Friday, June 5, 2026







বাড়িUncategorized"আকাশী"পর্ব ২৯.

“আকাশী”পর্ব ২৯.

“আকাশী”পর্ব ২৯.

ছোটচাচি সহজেই এই বাসায় আসেন না। এমনকি কত বছর আগে এসেছেন, তাও মনে নেই। বলতে গেলে মা’ই যান। আসার পর থেকে তিনি মায়ের সাথে রান্নাঘরে কথা বলছেন। যদিও এই মহিলার সাথে আকাশী নির্দ্বিধায় কথা বলতে পারে, আজ কোন দ্বিধায় যেন যাওয়া হচ্ছে না। এতদিন নিজের সিদ্ধান্ত নিজেরই নেওয়ার মধ্যে একটা তৃপ্তি ছিল। আজ তা মোটেই নেই। রান্নাঘরে তাঁরা হয়তো তাকে নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু যেতে মোটেই ভালো লাগছে না। বিভা পাশে আছে। আকাশীকে বিনা কারণে বসে থাকতে দেখে ভাবল, সে অন্তত এতটুকু স্বাধীন হয়েছে যে, তাকে নিয়ে মায়েরা যে কথাবার্তায় মশগুল আছেন তাতে অংশ নিতে পারবে। হঠাৎ আকাশীকে লাজুক দেখানোয় সেই চিন্তা বিবেকের এক কোণে মিইয়ে গেছে। হয়তো আকাশী ততটা খারাপ নয় যে, সবকিছুতে নাক গলাবে।
আকাশী পরক্ষণে ভাবল, এভাবে বসে থাকা অতিরিক্ত মেয়েলি টাইপ হয়ে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে কী কথা হচ্ছে তার জানা উচিত। এমনকি কার কী চাহিদা তাও তার কাছে জানা থাকতে হবে। তাছাড়া বিয়ে তার নিজেরই তো করতে হবে। কথাগুলো শুনতে যাওয়া অপরাধের কিছু নয়। নিজেকে আশ্বাস দিয়ে সে রান্নাঘরে চলে গেল। ছোটচাচি মায়ের সাথে চেয়ারে বসে আছেন। সে গেলে তিনি মৃদু হাসি বিনিময় করলেন। তখন ভেতরের সাহসটা মুহূর্তেই লজ্জায় রূপান্তরিত হলো। সবকিছু ততটা সহজ নয়, যতটা বিবেক ভাবে। মনের ব্যাপারে অনেকেই তুলোর ন্যায়। তবু যে সাহসটা নিয়ে সে এসেছে সেটাই তার একমাত্র অস্ত্র। সে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে বলল, ‘কী কথা হচ্ছে?’
‘বোস মা।’ ছোটচাচি মুখে একটা মিষ্টি হাসি বজায় রেখে বললেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, তুই নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিবি। বিয়ের কথা রোকসানার ওপর ছেড়ে দিয়েছিস শুনে ভালোই লেগেছে। কারণ আমাদের জীবন একান্ত আমাদের হলেও, এই জীবনকে অর্থবহ বানাতে যারা সাহায্য করে, তাদেরও জীবনের কিছু অধিকার দেওয়া উচিত। আর তুই সিদ্ধান্তটা রোকসানাকে সঁপে দিয়ে উত্তম মানসিকতার পরিচয় দিয়েছিস। আমি নিঃসন্দেহে তোর মতো মেয়েকেই অপূর্বের জন্য স্বীকার করে নেবো। তোকে হয়তো রোকসানা জয়ের কথাও বলেছে। কিন্তু জয়েরটা অপশনাল। মূলত আমি আমার অপূর্বের জন্যই মেয়ে দেখছি। রোকসানা নিশ্চয় বলেছে। অপূর্বের সম্বন্ধে কী খেয়াল রাখিস? বর হিসেবে কি আমার ছেলে ঠিক আছে?’
আকাশী যথেষ্ট স্বাধীনচেতা, এই কথা সকলেই জানে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, ছোটচাচি সরাসরি তার মত নিচ্ছেন এই ভেবে যে, সেও সরাসরি একটা উত্তর দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। কিন্তু ব্যাপারটা ছোটচাচির দিক থেকে যেমন, তার ক্ষেত্রে তেমন নয়। যদি আপাতত তার মনে কেউ না থাকত, তবে ছোটচাচির ধারণার মতো সে সরাসরিই একটা উত্তর দিত। হয়তো, অপূর্ব ভাই ভালো হলেও আমি এখন বিয়ে করব না, নয়তো, বিয়ে করব কিন্তু নিজের স্বাধীনতাকেও চাই। ব্যাপারটা এমন হলেই ভালো হতো। কিন্তু আপাতত তার মনের আকাশে অপূর্ব নামের অনেক বড় একটা মেঘ আছে, যা খুশির সময় সাদা রং ধারণ করে আকাশের সাথে মিলিয়ে তাকে আনন্দ দেয়, আর মন খারাপের সময় কালো রং ধারণ করে বৃষ্টি এনে দিয়ে তার মন জুড়িয়ে দেয়। কোনো মেয়েকে যদি বলা হয়, ওই লোকটাকে বিয়ে করবে কিনা যাকে তুমি গোপনে ভালোবাসো, তখন মেয়েটা কী পরিমাণ নির্বাক হবে তা কাউকে বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আকাশী কিছুক্ষণ নীরব রইল। ভেতরের লজ্জাটা বাইরে প্রকাশ পেতে দিলো না।
‘কালরাত মা আমাকে কথাগুলো বলার পর আমি সিদ্ধান্তটা উনার উপর ছেড়ে দিয়েছি। এখনও তাই বলব। অপূর্ব ভাই স্বামী হিসেবে ভালো হতে পারেন। তাছাড়া আমার মনে হয় না, আমি আপনার ছায়াতলে থেকে কোনোপ্রকার অসুখী হব। তাই এই ব্যাপারে আপনারা যাই সিদ্ধান্ত নেন, আমার জন্য উপাদেয় হবে। অবশ্য ভাইয়ার মঞ্জুরির কথাও আমি জানতে চাই।’
‘অপূর্ব অমত দেবে আমার অমন লাগছে না। কারণ সেও তার বিয়ের দায়িত্ব আমাদের ওপর দিয়েছে। আর সে জানে, কেন বিয়ে নিয়ে এতো অধৈর্য হয়ে পড়ছি। ছেলেটা কেমন চিড়চিড়ে মেজাজের হয়ে গেছে তুই না দেখলে বুঝবি না। একধরনের মনমরাও হয়ে পড়েছে। ওর এসব দেখে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার মোটেই খারাপ লাগছে না। সে আমার কোনো মতে দ্বিমত পোষণ করবে না। আর তোকে কেন দেখতে এলাম তা বলি। জয়ের জন্য তো পাত্রী দেখা হচ্ছে, সে একবার আমাদের সামনেই ভাবীকে তোর কথা বলছিল। সেসময় অপূর্ব ক্ষেপে গিয়ে বলে উঠেছে, তোকে যাতে জয় বিয়ে না করে। এখন একে আমরা সবাই কিসের ইঙ্গিত ধরতে পারি? জয়ও পরে এসে আমাকে বলেছে, অপূর্ব সম্ভবত তোকে নিয়ে কিছু ভাবছে। এ কথা আমাদের বড়দেরই এখন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।’
আকাশী মনে মনে যতটুকু খুশি হলো, ততটুকু চিন্তিতও হয়। ভাইয়াকে যেদিন সে চিঠি দিয়েছিল, সেদিনই তিনি শহরে চলে গিয়েছিলেন। চিঠিটা এখন ডায়েরিতে চাপা রাখা হলেও সেই মোচড়ানো ভাবটা এখনও রয়ে গেছে। সেদিন কিছু একটা তো তার মনে চলেছিল। তবে জয় ভাইয়ার কথায় ক্ষেপে উঠার বিষয়টা কেমন যেন বেমানান। অবশ্য ছেলেদের সে অনেকটুকু চেনে। নিজের ভালোবাসা অতীত হয়ে গেলেও সেই অতীতে নিজেদের অধিকার আছে বলে তারা মনে করে। হতে পারে অপূর্ব ভাই চান না আকাশী অন্য কারো জীবনে যাক। কিছু কিছু বিষয় ভেবে ভালো লাগছে, আবার কিছু কিছু অত্যন্ত খারাপ। সেও তো চায়, অপূর্ব অন্য কারো না হোক। অবশ্য তাকে সে কোনো প্রোপার্টি ভাবে না। তবে ভালোবাসার মানুষ তার নাগালে থাকলে কেন সে আপোষ করবে? ভালোমন্দের তালে সমভাবে চলতে থাকা তার মন সবকিছুই মেনে নেবে। হোক তা নিতান্ত নেতিবাচক কিছু।
সবকিছু সে দুই মায়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে চলে আসে। ভালোবাসা পাওয়ার সময় পায়নি, এই দুঃখ প্রতিটি মেয়ের মনে বড় একটা আঁচড় কাটারই কথা। কিন্তু আকাশীর ক্ষেত্রে তা খুব কমই হয়েছে। তাকে এতটুকু বেপরোয়া বানিয়ে তার জীবন তাকে অনেককিছু দিয়েছে। কিছু শক্তি, কিছু স্বাধীনতা, একাকীত্বের কিছু আনন্দ সবই সে পেয়েছে দুঃখের বিনিময়ে। অপূর্বের ভালোবাসা থেকে দূরে রেখে জীবন তাকে একপ্রকার আরেকটু এগিয়ে নিয়েছে। সে যদি সেদিন চিঠির প্রতিউত্তরে ভালোবাসা পেত, তবে সে হয়তো সেকেন্ড ইয়ারের পরীক্ষা ভালোভাবে দিতে পারত না। যদি সে আবেগে আপ্লুত হওয়া অবস্থায় অপূর্বকে পেয়ে যেত, তবে তার অনেক বড় একটা পরাজয় হতো। কারণ ভালোবাসার কারণে দুর্বল হয়ে পড়া মানুষেরা অনেককিছুতেই জয়ী হয় না। এখন তার আবেগ নেই বললে ভুল হবে। মনের কোণে এখনও অপূর্ব ভাইকে নিয়ে প্রগাঢ় ভালোবাসা আছে। কিন্তু তার কারণে এখন সে আপ্লুত হয়ে আঘাত সওয়ার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয় না। যথেষ্ট শিক্ষা পাওয়ায় সে তার আবেগে যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে। নইলে অন্যান্য মেয়েদের মতো ভালোবাসার ব্যর্থতার জোয়ার তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেত। অথচ সঠিক সময়ে শিক্ষা গ্রহণ করে সে এই জোয়ার থেকে বাঁচার জন্য একটা শক্ত খুঁটি গেড়েছে। এর ফলে সে কখনও অপূর্বকে না পেলেও খারাপ লাগত না। মনে ভালোবাসাটা নিয়েই জীবন কাটিয়ে দিত। সালমার তার জীবনে আসাও শিক্ষা দেওয়ার একটা অন্যতম লক্ষণ ছিল। তাকে সে সেদিন মনের কথা বলে দেওয়ার মাধ্যমে বুঝেছে, লুটে পড়ার মতো আবেগ অতীব ভয়ঙ্কর। বরং সংযত আবেগ রাখা উচিত। সেদিন হয়তো অতিরিক্ত কিছু বলে দেওয়ায় সালমা কিছু একটা করে ফেলেছে। নইলে এতকিছু পালটে যেত না। কারণ সেদিন সকালেই সে অপূর্ব ভাইয়ের চোখে আবেগ দেখেছিল, যা সে তার হাত গালে ছুঁয়ালে তিনি কিছুটা প্রকাশ করেছিলেন। আর হয়তো তিনি জয় ভাইয়ের সাথে তাকে মোটেই মানিয়ে নিতে পারেন না।
আকাশী অতিরিক্ত প্রত্যাশা করার মতো মেয়ে নয়। কারণ প্রত্যাশা অনেক সময় বাস্তবতায় রূপ পায় না। তাই তার মুখে কোনো লাবণ্যময়তা তেমন একটা ছিল না। সে সম্পূর্ণই নির্লিপ্ত ছিল। বিকেলের দিকে মা যখন বললেন, ভাবী একবার তোকে তাঁদের বাসায় যেতে বলেছে, সে তেমন একটা বিচলিত হয়নি। সন্ধ্যার দিকে কুঁচি শাড়ি পরা অবস্থায় ওখানে নির্ভয়ে সে চলে যায়। এমন সময় হয়তো মেয়েদের হাল্কা সাজগোজ করা উচিত। নিজেকেই সে বলল, অ্যাজ ইফ আই কেয়ার। কারো পরোয়া করার মতো মেয়ে সে নয়। সে চায়, যারা তাকে যেখানে গ্রহণ করুক, এভাবেই গ্রহণ করুক।
সে শুরুতে ছোটচাচির কাছে যায়। তিনি তেমন কিছু বললেন না। শুধু বললেন, ‘অপূর্ব ওর রুমে আছে।’ তাঁর কথা বলার ধরন দেখে লাগছে, তিনি মাকে যেন বলেছিলেন, অপূর্বের সাথে কথা বলতে মেয়েকে একটু পাঠিয়ো।
প্রশ্ন না করে সে একটা উত্তর ধরে নিয়ে নীরবে সায় দিয়ে হল থেকে সিঁড়িতে ওঠে। অপূর্বের রুমের দরজার সামনে এলে ‘ব্লিং’ করে একটা আওয়াজ ভেসে আসে। কিসের টোন হতে পারে? সে পর্দা ঠেলে দেখল বিছানায় বসে তিনি গিটারে মৃদু মৃদু সুর তুলছেন। আকাশীর বিরক্ত লাগছে। কেউ কি তাকে বলেনি, সে এই সময় আসবে? সে অধৈর্য হয়ে দরজার একপাশে টোকা দিলো। অপূর্ব তাকে দেখে ঠোঁটে ঠোঁট চাপে। তবে গিটার থেকে হাত নামাচ্ছে না। আকাশী ভেতরে ঢুকে মিনমিন করে বলল, ‘কিছু কি কথা বলা যাবে?’
অপূর্ব কিন্তু কিন্তু করে গিটার একপাশে রেখে সঙ্কুচিত হয়ে ছোটবাচ্চার ন্যায় বসে, যেন তার অপছন্দের কেউ তাকে কোলে নিতে আসছে।
অপূর্বের একটা হাঁটু ভাঁজ করে জড়িয়ে ধরে রাখার ভঙ্গি দেখে আকাশী সত্যিই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। ইতোমধ্যে তার মাঝে অনেক পরিবর্তন এসেছে!
‘শুনুন।’
অপূর্ব শোনেও নির্লিপ্ত হয়ে ঠোঁট চেপে আগের মতো হাঁটুতে চিবুক রেখে বসে রইল।
এখনই জয়েন করুন আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে।
আর নিজের লেখা গল্প- কবিতা -পোস্ট করে অথবা অন্যের লেখা পড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করে প্রতি মাসে জিতে নিন নগদ টাকা এবং বই সামগ্রী উপহার।
শুধুমাত্র আপনার লেখা মানসম্মত গল্প/কবিতাগুলোই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। এবং সেই সাথে আপনাদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরষ্কার।

গল্পপোকার এবারের আয়োজন
ধারাবাহিক গল্প প্রতিযোগিতা

◆লেখক ৬ জন পাবে ৫০০ টাকা করে মোট ৩০০০ টাকা
◆পাঠক ২ জন পাবে ৫০০ টাকা করে ১০০০ টাকা।

আমাদের গল্প পোকা ফেসবুক গ্রুপে জয়েন করার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন: https://www.facebook.com/groups/golpopoka/?ref=share

শব্দ করে টুল টেনে সে বসে বলল, ‘ছোটচাচি আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।’ আকাশী হিসাব করে কথা বলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কে জানে কবে কখন তার টেম্পার হাই হয়ে যায়।
‘জানি।’ মোটা গলা থেকে এতক্ষণে গমগম একটা আওয়াজ বেরুয়।
‘কী বিষয় নিয়ে কথা এখানে চলছে, তা সবই হয়তো জানেন। আপনি কি কোনো মত দেবেন না?’
অপূর্ব খুব নিচু স্বরে মুখের ভেতর করে কী একটা যেন উত্তর দেয়, আকাশী বুঝতে পারেনি। সে যে অনেক দূরে বসেছে, তিনি কি জানেন না? আকাশীকে চুপ করে থাকতে দেখে সে মুখ তুলে আড়চোখে তাকালো। তার এই তাকানোর ভঙ্গি আকাশীর মনকে পুলকিত করে তুলল। সে নির্বাক হয়ে মুগ্ধ হয়ে চেয়ে রইল। অপূর্ব হয়তো বুঝেছে আকাশী তার কথা শুনেনি, ‘আমার জীবনে এসে লাভ হবে কিনা জানি না, তবে আসতে চাইলে ওয়েলকাম।’
তাও সে ক্ষীণ আর গমগম স্বরে বলেছে। আকাশী কান পেতে থাকায় ভাগ্যক্রমে বুঝতে পেরেছে। তার কেন যেন ততটুকু খুশি লাগছে না, যতটুকু হওয়া উচিত। অপূর্ব ভাইকে কোনো এক কারণে নিবুনিবু বাতির মতো দেখাচ্ছে। তার মুখ দিয়ে কথা বেরুনোর সময়ও অনেক জড়তা দেখা যায়।
‘একটু স্পষ্ট করে বলবেন?’
অপূর্ব তার দিকে কটাক্ষে দেখে। সম্ভবত আকাশীকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সে ভয় পেল না। জীবনের অনেক জায়গায় সে বড় বড় লোকের মাইন্ড সাপেক্ষে কথা বলেছে। একবার একটা চাকরিতে অভিজ্ঞতার জন্যই জয়েন হতে চেয়েছিল। ভাইবা’তে অনেক কঠিন এবং ব্যক্তিগত প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয়েছে। সে ভয় পায়নি। নিজেকে ওইভাবে তৈরি করতে হয়েছিল। চাকরি পেয়ে যাচ্ছিলই, এমন সময় ওখানে একটা উচ্চ পদস্ত লোক আকাশীর দিকে অদ্ভুত এক চাহনিতে দেখছিল। সে তুচ্ছ কিছু ভেবে পরিবর্তে একটা হাসি দেয়। পরক্ষণে বেরিয়ে যাওয়ার সময় একই লোক তাকে বলল, ‘দাম নেবে মেমসাহেব?’ আকাশী থ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। তার ভেটকি হাসি দেখে চড়ই বসিয়ে দিতে ইচ্ছে করেছিল। কিন্তু পদ বলে একটা জিনিস থাকায় সে আত্মসংবরণ করে চলে এসেছে। চাকরির কথা মাথা থেকে ফেলে দিয়েছে। আপাতত বিদ্যার্থীর যে পদটা আছে, তাই সে ধারণ করে থাকবে। যদিও চাকরির জন্য করা সকল কষ্ট ব্যর্থ গিয়েছে। কিন্তু শিক্ষাগুলো এখনও রয়ে গেছে, যা তাকে মাত্র একুশ বছরের মেয়ে হলেও আরও বড় করে তুলেছে।
‘আমার গলার আওয়াজ কি এতটাই অস্পষ্ট?’, অপূর্ব কিছুটা রেগে উঠল।
‘আপনার কথাটি।’ আকাশী শুধরে দেয়।
অপূর্ব বিরক্ত বোধ করে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, ‘বিয়েই জীবন নয়। বিয়ে জীবনের মাত্র একটা অংশ। এটা নিয়ে আমি অতিরিক্ত ভাবি না। মা’কে যে দায়িত্বটা দিয়ে রেখেছি, সে হিসেবেই চলব। মায়ের তোমাকে ভালো লাগলে তুমি এই ঘরের বউ হয়ে আসতে পার।’
‘বলা অনেক সহজ। বিয়ের মাধ্যমে দুটো লোকের জীবন ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে যায়। যতটুকু সহজভাবে দেখছেন, বিয়ের পর ততটা সহজ বোধ হবে না।’
‘আমি পরের কথা ভেবে নিজেকে আগেভাগে কষ্ট দিতে যাই না।’ বলে সে আকাশীর পরবর্তী কথার উপেক্ষা করে পুনরায় গিটার হাতে নেয়।
আকাশী বুঝে ফেলল, তাদের কথা এখানেই শেষ। মেজাজটা পুরোপুরি বিগড়ে গেছে। দম নিয়ে মুষ্টিবদ্ধ করে ভাবে, নিজের মতামত রেখে দিলেই হলো? তারটা শোনারও কি দরকার নেই? বিয়ের পরও কি এভাবে অবধারিত অপূর্বেরই হুকুম চলবে? সে এটা নিয়ে কম্প্রোমাইজ কী করে করতে পারে? তখন একটা মেলোডি তার কানে ঢুকে উত্তপ্ত মেজাজসহ তার সকল ইন্দ্রিয়কে শান্ত করে দেয়। অপূর্বের দিকে চেয়ে দেখে, আকাশী চলে গেছে ভেবে সে চোখ বন্ধ করে মনের বিষণ্ণতায় ডুবে গিয়ে গিটারে সুর তুলছে। তাকে আর বিরক্ত না করে আকাশী রুম থেকে বেরিয়ে এলো। সিঁড়ি থেকে নামার সময় ভাবল, তার ভাগ্য খুবই ভালো যে, এমন পারফেক্ট একটা জায়গায় বিয়ে করার সুযোগ সে পাচ্ছে। সে হিসেবে কিছুটা আপোষ করে চলতে হলে মন্দ দেখায় না।
সানজিদা তার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন। এখন তাঁর সাথে মাহমুদও আছেন। আকাশী তাঁকে সালাম দেয়। তিনি গম্ভীর কিন্তু শান্তিময় এক হাসি বিনিময় করলেন, ‘কেমন চলছে পড়াশোনা?’
‘খুব ভালো।’ সে ভাবে, তিনি সম্ভবত তার ক্লাস সম্বন্ধে জানেন বলে তা নিয়ে প্রশ্ন করেননি।
সানজিদা ভ্রূজোড়া উঁচু করে মাথা একবার তুলে ইশারায় খবর জিজ্ঞেস করলেন।
আকাশী বুঝতে পেরে নিঃসঙ্কোচে বলল, ‘তার অমত নেই। আমারও।’
এবার ছোটচাচা একটু হাসার চেষ্টা করলেন, ‘আমি সবসময় আমার একমাত্র ছেলেটির জন্য কোনো রত্নকেই চেয়েছিলাম, যে কিনা ছলনা জানে না, আমার ছেলের খেয়ালও রাখবে। কিন্তু অমন কারো দেখা পাইনি বিধায় ওর বিয়ের কথা ভাবি না। অপূর্বের মা তোমার কথা বলেছে। তোমাকে যেহেতু আগে থেকেই চিনি, তুমি সেই রত্ন হলে মন্দ হবে না। কেবল আশা রাখি তুমি তার সাপেক্ষে নিজেকে মানিয়ে নেবে। সে শহরে গিয়ে গরম মেজাজ পেয়েছে ঠিক, কিন্তু ভেতর থেকে স্বচ্ছ একটা মানুষ। ফর দিজ রিজন, সে আমার পাওয়ার ইউজ করে কিছুই করে না। এমনকি দেশে থেকে নিজ প্রচেষ্টায় চাকরি করার চিন্তাভাবনা একান্ত তার নিজের।’ পরক্ষণে তিনি স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তাহলে আয়োজন করা যাক।’
চাচি হাসলেন। আকাশীরও সৌজন্য বোধের জন্য মৃদু হাসতে হলো। সে বাইরে এসে মাথার আঁচল ফেলে দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে বাড়ির পেছন থেকে ক্ষেতের মাঝের পথ ধরল। এখন ওই ভয়ানক তালগাছের নিচে নিজের আশ্রয় নিতে হবে। ভাবতে হবে অনেক কিছু। সে লক্ষই করেনি, অপূর্ব তার জানালার ধারে ছিল। আকাশীর নির্লিপ্ততা সে অবাক হয়ে দেখেছে। আকাশী একসময় সুদূর রাস্তায় প্রেতভূতের মতো মিলিয়ে যায়। সে ছোটবেলায় অনেকবার শুনেছে, মেয়েদের চুল খোলা রেখে রাতের বেলায় বেরুনো উচিত নয়। কিন্তু এই আকাশী তা শুনেও ভয় কেন পায় না, সে আজও বুঝে উঠতে পারছে না। তারপর সে একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বিছানায় চলে এসে গিটার পুনরায় হাতে নেয়।
(চলবে..)
লেখা: ফারিয়া কাউছার

পূর্ববর্তী নিবন্ধ
পরবর্তী নিবন্ধ
গল্প পোকা
গল্প পোকাhttps://golpopoka.com
গল্পপোকা ডট কম -এ আপনাকে স্বাগতম......
RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments

Md masrur Hasan mahi على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
আমিনুল ইসলাম على প্রয়োজন পর্ব: ৩০ ( অন্তিম)
সাজিবুল ইসলাম على ধর্ষিতাবউ২ ৯ তথা শেষ পর্ব
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
শাহিদুল ইসলাম على জীবন সঙ্গী ১ম পার্ট
Nita Sarkar على স্বপ্নীল ৬৮
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على রহস্য শেষ_পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على অলক্ষ্যে তুমি পর্ব-০৬ এবং শেষ পর্ব
Nazmun Nahar Akhi على Psycho_is_back? part_7
Nazmun Nahar Akhi على Dangerous_Villian_Lover part 2
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على জানালার ওপারে পর্ব-১৭ এবং শেষ পর্ব
শিয়াসা ইসলাম হুরিজিহান على লীলা বোর্ডিং ১২১৫ পর্ব-১১ এবং শেষ পর্ব
মিজানুর রহমান রাহুল على সেই তুমি পর্ব-০১
@feelings على প্রহেলিকা
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Anamika Basu على সে পর্ব-১২
Nusrat jahan على coffee & vanilla Part-10
Pallabi Roy على স্বপ্নীল ৬৮
M.D Mahabub على The_Villain_Lover Part_2
Labani sarkar على Dangerous_Villain_Lover part 23
MD Akas Apc على বিবেক
Tanisha Ahmed على Devil love part-18 
Aius Barmon shorob على নারীর দেহকে নয়
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Chandan roy على স্বপ্নীল ৬৮
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Priya Banerjee على devil love married life last part
Riya Biswas على তুমি রবে ৬০
Riya Biswas على তুমি রবে ৫২
Mohammad Adib على তুমি রবে ৬০
Avni Ayesha على তুমি রবে ২৮
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
সুমিত على তুমি রবে ২৮
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
TANJIBA ZENIFAR على তুমি রবে ৫০
Samiah Begum على তুমি রবে ৫১
biddut das rocky على নর নারী
গল্প পোকা على নষ্ট গলি শেষ পর্ব
Md Jobayer Hossain Shohag على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على দুই অলসের সংসার
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤৪২.
A.J.S Rakib على মন ফড়িং ❤৪২.
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
গল্প পোকা على গল্পঃ ভয়
Samiya noor على গল্পঃ ভয়
Sadikul على গল্পঃ ভয়
Samia Islam على গল্পঃ ভয়
শূন্য মায়া على মন ফড়িং ❤ ৪০.
Sutapa biswas على মন ফড়িং ❤৩৯.
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৮.
sutapa biswas على মন ফড়িং ❤ ৩৭
Foysal Mahmud على My_Mafia_Boss_Husband Part: 16
Siyam على বিবেক
Sudipto Guchhait على My_Mafia_Boss পর্ব-৯
saptami karmakar على devil love married life last part
saptami karmakar على devil love married life last part
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ৩০.
মায়া على মন ফড়িং ২৬.
Shreyashi Dutta على  বিয়ে part 1
Sandipan Biswas على  বিয়ে part 1
Paramita Bhattacharyya على অনুরাগ শেষ পর্ব
জামিয়া পারভীন তানি على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
মায়া على মন ফড়িং  ২২
সুরিয়া মিম على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على মন ফড়িং ২১
গল্প পোকা على নষ্ট গলি পর্ব-৩০
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على Love At 1st Sight Season 3 Part – 69
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
Sahin ssb على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ২১
মায়া على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ২০.
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
গল্প পোকা على খেলাঘর /পর্ব-৪২
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৮. 
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৭.
Jannatul Ferdous على খেলাঘর পর্ব-৩৫
গল্প পোকা على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ফাল্গুনের_ফুল last_part_8
মায়া على মন ফড়িং ❤ ১৬. 
গল্প পোকা على ছাত্রী যখন বউ পাঠঃ ১
গল্প পোকা على বাজির প্রেম পাঠঃ ১
Foujia Khanom Parsha على মা… ?
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৮
HM Ashraful Islam على অবুঝ_বউ পার্ট: ৫
Ibna Al Wadud Shovon على স্বার্থ