Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোর ছায়ার সঙ্গী হব পর্ব-১৩

তোর ছায়ার সঙ্গী হব পর্ব-১৩

#তোর_ছায়ার_সঙ্গী_হব
লেখক-এ রহমান
পর্ব ১৩

২৯
সকাল বেলা বেশ চেচামেচিতে ঈশার ঘুম ভাঙ্গল। ঘুমু ঘুমু চোখে তাকিয়ে দেখে সে। এতো সকালে কি নিয়ে জোরে জোরে কথা বলছে সবাই। ভাবতে ভাবতে আবার চোখ লেগে এলো। চেচামেচির শব্দ বাড়তেই লাগলো। ঈশা উঠে বসলো। দুই হাতে চোখ ঘষে ঘুম কাটানোর চেষ্টা করলো। তারপর পাশে রাখা ওড়নাটা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। সবাই কি যেন নিয়ে খুব চিন্তিত। ঈশা ঘুম ঘুম কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো
–কি হয়েছে?
ঈশার চাচা বলল
–গ্রামে যে ফারুক মামা ছিল উনি মারা গিয়েছে রাতে।
ঈশা মরার খবর শুনে দোয়া পড়ে নিলো। তারপর জিজ্ঞেস করলো
–এখন কি করবে?
ঈশার বাবা বললেন
–উনি গ্রামের এক মাত্র মুরুব্বি ছিলেন। আমাদের যেতে হবে।
সবাই যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। সবার কথা শেষ হলে ঈশার মা বলেন
–আমরা সবাই যাব। ঈশা ইরা তোমরা থাকবে। ইলহাম ইভান ও থাকবে। আজ রাতে হয়ত আমরা আসতে পারবোনা। রাতে তোমরা ৪ জন বাসায় থাকবে।
ঈশা মায়ের কথা শুনে আর কিছু বলতে পারলনা। মেনে নিলো। সবাই চলে গেলো। ঈশার খুব মাথা ব্যাথা করছিলো। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। আর অনেক সকালে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিলো। এই মুহূর্তে একটু ঘুমান দরকার। নাহলে আবার ব্যথাটা বাড়বে। তাই সে নাস্তা খেয়ে শুয়ে পড়ল। সব রান্না করা আছে। তাই তাকে আর কষ্ট করে রান্না করতে হবেনা। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই সে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম ভাঙ্গল ঠিক ১১ টায়। তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পাশে থাকা মোবাইলটা নিয়ে ঘড়ি দেখল। অনেক বেলা হয়ে গেছে। এতক্ষন ঘুমিয়েছে ভাবতেই ঈশা অবাক হয়ে গেলো। উঠেই ফ্রেশ হয়ে বাইরে বের হয়ে টেবিলে বসলো। চারিদিকে ঘুরে দেখল কেউ নেই। এমন সময় পাশের ঘর থেকে চেচামেচির আওয়াজ আসলো। কি হচ্ছে বুঝতে উঠে গিয়ে দেখে ইলহাম আর ইরা কি নিয়ে ঝগড়া করছে। ঈশা এক ধমক দিয়ে বলল
–ঝগড়া করছিস কেন?
ইরা কাদ কাদ কণ্ঠে বলল
–ইলহাম ভাইয়া আমার ফোনের সব ছবি ডিলিট করে দিয়েছে।
ঈশা ইলহামের দিকে তাকাতেই সে বলল
–আমি ইচ্ছা করে করিনি আপি।
তার কথা শেষ হতেই ইরা বলল
–ইচ্ছা করে করেছো। তুমি মোটেই ভালো না।
বলেই দুজন আবার চেচামেচি শুরু করে দিলো। ঈশার খুব বিরক্ত লাগতে শুরু করলো। অনেক বুঝিয়ে দুজনের ঝগড়া থামিয়ে দিলো। ঝগড়া থামিয়ে বেশ স্বস্তি পেলো ঈশা। তারপর ইভানের কথা মনে পড়ে গেলো। ইলহাম কে জিজ্ঞেস করলো
–ইলহাম তোর ভাইয়া কোথায় রে?
–ভাইয়া তো অফিসে গেছে। তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই তোমাকে ডিস্টার্ব করতে নিষেধ করে গেছে।
–কখন গেছে?
–অনেক সকালে।
–খেয়েছে কিছু?
–না।
ঈশার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। সে জেগে থাকলে হয়ত ইভান কে খাওয়াত। সে ঘুমিয়ে গেছে বলে না খেয়ে চলে গেলো। কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেলো। কিন্তু ইভানের কথা তার মাথা থেকে বের হচ্ছেই না। কে জানে এখন অব্দি কিছু খেয়েছে কিনা। ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে তুলে নিলো। কি মনে করে ইভানের নাম্বারে ফোন দিলো। কিন্তু রিং বেজে গেলো ফোনটা ধরলনা। তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। কি এমন ব্যস্ত যে তার ফোনটাও ধরতে পারল না। তার ভাবনার মাঝেই বজ্র কণ্ঠে ফোনটা বেজে উঠলো। সে চমকে ফোনটা হাতে নিয়ে থমকে গেলো। ইভান ফোন করেছে।রাগ হল তার। একবার ভাবল সেও ফোনটা ধরবেনা। কিন্তু ফোনটা কেটে যাক সেটাও সে চাচ্ছেনা। অবশেষে ফোনটা ধরে ফেললো। ঈশা কিছু বলার আগেই ইভান বলল
–কি হয়েছে জান? কোন সমস্যা?
আসলে ঈশা ইভান কে ফোন দেয়না। আর হঠাৎ ঈশার ফোন করা দেখে ইভান ভয় পেয়ে যায়। কারন সকালে অফিসে আসার সময় সে দেখেছে বাসায় কেউ নেই। ঈশা ইভানের চিন্তার কারন বুঝতে পেরে বলল
–আরে না না কিছু হয়নি।
ইভান এবার খুব আশ্চর্য হল। কোন কারন ছাড়াই ঈশা তাকে ফোন দিয়েছে বিষয়টা তার হজম হলনা। খুব শান্ত কণ্ঠে বলল
–তাহলে ফোন করেছিস কেন?
এবার ঈশা খুব বিপদে পড়ে গেলো। কি কারনে ফোন করেছে বলবে? একটু ভেবে বলল
–ইলহাম বলছিল তুমি নাকি সকালে না খেয়ে গিয়েছ। তাই খেয়েছ কিনা জানতে ফোন করতে বলল।
ইভান একটু হেসে বলল
–তুই ঘুম থেকে ওঠার একটু আগেই ইলহামের সাথে আমার কথা হয়েছে। তখন তো এমন কিছু জিজ্ঞেস করেনি। এখন কি মনে করে তোকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতে বলল।
ঈশা এবার অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা। ঈশার অবস্থা বুঝতে পেরে ইভান বলল
–মিস করছিস আমাকে?
ঈশা খুব শান্ত ভাবে বলল
–তোমাকে মিস করার মতো সুযোগ তুমি আমাকে দাও?
ইভান একটু হেসে বলল
–এই যে এখন দিলাম।
ইভানের কথা শুনে ঈশা চুপ হয়ে গেলো। তার চুপ করে থাকা দেখে ইভান বলল
–যা জানতে ফোন করেছিস জিজ্ঞেস করবিনা?
ঈশা ছোট করে একটা শ্বাস ছেড়ে বলল
–খেয়েছ?
–হুম।
ইভানের ছোট শব্দটা ঈশার মনে কেন জানি একটা চাপা কষ্টের অনুভুতি সৃষ্টি করলো। তাই তার সাথে আর একটু শব্দ জুড়ে দিয়ে বলল
–কখন আসবে?
এবার ঈশার কথা ইভানের মন ছুয়ে গেলো। একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলল
–এভাবে বললে তো এখনি চলে যাব। কিন্তু অনেক কাজ আছে।
ঈশা মুচকি হেসে বলল
–শেষ করেই আসো।
–তাড়াতাড়ি আসবো। সাবধানে থাকিস। নিজের খেয়াল রাখিস।
বলেই ফোনটা কেটে দিলো। ইভান তার চেয়ারে হেলানি দিয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবল ঈশার সাথে তার সম্পর্ক ঠিক থাকলে এই সময়টা তার জীবনে অনেক আগেই আসত। দেরি করেই হোক তবুও ঈশা তার প্রতি নিজের অনুভুতি গুলো প্রকাশ তো করছে। এতেই সে অনেক খুশি।

৩০
ইলহাম ঈশা আর ইরা বসে সোফায় টিভি দেখছিল। ইভান এখনো আসেনি। তারা চিপস খাচ্ছিল। ঈশা একটা চিপস মুখে দিয়ে বলল
–ড্রিঙ্কস হলে ভালো হতো।
ইলহাম বলল
–ফ্রিজে থাকতে পারে আপি। আমি ভাইয়াকে দেখেছি কাল দুইটা ক্যান ফ্রিজে রাখতে।
ঈশা চিপস এর প্যাকেট টা টেবিলে রেখে ফ্রিজে দেখতে গেলো। হাঁটু গেড়ে বসে দেখল দুইটা ক্যান ফ্রিজের এক কোনায়। সে দুইটা বের করে আনল। টেবিলে একটা রেখে বলল
–এই টা তোরা দুইজন ভাগ করে খাবি আর এটা আমি একাই খাবো।
ইলহাম আর ইরা দুজনেই ভ্রু কুচকে তাকাল। সে একাই খাবে মানে। তাদের সেসবে পাত্তা না দিয়ে ঈশা ক্যান টা খুলে খাওয়া শুরু করে দিলো। প্রথমে খেতে বাজে লাগলেও পরে ঠিক হয়ে গেলো। ঈশা খেয়েই যাচ্ছে তখনি কলিং বেল বেজে উঠলো। ইলহাম দরজা খুলে দিলো। ইভান ভিতরে ঢুকে টেবিলে রাখা ক্যান টাতেই আগে চোখ পড়লো। ভ্রু কুচকে তাকাল ক্যানটার দিকে। তারপর ঈশার দিকে তাকিয়ে ভালো করে দেখল সে একটা ক্যান হাতে ধরে আছে। ইভান রেগে
–ঈশাআআ…।
তার চিৎকারে ঈশার হাত থেকে চিপসের প্যাকেট আর ক্যান দুইটাই পরে গেলো। সবাই ভিত চোখে ইভানের দিকে তাকিয়ে আছে। সে ঈশার দিকে থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে নিচে পরে থাকা ক্যানের দিকে তাকাল। অবশিষ্ট কিছুই নেই সেটাতে। ঈশার দিকে তাকাতেই সে ঢুলু ঢুলু চোখে ইভানের দিকে তাকাল। চোখ ছোট ছোট করে জিজ্ঞেস করলো
–চেচাচ্ছ কেন? আসতে ডাকলেও তো শুনতে পাই।
ইভান এবার রেগে ইলহাম কে বলল
–ফ্রিজ থেকে এসব কে বের করেছে?
ইভানের রাগ দেখে ইলহাম ভয়ে ভয়ে বলল
–আপি ড্রিঙ্কস খাওয়ার জন্য ফ্রিজে দেখতে গিয়ে এই দুইটা ক্যান পেয়েছে। আমাদেরকে একটা খেতে বলে নিজে একটা খেয়ে নিয়েছে।
ইভানের এবার রাগ চরম পর্যায়ে উঠে গেলো। টেবিলে থাকা ক্যান টা হাতে নিয়ে ঈশা কে হাত ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে দরজা লক করে দিলো। ঈশার হাত ছেড়ে দিতেই সে হেলে দুলে পরে যেতে লাগলো। ইভান আবার তাকে ধরে বলল
–ড্রিঙ্কস আর বিয়ারের মধ্যেও পার্থক্য বুঝিস না ইডিয়েট! খাওয়ার আগে ক্যানের গায়ের লেখা গুলা ভালো করে দেখলে কি খুব ক্ষতি হতো।
ঈশা হেসে বলল
–আমি সব বুঝি।
বলেই জোরে হাসতে লাগলো। ইভান বুঝতে পারছে এভাবে বিয়ারের পুরো একটা ক্যান খেয়ে ফেলার পর ঈশা যথারীতি পাগলামি করবে। কিন্তু এখন ওকে সামলাবে কিভাবে। ঈশা নিচে বসে পড়লো। ঈশার সাথে ইভানও নিচে বসে পড়লো। ইভান ঈশাকে দেখছে। ঈশা ঢুলু ঢুলু চোখে ইভানের টি শার্ট টা খামচে ধরে তার একটু কাছে মুখটা এনে বলল
–তুমি বাজে লোক ! শুধু বকো আমাকে। ভালো করে বললে কি হয়? আমি তো তোমার কথা বুঝতে পারি।
ঈশার কথা শুনে ইভান একটু ভ্রু কুচকাল। পরক্ষনেই কি মনে করে বলল
–এই বাজে লোকটাই তোকে নিজের জিবনের থেকেও বেশি ভালবাসে। সেটাই আজ পর্যন্ত ভালো খারাপ সব ভাবেও বলে বোঝাতে পারিনি।
ঈশা আগের অবস্থায় থেকেই বলল
–জানি তো। আমিও ভালবাসি।
ঈশার কথা শুনে ইভান অসহায় চোখে তার দিকে তাকাল। এই কথাটা সে ঈশার কাছ থেকে শোনার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করেছে। আজ শুনতে পেলো কিন্তু মাতাল অবস্থায়। একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে সে ঈশার দুই হাত তার কাছ থেকে ছেড়ে নিয়ে বলল
–বাজে লোকটা তোর জীবনটা বদলে দিয়েছে। তাহলে কেন ভালবাসিস এই লোকটাকে?
ঈশা এবার একটু মন খারাপ করে বলল
–দিয়েছে তো। কেন বলল না আগে আমাকে ভালবাসে?
–তুইও তো বলিস নি?
–আমি তো বলিনি ভয়ে। যদি রাগ করে।
— তোকে কি কখনও রাগ দেখিয়েছি?
ঈশা মাথা নাড়িয়ে না বলে। ইভান তার দিকে তাকিয়ে বলে
–তাহলে?
–জানিনা। ভয়ে বলিনি। কিন্তু তুমি তো আমাকে ভয় পাওনা তাহলে কেন বলনি?
–বলতাম। সেটার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু বুঝতে পারিনি যে সময়ের অপেক্ষা করতে করতে দেরি হয়ে যাবে। তাই বলে তুই আমাকে ভালবেসেও অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যাবি?
–রাজি হইনি তো। বাবার ব্যবসায় লস হয়ে গিয়েছিলো। ওরা অনেক টাকা দিয়েছিলো বাবাকে। আর বলেছিল আমার সাথে ওই আরাফের বিয়ে হলে সেই টাকা ফেরত দিতে হবেনা। তাই তো বাবার কথা ভেবে রাজি হয়েছিলাম।
এবার ইভান খুব অবাক হল। এসব কথা এতদিন কেউ জানতোনা। ঈশার বাবা এসব কাউকেই বলেনি। আজ হয়ত ঈশা এরকম অবস্থায় না থাকলে জানাও হতনা। ইভান ঈশাকে দেখছে। ঈশা এবার ইভানের শার্ট চেপে ধরে বলল
–খুব রাগ হয়েছিলো। আমাকে তুলে কেন নিয়ে গিয়েছিলে? সবাই বলছিল আমাকে রেপ করেছে।
ইভান এবার আকাশ থেকে পড়লো ঈশার কথা শুনে। তার মানে এসব কথার কারনেই ঈশা তাকে ভুল বুঝেছিল। আর তার উপরে অভিমান করেছিলো। এসব নিয়ে ঈশা কখনও কথা বলেনি। বললে হয়ত সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়ে যেত। বিয়ের আগে ইভান ঈশাকে কখনও স্পর্শ করেনি। তাহলে ঈশা এটা মেনে নিলো কেন? প্রতিবাদ করলনা কেন? ইভান খুব শান্ত সরে জিজ্ঞেস করলো
–সেদিন কি আমি তোকে স্পর্শ করেছি?
–করনি তো সেটা আমি জানি। কিন্তু সবাই অন্য জানে।
–আমি বুঝতে পারিনি এরকম কিছু হয়ে যাবে। আমি শুধু চেয়েছিলাম তোকে পেতে। ওই মুহূর্তে আমার মাথায় আর কিছুই ছিলোনা।
হতাশা নিয়ে ইভান কথাটা বলল। কথা শেষ করে হাতে থাকা ক্যানটা খুলে একটা চুমুক দিলো। ঈশা এবার ইভানের বুকে আঙ্গুল দিয়ে ঠেলা দিয়ে বলল
–আমাকে আদর কর।
ইভান ঈশার কথা শুনে মুখে থাকা বিয়ার গিলে ফেলে। কিন্তু গিলে ফেলার সময় মনে হল তার গলায় আটকে যাচ্ছিলো। ঈশা যে এমন কিছু বলবে সেটা সে ভাবেইনি। তারপর ক্যানটা পাশে রেখে ঈশার দিকে তাকিয়ে বলে
–আমার কাছ থেকে আদর নিতে ইচ্ছা করে তোর?
ঈশা এবার ইভানের টি শার্ট টেনে তার মুখের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে গিয়ে বলে
–তুমি আমার ঠোঁটে চুমু দিলে অনেক ভালো লাগে।
কথাটা শেষ করেই ঈশা অপেক্ষা না করে ইভানের ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। ইভান ঈশার এরকম কাণ্ডে হা হয়ে যায়। কিছুক্ষন হা করে ঈশার দিকে তাকিয়ে থেকে নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল
–আর কি কি ইচ্ছা করে তোর?
–তোমার কাছে থাকতে। তোমার সাথে গল্প করতে।
ঈশার কথা শুনে ইভান ঈশার গালে দুই আঙ্গুলে স্লাইড করতে করতে বলে
–কত ভালবাসিস আমাকে?
ঈশার চোখে পানি চলে আসে। মনের সমস্ত আবেগ দিয়ে বলে
–কত ভালবাসি তা বলতে পারবোনা। কারন সেটা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট শব্দ আমার জানা নেই। শুধু বলব এই জীবনের প্রাপ্তির হিসাবে শুধুই তুমি। আমি যার জন্য বাঁচি সেটাই তোমার ভালোবাসা।
“তোমার প্রতি এভাবেই সম্পূর্ণ আড়ষ্ট হয়ে পড়ি। তোমাকে ছাড়াতে গেলে আরো ক্রমশ জড়িয়ে যাই আমি। আমার কিছুই আর করার থাকে না। তুমি এভাবেই বেঁধে ফেলো যদি দূরে যেতে চাই। যেখানেই যেতে চাই, সেখানেই বিছিয়ে রেখেছো তোমার অনুভুতি। তোমাকে কি অতিক্রম করা কখনো সম্ভব!!”
ঈশার চোখ বেয়ে অঝরে পানি পড়তে থাকে। ইভান ঈশাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয়। শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলে
–তোর মুখ থেকে এই কথাটা শোনার জন্য এতো বছর অপেক্ষা করেছি। সজ্ঞানে না হলেও বলেছিস তো। আমি আজ খুব খুশি জান।
ইভান কথা শেষ করে দেখে ঈশা ঘুমিয়ে পড়েছে। তাকে কোলে তুলে নেয়। বিছানায় শুইয়ে দেয়। নিজে পাশে শুয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। ইভানের চোখ বেয়ে দুই ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ে। আজ যে তার জীবনে পরম সুখের মুহূর্ত।

চলবে………

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ