Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"ভালোবাসার লুকোচুরিভালোবাসার লুকোচুরি পর্ব-১৩ এবং শেষ পর্ব

ভালোবাসার লুকোচুরি পর্ব-১৩ এবং শেষ পর্ব

#ভালোবাসার_লুকোচুরি
#লেখনী_আলো_ইসলাম

“অন্তিম পর্ব”

–” পাঁচ বছর পর….

–“ঘরের দেয়ালে বাধানো রুহির হাসিমুখে থাকা ছবির দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে রোহান। সাথে আছে অনেক অভিযোগ।

-” খুব হাসি পাচ্ছে তোমার তাই না আমাকে এমন ভাবে দেখে। তুমি বরাবরই স্বার্থপর থেকে গেলে রুহি সোনা। একবার আমার কথাটা ভাবলে না। আমি কি করে থাকবো কাকে নিয়ে বাঁচবো একবারও ভাবলে না। কেনো এমন করলে আমার সাথে। কেনো আমাকে এত বড় পরিক্ষার সামনে দাড় করিয়ে গেলে রুহি সোনা। আমি যে নিঃস্ব রুহি সোনা তোমাকে ছাড়া বলতে বলতে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে কয়েক ফোটা পানি।
– বন্ধ ঘরে রোহানের আর্তনাদ গুলো প্রায় বিচরণ করে। এটা রোহানের নিত্যদিনের কাজ। রুহির প্রতি করা অভিযোগ গুলো গুমরে গুমরে মরে এই ঘরে। আর রুহি সে সকল অভিযোগ বন্দি ফেমে হাসি মুখে শ্রবণ করে।

– তখনই এক জোড়া কচি হাত পেছনে থেকে এসে রোহানকে জড়িয়ে ধরে বলে পাপা তুমি এখনো এখানে দাড়িয়ে আছো। আমরা মাম্মাম এর কাছে যাবো না। আমার তো বার্থডে পার্টি হবে আজ মাম্মামের কাছ থেকে আসার পর ভুলে গেলে নাকি। আধো আধো কন্ঠে কথা গুলো বলে রোহান আর রুহির মেয়ে রাফি।
— রাফির কথা শুনে রোহান চোখের পানি মুছে নিচু হয়ে বসে রাফির গালে হাত রেখে বলে তাই তো মামনী আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। ইসস কত বড় ভুলো মন আমার দেখেছো। আমার মা’টার যে আজ বার্থডে আর আমার মনেই নেই। রোহানের কথা শুনে রাফি গাল ফুলিয়ে বলে তুমি অনেক কেয়ারলেস পাপা। একটু মনে থাকে না কিছু তোমার। আমায় দেখো আমি কত গুড আমার সব মনে থাকে টেনে বলে কথাটা রাফি।

– তাই তো। আমার মামনীটা তো ভেরি ইন্টেলিজেন্ট এন্ড গুড গার্ল বলে রাফির গালে চুমু খায় রোহান।
– তুমি আজও কান্না করছিলে পাপা। মাম্মামের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদো মাম্মাম তোমায় বকা দেয় না। রাফির কথা শুনে রোহান একটু থেমে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রাফির দিকে তারপর ছলছল চোখে বলে তোমার মাম্মাম খুব স্বার্থপর মামনী। তাই তো আমাদের রেখে চলে গেছে। রেখে গেছো চোখ জুড়ে অশ্রু। রোহানের কথায় রাফি রোহানের গালের পানি মুছে দিয়ে বলে তুমি কেঁদো না পাপা আমি মাম্মাম কে খুব করে বকে দিবো কেমন। চলো এবার আমরা মাম্মামের কাছে যাবো তো । দাদু,দিম্মা, নানাভাই নানু অপেক্ষা করছে তোমার জন্য ।
– তুমি যাও নিচে আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে আসছি ওকে। রোহানের কথায় রাফি হাসি মুখে বলে ওকে তারপর ছুটে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে রোহান রাফির দিকে তাকিয়ে একটা ছোট দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।

– রাফির আজ জন্মদিন। চার বছর পুর্ণ হলো আজ সাথে রুহির চতুর্থতম মৃত্যুবার্ষিকী। রুহির এবং রোহানের মেয়ে রাফিয়া রাসফি শেখ। সবাই ছোট করে রাফি বলে

— সেদিন রুহি আর রোহানের সব ঠিক হয়ে যাওয়ার পর রুহি বাড়িতে জানায় তার রোহানকে বিয়ে করতে কোন আপত্তি নেই। এটা শোনার পর সবাই অনেক খুশি হয়েছিলো। তারপর তাদের বিয়ের আয়োজন করা হয় অনেক বড় করে। ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হয় তাদের৷ বিয়ের কয়েকমাস যেতেই রুহি কানসিভ করে। কিন্তু রুহির কানসিভ করাতে সবাই খুশি হলেও রোহান খুশি ছিলো না। এত তাড়াতাড়ি এমনটা হবে রোহান বুঝতে পারিনি। রুহিকে নিয়ে কোনো রিস্ক রোহান নিতে চাইনা কারণ রুহি ছোট ছিলো যথেষ্ট তখনো। রোহান এমনটাই মনে করতো যে রুহির মা হওয়ার সময় এখনো হয়নি। রুহি সব বুঝতে পেরে রোহানকে অনেক বুঝায়। তারপর রোহান আস্তে আস্তে মানিয়ে নেয় ব্যাপারটা। কিন্তু রুহির প্রতি তার চিন্তা একটুও কমে না বরং সময়ের সাথে আরো বাড়তে থাকে। রুহি কানসিভ করার পর অনেক সমস্যা হতো। ঘনঘন বমি শরীর খারাপ প্রায় মাথা ঘোরা ইত্যাদি লেগে থাকতো। রোহান সব সময় রুহির পাশে থাকার চেষ্টা করেছে সে সময়।। রুহির কোনো রকম কষ্ট যেনো না হয় তাই সব কাজ রোহান আগে আগে করে রাখতো।

— রুহির ডেলিভারির ডেট যত এগিয়ে আসে রোহানের চিন্তার পরিমাণ তত বাড়তে থাকে। রুহি সব হাসি মুখে সামলে গেছে৷ রোহানকে শক্তি দিয়ে এসেছে। রুহির এমন আত্নবিশ্বাস দেখে রোহান মাঝে মাঝে একটু স্বস্তি পেতো। হঠাৎ করে একদিন রুহির পেইন ওঠে। রোহান একটা মিটিং থাকায় রুহিকে রেখে গিয়েছিলো মিটিং এটেন করতে। রুহির পেইন হওয়াতে রুহিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় । রোহান খবরটা পাওয়া মাত্র ছুটে আসে রুহির কাছে।।

– অটির সামনে পাগলের মতো আচরণ করতে থাকে রোহান। সবাই অনেক ভেঙে পড়ে রোহানকে এমন ছটফট করতে দেখে। রুহির কিছু হলে যে রোহান বাঁচবে না এটা সবাই জানে। রুহি যে রোহানের প্রাণ। রোহান অস্থির হয়ে পায়চারি করতে থাকে হাসপাতালের বারান্দা জুড়ে। সবাই আল্লাহকে ডাকে সব কিছু যেনো ভালোই ভালোই মিটে যায়। কিছুখন পর ডক্টর বেরিয়ে আসে সাথে একটা নার্স একটা ফুটফুটে সন্তান নিয়ে হাসি মুখে আসে। ডক্টরকে দেখে সবাই উঠে দাঁড়ায় রোহান ছুটে ডক্টরের সামনে এসে বলে আমার ওয়াইফ কেমন আছে ডক্টর?

– রোহানের কথার জবাব না দিয়ে ডক্টর বলে কংগ্রাচুলেশনস মিষ্টার শেখ আপনার মেয়ে সন্তান হয়েছে বলে নার্সটা সামনে এগিয়ে আসে রোহানের মেয়েকে নিয়ে। রোহান সেদিনে ভ্রুক্ষেপ না করে আবারও বলে ডক্টর প্লিজ বলুন আমার ওয়াইফ কেমন আছে আমি কি একবার ওর সাথে দেখা করতে পারি?

– রোহানের কথায় ডক্টর মুখটা মলিন করে মাথা নিচু করে বলে আইম সরি মিষ্টার শেখ আমরা আপনার ওয়াইফকে বাঁচাতে পারিনি। আমরা অনেক চেষ্টা করেছিলাম জানেন মা এবং সন্তান দুজনকে বাঁচানোর কিন্তু উনার অবস্থা এমন ক্রিটিকাল ছিলো যে আমাদের একজনকেই বাঁচাতে হতো।

– ডক্টরের এমন কথায় থমকে যায় সবাই। রোহান দু কদম পিছিয়ে যায়। বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুখন। রুহির মা এবার শব্দ করে কেঁদে উঠে রুহির বাবা চেয়ারে বসে পড়ে আমিনা বেগম কান্না করতে থাকে রায়হান শেখ যেনো অনুভূতি শুন্য হয়ে গেছে। কি বলল ডক্টর যেনো সব কেমন উলটপালট মনে হচ্ছে।

– রোহান এবার নিজেকে সামলে নিয়ে বলে আপনি আমার ওয়াইফকে কেনো বাঁচালেন না ডক্টর। কে বলেছিলো আমার সন্তান কে বাঁচাতে। চাই না আমি সন্তান। আমার ওয়াইফকে কেনো বাঁচিয়ে রাখলেন না আপনি উত্তর দিন চিৎকার করে বলে রোহান। রোহানের সব কিছু অন্ধকার লাগছে যেনো চারপাশে। বুকের মধ্যে খা খা করছে। পাগল পাগল লাগছে নিজেকে কি করবে না করবে কিছু বুঝে উঠতে পারছে না।

– রোহানকে এমন অস্থির হতে দেখে ডক্টর বলেন শান্ত হোন মিষ্টার শেখ। আমরা আপনার ওয়াইফকে বলেছিলাম উনার অবস্থার কথা। ইনফ্যাক্ট উনি অনেক আগে থেকে জানতেন উনার বেবির অবস্থান ভালো নয়। আমাদের যেকোনো একজনকে বেঁচে নিতে হবে। কিন্তু উনি বলেছিলেন আমরা যেনো উনার সন্তানকে বাঁচায়।

– রায়হান শেখ ছলছল চোখে বলে আমাদের কেনো আগে বলেননি এই কথাটা ডক্টর?
– আমি আপনাদের জানাতে চেয়েছিলাম কথাটা। কিন্তু মিসেস রোহান আমাকে অনুরোধ করে আপনাদের না জানাতে। উনি চেয়েছিলেন উনার সন্তান যেনো এই পৃথীবির আলো দেখে। আমি উনার অনুরোধ ফেলতে পারিনি মিস্টার শেখ আইম সরি বলে ডক্টর চলে যায়।

– রোহান ছুটে যায় রুহির কাছে। নিষ্পাপ চেহারায় অনেক শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে রুহি। রোহান আস্তে আস্তে রুহির দিকে এগিয়ে যায়। রুহির পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে নিরবে কিছুখন। তারপর আস্তে আস্তে করে ডেকে উঠে এই রুহি সোনা উঠো প্লিজ। আর কত ঘুমাবে একটু কথা বলো আমার সাথে । তুমি জানো তোমার নিরবতা আমাকে কতটা পোড়ায়। কতটা কষ্ট দেয়। ওই ডক্টর গুলো বলছে তুমি নাকি আমাকে ছেড়ে চলে গেছো। আমি কিন্তু একটু বিশ্বাস করিনি ওদের কথা৷ কারণ আমি জানি তুমি অনেক দুষ্টু। আমাকে মাঝে মাঝে ভয় পাওয়াতে ভালো লাগে তোমার। প্লিজ আর লুকোচুরি নয় এবার ওঠো। দরজার পাশ থেকে রোহানের কথা শুনে সবাই। আমিনা বেগম এবার ডুকরে কেঁদে উঠে রোহানের অবস্থা দেখে। রায়হান শেখ আমিনা বেগমকে ধরে শান্ত করার চেষ্টা করে।

— এই রুহি শুনতে পাচ্ছো না আমার কথা চিৎকার করে বলে রোহান এবার। চোখ দিয়ে ঝরে পড়ে অশ্রুপাত। কেনো এমন করলে কেনো আমাকে একা রেখে গেলে। তুমি ছাড়া আমি যে নিঃস্ব এটা জানার পরও আমাকে এমন শাস্তি কেনো দিলে। কি দোষ করেছিলাম আমি। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো বলে দাও বলে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে রোহান। রোহানের কান্নার আর্তনাদ হসপিটালের প্রতিটা কোণাকে নাড়িয়ে দেয় যেন। কেঁপে কেঁপে উঠে সব কিছু। একটা নার্স রোহানের এমন কান্না দেখে ছলছল চোখে এগিয়ে এসে রোহানের হাতে একটা চিঠি দিয়ে বলে এটা ম্যাম অপারেশনের আগে আমাকে দিয়ে বলেছিলো আপনাকে দেওয়ার জন্য। যখন ম্যাম আর থাকবে না আমি যেনো তখন দিই আপনাকে এইটা।

– রোহাম কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা ধরে। চোখ মুছে খুলে পড়তে শুরু করে

মিস্টার ডেভিল..

– প্রথমে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তোমার কাছে, এমন একটা সিদ্ধান্ত একা নেওয়ার জন্য। জানি তোমার অনেক কষ্ট হচ্ছে। রাগ হচ্ছে আমার উপর এমনকি আমাকে স্বার্থপরও ভাবছো কিন্তু কি করতাম বলো। নিজের সন্তানের জন্য আমাকে এইটুকু স্বার্থপর হতেই হতো। আমি যে মা আর একজন মা হয়ে সন্তানকে কি করে খুন করতাম। ডক্টর যখন আমাকে বলে আমি এবং আমার সন্তান যেকোনো একজন বাঁচতে পারবো বিশ্বাস করো রোহান আমার পৃথীবিটা যেনো থমকে গিয়েছিলো সেদিন। সহস্র প্রশ্ন, ভাবনা এসে ভীড় করেছিলো আমার মধ্যে। একদিকে তুমি আরেকদিকে আমার সন্তান কাকে বেঁচে নিতাম দোটানায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমি জানি আমাকে ছাড়া থাকতে তোমার অনেক কষ্ট হবে কিন্তু একদিন ঠিক মানিয়ে নিতে পারবে। আমার রেখে যাওয়া উপহার আমার সন্তানকে আগলে বেঁচে থাকবে তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে আমি আমার সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখবো। মা হয়ে নিজের সন্তানের মৃত্যুর কারণ অন্তত হতে পারবো না। মা শব্দটায় যে কত ত্যাগ থাকে সেটা মা নাহলে বুঝতেই পারতাম না। তাই স্বার্থপর হয়ে আমি চলে গেলাম তোমার থেকে দূরে।

– আমার তোমার কাছে অনুরোধ নিজেকে সামলে নিও প্লিজ। আমাদের সন্তানকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখো। তাকে মানুষের মতো মানুষ তৈরি করো। আর একটা কথা যদিও বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে কারণ কোনো মেয়েই চায়না তার স্বামীর ভাগ অন্য কাউকে দিতে সেটা বেঁচে থাকতে হোক কিংবা মৃত্যুর পর। তারপরও বলছি তুমি নতুন করে সব কিছু শুরু করো আবার প্লিজ। আমার ভালোবাসাটা আমার জন্য রেখে অন্যজনকে নিয়ে নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখো। তবে দয়া করে আমার সন্তানকে তোমাদের মাঝে রেখো। তাকে অবহেলা করো না কখনো। তাহলে যে আমি মরেও শান্তি পাবো না কখনো। ভালো থেকো আর সবাইকে ভালো রেখো। আমার বাবা মাকে দেখে রেখো আমার ভাইকে সুশিক্ষায় গড়ে তোলো। ওদের যে আর কেউ রইলো না।

ইতি
স্বার্থপর বউ তোমার।

– চিঠিটা পড়ে পাগলের মতো হাসতে থাকে রোহান। জোরে শব্দ করে হাসতে থাকে তাই দেখে অবাক চোখে তাকায় সবাই রোহানের দিকে।
— তুমি সত্যি স্বার্থপর রুহি সোনা। আমাকে ঠকিয়েছো তুমি। আমাকে নিঃস্ব করে দিয়ে গেছো। আই হেট ইউ রুহি সোনা এই হেট ইউ বলে অজ্ঞান হয়ে যায় রোহান। রোহানকে পড়ে যেতে দেখে সবাই ছুটে আসে। ডক্টর এসে রোহানকে দেখতে থাকে।

– পার হয়ে যায় এভাবে সপ্তাহ। রোহান নিজেকে ঘর বন্দি করে রাখে। কারো সাথে কথা বলে না। ঘর থেকে বের হয়না। এমনকি নিজের মেয়েকে পর্যন্ত দেখেনি। রুহির একটা ছবি বুকে জড়িয়ে ঘরের মেঝেতে বসে থাকে সব সময়। মাঝে মাঝে আপন মনে কথা বলে রুহির ছবির সাথে৷ অভিযোগ গুলো জমা করে রুহির কাছে।
– এইদিকে রাফি অনবরত কান্না করে যায়। কেউ থাকে সামলাতে পারে না। সবাই ভেঙে পড়ে রাফিকে নিয়ে। একবার কান্না শুরু করলে চুপ করানো দ্বায় হয়ে যায়। রোহান নিজের ঘরে বসে আছে হঠাৎ কানে রাফির কান্নার শব্দ আসে। চিৎকার করে কান্না করছে রাফি। রোহান সে কান্নার শব্দ শুনে কান চেপে ধরে দু’হাতে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়না। রোহান এবার আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না। ছুটে যায় রাফির কাছে গিয়ে কোলে তুলে নেয়। রোহান কোলে নেওয়ার কিছুখনের মধ্যে রাফি চুপ হয়ে যায় তার কিছুখন পর মুচকি হেসে একাই ঘুমিয়ে পড়ে তাই দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়। যে মেয়েকে এত কিছু করেও থামানো যেতো না সে বাবার কোলে যেতেই শান্ত হয়ে গেছে এটা ভেবে সবাই আশ্চর্য হয় প্রায়। প্রথম রাফির মুখ দেখে রোহানের মনে একটু শান্তি অনুভব হয়। তার উপর রাফির এমন হাসি মাখা মুখের মায়ায় আবদ্ধ হয়ে যায় রোহান। আঁকড়ে ধরে মেয়েকে দু’হাতে। রাফির গালে চুমু খেয়ে বলে আমি আছি সোনা তোর বাবা। তোকে আমি আর দূরে রাখবো না। তোর মা তোকে ছেড়ে গেছে কিন্তু আমি আছি তোর সাথে। আজ থেকে তুই আমার সব সোনা। তোকে নিয়ে আমার পথ চলা। তারপর থেকে রোহান স্বাভাবিক হতে থাকে আস্তে আস্তে। মেয়েকে নিয়ে তার নতুন পৃথীবি সাজায়। ব্যস্ত হয়ে পড়ে কাজ আর মেয়েকে নিয়ে। বন্দী ঘরে রুহির প্রতি অভিযোগ এই সব নিয়ে দিন কাটে রোহানের।

– রোহান রেডি হয়ে নিচে নামে। রোহানকে আসতে দেখে রাফি চিৎকার করে বলে ওইতো পাপা আসছে। ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সবাই রাফির কথায় সিড়ির দিকে তাকায়। রোহানকে আসতে দেখে সবাই যে যার মতো বেরিয়ে যায়। এই দিনে সবাই রুহির কবরে যায় কবর জিয়ারত করতে। রোহান রাফিকে কোলে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়।

– রুহির কবরের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। রুহির মা কান্না করছে অনেক আগে থেকে। রুহির বাবা নিরব হয়ে মেয়ের কবরের দিকে তাকিয়ে আছে। রোহানের মা বাবা ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে।

– মাম্মাম দেখো আমরা সবাই এসেছি তোমার সাথে দেখা করতে। তোমাকে অনেক মিস করি মাম্মাম। তুমি কেনো আমার কাছে আসো না। সবার মা আছে শুধু তুমি নেই আমার কাছে। কবে আসবে মাম্মাম তুমি আমার কাছে। রাফির কথা রোহানের বুক ফেটে কান্না আসতে চাই। নিজেকে শক্ত করে রেখেছে রোহান। তার কান্না যে আর কাউকে দেখাতে চাই না সে।

– জানো মাম্মাম পাপা রোজ কান্না করে তোমার ছবির দিকে তাকিয়ে। তোমাকে ছাড়া পাপা ও ভালো নেই।প্লিজ তুমি তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে ফিরে এসো। তারপর পাপাকে অনেক করে বকে দিবে কেমন। পাপা যেনো আর কান্না না করে। রাফির কথায় সবাই কাঁদে। এই ছোট মেয়েটারও যে মায়ের কাছে অনেক আবদার।

– মা রাফিকে নিয়ে তোমরা আগাও আমি আসছি। রোহানের কথায় আমিনা বেগম রাফিকে নিয়ে চলে যায়। সবাই একে একে চলে যায় সেখান থেকে। রোহান নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে মুখ খুলে বলে কেমন আছো রুহি সোনা। জানি অনেক ভালো আছো তুমি। ভালো থাকার জন্য তো আমাদের ছেড়ে চলে গেছো। আর আমি দেখো দিব্যি আছি তোমার দেওয়া সব আঘাত নিয়ে প্রানহীন দেহতে। তবে আমি কিন্তু তোমার সব কথা রেখেছি৷ নিজেকে সামলে নিয়েছি আমাদের সন্তানকে আগলে রাখছি শুধু একটা কথা রাখতে পারিনি আর না কখনো পারবো। নতুন করে আমার জীবনে কাউকে আমি নিয়ে আসতে পারবো না আমি। ওইটা তোমার জন্য থাকবে সব সময়।

– জানো রুহি তোমার আমার #ভালোবাসার_লুকোচুরি থেকেই গেলো। শেষ হয়েও যেনো শেষ হয়নি এই লুকোচুরি খেলা। একসাথে থাকতে ছিলো অপ্রকাশিত লুকোচুরি ভালোবাসা আর এখন অনেক দূর হতে ভালোবাসার লুকোচুরি। দুজন দুজনকে ভালোবাসি ঠিকই কিন্তু দুজন দু’প্রান্তে। হয়ত শেষ দিন পর্যন্ত এমন ভাবে চলবে আমাদের ভালোবাসা। আমি তোমার সাথে নাহয় ভালোবাসার লুকোচুরি নিয়ে দিন পার করলাম। আবার দেখা হবে আমাদের ওপারে রুহি সোনা আর তখন কোনো লুকোচুরি থাকবে না আমাদের মাঝে৷ আই মিস ইউ রুহি সোনা মিস ইউ বলে কান্না করে দেয় রোহান৷ মুক্ত বাতাস স্থির হয়ে যায়। উড়ন্ত পাখিটাও যেনো থমকে দাঁড়ায়,, কবরের মৃত মানুষ গুলো হয়ত ডুকরে কেঁদে উঠতে চাই একজন স্বামীর এমন আর্তনাদ দেখে। একজন মানুষ ভালোবাসা পাওয়ার যে আক্ষেপ তা সব কিছুকে ছাড়িয়ে যায়।

“ভালোবাসা তো এমনই অনুভূতি
যার মধ্যে মায়ায় ভরা
থাকে প্রত্যাশা ভরপুর
আবার না পাওয়ার ছায়া”।

সমাপ্তি –

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ