Friday, June 5, 2026







চন্দ্ররঙা প্রেম পর্ব-১৯

#চন্দ্ররঙা_প্রেম
#পর্বঃ১৯
#আর্শিয়া_সেহের

দীর্ঘ নয়টি বছর পর কোনো হারিয়ে যাওয়া আপনজনকে চোখের সামনে দেখতে পেলে ঠিক কেমন রিয়েক্ট করা উচিৎ বুঝতে পারছে না রুমঝুম। হা করে তাকিয়ে আছে রুমেলের দিকে।

তবে রুমেল মাথা তুলছে না। সে মাথা নিচু করেই রুমঝুমের সামনে খাবার রাখছে। রুমঝুম কয়েকবার ভাইয়া ভাইয়া করে ডেকেছে। তবুও সে মাথা তুলে তাকায়নি। যেন রুমঝুমের ডাক তার কানেই পৌঁছাচ্ছে না।

রুমঝুম একসময় ডাকা বন্ধ করে দিলো। নিষ্পলক চেয়ে রইলো তার ভাইয়ের দিকে। চেহেরাতে তেমন পরিবর্তন না এসেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। একটা দাগও যে শরীরে পাওয়া যেতো না সে শরীরে আজ দাগের অভাব নেই। মুখের জায়গায় জায়গায় গর্ত। হাতে অসংখ্য কাটা দাগ।‌ কপালে কয়েক জায়গায় লম্বাটে দাগ বসে গেছে। কিছু ক্ষত এখনো তাজা। কয়েকদিনের মধ্যেই হয়েছে। আবার কিছু ক্ষত অনেক পুরোনো।

রুমঝুম মুখ চেপে কেঁদে উঠলো। এভাবে নির্যাতন করেছে ছেলেটার উপর এতদিন। রুমঝুম রুমেলকে ছোঁয়ার জন্য একহাত বাড়ালো রুমেলের দিকে। তখনি আরমান আদেশের সুরে বললো,
-“ভেতরে যা,রুমেল। আমি না ডাকলে আসবি না।”

রুমেল এদিক ওদিক কোথাও না তাকিয়ে ঠিক যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই মাথা নিচু করে চলে গেলো। আশ্চর্যের বিষয় হলো সে কারো দিকে না তাকায় আর না কোনো কথা বলে।
রুমঝুম চেয়ে রইলো তার গমনপথে।

আরমান ধীরপায়ে রুমঝুমের সামনে এসে বসলো।‌ রুমঝুম চোখ তুলে তাকালো না। নিঃশব্দে অশ্রু বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছে সে। আরমান নিজে থেকেই বলতে শুরু করলো,

-“তোমার ভাইকে যেদিন তোমার মা আমার হাতে দিয়ে গিয়েছিলো সেদিন তোমার এগারোতম জন্মদিন ছিলো। রুমেলের বয়স তখন পনেরো। তোমার জন্য গিফট কিনতে বের হয়েছিলো বেচারা।”

রুমঝুম চকিতে আরমানের দিকে তাকালো। এখানেও তার সৎ মা? তাদের জীবনটাই ধ্বংস করে দিয়েছে।
আরমান রুমঝুমের চাহনি দেখে বুঝলো এখনো সে রুমেলের ব্যাপারে কিছু জানে না। শুধু ওই রুশান বিচ্ছুটাই বোধহয় জেনেছিলো।

আরমান গলা ঝেড়ে বললো,
-“আচ্ছা ওসব ছাড়ো। তখন তো তুমি বেশ ছোট। এর পরের ঘটনা শোনো।
রুমেলকে প্রথম যখন এখানে আনলাম তখন সে কি টগবগে ছিলো ও। কাউকে পরোয়া করতো না। সারাক্ষণ বোন বোন করতো। সামনে যাকে পেতো মারতো। পালানোর পথ খুঁজতো সবসময়। তোমার ছোট ভাইটা একদম ওর ডুপ্লিকেট কপি হয়েছিলো। সারাক্ষণ বোন বোন করে ঘ্যানঘ্যান করতো। আমার সব কাজে বাম হাত ঠেলতো।”

বলতে বলতে আরমান মেঝেতে বসে পড়লো। দু’হাত পেছনের দিকে রেখে সেখানে ভর দিয়ে রুমঝুমের দিকে তাকালো। বিশ্রী ভঙ্গিতে হেঁসে আবারও বলা শুরু করলো,

-“আজকের যে রুমেলকে তুমি দেখছো না? ওকে বহু কষ্টে এমন বানিয়েছি আমি। টানা একবছর ওর উপর অত্যাচার করার পর ওর রক্তিম দৃষ্টি শীতল হয়েছে। ও আমার চোখে চোখ রেখে কথা বলতো। একটা পুঁচকে ছেলে আমাকে চোখ রাঙাতো। ভাবতে পারো তুমি? ”

রুমঝুম যেন ওর ভাইয়ের কষ্টটা অনুভব করতে পারছে। কত কষ্ট পেয়ে জীবনের নয়টা বছর পার করেছে সে। রুমঝুম কথা বলতে চাইলো। কিন্তু পারলো না। ওর কন্ঠ রোধ করে রেখেছে কেউ। খুব কষ্টে বললো,
-“ভা.. ভাইয়ার শরীরের দ.. দাগ গুলো আপ..নি করেছেন?”

আরমান দাঁত বের করে হেঁসে দিলো। রুমঝুমের দিকে খানিকটা ঝুঁকে বললো,
-“হ্যাঁ, আমি। আমি করেছি। ও আমাকে মারতে আসতো। এজন্য শাস্তি দিয়েছি। লোহার শিক গরম করে ওর কপালে ঠেসে ধরতাম। হাত-পা বেঁধে ঘন্টার পর ঘন্টা উল্টা ঝুলিয়ে রাখতাম। একটা বছর। বুঝতে পারছো কতটা সময়?
তবে ওর হাতের দাগগুলো আমার করা না। ওগুলো ও নিজেই করেছে।”

রুমঝুম কান্না করেই চলেছে। ওর সবকিছু বিষাক্ত লাগছে। কিছু শুনতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আরমান ওকে জোর করেই শুনালো আবারও।

-“রুমেলকে রেগুলার ড্রাগ দিতাম। ইচ্ছে করেই দু একদিন দিতাম না। ও তখন নিজেই নিজের উপর অত্যাচার করতো। আমি ওর আশেপাশে ব্লেড, ছুড়ি এগুলো রাখতাম। আর ও পাগলের মতো আচরন করে যখন ওই ব্লেড,ছুড়ি দিয়ে হাত-পা কাটতো আমি মজা করে দেখতাম সেগুলো।
ওইযে একটা কথা আছে না? ‘সাপ ছেড়ে দিয়ে খেলা দেখা’ ওই টাইপ আর কি।

এতোকিছু করে ওই ছেলেকে বশে এনেছি আমি। এখন ও তোমাকে চিনলেও কথা বলবে না। তোমার দিকে তাকাবেও না। তোমাকে চিনবে কি না সে গ্যারান্টিও দিতে পারছি না বুঝলে? দেখেছো তো,আমার চোখের দিকে পর্যন্ত তাকায় না। যা বলি চুপচাপ সেটাই করে। সারাক্ষণ মাথা নিচু করেই রাখে। কারন আমার চোখে চোখ রাখলে কি হয় সেটা ও খুব ভালো করেই জানে।

তোমার বিচ্ছু ভাইটা সেদিন কি কাঁদা কাঁদলো ওকে জড়িয়ে ধরে। কতবার ভাইয়া,ভাইয়া করলো। উহু,রুমেল ওর দিকে তাকালোও না। হয়তো চিনতেই পারলো না।

আমি নিজ হাতে আধমরা করে রেখেছিলাম ওকে। প্রথম যখন ওর হাঁটু বরাবর ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে একটা আঘাত করলাম , বিশ্বাস করো কি সুন্দর একটা সাউন্ড যে করেছিলো
আহ! আমার প্রানটা জুড়িয়ে গিয়েছিলো। শালা, আমার পিছনে লাগতে এসেছিলো।”

রুমঝুম আচমকা একদলা থুথু ছিটিয়ে দিলো আরমানের মুখে। ঘৃনা ভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললো,
-“তুই মরবি শয়তান। এতো এতো পাপ করে পার পেয়ে যাবি ভেবেছিস? পাবি না। তোর সাথে যে কি হবে তুই নিজেও জানিস না।”

আরমান হা হা করে কিছুক্ষণ হাসলো। যেন রুমঝুম খুব হাসির একটা জোকস্ বলেছে।
বেশ কিছু সময় হেঁসে রুমঝুমের ওড়না টেনে মুখের থুথু মুছলো । রুমঝুমের দুই গাল চেপে ধরে বললো,
-“আমি পার না পেলে তোর ভাইও পাবে না। তোর ছোট ভাইকে তো তোর বড় ভাই খুন করেছে রে। আমার সামনে থেকেই টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিলো টুকরো টুকরো করার জন্য। হা হা হা।”

রুমঝুম গাল চেপে ধরা অবস্থাতেই হাঁসলো। আরমান সেটা দেখে গাল ছেড়ে দিলো। ভ্রু কুঁচকে আড়চোখে চেয়ে রইলো রুমঝুমের দিকে। রুমঝুমের হাঁসির মানে খোঁজার চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যর্থ হলো বারংবার।
রুমঝুম মুখে ঈষৎ হাঁসির আভা ফুটিয়ে বললো,
-“নিজ চোঁখে দেখেছেন আমার ভাইয়ের লাশ?”

আরমান কিছুটা ভড়কে গেলো এই প্রশ্নে। রুমেলকে নিয়মিত ড্রাগ দেওয়া হয়। ওর কাউকে চিনতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম। ও শুধু আদেশ মানে। গত সাত বছর ধরে রুমেলের হাত দিয়েই খুন করায় আরমান। রুমেলকে সে বিশ্বাসও করে এখন। কারন ছেলেটা অতীত মনে করতে পারে না তেমন একটা। অতীত মনে করতে না পারলে অতীতের মানুষগুলোকে কিভাবে চিনবে? তাও আবার যাদের নয় বছর আগে দেখেছে শেষবার।
এজন্যই রুশানকে মেরেছে কি না সেটা নিয়ে নিজে আর মাথা ঘামায়নি আরমান। তবে এখন রুমঝুমের কথা শুনে নিজের মধ্যেই কেমন জানি লাগছে।

রুমঝুম মুখে হাঁসি ধরে রেখেই বললো,
-“আমার ভাই পাগল না। তার দুইটা কলিজার টুকরাকে চিনতে কষ্ট হবে এতোটা নির্বোধও হয়নি সে। জন্মের পর থেকে আমাকে আর আমার ভাইকে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছে সে। এগারোটা বছর আমি আমার ভাইয়ের বুকে ঘুমিয়েছি। রুশান ঘুমিয়েছে সাড়ে আট বছর। আর রুশান তো দেখতে একদম আমার বাবার মতো। আমার ভাইয়া তাকে চিনতে ভুল করবে? কক্ষনো না। ”

আরমান রুমঝুমের কথার বিপরীতে কিছু বলতে যাবে তার আগেই বাইরে থেকে ধুপধাপ শব্দ এলো। অনেক মানুষের পায়ের শব্দ। আরমান রুমঝুমের দিকে তাকালো। রুমঝুম মিটমিট করে হাসছে। রুমঝুমের হাঁসি দেখে আরমানের রাগ উঠে গেলো। রুমঝুমের গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরে দিলো। রুমঝুমের পাতলা ঠোঁট জোড়ায় রক্তের ফোয়ারা নামলো। তবুও তার মুখে হাঁসি।

আরমান আরো একটা থাপ্পড় দিতে যাবে তখনই দরজায় দাড়াম করে শব্দ হলো।
আরমান এদিক সেদিক চেয়ে একটা ছুড়ি পেলো। দৌড়ে ছুড়িটা এনে রুমঝুমের গলায় ধরলো।
রুমঝুম চুপচাপ বসে রইলো নিজের জায়গায়। ও জানে কে এসেছে। লোকটার অস্তিত্ব সে আগে থেকেই টের পায়।

মিনিট খানেকের মধ্যেই আরমানের চোখের সামনে এসে দাঁড়ালো শান, প্রান্ত,মেঘা আর তিহান। আরমান ডান দিকের কাঁচের জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো বাইরে বিশ-বাইশের মতো পুলিশ দাঁড়ানো।

হঠাৎ এমন আক্রমনের জন্য আরমান প্রস্তুত ছিলো না। এই গোডাউনের খোঁজ ওরা কি করে পেলো‌ সেটাই বুঝতে পারছে না সে। গোডাউনে আরমান,রুমেল এবং আরমানের এক বিশ্বস্ত লোক ছাড়া আপাতত কেউ নেই।

আরমান রুমঝুমের গলা থেকে ছুড়ি সরাচ্ছে না। শানের হৃদস্পন্দন বেড়ে গেছে সেটা দেখে। যে কোনো মূহুর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এর মধ্যেই আরমানের বিশ্বস্ত লোক নাঈম বেরিয়ে এলো। হঠাৎ এতো মানুষ দেখে সে কিছুটা ভয় পেয়ে গোডাউনের পেছন দরজা দিয়ে দৌড় দিলো। প্রান্তও ছুটলো নাঈমের পিছু পিছু।

আরমান সেদিকে তাকাতেই এদিক দিয়ে শান কিছুটা এগিয়ে এলো। আরমান চকিতেই মাথা ঘুরিয়ে বললো,
-“একদম কাছে আসবি না। তোর বউয়ের দেহ থেকে মাথা কেটে ফেলবো কিন্তু।”
শান নিজের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে পড়লো। তিহান আর মেঘা মেইন দরজা ব্লক করে দাঁড়িয়ে আছে।

আরমান রুমঝুমের গলায় ছুড়ি ধরেই পেছনের দরজার দিকে এগুতে লাগলো। উদ্দেশ্যে,আপাতত এই দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া।
আরমান প্রায় দরজার কাছাকাছি চলে গেছে এমন সময় কোত্থেকে রুমেল চলে এলো । হাতে মোটা একটা লাঠি। সেটা দিয়ে আরমানের ঘাড়ের কাছ টাতে সজোরে আঘাত করলো। পেছন থেকে হঠাৎ এমন আঘাত পেয়ে আরমান রুমঝুমের থেকে বেশ খানিকটা সরে ফ্লোরে পরে গেলো। রুমেল আবার মারতে গেলে আরমান হঠাৎ ঘুরে রুমেলের পেট বরাবর ছুড়ি চালিয়ে দিলো। রুমেল লাঠি ফেলে পেট চেপে ধরে ফ্লোরে বসে পড়লো। আরমান এই সুযোগেই উঠে দৌড় দিলো ।

রুমঝুম রুমেলের দিকে চেয়ে থ হয়ে বসে আছে। কোনো প্রতিক্রিয়া করতে পারছে না।
শান,তিহান,মেঘা তিনজনই দৌড়ে এলো। মেঘা আর তিহান রুমেলকে ধরলো। শান রুমঝুমকে জড়িয়ে ধরলো। রুমঝুমের হুঁশ ফিরলো তখন। সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে উঠে বললো,
-“আমার ভাইয়া। শান, আমার ভাইয়া। আমার ভাইয়াকে পেয়েছি। আমার ভাইয়াকে বাঁচান। আপনার পায়ে পড়ি, আমার ভাইয়াকে বাঁচান।”

শান রুমঝুমকে নিজের সাথে আরো শক্ত ভাবে জড়িয়ে নিলো। রুমঝুমের কপালে চুমু দিয়ে ঠোঁটের রক্ত মুছে দিলো। রুমঝুমকে দাঁড় করিয়ে বললো,
-“তোমার ভাইয়ার কিচ্ছু হবে না।আমি কথা দিচ্ছি। তোমরা সবাই একটা সুন্দর জীবন পাবা এবার।”

মেঘা আর তিহান রুমেলকে নিয়ে ততক্ষণে গাড়িতে বসে পড়েছে।রুমেলের ক্ষতস্থান খুব বেশি গভীর না হলেও রক্ত বের হচ্ছে অনেক। শান রুমঝুমকে নিয়ে বেরিয়ে আসতে আসতে ওর ফোনে মেসেজের টুংটাং শব্দ হলো। একহাতে রুমঝুমকে ধরে অন্যহাতে ফোন বের করে মেসেজটা অন করলো। মেসেজে একবার চোখ বুলিয়ে হালকা হেঁসে আবার ফোন পকেটে পুরে রাখলো।
বাইরে এসে একজন পুলিশকে ডাকলো। ব্যাস্ত ভঙ্গিতে হ্যান্ডশেক করে বললো,
-“অনেক ধন্যবাদ,রাফিন। তুই না থাকলে আজ কিছুই হতো না। আর আরমান আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে গেছে বুঝলি?”

রাফিন হাসলো । হাসলো শান ও। দু’জনের রহস্যময় হাঁসির মানে অন্যরা বুঝলো না। শান গাড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বললো,
-“পরে কথা হবে দোস্ত। এখন আসি।”
রাফিনও হেঁসে বললো,
-“নিজের খেয়াল রাখিস। আর যা করবি সাবধানে করিস।”

শান আর পিছনে ফিরলো না। রুমঝুমকে গাড়িতে তুলে নিজেও গাড়িতে উঠে বসলো। মিনিট দশেকের মাথায় হসপিটালে এসে পৌঁছালো। শান হসপিটালে‌ পৌঁছানোর পূর্বেই রাফিন ফোন করে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিয়েছে। এজন্য রুমেলের ব্যাপারটা পুলিশ কেস অবধি গড়ায়নি। শান আর তিহান দু’জন রুমেলকে নিয়ে স্ট্রেচারে তুলে দিলো। রুমঝুম মেঘাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেই চলেছে।

রুমেলকে ডাক্তাররা নিয়ে যাওয়ার পরপরই একজন নার্স হাঁফাতে হাঁফাতে শানের সামনে এসে দাঁড়ালো। বললো,
-“এইমাত্র যে জখম হওয়া ছেলেটাকে নিয়ে এলেন সে আপনার কি হয়?”
রুমঝুম মেঘাকে ছেড়ে উঠে এলো। নার্সের পাশে দাঁড়িয়ে বললো,
-“আমার ভাই হন উনি। কেন?”

নার্সের চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বললো,
-“আপনার আরেকটা ভাই আছে? ষোলো-সতেরো বছরের?”
রুমঝুম চমকে উঠলো। মেঘাও উঠে এসে রুমঝুমের পাশে দাঁড়ালো। শান আর তিহানও উৎসুক হয়ে তাকালো নার্সের দিকে।
রুমঝুম কিছু বলার আগে মেঘা বললো,
-“হ্যাঁ ওর ওই বয়সের একটা ভাই আছে। কিন্তু আপনি কিভাবে জানলেন? আর ওর ভাইয়াকে চিনলেন কিভাবে?”

নার্সটি বললো,
-“আরে এই ছেলেটাই তো দু’দিন আগে ওই ছেলেটাকে এখানে দিয়ে গেছে। আহা! বাচ্চা ছেলেটার পুরো শরীরে আঘাতের দাগ ছিলো। এই ছেলেটা ওকে রেখেই চলে গিয়েছিলো। কোনো কথা বলেনি।
গতকাল রাতে ছেলেটার জ্ঞান ফিরেছে। তারপর থেকেই শুধু ভাইয়া ভাইয়া বলছে। আর কিছুই বলতে পারছে না। আমি অনেক কষ্টে যেটুকু বুঝলাম, তাতে এই ছেলেটাকেই ও বারবার ভাইয়া ভাইয়া বলছিলো।”

রুমঝুম কি বলবে বুঝতে পারছে না। ওর একে একে হারিয়ে যাওয়া দুটো ভাইকেই ও ফিরে পেয়েছে। আনন্দে ওর মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না। শান এগিয়ে এসে বললো,
-“আমাদেরকে ওর কেবিনে নিয়ে যেতে পারবেন ,এখন?”
-“কেন পারবো না? আসুন আমার সাথে।”

রুমেলকে তিহানের দায়িত্বে রেখে শান,মেঘা আর ও রুমঝুম চললো নার্সের পিছু পিছু। গন্তব্য রুশানের কেবিন।

চলবে…….

(ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। )

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ