Friday, June 5, 2026







প্রিয়দর্শিনী পর্ব-২+৩

#প্রিয়দর্শিনী🍂
#সুমাইয়া_যোহা

পর্ব-০২

মিনহাজের মুখে তরুনিমার বিয়ের কথা শুনামাত্র তরুনিমা গাল বেয়ে গড় গড়িয়ে চোখের জল বেরিয়ে আসে। সেটা দেখে তরুনিমার খালা মিনহাজের পিঠে একটা চাপর দিয়ে তরুনিমাকে একহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললেন-

: আরে আরে কাঁদছিস কেন তুই? তোর মিনহাজ ভাইয়া এমনেই মজা করেছে। মিনহাজ বললেই হলো। আর তোকে কি আমরা এমনি এমনিই শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিব?

মিনহাজ তরুনিমার চোখের পানি মুছে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-

: আরে আমার বোকা বোনটা… তোকে এখন কেউ বিয়ে দিবে না। আমি তো মজা করছিলাম।

তৃষা উঠে এসে নিজের মার সাথে ঘেঁষে দাড়িয়ে বলল-

: আরে তরু আপু! বিয়ে তো মিনহাজ ভাইয়ার! গলায় তো ফাঁসি কা ফান্দা খুদ পেহেঙ্গা। তোমাকে মাঝখানে কাঁদিয়ে একটু মজা নিয়ে নিল। হি হি..

মিনহাজ তৃষার কথা শুনে ওর মাথায় একটা চাটা মারে। তারপর মিনহাজ আর তৃষার শুরু হয় ঝগড়া। তৃষা আর মিনহাজের ঝগড়া থামাতে গিয়ে সবার তরুনিমার উপর থেকে নজর উঠে যায়। তরুনিমা আস্তে আস্তে নিজের রুমে গুটিসুটি পায়ে চলে আসে। সবার চোখের আড়াল হলেও তরুনিমাকে একজন ঠিকই ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

————————————-

আকাশের রঙটা যেন আস্তে আস্তে ধূসর আকার ধারন করছে। প্রকৃতি যেন আস্তে আস্তে নতুন কোনো রূপ ধারন করতে চলেছে। আমগাছের সাথে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট সুঠাম দেহের অধিকারী এক যুবক। গায়ের রং হলদে ফর্সা, মুখে দাঁড়ির গোফের ছিটেফোঁটা পর্যন্ত নেই। চোখগুলো বিড়ালের ন্যায়, যাকে ইংরেজিতে “ক্যাটস্ আই” নামে সম্বোধন করা হয়ে থাকে। যুবকটি আকাশের পানে নিবিড়ভাবে ভাবে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ তার কাঁধে কেউ হাত রাখলে সে বুঝতে পারে সেই ব্যক্তিটির স্পর্শ। সে তার হাতটি নিজের কাঁধ থেকে নামিয়ে নিতেই সেই মানুষটি তার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল-

: তুমি কি ঠিক আছো নুহাশ? এভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি ভাবছো?

নুহাশ কথা ঘুরানোর জন্য বলল-

: কি ভাববো আমি? এখন যদি কারো ব্যাপার নিয়ে ভাবতেই হয় তাহলে একমাত্র আমার উড বি ওয়াইফ সৃষ্টি, আই মিন তোমাকে নিয়েই ভাববো।

সৃষ্টি নুহাশের হবু স্ত্রী ( সৃষ্টির পরিচয় আপনারা পরে জানবেন😅)। নুহাশ সৃষ্টির কাধে হাত রেখে আদুরে মাখা কন্ঠে কথাগুলো বললেও তা যেন সৃষ্টির হজম হলো না। সে নিজের কাধ থেকে নুহাশের হাত সরিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে আবার জিজ্ঞেস করল-

: তুমি কি আবার তরুনিমাকে নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দে ভুগছো? তোমার ব্যবহার কেমন যেন লাগছে আমার? ওকে কি বলেছো যে তুমি ওকে বিয়ে করতে পারবে না?

নুহাশ সৃষ্টির উল্টো দিকে ফিরে শান্ত কন্ঠে বলল-

: হ্যাঁ বলেছি ওকে। কিন্তু সৃষ্টি, তরুনিমার সাথে আমরা যা করেছি তা কি আদৌ ঠিক হয়েছে? ওকে এইভাবে ঠকিয়ে আমরা কি সুখী হবো কখনো?

তরুনিমার শেষের বলা কথাগুলো নুহাশকে যেন কেমন একটা বিষণ্ন করে তুলেছে। ওর বারবার তরুনিমার সেই ছলছল মায়াবী মুখটার কথা মনে পড়ছে। সৃষ্টি নুহাশকে জোর গলায় বলল-

: কি বলছো তুমি এসব নুহাশ!? তুমি তো সৃষ্টিকে কখনোই ভালোবাসোনি। ও শুধুই তোমার মোহ ছিল। নুহাশ আমার দিকে তাকাও (নুহাশকে সৃষ্টি নিজের দিকে ফিরিয়ে) আচ্ছা যদি তোমাকে ও সত্যিই ভালোবাসতো তাহলে কি ও তোমাকে ছেড়ে দিত? আর তুমিও কি পারতে আমায় বিয়ে করতে রাজি হতে অথবা আবার যখন আমি তোমাকে ফেরাতে নিলাম তখন তুমি ফিরতে পারতে? ও আসলে তোমার যোগ্য কখনো ছিলই না। আমাদের সম্পর্কটাই সত্যি। আমাদের এই নতুন জীবনে ওকে আর টানাটানির দরকার নেই। ওকে ওর মতো করে থাকতে দাও। আর আমি তো আছি তোমার পাশে তোমার ভালোবাসা। চলো এই ফাগুনের শুরুটা নতুন ভাবে শুরু করি। কেমন?

সৃষ্টি নুহাশের হাতে হাত রেখে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগে। নুহাশের কোথাও যেন একটা বাধা কাজ করছে। কিন্তু সৃষ্টির কথা ভেবে নুহাশ আর তরুনিমার ব্যাপারটা নিয়ে ভাবতে চাইলো না। “যাকে রেখে চলে এসেছি যে আমার যোগ্য না তাকে নিয়ে ভাবার কোনো মানেই হয় না”, এমনটাই মনে মনে ভভেবে নেয় নুহাশ।

——————————————–

পুরো পরিবারের সবার সামনে বসে আছি। সবাই নানা রকম কথা বলছে। নিজের রুমে একান্তে কিছুক্ষণ থাকতে চেয়েও থাকতে পারিনি। ইশান আমাকে জোর করে বারান্দায় নিয়ে এসেছে। আমাদের বাসার বারান্দাটা মোটামুটি বড়ই আছে। যেখানে আমরা প্রতিবার সবাই একসাথে আড্ডা দেই। বারান্দায় টুকিটাকি কিছু গাছও আছে। কিন্তু আমার যে এখন সবকিছুই অসহ্য লাগছে। নিজের মনটাকে যতই শান্ত করে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছি তবুও এই বেহায়া অসভ্য মনটা যেন সামলে নেয়ার নামই নিচ্ছে না। হঠাৎ তৃষা আমাকে ডেকে আঙুলের ইশারায় জিজ্ঞেস করল-

: তরু আপু..! গাছটার নাম কি?

গাছটার দিকে লক্ষ্য করতেই নুহাশের স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। কারণ তৃষা যেই গাছটার নাম জিজ্ঞেস করেছে সেই গাছটা একবার নুহাশের পছন্দেই কিনে এনে বারান্দায় সাজিয়েছিলাম। চোখগুলো যেন আস্তে আস্তে আবারও ঝাপসা হয়ে আসছে। তৃষা আবার আমাকে জিজ্ঞেস করল-

: আপু এই গাছটা কবে এনেছো? গতবার তো দেখিনি? বলো না তরু আপু গাছটার নাম কি?

আমি উপরে দিকে তাকিয়ে একটা ছোট শ্বাস ফেলে তৃষা প্রশ্নের জবাবে বললাম-

: এইটা রঙ্গন ফুলের গাছ। গত তিনমাস আগেই এনেছিলাম। তখন ছোট ছিল এখন বড় হয়েছে তাই ফুলও ফুটেছে।

তৃষা আদুরে কন্ঠে বলল-

: গাছটা অনেক অনেক সুন্দর। আর অনেক ফুল ফুটাতে ভালোও লাগছে। আর অনেকটাই সতেজ ঠিক তোমার মতো!

অন্তু কিছুটা দৃঢ় আর উচ্ছাস ভরা কন্ঠে বলল-

: বুঝতে হবে তো বোনটা কার? আমার আপুর হাতে সব গাছ, ধুর গাছ কেন? সব কিছুই পরম যত্নসহকারে থাকে। আর সেগুলো সুন্দরও থাকে। ঠিক বলেছি না আপু?

কারো কোনো কথার জবাব না দিয়ে কেবলই মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম শুধু। পরক্ষণেই অন্তুর বলা কথাগুলোয় নিজেই একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে দিলাম। কারন সবই যদি পরম যত্নে রাখতে পারতাম তাহলে হয়তো নুহাশ আর আমার সম্পর্কটা ভেঙে যেত না।

———————————————

রাতের বেলা সবাই আহার শেষ করে চলে যাওয়ার পর তরুনিমাও নিজের রুমে চলে এসে দরজাটা বন্ধ করে দেয়। অতঃপর দরজার সাথে ঠেস দিয়ে মেঝেতে বসে আর নিজেকে থামিয়ে রাখতে সক্ষম হয় নি সে। অশ্রুগুলো যেন অঝোর ধারায় গাল বেয়ে নামতে শুরু করছে। কোনো মতেই যেন বন্ধ হচ্ছে না। তরুনিমা ওর নিজের দুইহাত দিয়ে মুখ চেপে কান্না করতে শুরু করে। কান্নার বাধেরা আজকে যেন আর থামবে না। তরুনিমার আজকে ওর মায়ের কথাও খুব মনে পরছে। হয়তো মার কাছে বসে খুব করে কান্না করতো সে। কিন্তু তাও যে আজ সম্ভব না। কিছুক্ষণ পর তরুনিমা ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে মুখে পানির ঝাপটা দেয়া শুরু করে। চোখ মুখ সব ফুলে রয়েছে। চেহারা পুরো লাল হয়ে লাল টমেটো আকার ধারন করেছে। বেসিনের কলটা অফ করে দুইহাত বেসিনের উপর রেখে পুরো শরীরের ভর তার উপর দিয়ে সামনে থাকা আয়নায় তাকাতেই যেন তরুনিমা যেন নিজের প্রতিচ্ছবিটা ভেঙে চুরে শত টুকরা হতে দেখতে পাচ্ছে। তরুনিমা তাও নিজেকে সান্ত্বনা দেয়। নিজেকে শক্ত করার চেষ্টা করে। নিজেকে এই বলে বুঝায়-

: এখনো তো সময় পার হয়ে যায় নি, নুহাশ ঠিকই ফোন দিবে একটু পর। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলায় থেকে এইসব কথা বলেছে। আমি তো ওকে চিনি। আর যদি ফোন না..ও.. দেয় তাহলে আমিই ফোন দিব ওকে। ওর অভিমান আমিই ভাঙ্গাবো। প্রয়োজনে ক্ষমা চেয়ে নিব। আর নিজের ভালোবাসার মানুষের কাছে বিনা দোষে ক্ষমা চাইলেও তাতে দোষের কিছু নেই।

#চলবে______

#প্রিয়দর্শিনী🍂
#সুমাইয়া_যোহা

পর্ব-০৩

তিন তিন টা দিন পার হয়ে গেল। নুহাশ তরুনিমাকে একবারও ফোন করে নি। তরুনিমা সবসময় নিজের ফোনটা নিজের কাছে রেখেছে। নুহাশ যখনই ফোন দিবে ও যাতে সাথে সাথে রিসিভ করে কথা বলতে পারে। এমনি আজ তিনটে রাতও সে ঘুমায় নি। যেই মেয়ের চোখগুলোর নিচে কখনো কালি পরতে দিত না সেই মেয়ের চোখের নিচে আজকে কালি পরে গেছে। মাঝখানে তরুনিমাও অনেকবার ট্রাই করেছে কিন্তু ফোন হয়তবা বিজি ছিল অথবা সুইচ অড। হায়রে ভালোবাসা…! হয়তো এইভাবেই ভালোবাসার মানুষগুলো তাদের ভালোবাসার মানুষদের থেকে অবহেলা পেতে শুরু করে। তরুনিমা সোশ্যাল সাইটেরও সব জায়গায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। মেসেজের পর মেসেজ, ভয়েসর পর ভয়েস, কিন্তু কি অদ্ভুত! বিপরীতে থাকা সেই মানুষটার কোনো জবাব নেই। তরুনিমা বেডের একপাশে বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। আর ফোনে থাকা নুহাশের আর ওর নিজের ছবি গুলো দেখছে। পুরোনো স্মৃতি গুলো বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আসলেই প্রিয় মানুষটা না থাকলেও তার স্মৃতি গুলো প্রতিনিয়ত সেই মানুষটার কথা মনে করিয়ে দেয়। হঠাৎ কলিং বেল বাজতেই তরুনিমা চোখের জলগুলো মুছে ফোনটা সাথে নিয়েই দরজা খুলে। দরজা খুলে যেই মানুষটাকে তাকে দেখার সাথে সাথেই সে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে-

: রিতা…!

কিন্তু বিপরীতের মানুষটার যেন বিন্দুমাত্র অবাক হয় নি। রিতা তরুনিমার ভার্সিটি ফ্রেন্ড। তেমন ক্লোজ না হলেও তরুনিমার ব্যাপারেসে অনেক কিছুই জানে। রিতা নিজের কাছ থেকে তরুনিমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে বাসার ভিতর প্রবেশ করে। তরুনিমা ওকে নিয়ে গিয়ে নিজের ঘরে বসায়। রিতা তরুনিমাকে নিজের পাশে বসিয়ে জিজ্ঞেস করে-

: তোর এমন অবস্থা কেন, তরু? কার জন্য চোখের নিচে কালি করেছিস? যে মেয়ে কখনো ভার্সিটি মিস দেয় না ইভেন সামনে আর কয়েকদিন পর ফাইনাল পরীক্ষা যার সে কিনা বাসায় বসে আছে? কার জন্য এতোকিছু? নুহাশের জন্য?

তরুনিমা চোখ দিয়ে আবারও গাল বেয়ে জল পরছে। কিন্তু সে রিতার কোনো প্রশ্নের জবাব দিল না। রিতা একটা হতাশ জনক শ্বাস ফেলে বলল-

: তরু… আমি তোর কখনোই অতোটা ক্লোজ ফ্রেন্ড বা বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলাম না। কিন্তু একটা কথা কি জানিস মানুষকে যতো নিজের ভাববি এবং যতো তাকে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিবি, তাকে নিজের সবকিছু বলবি, বিশ্বাস করবি। দেখবি একদিন তারাই তোকে ঠকিয়ে চলে যাবে। প্রকৃত পক্ষে তারাই ভালো থেকে যাবে। আর মাঝখানে আমরা কষ্ট পাবো। যেমনটা এখন তুই পাচ্ছিস।

তরুনিমা রিতার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কারন হঠাৎ করে রিতা এসব কথা কেন বলছে? সেইটা তরুনিমা বুঝতে পারছে না। কারন নুহাশ যে তরুনিমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে তা কেউই জানে না। রিতা এবার কিছু আর না বলে ব্যাগ থেকে কিছু কাগজ আর একটা একটা কার্ড বের করে তরুনিমার হাতে তুলে দিয়ে বলল-

: আর চারদিন পর পরীক্ষা। তুই তো আসিস নি তাই তোর জন্য নোট গুলো নিয়ে এলাম। আর এই কার্ডটা নে।

তরুনিমা নোটগুলো এবং কার্ডটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করল-

: কার্ডটা কিসের রিতা?

রিতা কিছুই বলল না। সে ব্যাগটা নিয়ে উঠে চলে যাওয়ার সময় তরুনিমার কাধে হাত রেখে বলল-

: কার্ডটা খুললেই সব বুঝতে পারবি, তরু। আর একটা কথা, কার্ডটা খোলার পর হয়তো তুই বুঝতে আরো ভেঙে পরতে পারিস আবার অনেকটা কষ্টও পাবি। তবুও বলব এগুলো থেকে শিক্ষা নিয়েই তুই সামনে এগিয়ে চলিস। তুই অনেকটাই ম্যাচিউর, তুই বুঝতে পারবি আভি তোকে কেন বললাম এসেব? ভালো থাকিস, আমি আসছি।

রিতা চলে যাওয়ার পর তরুনিমা কার্ডটা খুলে দেখে। তরুনিমা কার্ডটা খুলে যা দেখে নিজের চোখকে যেন সে বিশ্বাসই করাতে পারছে না। তার পায়ের থেকে যেন এবার পুরোপুরি মাটি সরে যায়। সে যেন এবার রিতার এতোগুলো কথার মানে বুঝতে পারছে।

——————————————–

বিয়ের কেনাকাটার জন্য নুহাশ আর সৃষ্টি শপিং শেষ করে ক্যাফেতে এসে বসেছে। নুহাশ নিজের ফোনটা পকেটে থেকে বের করতেই দেখে তরুনিভার অনেক গুলো ফোন। সাথে অনেকগুলো মেসেজও। নু।আশের চেহারা প্রকৃতি খানিকটা অন্যরকম হওয়াতে সৃষ্টি নুহাশের হাত থেকে ওর ফোনটা কেড়ে নিয়ে সব দেখে সৃষ্টির যেন মেজাজ একেবারে বিগড়ে যায়। তবুও সে নিজেকে শান্ত রেখে দাঁতে দাঁত চেপে বলল-

: তুমি এখনো তরুকে ব্লক দাও নি কেন? তুমি যদি ব্লক না দাও ওকে যদি তোমার থেকে দূরে না সরাও তাহলে তো ও বারবার আমাদের ডিস্টার্ব করবে, প্রাইভেসি নষ্ট করবে। এর চেয়েও বড় কথা তুমি আবার ওইদিনে মতো কনফিউশনে পরবা। আর সামনে আমাদের বিয়ে, আমি চাই না কোনো থার্ড পার্সন আমাদের মাঝে আসুক।

নুহাশ সৃষ্টির হাতে উপর নিজের হাত রেখে আশ্বস্ত করে বলল-

: এমন কোনো কিছুই হবে না সুইটহার্ট। তুমি নইলে নিজে সবকিছু থেকে ওকে ব্লক দিয়ে দাও। তুমি থাকতে কোনো সমস্যাই হবে না।

সৃষ্টি মৃদু একটা হাসি দিয়ে নুহাশের ফোন থেকে তরুনিমার সবকিছু মুছে দেয়। এমনকি সমস্ত সোশাল সাইট সহ ওর নম্বরটাও ব্লক লিস্টে ফেলে দেয়। সত্যিই যাকে মানুষ তার প্রিয় মানুষের তালিকায় রাখে সেই প্রিয় মানুষটাই তাকে অপ্রিয় এর তালিকায় আওতাভুক্ত করতে কিঞ্চিত পরিমাণও সময় নেয় না। এইজন্য মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুদ প্রাণী বলা হয়। এরা সবকিছু পারে। এরা যেমন গড়তেও জানে ঠিক তেমন সবকিছু ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে গুড়িয়ে দিতেও জানে।

———————————————

রিতার দিয়ে যাওয়া কার্ডটি হাতে নিয়ে বসে আছি। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে অনবরত। আর সেই পানিতে ভিজে যাচ্ছে কার্ডটিও। নিজেকে কি বলে সান্ত্বনা দিব তার ভাশা খুঁজে পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে যেন মরে যাই। এতো কষ্ট যে আর সহ্য হচ্ছে না। মানুষের মৃত্যুও বোধহয় এর চেয়ে কষ্টের হয় না। নিজের কাছে নিজেকেই হাসির পাত্র বলে মনে হচ্ছে। যেই বেস্টফ্রেন্ডকে নিয়ে গর্ব করতাম সেই বেস্টফ্রেন্ডের বিয়ের কার্ড হাতে পেয়েও যেন খুশি হতে পারছি না। কারন তার বিয়ের কার্ডে বরের নামের স্থানে যে নুহাশের নামটা লিখা। শ্বাস নিতেও যেন এখন প্রচন্ড কষ্ট হচ্ছে। যেই বেস্টফ্রেন্ডকে নিজের বেস্টফ্রেন্ড থেকে বোনের মতো বিশ্বাস করতাম, যাকে ছাড়া নিজের অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারতাম না সেই আজকে এতো বড় আঘাতটা দিবে বিশ্বাস হচ্ছে না। তবুও কেন যেন মন মানতে চাইছে না মনে হচ্ছে এই নুহাশ অন্যকোনো নুহাশ হবে হয়তো। আর যাই হোক নিজের বেস্টেফ্রেন্ড তো আর ধোঁকা দিবে না। নিজের মনকে শান্ত করে বললাম-

: না তরু…! নিশ্চয়ই তোর কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। ও এমন কখনোই করতে পারে না। আমাকে ওর সাথে দেখা করতে হবে। এক্ষুণি দেখা করতে হবে।

কোনোকিছু না ভেবেই তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিলাম। বাসা থেকে বের হতে নিলেই হঠাৎ দরজার আলপিনের সাথে দুর্ভাগ্যক্রমে ঘষা খাওয়ায় হাতে উপরের হালকা কেটে গেল। কিন্তু আমার সেদিকে কোনো হুশ নেই। কারন আমাকে আমার প্রশ্নে উত্তর গুলো জানা খুবই জরুরি। আর যাই হোক পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেলেও আমি মানতে পারবোনা যে আমার বেস্টি আভার সাথে এমন করতে পারে। তারপর সোজা রিক্সা নিয়ে রওনা দিলাম নিজের বেস্টফ্রেন্ডের বাড়িতে।

#চলবে______

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ