Friday, June 5, 2026







তুমি আমার প্রিয়তমা পর্ব-০৫

#তুমি_আমার_প্রিয়তমা
#লেখিকা_Amaya_Nafshiyat
#পর্ব_০৫

পরেরদিন,,
সকাল থেকেই সবাই বিজি।আজকে আবিরের হবু বউ সারা’দের বাসায় সবাই দাওয়াত খেতে যাবে।সকালের নাশতা করলো সবাই একসাথে।

প্রিয়তা,জুই,ডলি ও তানিয়া সবাই সকালের দিকে লেনে হাঁটতে গিয়েছিলো।হাউজিং এস্টেট এরিয়ার লেনগুলো হাঁটার জন্য একদম পারফেক্ট প্লেস।মানুষ যেমন কম থাকে রাস্তায়,তেমনি গাড়িও খুব কম চলাচল করে।সব রাস্তা অলয়েজ ফ্রি থাকে।কোনো গ্যান্জাম নেই।প্রিয়তার শীতের সকালে হাঁটতে খুব ভালো লাগে।প্রিয়তার এই এরিয়ার বিলাশবহুল বাসা গুলোও দেখতে ভীষণ ভালো লাগে।তার ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা যে তার নিজেরও এরকম একটা বিলাশবহুল বাসা হবে।

দুদিন ধরে সৌরভ সকালে হাঁটতে যেতে পারে না।নয়তো সে প্রত্যেকদিনই কাজে যাওয়ার আগে সাত সকালে হাঁটতে বেরোতো।এত বছর পর দেশে এসেছে,বাংলাদেশের সময়ের সাথে খাপ খাওয়াতে একটু তো সময় লাগবে।

সৌরভ একদম পুরোপুরি রূপে তৈরী হয়ে নিচে নেমে এলো।আজকে সে একটা গাঢ় বেগুনি রঙের শার্ট এবং কালো রঙের ব্লেজার পড়েছে।সাথে আছে ডার্ক ব্লু জিন্স প্যান্ট ও পায়ে ব্ল্যাক কেডস। হাতে এপল ব্রান্ডের ওয়াচ।চুল জেল দিয়ে ব্যাকব্রাশ করা।চোখে ব্ল্যাক ফ্রেমের পাওয়ারহীন চশমা।মুখে কালো মাস্ক।সবকিছু মিলিয়ে দেখতে ভীষণ হ্যান্ডসাম লাগছে তাকে।সৌরভকে দেখে জুই ও প্রিয়তা দুজনেই মারাত্মক ক্রাশ খেলো।জুই হা করে নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে আছে তার দিকে।প্রিয়তা লজ্জায় তাকাতে পারছে না,পাছে যদি সৌরভ বুঝে ফেলে যে প্রিয়তা তাকে দেখে ক্রাশ খেয়েছে!

প্রিয়তাকে দেখে সৌরভ চোখ ফেরাতে ভুলে গেছে যেন।সাদা কালো চেক ডিজাইনার একটা ঢোলা গাউন পড়েছে সে আজ,সাথে প্লাজু,ওড়না মাথার ওপর মার্জিত ভাবে ফেলে রাখা।মুখে কালো মাস্ক।এতেই তাকে অনেক আকর্ষণীয় লাগছে।সৌরভ মুচকি হাসলো আনমনে।কাউকে ভালো লাগলে বুঝি ফিলিংসটাই এমন অদ্ভুত হয়!

ডলি আর তানিয়া সৌরভের ভয়ে প্রিয়তার মতো লং ঢোলা গাউন ও হিজাব পড়েছে।সৌরভ না থাকলে তাদের কাপড় হিসেবে জিন্স,লেগিংস,টপস এসবই মুখ্য থাকতো।ওরা মোটেও পর্দাশীল টাইপের নয়।সৌরভ কানাডা চলে যাওয়ার পর থেকে তাদেরও চলাফেরায় পরিবর্তন এসেছিলো।তাদের অন্য ভাইয়েরা আবার এসবের প্রতি তেমন একটা দৃষ্টি দেয় না।কিন্তু সৌরভ একটু কঠিন ধাঁচের।

সে বোনদের বেপর্দা করার পারমিশন দিয়ে দাইয়ুস উপাধি গ্রহণ করতে চায় না।তাই ছোটবেলা থেকেই আদরের সময় আদর ও শাসনের সময় শাসন বজায় রাখতো।এখন দেশে এসে গেছে তারমানে আবারও সেই আদেশ জারি হয়েছে।সেটা ডলি,তানিয়া থেকে শুরু করে বাসার প্রত্যেকটা মেয়ে মানুষ বুঝতে পেরেছে।বাসার প্রত্যেকেই সৌরভের কথা মান্য করে।সম্মানিত একজন সদস্য বলে কথা।

ভাতিজা জিহানকে কোলে নিয়ে বাইরে হাঁটছে সৌরভ।কয়েকজন সদস্যের তৈরি হতে এখনো বাকি তাই বাইরে ভাতিজা ভাতিজিকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছে সে।তার সাথে তূর্য,আকিল আর আবিরও আছে।

প্রিয়তা ড্রয়িং রুমের বড় জানালাটার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সৌরভকে একমনে প্রত্যক্ষ করে যাচ্ছে।সে বুঝতে পারছে না একটা মানুষ এতটা সুন্দর মনের ও সৌন্দর্যের অধিকারী কীভাবে হয়?এরকম একটা মানুষকেই তো নিজের লাইফ পার্টনার হিসেবে সবসময় চাইতো প্রিয়তা।এমনকি এখনও চায়।তাহলে কী সত্যি সত্যিই নিজের মনের মতো একজন মানুষকে পেয়ে গেছে সে?কথাটা ভাবতেই লজ্জায় লাল হয়ে গেল প্রিয়তা।

সবাই রেডি হয়ে বেরোলে বাসার সদর দরজা তালা মারা হলো।অবশ্য গেইট ও পুরো বাসা পাহারায় সিকিউরিটি গার্ড একজন আছে।কোনো সমস্যা না।তাদের নিজস্ব হাইয়েস গাড়িতে প্রায় সবাই ওঠে বসলো।শুধু সৌরভ,তুর্য,হৃদয়,জুই,আকিল আর প্রিয়তা সবার লাস্টে ছিলো।পরে দেখা যায় গাড়িতে আর জায়গা নেই।তখন মিসেস মিনা বলে উঠেন;

মিসেস মিনা:-ওমা ওরা এবার কীসে করে যাবে তাহলে?

সৌরভ আর হৃদয় মিলে একটা ছক কষলো।কয়েক মিনিট আলোচনার পর ঠিক হলো প্রিয়তা সৌরভের সাথে,জুই তূর্যের সাথে ও আকিল হৃদয়ের সাথে বাইকে করে যাবে।তাদের এক্সট্রা কার না থাকলেও প্রত্যেক ছেলেরই বাইক আছে।সৌরভ তার নিজের বাইক চালাবে,তূর্য চালাবে আবিরেরটা ও হৃদয় চালাবে তার নিজেরটা।আলোচনা শেষে প্রিয়তার সৌরভের সাথে যাওয়ার কথা শুনে জুই বলে উঠে;

জুই:-সৌরভ ভাইয়া,প্রিয়তা তূর্য ভাইয়ার সাথে চলে যাক।আমি বরং তোমার বাইকে করে তোমার সাথে আসি।

সৌরভ একবার প্রিয়তার দিকে তাকিয়ে ডিরেক্ট নাকচ করে দেয় প্রস্তাবটা।

সৌরভ:-নাহ,তুমি বরং তোমার ভাইয়ার সাথে যাও।প্রিয়কে নিয়ে আসছি আমি।

জুইয়ের চেহারায় মেঘের ঘনঘটা নেমে এলো কথাটা শুনে।বেচারি এই একটা কথাতেই ছ্যাকা খেয়ে ব্যাঁকা হয়ে গেছে।সৌরভ বাবার কাছ থেকে চাবি নিয়ে বাসার ভেতর প্রবেশ করে গিয়ে বাইকের চাবি ও হেলমেটগুলো গিয়ে আনলো।গ্যারেজ থেকে এক্সট্রা একটা হেলমেটও আনলো।তারপর সবার হেলমেট ও চাবি গছিয়ে দিয়ে নিজে একটা হেলমেট পড়ে প্রিয়তাকে নিজ হাতে একটা হেলমেট পড়িয়ে দিতে লাগে।প্রিয়তা মুগ্ধ দৃষ্টিতে সৌরভের টানা টানা চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।মন যে প্রেমে পড়ে যাচ্ছে একজনের সে খবর কী আছে তার!

সৌরভ হেলমেট লাগানো শেষে বাইকে চড়ে বসে প্রিয়তাকে লক্ষ্য করে বললো;

সৌরভ:-বাইকে ওঠে বসে আমাকে শক্ত করে ধরে রাখবে।নয়তো উল্টে পড়ে যেতে পারো।

প্রিয়তা:-হুম।

সৌরভের পিছনে ওঠে বসলো প্রিয়তা।ঠিকঠাক হয়ে বসে সৌরভের দিকে তাকালো।সংকোচ হচ্ছে তার সৌরভকে ধরে বসতে।কেমন জানি লজ্জা লজ্জা লাগছে।সৌরভ বুঝলো সেটা।তাই সে নিজেই প্রিয়তার একহাত টেনে নিয়ে নিজের পেটের ওপর রাখলো।প্রিয়তা ড্যাবড্যাব দৃষ্টিতে সৌরভের দিকে একপলক তাকালো।সৌরভ যে মিটমিট করে হাসছে তা ধরতে পারলো না প্রিয়তা।

সৌরভ:-এতটুকুতে লজ্জা পেতে হবে না।তুমি কম্ফোর্ট ফিল করবে না দেখে তূর্য বা বড়ভাইয়া ওদের সাথে তোমাকে যেতে দিই নি।এখানে কোনো প্রবলেম হলে তুমি নিঃসংকোচে আমাকে বলতে পারো।বাই দ্যা ওয়ে,ভালো করে ধরে বসো।আমি বাইক স্টার্ট দিবো।

সৌরভের কথা শুনে প্রিয়তার সংকোচ আস্তে ধীরে কমে গেল।সৌরভকে সে এই কদিনে যত দেখছে তত মুগ্ধ হচ্ছে।এত ভালো কেন ছেলেটা জানে না সে।এই ছেলের কাছে শুধু সে নয় সবমেয়েরাই নিরাপদ থাকতে পারবে।চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করার মতো একজন ব্যক্তি।এমন ছেলে এই দুনিয়ায় খুঁজলে হয়তো হাতে গোনা দুয়েকজন পাওয়া যাবে।

হাইয়েস গাড়িটা আগেই চলে গেছে।হৃদয়ের বাইকও পেছন পেছন চলে গেছে।এখন তূর্য আর সৌরভ একই সাথে বাইক স্টার্ট দিলো।ফ্রি রোড পেয়ে তূর্য অনেক স্পিডে বাইক নিয়ে সৌরভের আগেই এগিয়ে গেছে।সৌরভ পারফেক্ট স্পিডে বাইক চালাচ্ছে।প্রিয়তা বাইকের আয়নায় আরচোখে বারবার সৌরভকে লক্ষ্য করছে,যদিও সৌরভ বুঝতে পারছে না তা।

প্রিয়তাকে একটা প্রশ্ন বারবার খোঁচাচ্ছিল এতক্ষণ ধরে।তাই কৌতুহল দমাতে না পেরে আমতা আমতা করে শেষে জিজ্ঞেসই করে ফেললো সৌরভকে;

প্রিয়তা:-আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি,যদি কিছু মনে না করেন!

সৌরভ:-হুম করো,কিছু মনে করবো না।

প্রিয়তা:-আপনি তো এই ৬ বছর কানাডাতে ছিলেন।এসেছেন মাত্র ২ কী ৩ দিন হলো।তাহলে বাইক চালানো আয়ত্ত করলেন কবে?

সৌরভ:-আমি যখন ক্লাস টেনে পড়তাম তখন বাইক চালানো শিখেছিলাম আমার এক বন্ধুর ভাইয়ের কাছ থেকে তুমি হয়তো জানো না।কারণ তখন আমার বাইক ছিলোও না।বড়ভাইয়ার বাইক চুরি করে চালাতাম।এজন্য বকাও খেয়েছি অনেক।

প্রিয়তা:-তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু এতদিন তো চালান নি।নাকি কানাডায় বাইক ছিলো আপনার?

সৌরভ:-নাহ।কানাডায় বাইক ছিলো না।বাট কার ড্রাইভ করেছি অনেক।ইচ্ছা করেই এসব কিছু কিনি নি।কজ আমার সেটেল হওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিল না।

প্রিয়তা:-তাহলে এখন বাইক চালাতে আপনার জড়তা কাজ করছে না?মানে অনেকদিন পর চালাচ্ছেন তো!হিমশিম খেতে হচ্ছে না চালাতে গিয়ে?

সৌরভ মাস্কের আড়ালে হাসলো প্রিয়তার বাচ্চাদের মতো করা এলোমেলো প্রশ্ন শুনে।বেচারি সংকোচের কারণে ঠিকমতো প্রশ্নও করতে পারছে না।সৌরভ মৃদুহাসিযুক্ত জবাব দিলো;

সৌরভ:-নাহ কোনো জড়তা কাজ করছে না।আমি এত সহজে কিছু ভুলি না।আর যেদিন বাইক কিনেছি সেদিনই কয়েকদফা প্র্যাক্টিস করে নিয়েছি।তাই এখন আর চালাতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

প্রিয়তা:-ওহহ।

প্রিয়তার প্রশ্ন ভান্ডার ফুরিয়ে এলো।আর কিছু খুঁজে পাচ্ছে না বলার মতো।সৌরভ চুপচাপ বাইক চালাচ্ছে।দুজনের মধ্যে আর কোনো কথা হলো না।অবশেষে সারা’দের বাসায় পৌঁছে গেলো ওরা দুজন।তাদের যাওয়ার কিছুক্ষণ আগেই বাকিরা পৌঁছে গেছে।

অন্যান্য গাড়ির পাশে সৌরভ বাইক পার্ক করলো।তারপর চাবি নিয়ে সোজা হাঁটা দিলো বাসার সদরদরজার দিকে।সৌরভের পিছু পিছু প্রিয়তাও ছুটলো।অতঃপর দুজনেই বাসার ড্রয়িং রুমে প্রবেশ করলো।

সৌরভকে দেখেই হাঁ হাঁ করে ছুটে এলেন সারার বাবা।এসেই সৌরভকে বুকে জড়িয়ে নিলেন।সৌরভও আন্তরিক কন্ঠে সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলো।প্রিয়তাকে দেখে সারার ছোট বোন জারা ছুটে আসে।প্রিয়তার সাথে তার খুব ভালো বন্ডিং আছে।সমবয়সী বলে কথা।এসেই প্রিয়তাকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরলো।

প্রিয়তা:-কেমন আছিস জারুবেবি?

জারা:-ওফফ,এতক্ষণ তোর অপেক্ষাই করছিলাম।আমি অনেক ভালো আছি।তুই কেমন আছিস?

প্রিয়তা হাসিমুখে জবাব দিলো;

প্রিয়তা:-হ্যা আমিও খুব ভালো আছি।

জারা:-চল আমার রুমে যাই।গল্প করবো অনেক।

প্রিয়তা হেসে বললো;

প্রিয়তা:-আচ্ছা ঠিক আছে চল।

দুজনে ভেতরের রুমে চলে গেল।সৌরভ সোফায় গিয়ে বসলো।সবাই বিভিন্ন আলাপ আলোচনায় মেতে উঠলেন।সাথে চললো হরেক রকমের নাস্তা পানীয় খাওয়া।

প্রিয়তা,জুই,সারা,ডলি,তানিয়া ও জারা একসাথে সবাই মিলে সারার রুমে বসে আড্ডা দিতে লাগলো।প্রিয়তার চঞ্চলতা কেন জানি একটু গুটিয়ে গেছে সৌরভ আসার পর থেকে।তার মনে হয় সৌরভ এত দুষ্টামি পছন্দ করে না তাই সেও দুষ্টামি করা কমিয়ে দিয়েছে।কেন যে সে সৌরভের কথা এত চিন্তা করে তা সে নিজেও জানে না।যে মেয়েটা একদম ডোন্ট কেয়ার টাইপের ছিলো সে আজ অন্য কারও পছন্দ অপছন্দ মেনে চলে।নিজেই অবাক হয়ে যায় নিজের এমন পরিবর্তন দেখে।

আযান দিতেই মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেল সৌরভ মামার তার সাথে।আর কেউ নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে আসে নি।এরকম বেশিরভাগ মানুষই করে থাকে।সৌরভের পরিবারও তার ব্যতিক্রম নয়।নামাজের প্রতি উদাসীন।

ওরা দুজন মসজিদ থেকে আসার পর দুপুরের খাবার সবাই একসাথে খেলো।সৌরভকে আরও তীব্রভাবে আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত হয়ে গেছে তার মামা মামী।

আবির আর সারা দুজন ছাদে গিয়ে সময় কাটাচ্ছে।সৌরভের সামনের সোফায় বসে আছে প্রিয়তা।সবাই আবারও আড্ডায় মশগুল হয়ে গেছে।প্রিয়তা সবার মাঝখানে বসে আছে।যত বেলা গড়াচ্ছে তত ঠান্ডা লাগছে।এদিকে প্রিয়তা সোয়েটার আনে নি।ওরও শীত লাগছে খুব।মিসেস শিলা এক্সট্রা একটা শাল নিয়ে এসেছিলেন।কারণ তিনি জানেন প্রিয়তা শীতের কাপড় কিছু আনবে না।তিনি ভারী শালটা প্রিয়তার গায়ে জড়িয়ে দিতেই প্রিয়তা তা শরীরের আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে নিলো।

প্রিয়তা সৌরভকে বারবার আরচোখে দেখছে।এ দেখার যেন শেষ নেই।হৃদয় কী একটা হাসির কথা বলতেই সৌরভ খিলখিল করে হেসে উঠলো।সৌরভের হাসি দেখেই প্রিয়তা পুরোপুরি ফিদা হয়ে গেছে।এমনসময় আকিলের ফোনে রিংটোন বেজে ওঠলো,

ইক মোলাকাত মে
বাত হি বাত মে,
উনকা ইউ মুসকোরানা
গাজাব হগায়া…

আকিল বাইরে গেল ফোন রিসিভ করতে।গানটা যেন প্রিয়তার মনের কথা বলে গেল।উফফ,অন্যরকম এক ফিলিংসের সৃষ্টি হয়েছে মনে,যা কাউকে ভাষায় বোঝানো যাবে না।প্রিয়তা হারিয়ে গেছে সৌরভের ওই নজরকাঁড়া হাসিতে।কোনো ছেলে এত সুন্দর হাসতে পারে জানা ছিল না তার।সৌরভ খেয়াল করলো প্রিয়তা যে তার দিকে ড্যাবড্যাব দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।সৌরভ ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করলো,”কী”!সৌরভের এমন ইশারা পেয়ে হকচকিয়ে গেল যেন প্রিয়তা।তারপর সম্বিৎ ফিরে পেতেই দ্রুত মাথা নেড়ে না বোঝালো।সৌরভ আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।বাকিদের সাথে বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে লাগলো।

সন্ধ্যার একটু পর অর্থাৎ মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে বাসায় যাওয়ার তোরজোর শুরু হলো।সারা আর আবিরের বিয়ের আর মাত্র ৭ দিন বাকি আছে।ধীরে ধীরে দুপক্ষের বাসায়ই মেহমান আসা শুরু হবে।বিয়ের অনেক অনেক কাজ বাকি আছে এখনো।কেনাকাটাও বাকি আছে বেশ।কিছু আত্মীয়দের দাওয়াত দেয়াও বাকি।সবকাজ সুন্দর ভাবে কমপ্লিট করতে হবে নয়তো ঝামেলা হবে পরে।

ওনাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সবাই গাড়িতে উঠলো।সৌরভ বাইক বের করে আবারও প্রিয়তার মাথায় হেলমেট পড়িয়ে দিলো।তারপর নিজে পড়ে নিয়ে বাইকে ওঠে ইগনিশনে চাবি ঢুকিয়ে মোচর মেরে স্টার্ট দিলো।জারা ও সারা দুজনেই তাদের বিদায়কালে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলো।প্রিয়তা তাদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে টাটা দেয়।ওরাও একই কাজ করে।তারপর গেইট দিয়ে বাইক চালিয়ে বেরিয়ে এলো সৌরভ।প্রিয়তা সৌরভের পেট একহাত দিয়ে শক্ত করে প্যাচিয়ে জড়িয়ে ধরে বসে আছে চুপচাপ।দুজনের মধ্যেই নিরবতা বিরাজ করছে।তবে মুহূর্তটা দুজনেই ফিল করছে।প্রিয়তা ভাবছে,সময়টা যদি এখানেই থমকে যেত তাহলে কতই না ভালো হতো।সৌরভও সেইম কথা মনে মনে ভাবছে।

চলবে…

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ