Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"দু মুঠো বিকেল পর্ব-৩+৪+৫

দু মুঠো বিকেল পর্ব-৩+৪+৫

দু মুঠো বিকেল⛅♥
#পর্ব_৩
Writer-Afnan Lara
.
“হোয়াট??আর ইউ সিরিয়াস?”
রিহাব ফোন কানে ধরে জানালা খুলতেই দেখলো আঁখি জানালার গ্রিল ধরে সেখানে মাথা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,রিহাবকে দেখে মুচকি হেসে সে ঠিক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো
.
তুই একটা পাগল!
.
কথাটা বলে রিহাব মুখের উপর জানালাটা অফ করে ফোন রেখে দিলো তারপর তোয়ালে খু্ঁজে ফ্রেশ হতে চললো সে

আমার জানটা রে!!!
.
কে জানটা?
.
মায়ের গলা শুনে আঁখির হাত থেকে ফোনটাই পড়ে গেছে,কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা নিচ থেকে তুলে নিয়ে সে মায়ের দিকে তাকালো
গোলাপি রঙের সুতির শাড়ী পরা মহিলাটি এগিয়ে এসে আঁখির সামনে দাঁড়ালেন
তার মুখের গঠন পুরোটাই স্পর্শর ছবি এঁকে রেখেছে,স্পর্শ পুরো তার মায়ের মতনই হয়েছে
উনি তার চুলগুলো ছেড়ে দিয়ে তাক থেকে তেলের বোতল নিয়ে বললেন “কিরে বলছিস না যে?কে জানটা?”
.
না আম্মু,ভুল শুনেছো,আমি জানটা বলিনি
অবশ্য পুরোটা ভুল নয়
আমি মেজান্ডা কালার বলেছিলাম,তুমি সব কেটে কুটে জানন্ডা শুনছো
.
মিসেস রোকসানা মাথা উঁচু করে জানালা দিয়ে রিহাবদের বাসার দিকে তাকালেন,জানালা অফ,এখন খোলা থাকলে তিনি আঁখির কথা বিশ্বাস করতেন না
তাই তেলের বোতলটা আঁখির দিকে এগিয়ে ধরে বললেন”ধর এটা,আর চল আমার সাথে,আমার চুলে তেল লাগিয়ে দিবি,এক টানা ৩টা সিরিয়াল দেখতে দেখতে আমার মাথা ধরে গেছে,আর আসমা কোথায়?রাতের রান্না হয়েছে??তোর বাবা এসেই খেতে বসবে”
.
আসমা আপা তো তরকারি আনতে গেছে
.
কেন?স্পর্শ আজ সকালে বাজার করে নাই?
.
আজকে বাজারে নাকি ভালো সবজি উঠে নাই,ভাইয়া শুধু টমেটো আর ফুলকপি নিয়ে এসেছিলো, ওসব দুপুরের জন্য রান্না করেছিলো আসমা আপা,এখন সব শেষ
.
ওহ!ঠিক আছে
.
মিসেস রোকসানা স্পর্শের রুমে এসে ওর বিছানায় ভেজা শার্টটা দেখতে পেলেন,তার আর বুঝতে বাকি নেই তখন তার ছেলেই এসেছিল, শার্টটা স্পর্শের বারান্দায় গিয়ে টাঙিয়ে দিয়ে নিচে তাকালেন তিনি
স্পর্শ তার বাইকে বসে ৩টা ছেলের সাথে আড্ডা দিচ্ছে
মিসেস রোকসানা রিমঝিমদের বাসার দিকে একবার তাকালেন চোখ বড় করে
.
আম্মু?তেল গরম হয়ে গেছে,এসো
.
আসছি!
.
মিসেস রোকসানা রিমঝিম আর রিহাবদের পরিবারকে দুচোখে সহ্য করতে পারেন না,কারণ তাদের স্টেটাস মেলে না
তার উপর রিহাবকে তো একদমই পছন্দ করেন না তিনি,রিমঝিমকেও না
অনেক বাড়িওয়ালাই চাইবে না ভাড়াটিয়ার সাথে আত্নীয়তার সম্পর্ক গড়তে,রোকসানা বেগম ও তেমনই,তবে তার মনটা অনেক ভালো,তার ছেলেমেয়েকে যারা ভালোবাসে তিনিও তাদের ভালোবাসেন,খালি একটু টাকার গরম এই আর কি
তার ছেলেমেয়ে যে তার চোখের শত্রুদের ছেলেমেয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তা তিনি জানেন না,জানলে আবার বিশ্বযুদ্ধ হবে

স্পর্শ ভাই,এই নিয়ে ৫৭বার তাকিয়েছেন রিম ভাবীর বারান্দার দিকে,আপনার মাথা ধরে যায় না?
.
কি বলিস রিপন??স্পর্শ এই নিয়ে কত কাপ চা খেয়েছে তোর হিসেব আছে??এত চা খেলে মাথা ধরার কোনো চান্স থাকে না
.
আশিক! আমি তাকানোটা কাউন্ট করেছি,চা খাওয়াটা কাউন্ট করিনি
.
স্পর্শ রিপন আর আশিকের গলা ধরে ঘুরিয়ে এনে বললো”আমার জিনিস,আমি একশো বার তাকাবো”
.
আপনার জিনিস তো তার রুমের দরজা জানালা সব বন্ধ করে রেখেছে
.
আমার বাধ্য তো তাই,আমি ওকে বলেছি রাতে যেন বারান্দায় না আসে,আমার জন্য বিকেল বেলায় আসবে আর ভোর ৫টা বাজে ৫মিনিটে আসবে,আর একটা সময় আসবে সেটা তোদের বলা যাবে না
.
এত বাধ্য করলেন কি করে টিপস দেন,আমরাও এমন করবো তাহলে
.
সেটা আমি নিজেও জানি না রিপন,তবে সে আমাকে শুধু শুধু ভয় পায়,আমি তাকালেও তার হাতের পশম খাড়া হয়ে যায়,এত ভয়ের কি আছে বুঝি না,আমার চোখ দেখ তো তোরা,আমাকে কি বেশি খারাপ লাগে?
.
না তো!ভয়ের কিছুই তো দেখছি না
.
কচু ভয় পায়,এই নিয়ে কতবার ওর হাতে চড় খেয়েছেন জানেন ভাইয়া??
.
ওর হাতের ছোঁয়া পেলে আমার আর কি লাগে,ওর হাতের চড়টাও আমার কাছে ভালো লাগে
তাই সারাজীবন ধরে চড় খেতে পারবো,কোনো সমস্যা নেই
.
এত ভালোবাসা আমরা কই রাখি!আপনার কি মনে হয় এই মেয়েটার যে রাক্ষস বাপ আর ভাই আছে তারা আপনার সাথে ওকে বিয়ে দিতে রাজি হবে কখনও?
.
মরে গেলেও রাজি হবে না,আমি জানি আমি রিমঝিমকে কোনোদিন পাবো না
.
তাহলে এরকম অন্ধ ভালোবাসার কারণ কি ভাই?
.
স্পর্শ রিপনের কাঁধে হাত রেখে হাসলো তারপর আবারও রিমের বারান্দাটার দিকে চেয়ে বললো”ওকে নিজের করে না পাই,প্রতিদিন ৩বেলা ওকে দেখতে তো পাই এর চেয়ে আশির্বাদস্বরুপ আর কি হতে পারে বল!
.
সবকিছুর একটা ভবিষ্যত আছে,তোদের কি ভবিষ্যত?
.
আমি ভবিষ্যত নিয়ে ভাবি না আশিক!
রিম আমাকে পছন্দ করে না,যদি করতো তাহলে আশা বুনতাম আমি
যেখানে রিম নিজে আমাকে ঘৃনা করে সেখানে ওর পরিবারকে মানানোর চেষ্টা আমি করি না
.
আচ্ছা স্পর্শ ভাই আমি একটা কথা বুঝছি না,রিম ভাবীর বাবা আর ভাই আপনাকে পছন্দ করে না কেন?আপনারা তো ওদের চেয়ে হাই প্রোফাইলের
.
স্পর্শ হাসতে হাসতে পিছনে থাকা একটা দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো তারপর শক্ত চোখে নিচে থাকা পাকা রোডটার দিকে তাকিয়ে রইলো
নিরবতা ছেড়ে এবার সে বললো”হাই প্রোফাইল থেকে কি হবে দোস্ত!!তারা মেয়েকে যার হাতে তুলে দেবে তার যে চাকরি নেই”
.
চাকরি দিয়ে কি হবে আপনাদের এত টাকা,সম্পত্তি, আবার চাকরি লাগে নাকি?
.
রিপন তুই চুপ থাক!গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেও স্পর্শ চাকরি কেন করে না সেটাই বুঝতেছি না আমি
.
রিমঝিম আমাকে ভালোবাসলে আমি চাকরিতে জয়েন হবো তার আগে প্রয়োজন নেই
.
এটা রিমঝিম জানে?
.
হুম আশিক,সে জানে এই বিষয়টা”
কথাটা বলে স্পর্শ হঠাৎ মুচকি হাসলো বন্ধ দরজাটার দিকে তাকিয়ে
.
কি রে স্পর্শ এমন হাসিস কেন
.
এমনি!!!!

রিমঝিম দরজার নিচ দিয়ে উঁকি মেরে দেখছিল স্পর্শ আছে কিনা তাহলে সে একটু বের হবে,রুমে বসে বসে বোর হচ্ছিলো
তারপর স্পর্শের মুখে হাসি দেখতে পেয়ে তার আর বুঝতে বাকি নেই স্পর্শ ওর চোখজোড়া দরজার নিচ দিয়ে দেখে ফেলেছে
.
নিজের মাথায় এক চড় মেরে রিমঝিম পিছিয়ে গিয়ে বসলো এবার
তারপর নিজেই নিজেকে এক গাদা গালি দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে চলে গেলো একেবারে
মা রান্না শেষ করে রিমঝিমকে ডাক দিলেন খাবারগুলো টেবিলে গিয়ে রাখার জন্য,রাত ৯টা বাজে সবাই এবার ডিনার করবে
.
রিম এক এক করে রান্নাঘর থেকে প্লেট,বাটি আনতেছে
রিহাব ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হলো এবার,তারপর চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললো”মা জানো!পাশের বাসার আঁখি মেয়েটা আমাকে প্রচুর জ্বালাচ্ছে”
.
রিম মুচকি হাসলো কথাটা শুনে,আরও জোরে হাসি পেয়েছিলো তবে সে একটু চেপে রেখে হালকা হাসলো
.
মা আঁচল দিয়ে হাত মুছতে মুছতে এগিয়ে এসে বললেন”সেই পরিবারের ছেলেমেয়েরা কি আরেকজনকে ডিস্টার্ব করা ছাড়া আর কিছু পারে না?”
.
রিমকে কি এখনও জ্বালায়?
.
রিম রুটি নিয়ে প্লেটে রাখতে রাখতে শান্ত গলায় বললো”নাহ”
.
মা রিমের দিকে ব্রু কুঁচকে কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন তারপর বললেন”জ্বালায় তো,বাসার সামনে থেকে নড়ে না ছেলেটা”
.
রিহাব শক্ত চোখে রিমের দিকে তাকিয়ে বললো”বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাকে বলবি,মেরে ভূত বানিয়ে দেবো,যত বড় লোক বাপের ছেলেই হোক,আমার বোনকে ডিস্টার্ব করলে আমি ছেড়ে দেবো না এত সহজে”
.
বাবা দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন”কাকে ছাড়বি না রিহাব?”
.
রিম বাবাকে দেখে হেসে কাছে এসে বাবার হাত থেকে অফিসের ব্যাগটা নিয়ে নিলো,বাবা চেয়ারে বসে পানি নিয়ে খেয়ে বড় করে একটা শ্বাস নিলেন তারপর বললেন”সেই ছেলেটা আবার কি করেছে?”
.
রিম পর্দার পাশে দাঁড়িয়ে সেটা হাতে নিয়ে মুঠো করছে আবার খুলছে
.
কি করবে আর সারাদিন রিমের বারান্দার নিচে ঘুরঘুর করে
.
রিম তুমি আর বারান্দাটায় যাবা না
.
রিম মাথা নিচু করে বললো”আচ্ছা বাবা ”
.
অতিরিক্ত করলে আমি সফিক ভাইয়ের কাছে নালিশ করতে যাব
.
সেই ছেলেটার জন্য আমার মেয়ে কেন বারান্দায় যাবে না?
.
আমরা মেয়ের মা বাবা,বুঝছো??শুরু থেকেই এত প্যাচাল করলে এই ছেলে যদি উঠিয়ে নিয়ে যায় ওরে তখন কি করবা তুমি?আজকালকার দেশের পরিস্থিতি কেমন সেটা জানা আছে তোমার??
.
উঠিয়ে নিয়ে গেলে তো সেই ৩বছর আগেই নিয়ে যেতো
.
কখন কার মনে কি চলে তা কি জানি আমরা?আর যাই হোক এই ছেলেটাকে আমি আমার মেয়ে জামাই হিসেবে কখনও মানবো না,এমন চাহিয়া থেকে কোনো লাভ হবে না
আমি আমার মেয়ের সাথে একটা ভালো পরিবারের চাকুরীরত ছেলের বিয়ে দেবো
যে এরকম ছেঁসড়ামি করে না অন্তত!
কথাটাগুলো বলে বাবা চোখ থেকে চশমা খুলে চললেন রুমের দিকে
.
রিহাব রুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে ৬/৭টুকরো করে ফেলেছে তারপর চুপচাপ ডালে চুবিয়ে খাওয়া শুরু করলো
.
তামিম?তুই বুঝি আবার দরজা লাগাস নি!তোর বাবা দেখি দরজা খুলে ভিতরে চলে আসলেন কলিংবেল ও বাজাতে হয়নি তার, এরকম করলে চলে?
.
তামিম তার পুরো চকোলেটটা শেষ করে প্যকেটটা ফেলতে ফেলতে বললো”ছিটকিনি লাগিয়েছিলাম তো”

রিম নিজের রুমে চলে এসেছে,এটা প্রতিদিনকার খবর
প্রতিদিন লোকটাকে নিয়ে আমাদের বাসায় আলোচনা হয়,একই কথা,সে কখনও আমাকে বিয়ে করতে পারবে না,তার যোগ্যতা নেই হ্যানত্যান!!!
আর আমি ভাবি আমি কি করে এই বন্দি জীবন থেকে বের হবো,আমার আর ভালো লাগে না কিছুু
.
রিম!!তোর জন্য ফোন এসেছে,তমা ফোন করেছে
.
আসছি
.
রিম সোফার রুমে এসে ল্যান্ডলাইনের কলটা রিসিভ করলো ওপাশ থেকে তমা এক চিৎলার করে বললো”দোস্ত!!!কাল আসবি না ভার্সিটিতে?”
.
ভালো লাগে না
.
আসিস প্লিস
.
দেখি আসবো কি আসবো না,মন ভালো না আমার,আজকাল কিছুই ভালো লাগে না
.
স্পর্শ ভাই কি করেছে আবার?
.
উনার নাম নিস না,দিনে ৪৪বার উনার নাম শুনতে শুনতে তেতো ধরে গেছে,এবার তুই বাকি ছিলি
.
তোদের কেমিস্ট্রি টা জাস্ট অন্যরকম
দিনে কয়শ বার তোদের মিট হয়
আহা আহা!!
.
উফ!বাই,আসবো কাল এখন রাখি!
.
রিম ফোন রেখে আবার নিজের রুমে এসে বসে পড়লো বিছানার মাঝখানটায়,পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা জানালাটার দিকে চোখ গেলো এবার তার
বেশ কিছুক্ষন এভাবে তাকিয়ে থেকে রিম পা টিপে টিপে পর্দাটার কাছে আসলো,হালকা ফাঁক করে স্পর্শের রুমের দিকে তাকালো সে
স্পর্শের রুমে আলো জ্বলছে,ফ্যান ও চলছে,এত ঠাণ্ডার ভেতর!অবশ্য এ তো একটা ছাগল,শীতকালে গরম লাগারই কথা তার
রিম এপাশ ওপাশ তাকিয়ে কোথাও স্পর্শকে দেখলো না বলে পর্দাটা আবার টেনে দিলো
স্পর্শ দেয়ালের এপাশে চেয়ারে বসে পা টা টেবিলে তুলে চুপ করে আয়নার দিকে চেয়ে ছিলো,আয়নায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলো রিম তার রুমের পর্দা সরিয়ে কি বুজরুকি করছে
স্পর্শ হাসতেছে বসে বসে,ঠিক তখনই মা রুমে ঢুকলেন,স্পর্শের মুখে হাসি দেখে মাও হাসলেন তারপর বললেন”কিরে?এমন হাসছিস যে,কি হলো আমিও একটু শুনি”
.
স্পর্শ টেবিল থেকে পা নামিয়ে বললো”রিপনের বলা একটা জোকস মনে পড়লো তাই হাসলাম,বাবা এসেছে?”
.
হঠাৎ তোর বাবার কথা জিজ্ঞেস করছিস যে,তোর বাবা যে প্রতিদিন এত কথা শোনায় তোকে তার পরেও বাবার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে?কিছু লাগবে নাকি?
.
নাহ কিছু লাগবে না,এমনি জিজ্ঞেস করলাম,আজ এখনও ফেরেনি তো তাই
.
ফিরবে,হয়ত কাজ বেশি হয়ে গেছে,চল ডিনার করবি
.
বাবা আসলে করবো
.
মা চিন্তিত হয়ে স্পর্শের পাশে চেয়ার টেনে বসলেন তারপর বললেন”তোর কি হয়েছে বল তো?আজ তের বাবার প্রতি এত দরদ হচ্ছে কেন?তোর শরীর খারাপ নাকি?এমন উদ্ভট কথা বলছিসই বা কেন?”
.
আরেহ আমার তো ইচ্ছা হতে পারে বাবার সাথে বসে আলাপ করার,সারাদিনে তো এই সময়টাতেই বাবাকে পাই
চলবে♥

দু মুঠো বিকেল⛅♥
#পর্ব_৪
Writer-Afnan Lara
.
আচ্ছা তাহলে তোর বাবা যখন আসবে তখন তোকে ডেকে দেবো
.
হুম
.
মা কথাটা বলে চলে গেলেন,স্পর্শ সচরাচর বাবার সাথে তেমন খোলামেলা কথা বলে না এমনকি বাবার সাথে তার সম্পর্কটাও ওতোটা নরম না,বেশ শক্ত টাইপের
তবে আজ স্পর্শ নিজ থেকে বাবার সাথে কথা বলতে চাইছে কারণটা হলো”চাকরি”
স্পর্শ ভেবে নিয়েছে সে চাকরি করবে,রিমঝিম তো মনে হয় না এ জীবনে আর বলবে যে সে আমাকে ভালোবাসে
বলবে কি আর সে তো আমাকে পছন্দই করে না,হয়তবা তার বাবা আর ভাই রাজি থাকলে সে আমাকে বিয়ে করতে প্রস্তুত, কিন্তু আরেকটা কথাও আছে আর সেটা হলো রিম কখনও বাহ্যিকতা দিয়ে মানুষ বিবেচনা করে না
ও আমাকে পছন্দ করলে আমার আমিকেই পছন্দ করবে,চাকরি করলেই যে পছন্দ করবে এমনটা নয়
তাহলে কি করবো?
আসলে এ বিষয় নিয়ে খোলসা করে রিমের সাথে কথা বলা উচিত আমার,ওর কি মত বা ও কি চায় সেটা জানতে হবে
আপাতত চাকরি নিয়ে চিন্তাভাবনা বন্ধ!
.
স্পর্শ খেতে আয় তোর বাবা এসে গেছে
.
স্পর্শ রুমের দরজা লাগাতে লাগাতে বললো”পরে খাবো মা”
.
ওমা!তুই তো বললি তোর বাবার সাথে খাবি আজ,আবার কি হলো?
.
এখন খিধে নেই

আঁখি ডালের বাটিটা নিয়ে আয়
.
আঁখি রান্নাঘরে এসে একটা কাগজের ভেতর আলু ঢুকিয়ে সেটা মুড়িয়ে রিহাবের জানালায় ছুঁড়ে মারলো
রিহাব তখন বিছানায় শুয়ে শুয়ে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলো
কেমন একটা বিকট আওয়াজ পেয়ে সে জানালার কাছে এসে জানালাটা খুললো এবার
ততক্ষণে আঁখি আরেকটা আলু সমেত কাগজ ছুঁড়ে মেরে দিয়েছে
কাগজটা গিয়ে সোজা রিহাবের কপাল বরাবর পড়লো এবার
রিহাব কপাল ঘষতে ঘষতে কাগজটার দিকে তাকালো
.
এই রে মরেছে!!জানালা ভেবে এবার আমার জানটুসের কপালেইই আলু মেরে দিলাম,এখন কি হবে!
.
রিহাব কাগজটা নিয়ে খুলতে খুলতে ভাবলো হয়তবা কোনো প্রেমপত্র হবে
কিন্তু যা ভাবলো হলো তার উল্টোটা
কাগজটা একটা পেপারের টুকরা মাত্র,আর ভেতরে একটা মিনি সাইজের আলু
বড় আলু হলে তরকারিতে দেওয়া যেতো কিন্তু এত ছোট আলু দিয়ে তো ছাতার মাথাও হবে না,পেটের এক কোণায় ও যাবে না এটা
এসব ভাবতে ভাবতে রিহাব আঁখির দিকে তাকালো,আঁখি অসহায় একটা লুক নিয়ে জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে
.
রিহাব গাল ফুলিয়ে আলুটা আঁখির গায়ে মেরে জানালাটা আবারও বন্ধ করে দিলো
.
উনি আমার গায়ে আলু মেরেছে??হায় মে মার জাবা
আজ রাত আর ঘুম হবে না আমার
.
আঁখি আপা আপনার ঘুম হবে না কেন?
.
আঁখি আলুটা লুকিয়ে বললো”না আসলে চা বেশি খেয়ে ফেলেছি তো তাই এটা বললাম”
কথা না বাড়িয়ে আঁখি নিজের রুমের দিকে চললো

তোমার গুনধর ছেলের কি খবর?
.
আমার ছেলে?তোমারও তো ছেলে,মাঝে মাঝে একটু মিষ্টি কথাও তো বলতে পারো ওর সাথে
.
কিসের মিষ্টি কথা?সফিক উল্লাহ কখনও বাপের টাকায় খাওয়া ছেলেদের পছন্দ করে না
পাশের বাসার রিহাবকে দেখছো?
সেই ভোর বেলায় অফিসের জন্য বের হয়,আবার রাতে ফেরে,দিনরাত খাটনি করে মা বাবার হাতে টাকা তুলে দেয় আর তোমার ছেলেকে দেখো,আজ পর্যন্ত ২টাকা উপার্জন করেছে??এসব দেখার জন্য কাড়ি কাড়ি টাকা ঢেলে ওকে শিক্ষিত বানিয়েছিলাম আমি??
.
রিহাবের কথা শুনে আঁখি লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নেমে দরজার কাছে এসে কান পেতে ছিলো
.
আমার স্পর্শের সাথে তুমি ঐ রিহাবের মিলাচ্ছো??ও কতই বা পায়,মাসে ২০/২৫হাজার,যেখানে আমার ছেলের মাসিক হাত খরচই ৩০হাজারের উপরে
.
তো?রিহাব কামাই করে টাকা উপার্জন করে আর তোমার ছেলে আমার কামাই করা টাকা খায়,যাকে বলে উড়ায়!
.
কথাগুলো আঁকির ভালো লাগছে আবারও খারাপ ও লাগছে
কারণ এক দিক দিয়ে বাবা রিহাবকে পছন্দ করেন আরেক দিক দিয়ে ওর ভাইয়াকে অপমান করছেন,তাই ওর ভালো খারাপ দুটোই ফিল হচ্ছে
.
স্পর্শ বারান্দায় এসে সিগারেট একটা ধরিয়ে সেটা হাতে রেখে নিচের ফাঁকা রাস্তাটা দেখছে
বাবার চিৎকার স্পষ্ট ওর কানে এসে বিধছে,প্রতিদিন বাবার একটাই কথা, স্পর্শ কেন চাকরি করে না
.
সিগারেটটা আর খাওয়া হলো না,হাতে থেকে থেকেই জ্বলে শেষ হয়ে গেছে
তাই রুমে আসলো সে আরেকটা নেওয়ার জন্যে,সিগারেট টেবিলের ড্রয়ার থেকে নিতে যেতেই স্পর্শের চোখ গেলো রিমঝিমের রুমের দিকে
তামিম জানালার পর্দার ভিতরে ঢুকে গ্রিল ধরে ঝুলে আছে স্পর্শের দিকে চেয়ে
মুখের ভেতর কিসের যেন একটা সাদা ছোট পাইপ দেখা যাচ্ছে,স্পর্শ ওর দিকে তাকিয়েছে দেখে তামিম মুখ থেকে ললিপপটা বের করলো
.
স্পর্শ এগিয়ে এসে বললো”কিরে শালাবাবু!”
.
তামিম ভ্রু কুঁচকে ললিপপটা মুখের ভেতর আবার পুরে নিলো,এখনও সে গ্রিলে ঝুলে আছে
.
শালাবাবু তোমারে কি তোমার আপু আমার সাথে কথা বলতে মানা করেছে?নাকি কসটিভ গিলে ফেলছো”
.
তামিম এবার হকচকিয়ে ললিপপটা আবার মুখ থেকে বের করে বললো”কসটিভ গেলা যায়?গিললে কি হয়?”
.
স্পর্শ মুখটা গোল করে গ্রিলের সাথে লেগে বললো”কসটিভ গিললে ভালো মানুষ দেখলে কথা বের হয় না মুখ দিয়ে,আর আমার মনে হয় তুমি কসটিভ গিলে ফেলেছো”
.
তামিম পর্দা দিয়ে মুখটা ঢেকে বললো”আমি যে কসটিভ খেয়ে ফেলেছি এটা তুমি জানো কি করে?”
.
স্পর্শ দাঁত কেলিয়ে বললো”এই যে ভালো মানুষ মানে আমাকে দেখে তোমার মুখ দিয়ে কথা বের হয় না”
.
আমি না ঐদিন হাতে কসটিভ লেগে ছিলো বলে খুলতে পারছিলাম না হাত দিয়ে,তাই মুখ দিয়ে খুলতে গিয়ে গিলে ফেলেছি,এখন আমার কি হবে?
.
আমার সাথে ঠিকমত কথা বললে তোমার কিছু হবে না
.
তামিম বোকার মতন কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কিসব ভাবতে থাকলো
রিমঝিম পানির বোতল নিয়ে রুমে এসেই দেখলো তামিম স্পর্শের সাথে কথা বলছে,এটা দেখে ওর মাথা চড়ক গাছ
হনহনিয়ে এসে সে তামিমের হাত ধরে ওকে জানালার কাছ থেকে নামালো,স্পর্শ দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে ওদের দিকে
রিমঝিম ওর দিকে তাকিয়ে রাগে ফুলতে ফুলতে পর্দা টেনে দিয়েছে
.
তারপর তামিমের দিকে তাকিয়ে বললো’তোকে বলছি না ঐ লোকটার সাথে কথা বলবি না?”
.
স্পর্শ পর্দার ফাঁক দিয়ে রিমের দিকে তাকিয়ে আছে,রিমের হাত দেখা যায় শুধু
.
আপু ভাইয়াটা আমাকে বলতেছিলো কসটিভ খেলে নাকি ভালো মানুষের সাথে কথা বলার সময় মুখ দিয়ে কথা বের হয় না
.
রিমঝিম কপালে চাপড়িয়ে বললো”যা ঘুমাতে যা,গাধা কোথাকার!”
.
বড় আপুর বকুনি খেয়ে তামিম মাথা চুলকাতে চুলকাতে মায়ের রুমের দিকে চলে গেলো
.
রিমঝিম রুমের লাইট অফ করে নিজেও শুয়ে পড়েছে
.
স্পর্শ ঘড়ির দিকে তাকালো একবার,১২টা বাজতে ২ঘন্টা বাকি আর
প্রতিদিন রাতে ঠিক ১২টায় রিমঝিম বারান্দায় এসে দাঁড়ায়,স্পর্শ তখন থাকে না বলে সে শান্তিতে নিজের বারান্দা বিলাস করে
কিন্তু সে জানে না যে স্পর্শ প্রতিদিন এসময়টায় ওরই অগোচরে ওকে দেখে,আজ পর্যন্ত সে জানে না স্পর্শ ওকে এসময়ে লুকিয়ে দেখে
.
রিমঝিম কোলবালিশ জড়িয়ে শুয়ে আছে,ঠিক ১২টায় যখন পুরো মহল্লা ঘুমিয়ে পড়বে তখন সে এক কাপ চা হাতে নিয়ে বারান্দায় এসে বসবে,এসময়টা শুধু তারই
নাহলে এসময়ে কে চা খাবে?ঘুমাতে হবে তো নাকি?
রিমঝিম মাঝরাতে চা খেলেও ওর ঘুম ভালো হয় তাই তো তার এমন অভ্যাস
.
ঠিক ১২টা বাজে,রিমঝিম হাতে চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে, সাথে একটা ছোট্ট টুল,ল্যাম্পপোস্টের আলো ছাড়া আর কোনো আলো নেই কোথাও
সবাই ঘুমে হয়তবা জেগে আছে কেউ শুধু রুমের লাইটটা অফ তাদের
রিম চায়ের কাপটা রেলিংয়ের উপরে রেখে চুলগুলোকে নাড়তে নাড়তে কোণায় এসে দাঁড়ালো,কি সুন্দর কোথাও কেউ নেই
কত ভালো লাগছে,রিম চায়ের কাপটা নিয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে চুলগুলো নড়াচড়া অফ করে হেলান দিয়ে দাঁড়ালো এবার
কৌতুহলবশত স্পর্শের রুমের দিকেও তাকালো সে
তাদের আর স্পর্শদের বাসার দূরত্ব শুধু ২হাতের,একজন চিকন মানুষ ও এই ফাঁক দিয়ে ঠিকটাক পার হতে পারবে কিনা তাতে সন্দেহ,তাই রিম বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্পর্শের বারান্দাটা একদম নিখুঁত ভাবে দেখতে পায়
মুখ উঁচু করে সে স্পর্শের বারান্দাটা দেখছে
স্পর্শের বারান্দাটা গরুর হাটকেও হার মানাবে,কিরকম আগোছালো লোকটা!
প্যান্ট, শার্ট সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে তাও বারান্দায়,বারান্দা হলো মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করার একটা উত্তম জায়গা,এখানে সে একা থেকেও ভালে থাকতে পারে আর এই লোকটাকে দেখো!
খবিশ একটা!
রিম আরেকটু সরে দাঁড়িয়ে চা শেষ করে কাপটা একপাশে রেখে দিলো,তারপর বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে টুলটা টেনে বসেছে এবার
.
রিমঝিমদের বাসার থেকে একটু দূরে যে ল্যাম্পপোস্টটা আছে তার পিছনের দিকটায় অন্ধকার,আর সেই অন্ধকারে কেউ একজন বসে আছে,তার চোখ রিমের দিকে,যেন এ প্রথম সে মানুষটাকে দেখছে এতটা মুগ্ধ হয়ে
.
স্পর্শ মুচকি হেসে ঠাস করে নিজের গালে নিজেই একটা চড় মারলো,এই নিয়ে ২০টা মশা কামড়িয়েছে ওকে
বেছে বেছে গালেই কামড়ায়,আজ আসার সময় কয়েল আনলাম না কেন,ভুলে গেছি বলে এখন ১ঘন্টা ধরে মশার কামড় খেতে হবে,শান্তিতে রিমকে দেখতেও দিচ্ছে না মশাগুলো
স্পর্শ ল্যাম্পপোস্টটার পিছনে থাকা একটা ভ্যানের উপর বসে রিমঝিমকে দেখে যাচ্ছে
.
রিম টুল নিয়ে বসে আছে চুপচাপ,হুদাই এখানে বসে থাকতে তার ভালো লাগে,তবে ৩বছর ধরে স্পর্শের জ্বালাতনে তার প্রাণপ্রিয় বারান্দাটায় তার বসাই যেন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে,তাই তো রিম বেছে বেছে এ সময়টায় নিজের বারান্দা বিলাস করতে আসে
একটা পিঁপড়াও থাকে না এসময়ে
.
রিম গালে হাত দিয়ে তার বারান্দায় থাকা গোলাপ গাছটার দিকে চেয়ে আছে
তার হাতে কখনও গোলাপ গাছ টিকে না,দুদিন পরই মরে যায় বলে গোলাপ গাছ রাখা ছেড়ে দিয়েছে সে,তবে অনেকদিন আগে ভার্সিটি থেকে আসার পথে সে তার বারান্দার নিচে একটা গোলাপ গাছের ঢাল পেয়েছিলো,সেটা কুড়িয়ে এনে এমনিতেই টবে গেঁথে রেখে দিয়েছিলো সে
ঢালটায় একটা গোলাপ ছিল বলে সে ঢালটা উঠিয়ে এনেছে,মাঝে মাঝে পানিও দিতো,ওমা ২মাস পর সে দেখলো কুড়ি বের হচ্ছে, ব্যাস দেখতে দেখতে এখন গোলাপ ও ফুটেছে,এবং মজার ব্যাপার হলো গাছটা ১বছর হতে চললো এখনও মরেনি,রিম তো নিজেকে অলক্ষী বলছিল এতদিন এখন এটা দেখে প্রমাণ হলো যে সে লক্ষী
.
আসলে ঢালটা স্পর্শ এনে রেখেছিলো রোডের উপর
কারণ সে জানতো রিমের গোলাপের অনেক শখ,নিজের একটা গোলাপ গাছ রাখা তার আরও বিরাট শখ,সমস্যা ছিল তার হাতে গোলাপ গাছ টিকতো না,কিন্তু তাও সে প্রতি শীতকালে গোলাপ গাছ কিনতো একটা করে
১মাস পর সেটা মৃত পুরোপুরি
রিম প্রতিবার ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতো গাছগুলোর জন্য
তাই স্পর্শ গোলাপের বাগান খুঁজে একটা টব এনেও রেখেছিলো রিমের বারান্দায়,রিম সেটা দেখে বুঝেছে স্পর্শ রেখেছে তাই সে সেটা ফেলে দিয়েছিলো তাও স্পর্শের বারান্দায়
তাই শেষমেষ স্পর্শ একটা গোলাপ গাছের তাজা ঢাল কেটে আনলো, গোলাপের ঢাল যদি তাজা হয় তাহলে সেই ঢাল রোপন করলে কুড়ি বের হবে
আর তাই হলো,স্পর্শ ঢালটা রেখে যাওয়ার পর রিম সেটা নিয়ে রোপন করলো আর কুড়িও বের হলো,রিম ৭দিনে ৫দিন পানি দিতো,তাই স্পর্শ মনে করে বাকি ২দিন পানি দিতো রিমের মনে থাকতো না বলে
গাছটা দুজনের যত্ন পেয়ে এখন বেশ ভালোই আছে,তা দেখে রিম মহা খুশি আর তার খুশি দেখে স্পর্শ আরও খুশি।।
চলবে♥

দু মুঠো বিকেল⛅♥
#পর্ব_৫
Writer-Afnan Lara
.
স্পর্শের বারান্দাটার দরজা খুলে গেলো হঠাৎ,রিম চমকে গিয়ে সাথে সাথে সেদিকে তাকালো
স্পর্শের মা দাঁড়িয়ে আছেন সেখানে,পরনে একটি ঘাড়ো গোলাপি রঙের নাইট ড্রেস
রিম চোখ বড় করে টুল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছে
.
রোকসানা বেগম এদিক ওদিক তাকিয়ে এবার রিমকে দেখতে পেয়ে ব্রু কুঁচকালেন
রিম ভয়ে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে আছে,চোখের পাতাও ফেলছে না,কথা তো দূরে থাক
রোকসানা বেগমকে সে ভয় পায়,কারণ তার চাহনি দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় মানুষকে তিনি গিলে ফেলতে ২মিনিট সময় ও লাগাবেন না
.
রোকসানা বেগম একটু এগিয়ে এসে রোডের চারপাশে স্পর্শকে খুঁজলেন কিন্তু পেলেন না তারপর রিমকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললেন”এত রাতে এখানে কি করো তুমি?কার সাথে প্রেম করো?”
.
রিম মুখটা ছোট করে বললো”প্রেম না,এমনি ঘুম আসছিল না বলে এসেছিলাম”
.
রোকসানা বেগম চায়ের কাপটার দিকে তাকিয়ে বললেন”ঘুম আসবে কেমনে?? যদি চা খাও এ সময়ে,যাই হোক আমার স্পর্শকে দেখেছো?”
.
রিমঝিম চমকে বললো”নাহ তো,”
.
ওহ!
.
রোকসানা বেগম আর সময় নষ্ট না করে চলে গেলেন,রিম ভাবনায় পড়ে গেলো স্পর্শ এসময়ে কোথায় থাকতে পারে
হায় আল্লাহ!!!!!আমাকে তো লুকাতে হবে,যদি কোথাও গিয়ে থাকে এখন আসার পথে আমাকে এখানে দেখলে তো এরপর থেকে রোজ এ সময়ে আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে লোকটা
রিম জলদি করে টুলটা হাতে নিয়ে রুমের ভেতর চলে গেলো
.
স্পর্শ এবার ভ্যান থেকে নেমে বাসায় ফেরত এসেছে,দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতে যেতেই দেখলো মা সোফায় বসে আছেন ওর দিকে তাকিয়ে
.
স্পর্শকে দেখে তিনি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন”কোথায় গিয়েছিলি?”
.
স্পর্শ দরজা লাগাতে লাগাতে বললো”ঐ আসলে আশিক ডেকেছিলো ওর বাসায়,ওর জন্মদিন তো আজ”
.
ওহ আচ্ছা!শুয়ে পড়,অনেক রাত হয়ে গেছে
.
হুমম.
.
স্পর্শ মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেলো তার রুমের দিকে

ভোর ৫টা ৫ বাজে,রিম মরার মতন ঘুমাচ্ছে
স্পর্শ কোমড়ে হাত দিয়ে রোডে দাঁড়িয়ে রিমের অপেক্ষা করছে অথচ রিম আসছে না
এখন ৫টা ৬বাজে
স্পর্শ রোড থেকে খুঁজে একটা কঙ্কর নিয়ে রিমের বারান্দার দরজার উপর মেরে দিলো
রিমের মনে হলো ছাদ ভেঙ্গে পড়তেছে ওর গায়ে
হন্তদন্ত করে সে উঠে বসে এদিক ওদিক তাকালো,তারপর বুকে থুথু দিয়ে ঘড়ির দিকে তার চোখ পরতেই মনে পড়ে গেলো স্পর্শের কথা
আজ কপালে শনির দশা আছে,ভাবতে ভাবতে রিম বিছানা থেকে নেমে ওড়না গায়ে পেঁচিয়ে বারান্দার দরজা খুললো
স্পর্শ কোমড়ে হাত দিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
রিম অপরাধীর মতন লুক করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো চুপচাপ
.
ডেকে আনতে হয় কেন??এতদিন তো ঠিকঠাক আসতা সময় মতন,তাহলে আজ ডেকে আনতে হয়েছে কেন?নামাজ কালাম পড়ো না নাকি?এত কিসের ঘুম তোমার?রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবা, সকালে তাড়াতাড়ি উঠবা,বুঝছো?এখন যাও মুখ ধুয়ে অজু করে নামাজ পড়ো গিয়ে
.
আমাকে নামাজ পড়া শেখাতে হবে না,আমি ঠিকঠাক নামাজ পড়ি এটা আপনি ভালো করেই জানেন,তাহলে আজ কথা শুনাচ্ছেন কেন?
.
কারন তুমি এত সময় ধরে ঘুমাচ্ছিলে
.
মেয়েলি সমস্যা থাকলে নামাজ পড়তে হয় না সেসময়ে এই টুকু জানেন না আপনি?স্টুপিড!
কথাটা বলে রিম রেগে মেগে আবার নিজের রুমে ফেরত চলে গেলো
স্পর্শ থ হয়ো দাঁড়িয়ে আছে,তারপর কিসব ভেবে চলে গেলো তার বাসার দিকে
আসলেই তো!রিম তো নামাজে ফাঁকি দেয় না,আমার বুঝা উচিত ছিল কেন আজ সে ঘুম থেকে উঠেনি
.
রিম বিছানায় বসে গাল ফুলিয়ে রেখেছে,সকাল থেকে শুরু করলো আবার,সারাদিন জ্বালাবে!
.
রিম মুখ গোমড়া করে বিছানায় বসে থাকলো মা উঠে এসে ডাকা অবদি
মা উঠেছেন সকাল সাতটায়,উঠেই রিমঝিমের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন”রিম উঠেছিস?রুটি বানিয়ে দিতে আয়,আমি ভাজি করছি,তোর ভাইয়া আজ জলদি বের হবে”
.
রিম বিছানা থেকে নেমে সেদিকে ছুটলো,তামিম চোখ ডলতে ডলতে হাতে এক বোতল পানি নিয়ে দরজা খুলে ছাদের দিকে গেছে
ছাদে একটা ক্যাকটাস গাছ আছে এই গাছটার মালিক তামিম,তার প্রিয় গাছ এটা,সে প্রতিদিন সকালে এই গাছটায় পানি দেয়,গাছটাকে এত যত্ন করার কারণ আছে,ওদের বাসার ৩তলায় একটা পুচকি মেয়ে আছে,নাম হলো রিনতি,রিনতি তামিমকে দেখলেই হাসাহাসি করে বলে তামিম ক্যাকটাস গাছ থেকে কাঁটা নিয়ে রিনতির গায়ে ফুটিয়ে চলে যায়
তার ১০মিনিট পর রিনতির মা রিনতিকে নিয়ে নালিশ করতে আসে
বকা খায় রিমঝিম আর তার মা,তারপর তামিমকে বকাও দেয় তারা
তাও তামিম যখন দেখে রিনতি আবারও ওকে নিয়ে হাসাহাসি করছে তখনই সে কাঁটা ফুটিয়ে দেয় আবারও
এই গাছটা তার অনেক উপকার করে বলে ঘুম থেকে উঠেই সে গাছটায় পানি দেয়,তারপর মুখ ধুতে যায় রিমের কাছে রিম ওর মুখ ধুয়ে দিয়ে ওর দাঁত ব্রাশ করতে হেল্প করে
.
রিম তামিমের কাজ সেরে এবার রুটিগুলো বানিয়ে দিলো
রিহাব তাড়াহুড়ো করে রুম থেকে রেডি হয়ে বেরিয়ে সোফায় বসে ব্যাগ এক পাশে রেখে পায়ে মোজা পরছে আর কানে ফোন লাগিয়ে কলিগের সাথে কথা বলছে
.
কলিংবেল বেজে উঠতেই মা চমকে রিমকে বললেন”কিরে এত সকাল সকাল কে এলো আবার?”
.
তামিম বাতাসা আর মুড়ি নিয়ে বাটিতে করে খাচ্ছিলো,সে গেলো দরজা খুলতে,দরজা খুলতেই দেখলো আঁখি দাঁড়িয়ে আছে,হাতে একটা টিফিন বক্স নিয়ে
সে দাঁত কেলিয়ে তাকালো তামিমের দিকে
তামিম হাত থেকে বাটিটা নিচে রেখে দুহাত দিয়ে তার দু গাল ঢেকে পিছিয়ে গিয়ে বললো”কি চাই?”
.
ওরে দুষ্টু তোর গাল টিপি বলে আগে ভাগে গাল ঢেকে রেখেছিস?
.
দরজার ওপাশ থেকে আঁখির আওয়াজ পেয়ে রিহাবের কলিজা কাঁপা কাঁপি শুরু হয়ে গেছে,জলদি করে মোজা পরা শেষ করে সে নিজের রুমের দিকে ছুটতে যেতেই আঁখি হনহনিয়ে বাসার ভেতর ঢুকে পড়ে বললো”এই রিহাব”
.
রিহাব থেমে গিয়ে ব্রু কুঁচকে তাকালো,তারপর বললো”কি বললি?”
.
ইয়ে মানে রিহাব ভাইয়া!
.
কি চাই?
.
আপনার জন্য পিঠা এনেছি,খাবেন না?
.
তুই খা,রিহাব মুখ বাঁকিয়ে চলে গেলো,আঁখি পিছন পিছন আসতে নিতেই মা রান্নাঘরনথেকে বেরিয়ে এসে বললেন”আরে আঁখি যে!কি মনে করে?!”
.
আন্টি, আসসালামু আলাইকুম,কেমন আছেন?
.
ওয়ালাইকুম আসসালাম,ভালো আছি,তুমি কেমন আছো?বাসার সবাই কেমন আছে?
.
ভালো,আসলে আমার দাদিমা এসেছেন সকাল সকাল,সাথে করে পিঠা এত্তগুলা এনেছে তাই সবাইকে দিচ্ছি,আপনাদের জন্য ও আনলাম আমি
.
মা মুচকি হেসে পিঠার বক্স হাতে নিয়ে বললেন”দাঁড়িয়ে আছো কেন?বসো,নাস্তা হয়ে এসেছে,খেয়ে যেও”
.
রিহাব রুম থেকে বেরিয়ে বললো”কিসের নাস্তা খাবে?পিঠার বদলে কেউ নাস্তা দেয়?তামিম তোমার এই খালারে এক গ্লাস পানি খাওয়াও আর বিদায় করো”
.
খালা??সেটা আবার কেমন সম্পর্ক,আপনার মা যদি আমার আন্টি হয়,তাহলে আমি ওর আপু হবো,নয়ত ভাবী
.
মা চোখ বড় করে তাকাতেই আঁখি বললো”আপু বলবা কেমন?”
.
তামিম বাতাসা মুখে দিয়ে আরেকদিকে ফিরে চলে গেলো
.
রিমঝিম টেবিলে রুটি আর ভাজি এনে রেখে বললো”বসো আপু, আমাদের সাথে নাস্তা করবে আজকে
.
আচ্ছা
.
রিহাব মনে মনে বলছে”কি বেহায়া মেয়েরে বাবা,একবার না ও করে না,সাধার সাথে সাথে খেতে বসে গেছে”
.
আঁখি রিমঝিমকে জোর করে বসিয়ে দিয়ে নিজেই রুটি ভাজি প্লেটে নিচ্ছে আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে রিহাবকে দেখছে
রিহাবের গলা দিয়ে খাবার নামছে না আঁখির এমন চাহনি দেখে
.
রিহাব তাই একটু খেয়ে ব্যাগ নিয়ে চলে গেছে,আঁখি ব্রু কুঁচকে ওর চলে যাওয়া দেখছে,মা ওর পাশে দাঁড়িয়ে বললেন”আমার ছেলেকে পছন্দ বুঝি?”
.
আঁখি কথাটা শুনে রিম আর ওর মায়ের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে এক দৌড়ে পালিয়ে গেলো
.
তামিম টেবিলের নিচে বসে ছিলো এতক্ষণ ধরে
আঁখি সবসময় ওর গালে টিপে দেয় বলে সে তার গাল নিয়ে বিপদে আছে,একটু গলুমলু হওয়ার এই এক বিপদ,যেই দেখবে সেই গাল টিপতে চাইবে,আমার নিজের বোন আমার গাল টিপে না আর এই আপুটাকে দেখো,সবসময় আমার গাল টানে,আজ আর টানতে পারলো না হুহ
.
রিমঝিম নিজের রুমে এসে রেডি হচ্ছে,ভার্সিটিতে যাবে বলে,ওড়নাটা গায়ের থেকে খুলে এবার জামা খুলতে যেতেই ওর মনে পড়লো স্পর্শের কথা,দেয়ালের সাথে লেগে গিয়ে সে এদিক ওদিক তাকালো,যাক সব বন্ধ
এবার স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে সে একটা খয়েরী রঙের থ্রি পিস পরে নিলো,মাথায় ঘোমটা দিয়ে একটা সাইড ব্যাগ নিলো, তাতে তার ৩টা সাবজেক্টের বই আর খাতা, কলম,একটা পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো সে তামিমের জন্য,মা তামিমকে তৈরি করে রিমের কাছে এনে বললেন”ওকে স্কুল থেকে আবার নিয়ে আসবি তো নাকি আমি যেতাম?
.
নাহ আমি ওকে আবার নিয়ে আসব,চিন্তা করো না
.
ঠিক আছে
.
রিম তামিমের হাত ধরে বাসা থেকে নামতেই থেমে গেলো,স্পর্শ বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,পরনে খয়েরী রঙের শার্ট
রিম নিজের গায়ের দিকে তাকিয়ে চমকে গেলো
সেও তো খয়েরী রঙের জামা পরেছে তাহলে স্পর্শ সেটা জানলো কি করে?নাকি কো ইন্সিডেন্ট
এসব ভাবতে ভাবতে রিম তামিমকে নিয়ে হাঁটা ধরেছে,২/৪কদম হাঁটতেই একটা রিকশাআলা এসে বললেন”আপা যাবেন নাকি?”
.
রিম তামিমকে উঠিয়ে নিজেও উঠলো,রিকশাআলা পিছন ফিরে হাত দেখালো স্পর্শকে,স্পর্শ মাথা নাড়ালো,রিকশাটা স্পর্শ পাঠিয়েছে,রিম জানে না সেটা
তামিম সাদা স্কুল ড্রেস পরে কেমন একটা ভাব নিয়ে বসে আছে,সে এখন প্লে স্কুলে পড়ে,কয়েক মাস পর সে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হবে
.
রিম কিছুক্ষন বাদেই বাইকের হর্ন শুনতে পাচ্ছে,আর এই হর্নটা তার চিরচেনা,এটা স্পর্শের বাইকের
তামিমের স্কুল এসে পড়তেই রিমঝিম রিকশা থেকে নেমে রিকশাআলাকে বললো দু মিনিট দাঁড়াতে
তারপর তামিমের হাত ধরে ওকে নিয়ে স্কুলে ঢুকিয়ে দিয়ে সে আবারও এসে রিকশায় উঠলো
রিকশায় উঠার আগে এদিক ওদিক তাকালেও স্পর্শকে সে দেখলো না
.
এবার রিমঝিম যাচ্ছে তার ভার্সিটির দিকে,ভার্সিটির গেট পর্যন্ত এসে রিকশা থেমেছে
রিমঝিম রিকশা থেকে নেমে ভাড়াটা ব্যাগ থেকে বের করে গুনতে গুনতে সামনে চেয়ে দেখলো গোটা রিকশাটাই উধাও
.
রিমঝিম ব্যাপারটা প্রথমে বুঝলো না,পরক্ষনেই নাকে একটা চেনা পারফিউমের ঘ্রান আসতেই রিমঝিম বুঝলো এটা কার কাজ তারপর রিমঝিম রেগে পিছন ফিরে তাকিয়ে বললো”সমস্যা কি আপনার? আমি ফকির?আমার হাতে টাকা নেই?”
.
স্পর্শ বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত ঢুকিয়ে বললো”আমি তো বলিনি তুমি ফকির কিংবা প্রমাণ করতেও চাইনি”
.
তাহলে রিকশা কই?আপনাকে কে বলেছে ভাড়া দিতে?আপনার বিয়ে করা বউ লাগি আমি?অসহ্যকর একটা,এমন ভাব ধরে যেন আমার আপন আত্নীয় হয়,আপনার কি লজ্জা শরম নেই??আপনি যে আমাকে বিরক্ত করেন এতো আপনার কি দিলে মায়া টায়া হয় না একটুও?
.
আপা?
.
রিমঝিম চমকে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো সেই রিকশাআলা দাঁড়িয়ে আছে
.
আপা আপনি আমার ভাড়াটা তো দিলেন না,আমি একটু সামনে রিকশাটা রেখে আসতে গেছিলাম,এখানকার দারোয়ান ধমকায় গেটের সামনে রিকশা দাঁড় করালে,ভাড়াটা দেন আমি যাই গা
.
রিমঝিম ভূত দেখার মতন দাঁড়িয়ে আছে রিকশআলার দিকে তাকিয়ে
ওপাশ থেকে ফিক করে হাসির আওয়াজ ভেসে আসলো কানের কাছে
রিমঝিম বড় আকারের লজ্জা পেয়েছে আজ স্পর্শের সামনে
এদিক দিয়ে হলো আরেক বিপত্তি আর সেটা হলো রিমঝিম পুরো ব্যাগ খুঁজে ২০টাকা পেয়েছে শুধু
আজ মনে হয় তাড়াহুড়ো করে আসার সময় টাকার ছোট ব্যাগটা বিছানার উপর ফেলে এসেছে সে
এখন রিকশাআলাকে দিতে হবে ৪০টাকা,এত টাকা তো নাই
স্পর্শ বাইকে বসে বাইক স্টার্ট দিতে দিতে বললো”আজ বাঁ হাতটা চুলকাচ্ছে অনেক,মনে হয় ২০টাকা খোয়া যাবে নতুবা কাউকে দিতে হবে,কিন্তু কোন ফকির নেবে?”
.
রিমঝিম রেগে চুপ করে আছে,না পারছে গালি দিতে না পারছে কিছু বলতে,সে যে অসহায়,এই ভার্সিটিতে তার তমা ছাড়া আর কোনো তেমন ভালো ফ্রেন্ড নাই যে তাকে টাকা ধার দেবে,তার উপর তমা সবসময় ২ঘন্টা দেরি করে ভার্সিটিতে আসে,এতক্ষণে নিশ্চয় সে কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে শান্তিতে,টাকাটা দিব তো কার থেকে নিয়ে দেবো।
চলবে♥

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ