Friday, June 5, 2026







উপসংহার পর্ব-০৫

#উপসংহার
#পার্টঃ৫
#জান্নাতুল কুহু (ছদ্মনাম)
—বিয়ে না হয়ে বিধবা কিভাবে হতে পারে?

সিয়াম হেমার কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলো। হেমার মানসিক ভারসাম্য ঠিক আছে কিনা সেটা নিয়ে খানিক সন্দেহ জাগলো। নাকি তার সাথে কথা বলার বাহানা শুধু? সে হেমার দিকে ভালো করে তাকালো। চাইনিজ রেস্টুরেন্টের আলো-আধাঁরি পরিবেশে হেমার মুখ ঠিক ভাবে দেখা যাচ্ছে না। দেখলো হেমা কেঁপে কেঁপে উঠছে। সর্বনাশ! মেয়েটা কান্না করছে নাকি? হেমা মাথা তুলে তার দিকে তাকালো। নাক সামান্য টেনে বলল,

—আপা বিবাহিত না হয়ে বিধবার জীবনযাপন করছে। তা একপ্রকার আমার মায়ের জন্যই।

সিয়াম কিছু বললো না। হেমাকে বলার সুযোগ দিলো। হেমা আবার বলতে শুরু করলো,

—আপার যখন অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয় তখন আমার বয়স ১৩-১৪ বছর। আজ থেকে সাত আট বছর আগে। তখন বাবার একটা ছোট মুদির দোকান ছিলো। ভাড়া করা দোকান। আমরা এখন নিজেদের বাড়িতে থাকি কিন্তু তখন থাকতাম না। একটা ভাড়া বাসাতে থাকতাম। এই জমিটা নিয়ে বড় চাচার ঝামেলা ছিলো বলে বাড়িও তুলতে পারছিলো না বাবা। আপার জন্মের কয়েকবছর পরে বাবার একটা বড় এক্সিডেন্ট হয় যার কারণে শরীরে অনেক জটিলতা ছিলো। ভারী কাজ করতে পারতো না। তাই মুদির দোকানই ভরসা ছিলো।

হেমা ছোট শ্বাস ফেলল।

—এরপর বাবা মা ঠিক করে আপার বিয়েটা চুকিয়ে দিবে। আপার ইচ্ছা ছিলো মাস্টার্স করে বিসিএস দিবে। কিন্তু যখন বিয়ের কথা উঠলো তখন বাসা থেকে বলল মাস্টার্স করতে দিবে না। তাই আপা বিসিএস দিতে চাইলো। কিন্তু তখনও অনার্সের সার্টিফিকেট দেয়নি। তাই বিসিএস এর জন্য এপ্লাই করতে পারতো না। কিন্তু এখনকার হাই স্কুলটাতে চাকরির পরীক্ষা দিলো বাড়ির সবার থেকে লুকিয়ে। গ্রামের মতো জায়গার স্কুল আর কমিটির মেম্বার সেক্রেটারির সাথে ভালো যোগাযোগ থাকায় সার্টিফিকেট ছাড়ায় আপা পরীক্ষায় বসে রেজাল্টশীট জমা দিয়ে। কথা থাকে সার্টিফিকেট হাতে পেলে জমা দিবে। এরপর আপার বিয়ে ঠিক হয় জাহিদ ভাইয়ের সাথে।

সিয়াম কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করলো,

—জাহিদ?

—হ্যা জাহিদ ভাই। আপার কলেজের সিনিয়র ছিলো জাহিদ ভাই৷ আপার সাথে অনেকদিন সম্পর্ক ছিলো। আমি ছোট ছিলাম। তবুও জাহিদ ভাইয়ের চোখে আমি স্পষ্ট আপার জন্য ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা দেখেছি। মানুষের চোখ কখনো মিথ্যা বলেনা। জাহিদ ভাই ভালো চাকরি করতো। তার বাবা বেঁচে ছিলো না। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। জাহিদ ভাইয়ের মা অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। আপাকে চিনতেন আর অনেক পছন্দও করতেন। কোন দাবি-দাওয়া ছাড়া বিয়ের কথা ঠিক হয়ে যায়। আমার পরিবার থেকে বলা হয় ছোট একটা অনুষ্ঠান করবে। বেশি মানুষ খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই। জাহিদ ভাইয়েরা সেটাও মেনে নেয়। উনার দুজন চাচা আর আর একজন ফুফু আসবে শুধু। বিয়ের সব কথা পাকা হওয়ার পরে বাবা স্ট্রোক করে। একপাশ অবশ হয়ে যায়। বাবার চিকিৎসার জন্য বাড়ির করার সঞ্চয়ের প্রায় পুরোটাই খরচ হয়ে যায়। এরপর খবর পাই আপার চাকরিটা হয়ে গেছে।

হেমা টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে কিছুক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো।

—আপার চাকরির কথা শুনে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলো। লোভ কাকে বলে সেটা আমি সেদিন আমি আমার মায়ের মধ্যে দেখেছিলাম। সংসারের ঐ অবস্থা তখন। বাবার কাজ করার সামর্থ্য নেই। লোন হয়েছে। দোকানটা উঠিয়ে দেয়ার উপক্রম। মা চেয়েছিলো আপার বিয়েটা ভেঙে দিতে।

—কেন?

হেমা বিদ্রুপের হাসি হেসে বলল,

—আপা চাকরি পেয়েছে। বেতনও ভালো। এমন সোনার ডিম পাড়া হাঁস আমার মা ছাড়তে চাইবে? বলে না অভাবে স্বভাব নষ্ট? আমার মা ছোট থেকে অভাবী ছিলো। আর
উচ্চাভিলাষীও। বিয়ে ভাঙার পক্ষে বাবা ছিলো না বলে সেটা হয়না। এরপর আপার বিয়ের দিন চলে আসে। আমাদের দিক থেকে তেমন কোন আত্মীয় ছিলো না। বড় চাচা আর দুজন প্রতিবেশী। কাজি জাহিদ ভাইকে বিয়ে পড়িয়ে যখন আপার ঘরের সামনে আসে তখন ঘরে কেবল আমি আর মা ছিলাম। আপাকে কবুল বলতে বলে তখন মা ঘরের বাইরে গিয়ে শুনে আসে জাহিদ ভাই বের হয়ে গেছে কারণ দেনমোহরের টাকা আনেনি। জাহিদ ভাই সাথে আরেকজন চাচাতো ভাই ছিলো। আপা অপেক্ষা করছিলো জাহিদ ভাই আসার। উনি আসার পরে কবুল বলবে। কিন্তু ভাই আর ফেরত আসে না।

হেমার গলা ধরে আসে৷ সিয়াম কি হলে সান্ত্বনা দিবে বুঝে উঠতে পারলো না। আবার সে বুঝতেও পারছে না আসলে কি হয়েছে।

— আসার পথে দুজনই এক্সিডেন্ট করে। জাহিদ ভাইয়ের চাচাতো ভাই ওখানেই মারা যায়। জাহিদ ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আপা এই খবর শুনে স্তব্ধ হয়ে যায়। আমি আজও সেদিনের আপার কথা ভুলতে পারিনা। নতুন সুখের আশাটা এক নিমিষে শেষ হয়ে যাওয়ার বিষাদের রঙটা আমি ভুলতে পারিনা। রাতে জাহিদ ভাই মারা যায়। আর আপা স্তব্ধ হয়েই থাকে। সবাই বলেছিলো শেষবার দেখতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু আপা যায়নি।

সিয়াম অস্বস্তি নিয়ে নড়েচড়ে উঠলো। এখনো বিষয়টা তার কাছে অস্পষ্ট। শ্রাবণী তো কবুলই বলেনি।

— ঐরাতে আমাকে মা আপার ঘর থেকে বের করে দেয়। আর মা সারারাত আপার সাথে ঘরে থাকে। আমি জানিনা সারারাত কি হয়েছিলো। কিন্তু পরেরদিন যখন এই খবরটা পুরো এলাকাসহ সব আত্মীয়ের মধ্যে ছড়িয়ে যায় আর আমাদের বাড়িতে অনেক লোক আসে। তখন মা উঠানে বসে কেঁদে কেঁদে বলতে থাকে আমার মেয়েটা বিধবা হয়ে গেলো রে বিধবা হয়ে গেলো। বিয়ের আসরেই বিধবা হলো। কেবল আমার কানে কানে কবুল বলল। আমি কাজী সাহেবকে বলার আগেই খবর পেলাম জাহিদ বের হয়ে গেছে। কাজীও জাহিদের জন্য অপেক্ষা করতে বসার ঘরে চলে গেলো। আর জামাইটা আমার মারা গেলো।

হেমা চুপ হয়ে গেলো। সিয়ামও কিছুক্ষণের জন্য হতভম্ব হয়ে বসে থাকলো। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। সিয়াম বলল,

— শ্রাবণী কিছু বলেনি?

হেমা মাথা নাড়লো।

—শ্রাবণী সবটা মেনে কিভাবে নিলো? এতোদিন ধরে কেন একটা মিথ্যাকে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে?

—জানিনা। আপা কেন এটাকে টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছে। বউ পরিচয়টা পায়নি তাই বিধবার পরিচয়টাই হয়তো গ্রহন করেছে।

— কাজী সাহেব বলেননি কিছু? জাহিদের বাড়ির লোক?

হেমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—উনারা আর কি বলবে? সবাই জানে মা আর আমি ঘরে ছিলাম। আপা কবুল বলেছে মা শুনেছে। সেটা কাজী সাহেবের কাছে গিয়ে বলবেই তার আগেই জাহিদ ভাই চলে যায়। কাজী সাহেবকে সবাই অপেক্ষা করতে বলে। আপা শকে ছিলো সেই সময়ে। তাই আপাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেও লাভ হতো না। আসলে কেউ ভাবতে পারেনি একজন মা এমন মিথ্যা বলতে পারে।জাহিদ ভাইয়ের এক্সিডেন্টের কয়েকমাস পরেই উনার মা মারা যান।

সিয়ামের মাথা ভো ভো করতে থাকলো। কি সাংঘাতিক! হেমা ঘড়ি দেখে বলল,

— আমাকে যেতে হবে এখন। আপনার কাছে একটাই অনুরোধ। বিষয়টাকে ছড়িয়ে দিবেন না। আপার অসম্মান হোক এমন কিছু করবেন না। চাইলে আপার সাথে কথা বলতে পারেন। আসি।

হেমা উঠে চলে যাওয়ার সময় পিছনে ঘুরে বলল,

—পারলে আপাকে নিয়ে যান নিজের সাথে। আপার সব অপূর্ণ স্বপ্নকে পূর্ণ করে দেন। আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।

হেমা চলে গেলো। কিন্তু সিয়ামকে স্তম্ভিত করে গেলো। সে হেমাকে একটা বাচ্চা মেয়ে ভাবছিলো। আবেগী বাচ্চা। যখন হেমাকে দেখতে যায় তখন হেমার চোখে তার জন্য মুগ্ধতা দেখেছে। বাবার কাছে শুনেছে আরো চার বছর আগে তার আর হেমার বিয়ে ঠিক হয়। তখন থেকেই নিশ্চয়ই মেয়েটা আবেগে ভাসছে। কিন্তু এখন নিজের বোনের জন্য নিজের খুশিটুকু বিসর্জন দিতে চাচ্ছে? হেমার মধ্যে যতটুকু ম্যাচিউরিটি এখন দেখলো সেই পরিমানের ম্যাচিউরিটি কি তার মধ্যে আদোও আছে?
,
,
,
🌿
শ্রাবণীর ঘরে এসে হেমা থমকে গেলো। হেমা বিষ্ময় চোখে তাকিয়ে থাকলো শ্রাবণীর দিকে।কি দারুণ সুন্দর লাগছে তার আপাকে। একটা সুতির শাড়ি পরা। ছিপছিপে গড়নের শরীরে শাড়িটা দারুণ মানায়। পিঠ জুড়ে চুল ছড়িয়ে আছে। উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙ আর পাতলা ঠোটে এতো স্নিগ্ধ লাগে! শ্রাবণী বারান্দায় দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্না দেখছে। বাতাসে তার চুলগুলো উড়ছে। হেমার হঠাৎ জাহিদের জন্য আফসোস লাগলো। এতো ভালোবাসতো শ্রাবণীকে কিন্তু এই জ্যোৎস্না রাতে শ্রাবণীর রূপটাকে দেখতে পেলো না। ইশ! হেমা বারান্দায় এসে শ্রাবণীর হাতে চায়ের কাপ দিলো। জিজ্ঞেস করলো,

—কি দেখছো আপা?

হালকা হেসে বলল,

—এই জ্যোৎস্না দেখছি। আর জোনাকিও খুঁজছি। আচ্ছা চাঁদনী রাতে জোনাকি বের হয়না?

হেমাও দেখলো কোন জোনাকি দেখা যাচ্ছে না। অন্য সময় দেখা যায় এক দুটা, কখনো আর অনেকগুলোও।

—হ্যা নেই তো। আমি খেয়াল করিনি কখনো। এরপরে ভালো করে খেয়াল করে তোমাকে বলবো।

কিছুক্ষণ নিরবতার পরে হেমা জিজ্ঞেস করলো,

— আপা একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?

—হুম

—তুমি কেন মায়ের ঐ কাজের পরেও এতোগুলো বছর ধরে এই সংসারের পিছনে রক্ত জল করে পরিশ্রম করছো? কেন তুমি চলে যাচ্ছো না? এই সংসার থেকে তো তোমার পাওয়ার কিছু নেই। না ভালোবাসা, না একটু শান্তি। কেন তাহলে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছো?

শ্রাবণী প্রশ্ন শুনেও চুপ থাকলো। হেমা উত্তরের আশায় শ্রাবণীর মুখেরদিকে তাকিয়ে থাকলো। সে সরাসরি কখনো প্রশ্ন না করলেও আকারে ইঙ্গিতে করেছে। কিন্তু আপা প্রতিবারই এড়িয়ে গেছে। আজও যাবে কিনা বোঝার চেষ্টা করছে। বেশ কিছুক্ষণ পরে শ্রাবণী বলল,

—আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।বড় সন্তান হওয়ার দায়িত্ব। মা সবসময় আফসোস করে আমার জায়গায় ছেলে হলে তার সংসারটা সুখের হতো। আমি সেই না হওয়া ছেলের দায়িত্বটা পালন করার চেষ্টায় আছি।

হেমা অধৈর্য হয়ে বলল,

— যা হওয়া সম্ভব না তার দায়িত্ব কেন তুমি কাঁধে নিচ্ছো? আর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কি তুমি নাম পাচ্ছো? সেই তো দিনরাত খোঁটা শুনছো। কি লাভ হলো এই জমি ছাড়িয়ে এই আধাপাকা বাড়ি বানিয়ে? সেই তো শুনতে হয় ছেলে থাকলে পাকা দালানে থাকতো।

—সব কিছু কি নামের জন্য করে মানুষ? বাবা-মায়েরাও তো সন্তানের দায়িত্ব নেয়। নামের উদ্দেশ্যে?

—বাবা-মায়েদের দিনরাত এমন খোঁটা কেউ দেয়না। তুমি কিভাবে মায়ের সাথে থাকতে পারছো? এমন একজন মানুষের সুবিধার জন্য ভাবতে পারছো? তোমার নিজের কোন জীবন নেই? এই সংসারের পিছনে সারাটা জীবন খেটে যাবা পাওনার খাতায় অপমান নিয়ে?

শ্রাবণী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— আমি যখন ছোট ছিলাম তখন একবার ঈদের সময় একটা জামা আমার খুব পছন্দ হয়েছিলো। কিন্তু কেনার সামর্থ্য ছিলোনা। বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করিনি কিন্তু মন খারাপ করে ঘুরছিলাম। মা সেই সময়ে টুকটাক কাথা সেলাই করতো। সারারাত জেগে কাঁথা সেলাই করে আমার জামার টাকা জুড়েছিলো। আর সেই দিনটা! আমার বিয়ের দিনে সারারাত আমাকে জড়িয়ে ধরে বসেছিলো মা। এক মুহুর্তের জন্যও ঘুমায়নি। তখনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যতদিন পারবো মায়ের জন্য করে যাবো।

হেমা কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না। কথা খুঁজে পাচ্ছে না বলার মতো। অনেকক্ষণ পরে বলল,

—এই দুটা ঘটনার জন্য দিনের পর দিন তার অপমানগুলোকে মুখ বুজে নিবা? দিনের পর দিন তার না হওয়া ছেলের রোল প্লে করবা? আর দিনশেষে সে বাইরের মানুষের সামনে তোমার ইজ্জত নামিয়ে দিবে?

শ্রাবণী শুকনো হাসি হাসলো।

—মেয়েদের জীবন একটা উপন্যাসের মতো।মেয়েদের জীবনের প্রতিটা মোড়ের মতো উপন্যাসের প্রতিটা পাতায় পাতায় নতুন গল্প, নতুন মোড়, নতুন রোল, নতুন মানুষের আগমন। যেভাবে লেখা হয়েছে সেভাবে সেই পাতাকে পড়ে সামনের পাতার জন্য এগিয়ে যেতে হবে। নতুন নতুন মোড় বলে কি পড়া বাদ দিলে হবে? এজন্যই সব লেখকেদের বেশির ভাগ উপন্যাস একজন নারী চরিত্রকে ঘিরে তৈরী হয়। আমিও কি পড়া বাদ দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো?

হেমা খেয়াল করলো আসলেই তো সব বড় লেখকদের বেশির ভাগ গল্প, উপন্যাস মেয়ে চরিত্রকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেই সাথে মনটাও খারাপ হয়ে গেলো। আপার কথার জবাব খুঁজে পাচ্ছে না। কি ভাবে বুঝাবে সে? জিজ্ঞেস করলো,

—তোমার ক্লান্ত লাগে না আপা?

জবাবে শ্রাবণী হেমাকে একটা শুকনো হাসি উপহার দিলো। হেমা চায়ের কাপ নিয়ে যাওয়ার সময় বলল,

— আপা নিজের ভালোটা বুঝতে শেখো। অকৃতজ্ঞ আর স্বার্থপর মানুষের জন্য নিজের জীবনের পুরোটা ব্যয় করোনা। সুখ হাতছানি দিলে সেটাকে লুফে নিতে শেখো।

হেমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে শ্রাবণীর সামনে থেকে চলে আসলো। সে জানে কোন উত্তর পাবে না আর।
,
,
,
🌿
এক সপ্তাহ পরে স্কুল ছুটির পরে স্কুলের বাইরে সিয়ামকে দেখে শ্রাবণী চমকে উঠলো। সিয়ামের সাথে কথা বলতে তার অস্বস্তি হয়। যদি উল্টো পাল্টা কিছু করে ফেলে? সিয়ামকে তার দিকে আসতে দেখে শ্রাবণীর হাতের তালু ঘামতে শুরু করলো। (চলবে)

(রি-চেইক করা হয়নি। ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ