Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"প্রজাপতির রংপ্রজাপতির রং পর্ব-২৫+২৬

প্রজাপতির রং পর্ব-২৫+২৬

#প্রজাপতির_রং🦋
#Part_25
#Writer_NOVA

—- সেদিন ছিল ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ভালো মতো সবকিছু দেখা যাচ্ছিলো না।সামনে সাদা হয়েছিলো।এমন অবস্থায় ড্রাইভ করাও কষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো আমাদের ড্রাইভার জামালের।ব্যাংক থেকে বাসায় ফিরছিলাম।যেই রাস্তা দিয়ে সচারাচর আমরা বাসায় ফিরি সেটা প্রায় হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায়। তাই ভাবলাম দূরের রাস্তা দিয়ে ঘুরে বাসায় আসবো।ড্রাইভারকে বলতেই সে অন্য রাস্তায় মোড় নিলো।চারিদিকে বৃষ্টির কারণে কিছু দেখা যাচ্ছে না।সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা।ব্যাংক থেকে ডেকেছে বলে না যেয়েও উপায় নেই।যাওয়ার সময় ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পরছিলো।আসার সময় যখন গাড়িতে উঠলাম তখনও ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পরছিলো।হুট করে ঝুপঝাপ বৃষ্টি নেমে গেলো।এত বৃষ্টি হবে জানলে কিছু সময় ব্যাংকে থেকে যেতাম।হঠাৎ আমাদের ড্রাইভার জামাল গাড়ি থামিয়ে দিলো।

এতটুকু বলে থেমে গেলেন মুরাদ সাহেব।তার মুখের দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে আছে নোভা ও তায়াং।ওদের দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলেন।তারপর ডুব দিলেন অতীতের স্মৃতির পাতায়।যেখানে এখনো জ্বলজ্বল করে ভাসছে সেই ঝুম বৃষ্টির দিনটা।

ফ্লাশব্যাক………

বাইরে তাকিয়ে একমনে মুরাদ সাহেবে কিছু একটা ভাবছিলেন।পুনরায় আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে তার।সবকিছু তিনি গুছিয়ে নিয়েছেন।ড্রাইভারের হুট করে গাড়ি থামাতে সে সামনের দিকে ঝুঁকে গেলেন।যাতে তার হুশ ফিরলো।বৃষ্টির তোড়জোড় বেড়েই যাচ্ছে। বিন্দুমাত্র কমার নাম নেই। কিছুটা বিরক্ত সহকারে ড্রাইভার জামালকে সে বলে উঠলেন।

মুরাদঃ কি ব্যাপার ড্রাইভার গাড়ি থামালে কেন?

জামালঃ স্যার, মনে হইতাছে ব্রীজের ওপর কেউ পইরা আছে।

মুরাদঃ কই কেউ নেই তো।আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।বৃষ্টির কারণে কিছু কি ভুলভাল দেখছো?তোমার কথাও ভালো করে শোনা যাচ্ছে না।একটু জোড়ে বলো।

জামালঃ স্যার,আমার মনে হইতাছে ব্রীজের ওপরে কেউ উপুড় হইয়া পইরা রইছে।(জোরে চিৎকার করে)

এত বৃষ্টি যে এক গাড়িতে বসে দুজন দুজনের কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে না।চারিদিকে শুধু বৃষ্টি পরার শব্দ। মুরাদ সাহেব জোর চেচিয়ে বললেন।

মুরাদঃ আমার চোখে কিছু পরছে না।

জামালঃ স্যার বাইর হইয়া কি দেখবেন কেডা পইরা রইছে। আমি কিন্তু অনেকটা স্পষ্ট দেখতে পাইতাছি একটা পোলা ব্রীজের ওপর পইরা রইছে।

মুরাদঃ চলো তো নেমে দেখি।

জামালঃ কিন্তু স্যার যদি কোন ডাকাতের লোক হয়।সিনেমায় তো বহুত দেখছি এমন কইরা রাস্তায় পইরা থাকে।যহন কেউ তার সাহায্য করতে যায় তহন আরো লোক বাইর হইয়া বড় বড় ছুরি দেখাইয়া লগের সবকিছু নিয়ে যায়।

মুরাদ সাহেবের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠলো। জামাল কথা ভুল বলেনি।এই ছেলে ১৭ বছর থেকে তাদের ড্রাইভার হয়ে আছে। এখন বয়স ৩২ এর কোঠায়।মুরাদ সাহেব একে চোখ বুজে বিশ্বাস করতে পারে। ছেলেটা কিছুটা বোকা কিছিমের হলেও মানুষ হিসেবে ভালো।বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমেছে। চোখের চশমাটা ভালো করে মুছে সামনের দিকে তাকালো। এবার সেও দেখতে পেলো একটা পুরুষের অবয়ব রাস্তায় পরে আছে। মুরাদ সাহেব ভাবলেন হয়তো ডেড বডি হবে।যদি ডেড বডি হয় তাহলে তো সামনে গেলেই ফেঁসে যাবেন।তাই জামালকে গাড়ি সাইড কাটিয়ে নিয়ে যেতে বললেন।জামাল গাড়ি সাইড কাটালো।যখুনি স্টার্ট দিবে তখন মুরাদ সাহেব কিছু একটা ভেবে আবার বললেন।

মুরাদঃ জামাল গাড়ি থামাও।

জামালঃ কিন্তু স্যার আপনেই তো কইলেন গাড়ি সাইড কাটতে।তার লিগা আমি সাইড কাটলাম।

মুরাদঃ যা বলছি তা কর।

জামাল এক সাইডে গাড়ি থামালো।মুরাদ সাহেব ও জামাল মাথায় একটা পলিথিন ব্যাগ বেঁধে বাইরে এলেন।তাদের কাছে এখন ছাতা নেই। জুলেখা বেগম বারবার করে বলেছিলেন ছাতা নিয়ে যেতে।কিন্তু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখে মুরাদ সাহেব আনেননি।বাতাসের কারণে তারা সামনেও এগুতে পারছেন না।ঠান্ডা হিম শীতল বাতাসে তাদের কেমন জানি শীত শীত লাগছে।কোনমতে ছেলেটার সামনে গেল।গলায় হাত রাখলেন।তারপর হাতের পালস চেক করলেন।

মুরাদঃ জামাল, ছেলেটা এখনো বেঁচে আছে। ওর পালস চলছে।ওকে সোজা করতে আমায় হেল্প করো। আমি একা পারবো না। বৃষ্টিতে ভিজে অনেক ভারী হয়ে গেছে। তাছাড়া তাগড়া জোয়ান ছেলে। একে একা উঠানোও সম্ভব নয়।

জামালঃ আইচ্ছা স্যার।

মুরাদঃ শরীরের পোশাক জায়গায় জায়গায় পুরে গেছে। পেট্রোলের মৃদু গন্ধ পাচ্ছি। কেউ মেরে জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছিলো।

জামালঃ তাই তো দেখতাছি স্যার।আমি এদিকটা ধরি আপনে ঐদিক ধইরা ঠেলা দেন।

মুরাদ সাহেব ও জামাল মিলে ছেলেটাকে উল্টালো।বৃষ্টিতে ভিজে অনেক ভারী হয়ে গেছে। মুরাদ সাহেব দেখলেন বাম গালের মাংস পুরে হা হয়ে গেছে। ঐ গালের নিচে স্টীল জাতীয় কিছু একটা লেগে ছিলো।যার কারণে অনেকখন সেটায় আগুন ছিলো।সেই কারণে গালের মাঝখানটা পুরে মাংস ঝলসে হা হয়ে গেছে। স্টীল জাতীয় জিনিসটা হাতে নিয়ে দেখলেন কোল্ড ড্রিংকসের ক্যান।বাম গাল পাকা ফ্লোরের সাথে লাগানো ছিলো।গাল আর ফ্লোরের মাঝখানে ক্যানটা ছিলো।মুরাদ সাহেব এতক্ষণ পোড়া গালটা পর্যবেক্ষণ করছিলো।যার কারণে ছেলেটাকে চিনতে পারেনি।অন্য পাশটা দেখে সে চমকে উঠলো।

জামালঃ কি হয়েছে স্যার?আপনে কি এরে চিনেন?

মুরাদঃ জামাল এতো অফিসার এনাজ আহমেদ। এর এই অবস্থা কে করলো?তুমি ওকে চিনতে পারোনি?

জামালঃ কোন অফিসার?এনাজটাই বা কে?

মুরাদঃ আমার যেবার শেয়ার ব্যবসায় বিশাল লস খাইলাম সেবার আমার নামে মিথ্যা মামলা করা হইছিলো।ঐ মামলায় আমার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হইতো।কিন্তু তা হয় নাই। আমার কেসটা এনাজ নিজ দায়িত্বে নিয়ে গিয়েছিল। আর আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করে।ও না থাকলে আমি এখন কারাদণ্ডের চার দেয়ালে বন্দী থাকতাম।

জামাল মাথা চুলকালে।বছর খানিক আগের কথা এগুলো।কিন্তু তার মনে পরছে না।তার আবার ভুলে যাওয়ার রোগ আছে। এই বিষয়ে মাথা ঘামালেন না মুরাদ সাহেব।এক সাইড পুরে গেলোও এনাজকে চিনতে তার কষ্ট হয়নি।কি করে ছেলেটাকে ভুলে যাবে সে।যেই যুদ্ধ করে তাকে বাঁচিয়ে ছিলো।সেগুলো কি ভোলার মতো।এনাজের ওপর অনেক কৃতজ্ঞ সে।মিথ্যা মামলা থেকে বেঁচে যাওয়ার পর খুশি হয়ে এনাজকে কিছু গিফট দিতে চেয়েছিলো।কিন্তু তখন এনাজ বলেছিলো আমার জন্য দোয়া করবেন।আমি একটা মেয়েকে অনেক ভালোবাসি। তাকে যেনো পাই।আমার আর কিছু লাগবে না।কিন্তু মুরাদ সাহেব নাছোড়বান্দা। তিনি এনাজকে কিছু দিবেই।তখন এনাজ মাথা চুলকে বলেছিলো, যদি নিতান্ত কিছু দিতে চান তাহলে সেটা তুলে রেখে দিন।যাতে আমি পরবর্তীতে সেটা চেয়ে নিতে পারি।কে জানতো সেই ছেলেটাকে আজ এই অবস্থায় দেখবে।হয়তো আল্লাহ তার কাছে পাঠিয়েছে সেই উপহার ফেরত দেওয়ার জন্য। এনাজকে এই অবস্থায় দেখে মুরাদ সাহেবের চোখ ছলছল করে উঠলো।ছেলেটার মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকতো।কখনও কাউকে কষ্ট দিয়ে কোন কাজ বা কথা বলেনি।ডিপার্টমেন্টেও খুব নামডাক এনাজের।এর মধ্যে প্রায় এক বছর এনাজের সাথে দেখা হয়নি তার।তবে মাঝে মাঝে অন্য কারো থেকে এনাজের টুকটাক খবর নিতেন তিনি।

এবার আসল ঘটনা আপনাদের খুলে বলি।নোভা সেদিন কিন্তু তায়াং কে বলেছিলো, যেদিন এনাজকে মারা সেদিন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর বাতাস ছিলো।সে হাত মেলে সেটা উপভোগ করছিলো। লোকগুলো যখন এনাজকে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো তখন সেটা দেখে নোভা অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো।তারপর কি হয়েছে তা সে জানে না। এনাজকে চোখের সামনে আগুনে পুড়তে দেখে সে স্থির থাকতে পারেনি।লোকগুলো যখন এনাজের নিশ্বাস পরীক্ষা করছিলো তখন ওর দম আটকে ছিলো।যার কারণে এনাজকে ওরা মৃত ধরে নিয়েছে।
এনাজের শরীরে পেট্রোল ছুঁড়ে আগুন জ্বালানোর মিনিট পাঁচ পরেই ঝুম বৃষ্টি নেমে গিয়েছিল। সেকি বৃষ্টি!!! দাঁড়িয়ে থাকার মতো অবস্থা ছিলো না।বৃষ্টির কারণে শরীরর পোড়া অংশগুলো ততটা ঘা হতে পারেনি।শুধু পোশাক পুরে গিয়েছিল। তবে গালের ওপাশটায় বৃষ্টির পানি পৌঁছাতে পারেনি বলে মাংস পুরে গলে গিয়েছিল। আগুন ধরিয়েই লোকগুলো সেখান থেকে কেটে পরেছিলো। ভেবেছিলো পরে এসে পোড়াদেহ নিয়ে গিয়ে গুম করে দিবে।কিন্তু বৃষ্টি থেমেছিল এশার আজানের পর দিয়ে। ততক্ষণে তারা এনাজের কথা ভুলেই গিয়েছিল। যখন মনে হয়েছে তখন তাড়াহুড়ো করে এখানে এসেও লাশ পাইনি।এই কথা তাদের বসকে বললে তো জ্যান্ত কবর দিয়ে দিবে।তাই সেটা খুব সাবধানে তাদের বসের থেকে লুকিয়ে গেছে। আল্লাহর শান বোঝার ক্ষমতা কোন মানুষের নেই। আল্লাহ যাকে বাঁচাতে চান তাকে যেকোন উপায় বাঁচিয়ে দেন।তাই তো সেদিন এনাজকে বাঁচাতে ঝুম বৃষ্টি নামিয়ে ছিলেন আর মুরাদ সাহেবকে এই রাস্তা দিয়ে আসতে বাধ্য করেছিলেন।

বৃষ্টির বেগ কমে গেছে। মুরাদ সাহেব পুরো চুপচুপে ভিজে গেছেন।কিন্তু সেদিকে তার খেয়াল নেই। সে এনাজকে দেখে যাচ্ছে। পুরনো কথা মনে পরে গিয়েছিল। জামালের ডাকে ভাবনা থেকে ফিরে এলেন।

জামালঃ স্যার চলেন এরে হাসপাতালে নিতে হইবো তো।নয়তো কোন ক্ষতি হইতে পারে।

মুরাদঃ হুম চলো।দুজন একসাথে ধরাধরি করে নিয়ে যাই।আমি ওর কিছু হতে দিবো না।

জামালঃ হো স্যার।আমি এদিকটা ধরি। আপনি ঐদিকটা ধইরা কান্ধে উঠান।

দুজন ধরাধরি করে গাড়িতে উঠালো এনাজকে।সারা শরীর ভিজে দুজন মানুষের ওজন হয়ে গেছে। মুরাদ সাহেবের গাড়ির সিট ভিজে যাচ্ছে সেদিকের পরওয়ানা করলেন না।এনাজের মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিলেন।তার সারা শরীর ঠান্ডায় কাঁপছে। তড়িঘড়ি করে জামালকে বললেন সামনের বড় প্রাইভেট হসপিটালে যেতে।জামালও কথা না বলে হসপিটালের রাস্তা ধরলেন।

ফ্লাশব্যাক এন্ড…………

🦋🦋🦋

মুরাদ আঙ্কেলের চোখে দিয়ে পানিতে টলমল করছে,
যেকোন সময় গড়িয়ে পরবে । আমার চোখ দিয়ে অনরবত পানি পরছে।তায়াং ভাইয়া শূণ্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থম মেরে বসে আছে। আমার মাথা থেকে পুরোপুরি এই বিষয়টা চলে গিয়েছিল যে বৃষ্টিতে কোনভাবে এনাজ বেঁচে গেছে। আল্লাহ আমার স্বামীকে বাঁচানোর জন্য কত সুন্দর করে আগের থেকে সব ভেবে রেখেছিলেন।তার দরবারে লাখো কোটি কোটি শুকরিয়া।

মুরাদঃ ওর মুখের অংশটা খুব বাজেভাবে পুরে গিয়েছিল।যা দিনকে দিন পচন ধরেছিলো।তাই এনাজের মুখ প্লাস্টিক সার্জারি করতে হয়েছে।বাহুর থেকে মাংস নিয়ে ক্ষতস্থানটা পূরণ করতে হয়েছে। তোমাদের কোন খোঁজ আমি জানতাম না যে এনাজের কথা তোমাদের বলবো।প্লাস্টিক সার্জারি করার সময় একটা মুখের আদলের দরকার ছিল। আমি তখন হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে গেছি।আমার কাছে এনাজের কোন ছবিও ছিলো না। তাই ডাক্তারকে বলেছিলাম আপনাদের ইচ্ছে মতো একটা মুখের আদল দিয়ে দিয়েন।

আমিঃ আমি আপনাদের কি বলে ধন্যবাদ দিবো তার ভাষা আমার জানা নেই। তবে আপনাদের কাছে চিরজীবন ঋণী থাকবো আমরা।

মুরাদঃ আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি।ওর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছি।ওর যাতে কোন ক্ষতি না হয় তার জন্য ওর নাম পাল্টে ফেলেছি।ওকে নিজের ছেলে পরিচয়ে রেখেছি।ওর ওপর কেউ যাতে সন্দেহ না করে তার জন্য পুরাতন বাড়ি বিক্রি করে এই নতুন বাড়িতে উঠেছি।আমি সুস্থ, স্বাভাবিক আছি শুধুমাত্র এনাজের জন্য। ও সেদিন আমায় না বাঁচালে আমার স্ত্রী, সন্তান পথে বসতো।আমার অনিশ্চিত ভবিষ্যত পার হতো।এই বাড়ি,গাড়ি, অফিস সবকিছু হয়েছে আল্লাহর রহমতে। আমি সারাজীবন এনাজের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিলেও ওর ঋণ শোধ হবে না।

আমি বিস্মিত চোখে মুরাদ আঙ্কেলের দিকে তাকিয়ে আছি। একটা মানুষ কতটা ভালো হলে এতকিছু করতে পারে।আর আমি এই লোকটার বিষয়ে না জেনে কত আজেবাজে কথা বলেছি।সেটা মনে হতেই নিজেকে ছোট মনে হলো।তায়াং ভাইয়ার মোবাইলে একটা কল আসতেই সে অন্যদিকে চলে গেল।তখুনি জুলেখা আন্টি ও মুসকান ট্রে ভর্তি করে আরো একগাদা খাবার নিয়ে হাজির।

জুলেখাঃ এ মা, তুই দেখি কিছু মুখে দিসনি বড় বউ?না খেয়ে, খেয়ে চেহারার কি হাল করেছিস দেখছিস?আমার ছেলেটার জন্য চিন্তা করতে করতে শরীরের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিস।এখন একটু নিজের যত্ন নে।স্বামী তো চলে এসেছে।তাহলে আর কিসের চিন্তা।শোন,আজ কিন্তু দুপুরে না খেয়ে কিছুতেই যেতে পারবি না।

মুরাদঃ হ্যাঁ,একদম ঠিক কথা।দুপুরে না খেয়ে বাসা থেকে যেতে পারবে না।

মুসকানঃ ভাবী,এতদিন পর তোমাকে পেয়েছি। এত সহজে যেতে দিবো তা ভাবলে কি করে?(কানের কাছে এসে নিচুস্বরে)তোমাকে তো রাখবোই সাথে তোমার ঐ হ্যান্ডসাম ভাইকেও রাখবো।

আমিঃ নজর দিয়ে লাভ নেই ননদি।আমার ভাই বহু আগের থেকে আমার মামাতো বোন নূরের ওপর ফিদা হয়ে আছে।এরা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসে। এখন শুধু বিয়ের অপেক্ষা। (নিচু স্বরে)

নিচুস্বরে ওকে কথাগুলো বলতেই মুসকান চোখ দুটোকে রসগোল্লা বানিয়ে বুকের বা পাশে হাত দিয়ে দুষ্টামীর ভঙ্গিতে বললো।

মুসকানঃ দিল টুট গ্যায়া💔।কোথায় ভাবলাম তোমার এই হ্যান্ডসাম ভাইয়ের সাথে লাইন মারবো। তা আর হলো না। এই কষ্ট আমি কোথায় রাখি?

মুসকানের কথা বলার ভঙ্গিতে আমি ফিক করে হেসে উঠলাম।মুসকানও আমার সাথে যোগ দিলো।তখুনি আমার দুই নাম্বার শ্বাশুড়ি মা (জুলেখা আন্টি আরকি)চোখ গোল গোল করে বললো।

জুলেখাঃ ভাবী,ননদ কি ফুসুরফুসুর করছিস?

মুসকানঃ তোমাকে কেন বলবো? এটা আমাদের সিক্রেট।

মুরাদঃ বউমা,আমি যতদূর তাজ মানে এনাজের মুখ থেকে শুনেছিলাম তুমি ছয় মাসের প্রেগন্যান্ট ছিলে আড়াই বছর আগে। সেই বাচ্চা কোথায় তাহলে?

আমি মুরাদ আঙ্কেলের মুখে এই কথাটা শুনে ভীষণ অবাক হলাম।তাহলে কি আরিয়ান তাদের কে নাভানের বিষয় কিছু বলেনি।কে জানে বলেছে কিনা।নিশ্চয়ই বলেনি।বললে তো জিজ্ঞেস করতো দাদুভাই কে নিয়ে আসোনি কেন?আমি দুই হাত কচলে আমতাআমতা করে বললাম।

আমিঃ আসলে আঙ্কেল হয়েছে কি, আমার একটা…….

আমি নাভানের কথা বলার আগেই তায়াং ভাইয়া হন্তদন্ত হয়ে বাগানের ওপর পাশ থেকে এসে বললো।

তায়াংঃ নোভা,জলদী চল তো।আমাদের এখুনি বের হতে হবে।আমার একটা আর্জেন্ট কাজ পরে গেছে।

আমিঃ কি হয়েছে ভাইয়া? তোকে এত নার্ভাস লাগছে কেন? সবকিছু ঠিক আছে তো।কে কল করেছিলো তোকে?

তায়াংঃ তোকে যেতে যেতে সব বলবো এখন চল।

জুলেখাঃ সে কি কথা!!! দুপুরের খাবার না খেয়ে তোমরা দুজন কোথাও যেতে পারবে না।

মুরাদঃ এতদিন পর আমাদের বাড়িতে এলে।কিছু না খেয়েই চলে যাবে।এটা কি ভালো দেখায়?

তায়াংঃ সরি আন্টি,আঙ্কেল।আমাকে এখুনি যেতে হবে। আর নোভাকে আমি বাসায় পৌঁছে দিবো।

মুসকানঃ ভাবী তুমি না হয় থাকো।বিকালে চলে যাবে।

আমিঃ না গো। এখন নয়।( মুসকানের কানের কাছে মুখ নিয়ে)তোমার ভাইয়ের সাথে সবকিছু স্বাভাবিক হোক তারপর আসবো।ব্যাটাকে আচ্ছা করে শাস্তি দিতে হবে তো।আমার থেকে যাতে আর কখনো দূরে না থাকে।

আমার কথা শুনে মুসকান খিলখিল করে হেসে উঠলো। তায়াং ভাইয়া তাড়া দিতে শুরু করলো আমায়।আমিও সবার থেকে বিদায় নিয়ে তায়াং ভাইয়ার বাইকে উঠে বসলাম।আমাদের কে বিদায় জানাতে তারা তিনজন একসাথে গেইট অব্দি এলো।

জুলেখাঃ টেবিলে থাকা একটা খাবারও কেউ ধরিসনি।দুপুরে খেয়ে গেলে খুব খুশি হতাম।কি এমন হতো গরীবের ঘরে একবেলা খেয়ে গেলে।

আন্টি ছোট বাচ্চাদের মতো আমাদের কে অনুরোধ করলো।আমি মুচকি হেসে তাকে বললাম।

আমিঃ আরেকদিন এসে টানা ৭ দিন বেড়াবো।তখন ইচ্ছে মতো জ্বালিয়ে যাবো।যাতে বুঝতে পারেন কাদের কে বাসায় দাওয়াত করেছেন।

মুসকানঃ না আসলেই চলে। সোজা রিয়েকশন নিবো তখন।

মুরাদঃ দুপুরে একসাথে খেয়ে গেলে সত্যি খুশি হতাম।

তায়াংঃ মন খারাপ করবেন না আপনারা।সত্যি আরেকদিন এসে সারাদিন বেড়াবো।

জুলেখাঃ না আসলে পিঠের ছাল তুলবো বলে দিলাম।

তায়াংঃ আচ্ছা, কোন সমস্যা নেই।

আমিঃ আল্লাহ হাফেজ আঙ্কেল, আন্টি।আল্লাহ হাফেজ ননদী।আপনারা নিজেদের খেয়াল রাখবেন।

মুরাদঃ সাবধানে যেও।

তায়াং ভাইয়া বাইক স্টার্ট দিলো।আমি ওর কাঁধে এক হাত রেখে আরেক হাত নাড়িয়ে সবাইকে বিদায় জানালাম।মাত্র ঘন্টাখানিকের পরিচয়। অথচ তাদের ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছিল না জানি কত বছরের চেনা পরিচিত আমরা।অনেক ভালো মন-মানসিকতা তাদের। যা আমাকে সত্যি মুগ্ধ করলো।কিন্তু তায়াং ভাইয়ার হঠাৎ কি হলো তা বুঝলাম না। কে কল করেছিলো তাকে?আর আর্জেন্ট কাজটাই বা কি?

#চলবে

#প্রজাপতির_রং🦋
#Part_26
#Writer_NOVA

—–গুড মর্ণিং ঢাকা।গুড মর্ণিং বাংলাদেশ। হ্যালো লিসেনার।দিস ইজ মি RJ নোভানাজ আছি আপনাদের সাথে। আপনারা শুনছেন ঢাকা এফএম 90.4 ।আমার শো ভোরের পাখি নিয়ে আমি কিন্তু হাজির হয়ে গেছি আরো আধা ঘণ্টা আগে। এখন সময় ৭ টা বেজে ৩৫ মিনিট। ঘুম কেমন হলো সবার?সকালে উঠেই তো আবার যার যার কর্মস্থানে ছুটতে হবে।পুরো ঢাকা শহরটা কিছু সময়ের মধ্যে ব্যস্ত হয়ে পরবে।ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত পরিবেশটা কেমন লাগে আপনাদের? অনেকে হয়তো সকালের ধোঁয়া উঠা চায়ের সাথে এফএম শুনছেন।তা দিনকাল কেমন কাটছে আপনাদের? আপনার মনের যেকোনো কথা আমাকে টেক্সট কিংবা কমেন্ট করে জানতে পারেন।কিভাবে কমেন্ট বা টেক্সট করবেন তা কি পুনরায় বলে দিতে হবে? আচ্ছা আমি বলেই দিচ্ছি। আমাকে টেক্সট করতে হলে আপনার মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে আপনার নাম,লোকেশন ও মনের যেকোনো কথা লিখে পাঠিয়ে দিবেন ২৬৯৩৬৯ এই নাম্বারে। কমেন্ট করতে হলে আমাদের অফিসিয়াল পেইজে যুক্ত হতে হবে।ফেসবুকে এসে টাইপ করতে হবে www.dhakafm90.4.bd । তাহলে আমাদের অফিসিয়াল পেইজ চলে আসবে।সেখানে আমি একটা পোস্ট দিয়েছি।যেটা হলো,ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত পরিবেশ থেকে একটু দূরে সরলে কার কথা মনে পরে? সেই পোস্টের কমেন্ট বক্সে আপনারা কমেন্ট করতে পারবেন।বকবক তো অনেক হলো। চলুন একটা গান শুনে মনটা ফুরফুরে করে আসি।আজকের ওয়েদারটা কিন্তু জোস।কিরকম শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ। এমন ওয়েদারে রবীন্দ্র সংগীত হলে খারাপ হয় না।আপনাদের পছন্দের গানের রিকোয়েস্টও কিন্তু করতে পারেন।আমার প্লে লিষ্টে থাকলে তা অবশ্যই বাজিয়ে দিবো।আর কথা নয় এখন আমরা শুনবো আমার খুব পছন্দের একটা রবীন্দ্র সংগীত। আমারো পরাণো যাহা চায়,তুমি তাই তুমি তাই গো।আমারো পরাণো যাহা চাই। আমার গানের গলা ভীষণ বাজে।এই কাকের কণ্ঠের গান শুনিয়ে আপনাদের অজ্ঞান করতে চাই না।চলুন সেরা শিল্পীদের কণ্ঠে শুনে আসি।

গান বাজিয়ে বড় করে একটা নিশ্বাস ছারলাম।আজকাল কথা বলতে অনেক বিরক্ত লাগে। কিন্তু কিছু করার নেই। আমার চাকরীই এটা।কথা বলতে বলতে মাঝে মাঝে গলা ব্যাথা করে।ব্যাগ থেকে টিফিনবক্স বের করে দেখলাম দুটো স্যান্ডউইচ।আজ সকালের খাবার এরিন তৈরি করেছে। সামনে বিয়ে তাই টুকটাক রান্না শিখে নিচ্ছে। একটা স্যান্ডউইচ তুলে মাত্র একটা কামড় দিয়েছি।তখুনি রেডিও স্টেশনের পিয়ন এসে হাজির।

—- নোভানাজ ম্যাম, আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে।

আমিঃ আমার সাথে?? (অবাক হয়ে)

—– হ্যাঁ ম্যাম আপনার সাথে। বললো আপনার লিসেনার।আপনি উনার খুব পছন্দের RJ।

আমিঃ আগে কখনো অফিসে এসেছিলো?

—– না ম্যাম।উনাকে আগে কখনো দেখিনি।

আমিঃ আপনি উনাকে ওয়েটিং রুমে বসতে বলুন আমি এখুনি আসছি।

—-ওকে ম্যাম।

পিয়ন চলে যেতেই ভাবনায় বিভোর হয়ে গেলাম।সাধারণত এই ভোর সকালে কোন লিসেনার আমার সাথে দেখা করতে কখনো আসেনি।তাই একটু অবাক হয়েছি।ভাবনার মধ্যে স্যান্ডউইচে আরেকটা কামড় দিয়ে বাকি অর্ধেকটা রেখে দিলাম।প্লে লিষ্টে পরপর তিনটে গান চালু করে রাখলাম।তারপর টিস্যু দিয়ে হাত,মুখ মুছতে মুছতে ওয়েটিং রুমের দিকে রওনা দিলাম।

রুমের সামনে গিয়ে দরজা সামান্য খুলে আগে উঁকি মারলাম।দেখলাম একটা ছেলে অফিসের ফর্মাল গেটআপে উল্টো দিকে ঘুরে তাকের মধ্যে থাকা বই নেড়েচেড়ে দেখছে। আমি ভালোমতো খেয়াল না করে ভেতরে ঢুকলাম।

আমিঃ আমি RJ নোভানাজ।কিছু বলার ছিলো আপনার?না মানে হঠাৎ করে এত সকালে দেখা করতে চলে এসেছেন তাই আরকি।

🦋🦋🦋

বেশ ইতস্ততায় কথাগুলো বললাম।নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। অচেনা কারোর সাথে হুট করে কথা বলতে পারি না। ছেলেটা পেছনে ঘুরতেই আমি মাথা তুলে চমকে উঠলাম।এতো দেখছি আমার স্বামী মহাশয়।কিন্তু সে এখানে কি করছে ? পিয়ন তো বললো একজন লিসেনার এসেছে।

আমিঃ আপনি!!!!!

তাজঃ আমাকে দেখে খুশি হওনি বউ?

আমিঃ আপনি এখানে কি করছেন?(রাগী কণ্ঠে)

তাজঃ আমিই তো তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি। যাক বাবা অবশেষে আমার ধারণাই সঠিক হলো।

আমিঃ কিসের ধারণা?

তাজঃ বলছি, তার আগে বসো।

আমিঃ আমি বসতে পারবো না। আমার শো আছে।

তাজঃ তাহলে তো আমি বলবোও না।

এই ঘাড়ত্যাড়ার সাথে ত্যাড়ামি করে আমি জীবনেও পরবো না। তাই রেগে ধপ করে চেয়ারে বসে পরলাম।এনাজ ওরফে তাজ আমার পাশের চেয়ারে বসলো।

আমিঃ কি বলবেন জলদী বলুন?

তাজঃ তোমার শো দুটো আমার খুব পছন্দের।বলতে পারো, আমি তোমার শো-এর অনেক বড় লিসেনার আরকি।পিয়ন তোমাকে আমার কথাই বলেছে।যেদিন তোমার শো প্রথম শুনেছিলাম সেদিন আমি মনে মনে বলেছিলাম এটা আমার বউ ছাড়া অন্য কেউ হতেই পারে না। তাই তো বউয়ের শো একটাও মিস করি না।তোমার কণ্ঠ, কথা বলার ভঙ্গি, হাসি সবকিছু আমার চেনা।তোমাকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছিলো।তাই সকাল সকাল চলে এলাম।আমার আজ সকাল করে একটা কাজে যাওয়ার কথা ছিল।সে সব ফেলে তোমার কাছে চলে এসেছি।

আমিঃ ইস,ভালোবাসা একদম উথলায় পরতেছে।
হুহ😏!! আমি এত সহজে গলছি না।যত ভালোবাসাই দেখাও।আগে তোমার শিক্ষা হোক তারপর বাকিসব।(মনে মনে)

মনে মনে কথাগুলো বলেই আমি কাঠ কাঠ গলায় তাজকে বললাম।

আমিঃ আপনার কথা শেষ হলে আমি আসতে পারি।

তাজঃ আশ্চর্য, যাওয়ার জন্য এমন শুরু করেছো কেন?তুমি তো তোমার……

তাজ পুরো কথা শেষ হওয়ার আগেই আমি ওর মুখ চেপে ধরলাম।তাজ বিস্মিত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওর দিকে তাকিয়ে আবার দরজার দিকে তাকালাম।আমার মনে হলো কেউ সেখান থেকে আড়ালে সরে গেলো।তাজ সেই সুযোগে আমার হাতে একের পর এক চুমু দিতে লাগলো।আমি হাত সরিয়ে টিস্যু দিয়ে জোরে জোরে ঘষতে লাগলাম।

আমিঃ আমার হাতটাকে নোংরা করে দিলো। আমার থেকে দূরে সরুন।

তাজ উত্তর না দিয়ে মিটমিট করে হাসছে।আমি বাই বলে চেয়ার থেকে উঠে গেলাম।তাজ পেছন থেকে হাত ধরে ফেললো।আমার হাত টেনে নিয়ে উল্টো পিঠে তার ঠোঁট ছোঁয়ালো।আমি হাত ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে লাগলাম।

আমিঃ হাত ছাড়ুন।কেউ দেখে ফেললে খারাপ ভাববে।আমার চরিত্রে দাগ লাগাতে এক মিনিটও দেরী করবে না। আপনাদের ছেলেদের তো সাত খুন মাফ।এই সমাজে যত দোষ সবতো মেয়েদের।

তাজঃ আমার কথা এখনো শেষ হয়নি।

আমিঃ অফিসে বাকি কথা বলেন।এখন আপাতত আমাকে ছাড়েন।কেউ দেখে ফেললে কেলেংকারী হয়ে যাবে।একটু বোঝার চেষ্টা করুন।

আমি এদিক সেদিক তাকিয়ে ছটফট করতে লাগলাম।তাজ শয়তানি হাসি দিয়ে বললো।

তাজঃ ছাড়তে পারি। তবে এক শর্তে।

আমিঃ আবার কিসের শর্ত?

তাজঃ তুমি নিজ ইচ্ছায় আমার ঠোঁটে একটা চুমু দিবে, তো তোমাকে ছাড়বো।

🦋🦋🦋

এক হাত দিয়ে ঠোঁট দেখিয়ে একগালে শয়তানি হাসি দিলো।তার এরকম উদ্ভট কথাবার্তা এবং লাগাম ছাড়া কান্ড-কারখানা দেখে আমার পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে।

আমিঃ এ্যাহ, শখ কত।ভাগেন এখান থেকে। আপনার সাথে কোন কথা নেই আমার।আমি আপনাকে চিনি না। তাই এসব আবাদার আমার কাছে করবেন না।

তাজ হাতটা শক্ত করে ধরে হেচকা টানে আমাকে তার সামনে নিয়ে এলো।আমি তার হাত থেকে ছোটার জন্য ছটফট করছি।কিন্তু এই জলহস্তীর মতো শরীরের মানুষের হাত থেকে নিজের শুকনো হাড্ডিসমেত হাতটাকে কিছুতেই ছাড়াতে পারছি না।

তাজঃ কি বললে তুমি আমাকে চিনো না?আমার সাথে কথা নেই তোমার?

আমিঃ যা বললাম তাতো শুনতেই পেয়েছেন।

তাজ কিছুটা রেগে গেলেও শয়তানি হাসি দিয়ে আমাকে বললো।

তাজঃ তুমি আমার ঠোঁটে চুমু না খেলে আমি কিছুতেই ছারবো না।এত দূর থেকে বউকে দেখতে এলাম।এর বিনিময়ে কিছু না নিয়ে চলে যাবো?তাতো হয় না।

আমিঃ বদমাশ বেডা।লাজ-শরম সব কি সকালের নাস্তার সাথে খেয়ে ফেলছেন নাকি?হাত ছাড়ুন।আমি কিন্তু চিৎকার করে সবাইকে ডাকবো।

তাজঃ ডাকো, ডাকো।তুমি যদি তোমার স্বামীকে গণধোলাই খাওয়াতে চাও তাহলে ডাকতেই পারো।আমি সেচ্ছায় সবার মার হজম করে নিবো।

এই বেডা আমাকে এখন কিছুতেই ছাড়বে না।কি আর করার এর শর্ত মেনে নিতেই হবে।আগত্যা আমি তার শর্তে রাজী হয়ে গেলাম।উনি আমার দিকে তাকিয়ে বিশ্ব জয় করা হাসি দিলো।

আমিঃ আমি চুমু খেতে পারি।তবে আমারও একটা শর্ত আছে?

তাজঃ তোমার আবার কিসের শর্ত🤨?(ভ্রু উঁচু করে)

আমিঃ আপনি চোখ বন্ধ না করলে আমি আপনাকে কিসি দিবো না।(লাজুক মুখে)

তাজঃ আমাকে বোকা পেয়েছো।তোমাকে কি আমি চিনি না।আমি চোখ বন্ধ করলেই তুমি আমাকে উল্টো পাল্টা কিছু করে এখান থেকে পালাবে।

আমিঃ একটুও না। আমার শর্তে রাজী থাকলে বলেন নয়তো আমি গেলাম।

আমি মনে মনে শয়তানি হাসি দিচ্ছি।পরাণের সোয়ামী,একটু পরেই টের পাইবা তোমার কি অবস্থা করি।তাজ কিছু সময় ভেবে বললো।

তাজঃ আচ্ছা, আমি রাজী।

আমিঃ তাহলে চোখ বন্ধ করুন।

তাজঃ ওকে করলাম।

ফাঁকের ওপর আমি ওর থেকে আমার হাত দুটো ছুটিয়ে নিলাম।তারপর তাজ চোখ বন্ধ করে তার ঠোঁট দুটো আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো। কিন্তু আমার মনে তো শয়তানি বুদ্ধি খিচুড়ি পাকাচ্ছে।আমি ওর সামনে একটু হেলে ওর ঠোঁট দুটো, দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে জোরে টান দিয়ে উল্টো দিকে হাসতে হাসতে দৌড় দিলাম।শখ কত,এতদিন খবর ছিলো না আর এখন আসছে।ওরে ভালুপাসা রে।একদম ঠিক করেছি আমি।এটা তার শাস্তি।

তাজঃ আহ্হহহ।ঠোঁট দুটো আমার ছিঁড়ে ফেললো। ভালো হলো না বাটারফ্লাই। এর শাস্তি তোমায় পেতে হবে।তৈরি থেকো তুমি।

আমিঃ কচু করবেন।

দরজার বাইরে থেকে মুখ বের করে হাতের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইচ্ছে মতো ভেংচি কেটে দৌড়ালাম শো করতে।এখানে বেশিখন থাকলে আমার কপালে শনি আছে। বেটাকে আচ্ছা করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শখ কত,রোমান্স করতে এসেছিলো সে।ওরে আমার পরাণের সোয়ামীরে।এখন ঠোঁট ব্যাথায় মরো।আমি হাসতে হাসতে শো রুমে চলে এলাম।ভাবতেই খুশি লাগছে।কি বোকা বানিয়ে এলাম😝।আবার এসো এরকম উল্টো পাল্টা আবদার নিয়ে। সেবার অবস্থা এবারের থেকে আরো বেশি খারাপ হবে।মনটা খুশি খুশি লাগছে।

#চলবে

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ