই। মাস হচ্ছে এক আত্মীর বাড়িতে আছে। ভেবেছিলেন ইব্রাহিম খান নিজে যেচে প্রস্তাব পাঠিয়েছে তাছাড়া পঞ্চাশ বিঘা জমি পাওয়া কম কথা না। ভদ্রলোকের টাকা পয়সা সবটাই কব্জা করা যাবে। কিন্তু সবটা কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। হঠাৎ আচমকা ডাকে উনি চমকে উঠলেন। জাবির সাহেব গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

> কাজটা কিন্তু তুমি একদম ঠিক করোনি। সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমাকে বলতে পারতে। ইব্রাহিম খানকে তুমি চিনো না। বড় বউমার হকের জমি সেটা পযর্ন্ত বিক্রি করতে বাঁধা দিয়েছিল সে কিভাবে তোমাকে পঞ্চাশ বিঘা জমি দিবে? আরিয়ানের সঙ্গে তোমার মেয়ের বিয়ে ঠিক করতে তাতেও আমি কিছু মনে করতাম না। যাইহোক সমাধানের চেষ্টা করো। আমি মাস খানিকটা আছি ঝামেলা মিটলে ফিরবো। যাও আমার খাওয়ার সময় হয়েছে। খাশির মাংস আর রুটি তৈরী করতে বলো।

আদেশ পাওয়া মাত্র কমোলিনি উঠে গেলেন। ভদ্রলোকের সামনে থাকলে টেনশনে হার্ট ধড়ফড় করতে থাকে। কমোলিনি বিড়বিড় করছে”,ফিরোজ পুরোপুরি আপনার মতো চাচাজান। দুটোই এক।” কমোলিনির আওয়াজ ভদ্রলোকের কান অবধি গেলো না। আরিয়ান সুযোগ পেয়ে কেটে পড়েছে। এই যাত্রাপালা চলতেই থাকবে। কিছুটা ভিড় কমতেই লাবিব এসে দাদার পাশে বসে পড়লো। মাথা নিচু করে বলল,

> দাদাজান জাহান নামের মেয়েটা মেহেরের হুবহু কপি। ইব্রাহিম খানের ওই একটাই মেয়ে। আরিয়ান কিন্তু জিতে গেলো। আপনি ভাবতে পারছেন? প্লিজ দাদাজান আপনি কিছু করুন। ইব্রাহিম খানকে বলুন এই বিয়ে ভেঙে দিয়ে আমার সঙ্গে বিয়েটা দিতে।

> তুমি বিয়েতে বিশ্বাস করোনা সত্যি বিয়ে করবে? কিন্তু খানদের ইতিহাস খুব একটা সুবিধার না। ওর বোন আমাদের কোন উত্তরসূরি দিতে পারেনি। কি যে করি।

> দাদাজান আমার কথা একটু ভাবুন প্লিজ। বয়স হচ্ছে।
> তোমাকে কতবার বলেছিলাম তুমি নিজেই বিয়ের জন্য রাজি হলেনা এখন ঝামেলা করছো। যাও আমি দেখছি।
লাবিব লজ্জা মুখে ড্রয়িং রুম থেকে বেরিয়ে আসলো। দাদাজান বলেছে মানে যেভাবেই হোক ইব্রাহিম খানকে রাজি করাবে। আরোহীর আজ ফ্লাইট। বেচারী কান্নাকাটি করে নাস্তানাবুদ অবস্থা। কিন্তু ওর কথা কেউ ভাবলো না। আরোপকে দিয়ে ওকে বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিয়েছে। সঙ্গে অবশ্য ম্যানেজার গিয়েছিলেন। এই দুই ছেলেমেয়ের উপরে ম্যানেজার সাহেবের আগলা দরদ কাজ করে। হয়তো কমোলিনির মন রক্ষা করতে।
*************
দোলনায় পা তুলে হেলান দিয়ে বসে আছে মেহের। খবর পেয়েছে ওই বাড়ির সকলে ফিরে এসেছে। ভেবেছিল এই সুযোগে সকলের সঙ্গে দেখা করবে কিন্তু হলোনা। পা কে*টে বাড়িতে ফিরে আসতে হলো। ওর সম্মুখে আলেয়া বসে আছে। মেয়েটার চোখে মুখে বিরক্তির চিহ্ন। জাহানকে ভাবতে দেখে বলল,

> জান তোকে কতবার বলেছিলাম আরিয়ানকে বিয়ে করে ভুল করছিস। একবার যদি শুনতি আজ এই দিন দেখতে হতোনা। আমার ভাইয়া কি দেখতে খারাপ? ইন্দোনেশিয়া আছে।কত বড় বিজনেস সেখানে ভাব একবার?

জাহান চোখ বন্ধ রেখেই উত্তর দিলো,

> ওর নাম কেনো বলিস? দুলাভাই বলবি। আর এমনভাবে বলছিস মনে হচ্ছে তোর ভাই বিশাল কিছু করে। সেইতো মুদি দোকানদার। শোন আরিয়ান শাহরিয়ার একটা ব্যান্ড ওর ভেলু বোঝার ক্ষমতা তোর নেই। তুই বরং আম্মার কাছে গিয়ে বল তার জামাইকে যেনো আজ রাতে নিমন্ত্রণ করে। আমার বলতে লজ্জা করছে। তাছাড়া শাশুড়ির ফোন পেলে নিশ্চয়ই সে বসে থাকবে না?
জাহানের কথা শুনে আলেয়া খানিকটা রেগে গেলো। এই মেয়ের মাথায় সত্যি ভুত চেপেছে। বরের জন্য পাগল হয়ে গেছে। আলেয়া দাঁড়িয়ে পড়লো। মুখ বাকিয়ে উত্তর দিলো,

> তোর বর তুই গিয়ে বল। আমি পারছি না। শোন তোর কপালে না দুঃখ আছে বলে রাখলাম। ওই বাড়ির লোকজন সুবিধার না। আর হ্যাঁ আমার ভাইজান মোটেও মুদি দোকানদার না। ভাইজানের দোকানে সব আছে। শুনবি কি কি আছে?

> আলেয়া আমাকে ভাবতে দে প্লিজ। একটা দিন গত হতে হলেছে লোকটাকে দেখতে পারিনি। আমার কষ্টটা তুই অনুভব করতে পারবি না।

জাহানের ভাব ভঙ্গি দেখে আলেয়া গটগট করে বেরিয়ে গেলো। এমন সময় ওর ফোনে টেক্সট আসলো,

> ম্যাম আসতে পারবেন? সন্ধান পয়েছি।

জাহান উত্তেজিত হয়ে পড়লো। বহু কাঙ্ক্ষিত এই টেক্সট। যার জন্য কয়েকটা দিন পুরো মফস্বল তোলপাড় করে দিয়েছে। তিনদিনে দশ জনের একটা টিমের পেছনে পুরো দুই লক্ষ্য টাকা খরচ হয়েছে। জাহান বাঁকা হাসলো। ছেলেগুলো ইব্রাহিম খানের পরিচিত আর দলের বেশ নামকরা। জাহান নিজের কাজে ওদেরকে ব্যবহার করছে কথাটা ভেবেই ও উঠে বসলো। পায়ের তালুতে ব্যাথা টনটন করছে কিন্তু বসে থাকার সময় নেই। প্রতিজ্ঞা করলো মফস্বল ত্যাগ করার আগেই গোপন রহস্য আর চৌধুরী বাড়ির গৌরব ধুলার সঙ্গে লুটিয়ে তবে যাবে। কথাটা ভেবে পাশের লাঠিটা তুলে নিলো। এক পায়ে ভর লাগিয়ে পেছনের গেট দিয়ে নেমে পড়লো। ওড়না ভাজ করে মুখসহ শরীর আবৃত করে চশমা চোখে পরতেই মনে হলো ওকে একেবারেই অন্যরকম লাগছে। কেউ চিনতে পারবে না। গ্যারেজ থেকে নিজের স্কুটি বের করে চড়ে বসলো। ঘন্টা খানিকটা একটানা গাড়ি চালিয়ে একটা হাসপাতালের সামনে এসে থামলো। দূর থেকে ম্যাস্ক পরা একটা ছেলে ওকে ইশারা করলো। জাহান এক পাশে গাড়ি রেখে সেদিকে অনুসরণ করলো। এই হাসপাতাল মানুষিক ভারসাম্যহীনদের জন্য বেশ নামডাক আছে। এখানে একটা ইউনিট না বরং কয়েকটা ইউনিট কাজ করে। মোটামুটি সব ধরণের রোগীর যাতায়াত চলে। কাছেই মেডিকেল কলেজ অসংখ্য শিক্ষার্থীদের আনাগোনাতো আছেই ।জাহান হাসপাতালের পেছনের গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো। পাশেই ম*র্গ। কয়েকটা লা*শ পড়ে আছে। জাহান প্রায় চোখ বন্ধ করে মর্গ পেরিয়ে আসলো। ভয় পাচ্ছে আবার সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ছেলেটার কাছাকাছি আসতেই ফিসফিস করে বলল,

> ম্যাম আপনি ঠিক আছেন? সমস্যা হলে আসলেন কেনো? আমরা আছিতো আছি তুলে নিতাম।
জাহান হাটতে হাটতে উত্তর দিলো,

> লোকটা আমার বিশেষ একজন। তোমাদের উপরে ভরসা আছে কিন্তু একবার নিজ চোখে দেখতে চাইছি।মামার ফোনের ছবিতে দেখেছি চিনতে পারবো কি জানিনা। কোথায় রেখেছো?
> সামনেই।
ছেলেটা ভিড় কমিয়ে ওকে জায়গা করে দিচ্ছে। দোতালায় গিয়ে সিঁড়ির পাশের রুমে দুজনে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো। ছোট একটা বেডে কাচা পাকা চুলের একজন ভদ্রলোক ঘুমিয়ে আছে। ভদ্রলোকের শরীরে সাদা পাঞ্জাবী। বয়স কালে যে সুন্দর ছিলেন সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। জাহান ইশারায় সবাইকে বেরিয়ে যেতে বললো। ওরা যেতেই মুখের ওড়না সরিয়ে ভদ্রলোকের মাথায় পাশে গিয়ে বসলো। হাতটা আলগোছে ধরে মৃদু কণ্ঠে ডাকলো,

> আব্বাজান শুনতে পাচ্ছেন? আমি মেহের। চোখ খুলুন একবার। আপনার মেহেরকে দেখবেন না?

লোকটা নড়েচড়ে উঠলো। পিটপিট করে চোখ খুলে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হাতটা ওর মুখের উপরে রেখে ছোট ছোট করে বলল,

> মেহের মা তুমি এসেছো? ওরা যে বললো তুমি আর নেই?
জাহানের চোখ ঝাপসা হয়ে উঠলো। মাথা আরও একটু নিচু করে বলল,
> ওরা মিথ্যা বলেছে। আপনি ওদের কথা কি বিশ্বাস করেছেন?

ওদের কথা বলতেই ভদ্রলোক চনচল হয়ে উঠলো। দ্রুত উঠ উত্তেজিত হয়ে বলল,

> মেহের মা ওরা চলে আসবে। ওরা খুব খারাপ। আমাকে আটকে রেখেছে। যেতেই দিচ্ছে না। তোমার আম্মু অপেক্ষা করছে আমার জন্য। তুমি যাবে ওকে দেখতে?

জাহান মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো। তখনই একজন ডাক্তার ভেতরে প্রবেশ করলেন।জাহান চোখ মুছে বলল,
> হ্যালো, আমি আহিয়া খান আদর। এমপি ইব্রাহিম খানের মেয়ে। রুগীর কি অবস্থা? কতদিন লাগবে পুরোপুরি ঠিক হতে?
ডাক্তার ছেলেটা মৃদু হাসলো। আশেপাশে তাকিয়ে বলল,
> সময় লাগবে। অনেক দিন ধরে ড্রাগ*স দেওয়া হচ্ছে। মস্তিষ্ক পুরোপুরি অচল হয়নি। তবে বাচ্চাদের মতো ব্যবহার করছে। আমার মনে হয় বাড়িতে নিলে ভালো হতো। উনি অনেকগুলো বছর একাকিত্বে ছিলেন। নানারকম চিন্তাভাবনা আর ডিপ্রেশনের জন্য আরও অসুস্থ হয়েছেন। কাছের মানুষদের ভালোবাসা প্রয়োজন।
জাহান দীর্ঘনিশ্বাস ফেলল। একবার বিছানার দিকে চেয়ে বলল,

> উনাকে সুস্থ করতে যা কিছু প্রয়োজন আপনি করুন। টাকা নিয়ে ভাববেন না। যখন যা প্রয়োজন ফোন করবেন। এক সপ্তাহ এখানে থাক কিছুটা সুস্থ হলে আমি এসে নিয়ে যাব। আর প্লিজ বিষয়টা গোপন রাখবেন। অসুবিধা না হলে এই কক্ষের বাইরে আমি পাহারার ব্যবস্থা করতে চাইছি আর দুজন সিস্টার প্রয়োজন। প্লিজ একটু সাহায্য করুন।

জাহানের অনুরোধ শুনে ডাক্তার লজ্জা পেলেন। মাথা নেড়ে বললেন,

> প্লিজ ম্যাম অনুরোধ করবেন না। এটা আমার দায়িত্ব। আপনি চিন্তা করবেন না। সব হয়ে যাবে।

জাহান বিছানা থেকে উঠে আসলো। ডাক্তার গিয়ে ভদ্রলোককে চেক করে ইনজেকশন দিয়ে দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকটা গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলো।
*************
তৃতীয়বারের মতো আরিয়ান পা ফেলেছে শশুর বাড়িতে। শাশুড়ি মায়ের জরুরী তলব। না আসলে জীবন বিথা। জামাই আদর নতুন কালে ঘটা করে করা হয়। সুযোগ মিস করলে আজীবনের আফসোস। কথাগুলো ওর নিজের না। শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলার সময় আলেয়া এগুলো পটরপটর করেছে। আরিয়ান ভেবেছিল আসবে না কিন্তু জাহানের জন্য আসতে হলো। একটা দিন না দেখা হয়েছে না কথা। এভাবে যোগাযোগ বন্ধ করার মানে হয়না। কথাটা ভেবেই খান বাড়িতে আসতে হলো। কয়েক রকমের মিষ্টি আর ফল এনেছিলো সেগুলো দারোয়ান চাচাকে নিয়ে আসতে বলে ভেতরে ঢুকলো। আলেয়া দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। ওকে দেখে চিৎকার করলো,

> ফুপি তোমার জামাই চলে এসেছে। কোথায় তুমি?
লুতফা বেগম আর নীহারিকা এগিয়ে এসে আলাপ করে বলল,
> জাহান উপরে আছে। আলেয়া একটু দিয়ে আই তো মা।
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
> আন্টি ব্যস্ত হবেন না। আমি নিজেই যাচ্ছি।

কথাটা বলে ও অপেক্ষা করলোনা। দ্রুতগতিতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। জাহানের কক্ষের সামনে গিয়ে কয়েকবার নক করেও যখন সাড়াশব্দ পেলোনা তখন দরজা ঠেলে হুড়মুড় করে ভেতরে প্রবেশ করলো। কক্ষে কেউ নেই। বেলকনির দোলনা খালি পড়ে আছে। আরিয়ানের কপালে চিন্তার ভাজ। মেয়েটা কোথায় যেতে পারে? কথাগুলো ভেবে ও দোলনায় গিয়ে বসলো। চোখ বন্ধ করে খানিকটা আয়েশ করে বসতেই খুট করে দরজা খুঁলে গেলো। আরিয়ান অপেক্ষা করলোনা। দ্রুত ভেতরে এসে অবাক হলো। জাহান ছোট বন্ধ করে উপরে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে বিছানা বসে আছে। ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে। আরিয়ানের কপালে ভাজ পড়লো। ফ্লরের দিকে চেয়ে থমকে গেলো। অসংখ্য র*ক্তের দাগ। মানে হাটাহাটির জন্য আঘাত পেয়েছে। আরিয়ান সোজা গিয়ে জাহানের পায়ের কাছে বসে পড়লো। ডান পা হাতের তালুতে নিতেই জাহান সোজা হয়ে বসলো। আরিয়ানকে দেখে ও অনেকটা ঘাবড়ে গেছে। চোখে মুখে কেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওর ভয়কে দ্বিগুণ করতে আরিয়ান গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,
> কোথায় গিয়েছিলেন?

চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ