Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"অনুভূতি ৪র্থ পর্ব

অনুভূতি ৪র্থ পর্ব

অনুভূতি
৪র্থ পর্ব
মিশু মনি
.
৭.
একটা মেয়ে খুব কাছ থেকে তাকিয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। মেয়েটির মুখটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা। মেঘালয় কে বারবার হাতছানি দিয়ে ডাকছে সে। ডাকতে ডাকতে সে সমুদ্রের তীরে গিয়ে দাঁড়ালো। আবারো উত্তাল ঢেউ এসে ওকে ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপক্রম।
লাফিয়ে উঠে বিছানার উপর বসে পড়লো মেঘালয়। গত রাতেও এরকম একটা স্বপ্ন ও দেখেছে। মেয়েটির মুখটা স্বপ্নে স্পষ্ট হয়ে ধরা দেয়না। কিন্তু এটুকু অনুভূত হয় যে, মেয়েটি অনেক করুণ ও মায়াভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এর অর্থ কি? ওর অবচেতন মন কি কাউকে নিয়ে এভাবে ভাবছে? যে খুব ভয়াবহ বিপদের দিকে যাচ্ছে আর হাত বাড়িয়ে ডাকছে মেঘালয় কে?
একমনে বসে বসে চিন্তা করতে লাগলো ও। কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। যত বান্ধবী আছে, সবাই তো বেশ ভালো আছে। দিব্যি এনজয় করে সবসময়। এরকম মায়াবী দুঃখিনী কেউ তো বন্ধুত্বের তালিকায় নেই। একবার ভাবলো, ধুর, সব স্বপ্নের মানে হয় নাকি? স্বপ্ন তো স্বপ্নই। কিন্তু অবচেতন মন যা ভাবে, সেটাই স্বপ্নে এসে ধরা দেয় এই যুক্তিটা তো ফেলে দেয়া যায় না। অনেক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইলো মেঘালয়। আর ঘুম আসছে না। এমনি তে অনেক কল্পনাপ্রবণ আর প্রখর অনুভূতি সম্পন্ন মানুষ মেঘালয়। আর স্বপ্নে কাউকে দেখলে জেগে ওঠার পর তাকে খুব আপন মনে হয়। বারবার তার কথা মনে পড়ে। কিন্তু তার মুখটা তো স্পষ্ট নয়।
মেঘালয় উঠে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিয়ে এসে গিটার হাতে নিয়ে বেলকুনিতে এসে বসলো। তারপর টুংটাং করে সুর তোলার চেষ্টা করলো।
একটু পর গেয়ে উঠলো,
“তুমি আর তো কারো নও, শুধু আমার…
যত দূরে সরে যাও রবে আমার…
স্তব্ধ সময় টাকে ধরে রেখে, স্মৃতির পাতায় শুধু তুমি আমার…
কেন আজ এত একা আমি? আলো হয়ে দূরে তুমি….
আলো আলো আমি কখনো খুঁজে পাবো না…
চাঁদের আলো তুমি কখনো……”
এ পর্যন্ত গেয়ে হঠাৎ থমকে গেলো মেঘালয়। বেলকুনি থেকে দেখতে পেলো রাস্তা দিয়ে একটা মেয়ে ছুটে যাচ্ছে। মেয়েটি দেখতে একদম মিশুর মত। মিশু ই মনে হলো। হ্যালুসিনেশন নয়তো? কিন্তু গিটারের শব্দ যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা হ্যালুসিনেশন নয়। খুবই দ্রুত হাঁটছে মেয়েটা। মিশু হোক আর যে ই হোক,নিশ্চয় ই কোনো বিপদে পড়েছে। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে এভাবে। একবার দেখা উচিৎ বিষয়টা।
গিটার রেখে এক ছুটে বেড়িয়ে আসলো মেঘালয়। লিফটে উঠেও মনে হচ্ছে লিফট একদম ধীরে চলছে। তিনতলা থেকে নামতেও যেন অনন্তকাল চলে যাচ্ছে!
নিচে নেমে ছুটে রাস্তায় এসে দেখলো মেয়েটিকে আর দেখা যাচ্ছেনা। মনটাই খারাপ হয়ে গেলো মেঘালয়ের। এটা হ্যালুসিনেশন নয়,নিজের চোখে দেখেছে ও। মেয়েটি কোনদিকে ঢুকে গেলো কে জানে। ফিরে এসে বাইকটা নিয়ে স্টার্ট দিলো ও। কিছুদূর এগিয়ে এসেই মেয়েটিকে দেখা গেলো। অনেক দ্রুত ছুটে এসেছে মেয়েটা, প্রায় মেইনরোডের কাছে চলে এসেছে। মেঘালয় গিয়ে ওর সামনে বাইক দাড় করালো।
মুখের দিকে তাকাতেই চমকে উঠলো একদম। এটা তো সত্যিই মিশু! খুবই চিন্তিত দেখাচ্ছে মিশুকে। ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। ও অবাক হয়ে বলল, এত রাতে তুমি এভাবে কোথায় যাচ্ছো?
মিশু হন্তদন্ত হয়ে বলল, “আমার ছোট বোনটা আলসারের পেশেন্ট। হঠাৎ ও খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ফার্মেসী তে যাচ্ছি।”
– “এভাবে একা বের হয়েছো ভয় করেনা? নিজেই সুস্থ শরীরে বাসায় নাও ফিরতে পারো। বোনের সুস্থতা পরে।”
– “কেন? রাস্তার অমানুষ নামক পুরুষ রা আমাকে ছিড়ে ছিড়ে খাবে?”
প্রশ্নটা মিশুর মুখ থেকে শুনে ধাক্কা লাগলো বুকে। কঠিন একটা সত্য মেয়েটি অনায়াসে বলে ফেলেছে।
মেঘালয় বলল, “সেটাও আমাদের দেশে সম্ভব।”
মিশু বললো, “আমার বাসায় কেউ নেই আর। এই শহরে আমার এমন আপনজন ও কেউ নেই যে এখন ওষুধ এনে দিবে। তাই আমাকে ই যেতে হবে। ছোট বোনটা বুক চেপে ধরে কাঁতরাচ্ছে, সহ্য করতে পারছিলাম না। যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছে।”
মেঘালয় বাইক স্টার্ট দিয়ে বলল, “বাইকে ওঠো।”
একবার বলামাত্র ই মিশু বাইকে গিয়ে উঠলো। এখন এতকিছু ভাবার সময় নেই। তাছাড়া এই দুদিনে মেঘালয় কে যতটা চিনেছে ও, এরকম মানুষ থাকলে কিছুটা ভরসা করা যেতেই পারে। মেঘালয় জোরে বাইক ছেড়ে দিয়ে বলল, “ওষুধ খেলেই কি সুস্থ হবে? নাকি হসপিটালে নিতে হবে?”
– “ওষুধ খেলেই অনেক টা সুস্থ হয়ে ওঠে। আসলে অনেক দিন ধরে সুস্থই ছিলো। মাঝেমাঝে হঠাৎ ব্যথা ওঠে ওর। প্রচুর ভাজাপোড়া খায় আর পানি কম খায় তো।”
– “এটা ঠিক রাখার দায়িত্ব কিন্তু তোমার ই।”
– “হুম,কিন্তু আমিতো বাসায় থাকিনা সারাদিন। মেয়েটা কথা না শুনলে কি করবো বলুন?”
মেঘালয় খুব দ্রুত বাইক নিয়ে ফার্মেসির সামনে এসে দাঁড়ালো। মিশু দোকানে গিয়ে ওষুধ নিয়ে আবার কি যেন ভেবে অর্ধেক ওষুধ ফেরত দিলো। দূর থেকে দেখলো মেঘালয়। তারপর বাইক রেখে দোকানের সামনে এসে মিশুকে জিজ্ঞেস করলো, “কি সমস্যা?”
মিশু আমতা আমতা করে বলল, “না মানে অল্প করে নিচ্ছি। পরে আবার নিয়ে যাবো।”
– “আবার কোনো এক রাতে এভাবে ছুটতে ছুটতে আসবে? তোমরা পারোও বটে।”
মিশু মেঘালয়ের চোখে চোখ রেখে বেশ রাগী গলায় বলল, “এভাবে বিদ্রুপ করছেন কেন? আমার কাছে টাকা নেই আর।”
মেঘালয় লজ্জা পেয়ে গেলো। আসলেই এভাবে বিদ্রুপের সুরে বলাটা উচিৎ হয়নি। সমস্যাটা বোঝা উচিৎ ছিলো। মেঘালয় দোকানদার কে বলল, “ভাইয়া, বিকাশে পে করে দিই?”
দোকানদার বললেন, “জি ভাইয়া দিন।”
– “বিকাশ নাম্বার টা দিন।”
দোকানদার নাম্বার বলতে গেলে মেঘালয় পকেটে হাত দিতে গিয়ে দেখলো প্যান্টে তো পকেট ই নেই। আসলে ও তো রাতে মোবাইল, ওয়ালেট, টাকা পয়সা সব বের করে রেখে একটা কোয়ার্টার প্যান্ট আর টি শার্ট পড়ে ঘুমিয়েছিলো। এখন কি হবে?
মিশু অবাক হয়ে চেয়ে আছে মেঘালয়ের দিকে। নিরুপায় হয়ে গেলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের চেহারা যেমন হয়,মেঘালয়কে ঠিক তেমনি দেখাচ্ছে এখন। মিশুর মায়া লাগছে মেঘালয়ের জন্য। মনেহচ্ছে মেঘালয়ের বোনের জন্য ওষুধ নিতে এসেছে, আর মিশু ওর সাথে বেড়াতে এসেছে। মিশু চুপচাপ চেয়ে আছে ওর দিকে।
মেঘালয় দোকানদারের ফোনটা নিয়ে ওর আব্বুকে কল দিয়ে বলল,”আব্বু এক্ষুনি এই নাম্বারে ২ হাজার টাকা সেন্ড করো তো।”
ওপাশে কি বলল বোঝা গেলো না। মেঘালয় হাসতে হাসতে বলল, “সরি রোমান্টিক সিনে ডিস্টার্ব করার জন্য।”
মিশু বেশ লজ্জা পেয়ে গেলো একইসাথে দারুণ অবাক ও হলো। ফোন দিয়ে আব্বু বলে ডাকলো অথচ এটা কি বললো ও! আব্বুকে কি এভাবে বলা যায়? লজ্জা লাগেনা? ছি ছি… ছেলেটা ভারী দুষ্টু তো!
মেঘালয় ফোনটা দোকানদার কে দিয়ে মিশুর দিকে তাকিয়ে বলল,”কি দেখো?”
মিশু বলল,”এত টাকা দিতে বললেন কেন?”
– “বেশী করে ওষুধ নিয়ে যাও।”
মিশু হা করে চেয়ে রইলো অনেক্ষণ। মেঘালয় মানুষ নাকি দেবদূত! এমন মানুষ ও আছে এখনো দুনিয়ায়! আসলে পর্বতারোহী রা বুঝি সত্যিই খুব ভালো হয়!
দোকানদার জানালেন টাকা এসে গেছে। মিশু ওষুধ নিলো অনেকগুলো। মায়ের প্রেশারের ওষুধ ও নিলো। মেঘালয় ততক্ষণে গিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়েছে। মিশু গিয়ে বাইকের পিছনে উঠে পড়লো।
মেঘালয় মনে মনে ভাবলো, “জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়ে আমার বাইকের পিছনে উঠেছে। রোদেলাকেও কখনো কলেজে রেখে আসিনি। মিশু নামের মেয়েটাই উদ্বোধন করে দিলো!”
মিশু জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা পর্বতারোহী রা এত ভালো হয় কেন?”
– “কে বলেছে?”
– “আমার মনেহয়।”
– “কতজন পর্বতারোহী কে দেখেছো?”
মিশু একটু থেমে বলল, “দুবার এভারেস্ট বিজয়ী এম এ মুহিত কে আমি বেশ ভালো করেই চিনি। ওনার সাথে অনেকবার কথা হয়েছে আমার। আমার লাইফে এত ভালো মানুষ আমি কখনো দেখিনি।”
মেঘালয় অবাক হয়ে বলল,”সিরিয়াসলি! মুহিত ভাইয়ের সাথে কথা বলেছো তুমি! সত্যিই ওনার সাথে কারো তুলনা চলেনা। কত ভালো একজন মানুষ। আর আমাদের দেশটাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে অনেক অবদান রাখছেন। প্রতিদিন অসংখ্য ছেলেমেয়ে অনুপ্রাণিত হয় ওনার কথায়।”
– “সেজন্যই বললাম। পর্বতারোহীরা এত অনুপ্রেরণার উৎস হয় কি করে?”
মেঘালয় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল,”আসলে পর্বতারোহণ মানে কিন্তু মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় বরণ করে নেয়া। প্রতি পদে পদে মৃত্যু হাতছানি দিয়ে ডাকে। মূলত মৃত্যুকে অত কাছে থেকে দেখেন বলেই ওনারা অনুপ্রেরণা দিতে সবচেয়ে বেশী দক্ষ। এভারেস্ট এর যত উপরে উঠবা, দেখবা শুধু লাশ আর লাশ। এসব দেখে কেমন লাগে ভাবতে পারো? যেখানে নিজের মৃত্যুও যেকোনো মুহুর্তে হতে পারে।”
মিশু ভয়ে শিহরিত হয়ে বললো, “এত রিস্ক নিয়ে আপনি কেন যান?”
মেঘালয় হেসে বলল,”আমিতো মাত্র কয়েকবার গিয়েছি শুধুমাত্র বেইসক্যাম্পের জন্য। প্রথমবার অভিযানে গিয়ে একটা মোটামুটি উচ্চতম পর্বত জয় করে ফেললাম আর রাতারাতি বিখ্যাত ও হয়ে গেলাম। কিন্তু শুধুমাত্র কৌতুহল বশত আর ভালোলাগার টানেই আমি আরোহণ করেছি। বিখ্যাত হওয়ার জন্য নয়।”
মিশু হেসে বললো, “সেটা আমি জানি। তবে অত রিস্ক নিয়ে যাওয়ার কি দরকার?”
– “সেজন্যই আম্মু আর যেতে দেয়না। আমিতো চেয়েছিলাম একবার এভারেস্ট অভিযানে যাবো। কিন্তু আম্মু রাজি নয়। আমার বড় ভাইয়ের নাম ছিলো হিমালয়। সে পাহাড় থেকে খাদে পড়ে মারা গেছে।”
মিশু আঁৎকে উঠলো, “সেকি! আপনার ভাই এভাবে… তবুও আপনি অভিযানে যান?”
মেঘালয় বেশ সহজ গলাতেই বলল, “আমার আব্বুর নাম আকাশ। উনি আকাশের মতই বিশাল স্বপ্ন দেখেন। ছোটবেলা থেকেই আব্বু পাহাড়ে বেড়ে উঠেছে। তাই পাহাড় প্রীতি অনেক ওনার। ছেলেদের নামও রেখেছেন পাহাড় পর্বতের নামে। আব্বু চেয়েছিলেন তার ছেলেও তার মত ট্রেকার হবে। পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে নিজেকে অনেক সমৃদ্ধ মনেহয়। সেই সুখটুকু উনি আমাদের দিতে চেয়েছিলেন। বড় ভাইয়ার নাম রেখেছিলেন হিমালয় আর আমার নাম মেঘালয়। কিন্তু বিদেশে একবার পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে হিমালয় ওপারে চলে গেছে। আমি তখন খুবই ছোট। গভীর খাদে পড়ে গেছে ভাইয়া, ওর লাশটাও আমরা উদ্ধার করতে পারিনি।”
মিশুর কান্না পেয়ে যাচ্ছে মেঘালয়ের কথা শুনে। ও অজান্তেই মেঘালয়ের কোমরে হাত রেখে শক্ত করে ধরলো পেছন থেকে। কি ভয়ংকর কথা! এতবড় দূর্ঘটনার পরও মেঘালয় পাহাড়ে যায়,পর্বতারোহণে যায়!
মেঘালয় বললো, “আব্বু আমাকে বলেছিল, হিমালয়ে সবচেয়ে উচ্চতম ১৪ টি পর্বত আছে, এর যেকোনো একটি যদি জয় করতে পারিস তাহলে আমার কষ্টটা কমবে। আব্বুর কথা রাখার জন্যই আমি আরোহণে গিয়েছিলাম। আমার এখন পর্বত ছাড়া ভালো লাগেনা কিন্তু আম্মু যেতে দেয় না। একটা মাত্র আদরের ছেলেকে হারাতে চায়না আর।”
মিশু আরো শক্ত করে ধরে মেঘালয়ের পিঠে মাথা রেখে বললো, “আপনার আম্মুই ঠিক বলেছেন। আর যাওয়ার দরকার নেই। আপনার আব্বুর ইচ্ছে তো পূর্ণ হয়েছে।”
মিশুর কথাটা ভালো মত শুনতে পেলো না মেঘালয়। ওর সেদিকে মনোযোগ নেই। মিশু এভাবে জাপটে ধরে পিঠে মাথা রেখেছে, তাতে কেমন যেন অন্যরকম অনুভূত হচ্ছে! বেশ ভালো লাগছে আর মনেহচ্ছে এভাবেই থাক। এরকম অনুভূতি প্রথমবার হচ্ছে ওর।
নিজের বাসার সামনে এসে মেঘালয় বলল, “আমার বাড়ি এটাই। এখানেই দেখতে পেয়েছি তোমাকে। তা এখন কোনদিকে যাবো ম্যাম? ”
মিশুর এতক্ষণে হুশ হলো। সাথে বেশ লজ্জা লাগলো। ওরকম ভয়ংকর মৃত্যুর কথাগুলো শুনতে শুনতে কেমন যেন কষ্ট হচ্ছিলো মিশুর। আবেগে কখন এভাবে ওকে ধরে ফেলেছে বুঝতেই পারেনি। সোজা হয়ে বসতে বসতে বলল, “আমি একাই যেতে পারবো। আপনি বাসায় যান।”
মেঘালয় বলল, “বাসায় রেখে আসি। পর্বতের চেয়েও বেশী রিস্ক শহরের অলিগলিতে বুঝলে? পর্বতকে ভালোবাসলে সহজে মৃত্যু আসেনা, দূর্ঘটনা ছাড়া। কিন্তু তুমি যতই দেশপ্রেমী হও, দেশের কিছু নরপশু তোমার উপর পশুত্ব ফলাবেই।”
মিশু আর কিছু বললো না। এটা বেশ ভালোই জানে ও। প্রতি পদে পদে এরকম পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। চুপচাপ রাস্তা দেখিয়ে দিলো।
মেঘালয়ের খুব ইচ্ছে করছিলো মিশু যদি আরেকবার পিঠের উপর মাথাটা রাখতো। কিন্তু সেটা ঠিক না। তাই ইচ্ছেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলো। মিশুর কথামত এগোতে লাগলো বাইক নিয়ে। কিছুদূর আসার পর হঠাৎ রাস্তায় পূর্ব ও সায়ানের সাথে দেখা। ওরা মেঘালয়কে দেখে থামতে বললো। মেঘালয় থামার পর সায়ান বলল, “পিছনে ভাবি নাকি রে?”
মিশু লজ্জা পেয়ে সরে বসলো একটু। কিন্তু পূর্ব ভ্রু কুঁচকে তাকালো। রাতেই তো মেয়েটাকে সুপার শপ থেকে রিক্সায় তুলে দিয়েছিলো ওরা। সে এখন মেঘালয়ের বাইকে কি করছে! আজব ব্যাপার! কোনো রহস্য আছে মনেহচ্ছে।
মেঘালয় জিজ্ঞেস করলো “এতরাতে তোরা কোথা থেকে আসলি?”
পূর্ব বলল, “বিড়ি খাইতে গেছিলাম।”
– “বিড়ি নাকি গঞ্জিকা হুম?”
– “আমি গঞ্জিকা টানিনা সেটা ভালো করেই জানিস।”
– “ওকে, কাল কথা হবে। এই মেয়েটার খুব বিপদ। আগে ওকে রেখে আসি।”
পূর্ব ও সায়ান অবাক চোখে তাকালো। মেঘালয় আবারো বাইক স্টার্ট দিলো। মিশু জিজ্ঞেস করলো, “আচ্ছা গঞ্জিকা কি জিনিস?”
মেঘালয় হেসে বললো, “গাঁজা। খাবা নাকি?”
-“ছি, মরলেও না।”
মেঘালয় শব্দ করে হাসলো। মিশুর দেখানো পথ অনুযায়ী পৌছে গেলো এসে। মেঘালয়ের বাসা থেকে বাইকে পাঁচ ছয় মিনিটের পথ। মেঘালয় বাসার সামনে মিশুকে নামিয়ে দিয়ে বললো, “বোনের দিকে খেয়াল রাখবেন।”
– “আচ্ছা। আপনাকে…”
মিশুকে থামিয়ে দিয়ে মেঘালয় বলল, “বাংলা সিনেমার ডায়ালগ ঝাড়বা না তো। বাসায় গিয়ে বোনকে ওষুধ খাওয়াও।”
মিশু একবার মেঘালয়ের চোখে চোখ রেখে ভিতরের দিকে পা বাড়ালো। মাথার ওড়না টা ঠিক করতে করতে ভিতরে ঢুকে গেলো। একতলা বাড়িটার দিকে একবার তাকিয়ে মেঘালয় বাইক স্টার্ট দিলো।
চলবে..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ