Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"রৌদ্দুরে প্রেমের বৃষ্টি পর্ব-৩২+৩৩

রৌদ্দুরে প্রেমের বৃষ্টি পর্ব-৩২+৩৩

#রৌদ্দুরে_প্রেমের_বৃষ্টি
#পার্টঃ৩২
#রুবাইদা_হৃদি(sheikh ridy)

সুন্দর সকাল গুলো সুন্দর ভাবেই শুরু হয়৷ সিনেম্যাটিক ভাবে৷ বাইরে কোথাও পাখির ছুটোছুটি,ঝড়ো হাওয়া৷ সূর্যের আলোর মাখামাখি৷ আর প্রিয় মানুষটার বাহুডোরে আবদ্ধতা৷ লজ্জা মাখা সকাল৷ একরাশ ভালোবাসাময় সকাল৷ সে এখনো ঘুমিয়ে আছেন৷ আমি পিটপিট চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছি৷ তার উষ্ণ আলিঙ্গনে থাকতে বেশ লাগছে৷ বাইরে ঠান্ডা হাওয়া বইছে৷ মাথার পাশের থাই গ্লাস টা রাতে খুলে রাখি৷ সেখান থেকে চাঁদের আলো এসে ঘর আলোকিত করে৷ আর প্রতিদিন সকালে সূর্যের সকালের ফ্রেশ আলোক রশ্মিটাকেও উপভোগ করা যায়৷ সেই খোলা জানালা দিয়েই হাওয়া আসছে৷ ব্লাঙ্কেটের ভেতর দিয়ে হাওয়া ঢুকে ঠান্ডা শিহরণ দিচ্ছে৷ আমি আরেকটু এগিয়ে তার বুকের সাথে মিশে গেলাম৷

–‘ আপনার মাঝে কিছু একটা খুজে পাই আমি৷ ‘

সে উত্তর দিলেন না৷ শুধু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন৷ দিনে দিনে কেমন পাগল হয়ে যাচ্ছি৷ তার মাঝে আসক্ত হয়ে যাচ্ছি৷ কিছুক্ষণ পর সে চোখ মেলে তাকালো৷ আমার দিকে তাকিয়ে ভুবন ভুলানো হাসি দিলো৷

–‘ ভালোবাসাময় মনিং মহারাণী৷ ‘

আমি হাসলাম৷ তার সব কিছুতে ভিন্নতা৷ আমি একগাল হেসে বললাম,

–‘ শুভ সকাল৷ ‘

–‘ প্রত্যেকটা সকাল শুভ কিন্তু আজকেরটা ভালোবাসাময়৷ ‘

আমি কিছু বললাম না৷ সব কিছু সপ্নের ন্যায়৷ সেদিনের জেদের জন্যই আজ আমি তার আর সে আমার৷ আমিরের সাথে কেমন থাকতাম,কি হতো ভেবেই একটু শিউরে উঠলাম৷ তবে সব কিছুর জন্য আমির নামক মানুষটার ধন্যবাদ প্রাপ্য৷ তার খাম খেয়ালি কাজের জন্য কাব্য ভাইয়ার জেদ৷ জীবনটা ট্রাজেডি৷ সব কিছুর ভেতরে সুখের খোজ থাকে বলেই এতোটা ট্রাজেডি৷ তবে সব কিছুর মূলে এতোটা সুখ আছে সেটা আমি ভাবতেই পারি নি৷ আমাকে হঠাৎ অন্যমনস্ক হতে দেখে সে বললো,

–‘ মুখটা হঠাৎ শুকিয়ে যাওয়া রসগোল্লার মতো করে রেখেছিস কেন৷ ‘

–‘ মানে?’

উনার আজব কথা শুনে ভ্রু কুচকে এলো৷ শুকিয়ে যাওয়া রসগোল্লা৷ হাও ফানি৷ আমাকে সিরিয়াস হতে দেখে হেয়ালি করে বললেন,

–‘ তোর ছোট মাথায় এতো কিছু ঢুকবে না৷ ‘

–‘ কেন ঢুকবে না৷ অবশ্যই ঢুকবে৷ আপনার মতো আস্ত এক মানুষের সব সহ্য করতে পারলে ছোট একটা কথা কেন বুঝবো না বলেন তো? ‘

উনি বড়সড় একটা ধাক্কা খেলেন মনে হয়৷ ধাক্কা খাওয়ার কারণ খুজতে কোন কথার মানে কি বের করেছেন আল্লাহ মালুম৷ আমি উনার থেকে উঠে বসার জন্য তাড়া দিলাম৷ উনি দুষ্টুমি করার মুডে আছে এখন৷ উঠতে গেলে আবার আটকে ফেলছেন৷ আমি বিরক্ত হলেও প্রকাশ করছি না৷ মূহুর্ত গুলো যে দামী..! ‘
__________________
হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে দাঁড়িয়ে আছি আমরা৷ এখানে থেকে সম্পূর্ণ ভার্সিটি দেখা যাচ্ছে৷ সবাই ফরেনার৷ আমি আজ জিন্স আর কামিজ পড়ে এসেছি৷ নিজেকে কেমন অচেনা লাগছে এই আধুনিকতার ভীড়ে৷ আর সে,ব্লু জিন্স,হোয়াইট টি শার্ট, চোখে সানগ্লাস ঝুলিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন৷ আমি উনার দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে আছি৷ দিনে দিনে আরো হ্যান্ডসাম আর কিউট হচ্ছেন৷ তার কিউটনেস দেখে মহা বিরক্ত লাগলো আমার৷ বিদেশিদের সাদা চামড়ার ভীড়েও তাকে ধবধবে সাদা লাগছে৷ হোয়াইট জার্মানি ক্যাট৷ ভেবেই বিরক্তিতে হাসি পেলো৷ ধূসর বর্ণের মণি গুলো সানগ্লাস খুলতেই নজরে পড়লো৷ আমি বিরবির করছি, ‘ বউকে ভার্সিটি তে দিতে আসে নি নিজেই ভর্তি হতে এসেছেন মনে হচ্ছে৷ ‘

–‘ কোথাও জ্বলে যাওয়ার গন্ধ পাচ্ছি৷ ‘ উনি হাত দিয়ে বাতাস করে বললেন৷ কথাটা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা সেটা আমি বুঝতে পারছি৷ আমি দাঁতে দাঁত চেপে বললাম,

–‘ সাদা বেড়াল চেনেন? আপনাকে সাদা বেড়াল লাগছে৷ ‘

উনি হো হো করে হাসলেন৷ মাথা দুলিয়ে৷ আমি রেগে ফেটে পড়ছি৷ ওয়েট এন্ড সি..! আপনাকে আপনার ট্রিকসে পুড়াবো মিস্টার কাব্য৷

আজব নিয়মের বেড়াজালে বেঁধে পড়েছি৷ ভাষা আয়ত্ত করতে বেশ বেগ পেতে হবে মনে হচ্ছে৷ ইংরেজি টা চলে কিন্তু জার্মান ভাষা৷ সেটা আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে৷ আমি অবাক চোখে তাকিয়ে শুধু শুনেই যাচ্ছি৷ ক্লাস শেষে আজ ভাষা শিখবো৷ উফফ! এতো ঝামেলা জানলে আমি আসতাম না৷ অফ পিরিয়ডে বিশাল করিডোরে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখছি৷ নির্জন, কোলাহল মুক্ত৷ সবাই ডিসিপ্লিনের মধ্যে চলে৷ কথা বলতে গেলেও বোধহয় ভেবে নেয় সবাই৷ আমি উদাস চোখে তাকিয়ে আছি৷ নিজের ভাষা আর আর কোলাহল মিস করছি৷ নিজের দেশ মানেই স্বাধীনতা৷ ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ালাম৷ কবে যাবো আবার সেই মাটিতে? জ্যাম হোক বা দূষণ সব কিছু মিস করছি৷

–‘ ক্যান আই টক টু ইউ?’ পাশে থেকে পুরুষ কন্ঠে শুনে ঘুরে তাকালাম৷ ছিপছিপে গড়নের শ্যাম বর্ণের একটি ছেলে৷ মুখে বাঙালি ছাঁপ৷ আমি কথা বললাম না৷ ঘুরে ফেরত আসতে গেলে আবার বললো,

–‘ হেই ম্যাম, আপনি কি বাংলাদেশী৷ ‘

আমি এইবার ঘুরে তাকালাম৷ মিষ্টি হেসে জবাব দিলাম৷ নিজের দেশের কাওকে পেয়ে হঠাৎ করেই ভুলে গেলাম সে ছেলে৷ উনি আমার দিকে এগিয়ে এসে সালাম দিলেন৷ সচারাচর এমন দেখা যায় না৷ আমিও সালামের জবাব দিলাম৷ সে ভদ্র ভাবে বললো,

–‘ ক্যান্টিনে যাবেন? আপনাকে দেখেই বাঙালি মনে হয়েছিলো৷’

ইতস্তত করে আমি তার সাথে গেলাম৷ অস্বস্তি হলেও এখন ঠিক লাগছে৷ উনার নাম রাতিব৷ চিটাগাং থাকেন আমার ডিপার্টমেন্টেই পড়েন৷ সব ডিটেইলস শুনে মূহুর্তেই ফ্রী হয়ে উঠলাম তার সাথে৷ ছেলেটা মিশুক৷ ভালো৷ এর আগের ক্লাসের সমস্ত নোটস আমাকে দিলো৷ ক্লাস শেষ করে তার সাথেই ক্যাম্পাস থেকে হেটে মেইন গেইটের কাছে গেলাম৷ কাব্য ভাইয়া নিরলস ভাবে পকেটে হাত গুজে দাঁড়িয়ে আছেন৷ আমায় দেখে সানগ্লাস শার্টের মাঝে গুজে দিলেন৷ আমি রাতিবের সাথেই তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম৷ উনি কিছুটা অবাক হয়েছেন৷ তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন,

–‘ ক্লাস কেমন হলো? ‘

আমি মুচকি হেসে জবাব দিলাম, ‘ ভালোই..! আপনার ক্লাস আর মিটিং? ‘

উনি কিছু বললেন না৷ ছেলেটার দিকে তাকিয়ে আছেন৷ আমার দিকে গম্ভীর চোখে তাকালেন আমার বেশ লাগছে৷ সকালে ওভার স্মার্ট সাজার ছোট একটা শাস্তি দেওয়া যায়৷ রাতিব উৎসুক চোখে তাকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘ উনি কে৷ ‘

আমি দাঁত বের করে হেসে জবাব দিলাম,

–‘ ওওও,,মিট হিম৷ আমার কাজিন ব্রাদার৷ ‘

উনি আমার দিকে রাগী চোখে তাকালেন৷ রাতিব মাথা দুলিয়ে “ওহ ” বলতেই আমার হাসি পেলো৷ উনি গম্ভীর ভাবেই আমাকে একটানে উনার কাছে নিয়ে বললেন,

–‘ ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন, আমার মিসেস. সে৷ হুটহাট ভুলে যাওয়ার রোগ আছে তাই আমাকেও ভুলে যায়৷ আমি ড্যাম সিউর কাল আপনাকেও ভুলে যাবে৷ ‘

আমি উনার থেকে দূরে যাওয়ার চেষ্টা করলাম৷ উনি আবার আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন,

–‘ তাই না বেইব? ‘

আমি উপায় না পেয়ে ” হ্যাঁ ” বলতেই উনি আমাকে কোলে উঠিয়ে নিলেন৷ রাতিব তাকিয়ে আছে৷ আমি লজ্জায় মাথা নীচু করে ফেললাম৷ ছিঃ! ও কি ভাবছে৷ উনি গাড়িতে আমাকে বসিয়ে জোরে গাড়ি টান দিয়ে শুধু বললেন,

–‘ কাজিন ব্রাদার..! বাহ.. আজ ব্রাদারের ভূমিকা পালন করবো সিস্টার৷ ‘

আমি মানে বুঝলাম না৷ ব্রাদারের ভূমিকা মানে৷ আমি তাকিয়ে আছি উনি রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন,

–‘ ওয়েট সিস্টার৷ সর‍্যি কাজিন সিস্টার৷ ‘
চলবে,,,,

#রৌদ্দুরে_প্রেমের_বৃষ্টি
#পার্টঃ৩৩
#রুবাইদা_হৃদি(sheikh ridy)
নতুন দিগন্তের প্রবাল হাওয়া৷ স্বচ্ছ কাঁচের মতো পরিষ্কার সব৷ গাড়ির খোলা জানালা দিয়ে শাঁ শাঁ করে শিহরণ জাগানো বাতাস ঢুকছে৷ কেঁপে উঠার মধ্যেও ভালোলাগার শিহরণ দিচ্ছে৷ গাড়ি হাই স্পিডে ছুটে চলেছে৷ কোথায় যাচ্ছি,যাবো সেটা জানি না৷ ছুটে চলা গাছের দিকে তাকিয়ে আছি৷ আমাদের কলোনীর দিকে যে যাচ্ছি না সেটা বুঝতে পারছি৷ লুকিং গ্লাসের লুকোচুরি খেলাটা জমে উঠেছে৷ তবে উনার স্থির শান্ত দৃষ্টি৷ আমি বুঝেও ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বসে আছি৷ বোরিং টাইম বোধহয় এইটাকেই বলে৷
–‘ কাঁচ উঠিয়ে দে৷ ‘

–‘ এইভাবেই ভালো লাগছে৷ ‘ উনার কথা উপেক্ষা করার সাহস নেই৷ তবুও সাহস নিয়ে বললাম৷ উনি আমার দিকে ঝুঁকে কাঁচ উঠিয়ে দিলেন৷ আমি আঁড়চোখে তাকিয়ে আছি৷ রেগে বললাম,

–‘ আমার অক্সিজেনের প্রয়োজন৷ আমি কাঁচ খোলাই রাখবো৷ রাখবো মানে রাখবোই৷ ‘

–‘ সাহস থাকলে খুলে দেখা৷ ‘ উনি কাঁচ লাগিয়ে আবার ড্রাইভিং এ মনোযোগ দিয়ে বললেন৷ আমি খুলতে গেলে একহাত টেনে স্ট্রারিং এর উপর রেখে নিজের হাত আমার হাতের উপর রাখলেন৷ আমি অন্যহাত দিয়ে আবার চেষ্টা করতে গেলে গাড়ি ব্রেক করলেন উনি৷ আরেকটু হলে আমার হার্ট বেরিয়ে যেত৷ এতো জোরে কেও ব্রেক ধরে৷ আমি গরম চোখে তাকাতেই উনি চোখ মেরে বললেন,

–‘ কাজিন সিস্টার কি ভয় পেয়েছে?আজ আমার বউ থাকলে কোলের উপর উঠিয়ে ড্রাইভ করতাম৷ বাট আফসোস সে তো আমার সিস্টার৷ ‘

আমি ভড়কে গেলাম৷ বলেন কি? আমার কথা আমাকে শুনাচ্ছেন৷ আমাকে জবাব না দিতে দেখে লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে নিজের চুল হাত দিয়ে ব্রাশ করছেন৷ নিজেই নিজেকে দেখে বললেন, ‘

‘ পারফেক্ট৷ ‘

–‘ ক্লিয়ার করে বলেন তো,যাচ্ছি কোথায় আমরা?’ আমি নিজের রাগ সংযত করে বললাম৷ আজ নির্ঘাত ঝগড়া হবেই হবে৷ উনি গাড়ি থেকে নেমে আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

–‘ গার্লফ্রেন্ড যোগাড় করতে৷ যাবি? ‘
আমি রেগে বের হয়ে এলাম৷ তার সামনে কোমড়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে বললাম,

–‘ মানে৷ ‘

–‘ সিস্টার নিয়ে আর কয়দিন থাকবো?এইবার তো বিয়ে শাদী করা দরকার৷ চুল যে সাদা হয়ে যাচ্ছে৷ ‘
উনার নির্বিকার উত্তর শুনে আমি তার দিকে এক পা এগিয়ে গেলাম৷ মিইয়ে যাওয়া সুরে বললাম,

–‘ দেখুন..! ‘
–‘ হ্যাঁ,দেখেছি৷ ‘
আমি কথার মাঝেই থেমে গেলাম৷ বিরক্ত লাগছে৷ নিজের মনে কথা গুলো সাজিয়ে আবার বললাম,

–‘ আপনার ড্যাম কেয়ার ভাব আমার একদম ভালো লাগে না৷’

–‘ জেলাস? ‘ উনি আমাকে ঘুরিয়ে গাড়ির মধ্যে ঠেস দিয়ে আমার উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়ে রইলেন৷ আমি পুরো লেগে গিয়েছি গাড়ির সাথে৷ আচমকা এমন হওয়ার একটু ভয় পেয়ে গিয়েছি৷ আমার গলা কাঁপছে৷ মনে হচ্ছে সে,সদ্য প্রেমে পড়া প্রেমিক৷ প্রতিনিয়ত তাকে নতুন ভাবে উপলব্ধি করি কেন৷ আমি কি বলবো খুজে পেলাম না৷ উনাকে ছাপিয়ে আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেও আছে কিনা৷ সম্পূর্ণ নির্জন জায়গা৷ আশেপাশে গাছের সারি৷ অনেকে দূরে একটা চার্জের উপরের অংশ দৃশ্যমান৷ পাহাড়ের ঢালুর উপর৷ হঠাৎ মনে হলো,সেখানে যাওয়া দরকার৷ আমি তার দিকে তাকিয়ে অনুনয়ের সুরে বললাম,

–‘ ব্রাদার সিস্টার গেম পড়ে খেলবো৷ চলুন ওই চার্চে যাই৷ ‘

–‘ তার আগে স্বামীর দায়িত্ব পালন না করলে ঘোর অন্যায় হবে যে৷ ‘
আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম৷ এখানে আবার কিসের দায়িত্ব৷ উনি কাছে এসেই ঠোঁট আঁকড়ে ধরলেন৷ কিছু মূহুর্ত, কিছুটা পরিবেশের উষ্ণতা, দূরে চার্জের ঘন্টার আওয়াজ একটা ছোট মূহুর্তকে ভিন্ন ভাবে উপভোগ করালো৷ আমার শরীরে রক্ত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে৷ হঠাৎ প্রবাহ হাওয়ার মতো শীতল স্পর্শ৷ বার্লিনের এই নাম না জায়গা টা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে৷
__________________
সব কিছুর জন্য নিজেকে পূর্ণতার খাতায় ফেলতে বা লিখতে ইচ্ছা হয়৷ কখনো না চাইতেও অনেক কিছুই হয়ে যায়৷ আর সেই হওয়াটা সুখের হয়৷ হাতে হাত ধরে হাটার মানুষটা যদি পার্ফেক্ট হয় তাহলে উঁচু চড়াই কেও সমতল লাগে৷ হাতে হাত ধরেই উঁচু ঢাল উঠে চলেছি৷ উঠতে কষ্ট হলেও মানিয়ে নিচ্ছি৷ উঠার আগে উনি একটা কথা বলেছিলেন,
” জীবনটাকে এই উঁচু রাস্তার মতো মনে কর,আমি তোর পাশে আছি! চাইলে কোলে করেই উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারি৷ কিন্তু জীবনটা তো সহজ নয়৷ তাই পাশে থাকা সবকিছুকে অবলম্বন করে নয় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সব কিছু মোকাবেলার চেষ্টা করবি৷ ”

আমি উনার হাতটা শক্ত করে ধরে উঠার চেষ্টা করছি৷ তার কথা গুলোর মানে সহজ কিন্তু আমার কাছে বরাবর প্রচন্ড কঠিন লাগে৷ মনে হয় কিছু একটা হবে৷ যা বিশ্রী৷ আমার কল্পনার বাহিরে৷ কিন্তু সবটা উপভোগ করে নিতে চাচ্ছি৷ তার সাথে, তার পাশে থেকে,হাতে হাত ধরে৷

চার্চের বাইরে দাঁড়িয়ে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছি৷ হাঁপিয়ে গিয়েছি৷ আর তাকে দেখো,মনে হচ্ছে এক পা হেটেছেন৷ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই৷ আমি ধপ করে ইট বিছানো রাস্তায় বসে পড়লাম৷ আর পারছি না৷ কি জন্য এসেছি? এখন নামতে হবে ভেবেই শরীরে জ্বর চলে আসার উপক্রম৷ আমার সামনে এসে সে নিজেও বসে পড়লো৷ আদুরে সুরে বললো,

–‘ ঠিক আছিস? ‘

আমি জোরে শ্বাস টেনে নিয়ে বললাম,

–‘ আপনার কষ্ট হচ্ছে না? ঠিক আছেন কি করে? ‘

উনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়ালেন৷ আমি দাঁড়াতেই কোলে উঠিয়ে নিলেন৷ চার্চের ভেতরে এগিয়ে যেতে যেতে বললেন,

–‘ তোর জন্য৷ ‘

তার একটা কথায় আবারো সব কিছুতে ভালোলাগার ছোঁয়া বয়ে গেলো৷ শক্ত করে তার গলা জড়িয়ে ধরলাম৷ উনি আলতো হাতে ধরে রেখেছেন৷ মনে হচ্ছে,আমি ব্যাথা পাবো মনে হচ্ছে তার ধরায়৷ আমি মুচকি হেসে বললাম,

–‘ আপনার সব কিছুতে এতো মোহ কেন? এতো কেন ভালো আপনি৷ ‘

উনি একটা উঁচু বারান্দায় মতো জায়গায় এসে আমায় নামিয়ে দিলেন৷ তারপর আমার কোমড় ধরে তার বুকে আমার পিঠে রেখে সামনে তাকাতে বললেন৷ আমি তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলাম৷ সামনে নীল স্বচ্ছ আকাশ৷ পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গেছে হাজারো গাছ৷ আর দূরে ঝরণা আছড়ে পড়ছে নিচে৷ সুর তুলছে পানির৷ মনে হচ্ছে,নীল আকাশ ভেদ করে পানির সারি নিচে নেমে পড়ছে৷ রঙধনু সাদা গুচ্ছ মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে৷ আমি শান্ত চোখে তাকিয়ে আছি৷ দৃষ্টি কাঁপছে৷ উত্তেজনায় গলা থেকে আওয়ার ফিরে যাচ্ছে৷ উনার হাত খামচে ধরে শুধু বললাম,

–‘ আপনার ভালোবাসার মতো সবটা সুন্দর৷ উপভোগ্য৷ সবকিছু স্নিগ্ধতার চাঁদরে মোড়া৷ ‘

উনি আমার ঘাড়ে চুমু খেলেন৷ মোহ তে আছি তবুও তার স্পর্শ হৃদয়ে লাগলো৷ আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলাম৷ মাথার উপর ছাদ নেই৷ দেয়ালে লাল রাঙা ফুলের লতাপাতা জড়ানো৷ সামনেই চার্জ৷ এখন টা অন্ধকার তবে আলোকিত৷ হুট করে একটুকরো রোদের সাথে মেঘেরা নেমে পড়লো দল বেঁধে৷ উনি আর আমি ভিজে যাচ্ছি৷ উনি আরো শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছেন৷ আজও রৌদ্দুরে বৃষ্টি হচ্ছে..! আমার আর তার প্রেমের বৃষ্টি৷ ভালোবাসায় মোড়ানো স্নিগ্ধতার বৃষ্টি৷

মুখের ভাবটা পাংশুটে করে রেখেছি আমি৷ জ্বরে মুখ তেঁতো হয়ে উঠছে৷ গা গুলিয়ে বমি পাচ্ছে৷ মাথার রক্ত টগবগ করে ফুটছে মনে হচ্ছে৷ আর উনি আমাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে৷ উনি কিচেনে আর আমি তার গলা জড়িয়ে পিঠের উপর ঝুলে আছি৷ হঠাৎ করে বৃষ্টিতে ভেজার জন্য জ্বর এসেছে৷ উনি কিছু একটা বানাচ্ছেন৷ আমার বিরক্ত লাগছে৷ মাথা ঘুরাচ্ছে৷ আমি উনার সামনে গিয়ে হাতের নিচ দিয়ে বুকের উপর মাথা রেখে দাঁড়ালাম৷ উনি মনোযোগ দিয়ে কাজ করছেন৷ আমার করা বিরক্তিতেও তার ভ্রুক্ষেপ হচ্ছে না৷ আমি তার বুকেত উপর চুমু খেলাম৷ উনি তাকালেন আমার দিকে৷ বললেন,

–‘ রুমে যাও আমি আসছি৷ ‘ তার মুখে তুমি শুনে জ্বরের মাঝেও মাথা তুলে অবাক চোখে তাকালাম৷ ইশ! কি মিষ্টি লাগে শুনতে৷ আমি আবার তার বুকে ঠোঁট ছোয়ালাম৷ উনি একহাতে আমার মাথা চেপে ধরলেন৷ আমি চোখ বুজে বললাম,

–‘ এই তুমি,,আমাকে তুমি করে বলতে পারেন না? কতো মিষ্টি লাগে৷ জানিস? আমার খেয়ে ফেলতে ইচ্ছা হয়৷ ‘

–‘ কি খেতে ইচ্ছা হয়? ‘

আমি উনার বুকে নাক ঘষে বললাম,

–‘ তোকে না তোমাকে না না আপনাকে৷ ‘

আমি কি বলছি সেটা নিজেও জানি না৷ শুধু বলার দরকার বলে চলেছি৷ উনি আমাকে ধরে ওভেন বন্ধ করে কিছু একটা নিয়ে আমাকে উঠিয়ে বসালেন৷ আমি উনার টি শার্ট আঁকড়ে ধরলাম৷

–‘ আমাকে ফেলে কোথায় যাচ্ছেন৷ যাবেন না৷ আমি ঘুমাবো৷ আপনার সাথে৷ ‘

–‘ হ্যাঁ,ঘুমাবা তো৷ আগে ছাড়ো আমাকে৷ আসছি আমি৷ ‘

–‘ উহু,ছাড়বো না৷ আপনার সাথে যাবো৷ ‘

উনি আমার থুতনিতে হাত দিয়ে উঁচু করে কপালে চুমু খেয়ে বললেব,

–‘ আসছি তো বাবা৷ ‘

আমি ঠোঁট উল্টে কান্না করে দিলাম৷ উনি আমাকে রেখে খাবার রুমে নিয়ে গেলেন৷ তারপর আমার কাছে এসে আমাকে নিয়ে এলেন কোলে করে৷ বেডে বসিয়ে দিয়ে খিচুড়ি ধরলেন আমার মুখের সামনে৷ আমি নাক-মুখ কুঁচকে ফেললাম৷ তারপর উনার হাত ধরে বললাম,

–‘ সেদিনের মতো খাবো আমি৷ ‘

–‘ কোনদিনের মতো? ‘

–‘ আপনি খাবেন আমি আপনার থেকে খাবো৷ ‘

উনি নিজের কপাল কুঁচকালেন৷ সেদিন রাতের কথা মনে হতেই আমাকে জোর করলেন হাত থেকে খাওয়ার জন্য৷ আমি মানতে নারাজ৷ খাবো আমি তার ট্রিকসে৷ উনি হাঁপিয়ে গেছেন আমাকে বুঝাতে বুঝাতে৷ আমি হাসছি৷ খিলখিল করে৷ হাসির ছন্দ গুলো জ্বরের ঘোরেও জানান দিচ্ছে,
” সুখের মূহুর্ত না ফুরিয়ে যাক৷ চিরকাল এইভাবেই থাকুক৷ ”
চলবে,,,

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ