Friday, June 5, 2026







তুই হবি শুধু আমার পর্ব-২০

#তুই হবি শুধু আমার
#সাইরাহ্_সীরাত
#পর্ব_বিশ

গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন রোজ। চোখের পাপড়ি ভার হয়ে আছে। পায়ের ব্যাথাটা সকাল থেকে বেড়েছে। ফোনের চার্জ শেষ। তবুও এলার্মের শব্দ কানে বাজছে। বিরক্তি ও রাগে রোজের মস্তিষ্ক সজাগ হতে থাকলো। চোখ খুলে গেল মুহূর্তেই। রোজ উঠে সোজা হয়ে বসে। চোখ ডলে। এরপর ঘুম ঘুম নজরেই পাশে তাকায়। একটা বাটন ফোন অনবরত বাজছে। কার ফোন এটা? ওর ঘরে কোথ থেকে আসলো? রোজ পুরো ঘরে চোখ বুলিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

-কাম আউট সিয়াম!

খাটের নিচে লুকিয়ে থাকা সিয়াম কেঁপে উঠলো। রোজ জানলো কি করে সিয়ামই এসেছে?রোজ তো সিয়ামকে আগে দেখেনি ইভেন সিয়াম নিজেই তো রোজকে এই প্রথম দেখলো। তাহলে চিনলো কি করে? রোজ উঠে ড্রয়ার থেকে নিজের লাইসেন্স করা পি’স্ত’ল বের করে পি’স্ত’লের অগ্রভাগ দিয়ে গলা চুলকিয়ে বলে,

-তুমি নিজে বের হবে? নাকি আমি বের করবো? সকাল সকাল র’ক্ত ভালো লাগবে না আমার। সো কাম আউট ফাস্ট সিয়াম।

সিয়াম বেরিয়ে আসলো। ধুলোবালির সাগরে ডুব দিয়ে উঠেছে যেন। রোজ কঠিন গলায় বলে,

-ফালাক ভাইয়া ফোন দিচ্ছে? রিসিভ করো। কিন্তু এটা বলবে না যে আমি জেগে আছি প্লাস তোমার সামনেই দাড়িয়ে আছি। যদি কোনো চালাকি করতে যাও তাহলে এই পি’স্ত’লের একটা বুলেটই তোমার হৃদয়ের কৌতুহল মেটানোর জন্য যথেষ্ট।

-ম্যাম!

-নো মোর ওয়ার্ড সিয়াম, রিসিভ দ্যা কল। এ্যান্ড অন দ্যা স্পিকার।

সিয়াম স্পিকার অন করে হ্যালো বলতেই ফালাকের কন্ঠ শোনা গেল।
-কোথায় তুমি? চাঁদ ঘুমাচ্ছে তো? ওকে যে ঔষধটা দিতে বলেছিলাম দিয়েছো?

-জ,,জি স্যার।

-ওকে নজরে রাখবে। কোথাও যেন একা না যায়। শ্যুটিং অলমোস্ট শেষ। আমি ফিরে আসবো, যতদিন না আসছি ততদিন ওর খবরাখবর তুমি আমাকে দেবে। তুমি সামনাসামনি থাকলে ও সন্দেহ করবে না। আর যে ছেলেগুলোকে বলেছিলাম চাঁদের ওপর নজর রাখতে তাদের মধ্যে একজনকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি হয়েছে ওর? জেনে আমাকে ইনফর্ম করো।

-আসলে স্যার ম্যাম তো,,

রোজ পি’স্ত’ল তাক করতেই সিয়াম কাঠ কাঠ গলায় বলে,
-জি স্যার। আমি জেনেই বলছি।

-ওকে। ও যেন টের না পায় ওর ওপর নজর রাখছি আমি। সো বি কেয়ারফুল।

ফারহান ফোন রাখতেই রোজ পি’স্ত’ল কোমরে গুজে ফেলল।সিয়াম ভয়ে কাচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে। রোজ হেসে বলে,

-নজর রাখছো আমার ওপর? গুড, ভেরি গুড। কিন্তু ও তো গাঁধা না, তাহলে তোমার মত গাঁধাকে আমার খোজ রাখতে বলল কেন? লোকের অভাবে? ও এখানে নেই তাই? ইশ! সব প্লান ভেস্তে গেল তাইনা?

-ম্যাম!!

-যা জিজ্ঞেস করবো সব টা সত্য এবং সরাসরি বলবে সিয়াম। কারন, আমার কাছে এখন শুধু সত্য জানাটা জরুরি। মানুষ নয়। (কঠিন গলায়)

-জি বলুন ম্যাম, কি জানতে চান? স্যার লাস্ট নাইটে চা বাগানের একটা শ্যুটে গেছে। মাসের শেষে ফিরবে তাই তিনি চাচ্ছিলেন আমি যেন আপনার খেয়াল রাখি, ঔষধের ওপর নজর রাখি, আপনি টাইম টু টাইম খাচ্ছেন কিনা। বিশ্বাস করুন আর কিছু না।

-ওহ প্লিজ! সিয়াম। মিথ্যা বলে না, মিথ্যা বললে পাপ হয় জানো না? আমি চাইনা তুমি পাপ করো। সুতরাং যা যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দাও। বাড়তি একটা কথা না। অতিরিক্ত কিছু পছন্দ না আমার।

-কিন্তু ম্যাম,

-মুগ্ধতার সঙ্গে ফালাকের বিয়ে ঠিক হয়েছিল?

-ওটা ম্যাম

-হ্যাঁ, কি না। (চেঁচিয়ে)

-হ্যাঁ।

-গুড। মুগ্ধতার বাবা কে? ইশতিয়াক ইরফান? খোজ খবর নিশ্চই রেখেছো। বিয়ের মত কথা যেহেতু চলেছে সেহেতু এসব তুমি জানো।

-জি ম্যাম।

-ভেরি গুড। এভাবেই ভালো মানুষের মত উত্তর দেবে। সাইমুন কি মুগ্ধতার ভাই? দেখো আমি জানি তুমি সব জানো, আমিও সব জানি। শুধু কনফার্ম হতে চাই। তাই ভণিতা না করে জবাব দেবে।

-হ্যাঁ, সাইমুন মুগ্ধতার ভাই। কিন্তু এটা কেউ জানে না। পারিবারিক ব্যাপার তো তাই।

রোজ স্মিত হেসে বলে,
-পারিবারিক? পরিবারেরও কানেকশন আছে, তা ঠিক কি কানেকশন সিয়াম?

-আমি জানি না ম্যাম।

রোজ সিয়ামের পায়ের ঠিক পাশের চেয়ারটায় গু’লি করতেই সিয়াম ভয়ে লাফ দিয়ে ওঠে। রোজ কৌতুকের স্বরে বলে,
-বললাম না, মিথ্যা বলতে হয়না।

-আপনি আমার সঙ্গে এমন কেন করছেন?

-কারন তুমি আমাকে কোনো মেডিসিন দিচ্ছিলে। আমার হাতে কি পুশ করেছ? যার জন্য আমার মাথা ঝিমঝিম করছে। যাক সেসব পরে জানা যাবে, আগে এটা বলো ইরফান কি হয় ফালাকের? চাচা?

সিয়াম বাকরুদ্ধ দাড়িয়ে রইলো। রোজ সবকিছু জানে? তাও জিজ্ঞেস করছে কেন? দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে? সিয়াম যদি সব বলে দেয় ফারহান প্রচন্ড রেগে যাবে।এমনিতেই ভুল করে ধরা খেল। এখন যদি সব বলে দেয় ফারহান সহ ফারদিন সাহেবও রেগে যাবেন। সিয়ামকে কিছু বলতে না দেখে রোজ নিশ্চিত হলো ওর কানে যেসব খবর এসে তা পুরো সত্য। রোজের হাত পা জ্বলে উঠল রাগে। থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সে সামনে তাকায়। এরপর কঠিন গলায় বলে,

-তোমার স্যার স’ন্ত্রাস ছাড়েনি?

-ছেড়ে দিয়েছে ম্যাম।

-মেহমেদকে চেনো?

-জি ম্যাম। মারাত্মক কিলার।

-তোমার স্যার তাঁর থেকেও বেশি মারাত্মক সিয়াম। ফালাকের জীবনে ওর মা বাবা ছাড়া আর একটা মানুষ সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তুমি জানো, সেটা কে? সেটা সাফোয়ান আনসারীর মেয়ে সাইরাহ্ আনসারী রোজা। কিন্তু তোমার স্যার তাঁর সঙ্গে বিশ্বাসঘা’ত’কতা করে এটা সুনিশ্চিত করেছে যে সে বিশ্বাসের যোগ্য নয়। আমার বিশ্বাস নিয়ে যে খেলতে পারে সে তোমাকে ভাই মনে করে কোলে তুলে রাখবে?

-স্যার ভালো হয়ে গেছেন ম্যাম। বিশ্বাস করেন উনি আর ওসব করেন না। শুধু অভিনয় করেন।

-হতে পারে। কিন্তু আমি ওকে বিশ্বাস করিনা। তোমাকে গাঁধা পেয়ে আমার ওপর নজরদারির আদেশ দিয়েছে। সে ভেবেছে তুমি বোকা তাই তোমার ওপর আমার সন্দেহ হবে না। আসলেই হত না। তোমার মত ভীতুর ডিম যে আমাকে ঘুমের ঔষধ দিতে পারে তা ভাবিওনি। কিন্তু দিন কে দিন তোমার সাহসের উন্নতি হয়েছে। সেটা ভালো লক্ষণ। তবে আমার সঙ্গে এমনটা না করলেও পারতে ডিয়ার!

-স্যার আপনাকে ভালোবাসেন ম্যাম।

-জানি সেটা। নতুন কিছু শুনতে চাচ্ছি। ফালাকের গ্যাং কোথায়? সে কি এখনও যুক্ত আছে? ইরফানের কাছে ও মাথা বেঁচে বসে আছে কেন? কিসের জন্য?

-আপনার জন্য।

-আমার জন্য?

-আর কিছু বলতে পারবো না ম্যাম। কিছু জিজ্ঞেস করবেন না প্লিজ।

রোজ মৃদু হেসে বলে,
-ওকে করলাম না। ফিরে গিয়ে তোমার স্যারকে বলবে তুমি সব কাজ ঠিক ঠিক করেছো। আর আজকের এই কথাগুলো বলার দরকার নেই, সময় সুযোগ বুঝে আমি নিজেই জানিয়ে দেবো। মনে থাকবে?

-জ..জি ম..ম্যাম।

সিয়াম চলে যেতেই রোজ আইডি কার্ড নিয়ে বেরিয়ে গেল। সাইমুন কল দিচ্ছে। ছেলেটার কাজে প্রচন্ড রাগ হচ্ছে রোজের। এত বিরক্তি সহ্য করা যাচ্ছে না। একটা ক্যাফে রোজকে ডেকেছে সাইমুন।রোজ উপস্থিত হতেই দেখলো ক্যাফ পুরো ফাঁকা।সাইমুন একা একটি চেয়ারে বসে কফি পান করছে। রোজকে দেখে সে এগিয়ে এসে কুর্নিশ করে স্বাগত জানালো। রোজ গায়ের জ্যাকেট খুলে সাইমুনের হাতে দেয়। বাইরে ঠান্ডা পড়লেও ভেতরে বেশ গরম। রোজ বসতে বসতে বলল,

-কফি উইথআউট সুগার। হট চকলেট এ্যান্ড পেস্ট্রি।

সাইমুন অর্ডার কনফার্ম করে সামনে বসলো। রোজের ঠোঁটের কোনায় সূক্ষ্ম হাসি ঝুলে আছে। সাইমুন হেসে বলে,

-চিনি ছাড়া কফি? গলা মিষ্টি করার নতুন ট্রিক নাকি?

-হতে পারে। তুমি তোমার কথা বলো। কেন ডেকেছ?

-তুমি কি ফারহানকে ভালোবাসো?সত্যিটা বলবে প্লিজ। বাসো কি বাসো না?

-কি মনে হয়?

-জানি না। তুমি বলো।

-তোমার ফ্যামিলি সম্পর্কে বলো। ইউ নো হোয়াট, আ’ম কোয়াইট ইন্টারেস্টেড টু ইয়্যু।

-আমারও ফ্যামিলি নেই। একা একাই বড় হয়েছি।

-তাই? (সন্দিহান কন্ঠে)

-হ, হ্যা। তা ছাড়া কি? তুমি জানো না? সবাই তো জানে। (তোতলানো কন্ঠে) এবার বলো ফারহানকে কি তুমি এখনও ভালোবাসো?

-এক্চুয়ালি হ্যাঁ। বাসি, আজীবন বাসার চিন্তাও করে রেখেছি। ওর কোনো ফল্ট না পেলে তো ওকে ছাড়তে পারবো না। যেহেতু ও এত ভালোবাসে আমাকে।

-তুমি অপছন্দ করো কি?

-অপছন্দ! প্রতারণা, ধোকা, বিশ্বাসঘা’ত’কতা। কিন্তু তুমি জানো,আমি এগুলোও ভালোবাসি। কারন এগুলো ভিন্নস্বাদের অনুভূতি।

-যদি কখনও জানো ফারহান তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘা’ত’কতা করেছে? আর একজন তোমাকে নিঃস্বার্থে ভালোবেসেছে। তখন কাকে বেঁছে নেবে?

-সেকেন্ড অপশন। যে নিঃস্বার্থে ভালোবেসেছে। কিন্তু সে যে নিঃস্বার্থ হয়ে ভালোবেসেছে এটার কি প্রমাণ? আর আমি তা মানবো কিভাবে?

-ফারহান তোমাকে আঠারো বছর ধরে চেনে।তুমি তাকে ছাড়তে পারবে তো?

-আমাকে তুমি ঠিক চেনো নি সাইমুন। আমি মানুষটা কিছুটা হলেও স্বার্থপর। আমি যা চাই তা পেয়েই ছাড়ি। জেদের কমতি নেই আমার মাঝে। তাই যদি টের পাই এমন কিছু হয়েছে, আমি ফালাক কেন? তোমাকেও ছেড়ে দিতে পারি। সো বি কেয়ারফুল। আমার জীবনে আসার আগে এসব জেনেই আসবে।

-আমি রাজি।

-রাজি? আমাকে পাওয়া কিন্তু এতটা সহজ হবে না।

-যেটা সহজেই পাওয়া যায় মানুষ তাঁর মর্ম বোঝেনা। তুমি বলেছিলে এটা।

-আমি তো অনেককিছুই বলি। সবটা সিরিয়াসলি নিতে হবে নাকি?তাছাড়া আমি তোমার কেন হবো? কি আছে তোমার? না ফ্যামিলি, না ফেম!

-তুমি আমার হবে কারন আমার কাছে সেসব আছে যা তোমার চাই।

-কি?

-সত্য!

-বলে ফেলো। শোনার পর ভেবে দেখবো তোমার হতে চাইবো কিনা।

-আমি তোমাকে ভালোবাসি রোজ।

রোজ বিরক্তি নিয়ে তাকালো। সাইমুন বলতে শুরু করে।
-আশা করবো তোমাকে না ঠকালে তুমিও আমাকে ঠকাবে না। তোমাকে ভালোবাসি তাই বিশ্বাস করে সব বলছি।

-তোমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবো আমি।

-আমার সঙ্গে চলো। এখানে এসব বলা যাবেনা।

-কপালের ব্যান্ডেজটায় ব্যাথা করছে অনেক। পাল্টানো হয়েছে একটু আগে। বুঝতে পারছি না কি হয়েছে। খুলে দেবে একটু। যন্ত্রণা হচ্ছে খুব।

-দিচ্ছি।

রোজের ব্যান্ডেজ খুলে সাইমুন তা ড্রেনে ফেলে দিলো। রোজ মৃদু হেসে বাইকে উঠলো। সাইমুন রোজকে নিয়ে ওর অতি পরিচিত ও গোপনীয় একটি জায়গায় এলো।রোজ চারপাশে চোখ বুলিয়ে যা বুঝলো তা হচ্ছে এটা জঙ্গলের মধ্যে এক শিকারির বাসা। সাইমুন রোজকে নিয়ে ভেতরে ঢুকে রোজের জন্য খাবার তৈরি করে। তখন কিছু খাওয়া হয়নি। এখন খাওয়া প্রয়োজন তার ওপর রোজ অসুস্থ। রোজ খেতে শুরু করলো। সাইমুন আতঙ্কিত চোখে চেয়ে আছে। সত্যাটা কিভাবে বলবে সে? খাওয়া শেষ হতেই রোজ কৌতুহলী কন্ঠে বলে,

-এবার বলো। ফালাক কি করেছে? তোমার কি আছে?

-আমার মা আর ভাই বাদে সবাই আছে।

-কি?

-এ্যন্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি ইশতিয়াক ইরফান আমার বাবা। আর মুগ্ধতা মেহরীম আমার আপু। ফারহান আমার চাচাতো ভাই।

-কি বলছো এসব? (অবাক কন্ঠে)

সাইমুন রোজের কাছে এসে রোজের হাত জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলো। রোজ অগোচরে স্মিত হাসে। সাইমুন বলতে শুরু করে।

-ঠিক সাত বছর আগে থেকে তোমাকে চিনি আমি।তবে তোমাকে ভালোবাসি তোমার পরিচয় না জেনেই। আমি আর’জে রোজকে ভালোবাসি। আমি জানতাম না তুমি সাফোয়ান আনসারীর মেয়ে। ট্রাস্ট মি রোজ, আমি কিছু জানতাম না।

-মজা করছো তাইনা?

-না। আজ তোমাকে আমি সব সত্য বলবো। বাবা বোন সবার বিপক্ষে গিয়ে সবটা বলবো আশা করবো তুমিও আমার পক্ষে থাকবে।

-বলো।

-আমার বাবার চোরাচালানের ব্যবসা ছিল। ইউনিটের আরও কিছু সদস্য এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তোমার বাবা সব জানতেন। ফারদিন চাচ্চুও জানতেন। চাচ্চুর সঙ্গে তোমার বাবার ঝগড়াও হয়েছিল কারন চাচ্চু তাকে নিষেধ করেছিলেন আমার বাবার সঙ্গে ঝামেলা করতে। কিন্তু তোমার বাবা সৎ ছিলেন তাই তিনি সে বারণ শোনেননি। ফারহান তখন সবে সবে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ঢুকছে। বাবার কথাতেই আগ্রহবোধ করে সে এসেছিল এই কালো দুনিয়ায়। ফারহান জানতো বাবা সাফোয়ান সাহেবকে মা’রার পরিকল্পনা করছে। চাচ্চুও জানতো। তারা চেষ্টা করেছিলো তোমার বাবাকে বাঁচানোর কিন্তু বিষয়টা গোপন ছিল বলে কেউ জানে না। সবাই জানে তারা জেনেও তাকে আটকায়নি। এমনকি চাচ্চু স্পটেও চলে গিয়েছিল। কিন্তু বাবা তাকে দেখে নিজের প্লান বদলে চাচ্চুর হাতেই তোমার বাবাকে মা’রে। আর বলে তোমাকেও মে’রে ফেলবে যদি তুমি বুঝে যাও এসবের পেছনে বাবা আছে। তারপর তোমার আর ফারহানের ঝামেলা হয়। ফারহান তখন তোমার বাবার কথা জানতো না। তাই আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিজের আধিপত্য বিস্তারের নেশায় বুদ হয়ে গেল।চাচ্চু ধুকে ধুকে ম’রতে থাকলো অপরাধবোধে। ফারহান সবটা জানার পরও তোমার কাছে আসেনি কারন ও তোমাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছিল। ও ভেবেছিল তুমি ওকে ঠকিয়েছো। তাই পাঁচবছর সে জমিয়ে রাজত্ব করলেও সবার সামনে বলেছে দুবছর সে ওসব করতো। আসলে তা ঠিক নয়। ফারহান এখনও এই জগতে আছে। এই জগতে একবার ঢুকলে ফেরা কঠিন, অন্ততো বেঁচে ফেরা। কেউ ভালো হতে চাইলেও এই জগত তাকে ভালো হতে দেবে না। ফারহানও আড়াইবছর ধরে চেষ্টা করছে এই জগত ছাড়তে কিন্তু পারবে না । কারন ওর দল বিপদে পড়ে যাবে যদি ও এসব ছেড়ে দেয়। তাই ও তোমাকে কালোজগত ছাড়ার যে কথা বলেছে তা মিথ্যা। তোমার পেছনে ও সর্বদা নজর রেখেছে কারন তোমাকে পাওয়ার নেশা ওর জেদ, ওর স্পৃহা। তোমাকে ও নিজের করেই ছাড়বে। অথচ সবার সামনে দেখাচ্ছে সে তোমার খোঁজও জানে না। চারবছর আগে আমার আপুকে বিয়ে করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে আপুকে ছেড়ে দেয়। আমার আপু ওর জন্য কি করেনি? পাগলের মত ভালোবেসেছে, ফারহান ওকে ছুঁয়ে দেখেছে আর বিয়ের সময় আসতেই পাল্টি খেল। বিয়ের দিন ওর তোমার কথা মনে পড়লো, আর আগের দিনগুলো? আমার আপু তবুও ওকে ভালোবেসেছে।

তোমার বাবার নামে যে একশ কোটি টাকা আছে সেটা চায় সবাই। আমার বাবা, তাঁর দল। আর ফারহান চায় তোমাকে নিজের করতে।

রোজ হাই তুলে বলে,
-মেইন পয়েন্ট বলো।ফালাক ও তাঁর বাবা কেন কিভাবে দোষী সেসব কারন শোনায় আমার আগ্রহ নেই, তোমার খু’নি বাবার কথা বলো তুমি।

-বললাম তো। আর জানি না।

-প্লিজ বলো সাইমুন। আমার মা’কে কেন মা’রলো তোমার বাবা? তাঁর তো কোনো দোষ্ ছিল না। আমাকে প্লিজ সবটা বলো। তোমার বাবা এখন কি চায়? আমার পেছনে পড়ে আছে কেন?

-জানি না আমি।

রোজ কোমরে গুজে রাখা পি’স্ত’ল বের করে সাইমুনের বুক বরাবর দুটো গু’লি করে বলে,
-শু***** বাচ্চা! কোনো কিছুই যখন বলবি না তখন আমাকে নিয়ে আসলি কেন? তোর বাপটা দেখছি তোর জীবনেরও তোয়াক্কা করেনা। তো আমার কি এমন ঠেকা পড়ছে তোকে বাঁচানোর?

রোজ সাইমুনের ফোনটা বের করে কললিস্ট চেক করে সেটা আইজি সাহেবের অফিসে পাঠিয়ে দিলো।আইজি সাহেব সবটা শুনে বললেন,
-ওদের দুজনের কল রেকর্ডিং পেয়েছি। ইরফান প্লান করে তোমার টাকার খবর জানার জন্য সাইমুনকে তোমার কাছে পাঠিয়েছে। তুমি এখন কোথায়? সাইমুন কোথায়? ঠিক আছো তো?

-সাইমুন, আমার সামনেই মেঝেতে পড়ে আছে।

-জীবিত?

-না।

-চলে আসো। লা’শের ব্যবস্থা আমি করছি। কিন্তু আমি ভাবছিলাম তোমার নিরাপত্তার জন্য,,

-ইউনিটে বাবার পরে আপনি আছেন। আমি চাইনা বাবার প্রিয় ইউনিট অসৎ লোকে পূর্ণ হোক। ওরা যে আপনার ওপর আমার থেকেও বেশি নজর রাখছে এটা আপনার অজানা নয়। আর আপনার কিছু হলে আমি একা সবটা সামলাতে পারবো না চাচ্চু। আপনার ওপর ভরসা করেই তো এত বড় একটা পদক্ষেপ নিলাম।

-তাহলে তৈরি হও, ওদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। আমি খুব দ্রুতই ওদের এ্যাগাইন্সটে এ্যাকশান নিবো। ওদের ঠিক সেভাবেই শেষ করতে হবে যেভাবে আনসারী শেষ হয়েছে। তখন না থাকবে বাঁশ না বাজবে বাঁশুরি।

-শুভকাজটা আমি নিজহাতে করতে চাই। তার আগে টাকাগুলো আপনি ইউনিটের ইউনিট এাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নিন। কারোর পার্সোনাল এ্যাকাউন্টে যাবে না টাকা। আগামীকাল বা পরশু এসে অফিসিয়াল কাজগুলো করে দিয়ে যাবো।

__________

রোজের জন্য সার্প্রাইজ পার্টি এ্যারেঞ্জ করছে অয়ন্তি। ওর জন্মদিন ও সুস্থতা উপলক্ষে। অয়ন্তির বেলাতেও অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। রোজ মানা করেনি বলে এবার ওর জন্যও করা হচ্ছে। অয়ন্তি নিজে কেক বেক করছে। বাড়িতে আজ কেউ নেই, ওরা দুজন বাদে। সবাই গ্রামে গিয়েছে। আরশান রান্নাঘরের দরজার কোনায় দাড়িয়ে আছে। খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে অয়ন্তিকে দেখার পর ও এগিয়ে আসে। অয়ন্তি আটা গুলাচ্ছিল রুটি বানানোর জন্য। আরশানকে আসতে দেখে সে দ্রুত সরে দাঁড়াল।
-একদম আসবেন না। এখন কিছু হবে না। কোনো চুঁমু টুমুও না।

আরশান পানি পান করার জন্য গ্লাস নিতে নিতে বলে,
-তোমার মনে দেখছি সবসময় ওসব নাচছে। মনটাকে পবিত্র করো।

-আমার মন ঠিকই আছে। আপনি আমাকে জ্ঞান না দিয়ে নিজের স্বভাব বদলান।

-বদলাবো না। কি করবে কুসুম?

-আটায় গোসল করাবো। করবেন নাকি?

-না।

অয়ন্তি ঠোঁট টিপে হাসে।
-আজকে তাহলে আটাতেই গোসল সাড়তে হবে মাই ডিয়ার হাসবেন্ড। আপনার অত্যাচার অনেক সহ্য করেছি আজ আমার পালা।

অয়ন্তি দুহাতে আটা নিয়ে তেড়ে আসতেই আরশান ভ্রু কুচকে তাকালো। অয়ন্তি সত্যি সত্যি আসছে নাকি? আরশান দূরে সরে দাঁড়ালো।
-এমন করবে না কুসুম। ঠান্ডা লেগেছে আমার।

-লাগুক।

-ওকে। আমিও আটায় ডুবাবো তোমাকে।

অয়ন্তি আরশানের মুখের ওপর আটা ছুড়ে দিতেই আরশানও আটা এনে অয়ন্তির চুলে ঢেলে দিলো। রোজ এসে ওদের রান্নাঘরে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে সোজা নিজের জন্য বরাদ্দ ঘরটাতে চলে গেলো।দরজা আটকে দিয়ে সে ইয়ারফোনে গান শুনছে। দরজা সে সন্ধ্যার আগে খুলবে না। বলা যায় না এরা ওকেও আটার ভুত বানিয়ে দিতে পারে।

অয়ন্তি দৌড়ে হাঁপিয়ে গেছে। পুরো রান্নাঘর আটায় মাখামাখি। আরশান মেজাজ দেখিয়ে বলে,
-চলো। গোসল করে নেবে। এভাবে থাকলে এলার্জি হবে তোমার।

-এগুলো কে ঠিক করবে?

-পরে দেখছি। তুমি চলো।

-কিন্তু,,

-কোনো কথা না কুসুম। চলো।

আলামারি থেকে জামা বের করে বিছানার ওপর রাখে অয়ন্তি। আরশান আগে গোসলে ঢুকেছে। অয়ন্তি চুলের শুকনো আটাগুলো ঝেরে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। একেবারে ভুত বানিয়ে দিয়েছে। চুলের আটা ছাড়াবে কি করে?
-ইশ! চুলগুলো বোধ হয় গেল এবার। অত্যাচারী বর!

আরশান বাথরুমের ভেতর থেকে ডাকে,
-কুসুম আমার তোয়ালে দাও। নিতে ভুলে গেছি।

-পারবো না। আমার কি হাল করেছেন? নিজের তো কদমছাট চুল। একটু শ্যাম্পুতেই উঠে যাবে। আমার তো এক বোতলেও কাজ হবে না। বোতল বোতল ঢাললেও আমার চুল ঠিক হবে না। চুল থেকে এসব ছাড়াবে না।

-আসো ছাড়িয়ে দেই।

-থাক, অসংখ্য ধন্যবাদ।আপনার ছাড়ানোর মানে ভিন্ন। দরকার পড়লে এই চুল নিয়েই থাকবো। তবুও আপনার কাছে গিয়ে চুল থেকে আটা ছাড়ানোর প্রয়োজন নেই।

আরশান শব্দ করে হেসে বলে,
-আনরোম্যান্টিক বউ! ভালো হয়ে যাও।

রোজ আইজি আরিফিনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আবারও বাইরে যাচ্ছিলো। অয়ন্তি আর আরশানের কথা শুনে সে মুচকি হাসে। ঘরে ঢুকে অয়ন্তিকে টানতে টানতে সে বাথরুমে ঢুকিয়ে দিলো। তোয়ালে কাপড়ও অয়ন্তির হাতে করে পাঠিয়ে দিয়ে চেঁচিয়ে বলল,

-দাদাই, তোমার বউ তোয়ালে সব দিয়ে গেলাম। জমিয়ে রোম্যান্স করো। আমার টিমে রোশনির মত আরও কিছু সৈন্য চাই। তাদের আনার ব্যবস্থা করো জলদি। আমি কলেজে যাচ্ছি। ফিরতে সাত-আটটা বেজে যাবে। চিন্তা করো না।

-আমারটা তো চলে আসবে। তোর নিজের দায়িত্ব নেই? বিয়েশাদী করে মামা ডাক শোনা। কতদিন চাচ্চু আর আব্বু ডাক শুনবো?

সর্বনাশ! মুখ ফসকে কি বলল আরশান? রোজ যদি এটা মজার ছলে নিয়ে ফেলে? নির্ঘাত ফাঁসিয়ে দেবে।রোজ যেতে যেতে দুষ্টু হেসে বলে,

-ভাবি, তোমার জামাইকে আব্বু ডাকে কার বাচ্চারা? ভালো করে জেনে নিও। কোথাও কিছু ঘটিয়ে ফেলেছে কিনা। ইদানিং রেডিও সেন্টারেও তাকে খুব একটা দেখা যায়না। সারাদিন, রাতের অর্ধেক সময় সে থাকে কোথায়?

অয়ন্তি চোখ রাঙিয়ে আরশানের দিকে তাকালো।পায়ের আওয়াজ মিলিয়ে যেতেই আরশান বুঝলো সে ফাঁসিয়ে দিয়ে কে’টে পড়েছে। আরশান সামাল দেওয়ার জন্য বলে,

-স্লিপ অফ টাং কুসুম। আমি ওটা মিন করিনি। আমি তো রোজকে বিয়েতে রাজি করানোর জন্য বলছিলাম। ট্রাস্ট মি আমি ঠিক টাইমে অফিসে যাই।

-এমনি এমনি এত বড় একটা কথা বলবেন? নিশ্চই কিছু আছে। আপনি আমাকে বাদ দিয়ে,

-একদম না। ট্রাস্ট মি, রোজ আমাকে ফাঁসানোর জন্য বলেছে। তুমি বিশ্বাস করলে ওটা?

-করলাম।

-কি জ্বালা।

-পানিশমেন্ট স্বরূপ আমার চুলের আটা ছাড়িয়ে দেন। তবে শর্ত আছে। শর্ত হচ্ছে চুল ছাড়া আপনার হাত আর কোথাও যাবে না। না ঘাড়ে, না গলায়, না গালে।

-তোমরা দুটোই ব’জ্জা’ত। রোম্যান্টিক মুডটাই খারাপ করে দিলা। (বিরবির করে)

-কি বললেন?

-বলছি কি, রোজের টিমমেম্বার আনার প্রয়োজন আছে তো। বোন’টা আমার কত করে চাচ্ছে। আমার একদম ইচ্ছে নেই, শুধু ওর জন্য? তুমি তো ওকে অনার স্থান দিয়েছো। অনা যদি চাইতো খালা ডাক শুনতে তুমি শোনাতে না?

-ওসব চালাকি আমার সামনে না।

-খ’চ্চ’র।

-কে?

-আমি। আবার কে? আসো আটা ছাড়িয়ে দেই।

রাতে ছাদে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজন করল রোজ। আরশানদের একান্ত কিছু সময় কাটানো দরকার। ঝামেলা দিয়েই বিয়ের দেড়বছর কাটিয়ে দিল। এখন যখন কুসুম সুস্থ তখন ওদের বৈবাহিক জীবনটাও স্বাভাবিক হওয়া প্রয়োজন। রোজ ছাদ ডেকোরেট করে ছাদের দরজায় তালা দিয়ে নিচে নেমে আসে। অয়ন্তি কেক সাজিয়ে রেখেছে। রোজ দ্রুত কেক কে’টে খাওয়া সম্পন্ন করলো। এরপর ওদের দুজনকে টেনে ছাদে নিয়ে আসলো। ছাদ পুরো অন্ধকার করে রাখা হয়েছে। রোজ লাইট অন করে মোমগুলো জ্বালিয়ে পেছনে তাকাতেই দেখলো আরশান অয়ন্তি হা করে চেয়ে আছে। রোজ এগুলো কখন করলো? সফেদ টেবিল, রেলিঙ-য়ে ফুলের সাঁজ, রঙবেরঙয়ের মরিচবাতি। আবার টেবিলের ওপর চাইনিজ ডিশ। রান্নাঘরও ক্লিন ছিল বিকেলে। তার মানে রোজ রান্নাঘর পরিষ্কার করে নিজে রান্না করেছে? অয়ন্তি টেবিলের সামনে আসতেই রোজ কঠিন গলায় বলে,

-ছোঁবে না। আমার হাতের সুস্বাদু খাবার তুমি ততক্ষণ খেতে পারবে না যতক্ষণ না তুমি দাদাইকে ভালোবাসার কথা বলো। তাও তুমি সম্বোধনে। আমার সামনে তুমিতে বলতে হবে। বাকি সময় নিজেদের ইচ্ছেমত ডাকবে। আমার আপত্তি নেই। কি দাদাই? তোমার আপত্তি আছে?

-না, না আমার আপত্তি কিসের। আমার হৃদয় কত বড় তা তো তোদের জানাই আছে। তোদের যা ইচ্ছে বল, আমি না শুনেই সব মেনে নেবো। তোদের সুখই আমার সুখ।

-মেলোড্রামাটিক দাদাই! বেয়াদব। এখানে আমার সুখ কোথায়? নিজের কথা নিজের মত করে বলবে। তোমারই তো বউ, নাকি পরের বউ? যে সরাসরি কথা বলতে পারো না।

-বুঝিস না ক্যান? রাত হচ্ছে। চেতালে বালিশ বিছানা আলাদা করে ফেলবে রাগে।

-তুলে আনবা। আমার ফুল সাপোর্ট আছে। তবে বালিশ আমার ভাইয়ের বক্ষস্থল হলে অন্য হিসেব। এবার দ্রুত বলো ভাবি।

ওদের কথা শুনে অয়ন্তি ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছে। রোজ অস্থিরচিত্তে উত্তেজিত হয়ে বলে,
-বলো ভাবি। আমি টয়লেটে যাবো। ইট্স আর্জেন্ট। কুইক ভাবি।

রোজ পেট ধরে দাড়িয়ে ছটফটানি শুরু করতেই অয়ন্তি চিন্তিত হয়ে আরশানের সামনে গিয়ে রোজের দিকে তাকিয়ে বলল,
-আমি তোমাকে ভালোবাসি। এবার যাও তুমি।তোমার কষ্ট হচ্ছে।

-উফ! আমার দিকে না। দাদাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলো। আমি তোমার ভালোবাসা দিয়ে কি করতাম? আমার জামাই ফিক্সড আছে। আমি সুদর্শন এক যুবক না মানে অভিনেতার ভালোবাসা অলরেডি পেয়ে গেছি। তাই সামনে তাকাও, দাদাইয়ের চোখে চোখ রেখে বলো, আমি তোমাকে ভালোবাসি আরশান। কুইক বলো। আমাকে যেতে হবে। কুইক ভাবি, জোর চেপেছে!

অয়ন্তি আরশানের চোখে চোখ রাখলো। নীলচোখে এই প্রথম দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। আরশানের চোখমুখ উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। মাঝে মাঝে রঙবেরঙ আলোর ঝলকানিতে আরও মোহনীয় হয়ে উঠছে সে হাস্যজ্জ্বল চেহারা। অয়ন্তি ধীর কন্ঠে বলে,
-আমি তোমাকে ভালোবাসি আরশান!

রোজ মৃদু হেসে বলে,
-ওয়ান মোর টাইম।

অয়ন্তি ঘোর লাগা কন্ঠে আবারও বললো। আরশান জবাবে নিজের ভালোবাসার কথা বলে অয়ন্তির কপালে ঠোঁট ছোঁয়ায়। রোজ পুরোটা ভিডিও করে খাবারগুলো বেড়ে দিল। অয়ন্তি লজ্জা পেয়ে দ্রুত সরে দাঁড়ালো। আরশান বা’হাতে মাথা চুলকে লাজুক হাসে।অয়ন্তি প্রশ্ন করে,
-আমি করে নেবো। তুমি টয়লেটে যাও।

অয়ন্তির কথা শুনে আরশান রোজ দুজনেই শব্দ করে হেসে ওঠে। রোজ আরশানের ফোনে ভিডিও সেভ করে টেবিলের ওপর রেখে বলে,
-ওহ হ্যাঁ মনে ছিল না। যাচ্ছি আমি। খেয়ে নিও অনেক কষ্টে বানিয়েছি। কেমন হয়েছে জানি না, তবে একটু কম্প্রোমাইজ করো। নতুন নতুন চাইনিজ রান্না শিখছি তো। ওকে টাটা।

রোজ চলে যেতেই অয়ন্তি ভাবুকদৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
-এই না, ওর জোরে চেপেছিল? তাহলে সেটা ভুলে গেল কি করে?

আরশান বাঁকা হেসে বলে,
-বেবিও টের পেয়ে গেছে তুমি মহা বিরল জাতের বোকা। তাই তোমাকে বোকা বানিয়ে অভিনেতার প্রিয় নতুন অভিনেত্রী বউ ড্রামা করে তোমার মুখ দিয়ে এই দূর্ভাগা প্রেমিক বরটাকে ভালোবাসার কথা শোনার সৌভাগ্য করে দিল। এর জন্য ওকে দুটো সৈণ্য প্রদান করবো। এটা আমার প্রমিজ!

অয়ন্তি এবার বুঝলো রোজের নাটক। মেয়েটা এতো ফাঁজিল? আরশানের কথা শুনে সে ভ্রু কুঁচকে তাকালো। আরশান তা দেখে আবারও বাঁকা হেসে বলে,

-অবশ্যই তা তোমার সম্মতিতে কুসুম। সো ডোন্ট ওয়ারি মাই লাভ।

চলবে?

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ