Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_২৬

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_২৬
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

সকাল বেলা বেলীর ঘুম ভেঙে যায় ইরফানের আগেই । কেন জানি বেলীর কানে ফজর নামাজের আযান পৌঁছে যায় প্রায় প্রতিদিনই । আর আযান কানে যাওয়া মাত্র সে আর ঘুমাতে পারে না , না পারে শুয়ে থাকতে । তখন তাকে উঠতেই হবে আর নামাজও পড়তেই হবে ।

চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে গতকাল রাতে ইরফান তাকে যেইভাবে শুইয়ে দিয়েছিল সেইভাবেই ঘুমিয়েছিল সে । ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকায় বেলী । তখন দেখে ইরফানও তার দিকে ফিরেই কাত হয়ে ঘুমিয়ে গেছে । ইরফানের মাথাটা তার হাতের উপর , বালিশেও নেই মাথাটা আর ডান হাতটা বেলীর পেটে দেয়া । বেলীকে বাচ্চাদের মত আগলে ধরে ঘুমিয়ে আছে সে । ওর যতটুকু মনে আছে গতকাল রাতে লাষ্ট যখন ওদের কথা হয় তখন বেলীর মন বলছিল ,

” সময়টা থেমে থাক , মুহুর্তটা থমকে যাক । আমার আর তার মাঝে ভালোবাসার বাঁধনটা এভাবেই আটকে থাক ”

হয়তো ওই ভাবনার মাঝেই বেলীর চোখ লেগে যায় । বেলী তাকিয়ে আছে ইরফানের দিকে । অনেকটা ছোট মানুষের মত লাগছিল তার বরটাকে । হয়তো তার ঘুমিয়ে যাওয়াটা খুব ভালো ভাবেই পর্যবেক্ষণ করেছে । আর তার ঘুমিয়ে যাওয়া দেখতে দেখতে সেও হয়তো ঘুমিয়ে গেছে ওইভাবেই । বেলীর নিজের শরীরকে অনেকটা হালকা লাগছিল । তারমানে ইরফান এমন কিছুই করে নি যা সে ভাবছে । একটা হালকা নিঃশ্বাস ফেলে আবারও ইরফানের দিকে তাকায় সে । নিজের হাতটা ইরফানের মাথার কাছে নেয় বেলী । অনেকটা সংকোচ নিয়েই হাতটা এগিয়ে নেয় সে তার বরের মাথার দিকে । গতকাল রাতে তার কপালে একে দেরা ইরফানের ভালোবাসার পরশগুলো বার বার সিউরে দিচ্ছিলো বেলীর শরীরটাকে । বেলী হয়তো এত ভালোবাসা এই প্রথম পেলো ইরফানের কাছ থেকে ।
ইরফানকে এখন অচেনা লাগে তার , একদম অচেনা লাগে । হয়তো মেয়েরা এইরকম স্বামীই আশা করে । যে এইভাবে শরীরকে নয় মনকে ভালোবাসে । ইরফানের মাথার চুলগুলো বেশ ভারী অনেকটা তার মত । নিজের হাতটা দিয়ে হালকা করে আলতোভাবে ছুইয়ে দেয় ইরফানের চুলগুলো । তারপর কি যেনো ভেবে হালকা মুচকি হাসি দেয় ইরফানের দিকে তাকায় বেলী । ইরফানের হাতটা নিজের পেটের উপর থেকে সরিয়ে নেয় বেলী । তারপর আস্তে করে উঠে যায় বেলী ।
ওযু করে নামাজ শেষ করে কতক্ষণ জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে সে । আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফুটে উঠছে চারদিকে । কয়েক জোড়া পাখি আকাশে ডানা ঝাপটা দিয়ে উড়ে যাচ্ছে । প্রকৃতি কত সুন্দর করে তার সু-নিপূন হাতে একটা দৃশ্য একে দিয়েছে । আজকে শরীরটা তার অনেক হালকা লাগছে । কিসের জন্য এমন লাগছে সে বলতে পারছে না । তবে ভার নেই শরীরে । জানালার দিক থেকে ঘাড় ফিরিয়ে ইরফানের দিকে নজর দেয় বেলী । ইরফান তখনও ঠিক সেই ভাবেই ঘুমাচ্ছিল ।

– ঘুমন্ত মানুষটাকে খুব একটা খারাপ লাগে না । আবার জাগ্রত মানুষটার মাঝে হুশ থাকে না । উনিই জানি কেমন ধরনের পুরুষ ।

ইদানিং বেলীর চিন্তা চেতনায় তার মনের মানুষটার পদচারনা রীতিমতো অনেকটা বেড়ে গেছে । জানালার পাশ থেকে সরে গিয়ে খাটে শুয়ে যায় সে । মুখ তার ইরফানের দিকে ।

– মানুষটা কেন জানি আমায় তার আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে ধিরে ধিরে । তার উঠা বসা আগের থেকেই এমন কিন্তু তার চোখে তাকানোর দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক পরিবর্তন । যা আমায় শেষ করে দিতে বাধ্য ।

বিছানায় শুয়ে বেলী ইরাফানের দিকে তাকিয়ে এইসব চিন্তা করতে করতে তার চোখে ঘুমের ঢল নামতে শুরু করে । আজ শুক্রবার তারও অফডে । তাই রান্নার বাড়তি এত চাপ নেই । মিনুটাও হয়তো এখনও ঘুমাচ্ছে । তাই বেলীও এই সুযোগে একটু ঘুমিয়ে নিলে পারে । সব কিছু ভেবেই ঘুমিয়ে যায় সে ।

দুপুরের দিকে খাওয়া দাওয়ার পর পরই ইরফান বেলীর কাছে আসে । আজ দুইদিন যাবত বেলীর রুমেই থাকে ইরফান । বেলী তখন নিজের একটা জামা গোছাচ্ছিল । ইরফান তখনই আসে রুমে ।
গতকাল রাতের পর ইরফানের সামনে থাকাটা বেলীর কাছে রীতিমত যুদ্ধের মত মনে হয় । মুহুর্তগুলো বার বার বেলীর মনকে নাড়িয়ে দেয় । বেলীর শরীরে লাগা ইরফানের এক একটা ছোয়া বেলীর অন্তরকে শীতল করে দেয় । সেই শীতলতার মাঝে বেলীর স্নিগ্ধ অঙ্গ দহনের ন্যায় জ্বলে ওঠে অবিরত । ইরফানকে আড় চোখে দেখে বেলী । ইরফান তখন বেলীর একটু কাছে এসে বেলীকে বলে ,

– বেলী,,,,,,,,,,,,,,,?
– জ্বি ,
– আমরা আরেকটু পরেই বের হবো , কেমন ?
– কিন্তু যাবো কোথায় ?
– আমি যেখানে নিয়ে যাবো , সেখানেই যাবে ।
– আচ্ছা ,
– বোরখা পরবে না , শাড়িটা পরো । আর আজ হিজাব পরো না খোঁপা করো ।
– কিন্তু এইভাবে আমি বের হওয়াটা পছন্দ করি না ।
– একটা দিন , এরপর আর বলবো না ।
– আচ্ছা পরবো ।
– আমি বের হচ্ছি একটু , তুমি আস্তে আস্তে রেডি হও কেমন ।
– হু ,

ইরফান ওয়ালেট নিয়ে বেরিয়ে যায় । বেলী এইদিক দিয়ে সব গুছিয়ে নিয়ে হাত মুখ ধুয়ে হালকা ফ্রেশ হয়ে নেয় । ড্রয়ার থেকে ইরফানের দেয়া শাড়ির প্যাকেটটা বের করে সে । প্যাকেট থেকে শাড়িটা বের করে বেলী । শাড়িটা বের করে বেলী অনেক্ষন তাকিয়ে থাকে শাড়িটার দিকে । শাড়িটা একদম সাদা । পুরো সাদা , সাদা শাড়ির জমিনে সাদা সুতোর হালকা কাজ করা । এত সুন্দর শাড়ি এর আগে বেলী দেখে নি । হ্যাঁ লাষ্ট বার দেখেছিল ওদের কলেজে ।

– অর্নাসের আপুদের নবীনবরণের সময় একটা আপুকে এমন একটা শাড়ি পরে আসতে দেখছিলাম । কিন্তু এখন আমার শাড়িটা তার শাড়ির থেকেও অনেক সুন্দর । অনেক বেশিই সুন্দর । কত শখ ছিল এমন একটা শাড়ির ।

তার মনে মনে খুব শখ ছিল এমন একটা শাড়ি পরবে সে । আজ মনের আশাটাও পূরণ হলো । খুব খুশি সে আজ । কিন্তু সমস্যা ছিল সে শাড়ি ততটা ভালো মত পরতে পারে না আর মিনুও পারে না শাড়ি পরাতে । তাই নিজে নিজেই চেষ্টা করবে শাড়ি পরার । ইরফান বাসায় নেই এই সুযোগে জামা পালটে ব্লাউজ আর পেটিকোট পরে নেয় সে । শাড়ি সাদা বলে ব্লাউজ কালো রঙের পরে বেলী । কিছুক্ষণ চেষ্টা করার পর অতি কষ্টে শাড়িতে প্রথম পেচ দেয় বেলী । তারপর আঁচল বের করে । এইবার পালা কুচির , মিনুকে কয়েকবার ডাকার পরেও মিনুর সাড়া পায়নি বেলী । ভেবেছে হয়তো মিনু খেয়ে দেয়ে ঘুম দিয়েছে । বেলী নিজে নিজে চেষ্টা করে কুচি ধরার , ধরেও ফেলে কিন্তু শাড়ির নিচের দিকের কুচিটা ধরবে কে ?

এরই মাঝে ইরফানও চলে আসে । বেলীকে সাদা শাড়িতে মাশা-আল্লাহ অনেক সুন্দর লাগছিল । বেলী কিন্তু ততটা সুন্দর না আবার ততটা দেখতেও খারাপ না । সুন্দর না বলতে বেলী একদম ফর্সা নয় তবে বেলীর মনটা অনেক ফর্সা । ইরফান দেখছিল বেলী শাড়ি ধরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিচের কুচি ঠিক করছে । নিচু হয়ে ঝুকে একবার ঠিক হলে বারবার বিগড়ে যাচ্ছে তার শাড়ি । তাই ইরফান সামনে গিয়ে দাঁড়ায় বেলীর ।

– আমি ধরি ?
– আপনি কি পারেন ধরতে ?
– তুমি তো কতই পারলা , পারতে পারতে উল্টে দিছো । দেখলাম তো ৫ মিনিট যাবত ।

ইরফানের এমন কথায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে বেলী । তারপর ইরফান নিচে বসে বেলীর শাড়ির কুচিগুলো ঠিক করে দেয় । প্রায় ১০ মিনিট পর বেলী শাড়িটাকে ঠিকঠাক মত পরে । তখন ইরফান বেলীর হাতে আরেকটা প্যাকেট ধরিয়ে দেয় ।

– এটা নেও ,
– কি এটা ?
– তোমার বেলীফুলের মালা ।
– আনছেন ?
– হু ,

প্যাকেট খুলে আগে বেলী বেলীফুলের ঘ্রাণ নেয় । বেলীফুলের ঘ্রাণটা বেলীকে অনেকটা মাতাল করে দিচ্ছিল । কারণ তার সব ফুলের মাঝে সব থেকে বেশী এই বেলীফুলকেই বেশি ভালো লাগে । নাকের কাছে নিয়ে বার বার ঘ্রাণ নিতে থাকে বেলী । দুচোখ বন্ধ করে বেলীফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছিল বেলী আর ঠিক তখনই ইরফান বলে ওঠে ,

– নাকের কাছে নিয়ে এইভাবে ঘ্রাণ নিতে থাকলে ফুল শুকিয়ে যাবে ।
– হ্যাঁ , আপনারে তো বলছে ।
– খোঁপায় দেয়ার জন্যে দুই লেয়ার করে মালা এনেছি । গোল করে পরো

বেলী প্যাকেটে আরও কিছু জিনিস দেখতে পায় । সেখানে ৪ ডজন সাদা চুড়ি আছে । বেলী চুড়িগুলো দেখে আরও অবাক হয়ে যায় । তবে এমনিতেও বেলীর চুড়ি খুব পছন্দের । বিশেষ করে কাচের রেশমি চুড়ি । আর আজ ইরফান তার জন্যে চুড়িও নিয়ে এসেছে । ইরফান বেলীর মুখ দেখেই বুঝে গেছে বেলী খুব খুশি হয়েছে ।

– পছন্দ হয়েছে ?
– হু , অনেক সুন্দর ।
– আচ্ছা তাড়াতাড়ি করো , বের হতে হবে তো ।

বেলী তখন চুলগুলোকে সুন্দর করে গুছিয়ে নিয়ে খোঁপা করে নেয় । খোঁপার উপর বেলীফুলের মালাটা টাইট করে বেঁধে দেয় বেলী । তারপর হাতে চুড়ি গুলোও পরে নেয় । বেলী তেমন আহামরি সাজগোজ করে না । সাজ বলতে সে বুঝে হালকা স্নো পাউডার আর চোখে কালো কাজল দেয়া এবং ঠোঁটে হালকা লিপষ্টিক । ব্যাস এতেই তার সাজ সম্পন্ন হয়ে আর এই সাজেই সে থাকতে বেশী পছন্দ করে ।
বেলী আয়নায় নিজের দেখছে । বেলীর পুরো সাজ যেন আরও অধিক সুন্দর লাগছিল তার খোঁপার জন্যে । আর খোঁপায় থাকা ওই সাদা পবিত্র বেলীফুলের মালাটা যেন তার সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে তুলেছে । অন্যদিকে ইরফান খাটে বসে থেকে বেলীকে আয়নায় দেখছিল । শাড়িটা একদম তার শরীরের সাথে লেগে আছে । আর সব মিলিয়ে বেলীকে যেন সদ্য কুড়ি থেকে ফোঁটা এক স্বচ্ছ সাদা বেলীফুল লাগছিল ।

ইরাফকেও আজ অনেক ভালো লাগছিল দেখতে । কালো জিন্স সাদা শার্ট তাও ইন করে পরেছে সে । অনেকটা বেলীর সাথে মেচিং করে । বেলী মুগ্ধ নয়নে ইরফানকে দেখতে থাকে । ইরফানও রেডি , ইরফানকে দেখতেও সেই রকম হ্যান্ডসাম লাগছিল ফুল হাতা শার্ট কিন্তু হাতা ফোল্ড করা । ইরফান বরাবরই এইভাবে শার্ট পরে । রেডি হতে হতে প্রায় ৪ টা ২০ বেজে গেছে ।

– বেলী এখন না বের হলে কিন্তু দেরি হয়ে যাবে ।
– আমি তো রেডি ।
– তাহলে চলো ,
– মিনুকে বলে যাবো না ?
– জাগাও তাকে ।

বেলী মিনুর কাছে গিয়ে মিনুকে ডেকে উঠায় । মিনু চোখ ডলতে ডলতে বেলীর দিকে তাকিয়ে থাকে । বেলীকে এইভাবে দেখে সে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় ।

– কি গো আইজ্জা এমন শাড়ি ফরছেন কিত্তে ।
– উঠো একটু ,
– খাড়ান , মাতার ভিত্রে কি দিছেন , ও মাগো ফুল লাগাইছেন মনে অয় ।
– হু ,
– ভাইয়ে আনছে ?
– হু ,
– তা এইরাম কইরা সাইজা গুইজা যাইতাছেন কই ?
– একটু ওনার সাথে বের হবো , তুমি উঠো দরজা লাগাও ।
– হ হ , এহন তো সময় । বেক্কেই ঘুত্তে যায় ,
– তুমিও যেতে চাও ? তাহলে চলো ।
– থাউক থাউক আমার এমন খুশিতে ঠেলায় ঘোত্তে মন ছায় না ।
– কিসব যে বলো তুমি , তুমি জানো আর তোমার আল্লাহ জানে । আসো দরজা লাগাও ।
– হ চলেন ,

ইরফান আর বেলীকে বিদায় দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয় মিনু ।

– আল্লাহ পাক বহুত কষ্ট দিছেন আপনে ভাবীরে । সেতির মত মাইয়া খুব কমই আছে আল্লাহ পাক । তারে আর কষ্ট দিয়েন না । তার ভাগের সবখান সুখ তারে দেন আল্লাহ পাক ।

বেলীকে নিয়ে রিক্সায় উঠে ইরফান । বেলীর রিক্সায় চড়ে নাকি ঘুরতে অনেক ভালো লাগে । সেইদিন মিনুকে বলছিল আর পিছন থেকে ইরফান শুনে নেয় । হঠাৎ করেই রুবির কথা মনে পড়ে যায় তার । রুবি যতবারই তার সাথে বের হয়েছিল ততবারই তাকে কথা শুনাতো । রুবি রিক্সায় চড়তে পারে না । তার ভালো লাগে না । ইরফান কেন গাড়ি কিনে না । এইসব বলে বলে ইরফানকে ছোট করতো সব সময় সে । কিন্তু এখানে পরিস্থিতি বিপরীত ।

– ওই এক নারী আর এই আরেক নারী । কত পার্থক্য এদের মাঝে ।

ইরফানের মন তখন এই কথাটাই বলছিল । তারপর সে বেলীকে জিজ্ঞেস করে ,

– কোথায় যেতে চাও বেলী ?
– আমি তো এইখানের কিছুই চিনি না ।
– এখানে অনেক বড় বড় শপিং সেন্টার আছে , মুভি হল আছে । ভালো ভালো অর্নামেন্টের দোকান আছে । বলো কোথায় যেতে চাও ?
– এখানে কোথাও নিরিবিলি জায়গা নেই যেখানে বসে শান্ত মনে সামনের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় ।

ইরফান ইচ্ছে করেই ওইসব জায়গার নাম বলেছে বেলীকে কারণ সে দেখতে চেয়েছিল বেলী কি বলে । কারণ এর আগে যখনই রুবিকে নিয়ে বের হতো তখনই রুবি হয় যমুনা ফিউচার পার্ক নয়তো বসুন্ধরা সিটিতেই যেতো । দামী দামী গয়নার দোকান কিংবা রেস্টুরেন্ট না হলে ওর চলতো না । কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ উল্টো , এখানে বেলীর যাওয়ার জায়গাটা একদম অন্যরকম । ইরফান রিক্সায় বসা অবস্থাতেও বেলীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে । তখন বেলী বলে ,

– আছে এমন জায়গা , সেখানে দু’দন্ড বসলে মনে শান্তি আসবে ।
– যেতে চাও সেখানে ?
– হ্যাঁ ,

ইরফান বেলীর কথায় রিক্সাওয়ালাকে একটা জায়গার নাম বলে দেয় । আর রিক্সাওয়ালাও ইরফানের বলা সেই গন্তব্যের দিকে চলে যায় । প্রায় ২০ মিনিট পর ইরফান বেলীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছায় । বেলী চারপাশের পরিবেশটা দেখছে । দেখে মনে হচ্ছে একটা পার্ক । এক পাশে একটা ঝিল আছে । জায়গায় জায়গায় বসার বেঞ্চ রাখা হয়েছে । ইরফান বেলীকে নিয়ে ঝিলের পাশে একটা বেঞ্চের কাছে যায়।

– বসো এখানে ,
– হু ,
– জায়গাটা অনেকটা শান্ত আর নিরিবিলি জায়গা ।
– হু ,
– অনেক ভালো লাগে আমার কাছে এই জায়গাটা ।
– ওহ ,
– লাষ্ট কবে এসেছিলাম মনে নেই , আর আজ তোমায় নিয়ে এলাম ।
– ওহ ,
– মন খারাপ ?
– নাহ তো ,
– তাহলে ওহ ওহ তে উত্তর দিচ্ছ যে ,
-,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

বেলী সামনে থাকা ঝিলের দিকে তাকিয়ে এক মনে কি যেনো ভেবে যাচ্ছিল । ইরফান সেই থেকে বেলীর দিকে তাকিয়ে আছে । বেলীর খোঁপা থেকে বেলীফুলের ঘ্রাণ আসছিল । ইরফান তখন বেলীর ডান হাতটায় আলতো করে হাত রাখে । আচমকা ধরায় একটু নড়ে উঠে বেলী ।

– কিছু বলবেন ?
– কি খাবা ?
– কিছু না ,
– বুট খাবা ? নাকি বাদাম
– আশেপাশে আছে ?
– ওইযে দেখা যাচ্ছে ,
– তাহলে বুট খাই ।
– আচ্ছা ,

ইরফান বেলীকে বসিয়ে রেখে বুট আনতে যায় । ইরফানের হাটার ঢংটা অনেক সুন্দর । সচরাচর সব পুরুষরা এইভাবে হাটে না । ইরফানই যেন কিভাবে হাটে । ইরফান বুট নিয়ে চলেও আসে । বেলীর হাতে বুটের ঠোঙাটা দেয় ইরফান । তারপর আবার সেই নিরবতা । নিরবতা ভেঙে ইরফান বলে ওঠে ,

– গান পারো তুমি ?
– একটু আধটু ,
– রবীন্দ্র সংগীত পারো ।
– আমারও পরাণ যাহা চায় ,
– শুনাবা আমায় ?
– এখানে না ,
– আচ্ছা বাসায় গিয়ে শুনাবে , কেমন ?
– হুম ।
– আর কোন গান পারো ?
– তুই ফেলে এসেছিস কারে মন , মন রে আমার ।
– পারো এটা ?
– হু ,
– এটাও শুনাবা আমায় ,
– আচ্ছা ।

বেলী আবার চুপচাপ হয়ে যায় । ইরফান আবারও বলে ,

– কিছু বলো ,
– কি বলবো ,
– যা মনে আছে ,
– মনের কিছু কথা মনেই থাক , মনের ঘরে আজকাল তাকাই না ।
– তাই ?
-,,,,,,,,,,,,,,,
– আচ্ছা ভালো কোন রেস্টুরেন্টে খেয়ে যাবো কেমন ?
– নাহ , বাসায় মিনুটা একা । আমরা খেয়ে যাবো , ও বেচারি কি দোষ করেছে আর তাছাড়া ও-কে ছেড়ে আমার খাওয়া গলা দিয়ে নামবে না । তার চেয়ে বরং বাসায় গিয়েই খাবো ।

বেলীর কথায় অত্যন্ত অবাক ইরফান । মিনুর জন্যে এত টান তার ।

– মিনুর জন্যে এত টান তোমার ?
– মেয়েটা অনেক ভালো ।
– হ্যাঁ ,
– হোক না সে কাজের মেয়ে , কিন্তু ওর সব থেকে বড় পরিচয় ও মানুষ ।

বেলীর চিন্তাভাবনা দেখে ইরফান সত্যিই আশ্চর্য হয়ে যায় । একটা মানুষ যে কিনা বাসার কাজের মেয়ের জন্যে এইরকম চিন্তাভাবনা নিজের মাঝে রাখে সে কোন সাধারণ মানুষ না । তখন ইরফান বেলীর হাতে হালকা চাপ দিয়ে বলে ,

– বেলী তুমি সত্যিই অসাধারণ ,
– আমি অতি সাধারণ , সাধারণের মাঝে একটুকু সুখ আঁকড়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে আশা করা এক অতি সাধারণ নারী ।

.
.

চলবে…………………………

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ