Friday, June 5, 2026







বাড়ি"ধারাবাহিক গল্প"তোকে চাইতোকে চাই❤পর্ব:২৪+২৫+২৬

তোকে চাই❤পর্ব:২৪+২৫+২৬

তোকে চাই❤পর্ব:২৪+২৫+২৬
#writer:নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:24


ওয়াশরুমে চুপচাপ বসে আছি,,,,পাশের ট্যাব থেকে অঝোরে পানি ঝরছে তার সাথে তাল মেলাচ্ছে আমার চোখ।।।জানি না আমি কেন কাঁদছি,,,,নিজের জন্য নাকি শুভ্রর জন্য।।আমার এই ভাগ্যটার জন্য কে দায়ী??শুভ্র??শুভ্রকে আমি কিভাবে দোষ দেবো??সত্যিই তো ভালোবাসার মানুষকে ভুলে যাওয়া কি এতো সহজ??আমি উনার জায়গায় থাকলে কি পারতাম মেনে নিতে???যে সয় সেই বুঝে কষ্ট কাকে বলে,,শুভ্রর কষ্টের সামনে আমার কষ্টটা নিতান্তই তুচ্ছ।।।নিজেকে খুব অসহায় লাগছে,,মনে হচ্ছে যদি কোনোভাবে শুভ্রর কষ্টগুলো ধুয়ে মুছে দিতে পারতাম,,,,কিন্তু আমি হেল্পলেস।।।আমারও আজ খুব করে মনে হচ্ছে,,, নীলিমা আপু,,ফিরে আসো তুমি,,,একবার ফিরে আসো,,তোমার শুভ্রকে আমি তোমার কাছেই ফিরিয়ে দেবো,,,,আমি উনার হাসিটাকে পেতে চাই,,উনাকে না পেলেও আমার চলবে,,,কান্নাভেঁজা শুভ্রকে আমি আর নিতে পারছি না,,,প্লিজ ফিরে আসো।।।তুমি তো সবসময় বলতে,,আমার কোনো কথায় তুমি ফেলতে পারো না,,,দেখো তুমি মিথ্যে বলতে আমাকে।।।সবসময় মিথ্যে বলতে।।হঠাৎ উনার গলার আওয়াজ পেয়ে উঠে দাঁড়ালাম,,,আমাকে ডাকছেন।।মুখে-চোখে পানি দিয়ে বেরিয়ে আসতেই দেখি উনি ওয়াশরুমের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।।।চোখগুলো লাল হয়ে আছে,,মুখটাও মলিন,, হয়তো কেঁদেছেন।।।আমাকে দেখেই বলে উঠলেন,,

তুমি ঠিক আছো?

হুম(মাথা নেড়ে)কেন???

না,, তোমার চোখ-মুখ ফুলে আছে যে তাই বললাম??

এ,,এমনি,,ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাই হয়তো।।

ওহ

উনার “ওহ” কথাটা আমার বুকে গিয়ে লাগলো।।অন্য সময় হলে হয়তো,,এখন আমাকে ইচ্ছে মতো বকে দিতেন,,,,কিন্তু আজ শুধু একটা “ওহ”।।

নীলিমা আপুকে খুব মিস করছেন তাই না???(টলমলে চোখে)

আমার কথাটা শুনেই উনি উল্টোদিক ফিরে ব্যালকনির দিকে পা বাড়ালেন,,, হয়তো চোখের জল লুকানোর চেষ্টায় আছেন।।

আমিও মিস করছি খুব,,,,

কথাটা শুনেই উনি ফিরে তাকালেন,,চোখে ভার হয়ে থাকা অশ্রুগুলো নেমে গেল গাল বেয়ে,,আমার চোখেও জল।।উনি ধীরে ধীরে বিছানায় গিয়ে বসলেন,,মাথা নিচু করে দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে রেখেছেন,,,শরীর হালকা কেঁপে কেঁপে উঠছে,,,বুঝতে পারছি কাদঁছেন।।।মাঝে মাঝে অবাক হয়,,, কাউকে এতোটাও ভালোবাসা যায়???আমার বুকটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত,,নিজের স্বামীকে এভাবে কাদঁতে দেখলে নিজেকে যে কতোটা অসহায় বলে মনে হয় সেটা কাউকে বুঝানোর ক্ষমতা আমার নেই।।সাহস নিয়ে উনার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম,,কাঁপা কাঁপা হাতে উনার কাঁধে হাত রাখতেই বাচ্চাদের মতো কাদঁতে লাগলেন।।।হয়তো আমার হাতের ছোঁয়ায় ভরসা খুঁজে পেয়েছেন।।আমি হাত রাখতেই উনি ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বলে উঠলেন,,,

ভীষন কষ্ট হচ্ছে রোদ।।আমার সাথেই কেনো হলো এমন??বলতে পারো??আমি আজ সবার কাছে অপরাধী,,, আমার দিকে সবাই আঙ্গুল তুলে দাঁড়িয়ে আছে।।।বাবার কাছে আমি অপরাধী,,তোমার কাছে অপরাধী,,, সাব্বির রোহান ওদের কাছেও আমি অপরাধী,,, ওদের ধারনা আমি আমার জেদ আঁকড়ে ধরে আছি।।।এটা আমার জেদ নয় রোদ,,,বিশ্বাস করো।।সবাই আমাকে দোষী করে,,নিশ্চিতে নিশ্বাস নিচ্ছে,,,কিন্তু আমার যে দম বন্ধ হয়ে আসছে।।।আমি ছেলে বলে আমার কষ্টগুলোর কোনো মূল্যই নেই,,,আমি কাকে দোষী বলবো,,,কাকে বলবো হ্যা তুমিই অপরাধী,,, বলতে পারো???প্রতিটি নিশ্বাস যেন বুকে কাঁটার মতো বিঁধছে,,,আমি বাঁচতে পারছি না রোদ,,,আর পারছি না।।।

উনার কথার প্রতিউত্তরে কিছু বলার ভাষায় খুঁজে পাচ্ছি না,,,শুধু কেঁদেই যাচ্ছি,,,জানি না কি মনে করে হঠাৎই উনাকে জড়িয়ে ধরলাম,,,খুব শক্ত করে,,হয়তো উনি ছুড়ে ফেলে দেবেন আমায় তাতে কি,,,তবু যেনো উনার সাথে মিশে গিয়ে উনার কষ্টগুলোকে ধুমড়ে মুচড়ে দিতে ইচ্ছে করছে।।কিন্তু উনি তেমন কিছুই করলেন না,,,উল্টো আমাকে আলতো হাতে জড়িয়ে নিলেন নিজের সাথে,,,, কষ্টগুলোকে ভাগ করে দিতে চাচ্ছেন হয়তো।।।দুজনেই কাঁদছি,,,দুজনের কান্নায় একটা মানুষকে ঘিরে,,,উনার চোখের জলে আমার চুল,,আর আমার চোখের জলে উনার টি-শার্ট ভিজে একাকার।।।উনি একটি হেঁচকি তুলে বাচ্চাদের মতো বলে উঠলেন,,,

এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

নীলিকে এনে দিবা রোদ??প্লিজ,,,,একবার এনে দাও না।।আমি না আর পারছি না।।বিশ্বাস করো,,একটুও সহ্য হচ্ছে না আমার।।।আমি মরতেও পারছি না আবার বাচঁতেও পারছি না।।আমাকে বাঁচাও রোদ,,,আমার নীলিকে চাই,,শুধু একটু দেখবো ওকে,,একটা নজর।।কতোদিন দেখি না।।।

উনার কথায় হুহু করে কেঁদে উঠলাম,,বুঝতে পারছি উনি উনার মাঝে নেই।।আবরার শুভ্র কখনো নিজের ইমোশন গুলো দেখায় না।।।নীলি আপু মারা গেছেন চারমাস হতে চললো,,,এরমধ্যে কেউ উনাকে কাঁদতে দেখেনি শুধু আমি ছাড়া।।।হঠাৎই খেয়াল করলাম উনার শরীর বড্ড গরম,,,আবারো জ্বর উঠে গেছে,,সেদিনও এমন হয়েছিলো আজ আবারো।।।একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উনাকে উঠিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলাম,,,রাত ১২ঃ৩০ বাজে,,এতো রাতে মামানিকে ডাকা ঠিক হবে না।।উনি তো নিজেই অসুস্থ।।।তাই এক বাটি পানি আর একটা কাপড়ের টুকরো নিয়ে পাশে বসতেই উনি আমার কোলে মাথা রেখে কোমর জড়িয়ে ধরলেন,,,উনার গায়ের তাপে আমার শরীর কেঁপে উঠছে,,,উনি বিরবির করে কিছুএকটা বলছিলেন,,,কান পেতে যেটুকু শুনতে পেলাম,,তা হলো….

নীলি,,এবার আর যেয়ো না,,, তুমি,, চলে গেলে আমি কাঁদবো,,,

সম্পূর্ণ বাচ্চাদের মতো কথা,,,সবার মাঝেই একটা বাচ্চা লুকিয়ে থাকে,,,সেটা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে,,,বিষয়টা কিন্তু খারাপ না,,বেশ ইন্টারেসটিং।। আমি মনের অজান্তেই হেসে দিলাম,,,,নিজেই পিচ্চি আবার আমাকে পিচ্চি বলে,,,হুহ,


কারো হেঁচকা টানে ঘুম ভেঙে গেলো,,কোনোরকম চোখটা খুলেই দেখি শুভ্র অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে তাঁকিয়ে আছে,,আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই বলে উঠলেন,,,

হোয়াট দ্যা হেল রোদ,,,তোমাকে না বলছি আমার থেকে দূরে থাকবে,,তবু এভাবে আমার কলিজার উপর শুয়ে আছো কেন??

উনার কথায় ব্যাপক রাগ লাগছে,,আরে ব্যাটা বলে কি??আমি উনার কলিজার উপর শুয়েছিলাম নাকি উনি আমার কলিজার উপর শুয়েছিলেন,,,এতো দেখি চোরের মায়ের বড় গলা,,,

আমি না আপনি শুয়েছিলেন,,তাও আবার আমার কলিজার উপর,,,,

বাজে কথা বলবে না,,আমি বোকা নই,,,পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু বাজে চিন্তা,,,

হোয়াট??আমি বাজে চিন্তা করছি,,আর আপনি যে কাল রাতে…..

কাল রাতে কি হ্যা??পড়া কমপ্লিট করছো তুমি???ফাজিল মাইয়া,,,পড়াশুনা বাদ দিয়ে শুধু মাখামাখি করার চেষ্টা,,,

উনার কথা শুনে মনে হচ্ছে,,, উনার সবগুলো চুল টেনে টেনে ছিঁড়ি।। সারাটা রাত নায়কা সাবানার মতো সেবা করার পর সকালবেলা ব্যাটা নায়ক উমরসানির মতো স্মৃতিশক্তিই হারায় ফেলছে,,,কেমনডা লাগে??ফাজিল পোলা,,,এতোকষ্ট করে কেন করলাম সেবা??হোয়াই??আগে জানলে ব্যাটাকে এমনি ফেলে রাখতাম,,মরে ভূত হয়ে নীলি আপুর সাথে,,লা,,লালা,,লা,, লা করে ঘুরে বেড়াতি,,সেটাই বেস্ট হতো।।।।হুহ।।

আচ্ছা এই পানিভর্তি বাটি এখানে কেন??(ভ্রু কুচকে)

ওখানে ডুবে মরবো তাই,,,(মুখ ভেঙিয়ে)

কথাটা বলেই ওয়াশরুমে চলে গেলাম,,এই অসহ্যকর লোকটার সামনে বসে থাকার কোনো মানেই হয় না।।।


ডায়নিং রুমে বসে আছি।।।সবাই খাবার নিয়ে ব্যস্ত আর আমি “হা” করে তাকিয়ে থাকতে ব্যস।।।খাবারের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট আপাতত জিরো,,,আমার সামনে শুভ্র বসে আছে,,ছেলেরা যে কতোটা সুন্দর হতে পারে তার প্রমান দিতেই হয়তো উনাকে এতোটা সুন্দর লাগছে,,,উফফ,,,ব্ল্যাক ড্রেসাপে এতো ড্যাশিং লাগছে,,ইচ্ছে হচ্ছে জোস বানিয়ে খেয়ে নিই।।।হঠাৎই উনি বলে উঠলেন,,,

মুখটা অফ করে খাওয়ার দিকে মনোযোগ দাও,,,

কত্তোবড় অপমান,,,ছিহ,,,মামু,, মামানি তো আছেই,,,আরিফ চাচা পর্যন্তও মুখ চেপে হাসছে,,,ব্যাটা খাটাস।।।মুখটা গোমড়া করে বসে আছি।।কিন্তু তাতে কারো কোনো ভাবান্তর হলো বলে মনে হলো না,,,সবাই সেই আগের মতোই হেসে চলেছে,,,উনি আবারও বলে উঠলেন,,,

আমার আজ ইম্পর্টেন্ট মিটিং আছে,,,সো আজ আমি তোমাকে ড্রপ করতে পারবো না,,,ড্রাইবার চাচাকে বলে রাখছি,,উনি তোমাকে পৌঁছে দিবে,,,

কি এমন ইম্পর্টেন্ট মিটিং যে ওকে ড্রপ করতে পারবি না।।

বললাম তো ইম্পর্টেন্ট,,আমি আসছি।।।

কথাটা বলেই উনি উঠে গেলেন।।।আমার তো যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে,,মিটিং হলেই এতো সাজুগুজু করে যেতে হবে নাকি??নির্ঘাত কোনো মেয়ের সাথে মিটিং,,হুহ,,জানি তো।।।

মামানিকে বলে আমিও বেরিয়ে পড়লাম কোচিং এর উদ্দেশ্যে,,, মাঝপথে গিয়েই আমার চোখ চড়কগাছ,,,,

#চলবে,,,
#তোকে চাই❤
#writer:নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:25


রাস্তার পাশের রেস্টুরেন্টে বসে আছে শুভ্র,,পাশে একটা মেয়ে।।মেয়েটাকে চিনতে আমার খুব বেশি কষ্ট হলো না।।এই সেই তিতা লাউ,,আই মিন মিথিলা।।।শুভ্র তাকে কিছু একটা বলছে আর মিথিলা শুভ্রর হাত চেপে ধরে বসে আছে।।ব্যাপারটা দেখে মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো।।এটাই উনার ইম্পর্টেন্ট মিটিং যার জন্য আমাকে ড্রপ করার মতো টাইম তার হলো না।।আমার থেকে এই মেয়েটা উনার কাছে বেশি ইম্পোর্টেন্ট??হবেই না বা কেন,,,আমার তো মনে হয়,,,,আমি ছাড়া এই পৃথিবীর সবাই উনার কাছে ইম্পোর্টেন্ট।।।আমার থাকা না থাকা আসলেই কি উনাকে বিন্দুমাত্র ভাবায়??আমার তো মনে হয় না।।।।মাথা ব্যাথাটা আবার নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে,, ইচ্ছে করছে দুজনের মাথা খুব জোড়ে ঠুসে দিই।।

ড্রাইবার চাচা??গাড়ি ঘুরান,,,বাসায় যাবো।।

কেন মা??কোচিং যাবেন না?

না চাচা,,শরীরটা ভালো লাগছে না,,বাসায় যাবো,,

আইচ্ছা মা।।।

বাড়ির দরজায় পা দিতেই মামানি হাজির,,,তার চোখে-মুখে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট,,,,

কি রে??চলে এলি যে??(অবাক হয়ে)

ভালো লাগছিলো না,তাই চলে এলাম,,,একটু ফ্রি স্পেস দরকার,,আম বোর।।

তাহলে এক কাজ কর,,আমার সাথে শপিং এ চল।।।

হঠাৎ শপিং এ কেন মামানি?

ভাইজানের বাসায়,যাবো।।কতোদিন পর যাচ্ছি,, তাই ভাবলাম ওদের জন্য কিছু কেনাকাটা করবো,,,তুই আমাকে হেল্প করবি চল।।।তাছাড়া,মাইন্ডও ফ্রেশ হয়ে যাবে,,,চল না,, মা।।

আচ্ছা চলো,,,(হালকা হেসে)

লক্ষী মেয়ে,,চল… ….(গালে হাত রেখে)


প্রায় দু’ঘন্টা ধরে শপিং মলে ঘুরে বেড়াচ্ছি এখনো একটা শাড়ি পছন্দ করতে পারে নি মামানি।।।তার ধারনা তার ভাবিমা কে যেনতেন জিনিস দেওয়া যাবে না,,অবশ্যই স্পেশাল শাড়ি দিতে হবে।।তাই এতো ঘুরাফেরা।।একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছি,,আমার চোখে মুখে বিরক্তি স্পষ্ট,,হঠাৎ পিছন থেকে কেউ একজন বলে উঠলো,,,”এই শাড়িটা কেমন??”।।কথাটা শুনে আমি আর মামানি দুজনেই ফিরে তাকালাম।।।সাহেল ভাইয়া ফিরোজা রংয়ের একটা শাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।।।শাড়িটা দেখে মামানি বেশ খুশি হলেন বলেই মনে হলো,,খপ করে শাড়িটা নিজের হাতে নিয়ে তৃপ্তির হাসি দিলেন,,,

থেংকিউ বাবা,,,,শাড়িটা আসলেই সুন্দর।।

চাচিমনি তুমি আমাকে থেংকিউ বলছো??(মুখ গোমড়া করে)

তুমি কে??আমায় চেনো??(কনফিউজড হয়ে)

দেখছো চিনতে পারো নি??আমি সাহেল,,,(মন খারাপ করে)

সাহেল??আরে,,,তুই তো তালগাছের মতো লম্বা হয়ে গেছিস??

শুধু লম্বা?(ভাব নিয়ে)

হ্যান্ডসামও হয়েছিস,,,,

উনাদের কথা শুনে আমি হেসে দিলাম,,,তখনই মামানি আমাকে ইশারা করে বলে উঠলেন,,” ও রোদ,,শুভ্রর……”

রোদের সাথে পরিচয় হয়েছে,,সেদিন শুভ্র আর রোদের সাথে দেখা হয়েছিলো(মুচকি হেসে)

ওহ,,তাহলে তো ভালোই,,চল তাহলে এবার আমাকে হেল্প করবি,,,

আচ্ছা চলো,,

সাহেল বেশ মজার মানুষ,,পুরোটা সময় আমাকে আর মামানিকে হাসিয়েছে,,,একদম লাঞ্চ করে তবেই বাসায় ফিরেছি।।সাহেল মামানিকে একটা শাড়ি গিফ্ট করেছে,,,আমাকেও দিতে চেয়েছিলে বাট আমি নেই নি।।কিন্তু গাড়ি থেকে নামার সময় সাহেল এক প্রকার জোড় করেই হাতে একটা গিফ্ট বক্স ধরিয়ে দিয়েছে,,,মামানি নিতে বলাই আমিও আর মানা করি নি।।।গিফ্ট বক্সটা খুলে বেশ অবাক হলাম,,,বাক্সে খুবই সুন্দর একটা পায়েল,,,একদম নিউ কালেকশান।।।সারাদিনের ঘুরাঘুরিতে একদম টায়ার্ড হয়ে পড়েছি,,,বিছানার উপর উনার ফোনটা পড়ে থাকতে দেখে আমার ফোনের কথা মনে পড়লো,,সারাদিনে একবারও চেক করা হয়নি।।ব্যাগ খুঁজে ফোন বের করেই চরম অবাক হলাম,,,একটা আননোন নাম্বার থেকে ৬৪ মিসড কল।।কার এতো দরকার পড়লো যে এতোবার কল দিয়েছে।।।এসব ভাবতে ভাবতেই ফোন আর গিফ্ট বক্সটা বিছানার উপর রেখে ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।।।ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আবারো অবাক হতে বাধ্য হলাম,,,বিছানায় রাখা আমার পায়েলটার পুঁতি-পাথর সব ঘরের মধ্যে ছিটাছান হয়ে পড়ে আছে,,আমার ফোনটারও সেম অবস্থা,,,ফ্লোর থেকে চোখ উঠিয়ে উপরে তাকাতেই মেজাজ গরম হয়ে গেলো,,,,শুভ্র সোফায় বসে খুব মনোযাগ দিয়ে লপটপে কাজ করে চলেছে,,,,আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে,,, কাজটা কার।।।উনার সামনে কোমরে হাত রেখে দাঁড়িয়ে রাগী গলায় জিজ্ঞেস করলাম,,,

এসব কে করেছে???

আমি কিভাবে জানবো??(লেপটপের দিকে তাকিয়ে)

নেকামু করবেন না,,,আমি জানি এসব আপনিই করেছেন,,,

তো??

তো মানে?এসবের মানে কি???

করেছি বেশ করেছি।।

বেশ করেছেন মানেটা কি??আমি যেহেতু আপনার কোনো জিনিস টাচ করি না,,আপনারও উচিত আমার জিনিস টাচ না করা,,,আমি আপনাকে সেই অধিকার দেই নি।।।

আমার কথাটা শুনেই উনার চোখদুটো লাল বর্ণ ধারন করলো,,হুট করে দাঁড়িয়ে,,আমাকে শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরলেন,,,মনে হচ্ছে আমার হাড্ডি মাংস এক হয়ে যেতে বেশি দেরি নেই।।।

আমাকে অধিকার দাও নি??তো কাকে দিয়েছো সাহেলকে???(দাঁতে দাঁত চেপে)

বাজে কথা বলা বন্ধ করুন আর ছাড়ুন আমাকে,,,,

কেনো ছাড়বো হ্যা??আমার টাকা নেই??নাকি আমার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই যে সাহেল থেকে তোমার জিনিস নিতে হবে,,,,,নাকি ওর দেওয়া জিনিসে মধু আছে??(আরো জোরে চেপে ধরে)

থাকলেই আপনার কি???উনি জিনিসটা মন থেকে ভালোবেসে দিয়েছেন মধু তো থাকবেই,,,আর আপনার দেওয়াতে থাকে শুধু দায়বদ্ধতা,,, ছাড়ুন আমায়,,,(চিৎকার করে)

তাই?ভালোবাসা???এত্তো ভালোবাসা??ওর ভালোবাসায় ডুবে গিয়েই বুঝি আমার ফোন রিসিভ করার টাইম পাওনি,,হ্যা??(রাগী চোখে)

আপনার যা মনে হয় তা ভাবতে পারেন,,আই ডোন্ট কেয়ার।।

বলে উনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে গিয়ে উল্টো দুজনেই খাটে গিয়ে পড়লাম।।।উনার জন্য বেশ সুবিধায় হলো বলে হচ্ছে,,,,আমাকে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরলেন,,,

ইউ ডোন্ট কেয়ার না???তোমার কোনো ধারনা আছে,,,,ড্রাইভার চাচা যখন ফোন দিয়ে বললো,,তুমি অসুস্থ তাই মাঝ রাস্তা থেকে ঘুরে আসছো,,আমি কতোটা,টেনশনে পড়ে গিয়েছিলাম।।।ছুটে এসেছি বাড়িতে।।।আর এখানে এসে তো দেখি,,অসুস্থতার নামে রংলিলা চলছে,,,,,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

আপনাকে বলেছি আমাকে নিয়ে টেনশন করতে??আপনি আপনার ইম্পোর্টেন্ট মিটিং নিয়ে টেনশন করুন সাথে আপনার জাস্ট ফ্রেন্ড মিথিকে নিয়ে,,,,আমি রংলিলা করছি না প্রেমলিলা করছি,,সেটা নিয়ে আপনাকে না ভাবলেও চলবে,,,

চুপপ একদম চুপপ,

ছোট ভাই -ভাবি,,,খালাম,,,,আআআআআআআ(দুহাতে মুখ ঢেকে)আমি কিছু দেখি নাই।।মাফ করবেন ছোট ভাইজান,,আসলে দরজা খোলা ছিলো ত,,,তাই আর নক করি নাই।।।

রাহেলার হঠাৎ আগমনে আমি ভীষন লজ্জায় পড়ে গেলাম,,,সে তো ভাবছে অন্যকিছু কিন্তু এখানে তো হচ্ছে অন্যকিছু,,,,আমি আবারও ছুটাছুটি শুরু করলাম,,কিন্তু উনি ছাড়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন মনে করছেন বলে মনে হচ্ছে না।।আমাকে আগের মতোই চেপে ধরে রেখে রাহেলাকে বললেন,,,

এসে তো গেছিসই এখন আর সরি বলে কি লাভ??তুই নিচে যা আমরা আসছি,,,

রাহেলা আইচ্ছা বলেই লজ্জারাঙা মুখ নিয়ে একপ্রকার ছুটে বেরিয়ে গেলো।।।উফফফ,,কি লজ্জার ব্যাপার।।।এই খাটাস টাকে খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করছে এই মুহুর্তে,,,

কি সমস্যা আপনার??ছাড়ুন বলছি,,,আর হ্যা,,,আপনার জন্য একটা খুশির সংবাদ,,,আমি কালই বাসায় চলে যাবো,,,

বাসায় চলে যাবা মানে??(ভ্রু কুঁচকে)

বাসায় চলে যাবো মানে বাসায় চলে যাবো।।এখানে আর আমি থাকছি না,,কারো জীবনে অপ্রয়োজনীয় আর অবহেলার বস্তু হয়ে থেকে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।।।

এত্তো সাহস??এই বাসা থেকে বের হয়ে দেখাও পা ভেঙে রেখে দিবো।।।

কেন??সমস্যা কি আপনার??আপনি তো এটাই চান যে আমি আপনার,জীবনে না থাকি,,তো থাকবো না।।এতে আপনার সমস্যা থাকুক বা না থাকুক,, আমার কোনো যায় আসে না।।।আমি কালই চলে যাবো,, মানে চলে যাবো।।

না তুমি যাবে না,,,আমি যেতে দিবো না।।।আজ থেকে কোচিং ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনোই বন্ধ।।কিভাবে যাও,, সেটাই আমি দেখবো।।।

কথাটা বলেই উঠে গেলেন।।আমার মধ্যেও জেদ চেপে বসলো,,,আমি তো যাবোই,,,


ডায়নিং এ বসে আছি,,,সবাই যার যার মতো খাচ্ছে আর আমি ভাবছি কিভাবে বাড়ি যাওয়া যায়???উনি তো কিছুতেই এলাও করবে না।।হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো,,,

মামানি,,, আমিও তোমার সাথে যাবো,,,

কোথায়??(অবাক হয়ে)

তোমার বাপের বাড়ি,,নিবে না আমায়??

তা নিবো,,কিন্তু তোর কোচিং??

দুই/তিনদিনেরই তো ব্যাপার,,কিছু হবে না।।।আমায় নিয়ে চলো না প্লিজ,,

না,,তোমার কোথাও যাওয়া হবে না,,,,(গম্ভীর মুখে)

না না আমি যাবো,,,,

আমি না করেছি মানে না,,,

মামু???উনাকে একটু বলো না,,,, আমি যাবো(নেকা কান্না করে)আমার মোটেও কিছু ভালো লাগছে না,,,

শুভ্র থাক যেতে দে,,,বাচ্চা মেয়ে,

বাবা??তুমি ওকে আস্কারা দিও না প্লিজ,,,এমনি ফাজিল একটা,,

এই তুই চুপ কর,,,রোদ মা,,তুই আমার সাথে যাচ্ছিস,,হ্যাপি???

হুমমম অন্নেক,,,,

উনি আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছেন,,তাতে আমার কি??আমার কাজ তো হয়ে গেছে।।।এবার দেখি শুভ্র বেবি,, তুমি আমাকে কই পাও,,,,,

#চলবে…..
#তোকে চাই❤
#writer:নৌশিন আহমেদ রোদেলা❤
#part:26


আমি বিছানায় পা উঠিয়ে,,বই হাতে বসে আছি,,আর আমার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন শুভ্র।।।আমি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে চলেছি ক্রমাগত।।উনার দিকে না তাকিয়েই বুঝতে পারছি উনি আমার প্রতি চরম বিরক্ত,,,উনি বিরক্ত হোন,,,দরকার পড়লে বিরক্তির ঠেলায় নাচানাচি করুক,,,হো কেয়ারস্???

তুমি যাবে না।।

উনার কথাটা আমার কানে ঢুকলো ঠিকই আর সাথে সাথেই অন্য কান দিয়ে বেরিয়ে গেলো,,,,উনার কথায় গুরুত্ব না দিয়ে আমি বইয়ের দিকে বেশ মনোযোগ নিয়ে তাকিয়ে আছি,,,ভাবটা এমন যে,,বইয়ের পাতা থেকে চোখটা সরলেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,,,আর আমি কিছুতেই সেই রিস্ক নিতে চাচ্ছি না।।আমার ভাবের ১২ টা বাজিয়ে উনি বইটা টেনে নিয়ে ছুড়ে ফেললেন,,,এবার আর কি করা???অসহায় দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালাম,,,,

কথা কানে যাচ্ছে না??(রাগী গলায়)

যাচ্ছে তো,,,

তাহলে কথাটা ভালো করে শুনে রাখো,,তুমি মার সাথে যাচ্ছো না,,,,

কিন্তু কেন??(অবাক হয়ে)

আমি বলছি তাই,,,,

আজিব তো,,আপনার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে আপনি কি আমাকে ঘরে বন্ধী করে রাখবেন??এটা কি ঠিক বলুন??আমি তো অন্যকারো সাথে যাচ্ছি না,,,মামানির সাথেই যাচ্ছি,,,আমি বাসায় থাকতে থাকতে বোর,,,(মন খারাপ করে)

উনি আমার মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলে উঠলেন,,,

আচ্ছা যাও,,বাট কালকেই চলে আসবে,,,

কিহ,,পাগল নাকি,,,কালই তো যাচ্ছি,,কাল কিভাবে আসবো???

আমি কিছু জানি না কাল চলে আসবে ব্যস,,,,

বলেই উনি রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।।।বললেই হলো নাকি, “কাল চলে আসবে”।। এবার গেলে একমাসেও আমার দেখা পাবে না বাচ্চু।।।হুহ,,জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।।


সকাল ১০ টা,,আমি ব্যাগ প্যাক করছি,,আর উনি ঘরের মধ্যে পায়চারী করছেন।।।দেখে মনে হচ্ছে বেশ টেনশনে আছেন,,,

কি ব্যাপার??এভাবে দৌড়াচ্ছেন কেন??(ভ্রু কুচঁকে)

এক্সকিউজ মি,,,আমি দৌড়াচ্ছি না হাটঁছি।।

তো এভাবে হাঁটছেনই বা কেন??(বিরক্ত হয়ে)আপনার অফিস নাই,,,আর ইম্পর্টেন্ট মিটিং???(মুখ ভেঙিয়ে)

সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না(রাগী গলায়)….আচ্ছা না গেলে হয় না??(করুন গলায়)

না হয় না।।(কাপড় গুছাতে গুছাতে)

তাহলে আমিও যাবো,,,

হোয়য়য়াটটটট???

বলে কি,, উনি সাথে থাকলে তো পুরা প্ল্যানটাই শেষ হয়ে যাবে।।।যেভাবেই হোক,,, উনাকে তো আটকাতেই হবে।।

আপনি কেন যাবেন??(অবাক হয়ে)

তোমাকে আমার ভরসা হচ্ছে না,,,যদি পালিয়ে যাও,,,

লাইক সিরিয়াসলি??আপনার মাথায় এরকম থার্ড ক্লাস চিন্তায় ঘুরে,,,আর আপনি সাথে গেলে আদর্শ স্বামী-স্ত্রী হওয়ার মহান ড্রামা করা লাগবে,,,সেটা না আপনার পক্ষে সম্ভব না আমার পক্ষে।।। এখন ভেবে দেখুন।।।

উনি চুপ করে আছেন,, হয়তো প্ল্যানটা কাজে লেগেছে।।।কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে উঠলেন,,”,সিহাব থেকে দূরে থাকবা,,,”। আমি অবাক হয়ে উনার দিকে তাকালাম,,,এই সিহাবটা আবার কোন পদার্থ।।।

সিহাবটা আবার কে??(ভ্রু কুঁচকে)আর দূরেই বা থাকতে যাবো কেন??

সিহাব মামুর ছেলে।।।এক নাম্বারের ছেঁচড়া,,, সুন্দরী মেয়ে দেখলেই পিছে লেগে যায়।।।আর আমার জিনিসে ওর বরাবরই এক্সট্রা নজর লেগে থাকে।।।আগে নিলীর পিছনে লেগে থাকতো,,এখন নিশ্চয় তোমার পেছনে লাগবে,,,ইচ্ছে তো করে,,,,

ওয়ান সেকেন্ড,,, ওয়ান সেকেন্ড,,,,হোয়াট ডিড ইউ সে???আমি আপনার জিনিস??(ভ্রু কুঁচকে)

সেটা কখন বললাম???

মাত্রই বললেন,,,(রাগী গলায়)আমাকে আপনার জিনিস বলে মনে হয়???

তুমি ভ,,ভুল শুনেছো,,আমি বুঝাতে চাচ্ছিলাম,, তুমি এবাড়ির বউ সো তোমার সাথে উল্টাপাল্টা কিছু হয়ে গেলে তো মানসম্মান আমাদেরই যাবে নাকি???তাই বলছি সিহাব থেকে দূরে থেকো,,,মার সাথে যাবে সবসময় মার সাথে সাথে থাকবে,,মার সাথেই ঘুমাবে,,,সিহাবের সাথে ফর্মালিটি দেখিয়েও কথা বলার দরকার নেই,,,ওর থেকে ডিস্টেন্স বজায় রাখবে,,,ওর হাতে কিচ্ছু খাবে না।।মাথায় উড়না রাখবে,,,

ওয়েট,,আপনি একটা কাজ করুন,,সবগুলো কাগজে লিখে দেন,, আমি মুখস্ত করে নিবো,,(দাঁতে দাঁত চেপে)

তুমি আমার সাথে ফাজলামো করছো??(রাগী চোখে)

তো কি করবো শুনি??আমি কি বাবু নাকি??যে……

কি রে তোরা ঝগড়া করছিস নাকি???(ভ্রু কুঁচকে)

কথাটা শুনে দুজনেই দরজার দিকে তাকালাম,,,মামানি দাঁড়িয়ে আছে,,হাতে একটা লাল শাড়ি।।আমরা দুজনেই থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে আছি,,কি বলবো বুঝতে পারছি না।।আমাদের এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মামানি আবারও বলে উঠলেন,,,

কি ব্যাপার তোরা ঝগড়া করছিস??কিন্তু কেনো??(অবাক হয়ে)

আমি মোটেও ঝগড়া করছি না,,,সব দোষ তোমার ছেলের,,উনি আমাকে কিছুতেই যেতে দিতে চাচ্ছেন না,,(মুখ গোমরা করে)

শুভ্র??তুই ওকে যেতে দিতে চাচ্ছিস না কেন??(রাগী গলায়)

আমি মানা করেছি নাকি??নিয়ে যাচ্ছো যাও,,,কিন্তু তোমার গুণোধর ভাইপো কে আমার বউ থেকে দূরে থাকতে বলবে,,,উল্টোপাল্টা কিছু করলে,,আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না,,,,

বলেই রেগে বেড়িয়ে গেলেন।।।মামুনি কিছুক্ষণ সেদিকে তাকিয়ে থেকে আমার দিকে তাকালেন,,,মনে হচ্ছে অবাক হয়েছেন।।হওয়ারই কথা,, আমি নিজেও চরম অবাক হয়েছি।।উনার মতি-গতি কিছুই বুঝতে পারি না।।তবে উনার বলা “আমার বউ” কথাটা শুনে কেনো যেনো প্রচন্ড আনন্দ লাগছে।।মামানি আমার কাছে এসে বললেন,,

বাহ,,রোদ।।আমার ছেলে তো তোকে নিয়ে খুবই ইনসিকিউর ফিল করে,,,প্রেম চলছে নাকি??(দুষ্টু হাসি দিয়ে)

মামানির মুখে এমন কথা শুনে আমি আরো অবাক হলাম।।ছেলের বউয়ের সাথে কোনো শাশুড়ী কে এভাবে কথা বলতে আমি আগে কখনো দেখি নি।।আমাকে মাথা নিচু করে থাকতে দেখে উনি আবার বলে উঠলেন,,”হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না,,,নে এই শাড়িটা পড়ে জটপট তৈরি হয়ে নিচে চলে আয়,,”


শাড়িটা বেশ সুন্দর,,এমনিতেই লাল শাড়ি আমার ফেবারিট রং।।আর মা বলে আমার গায়ে নাকি লাল রংটা বেশ মানায়।।সুন্দর করে শাড়িটা পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই অবাক হলাম,,,কি অসম্ভব সুন্দর লাগছে আমায়।।।হায়,,ইচ্ছে করছে নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে যাই।।নিচ থেকে মামানির কন্ঠ ভেসে আসায়,,,ঝটপট রেডি হয়ে নিচে নেমে এলাম।।।নিচে নেমেই যেনো বোকা বনে গেলাম,,সবাই আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে,,ইভেন শুভ্রও।।।নীরবতা ভেঙে মামানি বলে উঠলো,,,

মাশাআল্লাহ!!!! খুব সুন্দর লাগছে।।আজ আমার ছেলের বউ থেকে কারো নজরই সরবে না।।।

মামুও একই কথা বললেন,,,আমিও লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে মামানির সাথে দরজার দিকে পা বাড়াতেই কেউ একজন হাত টেনে ধরলো,,,,পেছনে তাকিয়ে দেখি শুভ্র চোখ দুটোতে রাগের আগুন জ্বালিয়ে আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন,,আমি কিছু বুঝতে না পেড়ে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে উনার দিকে তাকালাম,,,ঠিক তখনই উনি বলে উঠলেন,,

শাড়িটা চেঞ্জ করে তারপর যাও,,,,

কেনো??(অবাক হয়ে)

এই শাড়িতে তোমাকে ভালো লাগছে না,,,আর এতো সেঁজেছো কেন??পেতনি লাগছে,,,ওগুলো ক্লিন করে তারপর যাবে,,,

শুভ্র??ওকে যথেষ্ট সুন্দর লাগছে,,তোকে আর মাতাব্বরী করতে হবে না,,ছাড় ওকে……

কিন্তু মা??(করুন চোখে)

আমি ছাড়তে বলেছি।।।

মামানির কথায় উনি আমাকে ছেড়ে দিলেন,,,কিন্তু চোখ দেখে মনে হচ্ছিলো পারলে এখনি খেয়ে ফেলেন আমায়।।।গাড়িতে বসে আছি,,আমার পাশেই মামানি।।।ভাবছি এখান থেকে বাসায় যাওয়ার জন্য মামানিকে কিভাবে রাজি করানো যেতে পারে???গাড়িটা আমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়েই যাবে।।।ভাবছি কি করা যায়,,,গাড়িটা আমাদের বাসার কাছাকাছি আসতেই ন্যাকা কান্না শুরু করে দিলাম,,,,

#চলবে…..

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ