Friday, June 5, 2026







ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল পর্ব_১৫

ঝরে_যাওয়া_বেলীফুল
পর্ব_১৫
লেখিকা : আফরোজা আক্তার

গাড়ি আপন গতিতে ছুটে চলছে । শরীরটা তো সাথে যাচ্ছে কিন্তু মনটা গ্রামে মায়ের কাছে পড়ে আছে বেলীর । মায়ের সাথে শুধু একটা রাতই থাকতে পারলো মেয়েটা । আবার সেই ঢাকা শহরের ইট পাথরের মাঝে থাকতে হবে তাকে । বাসায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে রাত ৮ টা ৯ টা বেজে যাবে । বেলীর চুপচাপ বসে থাকা দেখে ইরফানও কিছু বলেনি । সেও হয়তো বুঝতে পেরেছে বেলীর মন খারাপ । তাই সেও বোবার মত বসে আছে বেলীর পাশে । রাস্তার পাশে গাছপালা আর মানুষজন গুলো ছুটে চলছে গাড়ির সাথে । একটু পরেই মাগরিবের আজান পড়ে গিয়ে সন্ধ্যা নামবে চারপাশে । প্রকৃতি তার দিনের আলো ভুলে গিয়ে গোধূলীর আলোয় নিজেকে মাতাবে আপনভাবে ।
হঠাৎই রাজুর কথা মনে পড়ে যায় বেলীর । রাজু মানুষটা এলো তো এলো এমন সময় এলো যেখানে সব কিছুই হাতের বাহিরে । রাজুকে খুব করে মনে পড়ছে বেলীর । রাজুর সাথে তার দেখা সে যখন ইন্টারে পড়ে । রাজু তখন শহরেই থাকতো , মানুষটা কাছে থেকেও দূরে চলে গেলো । ইরফানের ডাকে রাজুর ধ্যান থেকে বেরিয়ে যায় বেলী ।

– বেলী,,,,,,,,,?
– জ্বি
– কিছু খাবা ?
– নাহ ,
– কিছুই খাবা না ?
– উহু

ইরফান আর জোর করেনি তাকে । বেলী চলাচলের পথে কখনোই কিছু খায় না । ইরফান আবার নিজ থেকেই বলা শুরু করে ,

– মন খারাপ ?
– নাহ
– তাহলে চুপচাপ যে ?
– মায়ের কথা মনে পড়তেছে ।
– আবার যাইও এক সময় ,
– হু , রুবি আপু কি আজকে আসবে ?
– জানি না ,
– ফোন দেয় নাই ?
-…………..
– সে আপনার বউ , মান অভিমান ভুলে যান ।
– আর তুমি ?
– আমি তো আজ আছি কাল নেই । ঝরে যাওয়া ফুল কখনো আপন হয় না ।
– মানে ,,,,,,,,,,?
– কিছু না , আপনারা নিজেদের মান অভিমান মিটিয়ে নিন ।

বেলীর কথা শুনে ইরফান আর কথা বাড়ায় নি । বেলীর সব কিছুই ইদানীং অন্যরকম লাগে তার কাছে । আগের বেলী আর এখনকার বেলীর মাঝে অনেক পরিবর্তন । তবে আগের বেলী চুপচাপ ছিল এখনকার বেলীও চুপচাপ তবে এখনকার বেলী চুপচাপ থেকে এমন কথা বলে যা বুকের এপাশে ঢুকে ওপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় । বেলী আবারও চুপ হয়ে যায় , তাই সেও চুপ হয়ে যায় । নিজেকে ঘৃণিত পুরুষ মনে হয় তার এখন , এই শান্তু মেয়েটাকে সে এতদিন এত মারধর করেছে । অন্যায় তো অনেক করা হলো , এখন না হয় প্রায়শ্চিত্ত করা হোক । এইসব ভাবতে ভাবতে ইরফানের সময় কাটছে । আর অন্যদিকে গাড়ি ছুটে চলছে তার আপন গন্তব্যে ।

রাত প্রায় ৯ টা নাগাদ বাস স্ট্যান্ডে বাস এসে থামে । বেলীকে আস্তে আস্তে ডাকে ইরফান । বেলীর এই এক দোষ জার্নি করতে আসলে তার ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই জার্নি শেষ হয় । গাড়িতে উঠে এক ঘুম দেবে আর সেই এক ঘুমেই গন্তব্যস্থলে এসে সজাগ হয় । এর মাঝে গাড়ি তাকে পাতাল কিংবা স্বর্গে নিয়ে গেলেও সে বলতে পারবে না । ইরফানের ডাকে ঘুম ভেঙে এদিক ওদিক তাকায় বেলী ।

– নামবা না ? নাকি ঘুমাতে থাকবা ?
– ঢাকা চলে আসছি ?
– হুম , নামো । ঘুমালে আর কিছুই খেয়াল থাকে না তোমার ।
– এত ঘুম যে কই থেকে আসে আল্লাহ জানে ।
– নামো তাড়াতাড়ি ,
– হু ,

গাড়ি থেকে নেমে একটা সি এন জি ধরে ইরফান এক টানে বাসায় চলে আসবে বলে ।

– বেলী রাত ৯ টা ৩০ বাজে , এখন গিয়ে রান্না করবা কখন , এখানে কোথাও একটা খেয়ে নিলে ভালো হতো না ?
– বাসায় গিয়ে রান্না করেই খাওয়া যাবে ।
– তা যাবে কিন্তু আমি খুব ক্লান্ত , তোমার খাবার রান্নার আশায় বসে থাকবো না আমি ।
– আচ্ছা আপনি যা ভালো বুঝন ।
– হু

ইরফান ইচ্ছে করেই বলেছে কথা গুলো যাতে বেলী এই ব্যাপারে না করতে না পারে । তার শখ জেগেছে বেলীকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খাবে আর যা রুবির সামনে কখনোই সম্ভব না । তবে সমস্যা ছিল বেলী এর আগে রেস্টুরেন্টে কখনো যায় নি । তবুও ইরফান চেয়েছে আজ সে যাক । তাই বেলীকে নিয়ে street 11 এ চলে যায় ইরফান । সেখানে লিফট ছিল , ইরফান ভেবেছে বেলী লিফটে চড়তে জানে না । তাই সে সিড়ি দিয়েই উঠতে চেয়েছিল । কিন্তু বেলী ইরফানকে চমকে দিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে যায় ।

– এখানে দাড়ালে যে ?
– উপরে যাবেন না ?
– হুম , কিন্তু এটা তো লিফট ?
– জানি আমি এটা লিফট , আমি আরও একবার লিফটে চড়ছিলাম ।
– কোথায় ?
– ঢাকাতেই ফুফুর বাসায় আসছিলাম একদিন বাবার সাথে । ফুফাতো ভাই বোন আমাকে নিয়ে কই জানি গেছিল সেখানে এমন ঘরের মত ছিল । তখন জানছিলাম এটা লিফট । আসেন এটায় করেই যাই উপরে ।

ইরফান বেলীর কথায় বেলীকে নিয়ে লিফটে চড়ে যায় । কয়েক সেকেন্ড পর লিফটের দরজা খুলে যায় । রেস্টুরেন্টটা একদম লিফটের দরজা বরাবরই । ইরফান বেলীকে নিয়ে রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঢুকে যায় । পাশেই দুজনের একটা টেবিল রাখা আছে ।

– এখানের খাবার অনেক টেস্ট হয় , খেয়ে দেখো , ভালো লাগবে ।
– ওহ , আচ্ছা ।
– কি খাবা বলো ,
– আপনি যা খাবার আনাবেন তাই-ই খাবো ।
– খাবার আনায় না , অর্ডার করতে হয় ।
– ওহ তাহলে করেন ।
– তো কি খাবা বলবা না তুমি ?
– আমি তো জানি না কি পাওয়া যায় ?
– চাইনিজ খাবার , নাম শুনছো কখনো ?
– হ্যাঁ , শুনছি ।
– ওইটার সেট ম্যানু অর্ডার করি ?
– করেন ।

ইরফান দুটো সেট ম্যানু অর্ডার করে দেয় । বেলী রেস্টুরেন্টে হয়তো আসে নি তবে এইসব চাইনিজ , থাই , বাংলা , নাম জানে । কারণ সে ইন্টারমিডিয়েট অবদি পড়াশোনা তো করেছে । তাই ততটা সমস্যা হয় না ।

– তুমি চামচ দিয়ে খেতে পারবা ?
– চামচ দিয়ে খেতে হয় ?
– হ্যাঁ , চাইনিজ খাবার গুলো চামচ দিয়েই খেতে হয় ।
– ওহ ,
– পারবা খেতে , না হয় হাত দিয়েই খেও ।
– সবাই চামচ দিয়েই তো খায় তাহলে আমিও খাবো , সমস্যা নাই ।
– আচ্ছা ।

বেলী আবারও চুপচাপ হয়ে যায় । কিছুক্ষণ পর ওয়েটার পানি নিয়ে আসে । আর বেলীও পানি খেতে শুরু করে দেয় । ইরফান দেখে বুঝে যায় যে বেলীর হয়তো খুব পিপাসা পেয়েছে ।

– এত পানি খাচ্ছো কেন ?
– তেষ্টা পেয়েছিল ?
– গাড়িতে বললেই পারতা ?
-…………

ইরফানের এই কথার জবাব নেই বেলীর কাছে তাই সে চুপ করে বসে আছে । প্রায় ১৫ মিনিট পর ওয়েটার এসে খাবার দিয়ে যায় । বেলী প্লেটের দিকে তাকিয়ে আছে । একপাশে ভাত এর মত কি যেনো আছে , অন্যপাশে সবজি , এক পাশে মুরগীর বড় একটা টুকরো , আর সাথে ঝোল ঝোল কি যেন আছে । তাকিয়েই আছে প্লেটের দিকে সে । মনে মনে বলতে থাকে ,

– এর থেকে ভালো ছিল ভাত মাছ একটা ভর্তা আর ডাল নিলে । পেট ভরে খাইতে পারতাম ।

বেলীর মনে মনে বলতে থাকা শান্তু চোখের চাহনিতে দেখে ইরফান পুরোটা বুঝিয়ে দেয় বেলীকে ।

– এটার নাম ফ্রাইড রাইস , অনেকটা ভাতের মতই , এটা ভেজিটেবল মানে সবজি , এটা মুরগীর একটা তরকারি এটাকে মাসালা চিকেন বলে আর এইযে বড় পিস টা আছে এটার নাম চিকেন ফ্রাই । চামচ দিয়ে খেতে পারলে খাও না হয় হাত দিয়ে খাও , কোন সমস্যা নাই ।
– হু ,

হু বললেও অনেকটা আন-ইজি ফিল হচ্ছিল তার । পরে দেখলো ইরফান চামচ দিয়ে খাচ্ছে । তাই বেলীও কাঁপা কাঁপা হাতে একটা চামচ তুলে নেয় । তারপর ইরফানকে অনুসরণ করে খাওয়া শুরু করে । এক চামচ মুখে দেয়ার পর বেশ ভালো স্বাদ পায় বেলী । খুব মজার ছিল খাবার টা । তাই ইরফানকে দেখে দেখে সবটা খাবার শেষ করে বেলী । ফ্রাই টা হাত দিয়েই খায় সে । তার পক্ষে চামচ দিয়ে খাওয়া সম্ভব না । খেয়ে হাতটা টিস্যু দিয়ে মুছে নেয় সে । ইরফানই বলেছিল মুছতে তাই সেও মুছে নেয় । হাত মুছার পর ইরফান বেলীকে কোক এর গ্লাসটা এগিয়ে দেয় । বেলীও একটু একটু করে কোক খায় । এর ফাঁকে ওয়েটার এসে বিল দিয়ে যায় । বেলী দেখলো ইরফান ১০০০ টাকার একটা নোট বের করে বিল বইয়ের ভেতরে দিয়ে ওয়েটারকে ডাক দেয় ।

– এক্সকিউজ মি,,,,,,,
– ইয়েস স্যার ,
– এখানে বিল দেয়া আছে উইথ টিপস ।
– থ্যাংকস স্যার ।
– হু ,

ওয়েটার বিল নিয়ে চলে যায় । বেলী অনেকটা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে । তার ভাবতে কষ্ট হচ্ছে যে দুইজন মানুষ খেলো আর তার বিল ১০০০ টাকা কিভাবে হয় । অথচ বেলী তো জানে না এইসব খাবারের দাম এমনই । ওইদিকে ইরফান তাড়া দিচ্ছে তাকে ।

– তাড়াতাড়ি কোক টা শেষ করো , সাড়ে ১০ টা বাজে অলরেডি ।
– তাহলে আর খাবো না ।
– কেন ?
– আর খাবো না ।
– আচ্ছা তাহলে উঠো ।
– জ্বি ,

ইরফান টেবিল ছেড়ে উঠতে উঠতে একটা কথা ভাবছিল যে , বেলী নিজেকে সব জায়গায় খাপ খাওয়াতে না পারলেও অন্যদের ছোট করে না বা নিজেও ছোট হয় না । মেয়েটার বুদ্ধি আছে ।
অন্যদিকে বেলী টেবিল থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পিছনে ঘুরতেই একজনকে দেখতে পায় । সেই একজনকে দেখে বেলীর পায়ের তলার থেকে মাটি সরে যায় । ভদ্রলোক ওইপাশের একটা টেবিলে বসা আছেন৷ প্রায় ৪ জনের মত সাথে । প্রায় এক বছর পর বেলী আজ তাকে দেখতে পেলো । কলিজাটা মুহুর্তের মধ্যেই মুচড়ে উঠেছে বেলীর । এটা কেমন পরিস্থিতি , বেলী যে এখানে এইভাবে তাকে দেখবে
তা সে একবারের জন্যে ভাবে নি । মুখ থেকে আচমকাই বের হয় যায় ,

– রাজু ভাই,,,,,,,,,,,,?

ভাগ্যটা ভালো মুখ দিয়ে আওয়াজ টা আস্তে বের হয়েছে । তাড়াতাড়ি মুখ টা সরিয়ে নিয়ে সে । একটু আগেই যাকে কল্পনা করলো যার কথা মনে করে চোখের কোণায় পানি এলো সেই মানুষটাই এখন তার চোখের সামনে । হ্যাঁ ওই টেবিলে রাজু বসা আছে । বেলী কোন রকম তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে সেখান থেকে । বেলী চায় নি রাজু তাকে দেখে ফেলুক । তাই সে সেখান থেকে সরে যায় ।

[ বিঃদ্রঃ পৃথিবীটা গোল , এখানে কারো সাথে কখনো না কখনো একবার না একবার দেখা হয়েই যায় । হোক সে শত্রু কিংবা হোক সে বন্ধু অথবা হোক সে একবার চোখের দেখা কোন একজন । পৃথিবীতে এমন অনেক সময় হয়ে যায় যেখানে যাদের সাথে দেখা না হওয়ার দোয়াটা কখনোই পূরণ হয় না । একবার না একবার দেখা হয়েই যায় । এটাই পৃথিবীর নিয়ম । আর এখানে রাজুর সাথে দেখা হওয়াটাও ঠিক ওইরকমই একটা ঘটনা মাত্র , যদিও রাজু বেলীকে এখনও দেখেনি । দেখলে হয়তো সেখানে ঘটনাটা অন্য রকম হতো , এইবার আসি রেস্টুরেন্টের বিষয়ে৷, আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছেন এখন অবদি রেস্টুরেন্টে যান নি । নিম্ন মধ্যবিত্তদের মাঝে যাদের অবস্থান তারা তো একেবারেই যান না । আর যারা যান তারা অনেক সময় নিজেকে সেখানে খাপ খাওয়াতে পারেন না বলে নিজের কাছেই নিজে লজ্জাবোধ করেন , কিন্তু না এখানে লজ্জার কিছু নেই । জরুরী নয় যে আপনাকে সব টা শিখতে হবে , আপনি যেমন আছেন তেমন টাই থাকার চেষ্টা করবেন । আপনি হাত দিয়ে খেতে অভ্যস্ত তাহলে অন্যের জন্যে অভ্যাস কেন পরিবর্তন করবেন । আপনি হাত দিয়েই খাবেন কারণ সব থেকে বড় কথা আপনি বাঙালি । বাঙালিয়ানায় নিজেকে রাখা ভালো , মাছে ভাতে বাঙালি যেমন হয় তেমন হাত দিয়ে খাওয়াই বাঙালির এক ঐতিহ্য ]

ইরফান আর বেলীর বাসায় আসতে আসতে রাত প্রায় ১১ টা বেজে যায় । বেলী সেই তখন থেকেই দম ধরে আছে । এইভাবে হঠাৎ রাজুকে দেখতে পাবে ভাবে নি সে । সে বাসায় এসেও একদম চুপচাপ হয়েছিল । ইরফান নিজের রুমে চলে যায় । বেলী কোন রকম তাড়াতাড়ি বোরখাটা খুলে পুরো বাসা ঝাড়ু দিয়ে ফেলে । ইরফানের রুমে এসে দেখে ইরফান ওয়াসরুমে । ইরফান তখন গোসল করছিল । বেলী তাড়াতাড়ি ইরফানের রুমের সব ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে দেয় । তিন দিন পুরো বাসা বন্ধ থাকাতে হালকা ভাবসা গন্ধ হয়ে গেছে তাই বেলী পুরো বাসায় স্প্রে করে দেয় । এইসব কাজ করতে বেলী সময় নেয় ২০/২৫ মিনিট । বেলী কাজ খুব দ্রুত করতে পারে । ওইদিকে ইরফান গোসল করে বের হয়ে এসে দেখে তার রুম পুরো ফিটফাট । তার বুঝতে এক সেকেন্ডও লাগে নি এইসব বেলী করে গেছে । ইরফানের নিজেকে কেন জানি বেলীর আশেপাশে রাখতে ইদানীং খুব ভালো লাগে । বেলীকে কাছে পেতেও খুব ইচ্ছা করে কিন্তু স্বপ্নটা এখনও মাথায় জেকে বসে আছে । ইরফান টাওয়াল টা বিছানার উপর রেখে বেলীর রুমের দিকে যায় । আর বেলী সব কাজ শেষ করে ওয়াসরুমে ঢুকে যায় গোসলের জন্যে । ইরফানের টাইমিংটা বিফলে যায় । ইরফান রুমে আসার এক মিনিট আগেই বেলী ওয়াসরুমে ঢুকে যায় । ইরফান এসে পুরো রুম খালি দেখে ওয়াসরুমের দরজার দিকে তাকায় । বুঝতে পারে বেলী ওয়াসরুমে গোসল করতেছে । তাই সেও বসে পড়ে বিছানায় । আজ যদি ভেজা শরীরে বেলীকে একবার দেখা যায় ক্ষতি কি ? ইরফান বেলীর রুমের আশপাশ টা ভালো মত খেয়াল করে । বেলী তার এই বাসায় বিগত ৭ মাস যাবত আছে কিন্তু ইরফান একদিনের জন্যেও খোঁজ খবর নেয় নি বেলী কেমন আছে কিংবা বেলীর কিছু লাগবে কিনা । যা চাওয়ার তাও চাইতো বহু কষ্টে । বেলীর রুমে তেমন কিছুই নেই একটা খাট , তাতে স্বস্তা একটা তোশক আর দুইটা বালিশ , একপাশে একটা আলনা রাখা । আলনাটা এই বাসাতেই রাখা ছিল , আগের ভাড়াটিয়াদের ছিল , সে বেলীর জন্যে কিছুই আনে নি কখনো , এ নিয়ে বেলীরও কোন অভিযোগ ছিল না । এইখানেই বেলীর দোষ , বেলী নিজের জন্য কখনো কিছু দাবী করে না , আর ইরফানের কাছে তো কখনোই না ।

প্রায় ১৫ মিনিট পর বেলী ওয়াসরুম থেকে বের হয় । বের হয়ে খাটে ইরফানকে বসা দেখে অনেকটাই অবাক সে । রাত ১২ টা বেজে গেছে । অথচ ইরফান এখনও ঘুমায় নি কাল তো তার অফিস । অন্যদিকে ইরফান বেলীর দিকে তাকিয়ে আছে , গোসল করে বেলীকে একদম স্নিগ্ধ আর পবিত্র মনে হচ্ছে । এক দৃষ্টিতে এইভাবে ইরফানের তাকিয়ে থাকাটা বেলীকে ভেতর থেকে গ্রাস করে দিচ্ছিল । তাই ইরফানের সামনে থেকে সরে যায় বেলী । আলনার কাছে এসে কাপড় গুছাতে গুছাতে কথা বলা শুরু করে বেলী ,

– ঘুমান নাই এখনও , কাল না অফিস আপনার ?
– হু ,
– তাহলে ঘুমিয়ে পড়েন ।
– কেন তোমার সমস্যা হচ্ছে নাকি ?
– উহু ,

ইরফান উঠে বেলীর কাছে যায় । দুই হাত দিয়ে বেলীর কাধে হাত রাখে সে । ইরফানের এইভাবে স্পর্শ করায় কেঁপে ওঠে বেলী ।

– অন্যায়ের পাল্লা টা কি খুব বেশিই ভারী বেলী ?
-……………….
– কি হলো বলো ?
– আমরা তো এখন ঢাকাতে , আপনি তুই করেই বলেন

ইরফানের মেজাজটা সাথে সাথে বিগড়ে যায় । সাথে সাথে সে বেলীকে ধাক্কা মেরে দূরে সরিয়ে দেয় । বেলীও হালকা স্মিত হেসে তাকায় ইরফানের দিকে ।

– বলেছিলাম না আবেগ দিয়ে সব চলে না , দেখলেন তো । মুহুর্তেই আমার জন্যে নিজের মনে কিভাবে ঘৃণার জন্ম হয় । কাল হয়তো রুবি আপু আসলে এই ধাক্কাটাই লাথিতে রুপ নিবে । আমি নিজেকে মানিয়ে নিছি । আপনি যান ঘুমিয়ে পড়েন ।

চোখে পানি আর ঠোঁটে হালকা হাসি রেখে ইরফানের দিকে তাকিয়ে কথা গুলো বলে দেয় বেলী । ওই মুহুর্তে বেলীকে দেখে ইরফানের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছিলো । বেলীকে তখন একদম অন্য রকম লাগছিল । মনে হচ্ছিলো আল্লাহ পাক যেন তাকে নিজ হাতে গড়ে ইরফানের সামনে দাড় করিয়ে দিয়েছে । ইরফান সোজা রুম থেকে বেরিয়ে যায় । আর নিজের রুমে এসে দরজা বন্ধ করে দেয় , সেই দরজাতেই নিজের হাত দিয়ে এক ঘুষি মারে , বেলীকে এই হাত দিয়েই ধাক্কা মারলো আবার সে । কেন যে রাগটা বশে থাকে না তার । অন্যদিকে বালিশে মুখ চেপে কাঁদে বেলী । একে তো এই পরিস্থিতি তার উপর আজকে এতদিন পর রাজুকে দেখা , আর এখন আবার ইরফান । সব মিলিয়ে বেলী পাগল প্রায় ।

– বাবা দেখতেছো তো তোমার বেলীফুলের কত কষ্ট এখানে । ও বাবা , বাবা আমায় নিয়ে যাবা তোমার কাছে ? তুমি আর তোমার বেলীফুল একসাথে থাকবে বাবা । আর পারি না বাবা , আর পারি না । বেলীফুলের শান্তি নাই বাবা , বেলীফুলের শান্তি নাই ।

এইভাবেই কাঁদছি আর বিলাপ করছে বেলী । তারপর একে টা সময় ঘুমিয়ে যায় বেলী । এই ঘুমটাই এখন তার সঙ্গী । ঘুমে থাকলেই সে সব ভুলে থাকে । তাই হয়তো একেবারেই ঘুমাতে চায় সে ।

.
.

চলবে……………….

গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ