Friday, June 5, 2026







চন্দ্ররঙা প্রেম পর্ব-২২

#চন্দ্ররঙা_প্রেম
#পর্বঃ২২
#আর্শিয়া_সেহের

রাত নয়টা বাজে। মেঝেতে পড়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছে আরমান। টানা দু ঘন্টা নিজ হাতে ওকে পিটিয়েছে রুশান। পিটিয়ে মেঝেতে ফেলে রাখার ঘন্টাখানেক পর আরমানের পুরো শরীর ফুলে উঠেছিলো।

রুশানের অসুস্থ শরীরে এতটা দম দেখে তাকে বাহবা দিলো রাফিন। বড় হয়ে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থাতে যোগদানের জন্য বললো রুশানকে। গোয়েন্দাগিরিতে রুশানের ঝোঁক আছে তাই তার ও প্রপোজালটা‌ খারাপ মনে হলো না। তবে এখনি এসব নিয়ে ভাবতে চায় না সে।

রুমেল চেয়ারে বসে পুরোটা সময় হেঁসেছে। শেষ সময়ে শান রুমেলের কাছে এসে কিছু একটা বললো।‌ রুমেল চেয়ার ছেড়ে উঠে বাম সাইডের একটা রুমে গেলো। ওই রুমেই রুমেলকে রাখতো আরমান। সেখান থেকে সেই ছুরিটা আনলো যেটা আরমান ওকে নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করতে দিতো।

রুমেল ধীরপায়ে এগিয়ে গেলো আরমানের দিকে। একহাতে ওর মুখ উঁচু করে ধরে বললো,
-“আমি আমার বোনকে পেয়েছি‌ । আর আটকে রাখতে পারলি না তো আমায়।”
আরমানের কিছু বলার শক্তি নেই। তবুও মুখ খোলার চেষ্টা করলো।‌ কিন্তু কিছু বলার আগেই শান বাতাসের গতিতে এসে রুমেলের হাত থেকে ছোঁ মেরে ছুরিটা নিয়ে পরপর দুইটা টান দিলো আরমানের ঠোঁট থেকে থুতনি পর্যন্ত। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এলো।
শান ছুরিটা আবার রুমেলের হাতে দিয়ে দিলো।
আরমানের দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে বললো,
-“এই আঘাতটা আমার চন্দ্রকন্যার ঠোঁট থেকে রক্ত বের করার জন্য তোর পাওনা ছিলো । ওর শরীরে একটা ফুলের টোকাও আমি সহ্য করতে পারি না বুঝেছিস?”

রুমেল অবাক চোখে চেয়ে রইলো শানের দিকে।
রাফিন বেশ অবাক হলো শানের এমন রুপ দেখে। শান্তশিষ্ট ছেলের মধ্যেও এতো ক্ষমতা চলে আসে ভালোবাসার জোরে? প্রান্ত খুব একটা অবাক হলো না। রুমঝুম আসার পর শানের পাল্টে যাওয়াটা সবার চোখেই কমবেশি পড়েছে। মেয়েটাকে আগলে রাখতেই ছেলেটা বদলেছে।

রুশান একটু দূরে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে বসে আছে। আরমানকে পিটিয়ে ভীষণ ক্লান্ত সে। ক্লান্তি মাখা উজ্জ্বল শ্যামলা মুখে শানের দিকে চেয়ে কৃতজ্ঞতাপূর্ন হাঁসি হাঁসলো সে। তার বোনের নিরাপদ আশ্রয় একমাত্রই শান। এই ছেলেটার কাছে তারা আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে।

শান রুমেলকে রেখে সরে এলো আরমানের সামনে থেকে। আরমান মেঝেতে পড়ে গোঙাচ্ছে। রুমেল শানের দিকে একবার তাকিয়ে আবার আরমানের দিকে তাকালো। ওর স্মৃতিতে এসে ভর করলো আট-নয় বছর আগের সেই ভয়াবহ দিনগুলো। চোখ বন্ধ করে একটা শ্বাস নিলো রুমেল। এরপর চোখ মেলে আরমানের দিকে তাকালো। একে একে কেটে দিলো হাত ও পায়ের শিরা গুলো।‌ রক্তে ভেসে যাচ্ছে ফ্লোর। আরমান এখনো জীবিত তবে নিস্তেজ।

রুমেল, প্রান্ত আর শান মিলে এই গোডাউনের একটি ঘরে বড় এক কাঠের বাক্সের মধ্যে আটকে রাখলো আরমানকে। বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দিলো বাক্সটা। তারপর তালাবদ্ধ করলো রুমটা।
তারা জানেনা এখানে কতদিন বা কতবছর মানুষের আনাগোনা হবে না। তবে যতদিনে এখানে লোকালয় হবে ততদিনে আরমানের দেহটা একটা শুকনো কঙ্কালে পরিনত হয়ে যাবে।
সবাই গোডাউন থেকে বেরিয়ে সেটাকে আগের মতোই তালাবন্ধ করে দিলো। তারপর রওনা দিলো যশোরের উদ্দেশ্যে। শান বাড়ির সবাইকে বলেছিলো পুলিশের ঝামেলা শেষ করার জন্য থানায় যাচ্ছে রুমেল আর রুশানকে নিয়ে। সেখান থেকে সরাসরি যশোর পৌঁছে যাবে ওদের নিয়ে। বাকিরাও তাই নিজেদের মতো করে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলো।

মেহেদী আর তিহান সবাইকে নিয়ে যশোর পৌঁছেছে রাত আটটার মধ্যেই। শান,রাফিন,প্রান্ত,রুশান,রুমেল পৌঁছেছে দশটার দিকে। রাফিনকে অনেকটা জোর করেই এনেছে শান। ছেলেটা অনেক সাহায্য করেছে ওকে।
রেজাউল সাহেব সবাইকে নিয়ে সাড়ে দশটা নাগাদ বাড়িতে পৌছালেন।

গাড়ি থেকে নেমে রুমঝুম আর রুশান দৌড় দিলো । কে আগে কলিং বেল চাপ দিতে পারে?
রুমেল পেছন থেকে উচ্চ স্বরে বললো,
-“আরে দৌড়াচ্ছিস কেন,দুজন? আস্তে যা। পড়ে যাবি তো।”

শান সহ বাকি সবাই ওদের তিনজনের দিকে তাকালো। কি মধুর সম্পর্ক।শান ভাবলো, তারা তিনজনও তো এভাবে হেঁসে খেলে বড় হয়েছে।‌ কিন্তু এরা তিনজন? কষ্টে জর্জরিত এক অতীত পার করে এসেছে।

রেজাউল সাহেব শানের কাঁধে হাত রাখলো। শান মাথা ঘুরিয়ে তাকালো তার দিকে। রেজাউল সাহেব শানের সামনে দুহাত জোড় করে মাথা নিচু করে ফেললো। কাঁপা গলায় বললো,
-“তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা। আমাকে আরেকবার আমার ছেলেমেয়েদের কে পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো।”

শান মুখ ফুলিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বললো,
-“বুঝেছি তো। আমাকে ছেলে মনে করেন না। করলে এভাবে বলতে পারতেন না।”

রেজাউল সাহেব হেঁসে ফেললেন। এই ছেলেটা ভীষণ ভালো। কত সুন্দর ম্যাজিক করে তার ভাঙা সংসারটা জুড়ে দিলো। তার শূন্য সংসার ভরিয়ে দিলো। তার প্রাণহীন সংসারটাতে প্রান এনে দিলো।এই ছেলের কাছে সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকবে সে।

রুশান আগে দরজার কাছে পৌঁছালেও সে রুমঝুমকে কলিং বেল চাপতে দিলো। রুমঝুম হেঁসে কলিং বেল বাজালো। মিনিট খানেকের মধ্যেই কাজের মেয়েটি এসে দরজা খুললো। একজন একজন করে সকলেই ভেতরে ঢুকলো। রুমেল,শান‌,মেঘা আর রাফিন এখনো বাইরে দাঁড়ানো।‌ রুমেল একদৃষ্টিতে বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। কত বছর আগে এই বাড়িটি দেখেছিলো। তার শৈশব, কৈশোর কেটেছে এবাড়িতে। বাড়িটির তার মায়ের পছন্দে করা হয়েছিলো।‌ ঠিক তেমন ভাবেই আজও দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটি।

শান মেঘাকে ইশারা করে রাফিনকে নিয়ে ভেতরে চলে গেলো। মেঘা রুমেলের ডান বাহুতে হাত রাখলো।রুমেল বাড়ি থেকে চোখ ফিরিয়ে মেঘার দিকে তাকালো। তাদের বিয়ের ব্যাপারে রুমেল এখনো কিছু জানে না। তবে রুমেলের মনে মেঘার জন্য একটা সফট কর্নার আগে থেকেই তৈরি হয়েছে।

প্রথম দিন থেকেই মেয়েটা তার খুব যত্ন নিয়েছে। অপরিচিত একটা মানুষকে এভাবে যত্ন‌ করা যায় তা মেঘাকে না দেখলে বোঝা যেতো না।‌ সময় মতো খাওয়ানো, শরীর মুছে দেওয়া, উত্তেজিত হয়ে পড়লে ডাক্তার ডাকা এগুলো বেশিরভাগই মেঘা করেছে।
রুমঝুম রুশানকে দেখাশোনা করতো আর মেঘা রুমেলকে।

মেঘার ডাকে হুঁশ এলো রুমেলের। মেঘা রুমেলের হাতে হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে বললো,
-“ভেতরে চলুন। অনেক রাত হয়েছে। আর কতক্ষণ দাঁড়াবেন?”
রুমেল নিজেকে সামলে বললো,
-“হ্যাঁ হ্যাঁ চলুন।”
বলেই হনহন করে ভেতরে ঢুকে পড়লো রুমেল। মেঘা ঠোঁট বাঁকিয়ে রুমেলের পিছু পিছু নিজেও বাড়িতে ঢুকে পড়লো।

বাড়িতে ঢুকে বিশ্রী গন্ধ নাকে আসলো সবার। শাফিয়া আক্তার নাক ঢেকে ফেললেন। শান সিঁড়ি অবধি হেঁটে গিয়ে বললো,
-“গন্ধ উপর থেকে আসছে বোধহয়। সিঁড়ির দিকে এগুলে গন্ধ তীব্র হচ্ছে।”

রাফিন, শান,তিহান, প্রান্ত আর রুশান উপরে গেলো। রাফিন রুশানের মায়ের রুমটা দেখিয়ে বললো,
-“ওই ঘরটা কার?”
রুশান ভাবলেশহীন ভাবে বললো,
-“আমার মায়ের।”

রাফিন শানের দিকে তাকালো। গলার স্বর নিচু করে বললো,
-“এটা লাশ পঁচা গন্ধ শান। লাশের মৃত্যু তিন থেকে চারদিন আগেই হয়েছে।”
রুশানের বুক ধক করে উঠলো। যতই ঘৃনা করুক, মা তো। মায়ের জন্য কোথাও না কোথাও একটুখানি ভালোবাসা থেকেই যায়। তবুও নিজেকে সামলানোর ব্যার্থ চেষ্টা করলো রুশান। বাকিরা এটুকু ছেলের সহ্য শক্তি দেখে অবাক হয়ে গেলো। কি সুনিপুণ ভাবে চোখের পানি লুকাচ্ছে।

শান আর তিহান নিচে এসে সবাইকে গন্ধের উৎসের ব্যাপারে বললো। একের পর এক বিপদে সবাই ক্লান্ত এখন। রেজাউল সাহেবের কোনো ভাবান্তর নেই। রুমঝুম ঘাড় ঘুরিয়ে রুমেলকে দেখলো। রুমেলের ঠোঁটে হাঁসি ঝুলে আছে। তার সাথে করা সকল অন্যায়ের শাস্তি পাচ্ছে আজ অপরাধীরা। নিঃসন্দেহে এটি তার জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ দিন।

প্রান্ত রুশানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। রাফিন পুলিশে খবর দিয়েছে। তারা এসেই দরজা ভেঙে লাশ নামাবে। পুরো বাড়িতে নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। বাতাসে ভাসছে লাশ পঁচা গন্ধ।

মিনিট বিশেকের মাথায় পুলিশ এলেন। আশেপাশের প্রতিবেশীরাও জমা হলেন বাড়িতে। শাফিয়া আক্তার শান্ত, শিরীন, মেঘা আর রুমেল কে গেস্ট রুমে দরজা আটকে থাকতে বললেন। লাশের কি অবস্থা সেটা কেউ জানেনা । বাচ্চারা দেখলে ভয় পেয়ে যেতে পারে।

রুশান দোতলায় তাহমিনা বেগমের দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। শেষ কয়েকটা দিনে তাহমিনা বেগম অপরাধবোধে ভুগতো। তবে‌ ততদিনে তিনি সবই হারিয়ে ফেলেছেন।

কয়েকজন পুলিশ ড্রয়িং রুমে বসে রেজাউল সাহেবকে প্রশ্ন করছে। শান রেজাউল সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে অধিকাংশ উত্তর দিয়ে যাচ্ছে। রাফিন,তিহান, প্রান্ত, শানের বাবা,রুশান সহ কয়েকজন তাহমিনা বেগমের দরজা ভাঙছে। রুমঝুম নীচে থেকে পলকহীন চোখে চেয়ে আছে সেদিকে।

দরজা ভাঙার সাথে সাথেই বিশ্রী দূর্গন্ধ বেরিয়ে এলো বাইরে। তিহান মুখ চেপে সাইডে গিয়ে বমি করে দিলো। প্রান্তও মুখ পেট চেপে ধরে সরে দাঁড়ালো। সবারই অবস্থা শোচনীয় হয়ে দাঁড়ালো এই দূর্গন্ধে। তবে রুশানের ভঙ্গি তেমন নির্বিকারই আছে। সে ধীরে ধীরে পা ফেলে ঢুকে পড়লো তার মায়ের রুমে। রাফিন বহুকষ্টে নিজেকে সামলে রুশানের পিছু পিছু ঢুকলো। বাকিরাও নাক টিপে ভেতরে এলো।

পুরো রুম অন্ধকারে ছেয়ে আছে। রুশান হাতড়ে গিয়ে লাইট অন করলো। সাথে সাথেই একজন পুলিশ চিৎকার করে উঠলো। চোখ ফিরিয়ে নিলো প্রত্যেকেই।

শান দৌড়ে উপরে চলে এলো। দরজা থেকেই কেঁপে উঠলো সে। তাহমিনা বেগম ফ্লোরে পড়ে আছেন। চোখের কোটর ফাঁকা। ইঁদুরে বোধহয় চোখ খেয়ে নিয়েছে। পুরো শরীরেও একটু একটু করে খেয়ে গেছে । কালশীটে হয়ে গেছে পুরো শরীর। ঠোঁটের আশেপাশেও খেয়ে গেছে খানিকটা।

ভয়াবহ অবস্থা লাশের। শান নিজেকে শক্ত করলো রুশানের জন্য। রুশান তার মায়ের পাশে হাঁটু গেড়ে বসলো। আলতো করে ছুঁয়ে দিলো পুরো মুখ।
হুট করেই আবার দাঁড়িয়ে পড়লো। রুম থেকে বের হয়ে যেতে যেতে বললো,
-“উনার লাশ নিয়ে যান। যা করার করুন। এই বাড়িতে যেন আর না আসে এই লাশ। এমন মহিলার কবরে মাটিও দিতে চাই না আমরা।”

কথাটা বলেই দেরি না করে বেরিয়ে গেলো রুশান। নিজের ঘরে গিয়ে দরজা আটকে দিলো।
পুলিশ লাশ ঢেকে দিয়ে পুরো ঘরে তল্লাশি করলেন। তাহমিনা বেগম স্পষ্ট ভাবে লিখে গেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সেই লেখার পাশেই রয়েছে একটি চার ভাজের খোলা চিঠি।

রাফিন গিয়ে চিঠিটি হাতে নিলো। চিঠি হাতে নিয়ে লাশ সহ ড্রয়িং রুমে নেমে এলো। রেজাউল সাহেব হাতের ইশারায় লাশ নামাতে বারন করলেন। অগত্যা লাশ নিয়ে বাইরে দাড় করানো অ্যাম্বুলেন্স রাখলেন ।

পরিবারের সদস্য বাদে উপস্থিত সকলেই অবাক হলেন। একটা মানুষ ঠিক কতটা ঘৃন্য হলে আপনজনেরা তার লাশটি অবধি দেখে না। এমন মানুষের পৃথিবীতে জন্মে লাভ কি? কি পেয়েছে জীবনে মানুষের ঘৃনা ছাড়া? টাকাগুলো আজ কোন কাজে লাগছে?

রাফিন সকলের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে বললো,
-” উনি একটি চিঠি লিখে গেছেন। বেনামি চিঠি। চিঠিটা গত চারদিন আগের রাতে লেখা। আমি পড়ছি। আপনারা শুনুন।”
সকলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শোনার চেষ্টা করলো।

“এই চিঠি যখন পাবে তখন আমি এ দুনিয়ায় থাকবো না। এই জীবনে অনেক পাপ করেছি আমি। জানি আমি ক্ষমার যোগ্য নই। ভেবেছিলাম নিজ হাতে আরমানকে খুন করবো। কিন্তু তার আগেই ও আমার ছেলেটাকে মেরে ফেললো। আমাকে ফোন করে আমার ছেলের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে পৈশাচিক হাঁসি হাঁসছিলো সে। নিজের ছেলের মৃত্যু সংবাদ মেনে নিতে পারিনি। মনে হচ্ছিলো সবকিছু শেষ করে দেই। হঠাৎ ভাবলাম, আমার ছেলে মরে গেছে তাহলে আমার সতীনের মেয়ে শান্তি পাবে কেন? ওর জন্যই তো মরলো আমার ছেলে।
আমি সেই রাতে নিজেই আরমানকে বাড়ির ভিতরে আসতে দিয়েছিলাম। আমি কতটা নোংরা মস্তিষ্কের ভাবতে পারছো? নিজ ছেলের খুনির সাথে কাজ করেছি শুধুমাত্র রুমঝুমের সুখ শেষ করার জন্য।রুমঝুমকে আরমান ছাদ থেকে নিয়ে যাওয়ার পর রুমে এসে দরজা বন্ধ করে ভাবতে থাকি আমি কি করলাম?
ওই সময়ে আমার টনক নড়লো। আমি কি জঘন্য কাজ করলাম আবারও। ঘৃনা হতে লাগলো নিজের উপর। মেয়েটা ভাইয়ের হারানোর কথা শুনে তাকে খুঁজতে এখানে এসেছে আর আমি তারই সর্বনাশ করলাম। শান ছেলেটা নিঃস্বার্থে আমার ছেলেকে খোঁজার কত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আর আমি তার ভালোবাসাকে এভাবে শত্রুর হাতে তুলে দিলাম?
নিজের প্রতি প্রচন্ড ঘৃনা হচ্ছে আমার। আমি জানি শান ঠিকই রুমঝুমকে পাবে। ছেলেটার চোখে অগাধ ভালোবাসা দেখেছি মেয়েটার জন্য। ওরা আবারও এক হবে,ভালো থাকবে। কিন্তু আমি আর এই মুখ কাউকে দেখাতে পারবো না। তাই চলে যাচ্ছি পৃথিবী থেকে। নিজ হাতেই একটা কীটকে খুন করছি আমি।

জানি ক্ষমা করা সম্ভব না, তবুও ক্ষমা করার চেষ্টা করো আমাকে। রুমঝুম,আমাকে মাফ করিস তুই।”

রাফিন চিঠি পড়া শেষ করলো। একজন মানুষের মৃত্যুতে কেউ কষ্ট পেলো না এরকমটা সে আর কখনো দেখেনি। রুমঝুমের আগে কষ্ট হলেও এখন বিন্দুমাত্র কষ্ট হচ্ছে না। সে ভাবলেশহীন ভাবে হেঁটে রুমেলের কাছে গেস্ট রুমে চলে গেলো। রুশানও নিজের রুম থেকে বেরিয়ে গেস্ট রুমে ঢুকলো।
প্রতিবেশীরা নানা ধরনের কথা বলতে বলতে চলে গেলো। আত্মীয়-স্বজন তেমন‌ কেউ আসেনি। তাহমিনা বেগম কারোরই প্রিয় পাত্রী হতে পারেন নি।
একটা মৃত্যু হয়েছে অথচ কোথাও কোনো শোকের ছায়া নেই। এমনও বুঝি মৃত্যু হয়?

চলবে……..

(গল্প শেষের পথে। ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।)

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ