Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"উপসংহারউপসংহার পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব

উপসংহার পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব

#উপসংহার
#পার্টঃ৬ (সমাপ্ত)
#জান্নাতুল_কুহু
—কেন একটা মিথ্যা অপবাদ আট বছর ধরে বয়ে চলেছেন?

শ্রাবণী চমকে উঠলো। সিয়াম কিভাবে জানলো এসব? কে বলেছে? জিজ্ঞেস করলো,

— আপনাকে এসব কে বলল?

—সেটা ব্যাপার না যে কে বলল। কিন্তু কি বলল সেটাই ব্যাপার। কেন এরকম একটা অন্যায়কে প্রশ্র‍য় দিচ্ছেন? আপনি না একজন শিক্ষিত মানুষ? একজন আত্মনির্ভরশীল মেয়ে? তাহলে কেন সব মুখ বুজে মেনে নিচ্ছেন?

—হেমা আপনাকে বলেছে এসব?

সিয়াম অধৈর্য হয়ে বলল,

—কে বলেছে সেটা তো কথা না। আপনি বিধবা না হয়েও কেন বিধবার জীবনযাপন করছেন। আমি আপনাকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক। সেখানে আমাদের পরিবার আর সমাজ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার মধ্যে একটা কারণ আপনি বিধবা। কিন্তু যখন আপনি বিবাহিতই নন তাহলে কেন এই কারণটা আমি মানবো?

শ্রাবণী মুখ শক্ত করে বলল,

— শুনুন সিয়াম। আমি আপনাকে বিয়ে করতে ইচ্ছুক নই। আর আট বছর যাবত আমি কি করছি কেন করছি তার কৈফিয়ত আমি আপনাকে দিবো না।

সিয়ামকে আর কিছু বলতে না দিয়ে শ্রাবণী হাঁটা শুরু করলো। কথা বলে কোন ফায়দা নেই। সিয়াম জিদ ধরে বসে আছে।
সিয়াম অসহায় দৃষ্টিতে শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে থাকলো। এই মেয়েটাকেই যে তার ভালো লেগেছে। এতো এতো মেয়ের মধ্যে একজনকে ভালো লেগেছে কিন্তু সে কারণ ছাড়া তাকে বিয়ে কর‍তে চাচ্ছে না। এখন কি করনীয় তার?
,
,
,
🌿
হেমা রাস্তার মোড়ে অনেকক্ষণ যাবত রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে থাকার পরেও রিকশা না পেয়ে হাঁটা শুরু করলো বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাজারের ভিতর দিয়ে হাঁটতে ইচ্ছা হয়না। রফিক নামক মানুষটাকে দেখলে তার সব আবেগ উল্টো পাল্টা হয়ে যায়। এই মানুষটার উপর তার অনেক রাগ আছে, কিন্তু ততক্ষণ যতক্ষন সে তার চোখের সামনে নেই। চোখের সামনে আসলেই ইচ্ছা হয় গিয়ে কথা বলতে। অন্তত তার মুখ থেকে হেমা ডাক শুনতে। কিন্তু ঐদিনে কথাগুলো মনে পড়লেই, নিজেকে বুঝ দেয় সে কেন যাবে? তার কি ঠেকা পড়েছে কথা বলার? কোন ঠেকা পড়েনি। হেমার নিজেকে পাগল পাগল লাগে। ভাবতে ভাবতে কখন রফিকের দোকানের সামনে এসে পড়েছে খেয়ালই করেনি। না চাইতেও চোখ দোকানের দিকে চলে গেলো। দোকানের ভিতরেই রফিক কাগজে কিছু লিখছে। হেমা নিজের অজান্তেই দোকানের একদম সামনে দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। অন্য যেকোন সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যায় যাতে তাকে দেখা না যায়৷ কিন্তু আজ তার উল্টো করলো। এবং মনে মনে চাইলো রফিক তাকে পিছন থেকে ডাকুক। একবার ডাকলেই সে থেমে যাবে। অবচেতন মনের ভাবনাটা যখন টের পেলো তখন প্রচন্ড লজ্জা পেলো। কারণ অন্যান্য দিনে রফিক পিছে ডাকলে থামে না৷ রফিক সামনে এসে দাঁড়ালে তবে থামে। কিন্তু আজ তেমন কিছুই হলো না। হেমা আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে বাড়িতে চলে আসলো।
বাড়িতে এসেই হেমার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। আপাকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। আজকাল আপাকে অনেক ক্লান্ত দেখায়। মনে হয় জীবনীশক্তিটুকু পাচ্ছে না৷ হাসি দেখা যায়না একটু। মুখ সবসময় অন্ধকার হয়ে থাকে৷ হেমা বুঝতে পারেনা কি করবে। তার পরিবার থেকে সিয়ামের সাথে বিয়ের ব্যাপারে কিছু বলছে না। বিয়ের কথা আগালে তখন একটা বাগড়া দিতে পারবে বা শ্রাবণীর বিয়ের ব্যাপারে কিছু করতে পারবে। কিন্তু সব যেনো কেমন থমকে গেছে।
হেমা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের ঘরে গেলো।
,
,
,
🌿
এর ছয়দিন পরে সন্ধ্যার দিকে তিনটা চিঠি তিনজন ভিন্ন মানুষ পেলো। দুপাতার দুটো চিঠি শরিফা আর সিয়াম আর দুলাইনের একটা চিঠি হেমা পেলো। প্রেরক শ্রাবণী। প্রথম চিঠিটা ছিলো শরিফার জন্য।

মা,
তোমার একটা ছেলের অনেক শখ ছিলো। কিন্তু সেখানে আমি হই। জানো মাঝে মাঝে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। কেন তোমার প্রথম সন্তান একটা ছেলে না হয়ে আমি হলাম? ছেলে হলেই হয়তো অনেক ভালো হতো। জানো মা আমি তোমাকে ছোটবেলা থেকে অনেক ভালোবাসি। অনেকটা। সেইবারের কথা মনে আছে? ঐ যে তুমি সারারাত ধরে কাঁথা সেলাই করে আগে আগে পৌঁছে দিয়ে টাকা আনলে যাতে আমার ওই পছন্দের জামাটা আনতে পারো? তুমি জানো জামাটা পাওয়ার পরে আমি অনেক কান্না করেছিলাম। কারণ আমার নিজেকে ভাগ্যবতী মনে হচ্ছিলো যে আমি এমন একজন মা পেয়েছি। আমি সেদিন ঠিক করে নিয়েছিলাম তোমাকে কখনো কষ্ট দিবো না। কিন্তু আস্তে আস্তে এটা বুঝতে পারি কষ্ট দেয়ার কথা তো তখন আসবে যখন আমি তোমাকে সুখ দিতে পারবো। আমি তোমাকে কখনো সুখই দিতে পারিনি। আমি নিজের জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর মুহুর্তে তোমাকে পেয়েছি। জাহিদ মারা যাওয়ার পরে তুমি সারারাত ঘুমাওনি। আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিলে। শুধু বলেছিলে “আল্লাহ ভরসা মা। আল্লাহ ভরসা । সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি কান্না করো মা একটু” সেদিনও তোমার কথা শুনে আমার কান্না পাচ্ছিলো। জাহিদের মৃত্যুর অনুভূতি আমাকে স্পর্শ করতে পারছিলো না। আমি অনুভূতির উর্ধ্বে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু তোমার মুখের মা ডাকটা আমাকে স্পর্শ করেছে।
আমি তোমার ছেলের অভাব পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা একজীবনে যা চাই তাই কি পাই? আমি পারিনি। তবে আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে যেটুকু সম্ভব সেটুকু করার চেষ্টা করেছি। আমার ব্যর্থতা আমি তোমাকে পাকা বাড়িতে থাকার সুযোগ করে দিতে পারিনি। আজ আমি অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়াচ্ছি মা। আমার জীবনের সব রঙ আর উদ্দেশ্য শেষ। আমি নিজেকে ক্রমেই হারিয়ে ফেলছি। আমার পক্ষে সমাজে আর পরিবারের মধ্যে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। মানুষ যখন ডুবতে থাকে তখন খড়কুটো আকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। পরিস্থিতি আমাকে ডুবিয়ে দিচ্ছে। আর আমার মধ্যে শক্তি বেঁচে নেই আমার নিজের পৃথিবীর সাথে লড়াই করার। তাই আমি খড়কুটো আকড়ে বাঁচার চেষ্টা করছি। বলতে পারো আমি পালিয়ে যাচ্ছি। ব্যাংকে ডিপোজিটে কিছু টাকা রেখেছি। ওটা দিয়ে বাবার জন্য একটা দোকান দেয়া যাবে। হেমা চাইলে আমার স্কুলে চাকরি করতে পারে। কমিটির কাছে সামান্য সুপারিশ করা আছে। হেড স্যার পরিচিত আছে হয়ে যাবে। বাবার ফলের, মুদির বা কাপড়ের দোকান বসানোর পরেও টাকা থাকবে। ওটা দিয়ে ছাদ ঢালায়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এটুকুই আমি করতে পেরেছি। অপূর্ণতার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর বাবাকে বলে দিও আমি বাবাকে অনেক ভালোবাসি।
আমাকে খোঁজার চেষ্টা করতে পারো৷ কিন্তু যে মানুষ নিজে থেকে হারিয়ে যায় তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। পুলিশ একজন সাবালিকার সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করবে বলে মনে হয়না। ভালো থেকো।
ইতি
শ্রাবণী।
শরিফা চিঠি পড়ে নির্বাক হয়ে বসে থাকলো।
————————
অফিস থেকে বের হওয়ার আগ মুহুর্তে রাজীব এসে একটা চিঠি দিয়ে গেলো সিয়ামের উপরে শ্রাবণীর নাম দেখে সিয়াম বেশ অবাক হলো। শ্রাবণী তাকে কি নিয়ে চিঠি লিখবে?
খুলে পড়তে শুরু করলো।

সিয়াম,
আমি প্রথমেই আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সেদিনের বাজে ব্যবহারের জন্য। আমি আসলে রেগে ছিলাম। আমি বুঝতে পারছি না কেন আপনি হেমার মতো মিষ্টি, উচ্ছ্বল, বুঝদার মেয়েকে ছেড়ে আমাকে পছন্দ করলেন?বোন বলে হেমার ব্যাপারে আমি বাড়িয়ে বলছি এমনটা ভাববেন না কিন্তু। আপনি ওর সাথে মিশলেই সবটা বুঝতে পারবেন। হেমার একটা নিজস্ব জগৎ আছে। এবং সেই জগতের বাদশা আপনি। সেটা কি জানেন? হয়তো সেই জগতটা আপনাকে কেন্দ্র করেই ঘোরে। হেমার চোখে আমি গভীর বিষাদ দেখেছি। সেটাও আপনারই জন্য। মূল্যহীন ভালোবাসা যে খুবই কষ্টকর। তাই যে আপনাকে ভালোবাসে তার হাতটা শক্ত করে ধরা উচিত জীবনের বাকি পথটুকু পাড়ি দেয়ার জন্য। আমার সাথে আপনি কখনোই ভালো থাকবেন না।

আপনি সেদিন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমি কেন বিবাহিত না হয়েও বিধবার জীবন গ্রহন করেছি। আজ আপনাকে একটা গোপন সত্য বলি। আমি বিবাহিত। জাহিদ আমার স্বামী। জাহিদ মারা যাওয়ার পাঁচমাস আগে আমরা লুকিয়ে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করি। জাহিদ চাকরী পায় সেসময়। ওর পোস্টিং অনেক দূরে হয়েছিলো। আমার বাড়িতে টুকটাক বিয়ে কথা হচ্ছিলো তাই ও আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় করছিলো। কোর্ট ম্যারেজের উদ্দেশ্য ছিলো আমাকে ওর নামে করে রাখা এটুকুই। আর কথা ছিলো পরে পারিবারিকভাবে বিয়ে করবো সবাইকে জানিয়ে। বিয়ের পরেরদিন ও চলে যায়। আর আমাদের আবার দেখা হয় ওর মৃত্যু দিনে। আমি তো আসলেই বিধবা। তাই না? এই পৃথিবীতে আমি বাদে আপনিই সত্যটা জানলেন।

আপনি আমার সাথে একটা নতুন গল্প সূচনা করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু আমার গল্পের উপসংহার যে জাহিদের সাথে হয়ে গেছে। যে গল্প উপসংহারে পৌঁছে যায় সেই গল্পের নতুন করে সূচনা হয় না। আপনি বরং তার সাথে সূচনা করুন যে আপনার পথ চেয়ে বসে আছে। তার সাথে এক নতুন গল্প লিখুন। নতুন জীবনের জন্য শুভেচ্ছা।
যখন আপনি চিঠিটা পাবেন ততক্ষণে হয়তো আমি অনেক দূরে চলে গেছি। একটু শান্তির জন্য পা বাড়িয়েছি অজানার উদ্দেশ্যে। আমি ভালো থাকবো ইংশা আল্লাহ।
ইতি
শ্রাবণী।
,
,
,
🌿
হেমা মুখ ফুলিয়ে নৌকায় বসে আছে৷ তার মেজাজটা খানিক খারাপ। আবার একদিক থেকে সে অনেক খুশি। কারণ তার একান্তই সুপ্ত ইচ্ছাটা চিঠিতে ব্যক্ত করার দুই বছরের মধ্যে তা পূরণ হচ্ছে। সে ভাবেনি এতো তাড়াতাড়ি হবে। কিন্তু তার নৌকাতে কেবল দুজন থাকার কথা ছিলো। এখানে তিনজন আছে। তাই সে রেগে নৌকার এক পাশে বসে আছে।
হাতে আলতা নিয়ে রফিক হেমার সামনে বসলো। হেমার গালগুলো এমনিতে গোলাপী গোলাপী দেখতে। গোল মুখে আদুরে একটা ভাব আছে। রেগে আছে বলে আরো সুন্দর লাগছে। রফিক বলল,

—আর কতো রাগ করবেন বেগম সাহেবা? এবার তো এই অধমের সাথে কথা বলুন

হেমা মুখ ঘুরিয়েই রাখলো। আকাশে মেঘ জমেছে। তারা হ্রদের মাঝামাঝি জায়গায় আছে। বৃষ্টি নামার অপেক্ষা করছে সে। রফিক বলল,

—পা দাও। আলতা পরিয়ে দিই।

হেমা পা গুটিয়ে বসলো। রফিক হেসে বলল,

—এখনো রাগ কমেনি? আমি তো নৌকা চালানো শিখেছি। শিখিনি বলো? কিন্তু তুমি সাঁতার জানোনা। আমি তোমাকে নিয়ে কোন রিস্ক নিতে চাইনা। আর উনি ওপাশে আছে। ছইয়ের উচ্চতার কারণে এদিকে দেখতে পাবে না। ছইয়ের ওপাশেও কাপড় দেয়া দেখো। এতো বড় নৌকা। কিছু শুনতেও পাবে না।

তাও হেমা কিছু বলছে না দেখে রফিক মন খারাপ করে বলল,

— আমি সত্যি দুঃখিত তোমার ইচ্ছাটা পুরোপুরিভাবে পূর্ণ করতে পারলাম না।

হেমা এবার পা রফিকের দিকে এগিয়ে দিলো। রফিক একটু হেসে আলতা পরানো শুরু করলো। হেমা জিজ্ঞেস করলো,

—আমি কিন্তু প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষা করছি।

—কোন প্রশ্ন।

—যেখান থেকে এই ইচ্ছার কথা জেনেছো সেখানে প্রশ্ন ছিলো। তুমি খেয়াল করে পড়োইনি।

হেমা আবার গাল ফুলালো। রফিক হেসে দিলো। আলতা পরাতে পরাতে বলল,

— শুনলে তোমার মন খারাপ হবে।

—আমার কোন মন খারাপ হবে না। তুমি বলো।

—৪৪০ টা চিঠি সিয়াম সাহেবের জন্য ছিলো। ৪৪১ নাম্বারটা তুমি চেতন বা অবচেতন মনে আমার জন্য লিখেছিলে। আমার কষ্টটা তোমার মিষ্টি গল্পের লবণ ছিলো। কিন্তু আসলে আমি কষ্ট পাইনি। তোমার ভোরের আলো হতে পারিনি। আমি তোমার শেষ বিকালের রোদ হয়েছি। আমাকে যদি দুটার মধ্যে একটাকে পছন্দ করতে বলতে আমি শেষ বিকালের রোদকেই পছন্দ করতাম।

হেমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

—কেন?

—শুরু তো যেকোন কিছু দিয়েই হতে পারে। কিন্তু শেষ কি দিয়ে হলো সেটাই সবাই মনে রাখবে। আর বিকালের পরে আধাঁর আসে। আমি তোমার সাথে আধাঁরেও থাকতে চাই।

হেমা হেসে আকাশের দিকে তাকালো। মেঘ আরো কালো হয়ে গেছে। রফিক জিজ্ঞেস করলো

—আগে কখনো করিনি এমন কিছু প্রশ্ন করি?

মাথা হেলিয়ে হেমা বলল,

—করো।

—তুমি তোমার বাসায় আমাদের বিয়ের জন্য রাজী করালে কিভাবে বলো তো? তোমার বিয়ে তো সিয়াম সাহেবের সাথে ঠিক হয়েছিলো। আর সিয়াম সাহেবই বা কোথায় এখন?

—আমি সোজা বলেছি রফিক নামক লোকটার সাথে আমি বিয়ে করবো। আমি শ্রাবণী না যে তোমাদের সব কথা শুনবো। তোমরা না দিলে আমি কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে আসবো। আর খবর পেয়েছিলাম আপার যাওয়ার দুই মাস পরে সিয়াম ঢাকায় শিফট হয়েছে।

রফিক চোখ বড় বড় করে বলল,

—আচ্ছা গুন্ডি মেয়ে তো তুমি! দেড় বছর হয়ে গেলো তুমি তোমার বাড়িতে যাও না কেন?

হেমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

—তারা কখনো সন্তানের ভালোবাসা চায়নি। পাকা বাড়ি, টাকা, গয়না এসবের জন্য সন্তানদের লাঞ্চিত করেছে। আপার সম্মান নিয়ে খেলা করেছে। এখন তাদের অপূর্ণ সাধ আর আপার অপূর্ণ কাজ আমি পূর্ণ করেছি। ছাদ তুলেছি। আপার দেয়া বুটিকের সব টাকা মাস শেষে তাদের হাতে তুলে দিই। দুজন কাজের মানুষ আছে। তারা তো এসবই চেয়েছিলো। এখন এগুলো নিয়েই সুখে থাক। সন্তানের কি দরকার তাদের?

রফিক ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলল,

— আপার খবর নেই আজ দুই বছর। কে জানে কেমন আছে। তোমার চিন্তা হয় না?

হেমা একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল,

—আসেন ক্যাডার সাহেব। বৃষ্টি নেমেছে। পা ডুবাই হাওড়ে।

হেমা একহাতে একগুচ্ছ কদম নিয়ে আর অন্য হাত দিয়ে রফিকের হাত ধরে হাওড়ের পানিতে আলতা রাঙা পা ডুবিয়ে বসলো।
আর রফিক এক নয়নে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তার প্রেয়সীর দিকে তাকিয়ে থাকলো। (সমাপ্ত)

(ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ